উইকিশৈশব:সৌরজগৎ/নেপচুন/ট্রাইটন

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
ভয়েজার ২ থেকে দেখা ট্রাইটন

ট্রাইটন নেপচুন গ্রহের বৃহত্তম উপগ্রহ, এবং সৌরজগতের সপ্তম বৃহত্তম। ১৯৮৯ সালে ভয়েজার-২ মহাকাশযানটি নেপচুনের কাছাকাছি দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাইটনের সবচেয়ে স্পষ্ট দৃশ্যটি ধারণ করেছিল।

এটি কত বড়?[সম্পাদনা]

ট্রাইটনের গড় আয়তন ২৭০০ কিলোমিটার, যা প্লুটোর চেয়ে বড় এবং ইউরোপার সমান। উপগ্রহটি প্রস্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক।

এটির পৃষ্ঠতল কেমন?[সম্পাদনা]

ট্রাইটন কেমন, যা ট্রাইটনকে এত অনন্য করে তোলে? এই বিষয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও গবেষণা করছেন

এর পৃষ্ঠতলটি বরফযুক্ত এবং পৃষ্ঠের তাপমাত্রা তীব্র ঠান্ডা। গ্রহের দক্ষিণের অর্ধেক অংশ বরফের আবরণ দ্বারা আচ্ছাদিত। উপগ্রহটির বায়ুমণ্ডল খুব পাতলা।

ট্রাইটন সৌরজগতের কয়েকটি জায়গার মধ্যে একটি, যেখানে আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এগুলি সূর্যের থেকে দূরে অবস্থানের কারণে ঘটে থাকে। আগ্নেয়গিরিগুলি এর পৃষ্ঠের নিচে থেকে পদার্থের বিষ্ফোরন ঘটায়, যার বেশিরভাগই থাকে ঠান্ডা ধুলো এবং গ্যাস। এই লাভাগুলো আস্তে আস্তে ভূপৃষ্ঠের সংস্কারে সাহায্য করে এবং কিছু কিছু গর্তও মুছে ফেলে।

এর একদিন কত লম্বা?[সম্পাদনা]

ট্রাইটনে এক দিন পৃথিবীর হিসাবে ৫.৮৭৭ দিন, অর্থাৎ প্রায় ৫ দিন এবং ২১ ঘন্টা।

এর কক্ষপথ কেমন?[সম্পাদনা]

ট্রাইটন নেপচুনকে প্রদক্ষিণ করতে ৫.৮৭৭ দিন সময় নেয়, যা তার একদিনের সময়ের সমান। অর্থাৎ এটি সর্বদা একটি পার্শ্বই নেপচুনের দিকে মুখ করে রাখে।

নেপচুনের চারপাশে তার কক্ষপথের দিকের ভিন্নতার কারণে এই উপগ্রহটি অস্বাভাবিক। সাধারণত একটি উপগ্রহ তার গ্রহকে সেদিকেই প্রদক্ষিণ করে, যেদিকে তার গ্রহটি ঘুরছে। তবে ট্রাইটনের কক্ষপথ এর বিপরীত, অর্থাৎ এটি চাঁদের বিপরীত দিকে প্রদক্ষিণ করে। এটি সৌরজগতের বিপরীত কক্ষপথবিশিষ্ট উপগ্রহগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ।

এই পশ্চাদগামী কক্ষপথের কারণে ট্রাইটন ধীরে ধীরে নেপচুনের কাছাকাছি চলে আসছে। আজ থেকে লক্ষ লক্ষ বছর পরে এটি নেপচুন গ্রহের খুব কাছাকাছি চলে আসবে এবং আছড়ে পরবে। যখন এটি ঘটবে, তখন ধ্বংসাবশেষ নেপচুনের চারপাশে শনির বলয়ের মত একটি বড় বলয় তৈরি করবে।

এটি কি দিয়ে গঠিত?[সম্পাদনা]

এই উপগ্রহটির বেশিরভাগই পাথরজাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত এবং প্রায় এক চতুর্থাংশ বরফ দিয়ে গঠিত। এটি প্লুটোর তাপমাত্রার প্রায় সমান, তবে এটিতে বরফের গঠন ও বিস্তৃতি অধিক।

এর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কেমন?[সম্পাদনা]

তুমি যদি ট্রাইটনে থাকতে তবে তোমার ওজন পৃথিবীর ওজন তুলনায় ১/১২ ভাগ হত এবং ১২% কম বল দ্বারা এটি তোমাকে নিজের দিকে আকর্ষণ করত, তাই এর কারণে তুমি উপরের দিকে উঠে যেতে।

এর নামকরণ কিভাবে করা হয়?[সম্পাদনা]

গ্রিক পুরাণের চরিত্র পোসাইডনের পুত্র ছিলেন ট্রাইটন। রোমান পুরাণে পোসাইডনকে নেপচুন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এটি কিভাবে আবিষ্কৃত হয়?[সম্পাদনা]

১৮৪৬ সালে উইলিয়াম ল্যাসেল ট্রাইটন আবিষ্কার করেন, নেপচুন গ্রহটি আবিষ্কৃত হওয়ার পরপরই। তবে ১৮৮০ সালে ক্যামিল ফ্ল্যামারিয়ন উপগ্রহটির নামকরণ করেন। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত এই উপগ্রহটির নাম সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়নি।