মানব শারীরতত্ত্ব/রক্ত সংবহনতন্ত্র

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
মানুষের হৃদযন্ত্রের মডেল

ভূমিকা[সম্পাদনা]

হৃৎপিণ্ড হল আপনার বক্ষে অবস্থিত জীবনদানকারী, চির-স্পন্দিত পেশী। গর্ভের ভেতরে ভ্রূণ অবস্থা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই স্পন্দন চলতে থাকে। গড় মানুষের হৃৎপিণ্ড প্রায় ৩০ কোটি বার স্পন্দিত হয়; এটি কখনই বিশ্রাম নেয় না, দুটি স্পন্দনের মধ্যে একটি সেকেন্ডের একটি ভগ্নাংশ বিরতি নেওয়া ছাড়া চলা বন্ধ করে না। ৮০ বছর বয়সে, একজন ব্যক্তির হৃৎপিণ্ড দিনে গড়ে ১০০,০০০ বার স্পন্দিত হতে থাকবে। অনেকে বিশ্বাস করেন যে মানব শরীরে প্রথম কার্যকরী হয়ে ওঠা অঙ্গ হল হৃৎপিণ্ড। গর্ভধারণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই হৃৎপিণ্ড শরীরে পুষ্টি সরবরাহের কাজ শুরু করে, যদিও তখন ভ্রূণের আকার এই পৃষ্ঠায় একটি বড় অক্ষরের চেয়ে বড় নয়।

হৃদপিন্ডের প্রাথমিক কাজ হল ধমনী, কৈশিকনালী এবং শিরার মাধ্যমে সারা শরীরে রক্ত ​​পাম্প করা। একটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীর জুড়ে আনুমানিক ৬০,০০০ মাইল রক্তনালী আছে। রক্ত অক্সিজেন, পুষ্টি, রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, হরমোন পরিবহন করে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজও করে। হৃৎপিণ্ড হল সেই পাম্প যা রক্ত ​​সঞ্চালনকে সঠিক রাখে। আমেরিকানদের আজ তাদের হৃদযন্ত্র এবং সংবহনতন্ত্রের যত্ন নেওয়ার জন্য অনেকগুলি বিকল্প রয়েছে। চিকিৎসা প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এটাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। এই অধ্যায়টি হৃৎপিণ্ড এবং তার অনেক অংশকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

হৃৎপিণ্ড[সম্পাদনা]

হৃৎপিণ্ড হল হাতের মুষ্টির আকারের একটি ফাঁপা, পেশীবহুল অঙ্গ। এটি বারবার, ছন্দবদ্ধ সংকোচনের মাধ্যমে রক্তনালীগুলির সাহায্যে সারা দেহে রক্ত ​​পরিবহন করে। হৃৎপিণ্ড হৃৎপেশী দ্বারা গঠিত, সেগুলি অনৈচ্ছিক পেশী কলা যা শুধুমাত্র এই অঙ্গের মধ্যেই পাওয়া যায়। ইংরেজির "কার্ডিয়াক" (কার্ডিওলজির মত) শব্দের অর্থ "হৃদয়ের সাথে সম্পর্কিত" এবং গ্রীক শব্দ কার্ডিয়া থেকে সেটি এসেছে, "হৃৎপিণ্ড" বোঝানোর জন্য। এটি চারটি কক্ষযুক্ত, এতে দুটি পাম্প রয়েছে এবং এটি দুই ফুসফুসের মধ্যবর্তী বক্ষ গহ্বরে অবস্থিত। হৃৎপেশী স্ব-উত্তেজক, যার অর্থ এটির নিজস্ব পরিবাহী ব্যবস্থা রয়েছে। এটি কঙ্কালের পেশীর বিপরীতধর্মী, সেগুলির জন্য হয় সচেতন নয়তো প্রতিবর্তী স্নায়বিক উদ্দীপনা প্রয়োজন। হৃৎপিণ্ডের ছন্দবদ্ধ সংকোচন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে, যদিও ব্যায়াম বা বিপদের ধারণার মতো স্নায়বিক বা হরমোনের প্রভাব দ্বারা এর কম্পাঙ্ক বা হৃদস্পন্দন পরিবর্তিত হতে পারে।

এন্ডোকার্ডিয়াম[সম্পাদনা]

এন্ডোকার্ডিয়াম হল হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে ভেতরের আস্তরণ যা কিছু স্থানে একটি মসৃণ ঝিল্লি তৈরি করেছে এবং অন্য স্থানে (প্রধানত নিলয় বা নিম্ন পাম্পিং চেম্বার) একটি ছিদ্রযুক্ত এবং ট্র্যাবেকুলেটেড (বাম নিলয়ে পেশীর গুচ্ছ বা খণ্ড থাকে যা নিলয় গহ্বরে প্রসারিত হয়, একে ট্র্যাবেকুলেশন বলে) পৃষ্ঠের সমন্বয়ে গঠিত এন্ডোথেলিয়াল কোষ নিয়ে গঠিত।

মায়োকার্ডিয়াম[সম্পাদনা]

মায়োকার্ডিয়াম হৃৎপিণ্ডের পেশীবহুল কলা। মায়োকার্ডিয়াম বিশেষ হৃৎপেশী কোষ দ্বারা গঠিত যা শরীরের অন্য কোথাও কোন পেশী কলা কোষে দেখা যায় না। হৃৎপেশী, অন্যান্য পেশীগুলির মতো, সংকুচিত হতে পারে এবং এটি স্নায়ুর মতো বিদ্যুৎ পরিবহনও করতে পারে। করোনারি ধমনী দ্বারা মায়োকার্ডিয়ামে রক্ত ​​সরবরাহ করা হয়। যদি এই ধমনীগুলিতে এথেরোস্ক্লেরোসিস (ধমনীর দেয়ালে এবং তার উপর চর্বি, কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য পদার্থ জমা হওয়া) এবং/অথবা থ্রম্বোসিস হয়ে থাকে, তাহলে হৃৎপিণ্ডে ইস্কেমিয়ার (অক্সিজেনের অভাব) কারণে হৃৎশূল (অ্যানজাইনা পেক্টোরিস) বা হৃৎপেশীর রক্তাভাব (মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন) হতে পারে। হৃৎপিণ্ডের সঠিকভাবে সংকোচন করতে ব্যর্থ হওয়াকে (বিভিন্ন কারণে) হৃৎপিণ্ডের অকৃতকার্যতা (হার্ট ফেলিওর) বলা হয়, এর কারণে শরীরে তরল জমে যায়, শোথ (ইডিমা), ফুসফুসীয় শোথ, বৃক্কের অকার্যকারিতা (রেনাল ফেলিওর), যকৃতের বৃদ্ধি (হেপাটোমেগালি) ইত্যাদি হতে পারে এবং স্বল্পায়ু ও অসুস্থ জীবনের দিকে পরিচালিত করে।

এপিকার্ডিয়াম[সম্পাদনা]

মায়োকার্ডিয়ামের পাশের সবচেয়ে বাইরের স্তরটি এপিকার্ডিয়াম নামে পরিচিত। এটি এন্ডোকার্ডিয়াম এবং মায়োকার্ডিয়ামের পরে বাইরের স্তর যা সংযোজক কলা এবং চর্বির একটি পাতলা স্তর নিয়ে গঠিত।

পেরিকার্ডিয়াম[সম্পাদনা]

পেরিকার্ডিয়াম হল পুরু, ঝিল্লিযুক্ত থলি যা হৃৎপিণ্ডকে ঘিরে থাকে। এটি হৃৎপিণ্ডকে পিচ্ছিল রাখে এবং তাকে রক্ষা করে। পেরিকার্ডিয়ামে দুটি স্তর রয়েছে: তন্তুযুক্ত পেরিকার্ডিয়াম এবং সিরাস পেরিকার্ডিয়াম। সিরাস পেরিকার্ডিয়াম দুটি স্তরে বিভক্ত; এই দুই স্তরের মাঝখানে একটি স্থান আছে যাকে পেরিকার্ডিয়াল গহ্বর বলে।

হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ[সম্পাদনা]

হৃৎপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ রয়েছে, তার মধ্যে দুটি হল অলিন্দ (অ্যাট্রিয়াম) এবং বাকি দুটি নিলয় (ভেন্ট্রিকল)। অলিন্দ আকারে ছোট এবং পাতলা দেওয়ালযুক্ত হয়, অন্যদিকে নিলয়গুলি বড় এবং অনেক শক্তিশালী।


অলিন্দ[সম্পাদনা]

হৃদপিণ্ডের দুপাশে দুটি অলিন্দ থাকে। দক্ষিণ অলিন্দে যে রক্ত ​​আসে তাতে অক্সিজেনের পরিমান খুব কম থাকে। বাম অলিন্দের রক্ত ​​থাকে অক্সিজেনযুক্ত এবং সেই রক্ত সারা শরীরে পরিবাহিত হয়। দক্ষিণ অলিন্দ উর্ধ্ব মহাশিরা (সুপিরিয়র ভেনা কাভা) এবং নিম্ন মহাশিরা (ইনফিরিয়র ভেনা কাভা) থেকে অক্সিজেন বিহীন দূষিত রক্ত ​​গ্রহণ করে। অন্যদিকে বাম অলিন্দ বাম এবং দক্ষিণ ফুসফুসীয় শিরা থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ​​গ্রহণ করে। হৃৎপিণ্ডে নিরবচ্ছিন্নভাবে শিরার মাধ্যমে রক্ত প্রবাহ করতে দিয়ে অলিন্দ প্রাথমিকভাবে সঞ্চালনে সাহায্য করে, যার ফলে বাধাপ্রাপ্ত শিরাস্থ প্রবাহের জড়তা প্রতিরুদ্ধ হয়। এটি না করলে নিলয়ের প্রতিটি সংকোচনে (সিস্টোল) এই জড়তা ঘটে যেত।

নিলয়[সম্পাদনা]

নিলয় হল হৃৎপিণ্ডের একটি প্রকোষ্ঠ যে অলিন্দ থেকে রক্ত ​​সংগ্রহ করে এবং হৃৎপিন্ড থেকে তা বার করে দেয়। দুটি নিলয় আছে: দক্ষিণ নিলয় ফুফফুসীয় ধমনীতে রক্ত ​​​​পাঠায়, যেটি ফুফফুসীয় বর্তনীর মাধ্যমে এই রক্ত ​​​​গ্রহণ করে, এবং বাম নিলয় শরীরের বাকি অংশে রক্ত সঞ্চালনের জন্য মহাধমনীর মধ্যে রক্ত ​​পাম্প করে। নিলয়ের গাত্র দেওয়াল অলিন্দের চেয়ে পুরু, এবং তাই উচ্চতর রক্তচাপ তৈরি করতে পারে। বাম এবং দক্ষিণ নিলয়ের মধ্যে তুলনা করলে, বাম নিলয়ের দেয়াল বেশি পুরু কারণ এটিকে পুরো শরীরে রক্ত ​​পাম্প করতে হয়। এই কারণে অনেকেরই ভুল ধারণা আছে যে হৃৎপিণ্ড শরীরের বাম দিকে থাকে।

সেপ্টাম বা পর্দা[সম্পাদনা]

আন্তঃনিলয় পর্দা বা ইন্টার ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাম (ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাম, যা গঠনের সময় সেপ্টাম ইনফেরিয়াস) হল একটি পুরু প্রাচীর যা হৃৎপিণ্ডের নিচের প্রকোষ্ঠদুটিকে (নিলয়) একে অপরের থেকে আলাদা করে। নিলয়ের পর্দাটি পিছনের দিকে এবং ডান দিকে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দক্ষিণ নিলয়ের দিকে বেঁকে গেছে। এর বৃহত্তর অংশ পুরু ও পেশীবহুল এবং এটি পেশীবহুল নিলয় পর্দা গঠন করেছে। এর উপরের এবং পিছনের অংশ, যা দক্ষিণ অলিন্দের নিচের অংশ এবং ডান নিলয়ের উপরের অংশ থেকে মহাধমনী উপপ্রকোষ্ঠকে আলাদা করে রেখেছে, সেটি পাতলা ও তন্তুযুক্ত এবং সেটিকে ঝিল্লিযুক্ত নিলয় পর্দা বলা হয়।

কপাটিকা (ভালভ)[সম্পাদনা]

অলিন্দ নিলয়ের সংযোগস্থলে দুটি অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার (এভি) একমুখী কপাটিকা অবস্থিত, যারা নিশ্চিত করে যে শুধুমাত্র অলিন্দ থেকে নিলয়ে রক্ত ​​প্রবাহিত হবে, অন্যভাবে নয়। হৃৎপিণ্ড থেকে বেরিয়ে যাওয়া দুটি ধমনীতে দুটি সেমিলুনার (এসএল) বা অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা আছে; তারা রক্তকে নিলয়ের মধ্যে ফিরে আসতে বাধা দেয়। হৃৎস্পন্দনে যে শব্দ শোনা যায় তা হল হৃদপিণ্ডের কপাটিকাগুলির বন্ধ হওয়ার শব্দ। দক্ষিণ এভি কপাটিকাকে ত্রিপত্রক কপাটিকা বা ট্রাইকাসপিড ভালভও বলা হয় কারণ এতে তিনটি পত্র রয়েছে। এটি দক্ষিণ অলিন্দ এবং দক্ষিণ নিলয়ের মধ্যে অবস্থিত। প্রসারণের সময় (ডায়াস্টোল) হৃৎপিণ্ড শিথিল হলে ত্রিপত্রক কপাটিকা দক্ষিণ অলিন্দ থেকে দক্ষিণ নিলয়ে রক্ত ​​প্রবাহিত হতে দেয়। যখন হৃৎপিণ্ড সংকুচিত হতে শুরু করে, তখন হৃৎপিণ্ড সিস্টোল নামক একটি পর্যায়ে প্রবেশ করে এবং অলিন্দ রক্তকে নিলয়ে ঠেলে দেয়। তখন, নিলয় সংকুচিত হতে শুরু করে এবং হৃৎপিণ্ডের ভিতরে রক্তচাপ বেড়ে যায়। যখন নিলয়ের চাপ অলিন্দের চাপের চেয়ে বেশি হয়, ত্রিপত্রক কপাটিকা বন্ধ হয়ে যায়। বাম এভি কপাটিকাকে দ্বিপত্রক কপাটিকা বা বাইকাসপিড ভালভও বলা হয় কারণ এতে দুটি পত্র রয়েছে। এটি মিট্রাল ভালভ নামেও পরিচিত কারণ এটি দেখতে খ্রিস্টীয় ধর্মাধ্যক্ষের মিট্রে (উপাসনা মুকুট) এর মত হয়। এই কপাটিকা বাম নিলয়ের রক্তকে বাম অলিন্দে প্রবাহিত হতে বাধা দেয়। যেহেতু এটি হৃদপিণ্ডের বাম দিকে আছে, এটিকে অবশ্যই প্রচুর ধকল এবং চাপ সহ্য করতে হয়; এই কারণেই এটি শুধুমাত্র দুটি পত্র দিয়ে তৈরি, কারণ সহজ প্রক্রিয়াতে ত্রুটির ঝুঁকি কম থাকে। সেমিলুনার ভালভ নামে আরও দুটি কপাটিকা রয়েছে। তাদের পত্রগুলি অর্ধ চন্দ্রের মত। ফুসফুসীয় সেমিলুনার ভালভ দক্ষিণ নিলয় এবং ফুসফুসীয় শাখার মধ্যে অবস্থিত। মহাধমনী সেমিলুনার ভালভ বাম নিলয় এবং মহাধমনীর মধ্যে অবস্থিত।

উপ-কপাটিকা যন্ত্রপাতি[সম্পাদনা]

চোর্ডে টেন্ডিনা নামক সংযোজক কলা প্যাপিলারি পেশীগুলির সাথে সংযুক্ত থাকে যা কপাটিকাকে আরও ভালভাবে ধরে রাখতে টান সৃষ্টি করে। প্যাপিলারি পেশী এবং চোর্ডে টেন্ডিনা একত্রে, উপ-কপাটিকা যন্ত্রপাতি হিসাবে পরিচিত। এদের কাজ হল কপাটিকাগুলিকে বন্ধ করার সময় অলিন্দের মধ্যে তাদের স্থানচ্যুত হওয়া থেকে বিরত রাখা। কপাটিকা খোলা এবং বন্ধ করার উপর এদের কোন প্রভাব নেই। এটি সম্পূর্ণরূপে কপাটিকা জুড়ে চাপ নতিমাত্রা দ্বারা সৃষ্ট হয়।

হৃৎপিণ্ডের জটিলতা[সম্পাদনা]

হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে সাধারণ জন্মগত অস্বাভাবিকতা দেখা যায় ত্রিপত্রক কপাটিকা বা ট্রাইকাসপিড মহাধমনী কপাটিকায়। অস্বাভাবিক অবস্থায়, মহাধমনী কপাটিকায় তিনটির জায়গায় দুটি পত্র থাকে। এই অবস্থা প্রায়শই নির্ণয় করা যায় না যতক্ষণ না তার ক্যালসিফিক অ্যাওর্টিক স্টেনোসিসের (ক্যালসিয়াম জমা) প্রকাশ ঘটে। সাধারণত অস্বাভাবিক কপাটিকাযুক্ত ৪০ বা ৫০ বছরের রোগীদের মধ্যে অ্যাওর্টিক স্টেনোসিস দেখা যায়, স্বাভাবিক কপাটিকাযুক্ত ব্যক্তিদের তুলনায় গড়ে ১০ বছর আগে। বাতজ্বরের আরেকটি সাধারণ জটিলতা হল মিট্রাল কপাটিকা পুরু হওয়া এবং স্টেনোসিস (আংশিক আবদ্ধ)। বাতজ্বরে আক্রান্ত রোগীদের জন্য দাঁতের কোন কাজ করার আগে দাঁতের ব্যাকটেরিয়া এন্ডোকার্ডাইটিস প্রতিরোধের জন্য প্রতিরোধমূলকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। না হলে দাঁত থেকে ব্যাকটেরিয়া রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে প্রবেশ করে এবং হৃৎপিণ্ডের ক্ষতিগ্রস্ত কপাটিকায় বাসা বাঁধে।

মহাধমনী কপাটিকা একটি অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা, তবে এটিকে ত্রিপত্রক কপাটিকা বলা যায় কারণ এটির নিয়মিত তিনটি "পত্র" বা "অর্ধচন্দ্রাকার" কপাটিকা রয়েছে এবং এটিকে বাম অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার কপাটিকার সাথে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়, যাকে সাধারণত মিট্রাল কপাটিকা বলা হয় এবং সেটি দুটি কাসপিডাল কপাটিকার মধ্যে একটি।

