কুরআনের বঙ্গানুবাদ/সূরাহ্‌ আল-বাক্বারাহ

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

আয়াতঃ ২৮৬, রুকূঃ ৪০, মাদানী

আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি, যিনি পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু।

০১. আলিফ-লাম-মীম।
০২. এটা ঐ গ্রন্থ যার মধ্যে কোনরূপ সন্দেহ নেই; আল্লাহ্‌ ভীরুদের (পরহেজগারদের) জন্যে এ গ্রন্থ হিদায়াত বা মুক্তিপথের দিশারী।
০৩. যারা অ-দৃষ্ট বিষয়গুলোতে বিশ্বাস স্থাপন করে, এবং সালাত প্রতিষ্ঠিত করে ও আমি তাদেরকে যে জীবনোপকরণ দান করেছি তা হতে ব্যয় করে থাকে।
০৪. এবং যারা তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে ও তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছিল, তদ্বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং পরকালের প্রতি যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।
০৫. এরাই তাদের প্রভুর পক্ষ হতে প্রাপ্ত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং এরাই সফলকাম।
০৬. নিশ্চয় যারা অবিশ্বাস করেছে, তাদের তুমি সতর্ক কর বা না কর, উভয়টা তাদের জন্য সমান, তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।
০৭. আল্লাহ্‌ তাদের অন্তরসমূহের উপর ও তাদের কর্ণসমূহের উপর মোহরাঙ্কিত করে দিয়েছেন এবং তাদের চক্ষুসমূহের উপর আবরণ পড়ে আছে এবং তাদের জন্য রয়েছে গুরুতর শাস্তি।
০৮. আর মানুষের মধ্যে এমন লোক আছে যারা বলে, "আমরা আল্লাহ্‌র উপর এবং বিচার দিবসের উপর ঈমান এনেছি", অথচ তারা মোটেই ঈমানদার নয়।
০৯. তারা আল্লাহ্‌ ও মুমিনদের সঙ্গে প্রতারণা করে, প্রকৃত অর্থে তারা নিজেদের ব্যতীত আর কারও সঙ্গে প্রতারণা করে না, অথচ তারা এ সম্বন্ধে বোধই রাখে না।
১০. তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, উপরন্তু আল্লাহ্‌ তাদের ব্যাধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাদের জন্যে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে যেহেতু তারা মিথ্যা বলতো।
১১. এবং যখন তাদেরকে বলা হয়, "তোমরা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না", তখন তারা বলে, "আমরা তো শুধু সংশোধনকারী"।
১২. সাবধান! তারাই অশান্তি সৃষ্টিকারী; কিন্তু তারা বুঝে না।
১৩. এবং যখন তাদেরকে বলা হয়, "লোকেরা যেরূপ ঈমান এনেছে তোমরাও অনুরূপ ঈমান আন"; তখন তারা বলে, "নির্বোধেরা যেরূপ ঈমান এনেছে, আমরাও কি সেরূপ ঈমান আনবো"? সাবধান! নিশ্চয়ই তারাই নির্বোধ কিন্তু তারা অবগত নয়।
১৪. এবং যখন তারা মু'মিনদের সাথে মিলিত হয় তখন তারা বলে, "আমরা ঈমান এনেছি" এবং যখন তারা নিজেদের দলপতি ও দুষ্ট নেতাদের সাথে নির্জনে মিলিত হয়, তখন বলে, "আমরা তোমাদের সঙ্গেই আছি, আমরা তো শুধু ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে থাকি"।
১৫. আল্লাহ্‌ তাদের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের অবাধ্যতার মধ্যে বিভ্রান্ত হয়ে ফিরার জন্য ঢিল দেন।
১৬. এরা তারাই, যারা সুপথের পরিবর্তে বিপথকে ক্রয় করেছে, সুতরাং তাদের বাণিজ্য লাভজনক হয়নি এবং তারা সঠিক-সরল পথে পরিচালিত হয়নি।
১৭. এদের দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির দৃষ্টান্তের ন্যায় যে অগ্নি প্রজ্বলিত করলো, অতঃপর অগ্নি যখন তার পার্শ্ববর্তী সমস্ত স্থান আলোকিত করলো, তখন আল্লাহ্ তাদের আলো ছিনিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারের মধ্যে ছেড়ে দিলেন, সুতরাং তারা কিছুই দেখতে পায় না।
