উইকিবই আলোচনা:কপিরাইট

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

পাতাটি পূর্ণাঙ্গ করতে অনুরোধ[সম্পাদনা]

Gnome-edit-redo.svgশাহাদাত সায়েম: ভাই এই পাতাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাতা, হয়তো কপি করে আনা হয়েছে। কিন্তু অর্ধাংশ। অনুগ্রহ করে English Wikibooks হতে পুরো পাতাটা এখানে নিয়ে আসুন। ধন্যবাদ! A H M Saqib
Talk
Facebook ১৩:০৭, ৩ ডিসেম্বর ২০১৭ (ইউটিসি)

YesY করা হয়েছে-শাহাদাত সায়েম (আলাপ) ০৯:০৯, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ (ইউটিসি)

আমার নিজ লেখা এই আর্টিকেল। প্রকাশ করার জন্য বিনীত অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ। Adv.Shoaib (আলাপ) ২০:২৫, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ (ইউটিসি)

সংবিধানে মৌলিক অধিকারগুলো এবং রিট মামলা করার অধিকারের নিশ্চয়তাঃ অ্যাডভোকেট সোয়েব রহমান[সম্পাদনা]

সংবিধানে মৌলিক অধিকারগুলো এবং রিট মামলা করার অধিকারের নিশ্চয়তা বিষয়টি অনেক বিস্তৃত একটি আইনী বিধান। এত স্বল্প পরিসরে এর পূর্ণ আলোচনা সম্ভব নয়। কিন্তু সাধারণ পাঠক কিছুটা ধারণা হিসাবে অন্তত এই লেখার মাধ্যমে পেতে পারেন। এখানে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু সংবিধানে মৌলিক অধিকারগুলো, রিট মামলা করার এখতিয়ার, কে, কখন করতে পারেন সেসব বিষয়ে আলোকপাত করা হলো।


বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকারসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এসব অধিকারের পরিপন্থী পূর্বেকার সকল আইন সাংবিধানিকভাবে অবৈধ এবং তা একই সঙ্গে এসব অধিকারের পরিপন্থী কোনো আইন প্রণয়ন না করার জন্য রাষ্ট্রকে নির্দেশ দেয়। অবশ্য কিছু কিছু অধিকার সংবিধানের ১৪১(ক), ১৪১(খ) ও ১৪১(গ) অনুচ্ছেদের আওতায় দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবনে হুমকির কারণে জরুরি অবস্থায় স্থগিত ঘোষিত হতে পারে।


বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় পরিচ্ছেদের ২৮ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারগুলো লিপিবদ্ধ করা আছে। আর এইসকল মৌলিক অধিকার সমুহ বলবৎ করার জন্যে ৪৪ নং অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের চতুর্থ পরিচ্ছেদের ১০২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পাঁচটি ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। তার মানে, সংবিধানের তৃতীয় ভাগে কতিপয় মৌলিক অধিকারের সংরক্ষণ বা স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, যা নাগরিক হিসেবে আমি আপনি সবাই সমানভাবে ভোগ করার অধিকার রাখি। কি আছে সেসব মৌলিক অধিকারের তালিকায়?


চলুন জেনে নিই সংবিধানে মৌলিক অধিকারগুলো কি কিঃ


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং সবাই সমান আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী। অর্থাৎ এর মাধ্যমে সকল নাগরিকের মধ্যে আইনের সাম্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যখনই কেউ আইনের সাম্য নষ্ট করেন তার বিরুদ্ধে এটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যায়।


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮, সকল ধর্ম, বর্ণ, নারী পুরুষ ও জন্মস্থান ভেদে রাষ্ট্র যেন বৈষম্য না করতে পারে তার বিধান দেয়া হয়েছে।


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৯, সরকারী পদে নিয়োগ লাভে সকল নাগরিকের সাম্যের নিশ্চয়তা দিয়েছে।


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১, সকল নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার নিশ্চিত করেছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনী প্রক্রিয়া ব্যতীত কোন নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটানো যাবে না। অর্থাৎ পুলিশ চাইলেই যে কাউকে বিনা কারণে আটক বা গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করতে পারবে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনী প্রক্রিয়া শুরু না করে কাউকে গ্রেফতারও করতে পারবে না।