হৃৎপিন্ডের মাধ্যমে রক্তের চলাচল[সম্পাদনা]

মানুষের হৃৎপিণ্ডের চিত্র

যদিও প্রথমে হৃৎপিণ্ডের ডান পাশ দিয়ে এবং তারপর বাম পাশ দিয়ে রক্তের প্রবাহ বর্ণনা করা সুবিধাজনক, এটি উপলব্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ যে উভয় অলিন্দ একই সময়ে সংকুচিত হয় এবং উভয় নিলয় একই সময়ে সংকুচিত হয়। হৃৎপিণ্ড দুটি পাম্প হিসাবে কাজ করে, একটি ডানদিকে এবং একটি বাম দিকে, দুটি একই সাথে কাজ করে। ডান দিকের পাম্প ফুসফুসে বা ফুসফুসীয় সঞ্চালনে রক্ত ​​​​পাঠায় এবং একই সময়ে বাম দিকের পাম্প শরীরের বাকি অংশে বা সিস্টেমিক সঞ্চালনে রক্ত ​​​​পাঠায় করে। সিস্টেমিক সঞ্চালনের দূষিত রক্ত (অক্সিজেন বিহীন) উর্ধ্ব এবং নিম্ন মহাশিরার মাধ্যমে দক্ষিণ অলিন্দে প্রবেশ করে। দক্ষিণ অলিন্দ সংকুচিত হয় এবং রক্তকে ত্রিপত্রক কপাটিকার (ডান অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার ভালভ) মাধ্যমে দক্ষিণ নিলয়ে পাঠিয়ে দেয়। দক্ষিণ নিলয় সংকুচিত হয় এবং ফুসফুসীয় অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকার মাধ্যমে ফুসফুসীয় শাখায় এবং ফুসফুসীয় ধমনীতে রক্ত ​​​​প্রবাহিত করে। এটি রক্তকে ফুসফুসে নিয়ে যায় যেখানে রক্ত ​​কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে মুক্ত হয় এবং অক্সিজেনের নতুন সরবরাহ পায়। নতুন রক্ত ​​ফুসফুসীয় শিরার মাধ্যমে বাম অলিন্দে বাহিত হয়। বাম অলিন্দ তখন সংকুচিত হয় এবং বাম অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার দ্বিপত্রক বা মিট্রাল কপাটিকার মাধ্যমে বাম নিলয়ে রক্ত ​​​​প্রবাহিত করে। বাম নিলয় সংকুচিত হয়ে ধমনীর অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকার মাধ্যমে রক্তকে উর্ধ্ব মহাধমনীতে পাঠিয়ে দেয়। তারপরে এটি শাখা ধমনীতে বিভক্ত হয়ে শরীরের সমস্ত অংশে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত ​​বহন করে নিয়ে যায়।

হৃদপিণ্ডের পরে রক্ত ​​প্রবাহ[সম্পাদনা]

মহাধমনী-ধমনী-শাখাধমনী-কৈশিকনালী-উপশিরা-শিরা-মহাশিরা

কৈশিকনালীর মাধ্যমে রক্ত ​​​​প্রবাহ[সম্পাদনা]

শাখাধমনী থেকে রক্ত এক বা একাধিক কৈশিকনালীর মধ্যে প্রবেশ করে। কৈশিকনালীর দেওয়ালগুলি এতই পাতলা এবং ভঙ্গুর যে রক্তকণিকাগুলি কেবলমাত্র একটি শ্রেণীতে যেতে পারে। কৈশিকনালীর ভেতরে, অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের বিনিময় ঘটে। কৈশিকনালীর অভ্যন্তরে লোহিত রক্তকণিকাগুলি তাদের অক্সিজেন ছেড়ে দেয় যা প্রাচীরের মধ্য দিয়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী কলাতে পৌঁছোয়। কলাগুলি তারপরে কার্বন ডাই অক্সাইডের মত বর্জ্য নির্গত করে, যা পরে প্রাচীরের মধ্য দিয়ে গিয়ে লোহিত রক্তকণিকায় পৌঁছোয়।

সংবহনতন্ত্র[সম্পাদনা]

জীবন চলমান রাখার জন্য সংবহনতন্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটির সঠিক কার্যকারিতা সমস্ত কোষে অক্সিজেন এবং পুষ্টি সরবরাহের জন্য দায়ী, সেইসাথে কার্বন ডাই অক্সাইড ও বর্জ্য পণ্য অপসারণ, সর্বোত্তম পিএইচ বজায় রাখা, এবং অনাক্রম্যতন্ত্রের প্রোটিন এবং কোষের মত উপাদানগুলির গতিশীলতার জন্য দায়ী। উন্নত দেশগুলিতে, মৃত্যুর দুটি প্রধান কারণ হল মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (হৃদপিণ্ডের পেশীতে রক্ত ​​​​প্রবাহের অভাবের কারণে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থা) এবং স্ট্রোক। বছরের পর বছর ধরে ধমনী ব্যবস্থার প্রতি সঠিক যত্ন না নিয়ে ধীরে ধীরে অবনতির সাথে আপস করার প্রত্যক্ষ ফলাফল এই দুটি অসুখ।

ধমনী[সম্পাদনা]

ধমনী হল পেশীবহুল রক্তনালী যেগুলি হৃৎপিণ্ড থেকে দূষিত এবং বিশুদ্ধ উভয় রক্তই ​​বহন করে নিয়ে যায়। ফুসফুসীয় ধমনীগুলি দূষিত রক্ত ​​​​ফুসফুসে বহন করে নিয়ে যায় এবং সিস্টেমিক ধমনীগুলি শরীরের বাকি অংশে অক্সিজেনযুক্ত বিশুদ্ধ রক্ত ​​বহন করে। ধমনীগাত্রে পুরু প্রাচীর থাকে যা তিনটি স্তর নিয়ে গঠিত। ভেতরের স্তরটিকে বলা হয় এন্ডোথেলিয়াম, মাঝের স্তরটি বেশিরভাগ মসৃণ পেশী এবং বাইরের স্তরটি সংযোগকারী কলা। ধমনীর দেওয়াল পুরু হয় যাতে রক্ত ​​জোরের সঙ্গে প্রবেশ করলে দেওয়ালগুলি প্রসারিত হতে পারে।

শাখাধমনী[সম্পাদনা]

শাখাধমনী হল ছোট ধমনী যা ধমনী থেকে শুরু হয়ে কৈশিকনালী পর্যন্ত প্রসারিত। শাখাধমনীগুলির দেওয়াল পুরু মসৃণ এবং পেশীবহুল হয়। এই মসৃণ পেশীগুলি সংকোচন করতে সক্ষম (ধমনীনালীর সংকোচন ঘটায়) এবং শিথিল হতে পারে (ধমনীনালীর প্রসারণ ঘটায়)। এই সংকোচন এবং প্রসারণ রক্তচাপকে প্রভাবিত করে; যত রক্তনালী প্রসারিত হবে, রক্তচাপ তত কম হবে। শাখাধমনীগুলি খালি চোখে দৃশ্যমান।

কৈশিকনালী[সম্পাদনা]

Illu capillary en.jpg

কৈশিকনালী দেহের নালীগুলির মধ্যে সবচেয়ে ছোট; তারা ধমনী এবং শিরাগুলিকে সংযুক্ত করে এবং কলার সাথে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত থাকে। তারা সারা শরীরে ছড়িয়ে আছে; তাদের মোট পৃষ্ঠ তলের ক্ষেত্রফল প্রায় ৬,৩০০ বর্গ মিটার। এই কারণে, কোনও কোষ কৈশিকনালী থেকে খুব বেশি দূরে থাকেনা, ৫০ মাইক্রোমিটার হল সর্বাধিক দূরত্ব। কৈশিকনালীগুলির দেওয়াল এন্ডোথেলিয়াম কোষের একক স্তর দিয়ে গঠিত, যা সমস্ত নালীর অভ্যন্তরীণ আস্তরণ। এই স্তরটি এতটাই পাতলা যে অক্সিজেন, জল এবং লিপিডের মত অণুগুলি ব্যাপন প্রক্রিয়ায় এর মধ্যে দিয়ে চলে যেতে পারে এবং কলায় প্রবেশ করতে পারে। কার্বন ডাই অক্সাইড এবং ইউরিয়ার মতো বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে অপসারণের জন্য ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তে ফিরে আসে।

"কৈশিকনালীর আস্তরণ" হল সারা শরীর জুড়ে উপস্থিত কৈশিকনালীর জালিকা। এই আস্তরণ প্রয়োজন অনুসারে যে কোনও সময়ে "খোলা" এবং "বন্ধ" হতে পারে। এই প্রক্রিয়াটিকে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ বলা হয় এবং কৈশিক জালিকা সাধারণত যে কোনও সময় যে পরিমাণ রক্ত ​​ধরে রাখতে পারে তার ২৫% এর বেশি বহন করে না। শরীরের কোষ যত বেশি বিপাকীয়ভাবে সক্রিয় থাকে, তাদের কৈশিকনালীর মাধ্যমে তত বেশি পুষ্টি সরবরাহের প্রয়োজন হয়।

শিরা[সম্পাদনা]

শিরা হৃৎপিণ্ডে রক্ত ​​বহন করে নিয়ে যায়। ফুসফুসীয় শিরাগুলি হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেনযুক্ত বিশুদ্ধ রক্ত ​​বহন করে আনে এবং সিস্টেমিক শিরাগুলি সারা শরীর থেকে দূষিত রক্ত ​​বহন করে হৃৎপিণ্ডে নিয়ে আসে। যে কোন সময়ে শরীরে রক্তের আয়তনের প্রায় ৭০% বহন করে শিরাস্থ প্রণালী। শিরার বাইরের দেওয়ালে ধমনীর মতই তিনটি স্তর রয়েছে, শুধুমাত্র ভিতরের স্তরে মসৃণ পেশীর অভাব আছে এবং বাইরের স্তরে কম সংযোজক কলা আছে। ধমনীর তুলনায় শিরার রক্তচাপ কম থাকে এবং হৃৎপিন্ডে রক্ত ​​ফিরিয়ে আনতে কঙ্কালের পেশীগুলির সাহায্যের প্রয়োজন হয়। মাধ্যাকর্ষণ দ্বারা সৃষ্ট উল্টো প্রবাহ প্রতিরোধ করার জন্য বেশিরভাগ শিরায় একমুখী কপাটিকা থাকে যাকে ভেনাস কপাটিকা বলে। তাদের একটি পুরু কোলাজেন বাইরের স্তর রয়েছে, যা রক্তচাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং রক্ত একজায়গায় ​​জমে যাওয়া (ব্লাড পুলিং) বন্ধ করে। যদি একজন ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকে বা দীর্ঘ দিন শয্যাশায়ী থাকে তবে রক্ত ​​শিরায় জমা হতে পারে এবং ভেরিকোজ শিরা হতে পারে। রক্ত নালীর ফাঁপা অভ্যন্তরীণ গহ্বর, যেখান দিয়ে রক্ত ​​​​প্রবাহিত হয়, তাকে লুমেন বলে। একটি পেশী স্তর শিরাগুলিকে সংকুচিত হতে সাহায্য করে, যার ফলে আরও রক্ত ​​​​সঞ্চালিত হয়। রক্তের প্রবাহে প্রবেশ পথ হিসাবে শিরাগুলিকে চিকিৎসাগতভাবে ব্যবহার করা হয়, পরীক্ষার উদ্দেশ্যে রক্তের নমুনা (ভেনিপাংচার) সংগ্রহ করা যায় এবং তরল, ইলেক্ট্রোলাইট, পুষ্টি এবং ওষুধ শরীরে প্রবেশ করানো যায় (অন্তঃশিরা চিকিৎসা)।

উপশিরা[সম্পাদনা]

উপশিরা হল একটি ছোট শিরা যা দূষিত রক্তকে কৈশিক নালীর আস্তরণ থেকে বৃহত্তর রক্তের শিরাগুলিতে ফিরতে সাহায্য করে, একমাত্র ফুসফুসীয় বর্তনীতে রক্ত ​​অক্সিজেনযুক্ত বা বিশুদ্ধ থাকে। উপশিরার দেওয়ালের তিনটি স্তর রয়েছে; এদের গঠন ধমনীর মতই কিন্তু তাদের মসৃণ পেশী কম থাকে, যার ফলে সেগুলি সূক্ষ্ম হয়।

হৃদ-রক্তনালীর পথ[সম্পাদনা]

মানুষের সংবহন তন্ত্র। ধমনী লাল এবং শিরা নীল রঙে দেখানো হয়েছে।

রক্ত প্রবাহের দ্বৈত সংবহন ব্যবস্থা বলতে উভচর, পাখি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীদের (মানুষ সহ) ফুসফুসীয় সঞ্চালন এবং সিস্টেমিক সঞ্চালনের পৃথক প্রক্রিয়াকে বোঝায়। বিপরীতে, মাছের সঞ্চালন ব্যবস্থা একক। উদাহরণস্বরূপ, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হৃৎপিণ্ড দুটি পৃথক পাম্প নিয়ে গঠিত, ডান দিকে দক্ষিণ অলিন্দ এবং নিলয় (যা দূষিত রক্তকে ফুসফুসীয় সঞ্চালনে পাঠায়), এবং বাম দিকে বাম অলিন্দ এবং নিলয় (যা অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ​​পাম্প করে সিস্টেমিক সঞ্চালনে পাঠায়)। এক বর্তনীর রক্তকে ​​অন্য বর্তনীতে প্রবেশ করতে হলে হৃৎপিণ্ডের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। প্রতি মিনিটে দুই থেকে তিনবার শরীরে রক্ত ​​সঞ্চালিত হয়। একদিনে, রক্ত ​​মোট ১৯,০০০ কিমি (১২,০০০ মাইল) বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উপকূল থেকে উপকূলের চারগুণ দূরত্ব অতিক্রম করে।

ফুসফুসীয় বর্তনী[সম্পাদনা]

ফুসফুসীয় বর্তনীতে, হৃৎপিণ্ডের দক্ষিণ নিলয় থেকে রক্ত ​​ফুসফুসে পাম্প করা হয়। এটি ফুসফুসের ধমনীর মাধ্যমে ফুসফুসে বাহিত হয়। ফুসফুসে, অ্যালভিওলাইয়ের অক্সিজেন অ্যালভিওলাইয়ের চারপাশের কৈশিকনালীগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং রক্তের অভ্যন্তরের কার্বন ডাই অক্সাইড কৈশিকনালী থেকে অ্যালভিওলাইতে চলে যায়। ফলস্বরূপ, রক্ত ​​অক্সিজেনযুক্ত হয় এবং ফুসফুসীয় শিরার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের বাম অলিন্দে পৌঁছে যায়। অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত ​​শরীরের সমগ্র অঙ্গ এবং কলার জন্য প্রস্তুত করা হয়। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কোষের অভ্যন্তরের মাইটোকন্ড্রিয়া জৈব যৌগগুলি থেকে শক্তি উৎপাদন করতে অক্সিজেনের ব্যবহার করে।

সিস্টেমিক বর্তনী[সম্পাদনা]

সিস্টেমিক বর্তনী তন্ত্র শরীরের সমস্ত অঙ্গে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ​​​​সরবরাহ করে। ফুসফুস থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ​​বাম অলিন্দে ফিরে আসে, তারপর নিলয় সংকুচিত হয়ে সেই রক্ত মহাধমনীতে পাঠিয়ে দেয়। সিস্টেমিক ধমনীগুলি মহাধমনী থেকে বিভক্ত হয় এবং সরাসরি রক্ত ​​​​কৈশিকনালীতে প্রবেশ করে। কোষ অক্সিজেন ও পুষ্টি গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ও বর্জ্য ফেরত পাঠিয়ে দেয় এবং তার সঙ্গে উৎসেচক ও হরমোন যোগ করে। শিরাগুলি কৈশিকনালী থেকে দূষিত রক্ত ​​সংগ্রহ করে নেয় এবং রক্তকে দক্ষিণ অলিন্দে ফিরিয়ে দেয়।

মহাধমনী[সম্পাদনা]

সিস্টেমিক বর্তনীর ধমনীগুলির মধ্যে মহাধমনীটি হল বৃহত্তম। বিশুদ্ধ রক্ত বাম নিলয় থেকে মহাধমনীতে পাম্প করা হয় এবং সেখান থেকে তা শরীরের সমস্ত অংশে প্রবাহিত হয়। মহাধমনী একটি স্থিতিস্থাপক ধমনী এবং সেইজন্য এটি নিজেকে প্রসারিত করতে সক্ষম। যখন বাম নিলয় সঙ্কুচিত হয়ে জোরের সঙ্গে রক্তকে মহাধমনীতে পাঠায়, তখন মহাধমনীটি প্রসারিত হয়। এই প্রসারণ মহাধমনীকে স্থিতিশক্তি দেয় যা ডায়াস্টোলের সময় (হৃৎপিণ্ডের অলিন্দের প্রসারণ) রক্তচাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে, কারণ এই সময়ে মহাধমনী নিষ্ক্রিয়ভাবে সংকুচিত হয়।

উর্ধ্ব মহাশিরা[সম্পাদনা]

উর্ধ্ব মহাশিরা (এসভিসি) হল একটি ছোট শিরা যা শরীরের উপরার্ধ্ব থেকে হৃৎপিণ্ডের দক্ষিণ অলিন্দে দূষিত রক্ত ​​বহন করে। এটি বাম এবং ডান ব্র্যাকিওসেফালিক শিরা দ্বারা গঠিত হয় (এটিকে ইনোমিনেট শিরা হিসাবেও উল্লেখ করা হয়) যা উর্ধ্বাঙ্গ, মাথা এবং ঘাড় থেকে রক্ত ​​​​গ্রহণ করে। অ্যাজিগাস শিরা (যা পাঁজর থেকে রক্ত ​​​​গ্রহণ করে) দক্ষিণ অলিন্দে প্রবেশের ঠিক আগে এটিতে যোগ দেয়।

নিম্ন মহাশিরা[সম্পাদনা]