১৮. তারা বধির, মূক, অন্ধ; অতএব তারা (সঠিক পথের দিকে) প্রত্যাবর্তন হবে না।
১৯. অথবা আকাশ হতে পানি বর্ষণের ন্যায় যাতে অন্ধকার, গর্জন ও বিদ্যুৎ রয়েছে, তারা বজ্রধ্বনি বশত মৃত্যু ভয়ে তাদের কর্ণসমূহে স্ব-স্ব অঙ্গুলি গুঁজে দেয় এবং আল্লাহ্‌ অবিশ্বাসীদের পরিবেষ্টনকারী।
২০. যেন বিদ্যুৎ তাদের দৃষ্টি হরণ করে ফেলবে, যখন তিনি তাদের জন্য একটু আলো (বিদ্যুৎ) প্রজ্জ্বলিত করেন তখন, তাতে তারা চলতে থাকে এবং যখন তাদের উপর অন্ধকারাচ্ছন্ন করেন তখন তারা দাঁড়িয়ে থাকে এবং যদি আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করেন নিশ্চয় তাদের শ্রবণ শক্তি ও তাদের দর্শন শক্তি হরণ করতে পারেন। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্ব বিষয়ের উপর সর্বশক্তিমান।
২১. হে মানব মণ্ডলী! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের 'ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা ধর্মভীরু (পরহেজগার) হও।
২২. যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে শয্যা ও আকাশকে ছাদ স্বরূপ করেছেন এবং যিনি আকাশ হতে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তার দ্বারা তোমাদের জন্য উপজীবিকা স্বরূপ ফলমূল উৎপাদন করেন, অতএব তোমরা জেনে শুনে আল্লাহ্‌র সাথে কাউকে শরিক করো না।
২৩. এবং আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি, তাতে তোমরা যদি সন্দিহান হও তবে তৎ সদৃশ একটি 'সূরাহ্‌' তৈরি করে নিয়ে এসো এবং আল্লাহ্‌ ব্যতীত তোমাদের সাহায্যকারীদেরকেও ডেকে নাও; যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
২৪. অনন্তর যদি তোমরা তা করতে না পার এবং তোমরা তা কখনও করতে পারবে না, তা হলে তোমরা সেই জাহান্নামকে ভয় কর যার ইন্ধন মানুষ ও প্রস্তরপুঞ্জ যা অবিশ্বাসীদের জন্যে প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।
২৫. আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকার্যাবলী সম্পাদন করে থাকে, তাদেরকে সুসংবাদ প্রদান কর যে, তাদের জন্যে এমন জান্নাত রয়েছে যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে; যখন তা হতে তাদেরকে উপজীবিকার জন্য ফলমূল প্রদান করা হবে তখন তারা বলবে- আমাদের এটা তো পূর্বেই প্রদত্ত হয়েছিল এবং তাদেরকে এর দ্বারা ওর সদৃশ প্রদান করা হবে এবং তাদের জন্যে তন্মধ্যে পবিত্র সহধর্মিনীগণ থাকবে এবং সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে।
২৬. নিশ্চয় আল্লাহ্‌ মশা অথবা তদপেক্ষা ক্ষুদ্রতর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করতে লজ্জাবোধ করেন না, সুতরাং যারা ঈমান এনেছে তারা তো বিশ্বাস করবে যে, এ উপমা তাদের প্রভুর পক্ষ হতে খুবই স্থানাপযোগী হয়েছে। আর যারা কাফির হয়েছে, সর্বাবস্থায় তারা এটাই বলবে এসব নগণ্য বস্তুর উপমা দ্বারা আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যই বা কী? তিনি এর দ্বারা অনেককে বিপথগামী করে থাকেন এবং এর দ্বারা অনেককে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, আর এর দ্বারা তিনি শুধু ফাসিকদেরকেই (অনাচারী) বিপথগামী করে থাকেন।
