উইকিশৈশব:সৌরজগৎ/ইউরেনাস

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

ইউরেনাস সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে সপ্তম গ্রহ। উইলিয়াম হার্সেল ১৩ই মার্চ, ১৭৮১ সালে এটি আবিষ্কার করেন।[১]

ভয়েজার ২ থেকে ইউরেনাসের ছবি
Uranus symbol.ant.png ইউরেনাসের বৈশিষ্ট্য:
  • ইউরেনাসের আংটির মরো অংশ ছবিতে দেখতে সাদা হলেও বাস্তবে ছাই রঙের বস্তু দিয়ে তৈরি।
  • যখন প্রথম এই গ্রহ আবিষ্কৃত হয়, তখন একে একটি নক্ষত্র বা তারা ভাবা হয়। আর এর নাম দেয়া হয়েছিল "৩৪ টাউরি"।
  • ইউরেনাস নিজের পাশের দিকে ঘুরে। এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সৌর গ্রহের মধ্যে একমাত্র এই গ্রহই এভাবে ঘুরে।

ইউরেনাস কত বড়?[সম্পাদনা]

ইউরেনাস ও পৃথিবীর আকারের তুলনা

ইউরেনাস ৫১,১১৮ কিলোমিটার বা চার পৃথিবী সমান বড়। এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম ও চতুর্থ সর্বোচ্চ ভারী গ্রহ।

ইউরেনাসের পৃষ্ঠতল কেমন?[সম্পাদনা]

বায়ুমণ্ডলের খুব গভীরে না গেলে ইউরেনাসে দাঁড়ানোর মতো জায়গা পাওয়া যাবে না। বায়ুমণ্ডলের নিচে পাথর ও বরফের মিশ্রণ থাকতে পারে।[২]

ইউরেনাসের আংটিগুলো কেমন?[সম্পাদনা]

ইউরেনাসের সাতটি আংটে আছে। এগুলো কালো রঙের হওয়ায় দেখতে অসুবিধা হয়। ১৯৭৭ সালে এগুলো দুর্ঘটনাক্রমে আবিষ্কৃত হয়। বিজ্ঞানীরা ইউরেনাসের কাছের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র গবেষণা করছিল। কিন্তু নক্ষত্রটির আলো ইউরেনাসের ঠিক আগে ও পরো উধাও হয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনা থেকে তারা বুঝতে পারে ইউরেনাসের আংটি আছে।[৩]

এর চাঁদ বা উপগ্রহগুলো কেমন?[সম্পাদনা]

ইউরেনাসের আংটি ও চাঁদ

জানামতে, ইউরেনাসের ২৭টি চাঁদ আছে, যার ফলে ইউরেনাস চাঁদের সংখ্যার দিক দিয়ে সৌরজগৎে তৃতীয়। এর মূল পাঁচটি হচ্ছে মিরান্ডা, অ্যারিয়েল, আমব্রিয়েল, টাইটানিয়া এবং ওবেরন।[৪]

মিরান্ডা[সম্পাদনা]

ইউরেনাসের গুরুত্বপূর্ণ চাঁদগুলোর মধ্যে মিরান্ডা সবচেয়ে ছোটো ও কাছে অবস্থিত। এটা মূলত বরফ ও পাথরের তৈরি। মিরান্ডার পৃষ্টতলে খাঁজ, খাঁড়া বাঁধ ও উপত্যকা আছে। এই চাঁদের নাম শেকস্‌পিয়ারের একটি নাটক থেকে নেওয়া।[৫]

অ্যারিয়েল[সম্পাদনা]

অ্যারিয়েল পাথর ও বরফের তৈরি। অ্যারিয়েলের অনেক উপত্যকা আছে, কিন্তু বেশি খাদ নেই। অ্যারিয়েলের নাম একটি কবিতা থেকে নেওয়া হয়। অ্যারিয়েল শেকস্‌পিয়ারের একটি আত্মাও ছিল।[৬]

আমব্রিয়েল[সম্পাদনা]

আমব্রিয়েল অনেক বরফ ও কিছু পাথর দিয়ে তৈরি। ইউরেনাসের বৃহৎ চাঁদগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে অন্ধকার। এটিও অ্যারিয়েলের ন্যায় একটি কবিতা থেকে নামকৃত[৭]

টাইটানিয়া[সম্পাদনা]

টাইটানিয়া ইউরেনাসের সবচেয়ে বড় চাঁদ। এটা মূলত বরফ ও পাথর দিয়ে তৈরি। এর পৃষ্ঠতল গিরিখাদে তৈরি। একটি নাটকের রাণীর নামে এর নামকরণ করা হয়েছে।[৮]

সৌরজগৎ

ভূমিকা
আমাদের সৌরজগৎ
সূর্য
বুধ
শুক্র
পৃথিবী
চাঁদ
মঙ্গল
গ্রহাণুপুঞ্জ
বৃহস্পতি
শনি
ইউরেনাস
নেপচুন
প্লুটো
ধূমকেতু
কুইপার বেষ্টনী
উর্ট মেঘ
পরিভাষাকোষ
পরীক্ষা