নিম্ন মহাশিরা (বা আইভিসি) হল একটি বড় শিরা যা দেহের নিম্নাঙ্গ থেকে দূষিত রক্ত ​​হৃৎপিণ্ডে বহন করে। এটি বাম এবং দক্ষিণের সাধারণ ইলিয়াক শিরা দ্বারা গঠিত এবং হৃৎপিণ্ডের দক্ষিণ অলিন্দে রক্ত ​​​​পরিবহন করে। এটি পেটের গহ্বরের পিছনে অবস্থিত এবং এটির ডান দিকে মেরুদণ্ডের পাশাপাশি চলে।

করোনারি ধমনী[সম্পাদনা]

হৃৎপিণ্ডে করোনারি ধমনী দেখা যাচ্ছে

করোনারি সঞ্চালন সেই রক্তনালীগুলি নিয়ে গঠিত যারা হৃৎপিণ্ডের পেশীতে রক্ত ​​সরবরাহ করে এবং একই সঙ্গে দূষিত রক্ত বার করে আনে। মায়োকার্ডিয়ামে বিশুদ্ধ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ​​​​সরবরাহকারী রক্তনালীগুলি করোনারি ধমনী হিসাবে পরিচিত। যে রক্তনালীগুলি হৃৎপিণ্ডের পেশী থেকে দূষিত রক্ত ​​অপসারণ করে তা কার্ডিয়াক শিরা হিসাবে পরিচিত। হৃৎপিণ্ডের উপরিভাগে সঞ্চালিত করোনারি ধমনীকে বলা হয় এপিকার্ডিয়াল করোনারি ধমনী। এই ধমনীগুলি, যখন সুস্থ, তখন হৃৎপিণ্ডের পেশীগুলির প্রয়োজনের জন্য উপযুক্ত স্তরে করোনারি রক্ত ​​​​প্রবাহ বজায় রাখতে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। এই অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ রক্তনালীগুলি সাধারণত এথেরোস্ক্লেরোসিস (ধমনীর দেয়ালে এবং তার ওপর চর্বি, কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য পদার্থ জমা হওয়া) দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে হৃৎশূল (অ্যানজাইনা) বা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। করোনারি ধমনীগুলিকে "শেষ সঞ্চালন" হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে কারণ তারা মায়োকার্ডিয়ামে রক্ত ​​​​সরবরাহের একমাত্র উৎস: এখানে খুব কমই প্রয়োজনের অতিরিক্ত রক্ত ​​​​সরবরাহ হয়, যে কারণে এই রক্তনালী বন্ধ হয়ে গেলে তা গুরুতর হতে পারে। সাধারণভাবে দুটি প্রধান করোনারি ধমনী আছে, বাম এবং দক্ষিণ। • দক্ষিণ করোনারি ধমনী • বাম করোনারি ধমনী এই উভয় ধমনী মহাধমনীর শুরু (মূল) থেকে উৎপন্ন হয়, মহাধমনী কপাটিকার ঠিক ওপরে। নিচে আলোচনা করা হয়েছে, বাম করোনারি ধমনী বাম মহাধমনী সাইনাস থেকে উদ্ভূত হয় এবং দক্ষিণ করোনারি ধমনীটি ডান মহাধমনী সাইনাস থেকে উৎপন্ন হয়। চার শতাংশ মানুষের একটি তৃতীয়, পশ্চাদ্বর্তী করোনারি ধমনী থাকে। বিরল ক্ষেত্রে, একজন রোগীর একটি করোনারি ধমনী থাকতে পারে যা মহাধমনীর মূলের চারপাশে চলে।

হেপাটিক শিরা[সম্পাদনা]

মানুষের শারীরবৃত্তিতে, যে রক্তনালীগুলি যকৃৎ থেকে দূষিত রক্ত ​​নিষ্কাশন করে এবং যকৃৎ দ্বারা পরিষ্কার করা রক্ত ​​(পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং কোলন থেকে) বহন করে নিয়ে এসে নিম্ন মহাশিরায় ফেলে সেই রক্তনালীগুলিকে বলা হয় হেপাটিক শিরা। এগুলি যকৃতের ক্ষুদ্র উদ্গত অংশ থেকে, বা আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে যকৃৎ লোবিউলের কেন্দ্রীয় শিরা থেকে উদ্ভূত হয়। তাদের দুটি ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে, উপরের ভাগ এবং নিম্নের ভাগ। উপরের ভাগের তিনটি সাধারণত লিভারের পেছন দিক থেকে উদ্ভূত হয় এবং যকৃতের চতুষ্কোণী খণ্ড ও বাম খণ্ড থেকে রক্ত নিষ্কাশন করে। নিচের ভাগটি উত্থিত হয় দক্ষিণ খণ্ড এবং ক্যাউডেট খণ্ড থেকে, এরা সংখ্যায় পরিবর্তনশীল এবং সাধারণত ওপরের ভাগের তুলনায় ছোট। হেপাটিক শিরাগুলির কোনওটিতে কপাটিকা নেই।

কার্ডিয়াক চক্র[সম্পাদনা]

সারা শরীরে রক্ত ​​পাম্প করার জন্য হৃৎপিণ্ডে যে সংকোচন এবং প্রসারণ হয় সেটি বর্ণনা করার জন্য কার্ডিয়াক চক্র শব্দটি ব্যবহৃত হয়। কার্ডিয়াক চক্রের কম্পাঙ্ক (ফ্রিকোয়েন্সি) বোঝাতে হৃদস্পন্দন (হার্ট রেট) শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এটি জীবনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়। সাধারণত এটি এক মিনিটে হৃৎপিণ্ডের সংকোচনের (হার্ট বিট) সংখ্যা হিসাবে গণনা করা হয় এবং "প্রতি মিনিটে স্পন্দন" (বিপিএম) হিসাবে প্রকাশ করা হয়। বিশ্রামের সময়, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হৃৎপিণ্ড প্রায় ৭০ বিপিএম (পুরুষ) এবং ৭৫ বিপিএম (মহিলা) হারে স্পন্দিত হয়, কিন্তু এই হার বিভিন্ন ধরণের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনশীল। যাইহোক, উল্লেখ্য পরিসীমা সাধারণত ৬০ বিপিএম (এর কম হলে বলা হয় ব্র্যাডিকার্ডিয়া) এবং ১০০ বিপিএম (এর বেশি হলে বলা হয় ট্যাকিকার্ডিয়া) এর মধ্যে হয়। বিশ্রামের হৃদস্পন্দন ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতে পারে এবং স্থূলদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে। কার্ডিয়াক উৎপাদ (প্রতি একক সময়ে হৃদপিণ্ড থেকে নির্গত রক্তের পরিমাণ) বাড়ানোর জন্য শরীর বিভিন্ন অবস্থার প্রতিক্রিয়া হিসাবে হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি করতে পারে। ব্যায়াম, পরিবেশগত চাপ বা মনস্তাত্ত্বিক চাপের কারণে হৃদস্পন্দন বিশ্রামের সময়ের হৃদস্পন্দনের থেকে বেড়ে যেতে পারে। হৃদস্পন্দন পরিমাপের সবচেয়ে সহজ উপায় হল নাড়ির বেগ মাপা, কিন্তু হৃৎপিণ্ডের কিছু স্পন্দন খুব বেশি কার্ডিয়াক উৎপাদ না করলে এটি বিভ্রান্তিমূলক হতে পারে। এই সব ক্ষেত্রে (যেমন কিছু অ্যারিথমিয়াতে ঘটে), হৃদস্পন্দন নাড়ির তুলনায় যথেষ্ট বেশি হতে পারে। হৃৎপিণ্ডের প্রতিটি একক 'স্পন্দন' এর মধ্যে তিনটি প্রধান পর্যায় জড়িত: অলিন্দ সিস্টোল, নিলয় সিস্টোল এবং সম্পূর্ণ কার্ডিয়াক ডায়াস্টোল। কার্ডিয়াক চক্র জুড়ে, রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। নিলয়গুলি সংকুচিত হওয়ার সাথে সাথে চাপ বৃদ্ধি পায়, যার ফলে এভি কপাটিকাগুলি বন্ধ হয়ে যায়।

সিস্টোল[সম্পাদনা]

সিস্টোল পর্যায়ে হৃৎপিণ্ড।

হৃৎপিণ্ডের সিস্টোল, বা সংকোচন, সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোডের বৈদ্যুতিক কোষ দ্বারা শুরু হয়, যেটি হল হৃৎপিণ্ডের প্রাকৃতিক পেসমেকার (কৃত্রিম পেসমেকার হল একটি ছোট যন্ত্র যা হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার জন্য বুকে বসানো হয়)। উত্তেজনার জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে তাদের ঝিল্লির ডিপোলারাইজেশনের (কোষের মধ্যে একটি পরিবর্তন, যে সময়ে কোষটি বৈদ্যুতিক আধান বিতরণে একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়, যার ফলে বাইরের তুলনায় কোষের ভিতরে কম ঋণাত্মক আধান হয়) মাধ্যমে এই কোষগুলি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সক্রিয় হয়। এই সময়ে, কোষের ঝিল্লিতে ভোল্টেজ দ্বারা আবদ্ধ ক্যালসিয়াম পথগুলি খোলে এবং ক্যালসিয়াম আয়নগুলিকে পেশী কোষের মূল বা অভ্যন্তরে যাওয়ার অনুমতি দেয়। কিছু ক্যালসিয়াম আয়ন সারকোপ্লাজমিক রেটিকুলামের (বিশেষায়িত মসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের একটি জটিল জালিকা যা বৈদ্যুতিক আবেগ প্রেরণের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম আয়ন সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ) রিসেপ্টরের সাথে আবদ্ধ হয় যার ফলে সারকোপ্লাজমে ক্যালসিয়াম আয়ন প্রবেশ করে। ক্যালসিয়াম আয়নগুলি ট্রপোনিনের সাথে আবদ্ধ হয় যার ফলে একটি গঠনগত পরিবর্তন ঘটে, প্রোটিন ট্রপোমায়োসিন (যার সাথে ট্রোপোনিন সংযুক্ত থাকে) এবং মায়োসিন বন্ধনস্থলগুলির মধ্যে বন্ধন ভেঙ্গে যায়। এতে মায়োসিন হেডগুলি (পুরু মায়োফিলামেন্টের অংশ) অ্যাক্টিন প্রোটিন ফিলামেন্টের ওপর মায়োসিন বন্ধনস্থলের সাথে আবদ্ধ হয় এবং সংকোচন শুরু হয়। কারণ মায়োসিন হেডগুলি এটিপি দ্বারা আবদ্ধ অ্যাক্টিন ফিলামেন্টগুলিকে টানতে থাকে। এর ফলে অ্যাক্টিন মুক্ত হয়ে আসে এবং তাদের আসল অবস্থানে ফিরে যায়, তখন এটিপি ভেঙে গিয়ে এডিপি এবং একটি ফসফেট গ্রুপ তৈরি করে। এই ক্রিয়া বিভব সোডিয়াম আয়নগুলির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, সন্নিহিত মায়োকার্ডিয়াল কোষের সারকোপ্লাজমকে সংযুক্ত করে যেখানে সেই সন্ধিস্থলে। সাইনো-অ্যাট্রিয়াল এবং অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার নোডগুলিতে ডিপোলারাইজড সিমপ্যাথেটিক ফাইবারের টার্মিনাল বাউটন (একটি স্নায়ু তন্তু বা কোষের একটি বর্ধিত অংশ) থেকে নোরেপাইনফ্রাইন (নরঅ্যাড্রেনালিন) নির্গত হয়। নোরপাইনফ্রাইন স্নায়ুসন্ধির ফাঁক জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিটা১-অ্যাড্রেনোরসেপ্টরগুলির (এটি জি-প্রোটিন যুক্ত রিসেপ্টর, যেটি সাতটি ঝিল্লি জুড়ে বিদ্যমান অঞ্চল নিয়ে গঠিত) সাথে আবদ্ধ হয়। তারা সক্রিয় অবস্থার দিকে পরিবর্তিত হয়। রিসেপ্টর তার গঠন পরিবর্তন করে এবং যান্ত্রিকভাবে জি-প্রোটিনকে সক্রিয় করে যা মুক্ত হয়। জি-প্রোটিন অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট (এটিপি) থেকে অ্যাডেনোসিন ৩',৩'-সাইক্লিক মনোফসফেট (সিএএমপি) উৎপাদন করে এবং এর ফলে প্রোটিন কিনেস (বিটা-অ্যাড্রেনোরেসেপ্টর কাইনেজ) সক্রিয় হয়। এই বিটা-অ্যাড্রেনোরেসেপ্টর কাইনেজ পেশী কোষের প্লাজমা ঝিল্লিতে (সারকোপ্লাজম) ক্যালসিয়াম আয়নের গতিপথকে ফসফরিলেট (একটি অণু বা যৌগে একটি ফসফেট গ্রুপ তৈরি করে) করে, যাতে ঝিল্লির অন্তর্বর্তী উপযুক্ত ভোল্টেজ দ্বারা সক্রিয় হলে ক্যালসিয়াম আয়ন প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। এটি সারকোপ্লাজমিক রেটিকুলামের আরও বেশি ক্যালসিয়াম রিসেপ্টর সক্রিয় করে, যা সারকোপ্লাজমের মধ্যে ক্যালসিয়াম আয়নের একটি বৃহত্তর প্রবাহ তৈরি করে। আরও ট্রোপোনিন আবদ্ধ হয় এবং আরও বেশি মায়োসিন বন্ধনস্থলগুলি মুক্ত হয় [ট্রপোমায়োসিন থেকে] যাতে সংকোচনের জন্য আরও বেশি মায়োসিন হেড নিযুক্ত হয় এবং আরও বেশি বল ও গতিতে সংকোচন ঘটে। [ফসফোডিস্টেরেজ উৎসেচক সিএএমপি কে এএমপি-তে ভাঙতে সাহায্য করে যাতে এটি আর প্রোটিন কিনেস সক্রিয় করতে সক্ষম হয় না। এএমপি অবশ্যই, এটিপিতে ফসফরিলেটেড হবে এবং পুনর্ব্যবহৃত হতে পারে।] নরঅ্যাড্রেনালিন অলিন্দ-নিলয় নোডকেও প্রভাবিত করে, এইচআইএস এর গুচ্ছের মাধ্যমে ক্রিয়া বিভব চালিয়ে যাওয়ার আগে বিলম্ব কমায়।

ডায়াস্টোল[সম্পাদনা]

ডায়াস্টোল পর্যায়ে হৃৎপিণ্ড।

কার্ডিয়াক ডায়াস্টোল হল সেই সময়কাল যখন হৃৎপিণ্ড সংকোচনের পর সঞ্চালনকারী রক্তে পুনঃপূরণের প্রস্তুতির জন্য শিথিল হয়ে যায়। নিলয় ডায়াস্টোল হল যখন নিলয় শিথিল হয়, আর অলিন্দ ডায়াস্টোল হল যখন অলিন্দ শিথিল হয়। একসাথে তারা সম্পূর্ণ কার্ডিয়াক ডায়াস্টোল নামে পরিচিত। মনে রাখা দরকার যে এমনকি এই শিথিলকরণ প্রক্রিয়াটিও একটি সক্রিয়, শক্তি-ক্ষয় প্রক্রিয়া। নিলয় ডায়াস্টোলের সময়, সিস্টোলে পৌঁছোনো নিলয়ের চাপ (বাম এবং দক্ষিণ) শীর্ষ থেকে নেমে যায়। যখন বাম নিলয়ের চাপ বাম অলিন্দের চাপের নিচে নেমে যায়, মিট্রাল কপাটিকা খুলে যায় এবং বাম অলিন্দে জমা রক্ত বাম নিলয়ে এসে পূর্ণ হয়। একইভাবে, যখন দক্ষিণ নিলয়ের চাপ দক্ষিণ অলিন্দের থেকে কমে যায়, তখন ত্রিপত্রক কপাটিকা খুলে যায় এবং দক্ষিণ অলিন্দের রক্ত দক্ষিণ নিলয় চলে আসে।

"লাব-ডুব"[সম্পাদনা]

প্রথম হৃদ-ধ্বনি, বা এস১, "লাব" নিলয় সংকোচনের শুরুতে অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার কপাটিকা, মিট্রাল এবং ত্রিপত্রক কপাটিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে হয়। দ্বিতীয় হৃদ-ধ্বনি, বা এস২ (এ২ এবং পি২), "ডুব" নিলয় সিস্টোলের শেষে মহাধমনী কপাটিকা (অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা) এবং ফুসফুসীয় কপাটিকা (দুটিই অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা) বন্ধ হওয়ার কারণে ঘটে। বাম নিলয় খালি হওয়ার সাথে সাথে এর চাপ মহাধমনীর চাপের চেয়ে কম হয়ে যায় এবং মহাধমনী কপাটিকা বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে, দক্ষিণ নিলয়ের চাপ ফুসফুসীয় ধমনীর চাপের নিচে নেমে যাওয়ায় ফুসফুসীয় কপাটিকা বন্ধ হয়ে যায়। শ্বাস নেবার সময়, নেতিবাচক ইন্ট্রাথোরাসিক চাপ হৃৎপিণ্ডের ডানদিকে রক্ত ​​​​প্রত্যাবর্তনের বৃদ্ধি ঘটায়। দক্ষিণ নিলয়ে রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে নিলয় সিস্টোলের সময় ফুসফুসীয় কপাটিকা বেশিক্ষণ খোলা থাকে। এটি এস২ এর পি২ উপাদানে একটি বর্ধিত বিলম্ব ঘটায়। শ্বাস ছাড়ার সময়, ইতিবাচক ইন্ট্রাথোরাসিক চাপ হৃৎপিণ্ডের ডানদিকে রক্তের প্রত্যাবর্তন হ্রাস করে। দক্ষিণ নিলয়ের হ্রাসকৃত আয়তন নিলয় সিস্টোলের শেষে ফুসফুসীয় কপাটিকাকে আগে বন্ধ করতে দেয়, যার ফলে পি২ আগে ঘটে এবং এ২ এর "কাছে" হয়। অল্প বয়স্ক ব্যক্তিদের দ্বারা শ্বাস নেবার সময় বিভক্ত হৃদ-ধ্বনি শোনা শারীরবৃত্তীয়। শ্বাস ছাড়ার সময় সাধারণত দুটি উপাদানের মধ্যে ব্যবধান ছোট হয় এবং স্বন একত্রিত হয়ে যায়।

হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক পরিবাহী ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

