উইকিশৈশব:সৌরজগৎ/টাইটানিয়া

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

টাইটানিয়া ইউরেনাস গ্রহের বৃহত্তম উপগ্রহ। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ইউরেনাস নিরীক্ষণের জন্য উৎক্ষেপিত ভয়েজার ২ মহাকাশযানটির দ্বারা টাইটানিয়ার নিকটতম ছবি আমরা পেয়েছি।

টাইটানিয়া কত বড়?[সম্পাদনা]

এই উপগ্রহটি ১,৫৭৮ কিলোমিটার বা ৯৮১ মাইল প্রশস্ত। টাইটানিয়ার আকার পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদের আকারের অর্ধেক। এই উপগ্রহটির পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের ক্ষেত্রে তুলনায় সামান্য বেশি।

টাইটানিয়ার পৃষ্ঠতল কীরূপ?[সম্পাদনা]

১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে একটি মহাকাশযান থেকে গৃহীত টাইটানিয়ার চিত্র

টাইটানিয়ার উপরিতল ঊষর এবং আবহাওয়া বিহীন। তলের ভূমি পাথর মিশ্রিত অমসৃণ নোংরা বরফ দ্বারা আবৃত। উপগ্রহ গাত্রে রয়েছে একাধিক গর্ত, মহাকাশ থেকে কোনো বস্তু এই নক্ষত্রে আঘাত করে সৃষ্টি হয়েছে এই গর্ত, যার চতুর্দিকে রয়েছে সাদা উজ্জ্বল দাগ। এর উত্তর মেরুর কাছাকাছি বড় আকারের একটি গর্ত রয়েছে যার এরকম দুটি বলয়াকার সাদা দাগ রয়েছে।

এছাড়াও উপগ্রহটির উপরিতলে বৃহৎ আকৃতির উপত্যকা রয়েছে, আভ্যন্তরীন পদার্থ গরম হয়ে বিস্তৃত হয়ে এরূপ উপত্যকার সৃষ্টি। এর ফলে স্পষ্ট ফাটল তৈরি হয়। বৃহত্তম উপত্যকাটি ১,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ।

টাইটানিয়ার একদিনের দৈর্ঘ্য কত?[সম্পাদনা]

নিজের অক্ষের চারদিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে টাইটানিয়ার পৃথিবীর সময় অনুসারে ৮.৭১ দিন সময় অতিবাহিত হয় যা মোটামুটি ৮ দিন ১৭ ঘণ্টার সমান।

ইউরেনাসের চারদিকে এর কক্ষপথের প্রসার কত?[সম্পাদনা]

টাইটানিয়া ইউরেনাসকে একবার প্রদক্ষিণ করতে যত সময় লাগে ইউরেনাস সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে কত দিন নেয় অথবা বলা যায় ইউরেনাসের একটি বছর (পৃথিবীর সময় অনুসারে ৯৯৯১‌ দিন) টাইটানিয়ার ইউরেনাসকে একবার প্রদক্ষিণ করার সমতুল্য। এর অর্থ টাইটানিয়ার একটি পার্শ্বই সব সময় ইউরেনাসের দিকে থাকে। ঠিক একইরকম ভাবে চাঁদের একটিই দিক পৃথিবী থেকে আমরা দেখতে পাই।

এটি কি দিয়ে নির্মিত?[সম্পাদনা]

এই উপগ্রহের অর্ধেক অংশ হিমায়িত জল দ্বারা নির্মিত। বাকি অর্ধেক অংশ শিলাময় এবং বিভিন্ন জমাটবদ্ধ গ্যাসের মিশ্রণ।

টাইটানিয়ার মাধ্যাকর্ষণ আমার ওপর কত পরিমাণ অভিকর্ষজ বল দেবে?[সম্পাদনা]

নিউটন বিবরণ দিয়েছেন কি পরিমান বলপ্রয়োগ করে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দ্বারা আমাদেরকে কোন বস্তু তার কেন্দ্রের দিকে টেনে রেখেছে। পৃথিবীতে যদি কারো ওজনের মাপ ৫১ কিলোগ্রাম বা ১১২ পাউন্ড হয়, তার অর্থ তার ওজন ৫০০ নিউটন। আমরা কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে নিউটন একক ব্যবহার করে থাকি। মূলত যখন আমরা আমাদের ওপর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে অভিকর্ষজ বলের মান গণনা করতে যাই তখন এই একক প্রয়োজনীয়।

টাইটানিয়াতে কারো ওজন তুলনামূলক কম হয়, পৃথিবীর এক ষড়বিংশতি অংশ। টাইটানিয়াতে দাঁড়িয়ে নিউটনের এককে ওজন পরিমাপ করতে হলে পৃথিবীতে কিলোগ্রামে নিজের ওজনের সাথে ৩/৮ গুন করলেই সেই মানটি পাওয়া যাবে। আবার পৃথিবীতে যদি কেউ পাউন্ডে নিজের ওজন জেনে থাকেন তবে ৩/৮ এর বদলে ৬ দিয়ে ভাগ করতে হবে। অবশ্য টাইটানিয়া কি পরিমাণ বল প্রয়োগ করছে তা জানার জন্য নিজের এবং নিজের স্পেস স্যুট উভয়ের ওজনের সমষ্টি করতে হবে।

এটি কার নামে নামাঙ্কিত?[সম্পাদনা]

ইংরেজি কবি এবং নাট্য লেখক প্রখ্যাত উইলিয়াম শেক্সপিয়ার মিডসামার-নাইট'স ড্রিম নামে একটি নাটক লিখেছিলেন। এই নাটকে একজন পৌরাণিক নারী ছেলের নাম টাইটানিয়া, যিনি ওবেরনের স্ত্রী ও পরীদের রানি ছিলেন। ইউরেনাসের ওবেরন নামে একটি উপগ্রহ আছে যা নাটক অনুযায়ী টাইটানিয়ার স্বামীর নামে নামাঙ্কিত।

এই উপগ্রহটির নাম শনির উপগ্রহ টাইটানের নামের সদৃশ। যদিও টাইটান নামটি গ্রীক পুরাণ অনুযায়ী এক রাক্ষসের নামে রাখা হয়েছে।

এটি কিভাবে আবিষ্কার হয়?[সম্পাদনা]

১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী স্যার উইলিয়াম হার্শেল এই উপগ্রহটি আবিষ্কার করেন। ওই একই ব্যক্তি ইউরেনাস এবং তার অন্য উপগ্রহ ওবেরনেরও আবিষ্কারক। ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দে তার পুত্র জন হার্শেল এই নামটি প্রস্তাব করেন।