বিষয়বস্তুতে চলুন

সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান/স্বাস্থ্য ও আরোগ্য

চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানে তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি

[সম্পাদনা]

মানব স্বাস্থ্য বোঝার ক্ষেত্রে তিনটি তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। প্রথমটি হলো রোগতত্ত্ব বা পরিবেশগত দৃষ্টিভঙ্গি। এই দৃষ্টিভঙ্গি সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মিথস্ক্রিয়া পরীক্ষা করে। এদের মিথস্ক্রিয়ার ফলেই স্বাস্থ্য ও রোগের ধরন তৈরি হয়। দ্বিতীয়টি হলো ব্যাখ্যামূলক দৃষ্টিভঙ্গি। এটি স্বাস্থ্য ও রোগ বর্ণনা করতে এবং বুঝতে সংস্কৃতির প্রতীকী অর্থের ব্যবহার নিয়ে কাজ করে। তৃতীয়টি হলো সমালোচনামূলক চিকিৎসা নৃবিজ্ঞান। এটি মানব স্বাস্থ্যের ওপর আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর জোর দেয়।

রোগতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি

[সম্পাদনা]

রোগতত্ত্ব হলো জনসংখ্যার মধ্যে স্বাস্থ্য ও রোগ প্রভাবিত করা বিষয়গুলোর অধ্যয়ন। এটি জনস্বাস্থ্য গবেষণার একটি মৌলিক দিক। রোগতত্ত্ব কীভাবে, কখন এবং কোথায় রোগ ঘটে তার ওপর ভিত্তি করে রোগের ঝুঁকির কারণগুলো চিহ্নিত করে। এই তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে রোগতাত্ত্বিকরা স্বাস্থ্যগত ঘটনার প্রাদুর্ভাব পরিমাপের তথ্য প্রদান করেন। নৃবিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট রোগের প্রাদুর্ভাবের সাথে খাবার, কাজের স্থান, যৌন কার্যকলাপ, পানি ও চিকিৎসা অনুশীলনের মতো সাংস্কৃতিক ধরনগুলোর প্রভাব বা সম্পর্ক পরীক্ষা করতে এই দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করতে পারেন। রোগতত্ত্বে রোগের মানচিত্র তৈরি করা হয়। কোনো পরিবেশের ঠিক কোথায় রোগের উৎপত্তি হয়েছে তা এতে দেখানো হয়। ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা ব্যবহার করে জনসংখ্যার কোথায় এবং কতদূর রোগ ছড়িয়েছে তা চিহ্নিত করা যেতে পারে। (http://www.spatialepidemiology.net/)

এছাড়া রোগতাত্ত্বিক গবেষণা দুই ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো অতীতমুখী ও ভবিষ্যৎমুখী। অতীতমুখী গবেষণা ঘটনাগুলো ইতোমধ্যে ঘটেছে কি না তা বর্ণনা করে। ভবিষ্যৎমুখী গবেষণা ভবিষ্যতে ঘটনাগুলো ঘটতে পারে কি না তা নিয়ে কাজ করে। অতীতমুখী গবেষণাগুলো রোগতাত্ত্বিক গবেষণায় সবচেয়ে সাধারণ। এগুলো কেস-কন্ট্রোল স্টাডি নামেও পরিচিত। জনসংখ্যার মধ্যে রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটলে এবং কারণ অজানা থাকলে এই স্টাডি করা হয়। আবার জনসংখ্যা রোগটি সম্পর্কে পরিচিত না হলেও এটি করা হয়। (http://pmep.cce.cornell.edu/profiles/extoxnet/TIB/epidemiology.html)

ব্যাখ্যামূলক দৃষ্টিভঙ্গি

[সম্পাদনা]

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতি অসুস্থতা বর্ণনা এবং মোকাবিলা করতে বিভিন্ন অর্থের ব্যবস্থা ব্যবহার করে। নৃবিজ্ঞানীরা প্রতীকী অর্থের সাহায্যে এই পার্থক্যগুলো অধ্যয়ন করতে চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানের ব্যাখ্যামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি এমিক বা অভ্যন্তরীণ দৃষ্টিকোণ থেকে অসুস্থতা বিবেচনা করে। এটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতির সাপেক্ষে স্বাস্থ্য ও রোগ বোঝার চেষ্টা করে। এমিক দৃষ্টিভঙ্গির ব্যবহার নৃবিজ্ঞানীকে বাইরের দৃষ্টিকোণের পরিবর্তে বিষয়ের অভ্যন্তরীণ দৃষ্টিকোণ থেকে অসুস্থতা বুঝতে সাহায্য করে। কোনো সংস্কৃতির এমিক দৃষ্টিকোণ লাভের মাধ্যমে চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানীরা "মূর্ত ব্যক্তিত্ব" ধারণাটি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন। স্বাস্থ্য ও অসুস্থতার সাথে যুক্ত সাংস্কৃতিক বিশ্বাস এবং রীতিনীতির সাথে সংবেদনশীল মানবদেহের সম্পর্ককে মূর্ত ব্যক্তিত্ব বলা হয়। ব্যাখ্যামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করা নৃবিজ্ঞানীদের মূল কেন্দ্রবিন্দু এটিই।

সমালোচনামূলক চিকিৎসা নৃবিজ্ঞান

[সম্পাদনা]

সমালোচনামূলক চিকিৎসা নৃবিজ্ঞান মানব স্বাস্থ্যের সামগ্রিক অবস্থার ওপর অর্থনীতি ও রাজনীতির প্রভাব নিয়ে কাজ করে। সমালোচনামূলক চিকিৎসা নৃবিজ্ঞান সামাজিক বৈষম্যের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্য ও সেবার মানের বৈষম্যগুলো তুলে ধরে। জাতি, নৃগোষ্ঠী, লিঙ্গ ও শ্রেণীর ওপর ভিত্তি করে সামাজিক বিভাজনগুলো স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি এবং রোগের সংবেদনশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। সমালোচনামূলক চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানীরা কোনো নির্দিষ্ট রোগের প্রাদুর্ভাব এবং তা প্রতিরোধের উপায় খোঁজার সময় এই সামাজিক কারণগুলো স্বীকার করেন। ১৯৯৮ সালে শহরের ভেতরের হিস্পানিক শিশুদের ওপর একটি গবেষণা করা হয়। সেখানে সমালোচনামূলক চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানী মেরিল সিঙ্গার দেখতে পান যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং ক্ষুধা ছিল ব্যাপক। এই অবস্থাগুলোর সাথে যুক্ত চলকগুলো চিহ্নিত করার মাধ্যমে সিঙ্গার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষুধার ঝুঁকির কারণগুলো নির্ধারণ করতে সক্ষম হন। নীতিনির্ধারকরা এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে খাদ্য কর্মসূচি ও জনস্বাস্থ্য নীতির উন্নতি করতে পারেন। সুস্থতা প্রচারের লক্ষ্যে ক্ষুধা, অপুষ্টি ও রোগের মতো স্বাস্থ্য সমস্যা কমানোর জন্য সমালোচনামূলক চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানীরা জৈব-চিকিৎসা অনুশীলনের সমালোচনা করতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।

নৃচিকিৎসা বলতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসার কথা বলা যায়।

১. এথনো-নসোলজি: এটি স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর শ্রেণিবিভাগের আন্তঃসাংস্কৃতিক ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে।[১]। বিস্তৃত অর্থে নসোলজি কেবল রোগ নিয়েই কাজ করে না, এটি আঘাত, ক্ষত বা ব্যাধির মতো যেকোনো ধরনের চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়েও কাজ করে। রোগের কারণ, প্যাথোজেনেসিস (রোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়া), অথবা লক্ষণ ও বায়োমার্কারের সংগ্রহের মাধ্যমে রোগের মতো চিকিৎসা পরিস্থিতি সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে। অন্য দুটি সংজ্ঞা পাওয়া না গেলে (ইডিওপ্যাথিক রোগ) মূলত তৃতীয় পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হয়। নসোলজিকাল দৃষ্টিকোণ থেকে চিকিৎসা পরিস্থিতিগুলোকে ব্যাধি, রোগ, সিনড্রোম, ক্ষত এবং আঘাতে ভাগ করা যেতে পারে। এদের প্রত্যেকটির কিছু নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে।

২.সংস্কৃতি-আবদ্ধ সিনড্রোম: এটি সংস্কৃতি-নির্দিষ্ট সিনড্রোম বা লোক অসুস্থতা নামেও পরিচিত। এটি মানসিক ও শারীরিক লক্ষণগুলোর একটি সমন্বয়। নির্দিষ্ট সমাজ বা সংস্কৃতির মধ্যেই কেবল এটিকে মনস্তাত্ত্বিক বা শারীরিক একটি শনাক্তযোগ্য রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৩. রোগ/অসুস্থতার দ্বিধাবিভক্তি: দ্বিধাবিভক্তি হলো একটি জিনিসকে দুটি অংশে বা অর্ধাংশে বিভক্ত করা। চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানে অসুস্থতার দুটি দিককে বিভক্ত করা হয়। অভাবগ্রস্তদের আরও ভালোভাবে যত্ন নিতে এবং নিরাময় করতে এমনটি করা হয়। চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোগ ও অসুস্থতা সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি জিনিস। এগুলোর প্রতিক্রিয়াও ভিন্নভাবে দেখানো হয়। রোগ হলো শারীরিকভাবে দেহের জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক ত্রুটি। অন্যদিকে অসুস্থতা মানুষের মনোবিজ্ঞানের সাথে যুক্ত। মনোসামাজিক অভিজ্ঞতাগুলোই মূলত অসুস্থতা বা রোগের অনুভূতি নিয়ে আসে।

৪. রোগ নির্ণয়/ভবিষ্যদ্বাণী: রোগ নির্ণয় হলো রোগীকে মূল্যায়নের মাধ্যমে রোগ বা আঘাতের প্রকৃতি এবং কারণ চিহ্নিত করা। ভবিষ্যদ্বাণী হলো ভবিষ্যতের ঘটনা দেখা বা কোনোভাবে অতিপ্রাকৃতিক মাধ্যমে অজানা জ্ঞান লাভ করা।

ঐতিহ্যবাহী নিরাময় ও পশ্চিমা চিকিৎসা

[সম্পাদনা]

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতি নিরাময়, আধ্যাত্মিকতা এবং অসুস্থতার সম্পর্কের বিষয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। অনেক জায়গায় ঐতিহ্যবাহী ও জৈব-চিকিৎসা নিরাময় ব্যবস্থার সহাবস্থান সাধারণ বিষয়। কেবল একটি পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন। চিকিৎসাগতভাবে বহুত্ববাদী সমাজ ও সংস্কৃতিগুলো ঐতিহ্যবাহী এবং আধুনিক উভয় পদ্ধতিতেই বিভিন্ন চিকিৎসার বিকল্প প্রদান করে।

ঐতিহ্যবাহী নিরাময়কে মূলত কাঠামোগত চিকিৎসার প্রাচীনতম রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর থেকেই পরবর্তীতে সাধারণভাবে প্রচলিত চিকিৎসার অন্যান্য রূপ এসেছে। ঐতিহ্যবাহী নিরাময় মূলত আধা-যাযাবর ও কৃষিভিত্তিক উপজাতীয় সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। এতে উদ্ভিদ, প্রাণী বা খনিজ-ভিত্তিক ওষুধ, এনার্জি থেরাপি বা শারীরিক কৌশল অন্তর্ভুক্ত অনুষ্ঠানগুলোর ব্যবহার জড়িত ছিল। ঐতিহ্যবাহী নিরাময়ের ক্ষেত্রে সাধারণ চিকিৎসা অনুশীলন এবং ব্যক্তিদের মধ্যে আকুপাংচার, ভেষজবিদ, শামন এবং বিশ্বাস নিরাময় উল্লেখযোগ্য।

ঐতিহ্যবাহী নিরাময়ের তুলনায় পশ্চিমা চিকিৎসা তার তত্ত্ব ও অনুশীলনকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা দ্বারা সমর্থিত জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করে। এই অনুশীলন সংস্কৃতির চেয়ে অভিজ্ঞতাবাদের ওপর বেশি নির্ভরশীল। তবে বিভিন্ন সমাজে এর প্রভাব এবং ব্যবহার দেখা যায়। প্রাচীন মিশর, গ্রীস এবং মধ্যযুগীয় আরব সাম্রাজ্যসহ বর্তমান ও আদিম অনেক সভ্যতা পশ্চিমা চিকিৎসার রূপগুলো ব্যবহার করত। আধুনিক পশ্চিমা চিকিৎসা খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দের দিকে হিপোক্রেটিস দ্বারা বিকশিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। পশ্চিমা চিকিৎসায় নিয়োজিত সাধারণ চিকিৎসা অনুশীলন এবং ব্যক্তিদের মধ্যে সার্জন, ফিজিওথেরাপিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট এবং ডেন্টিস্টরা অন্তর্ভুক্ত।

