উইকিশৈশব:রাসায়নিক মৌল/সোনা

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
পর্যায়ক্রমিক চার্টে সোনা (গোল্ড)-এর অবস্থান।
পর্যায় সারণিতে সোনা (গোল্ড)-এর প্রতীক
৮০০ বছরের পুরানো সোনার তৈরি একটি ফরাসি চালিস (কাপ)। এটা দেখলে বোঝা যায় অনেক উপায়ে সোনার উপর কাজ করা যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রাপ্ত সোনার দলা
মহাকাশচারীর চোখকে অবলোহিত রশ্মির বিকিরণ থেকে রক্ষা করার জন্য স্পেস স্যুটের শিরাস্ত্রাণের মুখাবরণে সোনা ব্যবহার করা হয়।

ধাতুটি দেখতে, স্পর্শে, স্বাদে, অথবা গন্ধে কেমন লাগে?[সম্পাদনা]

সোনা একটি হলুদ রঙের মূল্যবান ধাতু। এই ধাতুটি নিজস্ব সৌন্দর্য এবং উজ্জ্বলতার জন্য মূল্যবান। অন্য অনেক ধাতুর চেয়ে সোনা নরম। আগুন বা তাপ ছাড়াই শুধুমাত্র সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধাতুটিকে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। প্রাচীনকাল থেকেই সোনা প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যেত এবং ধাতুটি নিয়ে কাজ করা সহজ বলে, এটি মানুষের দ্বারা ব্যবহৃত প্রথম ধাতু বলে মনে করা হয়। ধাতুটি হাজার হাজার বছর ধরে মুদ্রা এবং গয়না তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আজও এটি গয়না তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বিরল ধাতু বলে সোনাকে সম্পদের প্রতীক হিসাবে দেখা হয়। এটি কম্পিউটারের মতো ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশেও ব্যবহৃত হয়।

সোনাকে সব ধরনের আকার দেওয়া যেতে পারে। একে ছোট আকারে পাকানো যেতে পারে। পাতলা তারের মতো টানা যেতে পারে। অথবা পেঁচিয়ে বিনুনির আকারও দেওয়া যেতে পারে। এই ধাতুটিকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পাতলা পাতে পরিবর্তিত করা যায়। এটিকে খুব পাতলা পাতে পরিণত করে অন্য ধাতুর সাথে আটকেও দেওয়া যায়। এটিকে এত পাতলা করা যায় বলে আগেকার দিনে হাতে আঁকা ছবি সাজাতে কখনও কখনও সোনার পাত ব্যবহার করা হতো।

সোনা বেশিরভাগ রাসায়নিকের সাথে বিক্রিয়া করে না। তাই সোনার নিজের ঔজ্বল্য নষ্ট হয় না। এতে মরিচা পড়ে না, নিজে পুড়েও ষায় না। এমনকি এর থেকে বিস্ফোরণের সম্ভাবনা নেই। যখন কোথাও প্রাচীন স্বর্ণমুদ্রা বা গহনা পাওয়া যায়, তখন সেগুলি আগের মতোই চকচকে ও সুন্দর দেখায়।

ধাতুটির নাম কোথা থেকে এসেছে?[সম্পাদনা]

সোনার এর ইংরেজি নাম গোল্ড। এই শব্দটি জার্মানিক শব্দ gulþa থেকে এসেছে। যার অর্থ সোনা। পুরানো ইংরেজি শব্দ জিওলু (geolu) মানে হলুদ। ল্যাটিন ভাষায় সোনাকে বলা হতো অরাম। ল্যাটিন ভাষায় সোনাকে বলা হতো অরাম (aurum)। এই কারণেই সোনার রাসায়নিক প্রতীক হলো Au।

ধাতুটি কোথায় পাওয়া যায়?[সম্পাদনা]

সোনা বিরল ধাতু, যার মানে প্রকৃতিতে এটি খুঁজে পাওয়া কঠিন। সোনা সাধারণত মাটির নিচে পাওয়া যায়। এটি পৃথিবীর গভীরে সুড়ঙ্গ করা খনি থেকে খনন করে তোলা হয়। সোনা সাধারণত পাতলা স্তর হিসাবে পাথরের মধ্যে পাওয়া যায়। তবে কখনও কখনও পিণ্ড বা দলা হিসাবেও পাওয়া যায়।

সোনা কখনও কখনও মাটির উপরে বালি এবং নুড়ির স্তরেও পাওয়া যায়। জলের স্রোতের সাহায্যে নুড়ি পাথরগুলি ভাঙ্গলে সোনার দানাগুলি আলগা হয়ে বের হয়ে পড়ে। জলের স্রোত এরপর সোনার দানাগুলিকে বহন করে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যায়। যখন জলের স্রোত কমে যায় তখন বালি এবং নুড়ির সাথে সোনাও থিতিয়ে পড়ে। সোনা সন্ধানকারীরা তাই কখনও কখনও সোনার খোঁজে জলস্রোতের মধ্যে বা যেখানে জলস্রোত আগে প্রবাহিত হয়েছিল সেইসব অঞ্চলে সোনার সন্ধান করে।

এটা কি বিপজ্জনক?[সম্পাদনা]

সোনা বিপজ্জনক নয়। খুব খাঁটি সোনার পাতা (কখনও কখনও "ভোজ্য সোনা" ও বলা হয়) খাওয়ার জন্য নিরাপদ। এটি কখনও কখনও খাবার সাজাতে ব্যবহৃত হয়। সোনা মুখে রাখা এতটাই নিরাপদ যে অনেকেরই সোনা দিয়ে তৈরি নকল দাঁত থাকে। কারোর আবার দাঁতের গর্তে সোনা ভরা থাকে।

তুমি কি জান?

  • সোনা সম্ভবত মানুষের দ্বারা ব্যবহৃত প্রথম ধাতু।
  • সোনা এতই নরম যে স্বর্ণমুদ্রা আসল কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য মানুষ স্বর্ণমুদ্রায় কামড় দিয়ে দেখতো।
  • এক গ্রাম সোনাকে পিটিয়ে খুব সূক্ষ্ম এক বর্গ মিটার সোনার পাতায় রূপান্তরিত করা যেতে পারে।