২৭. যারা আল্লাহ্‌র সঙ্গে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং ঐসব সম্বন্ধ ছিন্ন করে যা অবিচ্ছিন্ন রাখতে আল্লাহ্‌ নির্দেশ দিয়েছেন এবং যারা ভূপৃষ্ঠে বিবাদ সৃষ্টি করে, তারাই পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত।
২৮. কিরূপে তোমরা আল্লাহ্‌কে অবিশ্বাস করছো? অথচ তোমরা নির্জীব ছিলে, পরে তিনিই তোমাদেরকে সঞ্জীবিত করেছেন, পুনরায় তিনি তোমাদেরকে নির্জীব করবেন, পরে আবার জীবন্ত করবেন, অবশেষে তোমাদেরকে তাঁরই দিকে প্রতিগমন করতে হবে।
২৯. তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে যা কিছু আছে- সমস্তই সৃষ্টি করেছেন; অতঃপর তিনি আকাশের প্রতি মনঃসংযোগ করেন, অতঃপর সপ্ত আকাশ সুবিন্যস্ত করেন এবং তিনি সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী।
৩০. এবং যখন তোমার রব ফেরেশতাগণকে বললেন, "নিশ্চয় আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করবো"; তারা বললো, "আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে, তারা সেখানে বিবাদ সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত করবে? আর আমরাই তো আপনার প্রশংসা গুণগান করছি এবং আপনারই পবিত্রতা বর্ণনা করে থাকি"। তিনি বললেন, "নিশ্চয় আমি যা পরিজ্ঞাত আছি তা তোমরা অবগত নও"।
৩১. এবং তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিলেন, অনন্তর তৎসমুদয় ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপিত করলেন; অতঃপর বললেন, "যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে আমাকে এসব বস্তুর নামসমূহ জানাও"।
৩২. তারা বলেছিল, "আপনি পরম পবিত্র; আপনি আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তদ্ব্যতীত আমাদের কোনই জ্ঞান নেই; নিশ্চয়ই আপনি মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়"।
৩৩. তিনি বলেছিলেন, "হে আদম! তুমি তাদেরকে ঐ সকলের নামসমূহ জানিয়ে দাও"। অতঃপর যখন সে তাদেরকে ঐগুলোর নামসমূহ জানিয়ে দিল, তখন তিনি বলেছিলেন, "আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, নিশ্চয় আমি ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডলের অদৃশ্য বিষয় অবগত আছি এবং তোমরা যা প্রকাশ কর ও যা গোপন কর আমি তাও পরিজ্ঞাত আছি"।
৩৪. এবং যখন আমি ফেরেশতাগণকে বলেছিলাম, "তোমরা আদমকে সিজদা কর"। তখন ইবলিস ব্যতীত সকলে সিজদা করেছিল; সে অমান্য করলো ও অহংকার করলো এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
৩৫. এবং আমি বললাম, "হে আদম! তুমি ও তোমার সহধর্মিণী জান্নাতে অবস্থান কর এবং তা হতে যা ইচ্ছা স্বচ্ছন্দে ভক্ষণ কর, কিন্তু ঐ বৃক্ষের নিকটবর্তী হয়ো না- অন্যথা তোমরা সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে"।
৩৬. অনন্তর শয়তান তাদের উভয়কে সেখান থেকে পদস্খলিত করলো এবং তারা যেখানে ছিল তথা হতে তাদেরকে বহির্গত করলো। আমি বললাম, "তোমরা নিচে নেমে যাও, তোমরা পরস্পর পরস্পরের শত্রু। এবং পৃথিবীতেই তোমাদের জন্য এক নির্দিষ্টকালের অবস্থিতি ও ভোগ-সম্পদ রয়েছে"।
৩৭. তারপর আদম স্বীয় প্রতিপালক হতে কতিপয় বাক্য শিক্ষা করলেন, আল্লাহ্‌ তখন তাঁর তাওবা কবুল করে তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।
