উইকিশৈশব:সৌরজগৎ/চাঁদ

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
Moon symbol crescent.svg চাঁদের তথ্য
  • যখন আমরা পৃথিবী থেকে চাঁদের দিকে তাকাই, আমরা সবসময় চাঁদের একই দিক দেখতে পাই। ১৯৫৯ সালে লুনা ৩ ছবি তুলে পাঠানোর আগে চাঁদের অপর পাশ দেখতে কেমন তা কেউই জানতো না।
  • চাঁদ প্লুটোর থেকে প্রায় দ্বিগুণ বড়।
  • "ম্যান ইন দ্য মুন" সবসময় পুরুষের মতো দেখায় না। ভারতবর্ষের লোকেরা চরকাসহ একজন বৃদ্ধা মহিলাকে দেখতে পায়। মেক্সিকোর লোকেরা একটি খরগোশ দেখতে পায়!
  • চাঁদ পৃথিবীর তুলনায় অতো ছোট নয় - এটি আসলে নিজ গ্রহের তুলনায় সৌরজগতের বৃহত্তম উপগ্রহ। কখনও কখনও পৃথিবী এবং চাঁদকে একসাথে 'বাইনারি' বা 'দ্বৈত গ্রহ ব্যবস্থা' বলা হয়।
  • চাঁদ সৌরজগতের পঞ্চম বৃহত্তম উপগ্রহ।
  • ২০০২ সালে গ্রহাণু হিসেবে আবির্ভূত আরেকটি বস্তুকে পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিণ করতে দেখা যায়। পরে দেখা যায় এটি একটি রকেট বুস্টার।
মহাকাশে চাঁদ হলো আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী।

চাঁদ কতো বড়?[সম্পাদনা]

চাঁদ এবং পৃথিবীর আকারের তুলনা

সৌরজগতের বেশিরভাগ গ্রহের উপগ্রহই তাদের গ্রহের তুলনায় আঁকারে অত্যন্ত ছোট হয়। তবে পৃথিবী এবং চাঁদের আঁকার অনেকটা কাছাকাছি। চাঁদের ব্যাস বা প্রশস্ততা প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার। এই প্রশস্ততা পৃথিবীর আঁকারের (পৃথিবীর ব্যাস ১২,৬০০ কিলোমিটার) প্রায় চার ভাগের এক ভাগ, যা নিচের চিত্র থেকে বোঝা যায়। একারণে কখনও কখনও পৃথিবী ও চাঁদকে একত্রে বাইনারি' বা 'দ্বৈত গ্রহ ব্যবস্থা' বলা হয়ে থাকে।

সৌরজগৎ

ভূমিকা
আমাদের সৌরজগৎ
সূর্য
বুধ
শুক্র
পৃথিবী
চাঁদ
মঙ্গল
গ্রহাণুপুঞ্জ
বৃহস্পতি
শনি
ইউরেনাস
নেপচুন
প্লুটো
ধূমকেতু
কুইপার বেষ্টনী
উর্ট মেঘ
পরিভাষাকোষ
পরীক্ষা

চাঁদের পৃষ্ঠ বা উপরিতল কেমন?[সম্পাদনা]

মহাকাশচারী হ্যারিসন শ্মিট অ্যাপোলো XVII মিশনের সময় চাঁদ থেকে পাথর সংগ্রহ করছেন।
চাঁদের একটি মানচিত্র।

চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। এবং এর পৃষ্ঠে তরল পানিও নেই। দিনের বেলায় এটি অত্যন্ত গরম এবং রাতের বেলা এটি প্রচন্ড ঠান্ডা। কোনো ব্যক্তি যদি চাদে যেতে চায় তাহলে তাকে সাথে করে অক্সিজেন বা বাতাস নিয়ে যেতে হবে এবং বিশেষ ধরনের পোশাক পরিধান করতে হবে।

চাঁদের গায়ে অনেক গর্ত রয়েছে। এসব গর্তের মধ্যে সবথেকে বড়টির নাম দক্ষিণ মেরু-এইটকেন বেসিন। এটি প্রায় ২৫০০ কিলোমিটার বিস্তৃত। বিজ্ঞানীদের ধারণা মতে, অনেক আগে চাঁদের গায়ে বড় বড় পাথরের আঘাতের ফলে এসকল গর্ত সৃষ্টি হয়েছিল।

কিছু কিছু গর্ত দেখলে মনে হয় এগুলো থেকে রশ্মি বেরিয়ে আসছে। এই রশ্মিগুলি হলো চাঁদের উপর আছড়ে পরা পাথরগুলি, যার ফলে এই গর্তগুলো তৈরি হয়েছিল। চাঁদের মেরুর কাছাকাছি কিছু গর্তে বরফ থাকতে পারে।

এছাড়া চাঁদে মারিয়া নামক কিছু গাঢ় অঞ্চল রয়েছে। এগুলো অনেক আগে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া লাভার কারনে তৈরি হয়েছিল। বেশিরভাগ মাইরাই আমরা পৃথিবী থেকে চাঁদের যে পাশ দেখতে পাই সেইপাশে রয়েছে। চাঁদের হালকা অঞ্চলগুলো হলো উচ্চভূমি।

চাঁদের আবর্তনকাল কতদিন?[সম্পাদনা]

পৃথিবীর দিন হিসেবে মাত্র ২৭ দিনে চাঁদ একবার ঘূর্ণন বা আবর্তন সম্পন্ন করে। অর্থাৎ, চাঁদের নিজ অক্ষের চারপাশে একবার ঘুরতে মাত্র ২৭ দিন সময় লাগে। মজার ব্যাপার হচ্ছে পৃথিবীর চারপাশে চাঁদের একবার ঘুরতেও ২৭ দিন সময় লাগে!

