বাংলা ভাষা/একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
যুদ্ধ চলাকালীন সহিংসতা হলো সেই কলঙ্কিত অধ্যায়, যেখানে সশস্ত্র সংঘাত তো হয়ই, তবে তার পাশাপাশি পরাজিত দলের উপর নেমে আসে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং সর্বলোকে যা আসে তা হলো মৃত্যু। তবে জয়ী দল এই হিংস্রতাকে তিরস্কার নয়, বরং যুদ্ধের পুরস্কার হিসেবেই গ্রহণ করে; যেন মানুষের শরীর গনিমতের মাল। জাতি, বংশ এবং গোত্রের উপর নির্ভরশীল সংঘাতের শিকড় বট গাছের শিকড়ের মতো, যা অনেক গভীর। এই সংঘাত হয় সমাজের বুকে জমে থাকা ঘৃণা এবং ক্ষমতার দম্ভ প্রাপ্তির নেশায়। সংঘাত এবং সহিংসতার সেই অন্ধকার মুহূর্তে যৌন সহিংসতা হয়ে উঠেছে অতি সাধারণ। দলবদ্ধ নির্যাতন, নিষ্ঠুর উপায়ে শরীরের ভোগ। প্রতিটি ঘটনা একটি নীরব চিৎকার, কান্না এবং হত্যা যা ইতিহাসের পাতায় বীরত্বের সাথে কলঙ্করূপে রক্তবর্ণে লেখা থাকে। এটি সাধারণ যৌন হয়রানি বা সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিপীড়ন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ হলো যুদ্ধের কাপুরুষোচিত অস্ত্র, যা একজন নারীর শুধু দেহের ভঙ্গন করে না, ভঙ্গন করে তার সম্পূর্ণ জীবনের। যা ইতিহাসের পাতায় বীরত্বের সাথে কলঙ্কের দাগ বহন করে।