হৃৎপিণ্ড মূলত পেশী কলা দিয়ে গঠিত। হৃৎপিণ্ডে দক্ষ এবং তরঙ্গের মতো পাম্পিং কার্যকারিতা পেতে স্নায়ু তন্তুগুলির একটি অন্তর্জালিকা হৃদপেশী-কলার সংকোচন এবং প্রসারণের সমন্বয় করে।

কিভাবে কাজ করে (হৃৎপিণ্ড)

হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ[সম্পাদনা]

হৃৎপিণ্ডে দুটি কার্ডিয়াক পেসমেকার থাকে যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন ঘটায়। এগুলি স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র এবং সঞ্চালিত অ্যাড্রেনালিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যদি হৃদযন্ত্রের পেশীগুলি স্বাভাবিক অবস্থাতেই এলোমেলোভাবে সংকুচিত এবং প্রসারিত হয় তবে চক্রটি বিশৃঙ্খল হয়ে উঠবে এবং হৃৎপিণ্ড একটি দক্ষ পাম্প হিসাবে কাজ করতে পারবেনা। কখনও যদি হৃৎপিণ্ডের কার্ডিয়াক পেশীর কোন অংশ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয় বা ব্যক্তির বৈদ্যুতিক শক লাগে, তখন কার্ডিয়াক চক্র অসংলগ্ন এবং বিশৃঙ্খল হয়ে উঠতে পারে। হৃৎপিণ্ডের কিছু অংশ যখন সংকুচিত হবে তখন হয়তো অন্য অংশ প্রসারিত হয়ে যাবে এবং সম্পূর্ণরূপে সংকোচন এবং প্রসারণ ঘটবেনা, এতে হৃৎপিণ্ড অস্বাভাবিকভাবে স্পন্দিত হবে। একে ফাইব্রিলেশন বলা হয় এবং ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে চিকিৎসা না করা হলে এটি প্রাণনাশক হতে পারে।

সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড এবং হিজ এর অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার গুচ্ছের পরিকল্পিত উপস্থাপনা। এসএ নোডের অবস্থান নীল রঙে দেখানো হয়েছে। গুচ্ছ, লাল রঙে উপস্থাপিত, করোনারি সাইনাসের ছিদ্রের কাছে উৎপন্ন হয়, এভি নোড গঠন করতে গিয়ে সামান্য প্রসারিত হয়। এভি নোডটি হিজ-এর গুচ্ছে নিচে নেমে যায়, যা নিলয় পর্দায় যায় এবং দুটি গুচ্ছে বিভক্ত হয়, বাম এবং দক্ষিণ গুচ্ছ। এই চিত্রটিতে চূড়ান্ত বিতরণ সম্পূর্ণরূপে দেখানো যাবে না।

এসএ নোড
সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড (সংক্ষেপে এসএ নোড বা স্যান, একে সাইনাস নোডও বলা হয়) হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দে অবস্থিত একটি স্পন্দন উৎপাদনকারী (পেসমেকার) কলা। যদিও হৃৎপিণ্ডের সমস্ত কোষে বৈদ্যুতিক স্পন্দন (বা কার্য বিভব) তৈরি করার ক্ষমতা রয়েছে যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচনকে ঘটায়, সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড সাধারণত এটির সূচনা করে, কারণ এটির পেসমেকার ক্ষমতা থাকায় অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কিছুটা দ্রুত উদ্দীপনা তৈরি করে। যেহেতু কার্ডিয়াক মায়োসাইট, সমস্ত স্নায়ুকোষের মতই, সংকোচনের পরে পুনর্বার তৈরি হতে সময় নেয় এবং সেই সময় অতিরিক্ত সংকোচন তাদের দ্বারা শুরু করা যায় না, তাই তাদের পেসমেকার ক্ষমতাকে সাইনো-অ্যাট্রিয়াল অগ্রাহ্য করে। এভি বা পার্কিনিয়ে তন্তু (নিলয় পেশীতে বৈদ্যুতিক সঞ্চালন এবং স্পন্দনেরর অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে) সীমায় পৌঁছানোর আগেই এসএ নোড একটি নতুন স্পন্দন নির্গত করে। সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড (এসএ নোড) হল কোষের একটি গুচ্ছ যা দক্ষিণ অলিন্দের দেওয়ালে, উর্ধ্ব মহাশিরার প্রবেশপথের কাছে অবস্থিত। এই কোষগুলি পরিবর্তিত কার্ডিয়াক মায়োসাইট। তারা কিছু সংকোচনশীল ফিলামেন্টের অধিকারী, যদিও তারা সংকোচন করে না। এসএ নোডের কোষগুলি স্বাভাবিকভাবে মিনিটে প্রায় ৭০-৮০ বার স্পন্দন তৈরি করে (কার্য বিভব তৈরি করে)। যেহেতু সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড হৃৎপিণ্ডের বাকি বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের জন্য দায়ী, এটিকে কখনও কখনও প্রাথমিক পেসমেকারও বলা হয়। যদি এসএ নোড কাজ না করে, বা এসএ নোডে উৎপন্ন স্পন্দনটি বৈদ্যুতিক পরিবাহী ব্যবস্থায় পৌঁছোনোর আগে অবরুদ্ধ হয়ে যায়, তাহলে হৃৎপিণ্ডের নিচের দিকে আরও একদল কোষ হৃৎপিণ্ডের পেসমেকার হয়ে ওঠে। এই কোষগুলি অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার নোড (এভি নোড) গঠন করে, যা অলিন্দ পর্দার মধ্যে দক্ষিণ অলিন্দ এবং নিলয়ের মধ্যের একটি অঞ্চল। এভি নোড থেকে আসা উদ্দীপনা একটি ধীর হৃদস্পন্দন বজায় রাখবে (প্রতি মিনিটে প্রায় ৪০-৬০ স্পন্দন)। যখন এভি নোড বা পার্কিনিয়ে তন্তুতে কোন সমস্যা থাকে, তখন একটি একটোপিক (একটি অস্বাভাবিক জায়গায় বা অবস্থানে) পেসমেকার হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন অংশে সংঘটিত হতে পারে। একটোপিক পেসমেকার সাধারণত এসএ নোডের চেয়ে দ্রুত উদ্দীপনা নিঃসরণ করে এবং সংকোচনের একটি অস্বাভাবিক ক্রম ঘটায়। এসএ নোডটি ভেগাস এবং অন্যান্য অনুকম্পী (সিমপ্যাথেটিক) তন্তু দ্বারা সমৃদ্ধ, যার ফলে এসএ নোড স্বয়ংক্রিয় প্রভাবের জন্য সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। ভেগাস স্নায়ুর উদ্দীপনা এসএ নোডের হার হ্রাস করে (যার ফলে হৃদস্পন্দন হ্রাস পায়)। অনুকম্পী তন্তুর মাধ্যমে উদ্দীপনা এসএ নোডের হার বৃদ্ধি করে (যার ফলে হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পায়)। অনুকম্পী স্নায়ুগুলি হৃৎপিণ্ডের সমস্ত অংশে, বিশেষত নিলয় পেশীগুলিতে রয়েছে। পরা-অনুকম্পী স্নায়ু প্রধানত এসএ এবং এসভি নোড, কিছু অলিন্দ পেশী এবং নিলয় পেশী নিয়ন্ত্রণ করে। ভেগাস স্নায়ু থেকে পরা-অনুকম্পী (প্যারাসিমপ্যাথেটিক) উদ্দীপনা এভি নোডের হার হ্রাস করে। এটি ঘটে ভেগাস প্রান্তে এসিটাইলকোলিন নিঃসরণ ঘটিয়ে কার্ডিয়াক পেশী তন্তুর পটাশিয়াম আয়নের ভেদ্যতা বৃদ্ধি করে। ভেগাসের উদ্দীপনা এভি সংযোগস্থলের মাধ্যমে সংকেত আটকাতে পারে বা এসএ নোডের সংকোচন বন্ধ করতে পারে যাকে "নিলয়ঘটিত এস্কেপ" বলা হয়। যখন এটি ঘটে, এভি গুচ্ছের পার্কিনিয়ে তন্তুগুলি তাদের নিজস্ব একটি ছন্দ তৈরি করে। বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে, এসএ নোড দক্ষিণ করোনারি ধমনী থেকে রক্ত ​​​​গ্রহণ করে, যার অর্থ হল কোন মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন হলে এসএ নোডে ইসকেমিয়া সৃষ্টি হবে যদি না বাম করোনারি ধমনী থেকে যথেষ্ট ভাল অ্যানাস্টোমোসিস (দুটি জিনিসের মধ্যে সংযোগ) না থাকে। যদি তা না হয়, আক্রান্ত কোষের মৃত্যু হলে এসএ নোড আর হৃদস্পন্দন উদ্দীপ্ত করতে পারবে না।

এভি নোড[সম্পাদনা]

অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার নোড (সংক্ষেপে এভি নোড) হল হৃৎপিণ্ডের অলিন্দ এবং নিলয়ের মধ্যবর্তী কলা, যা অলিন্দ থেকে নিলয় পর্যন্ত স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক আবেগ সঞ্চালিত করে। এভি নোডটি অলিন্দ থেকে দুটি যোগান গ্রহণ করে: পেছনের দিক থেকে ক্রিস্টা টার্মিনালিসের মাধ্যমে এবং সামনের দিক থেকে আন্তঃঅলিন্দ পর্দার মাধ্যমে। [১] এভি নোডের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট হল এর ক্রমহ্রাসমান পরিবাহিতা। এটি এভি নোডের বৈশিষ্ট্য যা অলিন্দের ফাইব্রিলেশন (অনিয়মিত এবং প্রায়শই খুব দ্রুত হৃৎপিণ্ডের ছন্দ বা অ্যারিথমিয়া যার জন্য হৃৎপিণ্ডে রক্ত ​​​​জমাট বাঁধতে পারে) বা অলিন্দের ফ্লাটারের (হৃদযন্ত্রের ছন্দের ব্যাধি যাতে হৃৎপিণ্ডের উপরের কক্ষ বা অলিন্দ খুব দ্রুত স্পন্দিত হয়) মত দ্রুত অলিন্দ ছন্দের ক্ষেত্রে নিলয়ে দ্রুত সঞ্চালনকে বাধা দেয়। অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার নোড নিলয়ের দেয়ালে ছড়িয়ে পড়ার আগে ০.১ সেকেন্ডের জন্য উদ্দীপনাকে বিলম্বিত করে। কার্ডিয়াক উদ্দীপনা বিলম্বিত করার এত গুরুত্বপূর্ণ কারণ নিলয়ের সংকোচনের আগে অলিন্দ সম্পূর্ণ খালি হয়েছে তা নিশ্চিত করা (ক্যাম্পবেল ইত্যাদি।, ২০০২)। এভি নোডের রক্ত ​​​​সরবরাহ ৮৫% থেকে ৯০% ব্যক্তির ক্ষেত্রে ডান করোনারি ধমনীর একটি শাখা থেকে এবং ১০% থেকে ১৫% ব্যক্তির ক্ষেত্রে বাম সার্কামফ্লেক্স ধমনীর একটি শাখা থেকে হয়। নির্দিষ্ট ধরণের সুপারভেন্ট্রিকুলার ট্যাকিকার্ডিয়াতে (অনিয়মিত দ্রুত হৃদাপন্দন), একজন ব্যক্তির দুটি এভি নোড থাকতে পারে; এটি বৈদ্যুতিক প্রবাহে একটি ফাঁস সৃষ্টি করবে এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে দ্রুত হৃদস্পন্দন করবে। যখন এই দুটি প্রবাহ নিজেদের সাথে মিলে যায়, তখন এটি বিলীন হয়ে স্বাভাবিক হৃদস্পন্দনের গতিতে ফিরে আসে।

হিজ গুচ্ছ[সম্পাদনা]

হিজ গুচ্ছ হল হৃৎপিণ্ডের পেশী কোষগুলির একটি সমাহার, এগুলি বৈদ্যুতিক পরিবহনের জন্য বিশেষায়িত এবং এভি নোড (অলিন্দ এবং নিলয়ের মধ্যে অবস্থিত) থেকে ফ্যাসিকুলার শাখাগুলির শীর্ষের বিন্দুতে বৈদ্যুতিক আবেগ প্রেরণ করে। ফ্যাসিকুলার শাখাগুলি তখন পার্কিনিয়ে তন্তুগুলির দিকে সংকেত পাঠায় যা নিলয়কে বল যোগায়, যার ফলে নিলয়ের হৃদপেশী একটি সময়ের ব্যবধানে সংকুচিত হয়। হৃৎপিণ্ডের এই বিশেষ পেশী তন্তুগুলির নামকরণ করা হয়েছিল সুইস কার্ডিওলজিস্ট উইলহেল্ম হিজ, জুনিয়র এর নামে। তিনি ১৮৯৩ সালে এগুলি আবিষ্কার করেছিলেন। হৃদপেশী খুবই বিশেষ ধরণের একটি পেশী কারণ একমাত্র এদেরই নিজস্ব একটি ছন্দ রয়েছে; অর্থাৎ, এরা মায়োজেনিক যার অর্থ এরা স্নায়ু থেকে বৈদ্যুতিক প্রবণতা না পেয়েও স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত এবং প্রসারিত হতে পারে। যখন হৃদপেশীর একটি কোষ অন্য একটির পাশে স্থাপন করা হয়, তারা একত্রে স্পন্দিত হতে থাকে। হিজ এর গুচ্ছের তন্তুগুলি সাধারণ হৃদপেশীর তুলনায় আরও সহজে এবং দ্রুত বৈদ্যুতিক পরিবহন ঘটতে দেয়। এগুলি হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক পরিবাহী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কারণ তারা এভি নোড (নিলয়ের পেসমেকার) থেকে হৃৎপিণ্ডের বাকি অংশে উদ্দীপনা প্রেরণ করে। হিজ গুচ্ছ তিনটি শাখা গুচ্ছে বিভক্ত হয়: দক্ষিণ, বাম অগ্রভাগ এবং বাম পশ্চাৎ গুচ্ছ শাখা যারা আন্তঃনিলয় পর্দা (বাম নিলয় এবং দক্ষিণ নিলয়কে আলাদা করে) বরাবর চলে। এই গুচ্ছগুলি থেকে যে পাতলা ফিলামেন্ট জন্মায় সেগুলি পার্কিনিয়ে তন্তু নামে পরিচিত। এই তন্তুগুলি নিলয় পেশীতে উদ্দীপনা যোগায়। গুচ্ছ শাখা এবং পার্কিনিয়ে তন্তু জালিকা একসাথে নিলয় পরিবাহী ব্যবস্থা গঠন করেছে। হিজ এর গুচ্ছ থেকে নিলয়ের পেশীতে সংকেত আসতে সময় লাগে ০.০৩-০.০৪ সেকেন্ড। এই নোডগুলির অস্তিত্ব থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এগুলি হৃৎপিণ্ড এবং কার্ডিয়াক চক্রের সঠিক নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয় নিশ্চিত করে এবং নিশ্চিত করে যে সমস্ত সংকোচন সঠিক ক্রমে সুসংগতভাবে থাকে।

পার্কিনিয়ে তন্তু[সম্পাদনা]

পার্কিনিয়ে তন্তু (বা পার্কিনিয়ে কলা) হৃদযন্ত্রের মধ্যে নিলয়ের ভেতরের দেওয়ালে অবস্থিত, ঠিক এন্ডোকার্ডিয়ামের নিচে। এই তন্তুগুলি বিশেষায়িত মায়োকার্ডিয়াল তন্তু যারা একটি বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা বা আবেগ সঞ্চালন করে যেটি হৃৎপিণ্ডকে সমন্বিত অবস্থায় সংকোচন করতে সক্ষম করে। হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করতে পার্কিনিয়ে তন্তু, সাইনো-অ্যাট্রিয়াল (এসএ নোড) এবং অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার নোড (এভি নোড) একসাথে কাজ করে। কার্ডিয়াক চক্রের নিলয় সংকোচন অংশের সময়, পার্কিনিয়ে তন্তুগুলি বাম এবং দক্ষিণ গুচ্ছ শাখা থেকে নিলয়ের মায়োকার্ডিয়ামে সংকোচনের প্রবণতা বহন করে নিয়ে যায়। এর ফলে নিলয়ের পেশী কলা সংকুচিত হয় এবং হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ​​বেরিয়ে যায় — এই রক্ত গিয়ে পড়ে হয় ফুসফুসীয় সঞ্চালনে (দক্ষিণ থেকে) বা সিস্টেমিক সঞ্চালনে (বাম নিলয় থেকে)। ১৮৩৯ সালে জান ইভাঞ্জেলিস্টা পার্কিনিয়ে এদের আবিষ্কার করেছিলেন, এবং তাঁর নাম থেকেই এদের নাম হয়েছে।

পেসমেকার[সম্পাদনা]

হৃৎপিণ্ডের সংকোচন বৈদ্যুতিক আবেগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, এই আবেগ এমন হারে নির্গত হয় যা হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। যে কোষগুলি এই ছন্দময় আবেগ তৈরি করে তাদের পেসমেকার কোষ বলা হয় এবং তারা সরাসরি হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। শরীরের অন্তর্নিহিত পরিবাহী ব্যবস্থার কোন ক্ষতি হলে পেসমেকার নামে পরিচিত কৃত্রিম যন্ত্রগুলিকে কৃত্রিমভাবে এই আবেগ তৈরি করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

ফাইব্রিলেশন[সম্পাদনা]