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২, যথাযথ আইনই প্রক্রিয়া ছাড়া কোন নাগরিকের ব্যক্তি ও জীবনের স্বাধীনতা হরণ করা যাবে না।


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৩, এখানে ব্যক্তির গ্রেপ্তার ও আটক বিষয়ে রক্ষাকবচ দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তিকে পুলিশ তাকে গ্রেফতারের কারণ যথাশীঘ্র উল্লেখ না করে আটক রাখতে পারবে না এবং তাকে তার মনোনীত আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করার সুযোগ দিতে হবে। তাছাড়া, আটকের পরবর্তী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে আটককৃত ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থাপন করবে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য। তবে যদি তাকে কোন নিবর্তন মূলক আইনে আটক করা হয় বা সেই ব্যক্তি বর্তমানে দেশের শত্রু হয় তবে তার ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না। এটি সংবিধানের মূল ধারার সাথে সাংঘর্ষিক হলেও নিবর্তন মূলক আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। কেনইবা এই স্ববিরোধীতা?


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৪, এর মাধ্যমে বাধ্যতামুলক শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ কেউ জোর করে কাউকে দিয়ে শ্রম আদায় করতে পারবে না। এই অনুচ্ছেদে দুটি ব্যতিক্রম আছে- যেমন শ্রম যদি কারাভোগের অংশ হয় তাহলে বাধ্যতামূলক শ্রম আদায় করা যাবে আর দ্বিতীয়টি হল যদি জনগণের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তা আবশ্যক মনে হয়। যদিও কোন কোন ক্ষেত্রে রাষ্ট্র মনে করবে বাধ্যতামুলক শ্রম জনগণের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে প্রয়োজন তা কোথাও উল্লেখ নেই। এখানে আইনের অস্পষ্টতা রয়েছে।


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫, এর মাধ্যমে ফৌজদারি অপরাধের বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে যদি কোন কাজ অপরাধের পর্যায়ে না পড়ে তাহলে পরবর্তীতে নতুন আইন করে সেই কাজকে অপরাধ হিসেবে সজ্ঞায়িত করে তাকে শাস্তি দেয়া যাবে না। একে আমরা ইংরেজিতে বলি “রেট্রোস্পেক্টিভ ইফেক্ট”, এই নিয়ম পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই আছে। একই অনুচ্ছেদের ২ নং উপ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য একাধিকবার অভিযোগের মাধ্যমে বিচার ও দণ্ড দেয়া যাবে না। অর্থাৎ কোন অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির একবারই বিচার হবে। এই অনুচ্ছেদের ৪ নং উপ-অনুচ্ছেদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ- এতে বলা হয়েছে, কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারা অনুযায়ী পুলিশ “রিমান্ড” নামক ভয়ানক পদ্ধতির মাধ্যমে যেসব স্বীকারোক্তি আদায় করেন এবং সেসব স্বীকারোক্তি অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করেন তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু? আইনের এই সাংঘর্ষিক অবস্থান বজায় রেখেই চলছে আমাদের ফৌজদারি শাসন ব্যবস্থা।


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬, এতে নাগরিকের আইনসংগত ভাবে বসবাস ও চলাফেরার নিশ্চয়তা বিধান করা হয়েছে।


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭, এতে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সভা সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৮, এর মাধ্যমে আইনসঙ্গত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে সংগঠন করার অধিকার দেয়া হয়েছে।


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯, এর মাধ্যমে বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪০, এর মাধ্যমে পেশা বা বৃত্তি নির্বাচনের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে।


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪১, এর মাধ্যমে সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিধান করা হয়েছে।


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪২, এর মাধ্যমে সম্পত্তির উপর নাগরিকের অধিকার এবং সেই সম্পত্তি রাষ্ট্র যেন বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্তকরণ ও দখল করতে না পারে তার বিধান দেয়া হয়েছে।


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৩, এর মাধ্যমে আইনগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে নাগরিকের গৃহে প্রবেশ, তল্লাশি ও আটক থেকে নিরাপত্তাসহ চিঠিপত্র ও অন্যান্য ব্যক্তিগত যোগাযোগের গোপনীয়তার অধিকার দেয়া হয়েছে।


সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৪, প্রত্যেক নাগরিককে সংবিধানের ৩য় অংশে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের যে কোনটি লংঘন হলে তা বলবৎ করার জন্য ১০২ অনুচ্ছেদের (১) ধারা মোতাবেক মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে মামলা রুজু করার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করে।


রিট শব্দটির অর্থ-


রিট শব্দটির অর্থ হলো আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত বিধান বা আদেশ। রিটের উৎপত্তি ও বিকাশ ইংল্যান্ডে। প্রথমে রিট ছিল রাজকীয় বিশেষাধিকার। রাজা বা রানী বিচারের নির্ধারক হিসেবে রিট জারী করতে পারতেন।


পরবর্তীতে রাজা বা রানীর এই বিশেষ অধিকার সাধারণ নাগরিকদের অনুকুলে চলে আসে। নাগরিকগণ সরকারি কোনো সংস্থার কর্মকর্তাদের আচরণ ও কাজে সংক্ষুব্ধ হয়ে রাজার কাছে আসত এবং রাজা তার বিশেষাধিকার বলে তার অফিসারদের উপর রিট জারী করতেন।


পরবর্তীতে রাজা বা রানীর প্রতিনিধি হিসেবে ইংল্যান্ডের দু ধরণের আদালত নাগরিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে রিট জারী করত। তা হলো চ্যান্সারী আদালত এবং কিংস বেঞ্চ।


রিট মামলা কী?


রিট মামলা এমন এক ধরনের মামলা, যার মধ্য দিয়ে আপনি মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে গিয়ে সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলো লঙ্ঘন হলে তা বলবৎ করতে পারেন এবং সরকারের নির্বাহী বিভাগের কোনো কার্যক্রমের আইনগত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন, কিংবা সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষকে কোনো দায়িত্ব পালনে বাধ্য করতে পারেন। সুতরাং রিট মামলাগুলোকে দুই রকমের হতে পারে। প্রথমত, সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলো বলবৎ করতে, দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের কোনো কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করতে।


সংবিধানে রিট মামলা করার অধিকারের নিশ্চয়তা দান-


এবার আসি রিট মামলা করার অধিকারের নিশ্চয়তা দান এবং এখতিয়ার নিয়ে আলোচনায়। আগেই বলেছি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ মহামান্য হাইকোর্ট-কে কতিপয় ক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দিয়েছে। আলোচনার সুবিধার্থে অনুচ্ছেদটি হুবহু তুলে দেয়া হল-


“অনুচ্ছেদ ১০২(১) কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে এই সংবিধানের তৃতীয় ভাগের দ্বারা অর্পিত অধিকারসমূহের যে কোন একটি বলবৎ করিবার জন্য প্রজাতন্ত্রের বিষয়াবলীর সহিত সম্পর্কিত কোন দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিসহ যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্ট বিভাগ উপযুক্ত নির্দেশাবলী বা আদেশাবলী দান করিতে পারিবেন।


(২) হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আইনের দ্বারা অন্য কোন সমফলপ্রদ বিধান করা হয় নাই, তাহা হইলে


(ক) কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে-


(অ) প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সহিত সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তিকে আইনের দ্বারা অনুমোদিত নয়, এমন কোন কার্য করা হইতে বিরত রাখিবার জন্য কিংবা আইনের দ্বারা তাঁহার করণীয় কার্য করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিয়া, অথবা


(আ) প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সহিত সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তির কৃত কোন কার্য বা গৃহীত কোন কার্যধারা আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে করা হইয়াছে বা গৃহীত হইয়াছে ও তাঁহার কোন আইনগত কার্যকরতা নাই বলিয়া ঘোষণা করিয়া উক্ত বিভাগ আদেশ দান করিতে পারিবেন; অথবা


(খ) যে কোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে-


(অ) আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে বা বেআইনী উপায়ে কোন ব্যক্তিকে প্রহরায় আটক রাখা হয় নাই বলিয়া যাহাতে উক্ত বিভাগের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইতে পারে, সেইজন্য প্রহরায় আটক উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত বিভাগের সম্মুখে আনয়নের নির্দেশ প্রদান করিয়া, অথবা