"অসুস্থ ভূমিকা" ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি শব্দ। পশ্চিমা সমাজে এটি প্রচলিত। সামাজিকভাবে এটি রোগী এবং তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটি চুক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এর মাধ্যমে তারা স্বীকার করে নেয় যে ব্যক্তিটি অসুস্থ। একজন ব্যক্তির ক্যান্সার হলে এবং তার পরিবার তাকে চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করলে এর উদাহরণ দেখা যায়। মূলত এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অসুস্থ ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

প্রায়শই পশ্চিমা সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যবাহী নিরাময় ধারণাগুলো বিভিন্ন কুসংস্কার ও ঐতিহ্যের আকারে টিকে থাকে। বৈজ্ঞানিক সমর্থন খুব কম থাকলেও কামোদ্দীপক বা অ্যাফ্রোডিসিয়াকের ধারণাটি এখনও পশ্চিমা সংস্কৃতিতে প্রচলিত। কামোদ্দীপক হলো এমন একটি খাবার বা পদার্থ যা যৌন শক্তি বা দক্ষতা বাড়ায় বলে বিশ্বাস করা হয়। কামোদ্দীপকের উদাহরণ সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন হয়। ইংরেজিভাষী দেশগুলোতে ঝিনুক, ফিলিপাইনে বালুট এবং পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ডুরিয়ান এর উদাহরণ।

নিরাময়কারী পদার্থ

[সম্পাদনা]

বিভিন্ন সংস্কৃতি নিরাময়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের পদার্থ ব্যবহার করে। কিছু সংস্কৃতি নিরাময়ের অবস্থা তৈরি করতে ওষুধের ওপর নির্ভর করে। অন্যদিকে অনেকেই স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য শামনদের মতো নিরাময়কারীদের হাতে নিজেদের জীবন তুলে দেয়। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ চিকিৎসা বহুত্ববাদ এবং চিকিৎসা সমন্বয়বাদ উভয়ের ওপরই নির্ভর করে। চিকিৎসা বহুত্ববাদ বলতে বায়োমেডিসিন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবার একীকরণকে বোঝায়। অন্যদিকে চিকিৎসা সমন্বয়বাদ হলো একাধিক চিকিৎসা পদ্ধতির সংমিশ্রণ। আধ্যাত্মিক অনুশীলনের সাথে জৈব-চিকিৎসা অনুশীলনের সংমিশ্রণ এর একটি উদাহরণ। অনেক ক্ষেত্রে এক সংস্কৃতিতে অর্জিত নিরাময় অবস্থা অন্য সংস্কৃতিতে অর্জন করা সম্ভব নাও হতে পারে। পদার্থটি একজন ব্যক্তিকে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এমনটি হয়। উদাহরণস্বরূপ বিনোদনের জন্য ওষুধ ব্যবহার এবং নিরাময়ের জন্য এর ব্যবহারের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। কিছু সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করা হয় যে ওষুধ ব্যবহারের সময় একজন ব্যক্তি একটি উচ্চতর অবস্থায় পৌঁছায়। সেখান থেকেই তারা নিরাময় শুরু করতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে অন্যান্য সংস্কৃতিতে এই উচ্চতর অবস্থাটি কেবল বিশুদ্ধ আনন্দের জন্য ব্যবহৃত হয়।

চাষ করা একটি ফুটন্ত পেয়োট।

নিরাময়কারী পদার্থের উদাহরণের মধ্যে রয়েছে পেয়োট। এটি মেক্সিকোতে পাওয়া একটি বিরল ক্যাকটাস। এতে মেসকালিন নামক রাসায়নিক থাকে। সঠিকভাবে গ্রহণ করা হলে এটি হ্যালুসিনোজেনিক অভিজ্ঞতা তৈরি করে। এই ক্যাকটাসটি ঐতিহাসিকভাবে অনেক আদিবাসী সংস্কৃতিতে আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি অন্তর্দৃষ্টি এবং চাক্ষুষ বা অডিও হ্যালুসিনেশনের অনুভূতি বাড়ায়। আরেকটি উদাহরণ হলো ওক্সাকার ম্যাজিক মাশরুম। এটি পেয়োটের মতোই কাজ করে। এটি গ্রহণকারী একটি সাইকেডেলিক অবস্থায় প্রবেশ করে। এরপর মাশরুম তাদের আধ্যাত্মিক ও শারীরিকভাবে নিরাময় করার সুযোগ দেয়। আয়াওয়াসকা হলো আমাজনের একটি উদ্ভিদ মিশ্রণ। এটি চেতনার পরিবর্তিত অবস্থা তৈরি করতে সক্ষম। সাধারণত এটি গ্রহণের পর ৪ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এর প্রভাব থাকে। শামন বা চিকিৎসকরা প্রকৃতির সাথে যোগাযোগ করতে এটি গ্রহণ করেন। আধ্যাত্মিক স্তরে রোগীর অসুস্থতার কারণ দেখতেও তারা আয়াওয়াসকা গ্রহণ করেন। এই পানীয়টি চায়ের আকারে নেওয়া হয়। সাধারণত একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির নির্দেশনায় একটি আনুষ্ঠানিক অধিবেশনে এটি পান করা হয়। এই জংলি চায়ের প্রধান উপাদান হলো বানিস্তেরিওপসিস ক্যাপি নামের একটি লতা। চায়ের মতো একেও আয়াওয়াসকা বলা হয় (এর অর্থ আত্মার লতা)। এই লতাটি বিভিন্ন উদ্ভিদের সাথে মেশানো হয় যেগুলোতে সাইকেডেলিক ড্রাগ ডিএমটি রয়েছে। বানিস্তেরিওপসিস ক্যাপিতে এমএওআই থাকে। এটি ডিএমটিকে মৌখিকভাবে সক্রিয় হতে সাহায্য করে। কোকা, তামাক এবং অ্যালকোহলকেও নিরাময়কারী পদার্থ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। পূর্বে উল্লিখিত ওষুধের তুলনায় এগুলো বিভিন্ন সংস্কৃতিতে বেশি প্রচলিত।

নৃউদ্ভিদবিদ্যা

[সম্পাদনা]

নৃউদ্ভিদবিদ্যা নির্দিষ্ট সংস্কৃতির দ্বারা ব্যবহৃত দেশীয় উদ্ভিদের অধ্যয়নকে বোঝায়। এই উদ্ভিদগুলোর চিকিৎসা সম্ভাবনা এবং সাংস্কৃতিক ব্যবহার সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে এদের অধ্যয়ন করা হয়। একজন নৃউদ্ভিদবিজ্ঞানীর কাজ হলো উদ্ভিদ ও সংস্কৃতির মধ্যে সম্পর্ক অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করা। যে সংস্কৃতিতে উদ্ভিদটি ব্যবহৃত হয় তাদের দেওয়া তথ্য এবং দৃষ্টিকোণ থেকে বিজ্ঞানীরা জ্ঞান সংগ্রহ করেন। নৃউদ্ভিদবিজ্ঞানীরা এমন উদ্ভিদের সন্ধান করেন যা কার্যকরভাবে রোগের চিকিৎসা করে বা লক্ষণগুলো উপশম করে। অন্যান্য জনসংখ্যার চিকিৎসার জন্য এই উদ্ভিদগুলো থেকে ওষুধ তৈরি করা যেতে পারে।

মায়ান যাজক নিরাময় করছেন

নৃউদ্ভিদবিদ্যার শেকড় ডায়োসকোরিডেস নামের একজন প্রাচীন গ্রিক সার্জনের কাছে খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে উদ্ভিদগুলোকে নির্দিষ্ট শ্রেণিবিন্যাসে সংগঠিত করেছিলেন। আনুমানিক ৭৭ খ্রিস্টাব্দে ডায়োসকোরিডেস "ডি মেটেরিয়া মেডিকা" নামের একটি প্রকাশনা তৈরি করেন। এতে তার গবেষণা করা সমস্ত উদ্ভিদ সম্পর্কে তথ্য ছিল। এই উদ্ভিদতাত্ত্বিক রেফারেন্স বইটি প্রায় ৬০০টি উদ্ভিদকে শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। এতে উদ্ভিদের বিভিন্ন তথ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এগুলো কোন ঋতুতে ফোটে, কীভাবে চিকিৎসায় ব্যবহার করতে হয়, এর বিষাক্ততার মাত্রা এবং এটি ভোজ্য কি না তা এতে উল্লেখ ছিল। ১৫৪২ সালে লিওনহার্ট ফুচস একটি অনুরূপ সাফল্য অর্জন করেন। তিনি "ডি হিস্টোরিয়া স্টির্পিয়াম" প্রকাশ করেন। এটি আরেকটি উদ্ভিদতাত্ত্বিক রেফারেন্স বই যা জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার আদিবাসী উদ্ভিদের তালিকাভুক্ত করে (বইটিতে প্রায় ৪০০টি উদ্ভিদের তথ্য ছিল)। নৃউদ্ভিদবিদ্যার বিকাশে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন জন রে। তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে প্রজাতির ধারণাটি বুঝতে এবং ব্যাখ্যা করতে পেরেছিলেন। তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনাও তৈরি করেছিলেন। এগুলোর মধ্যে ক্যাটালগ অব কেমব্রিজ প্ল্যান্টস, সিনোপসিস মেথোডিকা এভিয়াম এট পিসিয়াম এবং মেথোডাস প্লান্টারাম উল্লেখযোগ্য (কাজগুলো ১৬৬০-১৭১৩ সালের মধ্যে প্রকাশিত হয়েছিল)। উদ্ভিদ শ্রেণিবদ্ধ করার পদ্ধতিগুলো বিকাশ লাভ করতে থাকে এবং কার্ল লিনিয়াস নামের একজন সুইডিশ মেডিকেল ছাত্রের হাত ধরে এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। লিনিয়াস ট্যাক্সনমি নামে পরিচিত শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। জীবকে শ্রেণিবদ্ধ করার এই ব্যবস্থাটি বর্তমান সময়েও ব্যবহৃত হয়। তার স্পিসিজ প্লান্টারাম বইটিতে প্রায় ৫,৯০০টি উদ্ভিদের তালিকা ছিল। নৃউদ্ভিদবিদ্যা বা এথনোবোটানি শব্দটি ১৮৯৫ সালের দিকে জন হর্ষবার্গার তৈরি করেছিলেন। হর্ষবার্গার পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যার অধ্যাপক ছিলেন। তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের আদিবাসী উদ্ভিদ জীবন নিয়ে গবেষণা এবং তালিকাভুক্ত করার জন্য বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করে অনেক বছর কাটিয়েছেন।

আইবোগা, আইবোগেইনের একটি প্রধান উপাদান

পূর্বে বলা হয়েছে, কোনো সংস্কৃতি তাদের স্থানীয় উদ্ভিদগুলোকে কীভাবে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে নৃউদ্ভিদবিদ্যা তাই অধ্যয়ন করে। নিরাময়ের একটি অদ্ভুত উপায়ের (নৃউদ্ভিদবিদ্যার সাথে প্রাসঙ্গিক) উদাহরণ বিউটি ধর্মের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে দেখা যায়। গ্যাবন (পশ্চিম মধ্য আফ্রিকার একটি দেশ) এর লোকেরা বিউটি ধর্ম পালন করে। এই বিশেষ ধর্মমতটি আইবোগেইনের ব্যবহারের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করে। আইবোগেইন হলো একটি শক্তিশালী সাইকোঅ্যাক্টিভ যা ট্যাবারন্যানথে ইবোনা গুল্মের শিকড় থেকে পাওয়া যায়। ট্যাবারন্যানথে আইবোগা গ্যাবনের আদিবাসী উদ্ভিদ এবং বিউটি ধর্মের লোকেরা সহজেই এটি পায়। আইবোগা সাধারণত গুল্মের শিকড় চিবিয়ে বা উদ্ভিদটি চায়ে মিশিয়ে খাওয়া হয়। এর হ্যালুসিনোজেনিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বিউটি ধর্মে এটি শ্রদ্ধেয়। এটি অনুশীলনকারীদের প্রকাশকারী দৃষ্টিভঙ্গি এবং গভীর অন্তর্মুখী আত্ম-চিন্তা গ্রহণ করতে সাহায্য করে। আইবোগা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, দীক্ষা, বয়স বাড়ার আচার এবং নিরাময় প্রক্রিয়ার জন্য খাওয়া হয়। বিউটি সম্প্রদায়ের কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের ইমবুইরির সংস্পর্শে আসার জন্য আইবোগা খাওয়ানো হয়। ইমবুইরি হলো মানব রূপে উপস্থাপিত একটি আত্মা। এটি ব্যক্তিকে নিরাময় করবে বা প্রতিষেধক সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য প্রদান করবে। ফরাসি এবং বেলজিয়ান গবেষকরা ১৮০০-এর দশকের শেষদিকে আইবোগা ইউরোপে নিয়ে আসেন। ১৯৬০-এর দশকের মধ্যে আইবোগেইন (যদিও তখনো বিরল ছিল) বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পরিচিতি লাভ করে (প্রধানত সাইকোঅ্যাক্টিভ ড্রাগ হিসেবে)। ১৯৬৩ সালে হাওয়ার্ড লটসফ নামের এক ব্যক্তি এই ওষুধের চিকিৎসা সম্ভাবনা আবিষ্কার করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এই পদার্থটি হেরোইন এবং আফিমের আসক্তি মোকাবিলা করতে পারে। এটি বেদনাদায়ক এবং মানসিকভাবে ক্লান্তিকর প্রত্যাহারের লক্ষণগুলোও দূর করতে পারে। হাওয়ার্ড এই পদ্ধতির মাধ্যমে তার নিজের হেরোইন আসক্তি নিরাময় করেন। তিনি তার বন্ধুদের সাথে আইবোগেইনের পরিচয় করিয়ে দেন। তারা অভ্যাসবশত হেরোইন ব্যবহারকারী হলেও ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছিলেন। সময়ের সাথে সাথে আইবোগেইন কোকেন, ক্র্যাক, অ্যালকোহল, মেথামফেটামিন এবং নিকোটিনের অস্বাস্থ্যকর নির্ভরতাসহ অনেক আসক্তির চিকিৎসায় কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়। আসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার সম্ভাবনা দেখালেও এর হ্যালুসিনোজেনিক বৈশিষ্ট্যের কারণে অনেক দেশে (যুক্তরাষ্ট্রসহ) এই ওষুধটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আইবোগেইনকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও এখনও কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড ক্লিনিক রয়েছে যারা চিকিৎসা আদর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ চিকিৎসা প্রদান করে। আজ অবধি আইবোগেইনের ওপর গবেষণা চলছে এবং এটি শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বাজারজাতযোগ্য, তৈরি আসক্তি-বিরোধী ওষুধে পরিণত হতে পারে।