ওবেরন[সম্পাদনা]

ওবেরন গুরুত্বপূর্ণ চাঁদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দূরে অবস্থিত। এটা টাইটানিয়ার মতো উপাদানেই তৈরি। এক অনেক আগ্নেয়গিরির মুখের ন্যায় জায়গা আছে। কোনো কোনোটার আশেপাশে সাদা রশ্মি এবং অন্ধকার তল আছে। একটি নাটকের রাজার নামে এর নামকরণ করা হয়েছে।[৯]

অন্যান্য চাঁদ[সম্পাদনা]

ইউরেনাসের অভ্যন্তরীণ কক্ষে ১৩টা ছোটো চাঁদ প্রদক্ষিণ করছে। আরো নয়টি ছোটো চাঁদ ওবেরনের কক্ষের বাইরে প্রদক্ষিণ করছে বলে জানা গেছে।[১০]

ইউরেনাসে একদিন কত লম্বা?[সম্পাদনা]

ইউরেনাসে একদিন পৃথিবীর প্রায় ১৭,২৪ ঘণ্টার সমান লম্বা। ইউরেনাস নিজের পাশের দিকে ঘুরে, যার কারণ খুব সম্ভবত সৌরজগতে আদিকালে বড় কোনো আঘাত।[১১]

ইউরেনাসে এক বছর কত লম্বা?[সম্পাদনা]

ইউরেনাসে একবছর পৃথিবীর প্রায় ৩০,৭০৮দিন বা ৮৪ বছরের সমান।[১২]

ইউরেনাস কী দিয়ে তৈরি?[সম্পাদনা]

বৃহস্পতি ও শনি গ্রহের বিপরীতে মনে করা হয় ইউরেনাস মূলত পাথর ও বরফের তৈরি। বায়ুমন্ডলের গ্যাসের ৮৩% হাইড্রোজেন, ১৫% হিলিয়াম এবং ২% মিথেন। অন্যান্য গ্যাসের মধ্যে আছে অল্প পরিমাণে অ্যামোনিয়া, পানি এবং হাইড্রোকার্বন।[১৩] ইউরেনাসে নীল রঙ এর মিথেন মেঘের কারণে হয়, যা লাল আলো শোষণ করে এবং নীল আলে প্রতিফলন করে।[১৪]

ইউরেনাসের মহাকর্ষ আমাকে কত জোরে টানবে?[সম্পাদনা]

ইউরেনাসের মেঘের উপরের জায়গায় তুমি ভাসতে থাকলে পৃথিবীর ৮৯% অভিকর্ষণ টান তুমি অনুভব করবে।[১৫]

ইউরেনাস কার নামে নামান্বিত?[সম্পাদনা]

ইউরেনাস গ্রিক শব্দ অরানস থেকে এসেছে; যার অর্থ আকাশ। মূলত গ্রিক পুরাণ থেকে এই শব্দ এসেছে।.[১৬]

পরের বিষয়: নেপচুন

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.nineplanets.org/uranus.html
  2. http://www.solarviews.com/eng/uranus.htm; http://www.nineplanets.org/uranus.html
  3. http://www.solarsystem.org.uk/uranus/
  4. http://nssdc.gsfc.nasa.gov/planetary/factsheet/index.html; http://www.nineplanets.org/uranus.html
  5. http://www.nineplanets.org/miranda.html; http://www.bbc.co.uk/science/space/solarsystem/uranus/miranda.shtml
  6. http://www.nineplanets.org/ariel.html; http://www.bbc.co.uk/science/space/solarsystem/uranus/ariel.shtml
  7. http://www.nineplanets.org/umbriel.html; http://www.bbc.co.uk/science/space/solarsystem/uranus/umbriel.shtml
  8. http://www.nineplanets.org/titania.html; http://www.bbc.co.uk/science/space/solarsystem/uranus/titania.shtml
  9. http://www.nineplanets.org/oberon.html; http://www.bbc.co.uk/science/space/solarsystem/uranus/oberon.shtml
  10. http://nssdc.gsfc.nasa.gov/planetary/factsheet/uraniansatfact.html
  11. Gierasch, Peter J., and Philip D. Nicholson. "Uranus." World Book Online Reference Center. 2004. World Book, Inc. http://www.worldbookonline.com/wb/Article?id=ar577720; http://www.nasa.gov/worldbook/uranus_worldbook.html
  12. Gierasch, Peter J., and Philip D. Nicholson. "Uranus." World Book Online Reference Center. 2004. World Book, Inc. http://www.worldbookonline.com/wb/Article?id=ar577720; http://www.nasa.gov/worldbook/uranus_worldbook.html
  13. http://www.nineplanets.org/uranus.html; http://www.solarviews.com/eng/uranus.htm
  14. http://www.solarviews.com/eng/uranus.htm
  15. Gierasch, Peter J., and Philip D. Nicholson. "Uranus." World Book Online Reference Center. 2004. World Book, Inc. http://www.worldbookonline.com/wb/Article?id=ar577720; http://www.nasa.gov/worldbook/uranus_worldbook.html
  16. http://www.nineplanets.org/uranus.html