বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিশৈশব:রাসায়নিক মৌল/জিংক

উইকিবই থেকে
পর্যায় সারণীতে জিংকের অবস্থান।
পর্যায় সারণীতে জিংক-এর প্রতীক

ধাতুটি দেখতে, স্পর্শে, স্বাদে, অথবা গন্ধে কেমন লাগে?[সম্পাদনা]

বিশুদ্ধ (৯৯.৯৯৫%) দস্তার ছোট ছোট টুকরো এবং তুলনা করার জন্য পাশে বিশুদ্ধ দস্তার এক ঘন সে.মি আয়তনের একটি ঘনক।

জিংক বা দস্তা একটি শক্ত কঠিন ধাতু। এটি দেখতে হালকা নীলাভ রঙের। এর কোনো গন্ধ নেই।

ধাতুটি কিভাবে আবিষ্কৃত হয়েছিল?[সম্পাদনা]

প্রাচীনকাল থেকেই দস্তার সঙ্গে মানুষের পরিচয় ছিল। কিন্তু ১৭৪৬ সাল পর্যন্ত দস্তাকে আলাদা করা যায়নি। ১৭৪৬ সালে আন্দ্রেয়াস মারগ্রাফ সর্বপ্রথম দস্তাকে আলাদা করতে সক্ষম হন। মার্গগ্রাফ দেখিয়েছিলেন যে দস্তার খনিজ ক্যালামাইনের সাথে কাঠকয়লা মিশিয়ে উত্তপ্ত করলে দস্তাকে আলাদা করা যায়। এক্ষেত্রে কাঠকয়লা বিজারক হিসাবে কাজ করে।

ধাতব দস্তা আবিষ্কৃত হওয়ার আগে পিতল এবং দস্তার যৌগ তৈরি করতে দস্তার খনিজগুলি ব্যবহৃত হতো। ট্রানসিলভেনিয়ায় প্রাগৈতিহাসিক ধ্বংসাবশেষে থেকে এমন একটি সংকর ধাতু পাওয়া গিয়েছে যাতে দস্তার পরিমাণ শতকরা ৮৭ ভাগ। আগে দস্তার খনিজ ক্ষত এবং চোখের ব্যথা নিরাময়ের জন্য ব্যবহৃত হতো। অনেকে অনুমান করেন যে কুড়ি খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে চৌদ্দ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অগাস্টাসের শাসনকালে রোমানরাই প্রথম পিতল তৈরি করে। ভেনিসীয় পর্যটক এবং বণিক মার্কো পোলো তার ভ্রমণকাহিনীতে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে পারস্যে জিংক অক্সাইড উৎপাদনের কথা উল্লেখ করেছেন। ১৩৭৪ সাল নাগাদ ভারতবর্ষে দস্তা একটি নতুন ধাতু হিসাবে স্বীকৃতি পায়। সেই সময়ে মানুষের পরিচিত ধাতুগুলির মধ্যে এটি ছিল অষ্টম ধাতু। দ্বাদশ থেকে ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত ভারতের জাওয়ারে দস্তার উৎপাদন করা হয়েছিল। সেখানে উলের মতো জৈব পদার্থ ব্যবহার করে ক্যালামাইনকে উত্তপ্ত করে দস্তা তৈরি করা হয়।

ধাতুটির নাম কোথা থেকে এসেছে?[সম্পাদনা]

জিংক নামটি জার্মান শব্দ "জিন" (zinn) থেকে এসেছে। যদিও জার্মান শব্দে এটিকে টিন বোঝায়।

তুমি কি জান?

  • মানবদেহে প্রায় ২.৩ গ্রাম দস্তা থাকে।
  • খাঁটি দস্তার প্রাচীনতম প্রমাণ পাওয়া যায় নবম শতাব্দীর প্রথম দিকে ভারতের রাজস্থানের জাওয়ার খনি অঞ্চলে।
  • দস্তা হলো চতুর্থ সর্বাধিক ব্যবহৃত ধাতু, অন্য তিনটি ধাতু হলো লোহা, অ্যালুমিনিয়াম এবং তামা।

ধাতুটি কোথায় পাওয়া যায়?[সম্পাদনা]

প্রয়োজনীয় খনিজ জিঙ্ক রয়েছে এমন খাবার এবং মশলা

প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় দস্তা খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন কারণ খুুব বিশুদ্ধ অবস্থায় এটি বিক্রিয়া করে। দস্তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খনিজে সালফাইড, কার্বনেট এবং অক্সাইড যৌগ হিসাবে পাওয়া যায়। দস্তার প্রধান আকরিকগুলি হলো জিংক ব্লেণ্ড (ZnS), ক্যালামাইন (ZnCO3) এবং জিংকাইট (ZnO)। পৃথিবীর নানাদেশেই দস্তা পাওয়া যায়। এদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চীন, পেরু, আমেরিকা প্রভৃতি দেশ অন্যতম। ভূত্বকে শতকরা পরিমাণ হিসেবে মৌলদের তালিকায় দস্তার স্থান চব্বিশ নম্বরে রয়েছে।

এর ব্যবহার কোথায়?[সম্পাদনা]

দস্তার অনেক ব্যবহার রয়েছে। অনেক মুদ্রায় দস্তা ব্যবহৃত হয়। পিতল এবং ব্রোঞ্জ তৈরিতে দস্তা ব্যবহার করা হয়। লোহার জিনিসে মরিচা যাতে না লাগে তার জন্য দস্তার প্রলেপ দেওয়া হয়, যাকে গ্যালভানাইজেশন বা দস্তালেপন বলা হয়ে থাকে। তড়িৎকোষে দস্তা ব্যবহৃত হয়। এইসব তড়িৎকোষ যা ফ্ল্যাশলাইট থেকে রেডিও-নিয়ন্ত্রিত খেলনা পর্যন্ত সবকিছুকে তড়িৎশক্তি দেয়। জিংক অক্সাইড ত্বকের ক্ষতিকারক অতিবেগুনী রশ্মিকে আটকাতে পারে তাই সাধারণ সানস্ক্রিনে এর ব্যবহার দেখা যায়। জিংক অক্সাইড যৌগটি সাদা রঙ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশে অনুপ্রভা তৈরি করতে জিংক সালফাইড কাজে লাগে। এক্ষত্রে ইলেকট্রন দ্বারা আঘাতে অনুপ্রভার সৃষ্টি হয়। কম্পিউটার গেমগুলিতে ছবি তৈরি করতে কম্পিউটার এবং টেলিভিশন স্ক্রিনের ভিতরে জিঙ্ক সালফাইডের ব্যবহার দেখা যায়। অনেক রকম ধাতু সংকর তৈরি করতে দস্তা কাজে লাগে। এরমধ্যে পিতল অন্যতম।

ধাতুটি কি বিপজ্জনক?[সম্পাদনা]

না, এটা বিপজ্জনক নয়। দস্তা মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় এবং আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। আমাদের ত্বককে অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে অনেকে জিংক অক্সাইড ব্যবহার করে থাকেন। একটানা অনেকদিন যদি শরীরে প্রয়োজন মতো দস্তা না যায় তবে নানা অসুখও দেখা দিতে পারে।