আয়াওয়াসকা হাজার হাজার বছর ধরে আমাজনের শামনরা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সাইকোঅ্যাক্টিভ পদার্থগুলোর একটি তৈরি এবং পরিচালনা করে আসছে। আয়াওয়াসকায় প্রধান সাইকোঅ্যাক্টিভ উপাদান হলো ডিএমটি। ব্যবহারকারীরা জীবন পরিবর্তনকারী ট্রিপের কথা জানান। এর মধ্যে প্রায়শই শরীরের বাইরের অভিজ্ঞতা এবং বহির্জাগতিক যোগাযোগ জড়িত থাকে। আয়াওয়াসকা যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য অনেক দেশে একটি শিডিউল ১ ড্রাগ হিসেবে রয়ে গেছে। ডিএমটি ধারণকারী বানিস্তেরিওপসিস ক্যাপির সাথে সাইকোট্রিয়া ভিরিডিস মিশিয়ে এই মিশ্রণটি তৈরি করা হয়। ভিরিডিসে এমএও বাধাদানকারী অ্যালকালয়েড থাকে এবং এটি মৌখিক গ্রহণের অনুমতি দেয়। মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে এমন কেন্দ্র তৈরি করার চেষ্টা করছে যেখানে কেউ নিরাপদে ওষুধটি গ্রহণ করতে পারে। ফলে আয়াওয়াসকা পশ্চিমা বিশ্বে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

দ্য ক্যান্ডেলনাট ট্রি কুকুই বা ক্যান্ডেলনাট গাছ হলো একটি স্থানীয় উদ্ভিদের উদাহরণ। বিভিন্ন সংস্কৃতি খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করে। আদিবাসী হাওয়াইয়ানরা বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজে বাদাম, রস এবং পাতা ব্যবহার করত। প্রচুর পরিমাণে তেল উৎপাদনকারী এই বাদামটি পাম পাতায় গেঁথে মশাল বা মোমবাতি হিসেবে ব্যবহৃত হতো (এখান থেকেই ক্যান্ডেলনাট নামের উৎপত্তি)। বাড়তি স্বাদের জন্য বাদামটি ভেজে খাবারের ওপর ছড়ানো হতো। এর রেচক বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলেও পরিচিতি ছিল। দ্রুত নিরাময়ের জন্য কাটা এবং কোল্ড সোরের ওপর সবুজ বাদামের রস লাগানো হতো। লেই তৈরির জন্য পাতা এবং ফুল ব্যবহার করা হতো। হাওয়াইয়ে বেড়ে ওঠা একজন শিশু হিসেবে আমি ও আমার বন্ধুরা বাদামের খোলস থেকে লাটিম তৈরি করতাম। হাওয়াইয়ের অনেক দর্শনার্থী কুকুই বাদামটিকে ফিতায় গাঁথা কালো ও চকচকে বাদাম হিসেবে চিনবেন। এটি দিয়ে লেই তৈরি করা হয় যা অনির্দিষ্টকাল স্থায়ী হয়। এই গাছটির অনন্য দিক হলো এর সমস্ত উপাদান বিষাক্ত। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে বীজ, পাতা, ফুল এবং ছাল সবই চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্যান্ডেলনাট গাছ স্বাস্থ্য সুবিধা, সাজসজ্জা, গয়না তৈরি এবং আরও অনেক কিছুসহ বহুমুখী ব্যবহার প্রদান করে।

দ্য কিওর-অল হার্ব

"কিওর অল হার্ব" হলো কমব্রেটাম মিক্রান্থাম নামের একটি ভেষজ। তবে এটি সাধারণত কিঙ্কিউলিবা নামে বেশি পরিচিত। এটি পশ্চিম আফ্রিকায়, বিশেষত সেনেগালে পাওয়া যায়। পানযোগ্য এই ভেষজটি পানকারী জনসংখ্যার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। কিঙ্কিউলিবা হলো পশ্চিম আফ্রিকায় পাওয়া সবচেয়ে সাধারণ ভেষজ চা। অনেক পশ্চিম আফ্রিকান এই শক্তিশালী চায়ের এক কাপ দিয়ে তাদের সকাল শুরু করে। এটি সাধারণ স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা বজায় রাখার জন্য দারুণ। জ্বর, সর্দি, ব্যথা এবং ফ্লুর চিকিৎসায় কিঙ্কিউলিবা সাহায্য করে বলে পরিচিত। তবে এটি ওজন হ্রাস, ঘুম হ্রাস এবং এমনকি ক্যান্সারে সহায়তা করতেও ব্যবহৃত হয়। এই ভেষজটি একটি প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক এবং অসুস্থ হলে নিরাময় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে। পুরোনো ক্ষত নিরাময় ত্বরান্বিত করতে এর পাতা বা শিকড়ের দ্রবণও প্রয়োগ করা যেতে পারে। এই অলৌকিক চা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ এবং রক্তচাপ কমাতেও পরিচিত। ভেষজটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিস্পাসমোডিক হিসেবেও কাজ করে।

দ্য ডিটক্সিফাইং হার্ব

কেলে (খায়া সেনেগালেন্সিস) হলো পশ্চিম আফ্রিকা জুড়ে ব্যবহৃত একটি সাধারণ ভেষজ। এটি শরীর পরিষ্কারক এবং শক্তি বৃদ্ধিকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পশ্চিম আফ্রিকানরা এর ছাল পানিতে ভিজিয়ে রাখে এবং সাধারণ ডিটক্সিফিকেশন ও অন্ত্র পরিষ্কারের জন্য মিশ্রণটি পান করে। জ্বর কমাতে এবং সাধারণ ক্লান্তি দূর করতেও কেলে ব্যবহার করা হয়। শরীর পরিষ্কারক বা শক্তি বৃদ্ধিকারী হিসেবে ব্যবহৃত হলে খায়া সেনেগালেন্সিস খুব কার্যকর। তবে এর অন্যান্য ব্যবহারও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এর বীজ এবং পাতা জ্বর ও মাথাব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে। এর শিকড় মানসিক অসুস্থতার চিকিৎসায় বা কামোদ্দীপক হিসেবে সাহায্য করতে পারে।

অ্যাকাশিয়া সেনেগাল

ব্যবহার - গাম আরবির প্রধান কাজ হলো শ্বাসযন্ত্র, পাচনতন্ত্র এবং মূত্রনালীর ওপর একটি প্রশমক ও সুরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করা। বিভিন্ন অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্টের সাথে একত্রে এটি কাশি, গলা ব্যথা এবং সর্দি (প্রদাহের সাথে যুক্ত নাক বা গলায় শ্লেষ্মার অত্যধিক ক্ষরণ বা জমা হওয়া), সেইসাথে ডায়রিয়া এবং আমাশয়ের ক্ষেত্রে সহায়ক। পুষ্টিগুণের পাশাপাশি এই মিউসিলেজ অন্যান্য ওষুধের জন্য একটি ভালো বাহক তৈরি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা বেশিরভাগ গাম আরবি খাদ্য শিল্পে যায়। সেখানে বেকারদের পণ্যের কাঠামো ও টেক্সচার দিতে এবং ক্যান্ডির ওপর শক্ত চকচকে আবরণ তৈরি করতে এটি ব্যবহৃত হয়।

মারিজুয়ানা

কিছু গাঁজার কুঁড়ি, যা ভালোভাবে প্রক্রিয়াজাত (অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে ধীরে ধীরে শুকানো হয়েছে)। স্ট্রেনটি হলো সুইট টুথ #৩

অনেক সংস্কৃতি জুড়ে মারিজুয়ানার ব্যাপক চিকিৎসা এবং শামানিক ইতিহাস রয়েছে। গবেষকরা প্রায়শই চীনাদের এর চিকিৎসা সম্ভাবনা শনাক্তকারী প্রথম সংস্কৃতিগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। লেখক রবার্ট ডেইচ বলেছেন, "চীনা সম্রাট ফু হিসি (আনুমানিক ২৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), যাকে চীনারা চীনে সভ্যতা আনার কৃতিত্ব দেয়, তিনি ক্যানাবিসের চীনা শব্দ মায়ের কথা উল্লেখ করেছেন বলে মনে হয়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে ক্যানাবিস খুব জনপ্রিয় ওষুধ ছিল যার মধ্যে ইয়িন এবং ইয়াং উভয়ই ছিল।" চীনা চিকিৎসা পদ্ধতিতে দীর্ঘকাল ধরে মারিজুয়ানা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মিশরীয়দের মতো অন্যান্য সংস্কৃতি, এমনকি ১২১৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত পিছিয়ে গেলে ক্যানাবিসের ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এটি দ্বিতীয় রামসেসের সমাধিতে পাওয়া গিয়েছিল। প্রাচীন মিশরীয়রা প্রায়শই প্রদাহ, মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা, গ্লুকোমা, ছানি, অর্শ, যোনিপথে রক্তপাত এবং অন্যান্য অনেক সমস্যার জন্য মারিজুয়ানা ব্যবহার করত। আধুনিক আমেরিকায় ক্যানাবিসের হোমিওপ্যাথিক সম্ভাবনা প্রথম স্বীকৃতি পেতে শুরু করে ১৯৭৩ সালে। তখন ওরেগন মারিজুয়ানা ব্যবহারকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেয়। ১৯৯৬ সালের আগ পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়া চিকিৎসা মারিজুয়ানা বৈধকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাজ্যে পরিণত হয়নি। সম্প্রতি চিকিৎসা মারিজুয়ানার ব্যবহার সারা দেশে অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। ঔষধি ক্যানাবিসের সবচেয়ে সাধারণ ব্যবহার হলো ব্যথা ব্যবস্থাপনা। বিশেষত ক্যান্সার রোগীদের মতো দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতার রোগীদের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ঔষধি মারিজুয়ানা ব্যবহার করে পেশীর খিঁচুনি অনেক উন্নত করা যেতে পারে। মারিজুয়ানায় থাকা ক্যানাবিডিওল বা সিবিডি হলো ক্যানাবিস উদ্ভিদের নন-সাইকোঅ্যাক্টিভ ঔষধি অংশ। উদ্ভিদের সক্রিয় উপাদান টিএইচসি-র বিপরীতে সিবিডি একচেটিয়াভাবে ঔষধি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। টিএইচসি ইউফোরিক "হাই" বা আনন্দদায়ক প্রভাব তৈরি করে। কেউ কেবল ভেষজের সিবিডি অংশ গ্রহণ করলে সে শুধু ব্যথা উপশম অনুভব করবে। পাশাপাশি তার কোনো নির্দিষ্ট অসুস্থতা থাকলে তার উপশম হবে। মৃগীরোগীর খিঁচুনি কমে যাওয়া এর একটি উদাহরণ। উপসংহারে বলা যায়, মারিজুয়ানার অসংখ্য ঔষধি গুণ রয়েছে যা আমাদের দীর্ঘ মানব ইতিহাস জুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্মান ও চাষ করে আসছে।