ফাইব্রিলেশন (অনিয়মিত এবং প্রায়শই খুব দ্রুত হৃৎপিণ্ডের ছন্দ বা অ্যারিথমিয়া যার জন্য হৃৎপিণ্ডে রক্ত ​​​​জমাট বাঁধতে পারে) হল যখন হৃৎপিণ্ড অস্বাভাবিকভাবে ফ্লাটার (হৃদযন্ত্রের ছন্দের ব্যাধি যাতে হৃৎপিণ্ডের উপরের কক্ষ বা অলিন্দ খুব দ্রুত স্পন্দিত হয়) করে। এটি একটি ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম দ্বারা সনাক্ত করা যেতে পারে যা হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে যাওয়া উত্তেজনার তরঙ্গ পরিমাপ করে এবং সময়ের সঙ্গে বিভব পার্থক্যের (ভোল্টেজ) একটি লেখচিত্র তৈরি করে। যদি হৃৎপিণ্ড এবং কার্ডিয়াক চক্র সঠিকভাবে কাজ করে তবে ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাফিতে একটি নিয়মিত, পুনরাবৃত্ত প্যাটার্ন দেখায়। কিন্তু যদি ফাইব্রিলেশন হয় তবে কোন আপাত প্যাটার্ন থাকবে না, হয় অনেক বেশি সাধারণ 'অলিন্দ ফাইব্রিলেশন' বা কম সম্ভাবনাময় কিন্তু অনেক বেশি বিপজ্জনক 'নিলয় ফাইব্রিলেশন' থাকবে। একটি হাসপাতালে, নিলয় ফাইব্রিলেশন হলে, মনিটরটি বক্ষ প্রাচীরের মধ্য দিয়ে একটি বিশাল কারেন্ট প্রবাহিত করে এবং হৃৎপিণ্ডকে তার ফাইব্রিলেশন থেকে বার করে আনে এবং সেই সঙ্গে শব্দ করে ফাইব্রিলেশনের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারদের সতর্ক করে। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের পেশী ৫ সেকেন্ডের জন্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। যখন এটি আবার চলতে শুরু করে তখন কার্ডিয়াক চক্র স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং হৃৎপিণ্ড আবার নিয়ন্ত্রিতভাবে স্পন্দন শুরু করে। ফাইব্রিলেশন হল হৃৎপিণ্ডের পেশীর মাধ্যমে আবেগের "সার্কাস আন্দোলন" এর একটি উদাহরণ।

সার্কাস আন্দোলন ঘটে যখন হৃৎপিণ্ডের পেশীর একটি অংশে একটি আবেগ শুরু হয় এবং হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে একটি বর্তনীর রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে তারপর মূল উত্তেজিত পেশীতে ফিরে আসে এবং এটিকে আরও একবার উদ্দীপিত করার জন্য "পুনরায় প্রবেশ" করে। সংকেত কখনও থামে না। সার্কাস আন্দোলনের একটি কারণ হল দীর্ঘ দৈর্ঘ্যের রাস্তায় যেখানে যখন উদ্দীপনা ফিরে আসে, পেশী রিফ্র্যাকটরি অবস্থায় (একটি সময়কাল যেখানে একটি অঙ্গ বা কোষ একটি নির্দিষ্ট ক্রিয়া পুনরাবৃত্তি করতে অক্ষম) থাকে না। "ফ্লাটার" হল একটি সমন্বিত, কম কম্পাঙ্কের তরঙ্গের একটি সার্কাস আন্দোলন যা দ্রুত হৃদস্পন্দন সৃষ্টি করে। যদি হিজ গুচ্ছ বাধা পায়, এটি অলিন্দ এবং নিলয়ের কার্যকলাপের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায়, অন্যথায় তৃতীয় মাত্রার হার্ট ব্লক বলা হয়। তৃতীয় মাত্রার ব্লকের অন্য কারণটি হল দক্ষিণ, বাম অগ্রবর্তী এবং বাম পশ্চাদ্দেশীয় গুচ্ছ শাখাগুলির কোনটিতে প্রতিবন্ধকতা। তৃতীয় মাত্রার ব্লক একটি অত্যন্ত গুরুতর চিকিৎসা অবস্থা যার জন্য সম্ভবত একটি কৃত্রিম পেসমেকার বসানোর প্রয়োজন হবে।

ইসিজি[সম্পাদনা]

ই.সি.জি মানে ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম এবং এটি হৃৎপিণ্ডের তড়িৎ-শারীরবৃত্তীয় অবস্থাকে প্রকাশ করে। হৃৎপিণ্ডের তড়িৎ-শারীরবৃত্তীয় অবস্থা হল হৃৎপিণ্ডের নির্দিষ্ট অঞ্চলের বৈদ্যুতিক ক্রিয়াকলাপগুলির প্রক্রিয়া, কার্যকারিতা এবং কর্মক্ষমতার বিজ্ঞান। ইসিজি হল হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপকে লেখচিত্রে প্রকাশ। লেখচিত্রটি হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের হার এবং ছন্দ দেখাতে পারে, এটি হার্টের বৃদ্ধি, রক্তের প্রবাহ হ্রাস অথবা বর্তমান বা অতীতে হার্ট অ্যাটাকের উপস্থিতি সনাক্ত করতে পারে। ইসিজি পরীক্ষাটি সস্তা, কোন ছিদ্র না করেই করা যায়, এটি দ্রুত এবং ব্যথাহীন। পরীক্ষার ফলাফল, রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস, এবং একটি শারীরিক পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে; আরও পরীক্ষা বা ওষুধের সংমিশ্রণ এবং জীবনধারা পরিবর্তনের বিধান দেওয়া যেতে পারে।

কিভাবে একটি ইসিজি পড়তে হয়[সম্পাদনা]

ইসিজি তরঙ্গরূপ

QRS normal.svg

পি
পি তরঙ্গ- নির্দেশ করে যে নিলয়ে রক্ত ​​পাঠানোর জন্য অলিন্দ বৈদ্যুতিকভাবে উদ্দীপিত (পরিবর্তিত) হয়।
কিউআরএস
কিউআরএস মিশ্রিত- ইঙ্গিত করে যে নিলয়গুলি রক্তকে পাম্প করে বার করার জন্য বৈদ্যুতিকভাবে উদ্দীপিত (পরিবর্তিত)।
এসটি
এসটি রেখাংশ- নিলয়ের সংকোচনের শেষ থেকে টি তরঙ্গের শুরু পর্যন্ত সময়ের পরিমাণ নির্দেশ করে।
টি
টি তরঙ্গ- নিলয়ের পুনরুদ্ধারের সময়কাল (পুনঃপরিবর্তন) নির্দেশ করে।
ইউ
ইউ তরঙ্গ- খুব কমই দেখা যায়, এবং সম্ভবত প্যাপিলারি পেশীগুলির পুনঃপরিবর্তন বলে মনে করা হয়

হৃৎপিণ্ডের পেশীর সংকোচন[সম্পাদনা]

কার্য বিভব হৃৎপিণ্ডের পেশী কোষের প্লাজমা ঝিল্লিকে উত্তেজিত করার পরে ক্যালসিয়াম আয়নগুলির সাইটোপ্লাজমিক ঘনত্ব বৃদ্ধির কারণে সংকোচন ঘটে। কঙ্কালের পেশীর মত, সারকোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থেকে নিসৃত ক্যালসিয়াম আয়ন ট্রপোনিনের সাথে আবদ্ধ হয় যা অ্যাক্টিনকে মায়োসিনের সাথে আবদ্ধ হতে দেয়। কঙ্কালের পেশী এবং হৃৎপিণ্ডের পেশীর মধ্যে পার্থক্য হল কার্য বিভব টি-টিউবুলে (টি-টিউবুলস বা অনুপ্রস্থ নল হল কোষের ঝিল্লির বর্ধিত অংশ যা কঙ্কাল এবং হৃৎপিণ্ডের পেশী কোষের কেন্দ্রে প্রবেশ করে) ভোল্টেজ দ্বারা আবদ্ধ ক্যালসিয়াম আয়ন পথ খোলে। সাইটোসোলিক ক্যালসিয়াম বৃদ্ধির ফলে ক্যালসিয়াম আয়নগুলি সারকোপ্লাজমিক রেটিকুলামের পৃষ্ঠের রিসেপ্টরগুলির সাথে আবদ্ধ হয়। এই রিসেপ্টরগুলিতে ক্যালসিয়াম আয়নগুলির আবদ্ধ হওয়ার ফলে এসআর ঝিল্লিতে আরও ক্যালসিয়াম আয়ন পথ খুলে যায়। ক্যালসিয়াম আয়নগুলি তখন এসআর থেকে বেরিয়ে আসে ও ট্রপোনিনের সাথে আবদ্ধ হয় এবং মায়োসিন ও অ্যাক্টিনকে একসাথে আবদ্ধ হতে দেয় যার ফলে সংকোচন ঘটে। এই ক্রমকে ক্যালসিয়াম-প্ররোচিত ক্যালসিয়াম মুক্তি বলা হয়। সাইটোসোলিক ক্যালসিয়ামের স্তর স্বাভাবিক বিশ্রামের স্তরে ফিরে এলে সংকোচন শেষ হয়।

রক্তচাপ[সম্পাদনা]

রক্তচাপ হল রক্তনালীগুলির দেওয়ালে রক্ত ​​দ্বারা প্রবাহিত চাপ। অন্য কোনভাবে কিছু বলা না হলে, রক্তচাপ বলতে সিস্টেমিক ধমনী রক্তচাপকে বোঝায়, অর্থাৎ, বড় ধমনীগুলির রক্তচাপ, যেগুলি ফুসফুস ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশে যেমন ব্র্যাকিয়াল আর্টারিতে (বাহুতে) রক্ত ​​সরবরাহ করে। অন্যান্য রক্তনালীর রক্তের চাপ ধমনীর রক্তচাপের চেয়ে কম হয়। রক্তচাপের মান সর্বজনীনভাবে পারদের মিলিমিটারে (মিমিপারদ) বলা হয়। সিস্টোলিক চাপকে কার্ডিয়াক চক্রের সময় ধমনীতে সর্বোচ্চ চাপ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়; ডায়াস্টোলিক চাপ হল সর্বনিম্ন চাপ (কার্ডিয়াক চক্রের বিশ্রামের পর্যায়)। গড় ধমনী চাপ এবং নাড়ি চাপ হল শারীরিক অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপ। বিশ্রামপ্রাপ্ত, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য রক্তচাপের সাধারণ মান হল প্রায় ১২০ মিমিপারদ সিস্টোলিক এবং ৮০ মিমিপারদ ডায়াস্টোলিক (১২০/৮০ মিমিপারদ হিসাবে লেখা হয়), তবে ব্যক্তি বিশেষে এটি আলাদা হতে পারে। রক্তচাপের এই পরিমাপগুলি স্থির নয়, তবে একটি হৃদস্পন্দন থেকে অন্য হৃদস্পন্দনে এবং সারা দিনে (একটি ছন্দ পূর্ণ চক্র, শারীরিক, মানসিক এবং আচরণগত পরিবর্তন যা ২৪-ঘন্টার চক্র অনুসরণ করে।) প্রাকৃতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়; এগুলি ধকল, পুষ্টির কারণ, ওষুধ বা রোগের প্রতিক্রিয়াতেও পরিবর্তিত হয়।

সিস্টোলিক চাপ[সম্পাদনা]

নিলয় সিস্টোলের সময় বাম নিলয় থেকে মহাধমনীতে রক্ত ​​​​পাম্প করা হলে সিস্টোলিক চাপ সবচেয়ে বেশি হয়। সিস্টোলের সময় গড় উচ্চ চাপ ১২০ মিমিপারদ।

ডায়াস্টোলিক চাপ[সম্পাদনা]

নিলয় ডায়াস্টোলের সময় ডায়াস্টোলিক রক্তচাপের গড় কমে গিয়ে ৮০ মিমিপারদ এ স্থির হয়।

রক্ত সংবহনতন্ত্রের রোগ[সম্পাদনা]

রক্ত সংবহনতন্ত্রের রোগ হৃৎপিণ্ড এবং/অথবা রক্তনালীগুলির (ধমনী এবং শিরা) সঙ্গে জড়িত রোগের শ্রেণিকে বোঝায়। যদিও শব্দটি প্রযুক্তিগতভাবে রক্ত সংবহনতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এমন কোনও রোগকে বোঝায়, তবুও এটি সাধারণত অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (ধমনী রোগ) সম্পর্কিত ব্যক্তিদের উল্লেখ করতে ব্যবহৃত হয়। এই অবস্থাগুলির অনুরূপ কারণ, প্রক্রিয়া এবং চিকিৎসা আছে। ৫ কোটিরও বেশি মার্কিনীর রক্ত সংবহনতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে এবং বেশিরভাগ অন্যান্য পশ্চিমী দেশগুলি এই রোগের হার উচ্চ এবং সেটি ক্রমবর্ধমান। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশে মৃত্যু এবং অক্ষমতার প্রথম কারণ। যতক্ষণে হৃদরোগের সমস্যা সনাক্ত হয়, ততক্ষণে এর অন্তর্নিহিত কারণ (অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস) সাধারণত অনেকটা অতিরিক্ত মাত্রায় অগ্রসর হয়ে যায়, হয়তো কয়েক দশক ধরে তার অগ্রগতি হয়েছে। তাই স্বাস্থ্যকর খাওয়া, ব্যায়াম করা এবং তার সঙ্গে ধূমপান বর্জন করে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে এথেরোস্ক্লেরোসিস প্রতিরোধের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

উচ্চ রক্তচাপ[সম্পাদনা]

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন এমন একটি চিকিৎসাধীন অবস্থা যেখানে রক্তচাপ ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পায়। কিছু লেখক ১৩০ মিমিপারদ এর উপরে সিস্টোলিক চাপকে এবং ৮৫ মিমিপারদ এর উপরে ডায়াস্টোলিক চাপকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। [১] উচ্চ রক্তচাপ প্রায়শই সূক্ষ্মভাবে অগ্রসর হয় বা অলক্ষিতে এর সূত্রপাত হয় এবং এটিকে কখনও কখনও "নীরব ঘাতক" বলে অভিহিত করা হয় কারণ উচ্চচাপে ধমনী প্রসারিত হওয়ার ফলে ধমনীর প্রাচীরে আণুবীক্ষণিক চিড় ধরে এবং অবক্ষয়কারী পরিবর্তনগুলিকে ত্বরান্বিত করে। স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, হৃৎপিণ্ডের অকৃতকার্যতা এবং ধমনী অ্যানিউরিজমের (মহাধমনীতে বেলুনের মত একটি স্ফীতি) ঝুঁকির কারণগুলির মধ্যে একটি হল ক্রমাগত উচ্চ রক্তচাপ এবং এছাড়াও বৃক্কের দীর্ঘস্থায়ী অকার্যকারিতা একটি প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ।

অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস[সম্পাদনা]

মহাধমনীর গুরুতর এথেরোস্ক্লেরোসিস। ময়নাতদন্ত নমুনা।

এথেরোস্ক্লেরোসিস এমন একটি রোগ যা ধমনী রক্তনালীকে প্রভাবিত করে। এটি সাধারণত ধমনীগুলির "শক্তকরণ" বা "ফারিং" (পুরু স্তরের আবরণ) হিসাবে উল্লেখ করা হয়। এটি ধমনীর মধ্যে একাধিক স্তর গঠনের কারণে ঘটে। রক্তনালীর প্রাচীরের ভিতরে এবং এথেরোমার চারপাশে শক্ত, অনমনীয় কোলাজেন জমা হওয়ার ফলে আর্টেরিওস্ক্লেরোসিস ("ধমনীর শক্ত হয়ে যাওয়া") হয়। এটি ধমনীর কাঠিন্য বাড়ায়, ধমনীর প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস করে। এথেরোস্ক্লেরোসিস সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালের প্রথম দিকে শুরু হয়, সাধারণত বেশিরভাগ প্রধান ধমনীতে এটি দেখা যায় এবং তবুও এটি লক্ষণবিহীন। সারা জীবনে বেশিরভাগ রোগনির্ণয় পদ্ধতি দ্বারা একে সনাক্ত করা যায় না। এটি সাধারণত গুরুতর লক্ষণ হয়ে ওঠে যখন হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী করোনারি সঞ্চালন বা মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী সেরিব্রাল সঞ্চালনে সমস্যা হয় এবং এটি স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, হৃৎপিণ্ডের অকৃতকার্যতা এবং সাধারণভাবে বেশিরভাগ রক্ত সংবহনতন্ত্রের রোগ সহ বিভিন্ন হৃদরোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্নিহিত কারণ হিসাবে বিবেচিত হয়।

প্লেক[সম্পাদনা]

প্লএক এথেরোমা বা সাধারণত প্লেক হল ধমনীর দেয়ালের মধ্যে ম্যাক্রোফেজ শ্বেত রক্তকণিকার একটি অস্বাভাবিক প্রদাহজনক জমা।

সংবহনমূলক শক[সম্পাদনা]

সংবহনমূলক শক একটি গুরুতর অবস্থা যা রক্ত ​​সঞ্চালন হ্রাসের ফলে হয়।

থ্রম্বস[সম্পাদনা]

থ্রম্বস, বা রক্ত ​​​​জমা হল হিমোস্ট্যাসিসে রক্ত ​​জমাট বাঁধার চূড়ান্ত অবস্থা। অণুচক্রিকাগুলির একত্রিতকরণের ফলে একটি অণুচক্রিকা বন্ধক গঠিত হয় এবং দেহনিঃসৃত রস সংক্রান্ত রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়ার সক্রিয়করণের (অর্থাৎ জমাট বাঁধার কারণ) ফলে এটি ঘটে। আঘাতের ক্ষেত্রে থ্রম্বাস হল শারীরবৃত্তীয়, কিন্তু থ্রম্বোসিসের ক্ষেত্রে এটি রোগগত।

রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করতে পারলে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং পালমোনারি এমবোলিজমের (ফুসফুসের একটি ধমনীতে প্রতিবন্ধকতা) ঝুঁকি কমে যায়। হেপারিন এবং ওয়ারফারিন প্রায়ই বিদ্যমান রক্ত ​​​​জমে যাওয়া এবং তার বৃদ্ধি রোধ করতে ব্যবহৃত হয়, যার ফলে শরীরের স্বাভাবিক পদ্ধতির মাধ্যমে জমাট বাঁধা রক্ত সঙ্কুচিত হয় এবং দ্রবীভূত হয়।

এম্বোলিজম[সম্পাদনা]

একটি এম্বোলিজম ঘটে যখন একটি অভিবাসিত তঞ্চপিণ্ড (এম্বোলাস) শরীরের এক অংশ থেকে (সঞ্চালনের মাধ্যমে) স্থানান্তরিত হয় এবং শরীরের অন্য অংশে রক্তনালীতে বাধা (অবরোধ) সৃষ্টি করে। এখন পর্যন্ত তঞ্চিত রক্তপিণ্ডই সবচেয়ে সাধারণ এম্বোলিক উপাদান: অন্যান্য সম্ভাব্য এম্বোলিক পদার্থের মধ্যে রয়েছে স্নেহ পদার্থ খণ্ড (চর্বি এম্বোলিজম), বায়ু বুদবুদ (বায়ু এম্বলিজম), সেপটিক এম্বলি (পুঁজ এবং ব্যাকটেরিয়া ধারণকারী) এবং অ্যামনিওটিক তরল।

স্ট্রোক[সম্পাদনা]