৩৮. আমি বললাম, "তোমরা সবাই এখান (জান্নাত) হতে নিচে নেমে যাও; অনন্তর আমার পক্ষ হতে তোমাদের নিকট যে হেদায়েত উপস্থিত হবে পরে যে আমার সেই হেদায়েতের অনুসরণ করবে বস্তুত তাদের কোনই ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না"।
৩৯. আর যারা অবিশ্বাস করবে ও আমার নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা সদা অবস্থান করবে।
৪০. হে ইসরাঈল বংশধর! আমি তোমাদেরকে যে নিয়ামত দান করেছি তা স্মরণ কর এবং আমার অঙ্গীকার পূর্ণ কর, আমিও তোমাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করবো এবং তোমরা শুধু আমাকেই ভয় কর।
৪১. এবং আমি যা অবতীর্ণ করেছি তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, তোমাদের সাথে যা আছে তা তারই সত্যতা প্রমাণকারী এবং এতে তোমরাই প্রথম অবিশ্বাসী হয়ো না এবং আমার আয়াতসমূহের পরিবর্তে সামান্য মূল্য গ্রহণ করো না এবং তোমরা বরং আমাকেই ভয় কর।
৪২. আর তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং সে সত্য গোপন করো না যেহেতু তোমরা তা অবগত আছ।
৪৩. আর তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠিত কর ও যাকাত প্রদান কর এবং রুকূ'কারীদের সাথে রুকূ' কর।
৪৪. তবে কি তোমরা লোকদেরকে সৎকার্যে আদেশ করছো এবং তোমাদের নিজেদের ভুলে যাচ্ছ- অথচ তোমরা গ্রন্থ পাঠ কর; তবে কি তোমরা হৃদয়ঙ্গম করছো না?
৪৫. এবং তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর এবং অবশ্যই তা কঠিন; কিন্তু বিনীতগণের পক্ষে নয়।
৪৬. যারা ধারণা করে যে, নিশ্চয় তারা তাদের প্রতিপালকের সাথে সম্মিলিত হবে এবং তারা তাঁরই দিকে প্রতিগমন করবে।
৪৭. হে বানী ঈসরাঈল! আমি তোমাদেরকে যে নিয়ামত দান করেছি তা স্মরণ কর এবং নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে সমগ্র পৃথিবীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।
৪৮. এবং তোমরা সে দিবসকে ভয় কর, যেদিন কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তি হতে কিছুমাত্র উপকৃত হবে না এবং কোন ব্যক্তি হতে কোন সুপারিশও গৃহীত হবে না, কোন ব্যক্তি হতে কোন বিনিময়ও গ্রহণ করা হবে না এবং তাদেরকে সাহায্য করাও হবে না।
৪৯. এবং যখন আমি তোমাদেরকে ফির'আউনের সম্প্রদায় হতে বিমুক্ত করেছিলাম- তারা তোমাদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদান করতো, তোমাদের পুত্রগণকে হত্যা করতো ও তোমাদের কন্যাগণকে জীবিত রাখতো এবং এতে তোমাদের প্রতিপালক হতে তোমাদের জন্যে মহাপরীক্ষা ছিল।
৫০. এবং যখন আমি তোমাদের জন্য সমুদ্রকে বিভক্ত করেছিলাম, তৎপর তোমাদেরকে উদ্ধার করেছিলাম ও ফির'আউনের স্বজনবৃন্দকে নিমজ্জিত করেছিলাম এমতাবস্থায় তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে।
৫১. এবং যখন আমি মূসার সঙ্গে চল্লিশ রজনীর অঙ্গীকার করেছিলাম, অনন্তর তার পরে তোমরা গো-বৎসকে (মা'বূদ হিসেবে) গ্রহণ করেছিলে এবং তোমরা অত্যাচারী ছিলে।
৫২. তা সত্ত্বেও আমি তোমাদেরকে মার্জনা করেছিলাম- যেন তোমরা কৃত্জ্ঞতা প্রকাশ কর।
৫৩. আর আমি যখন মূসাকে গ্রন্থ ও ফুরকান (প্রভেদকারী) দিয়েছিলাম, যেন তোমরা সুপথ প্রাপ্ত হও।
৫৪. আর যখন মূসা স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেন, "হে আমার সম্প্রদায়! নিশ্চয় তোমরা গো-বৎসকে (ইবাদতের জন্যে) গ্রহণ করে তোমাদের নিজেদের প্রতি অত্যাচার করেছো। অতএব তোমরা তোমাদের সৃষ্টিকর্তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, আর তোমরা পরস্পরকে হত্যা কর, তোমাদের সৃষ্টিকর্তার নিকট এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর"। অনন্তর তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমা দান করেছিলেন, নিশ্চয় তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।
