কীভাবে একটি প্রবন্ধ লিখবেন/প্রবন্ধ নিয়ে পাঁচটি পয়েন্ট

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

পাঁচ পয়েন্টের (যা পাঁচটি অনুচ্ছেদ নামেও পরিচিত) প্রবন্ধ হলো, যে প্রবন্ধ সহজভাবে পাঁচটি পয়েন্টের সাহায্যে সম্পূর্ণ করে তার লক্ষ্যে পৌঁছায়। প্রবন্ধ লেখার সময় এটি ব্যবহার করা সহজ। যদিও এটি আয়ত্ত করা বেশ কঠিন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেখানে প্রবন্ধ লিখতে হবে সেখানে এর ব্যবহার দেখা যায়। একটি প্রবন্ধ বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের মধ্যে যেকোনও কাজ করতে পারে। প্রবন্ধটি একটি সাধারণ চিন্তাভাবনা থেকে একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারে। তবে পাঠককে কোন না কোন উপায়ে প্রবন্ধটি যেন সর্বদা চালিত করে। বিশেষ করে প্ররোচনামূলক প্রবন্ধের দিকে পাঠকের মনকে চালিত করা উচিত।

ভূমিকা[সম্পাদনা]

ভূমিকার অনুচ্ছেদটি বিস্তৃতভাবে শুরু করুন। এখানে আপনাকে সৃজনশীল হতে হবে। পাঠককে প্রবন্ধ পাঠে আগ্রহী করে তুলুন। প্রবন্ধের মধ্যে উদ্ধৃতি যোগ করলে সেটি ভাল কাজ দেয়। তবে তা যেন গতানুগতিক না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ পাঠক যদি মনে করেন যে তারা ইতিমধ্যেই বিষয়টি যথেষ্ট ভালভাবে জানেন তবে তারা আগ্রহী হবেন না। বিভিন্ন প্রবন্ধের জন্য বিভিন্ন ধরণের ভূমিকাযুক্ত অনুচ্ছেদের প্রয়োজন হয়। তবে বেশিরভাগ সময়ে তাতে একটি সাধারণ বিবৃতি থাকে। প্রথমে আপনার মূল পয়েন্টগুলি তালিকাভুক্ত করুন। তারপর আপনার প্রবন্ধের গবেষণামূলক বিবৃতিটি লিখুন। আপনার প্রবন্ধের গবেষণামূলক বিবৃতিটি প্রায় সবসময়ই আপনার ভূমিকাযুক্ত অনুচ্ছেদের শেষে আসবে। কিছু লোক আপনাকে হয়তো বলবে যে এই পদ্ধতিটিই সর্বদা অনুসরণ করা করা উচিত। সাধারণভাবে, মৌলিক ভূমিকার অনুচ্ছেদটিকে একটি উল্টো ত্রিভুজ হিসাবে কল্পনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ ত্রিভুজের ভূমি উপরে এবং শীর্ষবিন্দু নিচে। যার মানে হলো সবচেয়ে সাধারণ বিষয় (ত্রিভুজের ভূমি) থেকে নীচের দিকে নির্দেশিত গবেষণামূলক বিবৃতিটিতে চলে যাওয়া।

যুক্তি সংক্ষিপ্ত করুন[সম্পাদনা]

আপনার দেওয়া সমস্ত যুক্তি সংক্ষেপে লিখুন।

আপনার অবস্থানের সপক্ষে যুক্তি[সম্পাদনা]

প্রবন্ধের সপক্ষে ভাল যুক্তি তৈরি করুন। খারাপ তর্ক-বিতর্ক করবেন না। প্রবন্ধে আকর্ষণীয় যুক্তি তৈরি করা উচিত। প্ররোচিত করার দুটি পথ রয়েছে। একটি হলো সরাসরি এবং অন্যটি হলো বিষয়টি ঘুরিয়ে বলা। সরাসরি পথটিতে দৃঢ় ধারণা ব্যবহার করতে হবে। উদাহরণ দিয়ে বলা যেতে পারে। যেমন: অ সত্য হয় ক, খ, এবং গ এর কারণে। সেক্ষেত্রে ক, খ, এবং গ যৌক্তিক এবং বিশ্বাসযোগ্য হওয়া উচিত। দ্বিতীয় পথে অর্থাৎ ঘুরিয়ে বলার ক্ষেত্রে একটি যুক্তি তৈরি করার জন্য একজনের সচেতনতার বাইরেও অন্য সচেতন ইঙ্গিতগুলির উপর নির্ভর করতে হয়। সেজন্য ঘুরিয়ে বলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাতে আবেগের উপর নির্ভর করেতে হয়। মনোবিজ্ঞান গবেষণা করে দেখেছে যে আকর্ষণীয় ব্যক্তিরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে অন্যদের সহজেই বোঝাতে পারেন। তাই আপনার প্রবন্ধটিকে আকর্ষণীয় করুন। আপনার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো প্রবন্ধটির মধ্যে পেশাদারিত্ব আনুন। আপনার লেখাটিকে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসে শব্দগুচ্ছ দিয়ে সাজান। তবে অতিরিক্ত কথা বলবেন না।

গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটল প্ররোচনার উপায়গুলিকে তিনটি বিভাগে ভাগ করেছিলেন, যথা: লোগো, প্যাথোস এবং ইথোস। প্ররোচনামূলক প্রবন্ধ লেখার ক্ষেত্রে অন্যান্য দৃষ্টিভঙ্গি ও আপনার তর্কের অবস্থানের ক্ষেত্রে এই লোগো, প্যাথোস এবং ইথোসের ভূমিকা রয়েছে। লোগো হলো দাবিটিকে সমর্থন করার জন্য ব্যবহৃত যুক্তি। প্যাথোস হলো যুক্তির জন্য আবেগের উপর নির্ভর একটি শব্দ অর্থাৎ সংবেদনশীল বা অনুপ্রেরণামূলক আবেদন। ইথোস হলো উৎসটির বিশ্বাসযোগ্যতা অর্থাৎ যুক্তির জন্য বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করা। এখানে আপনি আপনার পাঠকের সাথে বিশ্বাস স্থাপন করতে চান। আপনি প্রবন্ধের উৎসটির বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে চান যা অর্থপূর্ণ।

এখানে একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, লোগোর উপর ভিত্তি করে একটি যুক্তি হবে, আমাদের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করা উচিত কারণ এটি অর্থ এবং জীবন বাঁচাতে পারে। ইথোসর উপর ভিত্তি করে একটি যুক্তি হবে, আমি মৃত্যুদণ্ডের একজন বিশেষজ্ঞ, আমার পিএইচডি ডিগ্রি আছে। নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে, এবং বহু বছর ধরে এই বিষয়টি অধ্যয়ন করার পর আমরা পেয়েছি যে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলে আমরা কম আইনি খরচের কারণে বছরে ১.৪ কোটি টাকা বাঁচাতে পারি। প্যাথোসের উপর ভিত্তি করে একটি যুক্তি হবে, লোকেরা যে খারাপ কাজ করেছে তার জন্য মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। অথবা আমার স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং যদি তারা আপনার স্ত্রীকে হত্যা করে তবে আপনি কি তার বিচার চান না?

আপনার প্রবন্ধে ভাল যুক্তি ব্যবহার করুন। আর পাঠকের মনে বিশ্বাস স্থাপন করুন। যুক্তিগুলি পড়ে যেন পাঠকের ভাল এবং সুন্দর মনে হয়। এছাড়াও, পূর্ববর্তী তিনটি অনুচ্ছেদের চেয়ে আরও সংক্ষিপ্ত এবং পরিষ্কারভাবে লিখুন। ঊর্ধকমার মতো সম্বোধন অলংকার এড়িয়ে চলুন।

পাল্টা যুক্তি এবং প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

এই অনুচ্ছেদে আপনার প্রবন্ধের অবস্থানের জন্য একটি পাল্টা যুক্তি আনুন। তারপর ঐ যুক্তিটি বাতিল করুন।

উপসংহার[সম্পাদনা]

আপনার প্রবন্ধের এই শেষ অনুচ্ছেদটিতে নির্দিষ্ট বিষয়ে শুরু করুন এবং বিস্তৃতভাবে শেষ করুন। কোন উপায়ে আপনার গবেষণামূলক বিবৃতিটি পুনরাবৃত্তি করতে প্রথম বাক্যটি ব্যবহার করুন। এরপর বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে আপনার যুক্তিগুলিকে সংক্ষিপ্ত করতে পারেন। প্রবন্ধের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে আপনি যা লিখেছেন তার শব্দ সংখ্যা পরিবর্তন করুন। একটি দীর্ঘ প্রবন্ধের জন্য আপনি আরও নির্দিষ্ট ভাবে প্রবন্ধটিকে বাড়াতে পারেন। তবে একটি সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ যথাযথ ভাবে লেখা উচিত অর্থাৎ যেটুকু শুধু প্রবন্ধের জন্য প্রয়োজন। এমনও হতে পারে আপনি আপনার যুক্তিগুলিকে শক্তিশালী করতে বা শক্তিশালী করার জন্য সামান্য কিছু উপাদান প্রবন্ধে যোগ করার দরকার হতে পারে। তবে এমন উপাদান যোগ করবেন না যা আপনি এইমাত্র যা লিখেছেন তার থেকে চিন্তা বা ভাব আমূলভাবে বিচ্ছিন্ন। যদি আপনি তা করেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনি পাঠককে বিভ্রান্ত করার ঝুঁকি নিয়েছেন। অথবা আপনার লেখায় খুব বেশি এর প্রতিফলন হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এরপরে আপনি যা লিখেছেন তার বিস্তৃত প্রভাব সম্পর্কে লিখতে পারেন। সবশেষে আপনি আপনার যুক্তিটি সংক্ষিপ্তভাবে পুনরাবৃত্তি করুন। একটি সাধারণ বিবৃতি বা উদ্ধৃতি তৈরি করে প্রবন্ধের ইতি টানতে পারেন যা পাঠককে ভাবতে বাধ্য করবে এবং আপনারও কাজ এখানে শেষ হবে।