স্ট্রোক বা সেরিব্রোভাসকুলার অ্যাকসিডেন্ট (সিভিএ) হল একটি তীব্র স্নায়বিক আঘাত যার ফলে মস্তিষ্কের একটি অংশে রক্ত ​​​​সরবরাহ ব্যাহত হয়। স্ট্রোক দুটি প্রধান বিভাগে শ্রেণীবদ্ধ করা যেতে পারে: ইস্কেমিক এবং রক্তক্ষরণশীল। ~৮০% স্ট্রোক ইস্কেমিয়ার কারণে হয়।

  • ইস্কেমিক স্ট্রোক: ইস্কেমিক স্ট্রোকে, যা প্রায় ৮৫-৯০% স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ঘটে, একটি রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কের অংশে রক্ত ​​​​সরবরাহ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ইস্কেমিক স্ট্রোককে সাধারণত থ্রম্বোটিক স্ট্রোক, এম্বোলিক স্ট্রোক, সিস্টেমিক হাইপোপারফিউশন (ওয়াটারশেড বা বর্ডার জোন স্ট্রোক যা একটি ইস্কেমিক ক্ষত এবং যেটি দুটি প্রধান ধমনী অঞ্চলের মধ্যে বৈশিষ্ট্যযুক্ত সংযোগস্থলে ঘটে) এবং শিরাস্থ থ্রম্বোসিসে ভাগ করা হয়
  • রক্তক্ষরণশীল স্ট্রোক: রক্তক্ষরণশীল স্ট্রোক, বা সেরিব্রাল রক্তক্ষরণ হল এক ধরনের স্ট্রোক যা মস্তিষ্কের রক্তনালী ফেটে গেলে বা রক্তপাত হলে ঘটে। ইস্কেমিক স্ট্রোকের মত, রক্তক্ষরণশীল স্ট্রোক মস্তিষ্কের রক্ত ​​​​সরবরাহ ব্যাহত করে কারণ রক্তক্ষরী নালীটি রক্তকে আর তার অভীষ্ট কলায় পৌঁছে দিতে পারে না। উপরন্তু, জমাট বাঁধা রক্ত ​​মস্তিষ্কের কলাতে উত্তেজনা সৃষ্টি করে, সূক্ষ্ম রাসায়নিক ভারসাম্যকে ব্যাহত করে এবং, যদি রক্তপাত অব্যাহত থাকে, তাহলে এটি অন্তঃকরোটি চাপ (ইন্ট্রাক্রানিয়াল চাপ) বাড়াতে পারে যা শারীরিকভাবে মস্তিষ্কের কলায় আঘাত করে এবং মস্তিষ্কে রক্ত ​​​​প্রবাহকে সীমাবদ্ধ করে। এই ক্ষেত্রে, রক্তক্ষরণশীল স্ট্রোকগুলি তাদের আরও সাধারণ প্রতিরূপ, ইস্কেমিক স্ট্রোকের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক। দুই ধরনের রক্তক্ষরণশীল স্ট্রোক আছে: ইন্ট্রাসেরিব্রাল রক্তক্ষরণ (মস্তিষ্ক এবং পার্শ্ববর্তী ঝিল্লির মধ্যবর্তী স্থানে রক্তপাত) এবং সাবঅ্যারাকনয়েড রক্তক্ষরণ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে "ব্রেন অ্যাটাক" শব্দটি স্ট্রোকের জন্য ব্যবহার হতে শুরু করেছে, ঠিক যেমনটি "হার্ট অ্যাটাক" শব্দটি মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশনের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে রক্তের সরবরাহ বন্ধ হলে হৃৎপিণ্ডের কলায় নেক্রোসিস (কলাবিনষ্টি) সৃষ্টি করে। বিশেষভাবে স্ট্রোকের দ্রুত চিকিৎসার জন্য অনেক হাসপাতালের স্নায়ুবিদ্যা বিভাগের মধ্যে "বেইন অ্যাটাক" চিকিৎসক দল রয়েছে। যদি স্ট্রোকের লক্ষণগুলি প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে তবে বিশেষ "ক্লট বাস্টিং" ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। ক্লট বা তঞ্চন পিণ্ড থেকে কলার মৃত্যু ঘটার আগে এই ক্লট বাস্টারগুলি ক্লটগুলিকে দ্রবীভূত করে এবং স্বাভাবিক সঞ্চালন পুনরুদ্ধার করে। ক্লট দ্রবীভূত করার জন্য ব্যবহৃত প্রাথমিক ওষুধগুলির মধ্যে একটি ছিল স্ট্রেপ্টোকিনেস, যদিও এর ব্যবহারে পুরো শরীর জুড়ে ক্লট ধ্বংসের সম্ভাবনা তৈরি করত, যার ফলে গুরুতর রক্তক্ষরণ সম্ভাবনা দেখা দিত। এখন, তৃতীয় প্রজন্মের নতুন থ্রম্বোলাইটিক ওষুধ এসে গেছে যেগুলি নিরাপদ।

হার্ট অ্যাটাক[সম্পাদনা]

তীব্র মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (এএমআই বা এমআই), যা সাধারণত হার্ট অ্যাটাক নামে পরিচিত। হার্ট অ্যাটাক ঘটে যখন হৃদপিণ্ডের পেশীর একটি অংশে রক্ত ​​এবং অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, সাধারণত করোনারি ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে এটি হয়। প্রায়শই, এই বাধার ফলে অ্যারিথমিয়াস (অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা ছন্দ) হয় যা হৃৎপিণ্ডের পাম্পিং কার্যকারিতায় মারাত্মক হ্রাস ঘটায় এবং এটি হঠাৎ মৃত্যু ঘটাতে পারে। যদি কয়েক ঘন্টার মধ্যে এই বাধার চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে আক্রান্ত হৃদপিন্ডের পেশী মারা যাবে এবং স্কার কলা (কোষ এবং কোলাজেনের সমন্বয় যা আঘাতের স্থানকে ঢাকা দেয়) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে। এটি সারা বিশ্বে পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের মৃত্যুর প্রধান কারণ।

অ্যানজাইনা পেক্টোরিস[সম্পাদনা]

হৃৎশূল বা অ্যানজাইনা পেক্টোরিস হল হৃৎপিণ্ডের পেশীর ইসকেমিয়ার (রক্তের অভাব এবং তাই অক্সিজেন সরবরাহ) কারণে বুকে ব্যথা, সাধারণত করোনারি ধমনীতে (হৃৎপিণ্ডের রক্তনালী) বাধা বা খিঁচুনি হওয়ার কারণে এটি হয়।

করোনারি বাইপাস[সম্পাদনা]

করোনারি ধমনী বাইপাস অস্ত্রোপচার, করোনারি ধমনী বাইপাস সংযোজন অস্ত্রোপচার এবং হার্ট বাইপাস হল অ্যানজাইনার উপশম এবং হৃদপিণ্ডের পেশীর কার্যকারিতা উন্নত করার জন্য করোনারি ধমনী রোগে আক্রান্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি। রোগীর শরীরের অন্য স্থান থেকে শিরা বা ধমনী কেটে এনে মহাধমনী থেকে শুরু করে করোনারি ধমনীতে সংযোজন করা হয়, অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস দ্বারা সৃষ্ট করোনারি ধমনীর সংকীর্ণ অঞ্চলের পার্শ্বপথ দিয়ে হৃৎপিণ্ডে সংযোজন করা হয়। এতে মায়োকার্ডিয়ামে (হৃৎপিণ্ডের পেশী) রক্ত ​​সরবরাহের উন্নতি হয়।

হৃৎপিণ্ডের অকৃতকার্যতা[সম্পাদনা]

হৃৎপিণ্ডের অকৃতকার্যতা বা কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিওর (সিএইচএফ) অথবা কনজেস্টিভ কার্ডিয়াক ফেইলিওর (সিসিএফ), এমন একটি অবস্থা যা হৃৎপিণ্ডের কোনো কাঠামোগত বা কার্যকরী ব্যধির ফলে হতে পারে, যাতে সারা শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত ​​পরিপূর্ণ বা পাম্প করায় হৃৎপিণ্ডের ক্ষমতা ব্যাহত হয়। এটাকে অ্যাসিস্টোল (হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক এবং যান্ত্রিক কার্যকলাপ বন্ধ হওয়া) বা "হার্টবিট বন্ধ করা" এর সাথে বিভ্রান্ত করা যাবে না, এছাড়াও একে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সাথেও মিলিয়ে ফেলা যাবেনা যেখানে হৃদরোগে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু প্রাথমিক বা পরবর্তী মূল্যায়নের সময় সমস্ত রোগীর মাত্রাতিরিক্ত রক্তের বোঝা থাকে না, তাই "হার্ট ফেইলিওর" শব্দটি পুরানো শব্দ "কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিওর" এর চেয়ে বেশি পছন্দ করা হয়। সার্বজনীনভাবে সম্মত সংজ্ঞার অভাব এবং রোগ নির্ণয়ে অসুবিধার কারণে কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিওর প্রায়শই নির্ণয় করা যায় না, বিশেষ করে যখন অবস্থাটিকে "হালকা" হিসাবে বিবেচনা করা হয়। হৃৎপিণ্ডের ডান দিকের অকৃতকার্যতা হলে সাধারণত প্রান্তীয় এডিমা হয় অর্থাৎ পা ফুলে যায়। হৃদযন্ত্রের বাম দিকের ব্যর্থতায় সাধারণত ফুসফুসের শোথ বা ফুসফুসে তরল জমা হয়ে যায়।

অ্যানিউরিজম[সম্পাদনা]

অ্যানিউরিজম হল স্থানীয়ভাবে কোন রক্তনালীর ব্যাসের ৫০% এর বেশি বেলুনের মত প্রসারণ। এর ফলে যে কোনো সময় তাৎক্ষণিক মৃত্যু হতে পারে। অ্যানিউরিজমগুলি সাধারণত মস্তিষ্কের গোড়ার ধমনীতে (উইলিসের বৃত্ত) এবং মহাধমনীতে (হৃদপিণ্ড থেকে বেরিয়ে আসা প্রধান ধমনীতে) ঘটে - এটি একটি মহাধমনী অ্যানিউরিজম। একটি রক্তনালীতে এই স্ফীতি, অধিক স্ফীত অভ্যন্তরীণ নালিকার একটি স্ফীতির মতো, এতে যে কোনও সময় মৃত্যু হতে পারে। অ্যানিউরিজম যত বড় হবে, ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। অ্যানিউরিজমগুলি তাদের আকৃতি অনুসারেও বর্ণনা করা হয়েছে: স্যাকুলার এবং ফিউসিফর্ম। একটি স্যাকুলার অ্যানিউরিজম একটি ছোট বস্তার মত দেখতে; একটি ফিউসিফর্ম অ্যানিউরিজম একটি টাকুর মত আকৃতির হয়।

জমাট রক্ত দ্রবীভূত করা[সম্পাদনা]

জমাট রক্ত দ্রবীভূত করার জন্য আপনি এমন একটি ওষুধ ব্যবহার করবেন যা প্লাজমিনোজেনকে (রক্তে পাওয়া অণু) প্লাজমিনে (রক্ত জমাট দ্রবীভূত করে এমন উৎসেচক) রূপান্তরিত করে।

আটকানো ধমনী পরিষ্কার করা[সম্পাদনা]

একটি করোনারি ধমনীর (বা অন্যান্য রক্তনালী) অবরোধ মুক্ত করার একটি উপায় হল পারকিউটেনিয়াস ট্রান্সলুমিনাল করোনারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি (পিটিসিএ), ১৯৭৭ সালে এটি প্রথম সম্পাদিত হয়েছিল। একটি তার রোগীর পায়ের ফিমোরাল ধমনী থেকে বা বাহুতে রেডিয়াল ধমনী থেকে অসুস্থ করোনারি ধমনী পর্যন্ত পাঠানো হয়, সেখান থেকে করোনারি ধমনী অঞ্চলের আগে পর্যন্ত পাঠানো হয়। এই তারের সাহায্যে, একটি বেলুন ক্যাথেটার পাঠানো হয় অসুস্থ অংশে, যেটি সেখানে পৌঁছে খুলে যায়। ক্যাথেটারের শেষে একটি ছোট ভাঁজ করা বেলুন থাকে। যখন বেলুন জলবাহীভাবে স্ফীত হয়, তখন এটি অ্যাথেরোম্যাটাস প্লেককে সংকুচিত করে এবং ধমনীর প্রাচীরকে ছড়িয়ে দিয়ে প্রসারিত করে। একই সময়ে, যদি একটি প্রসারণযোগ্য তারের জালিকা নল (স্টেন্ট) বেলুনে থাকে, তাহলে স্টেন্টটি সেখানে বসানো হবে (সেটি থেকে যাবে) যাতে ভিতর থেকে ধমনীর নতুন প্রসারিত খোলা অবস্থা একটি অবলম্বন পায়।

প্রসারিত এবং স্ফীত শিরা[সম্পাদনা]

ভেরিকোজ শিরা[সম্পাদনা]

ভেরিকোজ শিরা হল পায়ের শিরার পরিবর্তিত অবস্থা। যে অবস্থায় পায়ের শিরা বড়, বাঁকানো এবং দড়ির মত হয়ে যায় এবং ব্যথা, ফোলা বা চুলকানি হতে পারে। এগুলি টেলাঞ্জিয়েক্টাসিয়া বা মাকড়সার শিরাগুলির একটি চরম রূপ। যোগাযোগকারী শিরাগুলিতে কপাটিকার অপর্যাপ্ততার কারণে ভেরিকোজ শিরা হয়। এই শিরাগুলি শরীরের নিচের অংশের পৃষ্ঠস্থ এবং গভীর শিরাগুলিকে সংযুক্ত করে। সাধারনত, রক্ত ​​ পৃষ্ঠস্থ শিরা থেকে গভীর শিরায় প্রবাহিত হয়, যা হৃৎপিণ্ডে রক্ত ​​ফেরত যেতে সাহায্য করে। কিন্তু, যদি কপাটিকা ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যায়, তখন পেশীর সংকোচনের (যা সাধারণত গভীর শিরাগুলিকে সংকুচিত করে হৃদপিণ্ডে রক্ত ​​ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে) ফলে রক্ত পৃষ্ঠীয় শিরাগুলিতে ফিরে আসে। যাদের ভেরিকোজ শিরা আছে তাদের ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (ডিভিটি) এবং ফুসফুসীয় এমবোলিজম হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

ফ্লেবিটিস[সম্পাদনা]

ফ্লেবিটিস হল একটি শিরার প্রদাহ, যেটি সাধারণত পায়ে হয়। শরীরের গভীরে অবস্থিত শিরায় দেখা গেলে এটি সাধারণত সবচেয়ে গুরুতর। যাইহোক, এই অবস্থার বেশিরভাগ মানুষের সম্ভবত ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই মহিলা। রোগটি জিনগত হতে পারে, কারণ এটি পরিবারে পরম্পরায় দেখা যায়।

জন্মগত হৃৎপিণ্ডের ত্রুটি[সম্পাদনা]

ভিএসডির চিত্র

জন্মের সময় থেকে থাকা হৃৎপিণ্ডের ত্রুটিগুলিকে জন্মগত হৃৎপিণ্ডের ত্রুটি বলা হয়। সমস্ত নবজাত শিশুদের মধ্যে ১% এর সামান্য কম শিশুর জন্মগত হৃদরোগ দেখা যায়। সমস্ত জন্মগত হৃদরোগের ত্রুটির মধ্যে আটটি ত্রুটি অন্য সবগুলির চেয়ে বেশি দেখা যায় এবং পরিসংখ্যানগত দিক দিয়ে প্রায় ৮০% স্থান নিয়ে আছে, যেখানে বাকি ২০% এর অনেকগুলি আলাদাভাবে বিরল অবস্থা বা বিভিন্ন ত্রুটির সংমিশ্রণ নিয়ে গঠিত।

অ্যাসিনোটিক ত্রুটি[সম্পাদনা]

হৃৎপিণ্ডের অ্যাসিনোটিক ত্রুটির ক্ষেত্রে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে। সবচেয়ে সাধারণ জন্মগত হার্টের ত্রুটি হল একটি নিলয় ঘটিত পর্দার ত্রুটি বা ভেন্ট্রাল সেপ্টাল ত্রুটি (ভিএসডি), যেটি জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত সমস্ত শিশুর প্রায় ২০% ক্ষেত্রে ঘটে। ভিএসডি-তে বাম নিলয় থেকে রক্ত ​​দক্ষিণ নিলয়ে চলে আসে (বাম নিলয় থেকে মহাধমনীর মাধ্যমে সারা শরীরে যাওয়ার কথা), ফলে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ​​ফুসফুসীয় সঞ্চালনে ফিরে আসে। ভিএসডি এর সম্ভাব্য সমস্যাগুলির মধ্যে একটি হল ফুসফুসীয় উচ্চ রক্তচাপ (যখন হৃৎপিণ্ড থেকে ফুসফুসে যাওয়ার রক্তনালীতে চাপ খুব বেশি হয়)।

সায়ানোটিক ত্রুটি[সম্পাদনা]

হৃৎপিণ্ডের সায়ানোটিক ত্রুটিতে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। সায়ানোটিক ত্রুটিতে দক্ষিণ নিলয় থেকে দূষিত রক্ত ​​সিস্টেমিক সঞ্চালনের মাধ্যমে সারা শরীরে প্রবাহিত প্রবাহিত হয়। সায়ানোটিক ত্রুটিগুলির মধ্যে ফ্যালটের টেট্রালজি এবং মহা ধমনীর স্থানান্তর (প্রধান ফুসফুসীয় ধমনী এবং মহাধমনীর অবস্থানে বদল হয়ে যায়) অন্তর্ভুক্ত।

সুস্থিতি[সম্পাদনা]

শরীরে সুস্থিতি (হোমিওস্ট্যাসিস) কেবল তখনই সম্ভব যদি রক্ত সংবহন তন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করে। এর মানে হল যে প্রণালীকে কোষের চারপাশে থাকা কলা তরলে অক্সিজেন এবং পুষ্টি সরবরাহ করতে হবে এবং বিপাকীয় বর্জ্যও সরিয়ে নিতে হবে। হৃৎপিণ্ড এমন ধমনী দ্বারা গঠিত যারা হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ​​নিয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে দেয় এবং শিরার মাধ্যমে আবার হৃৎপিণ্ডে রক্ত ​​ফেরত আসে। দুটি বর্তনীর মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে বেরিয়ে যায়: ফুসফুসীয় এবং সিস্টেমিক বর্তনী। ফুসফুসীয় বর্তনী ফুসফুসে রক্ত ​​বহন করে যেখানে গ্যাসের বিনিময় ঘটে এবং সিস্টেমিক বর্তনী শরীরের সমস্ত অংশে রক্ত ​​পরিবহন করে যেখানে কলা তরলের সাথে বিভিন্ন উপাদান বিনিময় হয়। সুস্থিতি বজায় রাখার জন্য রক্ত সংবহন তন্ত্র অন্যান্য সমস্ত তন্ত্রের সাথে একসাথে কাজ করে।

লসিকা তন্ত্র[সম্পাদনা]

লসিকা তন্ত্র রক্ত সংবহন তন্ত্রের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। সুস্থিতি বজায় রাখার জন্য তারা একসাথে কাজ করে এমন তিনটি প্রধান উপায় রয়েছে: লসিকা তন্ত্র অতিরিক্ত কলা তরল গ্রহণ করে এবং এটি রক্ত ​​​​প্রবাহে ফিরিয়ে দেয়, ল্যাকটিয়েল অন্ত্রের ভিলি থেকে চর্বি অণু গ্রহণ করে এবং তাদের রক্ত ​​​​প্রবাহে পরিবহন করে এবং উভয় তন্ত্রই রোগের বিরুদ্ধে শরীরকে রক্ষা করার জন্য একসাথে কাজ করে। লসিকা তন্ত্র শ্বেত রক্ত ​​​​কোষ তৈরি করতে পারে যা রোগ এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

আশ্চর্যজনক ঘটনা[সম্পাদনা]

• হৃদরোগ আমেরিকান মহিলাদের এক নম্বর ঘাতক।
• রক্ত সংবহন তন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ফলে ১.৬৭ কোটি মৃত্যু হয়।
• মানসিক চাপ, উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, স্থূলতা, তামাক এবং অ্যালকোহল ব্যবহার হৃদরোগের শুরুর কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কারণ।
• সাম্প্রতিক গবেষণা বলে যে প্রতিদিন একটি ছোট ডোজ অ্যাসপিরিন গ্রহণ হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে (কারণ অ্যাসপিরিন অণুচক্রিকা জমাট বাঁধতে বাধা দেয়)।
• আপনার সমস্ত রক্তনালীগুলি যোগ করলে তার দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৬০,০০০ মাইল! তুলনার জন্য বলা যায়, পৃথিবীর পরিধি হল ৪০,০৭৫.০২ কিলোমিটার এবং ৬০,০০০ মাইল মানে প্রায় ৯৬,০০০ কিমি - সুতরাং আপনার রক্তনালীগুলি বিশ্বকে দুবার পাক খেতে পারে এবং তারপরেও কিছু অবশিষ্ট থাকে!