৫৫. এবং যখন তোমরা বলেছিলে, "হে মূসা! আমরা আল্লাহ্‌কে প্রকাশ্যভাবে দর্শন না করা পর্যন্ত তোমাকে বিশ্বাস করবো না"। তখন বিদ্যুৎ (বজ্র) তোমাদেরকে আক্রমণ করেছিল ও তোমরা তা প্রত্যক্ষ করেছিলে।
৫৬. অতঃপর তোমাদের মৃত্যুর পর আমি তোমাদেরকে সঞ্জীবিত করেছিলাম, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
৫৭. এবং আমি তোমাদের উপর মেঘমালার ছায়া দান করেছিলাম এবং তোমাদের প্রতি 'মান্না' ও 'সালওয়া' অবতীর্ণ করেছিলাম। "আমি তোমাদের যে উপজীবিকা দান করেছি সে পবিত্র জিনিস হতে ভক্ষণ কর"। এবং তারা আমার কোন অনিষ্ট করেনি, বরং তারা নিজেদেরই অনিষ্ট করেছিল।
৫৮. এবং যখন আমি বললাম, "তোমরা এ নগরে প্রবেশ কর, অতঃপর তা হতে ইচ্ছামত ভক্ষণ কর এবং নতশিরে দ্বারে প্রবেশ কর ও তোমরা বল, 'আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করছি'। তাহলে আমি তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করবো এবং অচিরেই সৎকর্মশীলগণক অধিকতর দান করবো"।
৫৯. অনন্তর যারা অত্যাচার করেছিল- তাদেরকে যা বলা হয়েছিল, তৎপরিবর্তে তারা সে কথার পরিবর্তন করলো, পরে অত্যাচারীরা যে দুষ্কার্য করেছিল, তজ্জন্যে আমি তাদের উপর আকাশ হতে শাস্তি অবতীর্ণ করেছিলাম।
৬০. এবং যখন মূসা স্বীয় সম্প্রদায়ের জন্যে পানি প্রার্থনা করেছিলেন, তখন আমি বলেছিলাম, "তুমি স্বীয় লাঠি দ্বারা প্রস্তরে আঘাত কর"। অনন্তর তা হতে বারটি ঝর্ণা প্রবাহিত হল। প্রত্যেকেই স্ব-স্ব পানের জায়গা জেনে নিল। "তোমরা আল্লাহর উপজীবিকা হতে ভক্ষণ কর ও পান কর এবং পৃথিবীতে শান্তি ভঙ্গকারী রূপে বিচরণ করো না"।
৬১. এবং যখন তোমরা বলেছিলে, "হে মূসা! আমরা একইরূপ খাদ্যে ধৈর্যধারণ করতে পারি না, অতএব তুমি আমাদের জন্যে তোমার প্রভুর নিকট প্রার্থনা কর- যেন তিনি আমাদের জন্মভূমিতে যা উৎপন্ন হয়, তা হতে শাক-সবজি, কাঁকুড়, গম, মসুর এবং পেঁয়াজ উৎপাদন করেন"। তিনি বলেছিলেন, "যা উৎকৃষ্ট তোমরা কি তার সঙ্গে যা নিকৃষ্ট তার বিনিময় করতে চাও? কোন নগরে উপনীত হও; প্রার্থিত দ্রব্যগুলো অবশ্যই প্রাপ্ত হবে"। এবং তাদের উপর লাঞ্ছনা ও দারিদ্র নিপতিত হলো এবং তারা আল্লাহর ক্রোধে পতিত হলো এহেতু যে, নিশ্চয় তারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করতো ও অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করতো। এবং এ কারণেও যে, তারা অবাধ্যচরণ করেছিল ও সীমা অতিক্রম করেছিল।
৬২. নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, যারা ইয়াহুদী, খ্রিস্টান ও সাবেঈন সম্প্রদায়- (এদের মধ্যে) যারা আল্লাহ্‌র প্রতি ও কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং ভাল কাজ করে, তাদের জন্যে তাদের প্রভুর নিকট পুরস্কার রয়েছে, তাদের কোন প্রকার ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।
৬৩. এবং যখন আমি তোমাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং তোমাদের উপর তূর পর্বত সমুচ্চ করেছিলাম, "আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি (কিতাব) তা দৃঢ়রূপে ধারণ কর এবং এতে যা আছে তা স্মরণ কর- যাতে তোমরা নিষ্কৃতি পেতে পার"।
