লাতিন ভাষা শিক্ষা

উইকিবই থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

লাতিন ভাষা (lingua Latina) ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারের ইতালীয় গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে আধুনিক সবগুলো রোমান্স (Romance) ভাষার (ইতালীয়, স্পেনীয়, পর্তুগিজ, ফরাসি, রুমানীয়) জন্ম হয়েছে। শুরুতে শুধুমাত্র ইতালির তেভেরে (ইতালীয় Tevere, লাতিন Tiberis) নদীর দুই পাশে, অর্থাৎ রোম নগরীর আশপাশে, বসবাসকারী একটি ছোট্ট জনগোষ্ঠী এই ভাষায় কথা বলত; এই অঞ্চল থেকে ভাষাটি প্রথমে ইতালির সর্বত্র, এবং পরে, রোমানদের আধিপত্যের যুগে, গোটা ইউরোপে ও ভূমধ্যসাগরের পশ্চিম উপকূলাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। রোমান সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ লাতিনের বিভিন্ন রূপে কথা বলত, যে-কারণে বর্তমান রোমান্স ভাষাগুলো শুনতে এত আলাদা লাগে। মাত্র কয়েকশ' বছর আগ পর্যন্তও পাশ্চাত্যে শিক্ষাদীক্ষার প্রধান মাধ্যম ছিল লাতিন; নিউটন এবং স্পিনোজার মতো মানুষদেরকেও বই লিখতে হয়েছে লাতিনে, এবং এখনও রোমান ক্যাথলিক চার্চের অনেক অনুষ্ঠান লাতিনে সম্পাদিত হয়। এখন পর্যন্ত লাতিন ভাষার প্র্রাচীনতম যে-নিদর্শনটি পাওয়া গেছে তা খ্রিস্টপূর্ব ৭ম শতাব্দীর।

বাংলার যেমন আমরা সাধু, চলিত, আঞ্চলিক এই তিন রূপ পাই, অনেকটা তেমনি প্রাচীন যুগে লাতিনের তিন রূপ ছিল: ধ্রুপদী লেখ্য, ধ্রুপদী কথ্য, এবং সাধারণ কথ্য। সাহিত্য লেখা হতো ধ্রুপদী লেখ্য রূপে, অভিজাত ব্যক্তিবর্গ, যেমন রাজনীতিবিদরা ভাষণ দিতেন ধ্রুপদী কথ্য রূপে, আর সাধারণ মানুষ কথা বলত সাধারণ কথ্য রূপে। এই সাধারণ কথ্য রূপটিই ভালগার লাতিন নামে পরিচিত হয় এবং ধীরে ধীরে রোমান্স ভাষাগুলোতে রূপ লাভ করে। তৃতীয় শতাব্দী থেকে শুরু করে ভালগার রূপেও অনেক কিছু লিখিত হতে থাকে, যদিও চতুর্থ শতাব্দীতেও সন্ত অগাস্টিন ধ্রুপদী, অভিজাত রূপ ব্যবহার করে লিখেছেন।

এই বইয়ে মূলত ধ্রুপদী লেখ্য লাতিন শেখানো হবে। কিন্তু এই রূপটিকে আলাদা একটি ভাষা ভাবার কোনো কারণ নেই, ঠিক যেমন সাধুবাংলাকে চলিতবাংলা থেকে সতন্ত্র একটি ভাষা ভাবার কোনো যুক্তি নেই। ধ্রুপদী লেখ্য, অর্থাৎ সবচেয়ে বিশুদ্ধ লাতিন জানলে অন্য রূপগুলো বোঝার পথেও অনেকদূর এগিয়ে যাওয়া হয়, এবং এমনকি রোমান্স ভাষা শেখাও অনেক সোজা হয়ে যায়।

লাতিন বনাম বাংলা[সম্পাদনা]

1490

লাতিন, গ্রিক, সংস্কৃত এই সবগুলো ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারের, এবং বাংলা সংস্কৃতের খুব কাছাকাছি হওয়ায় লাতিনেরও খুব দূরের নয়। আসলে ব্যাকরণের দিক থেকে চিন্তা করলে লাতিনের সাথে ইংরেজির চেয়ে বাংলার মিল বেশি। এই কারণে, আমরা যদিও ইংরেজিতে লেখা লাতিন ব্যাকরণের বই অনুসরণ করে এই বইটি তৈরি করছি, তারপরও এই বইয়ের অনন্যতা হচ্ছে এখানে বাংলা ব্যাকরণের মাধ্যমে লাতিন ব্যাকরণ শেখানো হবে। ভিন্ন ভাষা শেখার জন্য নিজ ভাষার ব্যাকরণ আগে রপ্ত করার কোনো বিকল্প নেই। এ-কারণে লাতিন ব্যাকরণের টেকনিকেল শব্দ ব্যবহার না করে আমরা বাংলা ব্যাকরণে তার কাছাকাছি শব্দগুলো ব্যবহার করব। যেমন লাতিনের parts of speechকে আমরা এখানে পদ প্রকরণই বলব, এবং লাতিনের conjugationকে বলব বিভক্তি, লাতিনের declensionকে বলব প্রত্যয়, লাতিন ক্রিয়ার rootকে বলব ধাতু, stemকে বলব প্রকৃতি, ইত্যাদি ইত্যাদি।

বাংলা ব্যাকরণের বই হিসেবে মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর (দু'জনই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিহত হন) লেখা বাংলা ভাষার ব্যাকরণ যেহেতু (অন্তত বাংলাদেশে) খুবই পরিচিত, জনপ্রিয় এবং সুলভ, সেহেতু লাতিন ব্যাকরণের এই বইটিকে আমরা চৌধুরীদ্বয়ের করা বিষয়বিভাগ অনুসারে ভাগ করছি। চৌধুরীদ্বয়ের বইয়ে ৫টি অধ্যায় ছিল যাদের বিষয় যথাক্রমে ভাষার সাধারণ পরিচিতি, ধ্বনিতত্ত্ব, শব্দ প্রকরণ, পদ প্রকরণ, এবং বাক্য প্রকরণ। সূচিপত্র ও বিষয় পরিচিতিতে গেলে দেখবেন আমাদের বইয়েও ঠিক এই পাঁচটিই অধ্যায়। এবং লাতিন ব্যাকরণের সবগুলো বিষয়কেই আমরা এই পাঁচ অধ্যায়ের মধ্যে সমন্বিত করেছি।

সূচিপত্র ও বিষয় পরিচিতি[সম্পাদনা]

সাধারণ পরিচিতি[সম্পাদনা]

ধ্বনি ও বর্ণ প্রকরণ[সম্পাদনা]

শব্দ প্রকরণ[সম্পাদনা]

পদ প্রকরণ[সম্পাদনা]

বাক্য প্রকরণ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • Rebecca Posner, Marius Sala, "Latin language," Encyclopedia Britannica.
  • মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।