(আ) কোন সরকারি পদে আসীন বা আসীন বলিয়া বিবেচিত কোন ব্যক্তিকে তিনি কোন্ কর্তৃত্ববলে অনুরূপ পদমর্যাদায় অধিষ্ঠানের দাবী করিতেছেন, তাহা প্রদর্শনের নির্দেশ প্রদান করিয়া উক্ত বিভাগ আদেশ দান করিতে পারিবেন।”


উপরের অনুচ্ছেদটির ব্যাখ্যা করলে দেখা যায়- যেখানে অন্য কোন আইনের মাধ্যমে প্রতিকারের ব্যবস্থা আছে তখন সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি তার আইনী প্রতিকার লাভের জন্য সর্বনিম্ন এখতিয়ারাধীন আদালতে অভিযোগ বা মামলা দায়ের করবেন এটাই সাধারণ নিয়ম এবং আইন। আর যদি অন্য কোন আইনের মাধ্যমে প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট আইনের মাধ্যমে সুষ্ঠ প্রতিকার পাওয়া সম্ভবপর নয় বা আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে বা আইনের দ্বারা অনুমোদিত নয় এমন কোন কার্য করা হয় তাহলে সংবিধানের ১০২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নিম্নআদালত সমুহের সিদ্ধান্তে বা আদেশে সন্তুষ্ট না হন তাহলে তার আইনী প্রতিকার লাভের জন্য তিনি মহামান্য হাইকোর্টে রিট দায়ের করে প্রতিকার পাবেন। অতএব দেখা যায়, মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ এমন কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেন। সাধারণত মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ অভিযোগ দায়ের করার জন্য প্রাথমিক আদালত নয়। তবে কিছু কিছু বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ প্রাথমিক বা বিশেষ অধিক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। তেমনই একটি অধিক্ষেত্র হল এই রিট। এছাড়া, আরও একটি বিষয় পরিস্কার করে বোঝা দরকার তা হল-বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ নং অনুচ্ছেদে রিট সম্পর্কে আলোচনা থাকলেও রিট যে পাঁচ প্রকার তার উল্লেখ নেই। তবে উক্ত অনুচ্ছেদের আলোকে প্রতিটি রিটের যে উপাদান সংবিধানে বর্ণীত আছে তার বিশ্লেষণ থেকে পাঁচ প্রকার রিটের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় যা নিম্নে আলাদাভাবে আলোচনা করা হল।


অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ) অনুসারে, কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে হাইকোর্ট, প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট যেকোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তিকে আইনের দ্বারা অনুমোদিত নয়, এমন কোন কার্য করা হতে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে আইন বহির্ভূত কাজ করা থেকে বিরত রাখার জন্য আদেশ দেয়া হয়।


পক্ষান্তরে, এই অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় অংশ আইনের দ্বারা তাঁর করণীয় কার্য করবার জন্য নির্দেশ প্রদান করতে পারে। দুটি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী নির্দেশনার সহাবস্থান রয়েছে এই অনুচ্ছেদে যা দুটি স্পষ্ট ক্ষেত্র নির্দেশ করে যাতে হাইকোর্ট তার ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে।


এর পরে আছে, অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(আ), যাতে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তির কৃত কোন কার্য বা গৃহীত কোন কার্যধারা আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে করা হয়েছে বা গৃহীত হয়েছে ও তাঁর কোন আইনগত কার্যকরতা নাই বলে ঘোষণা করে হাইকোর্ট আদেশ দিতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে, প্রজাতন্ত্রের কোন কর্মচারীর আইন বহির্ভূত কাজের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।


অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ) অনুসারে, যে কোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে হাইকোর্ট বিভাগ যদি মনে করে কোন ব্যক্তিকে আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে বা বেআইনী উপায়ে প্রহরায় আটক রাখা হয়েছে, সেক্ষেত্রে প্রহরায় আটক উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত বিভাগের সম্মুখে আনয়নের নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন। এটি সাধারণত বেআইনি আটকাদেশের বিরুদ্ধে নাগরিকের রক্ষাকবচ।


অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(আ)-তে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে- হাইকোর্ট বিভাগ, কোন সরকারি পদে আসীন বা আসীন বলে বিবেচিত কোন ব্যক্তিকে তিনি কোন্ কর্তৃত্ববলে অনুরূপ পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত আছেন বলে দাবী করছেন, তা প্রদর্শনের নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।