একিনেসিয়া

এটি উত্তর আমেরিকার স্থানীয় উদ্ভিদ। এর ঔষধি গুণের জন্য সমতল ভূমির ভারতীয়রা দীর্ঘকাল ধরে এটি ব্যবহার করে আসছে। বিশ্বাস করা হয় যে এটি সর্দির স্থায়িত্ব কমায় এবং কাশি, গলা ব্যথা ও মাথাব্যথার মতো অনেক উপসর্গের চিকিৎসা করে। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো থেকে বোঝা যায় যে একিনেসিয়া সর্দির স্থায়িত্ব বা তীব্রতার ওপর খুব কম বা কোনো প্রভাব ফেলে না। এটি অসুস্থ ব্যক্তিকে কিছুটা আরাম দেওয়ার জন্যই নেওয়া হয় এবং অনেক দিক থেকে এটি একটি প্লাসিবো। একিনেসিয়ার কার্যকারিতা এখনও বিতর্কের বিষয়। তবে এটি উত্তর আমেরিকার নৃউদ্ভিদবিদ্যায় সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিকার হিসেবে রয়ে গেছে।

গোল্ডেনসিল

এটি অরেঞ্জ-রুট, অরেঞ্জরুট বা হাইড্রাস্টিস ক্যানাডেনসিস নামেও পরিচিত। এটি উত্তর আমেরিকায় ব্যবহৃত আরেকটি বিশিষ্ট ভেষজ। এটি বাটারকাপ পরিবারের (রানুনকুলাসি) বহুবর্ষজীবী ভেষজ। এটি দক্ষিণ-পূর্ব কানাডা এবং উত্তর-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় উদ্ভিদ। উত্তর আমেরিকার কিছু নির্দিষ্ট আদিবাসী আমেরিকান উপজাতির মধ্যে ওষুধ এবং রঙের উপকরণ হিসেবে গোল্ডেনসিলের ব্যাপক ব্যবহার ছিল। ক্যান্সার এবং স্তনের ফোলাভাবের জন্য ইকলেকটিকরা গোল্ডেনসিল ব্যাপকভাবে ব্যবহার করত। তবে কেবল ক্যান্সারের জন্য একে যথেষ্ট বলে মনে করা হতো না [১]

প্যাসিফিক ইউ

এটি ট্যাক্সাস ব্রেভিফয়লা বা ওয়েস্টার্ন ইউ নামেও পরিচিত। এটি গাছের মতো ছোট ফার গাছ। একে এর আঁশযুক্ত ছাল, সেইসাথে এর সমতল সূঁচ দিয়ে শনাক্ত করা যায়। সূঁচগুলো ডালপালার উভয় পাশ থেকে অনুভূমিকভাবে বেরিয়ে আসে। এটি সাধারণত ডগলাস ফার এবং হেমলকের মতো গাছের পাশাপাশি ছায়াযুক্ত পরিবেশে পাওয়া যায়। এর ছাল একটি ঐতিহ্যবাহী ওষুধ। এটি "আলসার এবং যকৃতের অসুস্থতার মতো অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর" জন্য ব্যবহৃত হয় (টার্নার এবং হেবডা)। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউ ছাল ক্যান্সার প্রতিরোধকারী ট্যাক্সল নামক যৌগের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। এটি ক্যান্সার কোষগুলোতে কোষের প্রতিলিপি গঠন ধীর করে বা বন্ধ করে দেয়। এটি সবচেয়ে বেশি স্তন, ফুসফুস এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। "প্যাসিফিক ইউ, ট্যাক্সাস ব্রেভিফোলিয়া।" নেটিভ প্ল্যান্টস পিএনডব্লিউ। ওয়েব। ১ ডিসেম্বর ২০১৬। "প্যাক্লিট্যাক্সেল (ট্যাক্সল®, অ্যাব্র্যাক্সেন®): ক্যান্সার ড্রাগ ইনফরমেশন | সিটিসিএ।" ক্যান্সারসেন্টার.কম। ওয়েব। ১ ডিসেম্বর ২০১৬। "ট্যাক্সাস ব্যাক্কাটা (কমন ইউ)।" ট্যাক্সাস ব্যাক্কাটা (কমন ইউ) | প্ল্যান্টস অ্যান্ড ফাংগি অ্যাট কিউ। ওয়েব। ১ ডিসেম্বর ২০১৬। টার্নার, ন্যান্সি জে., এবং রিচার্ড জে. হেবডা। সানিচ এথনোবোটানি: কালচারালি ইমপর্ট্যান্ট প্ল্যান্টস অব দ্য ডাব্লুএসএএনইসি পিপল। ভিক্টোরিয়া, বিসি: রয়্যাল বিসি মিউজিয়াম, ২০১২। প্রিন্ট।

অপরিহার্য তেল

[সম্পাদনা]

যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নৃউদ্ভিদবিদ্যার আরেকটি রূপ হলো 'অপরিহার্য তেল' বা এসেনশিয়াল অয়েলের ব্যবহার। অপরিহার্য তেলগুলো হলো শক্তিশালী তেল। এগুলো "বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে ফুল, ছাল, কাণ্ড, পাতা, শিকড়, ফল এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ থেকে বের করা হয়" (আলী, এবং অন্যান্য, ২০১৫)। যারা এগুলো ব্যবহার করে তারা বিশ্বাস করে যে এগুলো প্রকৃতির ওষুধ। সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে এগুলো অনেক সংক্রমণ এবং অসুস্থতার চিকিৎসা করতে পারে। এগুলো আধুনিক চিকিৎসাকে প্রতিস্থাপন করতে বা সহায়তা করতে পারে। পরীক্ষাগারের গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে এই তেলগুলোতে অ্যান্টিসেপটিক এবং ত্বকের ভেদযোগ্যতার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। জটিল রাসায়নিক গঠনের কারণে নির্দিষ্ট অপরিহার্য তেলগুলো ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে।

অপরিহার্য তেল ব্যবহারের একটি জনপ্রিয় উপায় হলো অ্যারোমাথেরাপি। "ইনহেলেশন, স্থানীয় প্রয়োগ এবং গোসল হলো অ্যারোমাথেরাপিতে ব্যবহৃত প্রধান পদ্ধতি। এগুলো সুনির্দিষ্ট প্রভাবসহ মানুষের ত্বকের পৃষ্ঠে প্রবেশ করতে এই তেলগুলো ব্যবহার করে" (আলী, এবং অন্যান্য, ২০১৫)। একক তেল এবং তেলের মিশ্রণ বা সংমিশ্রণ ব্যবহারের মাধ্যমে লোকেরা প্রয়োজনীয় তেল অ্যারোমাথেরাপি ব্যবহার করেছে। "বিষণ্নতা, বদহজম, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, পেশী ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ত্বকের অসুস্থতা, ফোলা জয়েন্ট, প্রস্রাব সংক্রান্ত জটিলতা ইত্যাদির মতো অসংখ্য অসুস্থতা" থেকে মুক্তি পেতে এটি করা হয় (আলী, এবং অন্যান্য, ২০১৫)।

অনেকেই এখনও এর ব্যবহার নিয়ে সন্দিহান। এফডিএ তেলগুলোকে ওষুধ হিসেবে কাজ করার অনুমোদন দেয়নি। তবে অনেক সংস্কৃতিতেই ঐতিহাসিকভাবে উদ্ভিদের ব্যবহার ওষুধ তৈরির উপায় হিসেবে প্রচলিত। অপরিহার্য তেলগুলোর কার্যকারিতা তাদের কাছে প্রমাণিত হয়েছে যারা আরও প্রাকৃতিক উপায়ে অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে বেছে নেয়। অপরিহার্য তেলের কিছু উদাহরণের মধ্যে রয়েছে লেমনগ্রাস, পিপারমিন্ট, কমলা এবং আরও অনেক কিছু। এর সবকটিই বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। অপরিহার্য তেলগুলো আরও বেশি পরিচিত হতে শুরু করেছে। কেউ কেউ এটি প্রতিদিনের ভিত্তিতে ব্যবহার করে। এগুলো যেকোনো স্থানীয় মুদি দোকান বা বাজারে সহজেই পাওয়া যায়।

নৃচিকিৎসার সমালোচকরা

বেশিরভাগ পৃথক নৃচিকিৎসা অনুশীলনের বৈশিষ্ট্যগুলোর জন্য তাদের সমালোচনা করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ আধ্যাত্মিক নিরাময়ের দাবিগুলো প্রতারণা হিসেবে গণ্য হওয়া বা সাইকিয়াট্রির অ্যালকোহলিজম নিরাময় করতে না পারার কথা বলা যায়। তবে একটি যুক্তি প্রায় সব ধরনের নৃচিকিৎসার সমালোচনা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই যুক্তিটি বেশিরভাগ রূপের নৃচিকিৎসার মানসিক অভিযোজনের সমালোচনা করেছে। জীববিজ্ঞানী হোরাসিও ফ্যাব্রেগা জুনিয়র লিখেছেন:

গবেষকের দ্বারা গৃহীত অন্তর্নিহিত ধারণাটি হলো যে তিনি এমন একটি ব্যাধি নিয়ে কাজ করছেন যা হয় সাধারণত মানসিক অথবা অন্তত মানসিক ধরনের। সাংস্কৃতিকভাবে ভিত্তিক নৃবিজ্ঞানীদের দিক থেকে এই মাত্রার প্রতি অত্যধিক ব্যস্ততা [সাংস্কৃতিকভাবে সংজ্ঞায়িত] অসুস্থতাগুলোর ওপর জৈবিক উপাদানগুলোর প্রভাবকে অস্পষ্ট করে তোলার প্রবণতা তৈরি করেছে। ফলে অসুস্থতার ঘটনাগুলোর ওপর মনস্তাত্ত্বিক সংস্কৃতি এবং জৈবিক কারণগুলোর পারস্পরিক প্রভাব পরীক্ষা করার সম্ভাবনা [যেমনটি বিষয়গুলোর দ্বারা সংজ্ঞায়িত এবং শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে] হারিয়ে গেছে।

যে সব চিকিৎসক এবং নৃবিজ্ঞানী নৃচিকিৎসা অনুশীলন করেন তারা প্রায়শই সমালোচনার সম্মুখীন হন। জৈবিক চিকিৎসার সম্ভাবনা বিবেচনা না করেই নৃচিকিৎসা ব্যবহার করে কোনো অসুস্থতা নিরাময় করা যেতে পারে এই ধারণা করার জন্যই তাদের সমালোচনা করা হয়।

বায়োপাইরেসি

[সম্পাদনা]

বায়োপাইরেসি হলো বিদেশি সংস্থাগুলোর দ্বারা উদ্ভিদ এবং প্রাণী প্রজাতির সাধারণ ব্যবহার সীমাবদ্ধ করার জন্য তাদের শোষণ। বায়োপাইরেসির দুটি অংশ রয়েছে। প্রথমটি হলো বায়োপ্রসপেক্টিং। এটি পেটেন্ট দাবি করে উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির সাধারণ ব্যবহার সীমাবদ্ধ করে। দ্বিতীয় অংশটি হলো 'পাইরেসি'। ব্যক্তি বা কর্পোরেশন যখন এই উদ্ভিদগুলো এবং উদ্ভিদ ভিত্তিক পদার্থ, সুগন্ধি বা জেনেটিক তথ্য প্রক্রিয়াজাত করার পদ্ধতিগুলো তাদের একচেটিয়া ব্যবহার এবং বিক্রয়ের জন্য পেটেন্ট করে তখন এটি ঘটে। পেটেন্টটি প্রায়শই সম্প্রদায়গুলোর ব্যক্তিগত ব্যবহার বা বিক্রি নিষিদ্ধ করে। এই সম্প্রদায়গুলোই মূলত বায়ো অ্যাক্টিভ বৈশিষ্ট্যগুলো শনাক্ত করে বা সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করে, প্রক্রিয়াকরণ ও নিষ্কাশন প্রযুক্তি বিকাশ করে এবং উদ্ভিদের প্রজনন ঘটায়।

একটি সম্পর্কিত ধারণা হলো বায়োপ্রসপেক্টিং। এই শব্দটি কখনো কখনো কম নেতিবাচক অর্থসহ বায়োপাইরেসি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ধরে নেওয়া হয় পেটেন্ট করা জিনিসটির ইতোমধ্যে একটি পরিচিত ব্যবহার ছিল। বিকল্পভাবে বায়োপ্রসপেক্টিং কোম্পানি এমন আইটেমগুলোতে অভিনব যৌগ বা জিনের সন্ধান করে যা ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হয়নি। কোম্পানিগুলো বিশ্বের কিছু অংশে সামান্য থেকে কোনো বিরোধিতা ছাড়াই উদ্ভিদ বা জীব সংগ্রহ করতে পারে। এরপর তারা এগুলোর যেকোনো অংশ পেটেন্ট করতে পারে যা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়।[২]