"৬৪." তারপরেও তোমরা তা থেকে ফিরে গেছ। কাজেই আল্লাহর অনুগ্রহ ও মেহেরবানী যদি তোমাদের উপর না থাকত, তবে অবশ্যই তোমরা ধবংস হয়ে যেতে।
৬৫. তোমরা তাদেরকে ভালরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল। আমি বলেছিলামঃ তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।
৬৬. অতঃপর আমি এ ঘটনাকে তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীদের জন্য দৃষ্টান্ত এবং আল্লাহভীরুদের জন্য উপদেশ গ্রহণের উপাদান করে দিয়েছি।
৬৭. যখন মূসা (আঃ) স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ আল্লাহ তোমাদের একটি গরু জবাই করতে বলেছেন। তারা বলল, তুমি কি আমাদের সাথে উপহাস করছ? মূসা (আঃ) বললেন, মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
৬৮. তারা বলল, তুমি তোমার পালনকর্তার কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা কর, যেন সেটির রূপ বিশ্লেষণ করা হয়। মূসা (আঃ) বললেন, তিনি বলছেন, সেটা হবে একটা গাভী, যা বৃদ্ধ নয় এবং কুমারীও নয়-বার্ধক্য ও যৌবনের মাঝামাঝি বয়সের। এখন আদিষ্ট কাজ করে ফেল।
৬৯. তারা বলল, তোমার পালনকর্তার কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা কর যে, তার রঙ কিরূপ হবে? মূসা (আঃ) বললেন, তিনি বলেছেন যে, গাঢ় পীতবর্ণের গাভী-যা দর্শকদের চমৎকৃত করবে।
৭০. তারা বলল, আপনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করুন-তিনি বলে দিন যে, সেটা কিরূপ? কেননা, গরু আমাদের কাছে সাদৃশ্যশীল মনে হয়। ইনশাআল্লাহ এবার আমরা অবশ্যই পথপ্রাপ্ত হব। মূসা (আঃ) বললেন, তিনি বলেন যে, এ গাভী ভূকর্ষণ ও জল সেচনের শ্রমে অভ্যস্ত নয়-হবে নিষ্কলঙ্ক, নিখুঁত।
৭১. তারা বলল, এবার সঠিক তথ্য এনেছ। অতঃপর তারা সেটা জবাই করল, অথচ জবাই করবে বলে মনে হচ্ছিল না।
৭২. যখন তোমরা একজনকে হত্যা করে পরে সে সম্পর্কে একে অপরকে অভিযুক্ত করেছিলে। যা তোমরা গোপন করছিলে, তা প্রকাশ করে দেয়া ছিল আল্লাহর অভিপ্রায়।
৭৩. অতঃপর আমি বললামঃ গরুর একটি খন্ড দ্বারা মৃতকে আঘাত কর। এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শণ সমূহ প্রদর্শন করেন-যাতে তোমরা চিন্তা কর।
৭৪. অতঃপর এ ঘটনার পরে তোমাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেছে। তা পাথরের মত অথবা তদপেক্ষাও কঠিন। পাথরের মধ্যে এমন ও আছে; যা থেকে ঝরণা প্রবাহিত হয়, এমনও আছে, যা বিদীর্ণ হয়, অতঃপর তা থেকে পানি নির্গত হয় এবং এমনও আছে, যা আল্লাহর ভয়ে খসেপড়তে থাকে! আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।
৭৫. হে মুসলমানগণ, তোমরা কি আশা কর যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? তাদের মধ্যে একদল ছিল, যারা আল্লাহর বাণী শ্রবণ করত; অতঃপর বুঝে-শুনে তা পরিবর্তন করে দিত এবং তারা তা অবগত ছিল।
৭৬. যখন তারা মুসলমানদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলেঃ আমরা মুসলমান হয়েছি। আর যখন পরস্পরের সাথে নিভৃতে অবস্থান করে, তখন বলে, পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যা প্রকাশ করেছেন, তা কি তাদের কাছে বলে দিচ্ছ? তাহলে যে তারা এ নিয়ে পালনকর্তা সামনে তোমাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। তোমরা কি তা উপলব্ধি কর না?
