উইকিশৈশব:সৌরজগৎ/ডিমোস

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

ডিমোস কত বড় ?[সম্পাদনা]

ডিমোস সৌরজগতের অন্যতম ছোট চাঁদ, যা ফোবোসের অর্ধেক বা মাত্র ১২ কিমি ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট। যদিও আশ্চর্যজনক হচ্ছে যে, ডিমোস খুঁজে পাওয়া গেছে ও চাঁদ হিসেবে একে চিহ্নিত করা হয়েছে ফোবসের আগে। এর একটি কারণ হল মঙ্গল গ্রহ থেকে ডিমোসের দূরত্ব অনেক বেশি, আর এই জন্য এটা মঙ্গলের রশ্মিতে অনেক বেশি ঢাকা পরে না। পৃথিবীর একটি মাঝারি ধরণের শহরের সমান এলাকা নিয়ে ডিমোসের ভু-উপরি ভাগের জায়গা। আকৃতিতে ছোট হওয়ার কারণে ডিমোসের আকার পরিবর্তনশীল। কেউ যদি মঙ্গল গ্রহে দাঁড়িয়ে ডিমোসের দিকে তাকায়, সে ডিমোসকে দেখবে একটা বড় উজ্জ্বল তারার মত। টেলিস্কোপ ছাড়া উপরিতলের কোন বৈশিষ্ট্য বোঝাও যাবে না।

ডিমোসের ভু উপরিভাগ কেমন?[সম্পাদনা]

ডিমোসের ভুতলে কোন বায়ুস্তর নেই আর পৃথিবীর চাঁদের মতই এর উপরিতল মহাশূন্য হতে আগত পিন্ড দ্বারা সৃষ্ট গহ্বরে পুর্ণ। কার্বনোসিয়াস কন্ড্রাইট নামের একধরণের ঘন কালো শিলা দিয়ে ডিমোসের ভু উপরিতল গঠিত, যা প্রচুর পরিমানে কার্বনের উপাদান সমৃদ্ধ। ডিম্মসের ভ্য উপরিতল ও অধিকাংশ অভ্যন্তরে জল বরফও দেখতে পাওয়া যায়। ডিমোসের দুইটি গহবরের নাম দেওয়া হয়েছে সুইফট ও ভলতেয়ার। গালিভারস ট্রাভেলস এর রচয়িতা আইরিশ লেখক জনাথন সুইফট (১৬৬৭-১৭৪৫) এর নামানুসারে সুইফট এর নামকরণ করা হয়েছে। নামকরণ কৃত দুইটি গহ্বরের মধ্যে, সুইফট অপেক্ষাকৃত ছোট, ১০০০ মিটার ব্যাসার্ধের। অপ্রদিকে ভলতেয়ারের ব্যাসার্ধ ১৯০০ মিটার। ভলতেয়ার (১৬৯৪-১৭৭৮) ছিলেন একজন ফরাসী, জিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার সমর্থক ছিলেন। যেহেতু, ডিমোস খুবই ছোট, এর অভিকর্ষ বলও অনেক অনেক কম। এই বলের পরিমাণ পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের প্রায় ২৫০০ ভাগের ১ ভাগ। এই কম অভিকর্ষের কারণে ডিমোসের ভু উপরিতলে কোন মানুষের পক্ষে কোন ধরণের বাঁধা প্রদানকারী শৃঙ্খল বা অন্য কোন প্রতিরোধক ছাড়া হাঁটাচলা খুবই বিপদজনক, না হলে এই বলের কারণে ডিমোসের সম্পূর্ণ বিপরীতে ধাক্কা খেতে হবে। যদি মানুষের জন্য কোন অবকাঠামো ডিমোসে বানানো হয়, তাহলে তা হবে ভবনের ভেতরে একটা মহাশূন্য কেন্দ্রের মত। যেহেতু মঙ্গল ও ডিমোস সমান কক্ষপথ বিশিষ্ট, তাই ডিমোসের নিজ অক্ষে ঘূর্ণনের সময় এক পাশ সবসময় মঙ্গলের দিকে মুখ করে থাকে। এর মানে হল, কেউ যদি ডিমোসের মঙ্গল অভিমুখী দিকে থাকে, সে সব সময় মঙ্গলকে আকাশের একই স্থানে দেখতে পাবে। অন্য পাশ থেকে কখনোই মঙ্গলকে আকাশে দেখা যাবে না। যে অংশটা মঙ্গলের দিকে মুখ করে থাকে, সে অংশের আকাশের প্রায় ১১ ভাগের ১ ভাগ মঙ্গল দ্বারা ঢাকা থাকে। এর মানে মঙ্গল নিজেই তাকিয়ে থাকার জন্য একটা উল্লেখযোগ্য বস্তু হবে। বিজ্ঞানীরা ডিমোস কে নিয়ে জানতে আগ্রহী, তার একটা কারণ হল যে ধারণা করা হয় ডিমোস আসলে একটা উল্কাপিন্ড যা লক্ষ বছর আগে থেকে মঙ্গলের উপগ্রহ হয়ে আছে। বিজ্ঞানীরা আশা করেন এই ধরণের অন্যান্য উল্কাপিন্ড, যা সৌর জগতের অন্যান্য অংশে দেখতে পাওয়া যায়, সেগুলো সমন্ধে আরও ভালো করে জানতে পারবেন ডিমোস আর এর সহ উপগ্রহ ফোবোসকে নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে।


