সংস্কৃত ভাষা/ব্যাকরণ

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

যে শাস্ত্র পাঠ করলে সংস্কৃত ভাষা বিশুদ্ধভাবে লিখতে, পড়তে ও বলতে পারা যায়, তাকে সংস্কৃত ব্যাকরণ বলে।

সংস্কৃত ব্যাকরণের পরিভাষা[সম্পাদনা]

  • বস্তবাচক বা বস্তুর বিশেষণবাচক শব্দের মূলরূপকে প্রাতিপদিক (বা নাম) বলে। যেমন: নর, লতা, জল; মধুর, সুন্দর।
  • ক্রিয়াবাচক শব্দের মূলরূপকে ধাতু বলে। যেমন: ভূ, স্থা, কৃ।
  • প্রাতিপদিক এবং ধাতুর সঙ্গে যেসব বিশেষ চিহ্ন (প্রত্যয়) যুক্ত হয়ে বাক্যে প্রয়োগের উপযোগী শব্দ (পদ) গঠন করে, তাদের বিভক্তি বলে।
  • প্রাতিপদিকের সঙ্গে 'সুপ্' বা নাম বিভক্তি যুক্ত হয়ে নামপদ বা সুবন্ত শব্দ তৈরি করে। যেমন: নর (প্রাতিপদিক) + সু (নাম বিভক্তি) = নরঃ (নামপদ)।

ধাতুর সঙ্গে 'তিঙ্' বা ক্রিয়া বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ বা তিঙন্ত শব্দ তৈরি করে। যেমন: ভূ (ধাতু) + তি (ক্রিয়া বিভক্তি) = ভবতি (ক্রিয়াপদ)।

  • বাক্যে প্রয়োগের সময় নামপদের সঙ্গে বিভক্তি ('সুপ্') ছাড়াও তাঁর বচন (এক, দ্বি, বহু) ও লিঙ্গ (পুং, স্ত্রী, ক্লীব) যোগ করা হয়। [নির্দিষ্ট লিঙ্গ অনুযায়ী বিভক্তি ও বচন যোগে প্রাতিপদিকের পরিবর্তিত রূপগুলিকে শব্দরূপ বলে।]

ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিভক্তি ('তিঙ্') ছাড়াও তাঁর বচন (এক, দ্বি, বহু) ও পুরুষ (উত্তম, মধ্যম, প্রথম) যোগ করা হয়। [নির্দিষ্ট পুরুষ অনুযায়ী বিভক্তি ও বচন যোগে ধাতুর পরিবর্তিত রূপগুলিকে ধাতুরূপ বলে।]

  • প্রাতিপদিকের নির্দিষ্ট লিঙ্গের অন্তিম স্বর বা ব্যঞ্জন বর্ণের উপর নির্ভর করে সেই লিঙ্গের সেই স্বর বা ব্যঞ্জন বর্ণান্ত প্রায় যাবতীয় প্রাতিপদিকের শব্দরূপ একই আকৃতির হয়।

যেমন: পুংলিঙ্গবাচক 'নর' প্রাতিপদিকের শেষের বর্ণ 'অ' হওয়ার কারণে অ-বর্ণান্ত পুংলিঙ্গবাচক প্রায় যাবতীয় প্রাতিপদিকের (যথা: অংশ, দিবস, কৃষ্ণ, ধূর্ত, কোষ, আচার্য, ইতিহাস প্রভৃতি) শব্দরূপ 'নর' শব্দের মত।

  • নামপদ বা সুবন্ত শব্দ তিন ধরনের। যথা: বিশেষ্য, বিশেষণসর্বনাম (— উদা: অস্মদ্, যুষ্মদ, তদ্, কিম্)।

ক্রিয়াপদ বা তিঙন্ত শব্দ এক ধরনের (— উদা: অস্তি, ভবামি, গচ্ছতু)।

এছাড়া আরেক ধরনের শব্দ বা পদ আছে, বাক্যে প্রয়োগের সময় যাদের মূলরূপের কোনও ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, এদের অব্যয় পদ বলে। যেমন: অত্র, কুত্র, তদা, অধুনা, অকস্মাৎ প্রভৃতি।

বিশেষ্যপদের প্রয়োগ[সম্পাদনা]

  • পুংলিঙ্গবাচক:

– রবিঃ কুমারঃ। প্রতাপঃ কুমারঃ। শ্যামলঃ কুমারঃ। (একবচন)

– রবিঃ প্রতাপঃ চ কুমারৌ। প্রতাপঃ শ্যামলঃ চ কুমারৌ। রবিঃ শ্যামলঃ চ কুমারৌ। (দ্বিবচন, ['চ' অর্থ এবং])

– রবিঃ প্রতাপঃ শ্যামলঃ চ কুমারাঃ। (বহুবচন)

  • স্ত্রীলিঙ্গবাচক:

– রমা কন্যা। মাধুরী কন্যা। বসুধা কন্যা। (একবচন)

– রমা মাধুরী চ কন্যে। রমা বসুধা চ কন্যে। মাধুরী বসুধা চ কন্যে। (দ্বিবচন, ['চ' অর্থ এবং])

– রমা মাধুরী বসুধা চ কন্যাঃ। (বহুবচন)

বিশেষ্য-বিশেষণ প্রয়োগ[সম্পাদনা]

  • পুংলিঙ্গবাচক:

– সুন্দরঃ কুমারঃ। স্নেহময়ঃ পিতা। বিশালঃ বৃক্ষঃ। প্রখরঃ অগ্নিঃ। (একবচন)

– সুন্দরৌ কুমারৌ। স্নেহময়ৌ পিতরৌ। বিশালৌ বৃক্ষৌ। প্রখরৌ অগ্নৌ। (দ্বিবচন)

– সুন্দরাঃ কুমারাঃ। স্নেহময়াঃ পিতরঃ। বিশালাঃ বৃক্ষাঃ। প্রখরাঃ অগ্নায়ঃ। (বহুবচন)

  • স্ত্রীলিঙ্গবাচক:

– চঞ্চলা কন্যা। পূজনীয়া মাতা। বিশালা নগরী। বেগবতী নদী। কৃষ্ণা নিশি। (একবচন)

– চঞ্চলে কন্যে। পূজনীয়ে মাতরৌ। বিশালে নগর্য্যৌ। বেগবন্তৌ নদ্যৌ। কৃষ্ণে নিশে। (দ্বিবচন)

– চঞ্চলাঃ কন্যাঃ। পূজনীয়াঃ মাতরঃ। বিশালাঃ নগর্য্যে। বেগবন্তঃ নদ্যঃ। কৃষ্ণাঃ নিশায়ঃ। (বহুবচন)

  • ক্লীবলিঙ্গবাচক:

– শীতলং জলম্। মধুরং পয়ঃ। শুষ্কম্ পত্রম্। (একবচন)

– শীতলে জলে। মধুরে পয়সী। শুষ্কে পত্রে। (দ্বিবচন)

– শীতলানি জলানি। মধুরাণি পয়াংসি। শুষ্কানি পত্রাণি। (বহুবচন)