৭৭. তারা কি এতটুকুও জানে না যে, আল্লাহ সেসব বিষয়ও পরিজ্ঞাত যা তারা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে?
৭৮. তোমাদের কিছু লোক নিরক্ষর। তারা মিথ্যা আকাঙ্খা ছাড়া আল্লাহর গ্রন্থের কিছুই জানে না। তাদের কাছে কল্পনা ছাড়া কিছুই নেই।
৭৯. অতএব তাদের জন্যে আফসোস! যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ-যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের হাতের লেখার জন্য এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের উপার্জনের জন্যে।
৮০. তারা বলেঃ আগুন আমাদিগকে কখনও স্পর্শ করবে না; কিন্তু গণাগনতি কয়েকদিন। বলে দিনঃ তোমরা কি আল্লাহর কাছ থেকে কোন অঙ্গীকার পেয়েছ যে, আল্লাহ কখনও তার খেলাফ করবেন না-না তোমরা যা জান না, তা আল্লাহর সাথে জুড়ে দিচ্ছ।
৮১. হাঁ, যে ব্যক্তি পাপ অর্জন করেছে এবং সে পাপ তাকে পরিবেষ্টিত করে নিয়েছে, তারাই দোযখের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে।
৮২. পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে।
৮৩. যখন আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা করবে না, পিতা-মাতা, আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও দীন-দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ কথাবার্তা বলবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী।
৮৪. যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা পরস্পর খুনাখুনি করবে না এবং নিজেদেরকে দেশ থেকে বহিস্কার করবে না, তখন তোমরা তা স্বীকার করেছিলে এবং তোমরা তার সাক্ষ্য দিচ্ছিলে।
৮৫. অতঃপর তোমরাই পরস্পর খুনাখুনি করছ এবং তোমাদেরই একদলকে তাদের দেশ থেকে বহিস্কার করছ। তাদের বিরুদ্ধে পাপ ও অন্যায়ের মাধ্যমে আক্রমণ করছ। আর যদি তারাই কারও বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে আসে, তবে বিনিময় নিয়ে তাদের মুক্ত করছ। অথচ তাদের বহিস্কার করাও তোমাদের জন্য অবৈধ। তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।
৮৬. এরাই পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করেছে। অতএব এদের শাস্তি লঘু হবে না এবং এরা সাহায্যও পাবে না।
৮৭. অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি। এবং তার পরে পর্যায়ক্রমে রসূল পাঠিয়েছি। আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে সুস্পষ্ট মোজেযা দান করেছি এবং পবিত্র রূহের মাধ্যমে তাকে শক্তিদান করেছি। অতঃপর যখনই কোন রসূল এমন নির্দেশ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে, যা তোমাদের মনে ভাল লাগেনি, তখনই তোমরা অহংকার করেছ। শেষ পর্যন্ত তোমরা একদলকে মিথ্যাবাদী বলেছ এবং একদলকে হত্যা করেছ।
৮৮. তারা বলে, আমাদের হৃদয় অর্ধাবৃত। এবং তাদের কুফরের কারণে আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। ফলে তারা অল্পই ঈমান আনে।