উপরের আলোচনা থেকে কয়েকটি বিষয় বেশ পরিস্কার, অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ)-(আ) এর অধীনে আবেদন করতে হলে কোন ব্যক্তির নিজের সংক্ষুব্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ)-(আ) এর অধীনে যে কেউ সংক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্টের নিকট আবেদন করতে পারবেন।


রিটের প্রকারভেদ-


১। পরমাদেশ বা হুকুমজারি রিট: কোনো অধ:স্তন আদালত, ট্রাইব্যুনাল, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি তার আইনগত দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকার করে কিংবা ব্যর্থ হয় তাহলে মহামান্য হাইকোর্ট যে আদেশের মাধ্যমে উক্ত আইনগত দায়িত্ব পালন করতে উক্ত আদালত বা ট্রাইব্যুনালকে বাধ্য করে তাকে হুকুমজারী রিট বা পরমাদেশ বলে।


২। নিষেধাজ্ঞামূলক রিট: কোনো অধস্তন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কোনো কর্তৃপক্ষ, সংস্থা বা ব্যক্তি তার এখতিয়ার বর্হিভূত কাজ করতে উদ্দ্যত হয়েছে কিংবা ন্যায় নীতি ভঙ্গ করতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় মহামান্য হাইকোর্ট যে আদেশের মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে ঐ কাজ করা থেকে বিরত রাখেন তাকে নিষেধাজ্ঞামূলক রিট বলে।নিষেধাজ্ঞামূলক রিটকে বিচার বিভাগীয় রিটও বলা হয়।


৩। উৎপ্রেষণ রিট: দুটি উদ্দেশ্যে মহামান্য হাইকোর্ট উৎপ্রেষণ রিট জারী করতে পারে-

(ক) অধ:স্তন কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা ব্যক্তি বা সংস্থা কর্তৃক কৃত ক্ষমতা বহির্ভূত কাজকে বাতিল বা নাকচ করে দেয়া।

(খ) অধ:স্তন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের কোনো মামলা শুনানীর জন্য মহামান্য হাইকোর্ট নিজেই গ্রহণ করে এ রিট জারি করতে পারে।


৪। বন্দী প্রদর্শন রিট: কোনো ব্যক্তিকে সরকার বা অন্য কেউ আটক করলে কি কারণে এবং কেনো তাকে আটক করা হয়েছে তা জানার জন্য বন্দীকে আদালতে হাজির করার জন্য মহামান্য হাইকোর্ট যে নির্দেশ দেওয়া হয় তাই বন্দী প্রদর্শন রিট।


৫। কারণ দর্শাও রিট: কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো সরকারি পদ দাবি করে, যে পদের যোগ্যতা তার নাই অথবা অবৈধভাবে যদি কোনো সরকারি পদ দখল করে বসে থাকে, তাহলে মহামান্য হাইকোর্ট যে আদেশের মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তিকে তার পদ দখলের বা দাবীর কারণ দর্শাও নির্দেশ দিয়ে থাকে তাকে কারণ দর্শাও রীট বলে।


কারো মৌলিক অধিকার লংঘিত হলে বাংলাদেশ সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ তা বলবৎ করতে পারে এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনাকে কার্যকর করতে পারে।


রিট কার বিরুদ্ধে চলে আর কার বিরুদ্ধে চলে না-


কোন ব্যক্তি ও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রিট মামলা চলে না। রিট দায়েরের প্রতিপক্ষ হতে হবে সরকার, রাষ্ট্র কিংবা তার কোন অঙ্গে নিয়োজিত কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী।


আমাদের সংবিধান মূলত ব্রিটেন ও ভারত সংবিধানের আদলে রচনা করা হয়েছে। আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এটি কতটা সঠিক বা কার্যকর সেপ্রশ্ন ভিন্ন, কিন্তু এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারসমূহের যথাযথ সংরক্ষণ হচ্ছে কিনা সেটিই দেখার বিষয়। যেহেতু ব্যক্তি ও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে তাই কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান যদি মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করে তাহলে ঐ ব্যক্তি বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রিট মামলা দায়ের করা যাবে না। তখন আশ্রয় নিতে হবে বা মামলা করতে হবে দেওয়ানী আদালতে।


রিট মামলা দায়ের করার পর পরবর্তী প্রক্রিয়া-


প্রথমত জানা দরকার, রিট মামলা দায়ের করার পর প্রথম শুনানির দিন মহামান্য হাইকোর্ট থেকে কি আদেশ বা নির্দেশ দিতে পারেন এবং সেটির আলাদা কোন গুরুত্ব আছে কি না?