হৃৎযন্ত্র ভাল রাখার উপায়[সম্পাদনা]

• স্বাস্থ্যকর, ভাল পুষ্টিযুক্ত খাবার খাওয়া।

• কর্মক্ষমতা এবং ব্যায়াম।

• একটি স্বাস্থ্যকর জীবন শৈলী পালন করা; পান না করা, ধূমপান না করা বা ড্রাগ সেবন না করা।

• এলডিএল কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপ কম রাখা।

• খাদ্যতালিকায় চর্বি, সোডিয়াম এবং ক্যালরি কম করা।

বার্ধক্য[সম্পাদনা]

বয়সের সাথে সাথে হৃদপিণ্ডের পেশী কম কর্মক্ষম হয়ে পড়ে, এবং সর্বাধিক কার্ডিয়াক আউটপুট ও হৃদস্পন্দন উভয়ই হ্রাস পায়, যদিও বিশ্রামের মাত্রা পর্যাপ্ত থেকে বেশি হতে পারে। মায়োকার্ডিয়ামের স্বাস্থ্য তার রক্ত ​​​​সরবরাহের উপর নির্ভর করে এবং বয়সের সাথে সাথে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের ফলে করোনারি ধমনীর সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এথেরোস্ক্লেরোসিস হল ধমনীর দেয়ালে এবং তার ভেতরে কোলেস্টেরলের জমা, যা রক্তের প্রবাহ হ্রাস করে এবং রুক্ষ পৃষ্ঠ তৈরি করে যা অন্তর্নালী রক্ত পিণ্ড গঠনের কারণ হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ বাম নিলয়ের কাজ বাড়িয়ে করে। এটি বড় হয়ে যেতে পারে বা তার রক্ত ​​সরবরাহকে বাড়িয়ে দিতে পারে, এতে নিলয় দুর্বল হয়ে পড়ে। একটি দুর্বল নিলয় দক্ষতার সঙ্গে পাম্প করতে পারে না এবং এটি কনজেস্টিভ হার্ট ফেলিওরের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এই প্রক্রিয়া ধীর বা দ্রুত হতে পারে। ফাইব্রোসিস ফলে হৃদপিণ্ডের কপাটিকাগুলি পুরু হয়ে যেতে পারে, যার ফলে হৃদপিণ্ডে বিশেষ ধরণের শব্দ (হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে দ্রুত, অস্থির (অশান্ত) রক্ত ​​প্রবাহ দ্বারা তৈরি) হতে পারে এবং কম কার্যকরী পাম্পিং হতে পারে। বয়সের সাথে সাথে অ্যারিথমিয়াও বেশি দেখা যায়, কারণ পরিবাহী পথের কোষগুলি কম কার্যকরী হয়ে যায়।

শক[সম্পাদনা]

শারীরবৃত্তীয় চাপ

শারীরবৃত্তীয় চাপ পোড়া থেকে শুরু করে হাড় ভাঙা পর্যন্ত যেকোনো ধরনের আঘাত থেকে হতে পারে; শারীরবৃত্তীয় চাপের প্রতি শরীরের প্রতিক্রিয়া দুটি পর্যায়ে শ্রেণীবদ্ধ করা হয় তার মধ্যে একটি হল এব পর্যায় (প্রাথমিক পর্যায়), যা আঘাতের পরপরই শুরু হয়। দ্বিতীয় পর্যায়টি আঘাতের প্রায় ৩৬ থেকে ৪৮ ঘন্টা পরে শুরু হয়, তাকে ফ্লো ফেজ বলা হয়। এব (শক) পর্যায়ে অপর্যাপ্ত রক্ত সঞ্চালন, ইনসুলিনের মাত্রা কমে যাওয়া, অক্সিজেনের ব্যবহার কমে যাওয়া, হাইপোথার্মিয়া (শরীরের নিম্ন তাপমাত্রা), হাইপোভোলেমিয়া (কম রক্তের পরিমাণ) এবং হাইপোটেনশন (নিম্ন রক্তচাপ) দেখা যায়। ফ্লো পর্যায়ে ক্যাটেকোলামাইন, গ্লুকোকোর্টিকয়েড এবং গ্লুকাগনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, স্বাভাবিক বা উচ্চতর ইনসুলিনের মাত্রা, ক্যাটাবলিক (ভাঙ্গন), হাইপারগ্লাইসেমিক (রক্তে উচ্চ মাত্রায় শর্করা), অক্সিজেনের ব্যবহার/শ্বাসের হার বৃদ্ধি, হাইপারথার্মিয়া (শরীরের উচ্চ তাপমাত্রা) জ্বর আসা, উচ্চ বিপাকীয় হার, ইনসুলিন প্রতিরোধের বৃদ্ধি, কার্ডিয়াক আউটপুট বৃদ্ধি হয়।

অকালীন নিলয় সংকোচন (পিভিসি)[সম্পাদনা]

ওষুধের কারণে বা কোন অস্বাভাবিকতার জন্য এভি নোড ত্রুটিযুক্ত হলে, এসএ নোডের মাধ্যমে এভি নোডে উত্তেজনা দেখা দেয়, নিলয়গুলি সূচনাকারী উদ্দীপনা পায় না এবং গুচ্ছ শাখার স্বয়ংক্রিয় কোষগুলি তাদের নিজস্ব গতিতে ক্রিয়া শুরু করে দেয় এবং নিলয়ের পেসমেকার হিসেবে কাজ করে। এর ফলে পরিবাহী সমস্যা সৃষ্টি হয়। গুচ্ছ শাখাগুলির সাথে পরিবহনের সমস্যা সৃষ্টিকারী হলে দক্ষিণ এবং বাম নিলয়ে অসময়ে সংকোচন হয়। দক্ষিণ নিলয়ের সমস্যা সবচেয়ে সাধারণ এবং তার চিকিৎসা না করলেও চলে, কিন্তু বাম নিলয়ের সমস্যা সবসময় গুরুতর এবং তার চিকিৎসা করা আবশ্যক।

হৃদস্পন্দনের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ[সম্পাদনা]

• এসএ নোড (উর্ধ মহাশিরার প্রবেশপথের কাছে দক্ষিণ অলিন্দে অবস্থিত)
• এভি নোড (দক্ষিণ অলিন্দের গোড়ায় অবস্থিত)

• এভি গুচ্ছ (দুটি নিলয়ের মধ্যে অন্তঃনিলয় পর্দায় অবস্থিত যা দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে ডান এবং বাম দুই দিকে যায় এবং পর্দা ছেড়ে উভয় নিলয়ের দেওয়ালে প্রবেশ করে)
• গুচ্ছ শাখা (পর্দা ছেড়ে নিলয়ের দেওয়ালে যায় এবং পার্কিনিয়ে তন্তুতে পৌঁছোয়। এগুলি তারপর নিলয়ের মায়োকার্ডিয়াল কোষের সহযোগে নিলয়ের বাকি অংশে আবেগ ছড়িয়ে দেয়)

একটি সাধারণ ইসিজি তরঙ্গের অ্যানিমেশন।

ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম[সম্পাদনা]

• পি হল অলিন্দ বৈদ্যুতিকভাবে উদ্দীপিত (পরিবর্তিত)
• কিউআরএস হল নিলয় বৈদ্যুতিকভাবে উদ্দীপিত (পরিবর্তিত), সেইসাথে অলিন্দের পুনঃপরিবর্তন।
• টি হল নিলয়ের পুনঃপরিবর্তন


স্বাভাবিক ইসিজির পরিকল্পিত উপস্থাপনা

হৃদস্পন্দনের বহিঃস্থ নিয়ন্ত্রণ[সম্পাদনা]

দুটি উপবিভাগ সহ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা: অনুকম্পী বিভাগ এবং পরা-অনুকম্পী বিভাগ। হরমোন দ্বারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

  • এপিনেফ্রিন
  • নরপাইনফ্রাইন
  • এএনপি: অ্যাট্রিয়াল নেট্রিউরেটিক পেপটাইড
  • এডিএওচ: অ্যান্টিডিউরেটিক হরমোন
  • রেনিন-অ্যানজিওটেনশন সিস্টেম

রোগের বিবরণ অধ্যয়ন[সম্পাদনা]

হৃদযন্ত্রের জন্য সর্বদা প্রসারিত প্রযুক্তির একটি উদাহরণ এই গল্পে সর্বোত্তমভাবে বর্ণিত হয়েছে: ১৯৫৫ সালে, আমার বয়স যখন পাঁচ বছর বয়স ছিল, আমি প্রথমে আমার পারিবারিক চিকিৎসকের কাছে জানতে পারি যে আমার হৃদপিণ্ডে বিশেষ ধরণের শব্দ (মার্মার) হয় এবং এটির প্রতি মনোযোগের প্রয়োজন হবে। ১৯৬৫ সালে আমার বয়স ১৫ বছর বয়স নাগাদ, রোড আইল্যান্ড হাসপাতালে আমার দুটি কার্ডিয়াক ক্যাথারাইজেশন (হৃদযন্ত্রের বিশেষ কিছু অবস্থা, যেমন আটকে থাকা ধমনী বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের নির্ণয়) হয়েছিল। পরীক্ষাগুলি করে কোন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসা যায়নি এবং আমাকে আমার স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে বলা হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল কোনও সমস্যা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। কোন সমস্যা হয়নি কিন্তু ১৯৭৫ সালে আমার পারিবারিক চিকিৎসক আমাকে বলেছিলেন যে আমার হৃদযন্ত্র আবার পরীক্ষা করা উচিত। মরিয়ম হাসপাতালের ডাঃ ডেভিড কিটজেস আরেকটি ক্যাথারাইজেশন করেন। এইবার, আমাকে অন্য কথা বলা হল। আমাকে বলা হয়েছিল যে নতুন মেশিন প্রযুক্তির কারণে, ডাঃ কিটজেস দেখতে পেয়েছেন যে আমার অ্যাওর্টিক স্টেনোসিস হয়েছে। এর অর্থ জন্মের সময় কপাটিকা বিকৃত হওয়ার কারণে প্লেক তৈরি করে কপাটিকার পথ সংকুচিত হয়েছে। ডাঃ কিটজেস আমাকে জানিয়েছিলেন যে আমার পঞ্চাশ বা ষাট বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত আমি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারব, তার পরে আমার সংশোধনমূলক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। ১৯৯৬ সালে, আমার ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষা হল এবং নির্ধারণ করা গিয়েছিল যে আমার হৃদযন্ত্র বড় হয়ে গেছে। আমার পারিবারিক চিকিৎসক বলেছিলেন যে আমার একজন হৃদযন্ত্র বিশারদকে দেখানো উচিত। একই কথা এর আগেও অনেকবার শোনার পরও আমি গুরুত্ব না দিয়ে কোন বিশারদের কাছে যাইনি। এবার আমি জন ল্যামব্রেখটের কাছে গেলাম, এর আগে তাঁকে আমি কখনো দেখাইনি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমার সারা জীবন ওলট পালট গেল। আমার উপসর্গ ছিল ক্লান্তি, দুর্বলতা, হাঁপানি, সেইসাথে পাংশুবর্ণ ত্বকের রঙ এবং মাথা ঘোরা, সেই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পরে, তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন যে আমার অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর এবং একমাত্র চিকিৎসা হল তাৎক্ষণিক ওপেন-হার্ট সার্জারি করে অলিন্দ কপাটিকা প্রতিস্থাপন করতে পারে। আমার জীবন শেষ হয়ে গেছে ভেবে কাঁদতে শুরু করেছিলাম। ডাঃ ল্যামব্রেখট আমার প্রতিক্রিয়া দেখে বলেছিলেন যে এই অবস্থাটি সংশোধনযোগ্য এবং আমার মৃত্যু হবার মত কোন অসুখ নেই। আমার এটা নিয়ে ভাবার খুব একটা সময় ছিল না। এর ১০ দিনের মধ্যে, আমার শরীরে একটি 'মেডিট্রনিক হল কৃত্রিম হৃদযন্ত্র কপাটিকা' বসানো হয়েছিল। ১৯৯৬ সালের ২০শে মার্চ, প্রভিডেন্স, আর.আই.-এর মরিয়ম হাসপাতালে ডাঃ রবার্ট ইনডেগ্লিয়া অস্ত্রোপচারটি করেছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর প্রায় ৩ বছর হয়ে গেছে এবং আমি আমার প্রত্যাশার চেয়ে ভাল আছি। ১৯৭৭ সালে আমার ছেলে কেভিন হাইপোপ্লাস্টিক লেফট-হার্ট সিনড্রোম নিয়ে জন্মেছিল এবং মাত্র ২ দিন বেঁচে ছিল কারণ হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের অবস্থা আজকের মত ছিলনা। আমি কৃতজ্ঞ যে আমি এমন একটি সময়ে জীবনধারণ করেছি যখন আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির দৌলতে আমার নতুন মহাধমনী হৃদযন্ত্রের কপাটিকার কারণে আমি দ্বিতীয় জীবন পেয়েছিলাম। এই অধ্যায়ে আমাদের লক্ষ্য হল আপনার হাত ধরে রক্ত সংবহন তন্ত্রের প্রতিটি অংশের মধ্য দিয়ে আপনাকে নিয়ে যাওয়া, যাতে আপনিও শিখতে পারেন যে এই রক্ত ​​পাম্পিং মেশিন, যাকে আমরা সবাই হৃদপিণ্ড বলি, তাকে শ্রদ্ধা করা।


স্ট্রোক[সম্পাদনা]

সেরিব্রোভাসকুলার রোগ হল সেগুলি, যেগুলি মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলিকে প্রভাবিত করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের পরে এটি মৃত্যুর তৃতীয় কারণ। স্ট্রোক (সেরিব্রোভাসকুলার দুর্ঘটনা বা সিভিআরও বলা হয়) হল একটি সেরিব্রোভাসকুলার ডিসঅর্ডার যা মস্তিষ্কের একটি অংশে হঠাৎ করে রক্ত ​​প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ঘটে। ইসকেমিয়া নামে পরিচিত রক্তের প্রবাহ কমে যাওয়া যেকোনো কলার জন্যই বিপজ্জনক কিন্তু মস্তিষ্কের কলা বেশি দুর্বল প্রধানত এর বিপাকীয় প্রতিক্রিয়ার উচ্চ হারের কারণে। তাই এটি বেশি বিপজ্জনক। প্রকৃতপক্ষে মস্তিষ্কে যদি তিন মিনিটের বেশি রক্ত ​​​​প্রবাহ বন্ধ হয় তবে এটি বেশিরভাগ মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট হতে পারে। এই কারণে স্ট্রোক হলে কয়েক মিনিটের মধ্যে মানুষ মারা যেতে পারে বা তাদের মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করে হতে পারে।

স্ট্রোককে হয় অক্লুসিভ বা রক্তক্ষরণ জাতীয় হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা যেতে পারে এবং মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে বা এর পৃষ্ঠতলে এটি ঘটতে পারে। অক্লুসিভ স্ট্রোকে কোন রক্তনালীর রক্ত ​​​​প্রবাহ অবরুদ্ধ হয়ে যায়। রক্তক্ষরণ জাতীয় স্ট্রোকে কোন রক্তনালী ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়।

সারসংক্ষেপ[সম্পাদনা]