৮৯. যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব এসে পৌঁছাল, যা সে বিষয়ের সত্যায়ন করে, যা তাদের কাছে রয়েছে এবং তারা পূর্বে করত। অবশেষে যখন তাদের কাছে পৌঁছল যাকে তারা চিনে রেখেছিল, তখন তারা তা অস্বীকার করে বসল। অতএব, অস্বীকারকারীদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত।
৯০. যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিক্রি করেছে, তা খুবই মন্দ; যেহেতু তারা আল্লাহ যা নযিল করেছেন, তা অস্বীকার করেছে এই হঠকারিতার দরুন যে, আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ নাযিল করেন। অতএব, তারা ক্রোধের উপর ক্রোধ অর্জন করেছে। আর কাফেরদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।
৯১. যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন তা মেনে নাও, তখন তারা বলে, আমরা মানি যা আমাদের প্রতি অবর্তীণ হয়েছে। সেটি ছাড়া সবগুলোকে তারা অস্বীকার করে। অথচ এ গ্রন্থটি সত্য এবং সত্যায়ন করে ঐ গ্রন্থের যা তাদের কাছে রয়েছে। বলে দিন, তবে তোমরা ইতঃপূর্বে পয়গম্বরদের হত্যা করতে কেন যদি তোমরা বিশ্বাসী ছিলে?
৯২. সুস্পষ্ট মু’জেযাসহ মূসা তোমাদের কাছে এসেছেন। এরপর তার অনুপস্থিতিতে তোমরা গোবৎস বানিয়েছ। বাস্তবিকই তোমরা অত্যাচারী।
৯৩. আর যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের উপর তুলে ধরলাম যে, শক্ত করে ধর, আমি যা তোমাদের দিয়েছি আর শোন। তারা বলল, আমরা শুনেছি আর অমান্য করেছি। কুফরের কারণে তাদের অন্তরে গোবৎসপ্রীতি পান করানো হয়েছিল। বলে দিন, তোমরা বিশ্বাসী হলে, তোমাদের সে বিশ্বাস মন্দ বিষয়াদি শিক্ষা দেয়।
৯৪. বলে দিন, যদি আখেরাতের বাসস্থান আল্লাহর কাছে একমাত্র তোমাদের জন্যই বরাদ্দ হয়ে থাকে-অন্য লোকদের বাদ দিয়ে, তবে মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক।
৯৫. কস্মিনকালেও তারা মৃত্যু কামনা করবে না ঐসব গোনাহর কারণে, যা তাদের হাত পাঠিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ গোনাহগারদের সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন।
৯৬. আপনি তাদেরকে জীবনের প্রতি সবার চাইতে, এমনকি মুশরিকদের চাইতেও অধিক লোভী দেখবেন। তাদের প্রত্যেকে কামনা করে, যেন হাজার বছর আয়ু পায়। অথচ এরূপ আয়ু প্রাপ্তি তাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। আল্লাহ দেখেন যা কিছু তারা করে।
৯৭. আপনি বলে দিন, যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু হয়-যেহেতু তিনি আল্লাহর আদেশে এ কালাম আপনার অন্তরে নাযিল করেছেন, যা সত্যায়নকারী তাদের সম্মুখস্থ কালামের এবং মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা।
৯৮. যে ব্যক্তি আল্লাহ তাঁর ফেরেশতা ও রসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু হয়, নিশ্চিতই আল্লাহ সেসব কাফেরের শত্রু।
৯৯. আমি আপনার প্রতি উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছি। অবাধ্যরা ব্যতীত কেউ এগুলো অস্বীকার করে না।
১০০. কি আশ্চর্য, যখন তারা কোন অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়, তখন তাদের একদল তা ছুঁড়ে ফেলে, বরং অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।