বাসমতি চালের পেটেন্ট বায়োপাইরেসির একটি উদাহরণ! বাসমতি হলো ভারতীয় উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী এক ধরনের লম্বা, পাতলা সুগন্ধি চাল। ১৯৯৭ সালে ইউএস পেটেন্ট অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অফিস (ইউএসপিটিও) টেক্সাস ভিত্তিক 'রাইস টেক ইনকর্পোরেশন' নামের একটি কোম্পানিকে একটি পেটেন্ট (নং ৫৬৬৩৪৮৪) প্রদান করে। তাদের ঐতিহ্যবাহী চালের দানা ব্যবহারের অধিকার ফিরে পেতে ভারত সরকার অনেক চেষ্টা করেছে এবং কিছুটা সফলও হয়েছে। এক প্রচেষ্টায় ভারত সরকার প্রমাণ করার জন্য পঞ্চাশ হাজার পৃষ্ঠার প্রমাণ দাখিল করেছিল। এতে প্রমাণ করা হয় যে উচ্চমানের বাসমতি চালের প্রজাতিগুলোতে ইতোমধ্যে সেই গুণাবলী রয়েছে যা রাইস টেক ইনকর্পোরেশন পেটেন্ট করেছিল। ২০০১ সালের মার্চ মাসে রাইস টেকের বিরুদ্ধে একটি বড় আন্দোলনের কারণে ইউএসপিটিও পেটেন্টের ভিত্তি হওয়া বিশটি দাবির মধ্যে সতেরোটি প্রত্যাখ্যান করে![৩]

চিকিৎসা ব্যবস্থা

[সম্পাদনা]

প্রাকৃতিক ব্যবস্থা

প্রাকৃতিক ব্যবস্থা অসুস্থতার ব্যাখ্যা, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার একটি দৃষ্টিভঙ্গি হতে পারে। এটি মানুষের ব্যাধির পেছনের অন্তর্নিহিত জৈব-যান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলোর ওপর জোর দেয়। প্রাকৃতিক চিকিৎসা মূলত পশ্চিমা বায়ো-মেডিসিন মডেলের ভিত্তি। এর অনুশীলনকারীরা চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করতে ইমেজিং প্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেন। দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকৃতিবাদীরা মানব ব্যাধির ক্ষেত্রে অসুস্থতাকে নৈর্ব্যক্তিক মনে করেন। তাদের মতে রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়ায় সর্বদা প্যাথলজির একটি শনাক্তযোগ্য উৎস থাকে।

ব্যক্তিগত ব্যবস্থা

উন্নত বিশ্বে এটি অনেকটা অস্বাভাবিক। চিকিৎসার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি প্যাথলজির অতিপ্রাকৃতিক উৎসের (যেমন আধ্যাত্মিক অধিকার বা ধর্মীয় লঙ্ঘন) পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের ব্যাধি ব্যাখ্যা করে। অসুস্থতাকে রোগীর জন্য অনন্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চিকিৎসা অনুশীলনকারীরা রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসায় সহায়তা করার জন্য প্রায়শই অতিপ্রাকৃতিক শক্তির আহ্বান জানান। কারণ অসুস্থতাটিও অতিপ্রাকৃতিক শক্তির কারণেই ঘটে। এর একটি উদাহরণ হলো "কুনজর" বা ইভিল আই। অন্যের সৌভাগ্যে ঈর্ষান্বিত একজন ব্যক্তি "কুনজরের" মাধ্যমে ক্ষতিকারক প্রভাব স্থানান্তর করতে পারে। এর ফলে প্রাপকের ক্ষতি হয়।[৪]

আধুনিককালে চিকিৎসার ব্যক্তিগত ব্যবস্থাগুলো সাধারণত ক্ষুদ্র পরিসরের সমাজে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। বিশ্বব্যাপী ব্যক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি পতনের মুখে। কিছু সংস্কৃতিতে এটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ ইনুইট জনগণের মধ্যে থেরাপিউটিক শামানবাদ প্রচলিত ছিল। আদিম জাতিতাত্ত্বিকদের দ্বারা আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যসেবার একটি জটিল ঐতিহ্যের কথা জানা যায় (মেরকুর ৮৫ দেখুন)। এই ঐতিহ্যগুলো এখন খুব কমই চর্চা করা হয় এবং অনেক ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি পুরোপুরি হারিয়ে গেছে (দেখুন w:এস্কিমো মানুষের মধ্যে শামানবাদ)।

মেডিকেল মডেল

[সম্পাদনা]

মেডিকেল মডেল হলো স্বাস্থ্য এবং অসুস্থতার ব্যাখ্যা যা বিভিন্ন সংস্কৃতি দ্বারা গৃহীত হয়। বায়োমেডিকেল মডেল হলো বিশাল পশ্চিমা সংস্কৃতিসহ অনেক সংস্কৃতি দ্বারা সর্বাধিক স্বীকৃত মেডিকেল মডেল। তবে আরও একাধিক ব্যাখ্যা রয়েছে যা কিছু সংস্কৃতি গ্রহণ করে।

প্রতিবন্ধকতার মেডিকেল মডেল এমন একটি মডেল। এই মডেল অনুসারে অসুস্থতা বা প্রতিবন্ধকতা হলো কোনো শারীরিক অবস্থার ফলাফল। এটি ব্যক্তির অন্তর্নিহিত (এটি সেই ব্যক্তির নিজস্ব শরীরের অংশ)। এটি ব্যক্তির জীবনের মান হ্রাস করতে পারে এবং তার জন্য স্পষ্ট অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে।

কিছু নৃবিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন যে বায়োমেডিকেল মডেল বেশ সংকীর্ণ। তারা মনে করেন না যে সমস্ত অসুস্থতার মনস্তাত্ত্বিক, আচরণগত এবং সামাজিক দিকগুলো ব্যাখ্যার জন্য সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। তাই বায়োসাইকোসোশ্যাল [২] মডেল নামের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন দিকের জন্য আরও জায়গা থাকবে।

হিউমোরাল

[সম্পাদনা]

হিউমোরাল শব্দটি শরীরের ভেতরে থাকা রক্ত বা অন্যান্য তরল উপাদানগুলোকে নির্দেশ করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে হিউমর শব্দটি তরল পদার্থকে বোঝায়। অ্যাকিয়াস হিউমর হলো এমন তরল যা সাধারণত চোখের সামনের ও পেছনের চেম্বারে থাকে। হিউমর একটি প্রাচীন তত্ত্বের অংশ ছিল। এই তত্ত্বে বিশ্বাস করা হতো যে শারীরিক তরলগুলোর মধ্যে ভারসাম্য থেকে স্বাস্থ্য বজায় থাকে। এই তরলগুলোকে হিউমর বলা হতো। এই তরলগুলোর ভারসাম্যহীনতা মানুষকে রোগে আক্রান্ত হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে ফেলত।

প্রতিটি হিউমরের সাথে যুক্ত জোড়া গুণাবলী এবং এর ঋতু ও উপাদান ছিল। হিউমরগুলো হলো:

  1. কফ: শীত, পানি, বৈশিষ্ট্য: যুক্তিবাদী, শান্ত, আবেগহীন
  2. রক্ত: বসন্ত, বাতাস, বৈশিষ্ট্য: সাহসী, আশাবাদী, প্রেমময়
  3. পিত্ত: (কালো পিত্ত যা কিডনি এবং প্লীহা দ্বারা নিঃসৃত হয় বলে ধারণা করা হয়) শরৎ, মাটি, বৈশিষ্ট্য: বিশ্লেষণী, জ্ঞানী, হতাশাগ্রস্ত
  4. রাগ: (যকৃৎ দ্বারা নিঃসৃত হলুদ পিত্ত) গ্রীষ্ম, আগুন, বৈশিষ্ট্য: বদমেজাজি, দ্রুত, খিটখিটে

এই তত্ত্বটি হিউমোরাল তত্ত্ব, হিউমোরালিটি এবং হিউমরিজম নামেও পরিচিত ছিল। এটি হিপোক্রেটিসের (আনুমানিক ৪৬০-৩৭৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) সময়ের আগেই তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে প্যাথলজি একটি সেলুলার এবং আণবিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। চোখের অ্যাকিয়াস হিউমর এবং ভিট্রেয়াস হিউমর বাদে সমস্ত হিউমর বাতিল করা হয়েছে। হিউমর তত্ত্বটি উনিশ শতক পর্যন্ত ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এরপর আধুনিক চিকিৎসা কৌশলগুলো বিকশিত হয়।

হাইতির স্বাস্থ্য এবং নিরাময় ব্যবস্থা পশ্চিম আফ্রিকার হিউমোরাল-প্রভাবিত ধারণাগুলোকে একত্রিত করে। তাদের সিস্টেম তাদের চারটি হিউমর (গরম ও ঠান্ডা, শুষ্ক ও ভেজা) পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করে। শেষ পর্যন্ত শুষ্ক এবং ভেজা হিউমর বাদ দিয়ে তাদের সিস্টেমকে সহজ করা হয়েছিল। তারা বিশ্বাস করে যে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য একটি ভারসাম্য প্রয়োজন। ভারসাম্যটি ঋতু, তারা কীভাবে বাঁচে এবং বিশেষ করে তারা কীভাবে খায় তার ওপর প্রভাবিত হয়।[৫]

কাল্লাওয়েয়া ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা

[সম্পাদনা]

বলিভিয়ার আন্দিজ পর্বতমালার কাল্লাওয়েয়া মানুষের শামনরা হিউমোরাল চিকিৎসার একটি উদাহরণ। তারা বিশ্বাস করে যে পৃথিবী বা দেবী পাচামামা আত্মা ও সত্তার ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলে এবং এর মাধ্যমেই স্বাস্থ্য ও অসুস্থতা প্রভাবিত হয়। তাদের নিরাময় শিল্প মূলত অসুস্থদের জীবন পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তারা কাজ, স্বাস্থ্য, রুটিন এবং সম্পর্কের মতো দৈনন্দিন দিকগুলোর ধরণ দেখে ভারসাম্যহীনতাগুলো চিহ্নিত করে। শামনরা দেবতাকে খুশি করতে সাহায্য করার জন্য সঙ্গীত, নাচ এবং প্রাণী বলিদানের ব্যবহার করে। এর মাধ্যমেই তারা অসুস্থতা নিরাময় করে। শামনরা অনেক ভেষজ ব্যবহার করে। উদাহরণস্বরূপ বেশিরভাগ কাল্লাওয়েয়া নিরাময়কারীদের অন্তত ৩০০ ভেষজ সম্পর্কে জ্ঞান রয়েছে। তারা অ্যালকোহল এবং আয়াওয়াসকাও ব্যবহার করে। শামনের নির্দেশনায় এগুলো নিরাময়ের জন্য ওষুধ-প্ররোচিত অবস্থা তৈরি করতে পারে।[৬]

আয়ুর্বেদ

[সম্পাদনা]
দয়ানন্দহরি দেবকে আয়ুর্বেদের দেবতা বলে বিশ্বাস করা হয়

আয়ুর্বেদ ভারতের ৫০০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থা। এটি ভারতীয় ইতিহাসের বৈদিক যুগে উদ্ভূত হয়েছিল। [৩] এটি বিশ্বের অন্যান্য স্থানে বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবেও চর্চা করা হয়। সেখানে বায়োমেডিকেল মডেলের পরিপূরক হিসেবে যোগব্যায়াম, ধ্যান, ম্যাসেজ বা নিরাময়কারী ভেষজ বা খাবার ব্যবহৃত হয়।

আয়ুর্বেদ একটি হিউমোরাল সিস্টেম। এতে রক্ত, কাইল, মাংস, চর্বি, হাড়, মজ্জা এবং বীর্য প্রধান উপাদান। এগুলো বাতাস (বা আত্মা), কফ এবং পিত্তে বিভক্ত। এদের প্রত্যেকে একটি ঐশ্বরিক শক্তি বা দোষের প্রতিনিধিত্ব করে। তিনটি দোষ হলো বাত (বাতাস), পিত্ত এবং কফ। আয়ুর্বেদ অনুসারে মানুষ এই দোষগুলোর একটি বা দুটি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য থাকার অর্থ হলো ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ। ঘুম, যৌন মিলন, ওষুধ এবং খাবারের পরিমিতির মাধ্যমে এই ভারসাম্য অর্জন করা হয়। বিভিন্ন ধরনের খাবার বিভিন্ন দোষের মানুষের জন্য উপকারী। দোষগুলো খুব বেশি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়লে তা শারীরিক এবং মানসিক উভয় অসুস্থতার কারণ হতে পারে।

আয়ুর্বেদিক অনুশীলনের মধ্যে স্বাস্থ্যকর রীতিনীতি, চিকিৎসা হিসেবে নির্দিষ্ট খাবার ও ভেষজ গ্রহণ এবং যোগব্যায়াম বা ধ্যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ভারসাম্য আয়ুর্বেদিক নিরাময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