শরীরের সমস্ত তন্ত্রের মতো, রক্ত সংবহন তন্ত্রও সুস্থিতি বজায় রাখতে একটি ভূমিকা পালন করে। স্নায়ুতন্ত্র হৃদপিণ্ডের যে কাজ করার কথা সেই অনুযায়ী হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রিত করে। হার্টের সঠিক পাম্পিং স্বাভাবিক রক্তচাপ এবং কলাগুলির সঠিক অক্সিজেন প্রাপ্তি বজায় রাখে। সংবহন তন্ত্র রক্তের জন্য পথ গঠন করে, কিন্তু তারা কেবলমাত্র একটি নালিকা তন্ত্র নয়। রক্তনালীগুলি নিষ্ক্রিয় নালিকা নয়, বরং সুস্থিতিতে সক্রিয় অবদানকারী। ধমনী ও শিরা রক্তচাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং কৈশিকনালীগুলি রক্ত ​​ও কলাগুলির মধ্যে প্রয়োজনীয় উপাদানের আদান-প্রদানের স্থান হিসেবে কাজ করে।

পর্যালোচনা প্রশ্ন[সম্পাদনা]

এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে

এখানে

১. এটি স্নায়ুর মতো বিদ্যুৎ সঞ্চালন করে

ক) এপিকার্ডিয়াম
খ) পেরিকার্ডিয়াম
গ) মায়োকার্ডিয়াম
ঘ) Subvalaular যন্ত্রপাতি
ঙ) এগুলোর কোনটিই নয়, শুধুমাত্র স্নায়ু বিদ্যুৎ সঞ্চালন করে

২. এটি যে কোনো সময়ে শরীরে সবচেয়ে বেশি রক্ত ​​বহন করে

ক) শিরা
খ) কৈশিকনালী জালিকা
গ) শিরা
ঘ) মহাধমনী
ঙ) মহাশিরা

৩. রক্ত পাম্প করতে এরা একসাথে সংকুচিত হয়

ক) দক্ষিণ নিলয়ের সাথে দক্ষিণ অলিন্দ এবং বাম নিলয়ের সাথে বাম অলিন্দ
খ) বাম অলিন্দের সাথে দক্ষিণ অলিন্দ এবং বাম নিলয়ের সাথে দক্ষিণ নিলয়
গ) ত্রিপত্রক কপাটিকা এবং মিট্রাল কপাটিকা
ঘ) মহাধমনী এবং ফুসফুসীয় ধমনী
ঙ) মহাধমনী, ফুসফুসীয় ধমনী এবং ফুসফুসীয় শিরা

৪. এটি হৃৎপিণ্ডের পেসমেকার

ক) এভি নোড
খ) পার্কিনিয়ে তন্তু
গ) এভি গুচ্ছ
ঘ) এসএ নোড
ঙ) এগুলির কোনোটিই নয়, একটি পেসমেকার অস্ত্রোপচার করে ঢোকানো হয়

৫. একটি ইসিজি পড়ার সময়, এই অক্ষরটি এভি নোড থেকে এভি গুচ্ছে পুনঃপরিবর্তন দেখায়

ক) এস
খ) পি
গ) ইউ
ঘ) টি
ঙ) কিউ

৬. একটি ইসিজিতে টি তরঙ্গ দেখায়

ক) স্থির বিভব
খ) অলিন্দ পুনঃপরিবর্তন
গ) এসএ নোড উত্তেজনা
ঘ) নিলয় পুনঃপরিবর্তন
ঙ) পার্কিনিয়ে উত্তেজনা

৭. রক্তচাপ কিসের পরিমাপ

ক) রক্তনালীগুলির দেয়ালে রক্তের চাপ
খ) ধমনীতে রক্তের চাপ
গ) শিরায় রক্তের চাপ
ঘ) মহাধমনীতে রক্তের চাপ
ঙ) কৈশিকনালীর উপর রক্তের চাপ

৮. সিস্টোলিক প্রেসার হল

ক) গড় ১২০ মিমি পারদ
খ) নিলয় সিস্টোলের সময় ধীরে ধীরে হ্রাস পায়
গ) সর্বোচ্চ যখন রক্ত ​​বাম নিলয় থেকে মহাধমনীতে পাম্প করা হয়
ঘ) গড় ৮০ মিমি পারদ
ঙ) ক এবং গ উভয়ই
চ) খ এবং ঘ উভয়ই

৯. হৃৎপিণ্ডে কয়টি প্রকোষ্ঠ রয়েছে?

ক) এক
খ) দুই
গ) তিন
ঘ) চার
ঙ) পাঁচ

শব্দকোষ[সম্পাদনা]


তীব্র মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (এএমআই বা এমআই) সাধারণত হার্ট অ্যাটাক নামে পরিচিত, এটি ঘটে যখন হৃৎপিণ্ডের একটি অংশে রক্ত ​​​​সরবরাহ ব্যাহত হয়। ফলস্বরূপ ইস্কেমিয়া বা অক্সিজেনের ঘাটতি, তাতে হৃৎপিণ্ডের কলার ক্ষতি এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা। মহাধমনী: সিস্টেমিক বর্তনীর ধমনীগুলির মধ্যে বৃহত্তম
মহাধমনীর কপাটিকা: বাম নিলয় এবং মহাধমনীর মধ্যে অবস্থিত
অ্যান্টিডাইউরেটিক হরমোন: পিটুইটারির পিছনের দিকে এডিএইচ (ভাসোপ্রেসিন) এ উৎপাদিত, প্রধান কাজ হল কিডনি দ্বারা জল ধরে রাখার মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
শাখাধমনী: একটি ছোট ব্যাসের রক্তনালী যা একটি ধমনী থেকে শাখা বের করে প্রসারিত হয়ে কৈশিকনালীর দিকে যায়
অ্যাট্রিয়াল নেট্রিউরেটিক পেপটাইড: হৃৎপিণ্ডের অলিন্দে উৎপাদিত, এটি প্রস্রাবে সোডিয়ামের নিঃসরণ বাড়ায় যার ফলে জলের ক্ষয় রোধ হয় (সোডিয়াম জলের ক্ষতি ঘটায়)। এর ফলে রক্তের সান্দ্রতা হ্রাস পায় এবং ফলস্বরূপ রক্তচাপ হ্রাস পায়।
অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার নোড (সংক্ষেপে এভি নোড): হৃৎপিণ্ডের অলিন্দ এবং নিলয়ের মধ্যবর্তী কলা, যা অলিন্দ থেকে নিলয় পর্যন্ত স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা সঞ্চালন করে
অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার কপাটিকা: বড়, বহু পত্রযুক্ত কপাটিকা যে সিস্টোলের সময় নিলয় থেকে অলিন্দে রক্ত ফেরত আসতে বাধা দেয়
এভি গুচ্ছ: বৈদ্যুতিক পরিবহনের জন্য বিশেষায়িত হৃৎপিণ্ডের পেশী কোষের সংগ্রহ যারা এভি নোড থেকে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা প্রেরণ করে
বারবিটুরেট: সিএনএস মানসিক বেদনাদি উপশমকারী বস্তু, প্রশান্তিদায়ক-হিপনোটিক্স
রক্তচাপ: রক্তনালীগুলির দেওয়ালে রক্তের চাপ
কৈশিকনালী: একটি শরীরের রক্তনালীর মধ্যে সবচেয়ে ছোট, তারা ধমনী এবং শিরা সংযুক্ত করে
কার্ডিয়াক চক্র: হৃৎপিণ্ড শরীরের মধ্যে রক্ত ​​পাম্প করার জন্য যা যা কাজ করে সেই ঘটনার ক্রম বর্ণনা করতে ব্যবহৃত শব্দটি
সেরিব্রাল ভাস্কুলার দুর্ঘটনা (সিভিএ): স্ট্রোক নামেও পরিচিত, এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতার একটি অংশের দ্রুত সৃষ্টি হওয়া ক্ষতি বা মস্তিষ্কের সমস্ত বা কিছু অংশে রক্ত ​​সরবরাহে বাধার কারণে চেতনা হ্রাস। অর্থাৎ, একটি স্ট্রোকের সাথে সেরিব্রাল রক্তসঞ্চালনে ব্যাঘাতের কারণে হঠাৎ স্নায়বিক কার্যকলাপ বন্ধ হওয়া জড়িত। রক্ত সরবরাহে বাধার জন্য বিভিন্ন কারণ রয়েছে এবং মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ এতে প্রভাবিত হতে পারে। এই কারণে, একটি স্ট্রোক বেশ ভিন্নধর্মী হতে পারে। স্ট্রোকের একই কারণের রোগীদের ব্যাপকভাবে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে। একইভাবে, একই ক্লিনিকাল প্রতিবন্ধী রোগীদের প্রকৃতপক্ষে তাদের স্ট্রোকের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
চোর্ডে টেন্ডিনা: দড়ি-সদৃশ টেন্ডন যা প্যাপিলারি পেশীগুলিকে ত্রিপত্রক কপাটিকা এবং হৃৎপিণ্ডের মিট্রাল কপাটিকার সাথে সংযুক্ত করে
করোনারি ধমনী: যে রক্তনালীগুলি হৃৎপিণ্ডের পেশীতে রক্ত ​​সরবরাহ করে এবং রক্ত ​​বার করে নিয়ে যায়
অবিচ্ছিন্ন কৈশিকনালী: একটি বদ্ধ এপিথেলিয়াম আছে এবং শুধুমাত্র ছোট অণু, জল এবং আয়নগুলিকে ব্যাপন করতে দেয়
গভীর-শিরা থ্রম্বোসিস (ডিভিটি): একটি গভীর শিরার মধ্যে ​​​​জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ড ("থ্রম্বাস") গঠন। এটি সাধারণত পায়ের শিরাকে প্রভাবিত করে, যেমন ফিমোরাল শিরা বা পপলিটিল শিরা বা পেলভিসের গভীর শিরা। মাঝে মাঝে বাহুর শিরা আক্রান্ত হয়
ডায়াস্টোল: সেই সময়কাল যখন হৃদপিণ্ড সংকোচনের পরে শিথিল হয়, সঞ্চালনকারী রক্তকে ভরে নেওয়ার প্রস্তুতিতে
ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ: রক্তচাপের সর্বনিম্ন বিন্দু যেখানে হৃদপিণ্ড শিথিল হয়
ইডিমা: খুব বেশি কলা তরল তৈরি হলে বা পর্যাপ্ত অপসারণ না হলে যে ফোলাভাব হয়
ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম: লেখচিত্রে হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের রেকর্ডিং
এপিনেফ্রিন: অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিগুলির অ্যাড্রিনাল মেডুলায় উৎপাদিত, প্রধান কাজ হল ভাসোকনস্ট্রিকশন যা শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বৃদ্ধি করবে এবং কার্ডিয়াক আউটপুট বাড়িয়ে দেবে।
ফেনেস্ট্রেটেড কৈশিকনালী: খোলা মুখ আছে যেখান দিয়ে বৃহত্তর অণুগুলির ব্যাপন হয়
ফাইব্রাস পেরিকার্ডিয়াম: একটি ঘন সংযোগকারী কলা যা হৃৎপিণ্ডকে রক্ষা করে, এটিকে আশেপাশের দেয়ালে আটকে রাখে এবং এটিকে বেশি রক্তে ভরে যাওয়া থেকে আটকায়
হৃদ স্পন্দনের হার: কার্ডিয়াক চক্রের কম্পাঙ্ক বর্ণনা করতে ব্যবহৃত শব্দ
হেপাটিক শিরা: যে রক্তনালীগুলি যা যকৃৎ থেকে দূষিত রক্ত ​​নিঃসরণ করে এবং যকৃৎ দ্বারা পরিষ্কার করা রক্ত ​​(পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং কোলন থেকে আসা) নিম্ন মহাশিরাতে পাঠায়
উচ্চ রক্তচাপ: চিকিৎসাগত অবস্থা যেখানে রক্তচাপ ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পায়
নিম্ন মহাশিরা (বা আইভিসি): একটি বড় শিরা যা দেহের নিম্নার্ধ থেকে দূষিত রক্ত ​​হৃদপিণ্ডে বহন করে আনে
আন্তঃনিলয় পর্দা: হৃৎপিণ্ডের নিচের প্রকোষ্ঠদুটিকে (নিলয়) একে অপরের থেকে আলাদা করে রাখা শক্ত প্রাচীর
বাম অলিন্দ:বাম এবং দক্ষিণ ফুসফুসীয় শিরা থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ​​গ্রহণ করে
লাব: প্রথম হৃদ ধ্বনি, বা এস১; নিলয়ের সংকোচন বা সিস্টোলের শুরুতে অ্যাট্রিওভেন্ট্রিকুলার, মিট্রাল এবং ত্রিপত্রক কপাটিকা বন্ধ হওয়ার কারণে,
লুমেন: রক্তনালীর ফাঁপা অভ্যন্তরীণ গহ্বর যেখান দিয়ে রক্ত ​​প্রবাহিত হয়
লসিকা: সংবহনতন্ত্রের রক্তরস হিসাবে উদ্ভূত হয়ে কৈশিকনালীগুলি থেকে বেরিয়ে যায়, আন্তঃকোষী তরল হিসেবে কলার পৃথক কোষগুলির মধ্যের স্থান পূরণ করে
মিট্রাল কপাটিকা: দ্বিপত্রক কপাটিকা নামেও পরিচিত; বাম নিলয় থেকে বাম অলিন্দে রক্ত প্রবাহিত হতে দেয়না
মায়োকার্ডিয়াম: হৃৎপিণ্ডের পেশী কলা।
নোরেপাইনফ্রাইন: অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিগুলির অ্যাড্রিনাল মেডুলায় উৎপাদিত, প্রধান কার্য হল একটি শক্তিশালী ভাসোকনস্ট্রিক্টর যা শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বাড়িয়ে দেয়।
পেসমেকার কোষ: যে কোষগুলি হৃদপিণ্ডের ছন্দময় স্পন্দন তৈরি করে
প্লেক: ধমনীর দেয়ালের মধ্যে ম্যাক্রোফেজ শ্বেত রক্তকণিকার একটি অস্বাভাবিক প্রদাহজনক জমা
ফুসফুসীয় কপাটিকা: দক্ষিণ নিলয় এবং ফুসফুসীয় ধমনীর মধ্যে অবস্থিত; নিলয়ে রক্তের পিছনের প্রবাহকে বাধা দেয়
নাড়ী: প্রতি মিনিটে হৃসস্পন্দনেরর সংখ্যা
পার্কিনিয়ে তন্তু (বা পার্কিনিয়ে কলা): এন্ডোকার্ডিয়ামের ঠিক নীচে হৃৎপিণ্ডের নিলয়ের ভেতরের দেওয়ালে অবস্থিত; বিশেষায়িত মায়োকার্ডিয়াল তন্তু যা একটি বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা বা আবেগ সঞ্চালন করে এবং হৃৎপিণ্ডকে সমন্বিত ভাবে সংকুচিত করতে সক্ষম করে
রেনিন-অ্যানজিওটেনশন সিস্টেম:
দক্ষিণ অলিন্দ: উর্ধ মহাশিরা এবং নিম্ন মহাশিরা থেকে দূষিত রক্ত ​​গ্রহণ করে
সেরাস পেরিকার্ডিয়াম: হৃৎপিণ্ডের কার্যকলাপের সময় ঘর্ষণ প্রতিরোধ করার জন্য হৃৎপিণ্ডের তৈলাক্তকরণের কাজ
অর্ধচন্দ্রাকার কপাটিকা: ফুসফুসীয় ধমনী এবং মহাধমনীতে অবস্থিত
সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড: (সংক্ষেপে এসএ নোড বা স্যান, যাকে সাইনাস নোডও বলা হয়): হৃৎপিণ্ডের দক্ষিণ অলিন্দে অবস্থিত উদ্দীপনা উৎপাদনকারী (পেসমেকার) কলা
সাইনুসয়েডাল কৈশিকনালী: ফেনেস্ট্রেটেড কৈশিকগুলির বিশেষ রূপ যার মুখ বড় হওয়ার ফলে আরবিসি এবং সিরাম প্রোটিন প্রবেশ করতে পারে
সিস্টোল: হৃৎপিণ্ডের সংকোচন
সিস্টোলিক প্রেসার:' রক্তচাপের সর্বোচ্চ বিন্দু যখন নিলয় সিস্টোলের সময় বাম নিলয় থেকে মহাধমনীতে রক্ত ​​​​পাম্প করা হয়
উর্ধ্ব মহাশিরা (এসভিসি): একটি বড় মুখের ছোট শিরা যা শরীরের উপরার্ধ থেকে হৃৎপিণ্ডের দক্ষিণ অলিন্দে দূষিত রক্ত ​​বহন করে
থ্রম্বস: অক্ষত রক্তনালীতে রক্ত ​​জমাট বাঁধা
ট্রাইকাসপিড ভালভ: হৃৎপিণ্ডের ডান দিকে, দক্ষিণ অলিন্দ এবং দক্ষিণ নিলয়ের মধ্যে অবস্থিত; ডায়াস্টোলের সময় হৃৎপিণ্ড শিথিল হলে দক্ষিণ অলিন্দ থেকে দক্ষিণ নিলয়ে রক্ত ​​প্রবাহিত হতে দেয়
ভাসোকনস্ট্রিকশন: রক্তনালীর সংকোচন
ভাসোডাইলেশন: রক্তনালীর প্রসারণ
শিরা: কৈশিক রক্তনালী থেকে হৃৎপিণ্ডের ডান অংশে দূষিত রক্ত ​​বহন করে
ভেন্ট্রিকল: হৃৎপিণ্ডের একটি প্রকোষ্ঠ যে অলিন্দ থেকে রক্ত ​​সংগ্রহ করে
উপশিরা: একটি ছোট রক্তনালী যে দূষিত রক্তকে কৈশিক জালিকা থেকে শিরা নামক বৃহত্তর রক্তনালীতে ফেরত পাঠায়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ভ্যান ডি গ্রাফ, কেন্ট এম. হিউম্যান অ্যানাটমি। ম্যাকগ্রা হিল পাবলিশিং, বার রিজ, আইএল। ২০০২।
  2. এসেনশিয়ালস অফ অ্যানাটমি অ্যান্ড ফিজিওলজি, ভ্যালেরি সি. স্ক্যানলন এবং টিনা স্যান্ডার্স
  3. টরটোরা, জি. অ্যান্ড গ্রাবোস্কি, এস. (২০০০) প্রিন্সিপলস অফ অ্যানাটমি অ্যান্ড ফিজিওলজি। উইলি অ্যান্ড সন্স। ব্রিসবেন, সিঙ্গাপুর এবং চিচেস্টার।
  4. অ্যান্ডারসন, আরএম. গ্রস ফিজিওলজি অফ কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম (১৯৯৩) <http://cardiac-output.info>.
  1. Tortora, G. & Grabowski, S. (2000)Principles of anatomy and physiology. Ninth Edition. Wiley page 733.