এটি রিট মামলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, রিট মামলা করার পেছনে অব্যশই একটা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত যুক্তিসংগত কারণ থাকে তাই প্রাথমিক শুনানির দিনই যেন অপর পক্ষের কোন কাজের বিরুদ্ধে রুল জারির পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ পাওয়া যায়। “রুল” হল “কারণ দর্শানো নোটিশ” আদালতি ভাষা। যদি এমন হয় প্রাথমিক শুনানির দিন মহামান্য হাইকোর্ট শুধু মাত্র “রুল” জারি করেন তাহলে ধরে নিতে হবে যে রিট মামলাটি মূলত বিচারাধীন আছে। এর মানে চুড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে। কারণ এই মামলা সকল নোটিশ জারি করার পর চূড়ান্ত শুনানির জন্য তৈরি হবে।


রিট মামলায় আদালতের কোন অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ/নির্দেশ যদি কেউ ভঙ্গ করে তাহলে তার শাস্তি কি হতে পারে?


এই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অবমাননার জন্য নতুন করে একটি মামলা হয় আদেশ/নির্দেশ ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে, তাতে আদালত মামলার বিষয়বস্তুর আলোকে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক আদেশ দিতে পারেন। এসব মামলার ক্ষেত্রে প্রচলিত সমাধান হচ্ছে ভুল স্বীকার করে শর্তহীন ক্ষমা চাওয়া। অভিযোগের কোন একটি বিষয়ে যদি আপনি আপত্তি করেন তবে সেই মামলা উভরপক্ষের শুনানির মাধ্যমে নিস্পত্তি হয়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই প্রথমোক্ত সমাধানই বেছে নিতে দেখা যায়।


উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, সংবিধানে সমস্ত মৌলিক অধিকার বা মানবাধিকার মানুষের প্রকৃতিতে সহজাত ও হস্তান্তর অযোগ্য, যেগুলো সকল মানুষের জন্য জাতি, বর্ণ, গোত্র, নারী-পুরুষ, রাজনৈতিক বা অন্যান্য অভিমত ইত্যাদি নির্বিশেষে সমভাবে প্রযোজ্য ও উপভোগ্য, এই মৌলিক অধিকার দৈহিক ও মানসিক সীমানা সঙ্কোচনকারী কৃত্রিম বাধা অতিক্রম করে মুক্তি ও ন্যায়বিচারের আবহে নাগরিকদের জীবন মর্যাদাপূর্ণ করে। আধুনিক বিচারব্যবস্থা হলো বিভিন্ন গোষ্ঠী ও ব্যাষ্টি স্বার্থদ্বন্দ্বের মধ্যে ন্যায়বিচারের ধারণা প্রতিষ্ঠার জন্য সভ্যতার এক মহৎ সৃষ্টি। এসব সংঘাত অভিন্ন কল্যাণের লক্ষ্যে নাগরিকদের শান্তিপুর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সহাবস্থানের জন্য সমাজে একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাকে কঠিন করে তোলে। স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সর্বোত্তম রক্ষাকবচ।


আসুন আমরা আমাদের পবিত্র সংবিধানে দেওয়া প্রদত্ত মৌলিক অধিকার সম্পর্কে এবং মৌলিক অধিকারের যে কোনটি লংঘন হলে তা বলবৎ করার জন্য রিট মামলা করার অধিকারের নিশ্চয়তা সম্পর্কে সচেতন হই। দেশের বিদ্যমান আইনকানুন মেনে চলি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তথা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে অগ্রসর ভূমিকা রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই।

লেখক: আইনজীবী, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, কুমিল্লা এবং হেড অব চেম্বার, ল' ক্যাসেল- অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান এন্ড এসোসিয়েটস্। Adv.Shoaib (আলাপ) ২০:২৪, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ (ইউটিসি)