আধ্যাত্মিক নিরাময়

[সম্পাদনা]
একজন ব্যক্তি বাইরে বসে যোগব্যায়াম ধ্যান করছেন।

আধ্যাত্মিক নিরাময় অনুশীলনগুলো ধ্যান, প্রার্থনা বা নিরাময়কারীর উপস্থিতির মাধ্যমে অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে শক্তি সঞ্চার করে। এটি সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতির একটি বিকল্প প্রদান করে। এটি নিরাময়ের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির অংশ। সুস্থতা অর্জনের জন্য এতে মন, শরীর এবং আত্মার একীকরণ ও সম্প্রীতি জড়িত। অসুস্থতা প্রায়শই মন থেকেই উৎপন্ন হয়। তাই আধ্যাত্মিক নিরাময় চাপ কমাতে, মানসিক সমস্যা মোকাবিলা করতে এবং সামগ্রিক সুখ বাড়াতে উপকারী হতে পারে। এই ধরনের মানসিক সমস্যার অনুপস্থিতি শারীরিক সমস্যা দূর করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ ধ্যান হৃদস্পন্দন কমাতে, উচ্চ রক্তচাপ কমাতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। কারণ এটি মনকে পরিষ্কার এবং শান্ত করে। ফলে মানসিক চাপ শরীরের শারীরিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে না।

যোগব্যায়ামে আধ্যাত্মিক নিরাময়ের একটি জনপ্রিয় এবং প্রস্তাবিত কাজ পাওয়া যায়। অনেকেই বলেন যে এটি আত্ম-সচেতনতার অনুভূতি দেয়, ইতিবাচক মানসিক উপস্থাপনে সুবিধা দেয় এবং সামগ্রিকভাবে একটি আধ্যাত্মিক ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত শক্তি এবং আত্মবিশ্বাসকে উৎসাহিত করে।

আধ্যাত্মিকতার আরেকটি কাজ শামানবাদ এবং শামানিক আচার থেকে আসে। শামন হলেন সম্প্রদায়ের এমন একজন ব্যক্তি যাকে কখনো কখনো ঐশ্বরিক ঘোষণার মাধ্যমে নিরাময়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়। ঈশ্বর বা কোনো দেবতা তাকে নিরাময়ের ক্ষমতা দেন। এই নিরাময় বিভিন্ন রূপ নিতে পারে। ট্র্যান্স ডান্স বা ফুটন্ত শক্তির মতো আচার-অনুষ্ঠান শামনকে নিরাময় করার ক্ষমতা দেয় যা !কুংরা করে থাকে। আরেকটি রূপ হলো ভেষজ এবং ওষুধ সম্পর্কে নিরাময়কারীর ঐশ্বরিক সংযোগ থেকে জ্ঞান লাভ করা।

ধর্ম প্রায়শই আধ্যাত্মিক নিরাময়ে ভূমিকা পালন করে। কারণ লোকেরা উচ্চতর উৎসের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে এবং এই ধরনের উৎস থেকে শক্তি সঞ্চার করতে সক্ষম হয়। এই সত্তা ঈশ্বর, প্রকৃতি বা ব্যক্তির কাছে অর্থবহ অন্য কিছু হতে পারে। উল্লেখ্য যে এই সংযোগ তৈরি করা ব্যক্তি যদি উচ্চতর উৎসের প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতি এবং বিশ্বাস রাখে তবে নিরাপত্তা, মনের শান্তি এবং নির্দেশনার অনুভূতি আসার সম্ভাবনা থাকে। এই সবই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।

কুণ্ডলিনী তান্ত্রিক যোগ

[সম্পাদনা]

আধ্যাত্মিক নিরাময়ের একটি জনপ্রিয় রূপ হলো কুণ্ডলিনী তান্ত্রিক যোগ। ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে এটি চর্চা করা হয়। কুণ্ডলিনী শক্তি বলতে শরীরের ভেতরের সুপ্ত বা আধ্যাত্মিক শক্তিকে বোঝায় যা সম্পর্কে আমরা সাধারণত অবগত থাকি না। একবার গভীর ধ্যান এবং যোগের মাধ্যমে কুণ্ডলিনী শক্তি সক্রিয় হলে, নারী সিস্টেম বা কুণ্ডলিনী শক্তির চ্যানেলগুলোও সক্রিয় হয়। এটি চক্রের সাতটি স্তরের মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি করে। এগুলো হলো মেরুদণ্ড বরাবর থাকা চেতনার সম্ভাবনার কেন্দ্র। প্রতিটি চক্র একটি নির্দিষ্ট উপাদানের সাথে যুক্ত বাসনাগুলোর একটি সেটের সাথে মিলে যায়।

সাতটি ভিন্ন চক্রকে তাদের স্থানে চিত্রিত করা হয়েছে। প্রতিটি চক্রে ঠিক কতগুলো পাপড়ি আছে তাও দেখানো হয়েছে।

সাতটি চক্রের প্রথমটিকে মূলাধার বলা হয়। এর রঙ লাল এবং এটি যৌনাঙ্গ ও অণ্ডকোষের মাঝখানে থাকে বলে বলা হয়। এটি যৌনতা এবং প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করে। দ্বিতীয় চক্রটি কমলা রঙের এবং একে স্বাধিষ্ঠান বলা হয়। এটি পেটে থাকে এবং অন্যান্য জিনিসের পাশাপাশি সৃজনশীলতা নিয়ন্ত্রণ করে বলে বলা হয়। মণিপুর হলো তৃতীয় চক্র। এটি হলুদ রঙের এবং সোলার প্লেক্সের ঠিক নিচে থাকে ও মানুষের ইচ্ছাশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে। চতুর্থ চক্রটি হলো অনাহত। অনাহত হৃদপিণ্ডের কাছে অবস্থিত এবং এটি নিয়ন্ত্রণ করে। এর রঙ সবুজ। বিশুদ্ধ হলো পঞ্চম চক্র। এর রঙ ফিরোজা এবং এটি কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণ করে। এটি গলায় অবস্থিত। ষষ্ঠ চক্র আজ্ঞা হলো নীল রঙের। এটি মস্তিষ্কে থাকে এবং প্রজ্ঞা নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যান্য সমস্ত চক্রের মধ্যে শক্তি প্রবাহিত হওয়ার পরেই কেবল চূড়ান্ত চক্রটি ব্যবহার করা যেতে পারে। একে সহস্রার বলা হয়। এটি বেগুনি রঙের এবং জ্ঞান নিয়ে আসে। এটি মাথার ওপরে বসে এবং সর্বজনীন চেতনা ও ঐক্যের অনুপ্রেরণা জোগায় বলে বলা হয়।

কুণ্ডলিনী তান্ত্রিক যোগের লক্ষ্য হলো চক্রগুলোর মধ্য দিয়ে শক্তি ক্রমান্বয়ে ওপরে ওঠার সাথে সাথে নিজেকে এই ধরনের আকাঙ্ক্ষা থেকে মুক্ত করা। এটি ক্র্যানিয়ামের শীর্ষে অবস্থিত সহস্র চক্র বা সপ্তম চক্রে না পৌঁছানো পর্যন্ত এগুলোকে খুলতে থাকে। একজন ব্যক্তি তান্ত্রিক যোগের মাধ্যমে তার চক্রগুলোর মধ্য দিয়ে শক্তি সঞ্চার করতে পারে। তান্ত্রিক যোগ হলো এক ধরণের যোগ যেখানে কেউ বিভিন্ন শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, চিন্তা এবং ধ্যানের মাধ্যমে আকাঙ্ক্ষার মনকে মুক্ত করার চেষ্টা করে। সপ্তম চক্র অবশেষে খুলে গেলে, একজন ব্যক্তি পূর্ণ চেতনা লাভ করে এবং আকাঙ্ক্ষার দাসত্ব থেকে মুক্তি পায় বলে বলা হয়। প্রতিটি চক্র খোলার সাথে একজন ব্যক্তি যে আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা লাভ করে তার ফলে অভ্যন্তরীণ সম্প্রীতি এবং সামগ্রিক সুখ আসে। এগুলো একটি ইতিবাচক, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের উল্লেখযোগ্য দিক।

ধর্মীয় দিক থেকে, তান্ত্রিক যোগ অনুশীলনের সময় শরীর জুড়ে কুণ্ডলিনী শক্তির চলাচলের একটি ব্যাখ্যা হিন্দু পুরাণ দেয়। বলা হয় যে সর্প দেবী কুণ্ডলিনী শক্তি মেরুদণ্ডের গোড়ায় প্রথম চক্রের চারপাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকেন। তান্ত্রিক যোগের মাধ্যমে শক্তি সক্রিয় এবং মুক্ত হওয়ার সাথে সাথে তিনি জেগে ওঠেন এবং মেরুদণ্ডের ওপরে ওঠেন। পথে চক্রগুলো খোলেন এবং এই সচেতন সম্ভাবনাগুলোকে শক্তি যোগান। তিনি সপ্তম চক্রে পৌঁছালে তিনি তার স্বামী দেবতা শিবের সাথে মিলিত হন। শিব পরিবর্তন এবং পুরানো অভ্যাস ধ্বংসের প্রতীক। তাদের মিলন যোগ অনুশীলনকারী ব্যক্তির মুক্তির দিকে নিয়ে যায় এবং তাকে "মহাবিশ্বের একজন ব্যক্তি"-তে পরিণত করে।

পশ্চিমা বায়োমেডিকেল মডেল

[সম্পাদনা]
সেল কালচার ভায়াল।

এটি আজকের চিকিৎসায় সবচেয়ে জনপ্রিয় মেডিকেল মডেল। এটি সমস্ত পশ্চিমা সমাজ এবং অন্যান্য জায়গায় পাওয়া যায়। এটি রোগ নিরাময় এবং চিকিৎসার পদ্ধতি আবিষ্কার করার জন্য মানুষকে জৈবিক জীব হিসেবে দেখে। এই মডেলটি মূলত শারীরবৃত্ত এবং জৈব রসায়নের মতো শারীরিক প্রক্রিয়াগুলোর ওপর জোর দেয়। এটি সামাজিক বা আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে। বায়োমেডিকেল মডেলের অধীনে, স্বাস্থ্যকে ব্যথা বা রোগের অনুপস্থিতি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। শরীরকে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির সাহায্যে চিকিৎসা করা হয়।

এটি উল্লেখ করা উচিত যে বায়োমেডিকেল তত্ত্ব এবং অনুশীলনের পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি অসুস্থতা সম্পর্কিত নতুন বৈজ্ঞানিক এবং দার্শনিক আবিষ্কারগুলোর প্রতিক্রিয়ায় ক্রমাগত খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। মডেলটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের মাধ্যমে রোগের চিকিৎসা এবং নিরাময়ের ওপর জোর দেয়, এবং রোগ প্রতিরোধকে প্রচার করে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ব্যাধির জন্য চিকিৎসার একটি কার্যকর দিক হিসেবে প্রাকৃতিক চিকিৎসা (যা একসময় প্রধানত গোঁড়া বায়ো-মেডিসিনের সাথে সাংঘর্ষিক বলে বিবেচিত হতো) স্বীকৃতি পেয়েছে। বায়োমেডিসিনকে এমন একটি মডেল হিসেবে দেখা হয় যা শরীরের মেরামত করতে এবং চারপাশের পরিবেশ থেকে শরীরে হওয়া সমস্যাগুলো ঠিক করতে সাহায্য করে। শিল্প বিপ্লবের সময় বায়োমেডিসিনের উত্থান ঘটেছিল মানুষকে তাদের প্রভাবিত করা রোগগুলো থেকে সেরে উঠতে সাহায্য করার উপায় হিসেবে। (http://www.open.edu/openlearn/body-mind/health/health-studies/what-biomedicine)

পশ্চিমা বায়োমেডিকেল মডেলের একটি সমালোচনা হলো যে এটি তার অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত জ্ঞান এবং বিশ্বাসকে ছাড় দেয়। ব্যবস্থাটি 'পেশাগত জ্ঞানকে' সঠিক, যুক্তিসঙ্গত, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে সাধারণ বিশ্বাসগুলোকে অযৌক্তিক, অবৈজ্ঞানিক এবং দমনমূলক বলে মনে করা হয়। তাই এগুলো উপেক্ষা করা হয়। এটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এবং রোগীদের মধ্যে সম্ভাব্য উত্তেজনা সৃষ্টি করে।[৭]

জাতিতাত্ত্বিক উদাহরণ: আমাদের দেশের উন্নয়নে বায়োমেডিকেল মডেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর অনেক প্রভাবের মধ্যে একটি হলো w:যক্ষ্মার চিকিৎসা। এটি একটি জীবননাশী সংক্রামক রোগ। ১৮৮০ সালে রোগটি অধ্যয়নের পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেন যে এটি সংক্রামক। অ্যান্টিবায়োটিকের আগেও এটি কোয়ারেন্টাইন এবং জীবাণুমুক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমাতে সাহায্য করেছিল। প্রথম সফল টিকাদান ১৯০৬ সালে আলবার্ট ক্যালমেট এবং ক্যামিল গুয়েরিন তৈরি করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন এবং জার্মানিতে বোভাইন-স্ট্রেন w:যক্ষ্মা ভ্যাকসিন (ব্যাসিল ক্যালমেট-গুয়েরিন বা বিসিজি নামেও পরিচিত) মূলধারায় পরিণত হয়। ২০ শতকের মাঝামাঝি অ্যান্টিবায়োটিক স্ট্রেপটোমাইসিন আবিষ্কৃত হয়। এটি যক্ষ্মার জন্য একটি কার্যকর বিকল্প নিরাময় দেয়। অনেক স্ট্রেন নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। এর ফলে ইমিউনোলজিস্টরা আরও ক্ষতিকারক প্রজাতির নিরাময়ের জন্য নতুন ভ্যাকসিন এবং চিকিৎসা তৈরি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