ডিমোসের দিন[সম্পাদনা]

দিমোসের একটি দিনের দৈর্ঘ্য ৩০.৫ ঘণ্টা।

মঙ্গলকে কেন্দ্র করে ডিমোসের কক্ষপথ কত বড় ?[সম্পাদনা]

ডিমোস ও মঙ্গলের কক্ষপথের দৈর্ঘ্য সম পরিমাণ, ফলে ডিমোস তার নিজ অক্ষেরর উপর মঙ্গলকে কেন্দ্র করে ঘুরে আসতে ঠিক মঙ্গলের সমান সময় নেয়। মঙ্গলের ভু সমতলে ডিমোস সূর্য, অন্যান্য গ্রহ ও আকাশের আর সব কিছুর মতই পূব দিকে উদিত হয় ও পশ্চিমে অস্ত যায়, কেবল ফোবোস ছাড়া। তবে এটা অনেক লম্বা সময় ধরে আকাশে থাকে, উদিত হবার পর আবার পশ্চিমে অস্ত যাওয়ার আগে প্রায় মঙ্গলের তিন দিন সময় পরিমাণ এটা আকাশে দেখা যায়।

ডিমোস কি মঙ্গলে গ্রহণ ঘটাতে পারে?[সম্পাদনা]

পৃথিবীর চাঁদের যেমন মাঝে মাঝে পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে এসে পড়ে, ডিমোসও তেমনি নিজ কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে কখনো কখনো মঙ্গল ও সূর্যের মাঝে এসে পরে। এ ঘটনাকে অতিক্রমণ বলা হয়, এবং এক্ষেত্রে গ্রহণ বলার চেয়ে সম্ভবত অতিক্রমণ বলাই বেশি যুক্তিযুক্ত। কেননা ডিমোস এত ছোট এবং মঙ্গল থেকে তুলনামূলকভাবে এত দূরে যে, গ্রহণ ঘটার সময় ডিমোস, সূর্যের যে অংশ ঢেকে ফেলে, তা খুবই অল্প। কেউ যদি মঙ্গলের মাটিতে দাড়িয়ে থাকে তাহলে হয়তো সে এই গ্রহণটি খেয়ালই করতে পারবে না। এটা অনেকটা একটা ফ্ল্যাশ লাইটের সামনে ছোট একটি শিলা রাখার মত দেখাবে, যেখানে শিলা খন্ডটির জন্য ফ্ল্যাশ লাইটের আলোর খুব একটা তারতম্য হবে না।

ডিমোসের নামকরণ[সম্পাদনা]

ডিমোসের নাম এসেছে আরিসের গ্রিক ছেলের নাম থেকে, আরিস মঙ্গল গ্রহের গ্রিক নাম। আরিস কে ভয় এমনকি আতংক বলেও ডাকা হয়। গ্রীক পূরাণ মতে, ডিমোসের চরিত্রকে ত্রাস বলা যেতে পারে। বেশিরভাগ সময়েই ডিমোস, ফিবোস ও আরিসের সাথে মিলে ঈশ্বরের সাথে লড়াইয়ে নামত।

কিভাবে আবিস্কার হল[সম্পাদনা]

আসাফ হল ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল মান মন্দিরের একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী। এই মানমন্দিরে তিনি সৌরজগতের অনেক গ্রহ ও বস্তু নিয়ে গবেষণা করতেন। ১৮৭৭ সালে তিনি ডিমোস ও ফোবোস দুইটি উপগ্রহই আবিস্কার করেন, প্রথমে ডিমোস ও দুই ঘণ্টা পর ফোবোস এবং তাদের মঙ্গলের উপগ্রহ হিসেবে বর্ণ্না করেন। হেনরী মাদান চিরায়ত গ্রিক মিথোলজী ইলিয়াড হতে ডিমোস নামকরণের প্রস্তাব করেন।