চাঁদে এক বছরে কতদিন?[সম্পাদনা]

পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে (বা প্রদক্ষিণ করতে) চাঁদের ২৭ দিনের থেকে একটু বেশি সময় প্রয়োজন। চাঁদের ঘূর্ণন এবং প্রদক্ষিণকাল সমান হওয়ার কারনে আমরা পৃথিবী থেকে চাঁদের কেবল একটি পাশই দেখতে পাই। আমরা চাঁদের এইপাশকে নিকটবর্তী দিক বলি। এবং চাঁদের অপর পাশকে দূরবর্তী দিক বলি। ১৯৫৯ সালে লুনা ৩ নামক একটি প্রোব চাঁদের অপর পাশের কিছু চিত্র প্রদান করে। তখনই মানুষ প্রথমবারের মতো চাঁদের অপর পাশ দেখতে পেয়েছিল।

চাঁদ কি দিয়ে তৈরি?[সম্পাদনা]

চাঁদের উপরের পৃষ্ঠ মূলত পাথর ও ধুলাবালি দিয়ে তৈরি। চাঁদের বাইরের স্তরকে ভূত্বক বলা হয়। এই ভূত্বক নিকটবর্তী দিকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পুরু এবং দূরবর্তী দিকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পুরু। এটি মারিয়ার নিচে পাতলা এবং উচ্চভূমির নিচে মোটা। নিকটবর্তী দিকে ভূত্বক পাতলা হওয়ার কারনেই সম্ভবত এইপাশে মারিয়ার সংখ্যা বেশি। এটি পাতলা হওয়ার কারনে লাভা সহজেই উপরে উঠে এসেছিল।

বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী চাঁদের ভিতরে ৩০০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রটি কঠিন লোহার সমন্বয়ে গঠিত। চাঁদের কেন্দ্র কঠিন বা শক্ত হওয়ার কারনে চাঁদের নিজস্ব কোনো চৌম্বক ক্ষেত্র নেই।

চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ আমার ওপর কত পরিমাণ অভিকর্ষজ বল দেবে?[সম্পাদনা]

চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ পৃথিবীর প্রায় ছয় ভাগের একভাগ। তুমি যদি চাঁদে যাও তাহলে তোমার ওজন পৃথিবীর ওজনের ছয় ভাগের একভাগ হয়ে যাবে এবং তুমি নিজেকে অনেকটা ওজনহীন মনে করবে। একারণে নভোচারীদের কাছে চাঁদের পাথর উঠানো অনেক সহজ মনে হয়।

কার নামে চাঁদের নামকরণ করা হয়েছে?[সম্পাদনা]

দেবী ডায়ান, রোমান পুরাণে চাঁদের দেবী

চাঁদের ইংরেজি শব্দ মুন (Moon) এবং মাসের ইংরেজি প্রতিশব্দ মান্থ (month) দুটোই চাঁদের গ্রিক ভাষার শব্দ মিন (Mene) থেকে এসেছে। এছাড়া চাঁদের অন্যান্য নাম রয়েছে, যেমন সেলিন, লুনা। সেলিন হলো গ্রীকদের চন্দ্রদেবী, এবং লুনা হলো রোমানদের চন্দ্রদেবী। রোমানরা তাদের দেবী ডায়ানকেও চাঁদের দেবী মনে করতো।

কে চাঁদ আবিষ্কার করেন?[সম্পাদনা]

প্রায় ২০০০ বছরেরও আগে প্রাচীন গ্রিক এবং প্রাচীন চীনারা লক্ষ্য করেছিলো যে চাঁদ সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে। প্রাচীন গ্রীকরা আরও লক্ষ্য করেছিলো যে চাঁদের কারনে পৃথিবীতে ঢেউ সৃষ্টি হয়। সাম্প্রতিককালে লুনা ১ নামক একটি মহাকাশযান প্রথমবারের মতো চাঁদকে খুব কাছ থেকে প্রদক্ষিণ করেছে। লুনা ২ চাঁদে অবতরণকারী প্রথম মহাকাশযান। এবং লুনা ৩ সর্বপ্রথম চাঁদের অপর পাশের চিত্র ধারণে সক্ষম হয়েছিল। লুনা ১ থেকে ৩ সবগুলোই ১৯৫৯ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। ১৯৬৭ সালে সার্ভেয়র ৩ সর্বপ্রথম চাঁদের মাটি পরীক্ষা করতে সক্ষম হয়। এটি ১৭.৫ সেন্টিমিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করেছিল। ১৯৬৯ সালে এ্যাপোলো ১১ মহাকাশযানের মাধ্যমে মানুষ সর্বপ্রথম চাঁদের মাটিতে অবতরণ করেন।

পরবর্তী বিষয়: মঙ্গল

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

"The Moon is just under..." [১] [২]
"So the Earth and the Moon together..." [৩] [৪]
"The Moon does not have any atmosphere." [৫] [৬]
"During the day it becomes..." [৭] [৮]
"The largest one is called..." [৯] [১০]
"These rays are rocks..." [১১]
"Some of the craters around the bottom..." [১২] [১৩]
"There are also darker areas..." [১৪] [১৫]
"The lighter areas..." [১৬]
"The Moon takes just over 27..." [১৭] [১৮]
"We call this side..." [১৯] [২০] [২১]
"The other side we call..." [২২] [২৩]
"The surface of the Moon..." [২৪] [২৫] [২৬] [২৭]
"...it would pull you down..." [২৮] [২৯]
"The names "Moon" and..." [৩০] [৩১] [৩২]