টিকাদান

[সম্পাদনা]
কঙ্গোর কিবাটিতে শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে

টিকাদান শব্দটি কোনো নির্দিষ্ট সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে একটি জীবকে প্রতিরোধী করে তোলাকে বোঝায়। টিকাদান মানবদেহকে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে ট্রিগার করে কাজ করে। এটি কোনো নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া শুরু করার জন্য টিকাদানকারী ব্যক্তির শরীরে সামান্য পরিমাণ মৃত বা জীবন্ত ভাইরাস (ভাইরাসের ওপর নির্ভর করে) প্রবেশ করিয়ে অ্যান্টিবডি প্রতিক্রিয়া তৈরি করা হয়। তাই ভবিষ্যতে যদি টিকাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভাইরাসের সংস্পর্শে আসে তবে তার কাছে ভাইরাসটি প্রতিহত করার জন্য অ্যান্টিবডি আগে থেকেই থাকে। অনেক নতুন জটিল রোগের সূচনা এবং বিস্তারের পাশাপাশি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ওষুধের বিশ্বায়ন টিকাদানের বৃহত্তর প্রাপ্যতার মাধ্যমে গুটিবসন্ত এবং পোলিওর মতো অনেক পূর্বের বিধ্বংসী ব্যাধি নির্মূল করেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের নির্দিষ্ট সংক্রামক রোগ হওয়া প্রতিরোধ করার জন্য নিয়মিত টিকাদানের সময়সূচি তৈরি করেন। অনেক টিকা নিয়মিত এবং কেবল উন্নত দেশগুলোতেই সহজে পাওয়া যায়। তবে ওষুধের ক্রমাগত বিশ্বায়ন শেষ পর্যন্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করার ক্ষেত্রে একটি নাটকীয় প্রভাব ফেলবে।[৮] [৯]

কিছু সংস্কৃতিতে টিকাদান নিয়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে। টিকাদানের নৈতিকতা, নীতি, প্রয়োজনীয়তা, নিরাপত্তা এবং ব্যবহারিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের টিকা দেওয়া থেকে বিরত রেখেছেন। ভ্যাকসিনের বিরোধীরা দাবি করেন যে এগুলো বিপজ্জনক, অকার্যকর এবং ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘন করে।

নির্দিষ্ট ভ্যাকসিনগুলো শিশুদের মধ্যে অটিজমের কারণ কিনা তা নিয়ে বর্তমান বিতর্কটি এর একটি উদাহরণ। চিকিৎসকদের একটি ছোট কিন্তু নিবেদিত দল দাবি করে যে ভ্যাকসিনগুলো শিশুদের অটিজম শুরুর সাথে যুক্ত থাকতে পারে। ফলস্বরূপ অনেক অভিভাবক জোর দিয়ে বলেন যে তাদের সন্তানদের বাধ্যতামূলক ভ্যাকসিন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। যদিও এই দুটির মধ্যে সংযোগ প্রমাণ করে এমন কোনো চিকিৎসা অনুসন্ধান নেই।[১০]

বিশ্বায়ন এবং স্বাস্থ্য

[সম্পাদনা]

রোগতাত্ত্বিক রূপান্তর

[সম্পাদনা]
নতুন সংক্রামক রোগ
জনসংখ্যার মধ্যে উদ্ভূত নতুন রোগ। অথবা জনসংখ্যার মধ্যে বা ভৌগোলিক অঞ্চলে সংক্রামক ক্ষেত্রে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া রোগ। ১৯৪০ সাল থেকে ৩০০টিরও বেশি নতুন সংক্রামক রোগ আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত কয়েকটি হলো সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম (সার্স), মেথিসিলিন-রেজিস্ট্যান্ট স্টাফ (এমআরএসএ) এবং হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (এইচআইভি)। অনেক ওষুধ-প্রতিরোধী স্ট্রেন আরও সাধারণ হয়ে উঠছে এবং এই নতুন সংক্রামক রোগগুলোর ৭১% বন্যপ্রাণীতে শুরু হয়। বিশ্বায়নের বৃদ্ধির সাথে সাথে সংক্রামক রোগগুলো বৃহত্তর জনসংখ্যাকে প্রভাবিত করতে থাকবে। [৪] রোগের শ্রেণিবিন্যাস নিচে দেওয়া হলো। মহামারী হলো একটি বিরল রোগের স্থানীয় প্রাদুর্ভাব। এই রোগটি একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অনেক মানব জনসংখ্যার মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তাকে অতিমারী বা প্যানডেমিক হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
চিকিৎসা বহুত্ববাদ
বায়োমেডিসিন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবার একীকরণ। চিকিৎসা বহুত্ববাদের উদাহরণের মধ্যে রয়েছে তীব্র ট্রমা বা সংক্রমণের সময় অ্যান্টিবায়োটিক এবং ভ্যাকসিন নেওয়া। এর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং চাপ কমাতে রিলাক্সেশন রিচুয়াল পালন করা। চিকিৎসা বহুত্ববাদের মধ্যে সামগ্রিক সুস্থতার উন্নতি, বজায় রাখা এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন সুস্থতা কৌশল জড়িত। আগে চিকিৎসা বহুত্ববাদকে একটি যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হতো। একে "অন্যান্য" বা বিকল্প চিকিৎসা থেরাপি হিসেবে দেখা হতো যা ক্ষমতা নেওয়ার চেষ্টা করছিল। বর্তমানে চিকিৎসা বহুত্ববাদকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয় কারণ এটি কোনো কিছুর জন্য একাধিক সমাধান বা চিকিৎসা দিতে পারে [৫]।
উন্নয়নের রোগ
উন্নত দেশগুলোতে অসুস্থতা এবং মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো ক্যান্সার এবং শ্বাসযন্ত্র, কার্ডিওভাসকুলার এবং স্নায়ুতন্ত্রের রোগ। উন্নয়নশীল বিশ্বে সংক্রামক রোগগুলো প্রধান সমস্যা। মৃত্যু মূলত শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, এইচআইভি/এইডস, জন্মের সময় সংক্রমণ, ডায়রিয়াজনিত রোগ এবং ম্যালেরিয়ার মতো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগের কারণে ঘটে। বিদ্যমান চিকিৎসাগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহারে ব্যর্থতা, অপর্যাপ্ত বা অস্তিত্বহীন হস্তক্ষেপ এবং রোগ সম্পর্কে অপর্যাপ্ত জ্ঞান সবই স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ।

বিশ্বায়ন

[সম্পাদনা]

ম্যালেরিয়া

ম্যালেরিয়া।

ম্যালেরিয়া একটি মশাবাহিত রোগ। মশা সংক্রমিত ব্যক্তির রক্ত থেকে ম্যালেরিয়ার পরজীবী গ্রহণ করে। কেবল এক প্রজাতির মশা পরজীবী বহন করতে পারলেও ম্যালেরিয়ার পরজীবীর চার ধরনের প্রকারভেদ রয়েছে। এর ফলে চার ধরনের ম্যালেরিয়া দেখা যায়। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাঁপুনি, জয়েন্টে ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি, খিঁচুনি এবং কোমা। সংক্রমিত ব্যক্তির চিকিৎসা না করা হলে সে মারা যেতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বায়ন ভ্রমণ, যুদ্ধ এবং নগরায়নের মাধ্যমে ম্যালেরিয়ার বিস্তার বাড়িয়েছে। ম্যালেরিয়া আক্রান্ত দেশের হার বেশি এমন দেশগুলোতে ভ্রমণকারী ব্যক্তিরা সংক্রামিত হতে পারে এবং তাদের দেশে রোগটি ফিরিয়ে আনতে পারে। ম্যালেরিয়া বহনকারী মশারা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে লুকিয়ে সংক্রামিত এলাকা থেকে দূরে রোগটি নিয়ে যেতে পারে। যুদ্ধের সময়কার শরণার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে উপাদানগুলোর সংস্পর্শে থাকে এবং সহিংসতা থেকে বাঁচতে সীমানা পার হয়। তারা ম্যালেরিয়া বহনকারী মশাদের সংস্পর্শে আসার বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

এইচআইভি এবং এইডস

এইডস (অ্যাকোয়ার্ড ইমিউন ডেফিসিয়েন্সি সিন্ড্রোম) একটি নিরাময় অযোগ্য রোগ। এটি রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আক্রমণ করে। এইচআইভি (হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস) সংক্রমণের কারণে এইডস হয়। এটি যৌন যোগাযোগ, সুই ভাগ করে নেওয়া এবং সংক্রামিত রক্তের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে শরীরের তরল আদান-প্রদানের মাধ্যমে ছড়ায়। এইচআইভি/এইডস একটি বৈশ্বিক রোগ। দরিদ্র দেশগুলোতে এর হার সবচেয়ে বেশি যেখানে উন্নত স্বাস্থ্যসেবার অভাব রয়েছে। অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল ওষুধের মাধ্যমে সংক্রামিত ব্যক্তির আয়ু বাড়ানো গেলেও রোগটি শেষ পর্যন্ত মারাত্মক।

অসংখ্য দেশে প্রচেষ্টা সত্ত্বেও অনেক অংশে নতুন এইচআইভি কেসের সংখ্যা কমাতে সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিগুলো অসফল হয়েছে। এসব অংশে দারিদ্র্য এবং সামাজিক রীতিনীতি মানুষের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সোয়াজিল্যান্ডের মতো মহামারীটির উচ্চ প্রভাব রয়েছে এমন দেশগুলোতেও জনসংখ্যার একটি বড় অংশ বিশ্বাস করে না যে তারা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে আচরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে এইচআইভির যৌন সংক্রমণ প্রতিরোধের ওপর নজর দেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে এইচআইভি প্রতিরোধের জন্য অন্তর্নিহিত আর্থ-সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং আইনি বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

গুটিবসন্ত

গুটিবসন্ত ভ্যারিওলা ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে রক্তক্ষরণ, অন্ধত্ব, পিঠে ব্যথা এবং বমি। ভাইরাসটি ইনকিউবেশন সময়ের পর ত্বকের কোষগুলোতে আক্রমণ করে। এতে পিম্পল এবং পুঁজ তৈরি হয় যা রোগটি আরও ছড়াতে পারে। গুটিবসন্ত সহজেই কাশি বা হাঁচির মতো বায়ুবাহিত পথ দিয়ে সংক্রমিত হয়। এছাড়া দূষিত বিছানা এবং পোশাকের মাধ্যমেও এটি ছড়ায়।

১৫শ শতাব্দীতে ইউরেশিয়ায় গুটিবসন্ত একটি সাধারণ রোগ ছিল। কলম্বাসের মতো অভিযাত্রী এবং আক্রমণকারীদের মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৬শ শতাব্দীতে স্প্যানিশ সৈন্যরা টেনোচটিটলানের অ্যাজটেক আদিবাসীদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে গুটিবসন্ত নিয়ে আসে। এতে একটি বিধ্বংসী মহামারী তৈরি হয় এবং হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। ১৬১৭ সালে গুটিবসন্ত ম্যাসাচুসেটসে পৌঁছায় এবং ১৬৩৮ সালের মধ্যে বস্টনে ছড়িয়ে পড়ে। ১৭২১ সালে প্রাদুর্ভাবের পর পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা অন্যান্য তেরোটি উপনিবেশে রোগটি ছড়িয়ে দেয়। ১৮শ শতাব্দীতে একটি ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছিল এবং ১৯৭৯ সালের মধ্যে রোগটি বিশ্বব্যাপী সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হয়েছে।

মানসিক স্বাস্থ্য এবং সংস্কৃতি-আবদ্ধ সিনড্রোম

[সম্পাদনা]

সংস্কৃতি-আবদ্ধ সিনড্রোমগুলো হলো এমন কিছু অবস্থা যেখানে আচরণ ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তন মানুষের জীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। এগুলোকে সিনড্রোম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, অসুস্থতা নয়। সিনড্রোম হলো এমন একদল লক্ষণের সমষ্টি যা একসঙ্গে উপস্থিত থাকলে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাধি, রোগ ইত্যাদির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।[৬] বৈশিষ্ট্য বা নির্দেশক লক্ষণগুলোর ধরন কোনো বিশেষ সামাজিক অবস্থার (যেমন ভারী দূষণ) কারণ হতে পারে। সিনড্রোম অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসার মতো সংস্কৃতি-আবদ্ধ সিনড্রোম হতে পারে। আবার এটি ডাউনস সিনড্রোমের মতো জৈবিক সিনড্রোমও হতে পারে। সিনড্রোম শব্দটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ "একসাথে দৌড়ানো"। চিকিৎসা নৃবিজ্ঞান সংস্কৃতি-আবদ্ধ সিনড্রোমকে মানসিক ও শারীরিক লক্ষণগুলোর সংমিশ্রণ হিসেবে বর্ণনা করে। এটিকে একটি শনাক্তযোগ্য রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয় যা কেবল একটি নির্দিষ্ট সমাজ বা সংস্কৃতির মধ্যে আবিষ্কৃত হয়। এতে শরীরের অঙ্গ বা ক্রিয়াকলাপের জৈব রাসায়নিক বা কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন হয় না। রোগটি অন্য সংস্কৃতিতে স্বীকৃত নয়। মানসিক ব্যাধিগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে সেই সংস্কৃতি দ্বারা শর্তযুক্ত যেখানে সেগুলো পাওয়া যায়। তবে কিছু ব্যাধি অন্যদের চেয়ে বেশি সংস্কৃতি-নির্দিষ্ট। সংস্কৃতি-আবদ্ধ সিনড্রোমের ধারণাটি একটি বিতর্কিত বিষয়। অনেক মনোবিজ্ঞানী, চিকিৎসা চিকিৎসক এবং নৃবিজ্ঞানী ধারণাটি প্রত্যাখ্যান করেন।

আসক্তি

[সম্পাদনা]

আসক্তি একটি গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যা বিশ্বব্যাপী সংস্কৃতিতে উপস্থিত। আসক্তি হলো কোনো রাসায়নিক পদার্থ, ক্রিয়া বা আইটেমের প্রতি মানসিকভাবে বা শারীরিকভাবে নির্ভরশীল হওয়ার অবস্থা। আসক্তি প্রায়শই খুব অল্প বয়স থেকে শুরু হয়। কোনো ব্যক্তির নেশাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কারণগুলো অনেক রকম হতে পারে। যৌবনে তাদের লালনপালন এবং পরিবেশ থেকে শুরু করে পরবর্তী জীবনে তারা যাদের সাথে চলাফেরা করতে পছন্দ করে, সবই এর অন্তর্ভুক্ত। হেরোইনের মতো অনেক পদার্থ প্রথম ব্যবহারের পরই অত্যন্ত আসক্তি তৈরি করে। হেরোইন অনেক দেশে উদ্বেগজনক বৃদ্ধির হারসহ বৃহত্তম স্বাস্থ্য উদ্বেগের অন্যতম হয়ে উঠেছে। www.drugabuse.gov-এর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৬ সালে ৯০,০০০ মানুষ প্রথমবারের মতো হেরোইন নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। এর ঠিক ৬ বছর পর ২০১২ সালে উদ্বেগজনকভাবে ১,৫৬,০০০ জন এটি নিয়েছিল। আসক্তি প্রায়শই আসক্তদের আকাঙ্ক্ষা এবং বাসনার মাধ্যমে মানসিক ব্যাধি হিসেবে উদ্ভূত হয়। তবে এটি খুব দ্রুত একটি শারীরিক নির্ভরতায় পরিণত হতে পারে যা অনেক নেতিবাচক স্বাস্থ্য প্রভাবের দিকে নিয়ে যায়। হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের প্রতি আসক্তি প্রায় সবসময়ই দ্রুত আসক্ত ব্যক্তির শরীরকে ক্ষয় করে এবং এটি খুব প্রায়শই মারাত্মক হয়।

সাংস্কৃতিক কারণেও আসক্তি দেখা দিতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট কাজ বা শখের প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হওয়া এর উদাহরণ। সুস্থতার জন্য দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজগুলোতে বাধা সৃষ্টি করলে এটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।[১১]

স্থূলতা

[সম্পাদনা]
বেশিরভাগ সোডা পানীয়ে পাওয়া হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ হলো স্থূলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধে এক নম্বর শত্রু।

স্থূলতা এমন একটি অবস্থা যা ৩০ কোটিরও বেশি মানুষকে প্রভাবিত করে।([১২]) প্রথম বিশ্বের দেশগুলোতে স্থূলতা সবচেয়ে সাধারণ এবং এটি লাখ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করে। স্থূলতা এমন একজন ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয় যার ওজন এমন পর্যায়ে বেশি যা তার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এমন অনেক অন্যান্য অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একজন ব্যক্তির বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) ৩০ কেজি/বর্গমিটার ছাড়িয়ে গেলে তাকে স্থূল বলা হয়।([১২]) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) স্থূলতাকে বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর শীর্ষ ১০টি কারণের একটি হিসেবে বিবেচনা করে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের আকর্ষণীয় এবং কাঙ্ক্ষিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অতিরিক্ত সম্পদ, বিলাসবহুলভাবে বাঁচার ক্ষমতা ইত্যাদির কারণে এমনটি মনে করা হয়। মজার বিষয় হলো উন্নত দেশগুলোতে শরীরের ওজন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি এর বিপরীত। সেখানে পাতলা হওয়া সৌন্দর্য, সম্পদ এবং সুস্বাস্থ্যের ইঙ্গিত দেয়। যারা ধনী তারা সুষম এবং স্বাস্থ্যকর (এবং প্রায়শই বেশি ব্যয়বহুল) খাবার খেতে পারে। তাদের একটি জিমে বা ব্যক্তিগত প্রশিক্ষকের সাহায্যে ব্যায়াম করার বিলাসিতা, সময় এবং অর্থ রয়েছে।

অ্যাটাক দে নার্ভিওস

[সম্পাদনা]

এটি ক্যারিবীয় ল্যাটিনোদের মধ্যে ব্যবহৃত একটি শব্দ। সংস্কৃতি-আবদ্ধ সিনড্রোম বা মানসিক অবস্থাকে বর্ণনা করতে এটি ব্যবহৃত হয়। অনিয়ন্ত্রিত চিৎকার, কান্না, আক্রমণাত্মকতা, কাঁপুনি, অজ্ঞান হওয়া এবং আত্মঘাতী ভঙ্গি এর বৈশিষ্ট্য। অ্যাটাক দে নার্ভিওস সাধারণত একটি চাপযুক্ত ঘটনার পর ঘটে। প্রিয়জনের মৃত্যু, বিবাহবিচ্ছেদ বা অন্যান্য পারিবারিক দ্বন্দ্ব এর উদাহরণ। এই অসুস্থতাটি ডিএসএম-ফোর দ্বারা সংজ্ঞায়িত প্যানিক অ্যাটাকের বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে মিলে যায়। একটি অ্যাটাক সাধারণত কোনো ঘটনার পর ঘটে, তীব্র ভয় বা আশঙ্কার অনুপস্থিতিতে ঘটে এবং অ্যাটাকের কারণে স্মৃতিভ্রংশ বা অ্যামনেসিয়া দেখা দেয়।

মাল দে ওজো

[সম্পাদনা]

বমি, জ্বর, ডায়রিয়া এবং মানসিক সমস্যার (যেমন, উদ্বেগ, হতাশা) মতো চিকিৎসা সমস্যাগুলো মাল দে ওজোর (কুনজর) কারণে হতে পারে যা একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কাছ থেকে অনুভব করেছেন। মাল দে ওজো শুরু হয় যখন বেশি শক্তির কোনো ব্যক্তি ঈর্ষা বা প্রশংসার বশে দুর্বল প্রতিপক্ষের দিকে তাকায়।[১৩] এই অবস্থাটি শিশু ও বাচ্চাদের মধ্যে সাধারণ। প্রাপ্তবয়স্করাও এই মাল দে ওজোর ফলে অনুরূপ লক্ষণগুলো অনুভব করতে পারে। মাল দে ওজো নিরাময়ের অনেক ভিন্ন উপায় রয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকায় সবচেয়ে সাধারণ উপায় হলো সন্তানের ওপর একটি ডিম ঘষা। তখন অভিভাবক সন্তানের জন্য প্রার্থনা করেন। তারপর ডিমটি একটি বাটিতে রেখে সন্তানের বালিশের নিচে রাখেন। সকালে যদি বাটিতে সাদা কুয়াশা দেখা যায় তবে বোঝা যায় সন্তান মাল দে ওজো দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। এই প্রক্রিয়াটি এটি নিরাময়ও করে।[১৪]

ইটিং ডিসঅর্ডার

[সম্পাদনা]
অ্যানোরেক্সিয়ায় আক্রান্ত পপ আইকনরা এই রোগটি সম্পর্কে জনপ্রিয় সচেতনতা বাড়িয়েছেন।

অস্বাভাবিক বা বিক্ষিপ্ত খাদ্যাভ্যাস দ্বারা চিহ্নিত যেকোনো মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধিকে ইটিং ডিসঅর্ডার বলা হয়। সবচেয়ে সাধারণ ইটিং ডিসঅর্ডার হলো অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা।

  • অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা

অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা হলো একটি ইটিং ডিসঅর্ডার। এটিকে সাধারণত অ্যানোরেক্সিয়া বলা হয়। অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা হলো একটি মানসিক অসুস্থতা যা নির্দিষ্টভাবে "ওজন বাড়ার অতিরিক্ত ভয়" হিসেবে সংজ্ঞায়িত। এই ভয় ব্যক্তিকে খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে। এই ব্যাধিটি সবচেয়ে বেশি তরুণ কিশোরীদের প্রভাবিত করে। মোট রিপোর্ট করা ক্ষেত্রে পুরুষদের পরিমাণ মাত্র ১০%। বুলিমিয়া নার্ভোসা হলো অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসার মতো একটি সংস্কৃতি-আবদ্ধ সিনড্রোম যেখানে পার্জিং বা বমি করে খাবার বের করা ওজন কমানোর পদ্ধতি। অনেক সময় এই ইটিং ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কেবল একটি নির্দিষ্ট ইটিং ডিসঅর্ডার থাকে না। এটি মূলত অ্যানোরেক্সিয়া, বুলিমিয়া এবং অত্যধিক খাওয়ার সংমিশ্রণ হতে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি নিজেকে না খেয়ে থাকতে বাধ্য করতে পারে, কিন্তু যদি সে খায় তবে সে অত্যধিক ব্যায়াম করতে পারে এবং তারপর আবার অত্যধিক খেতে পারে। [১৫] তবে কিছু ক্ষেত্রে ওজন বৃদ্ধির সাধারণ ভয়ের চেয়ে অন্যান্য সমস্যার মোকাবিলার ব্যবস্থা হিসেবে এই ইটিং ডিসঅর্ডারগুলো তৈরি হয়। ভুক্তভোগীদের নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি প্রদান করে অ্যানোরেক্সিয়া এবং বুলিমিয়া মনকে শান্ত করতে সাহায্য করতে পারে, এমনকি লক্ষ্য ওজন কমানো ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা খোঁজা হলেও।

ওজন কমানো এবং ওজন বৃদ্ধি রোধ করতে প্রাথমিকভাবে ব্যবহৃত প্রক্রিয়াটি হলো স্বেচ্ছায় অনাহার। শারীরিক চিত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পার্জিং, অত্যধিক ব্যায়াম এবং খাদ্যতালিকাগত বড়ি ব্যবহারের মতো অন্যান্য পদ্ধতিগুলোও ব্যবহৃত হয়। এই রোগের কারণের জন্য প্রস্তাবিত কারণগুলোর একটি হলো গণমাধ্যমে তরুণ নারী ও পুরুষদের ওপর চিত্রিত ছবিগুলোর প্রভাব। এটি স্লিম বা রোগা হওয়ার প্রয়োজনীয়তা দাবি করে, কারণ সামাজিকভাবে কেবল এভাবেই দেখতে সুন্দর বলে গ্রহণযোগ্য।

লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

-জনসমক্ষে খেতে অস্বীকার করা, এড়িয়ে যাওয়া বা না চাওয়া।

-উদ্বেগ।

-দুর্বলতা।

-ভঙ্গুর ত্বক।

-শ্বাসকষ্ট।

-ক্যালরি গ্রহণের বিষয়ে অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা।

-পেশী ক্ষয়।

-অতিরিক্তভাবে, অ্যানোরেক্সিক ব্যক্তিদের নিজেদের সম্পর্কে একটি বিকৃত, নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করার প্রবণতা রয়েছে। "Anorexia" [অ্যানোরেক্সিয়া]। ম্যামাস হেলথ। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০০৯।  </ref> [১৬]

http://images.mylot.com/userImages/images/postphotos/1897668.jpg

  • বডি ইমেজ এবং ফিটনেস

অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসার মতো ইটিং ডিসঅর্ডারগুলো প্রায়শই বডি ইমেজের সমস্যার কারণে হয়। বিশ্বের প্রতিটি সংস্কৃতির "আদর্শ শরীর" কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই মানগুলো বিশেষত বেশি। সামাজিক মাধ্যম, ফ্যাশন ম্যাগাজিন এবং সৌন্দর্য বিজ্ঞাপনের ক্রমবর্ধমান এক্সপোজারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কিশোর-কিশোরীরা (বিশেষত তরুণ নারীরা) এই "নিখুঁত শরীর" পাওয়ার জন্য ক্রমশ চাপ অনুভব করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু লোকের "নিখুঁত" হওয়ার জন্য চরম পর্যায়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর এবং সম্ভাব্য জীবন-হুমকিপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ w:অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা বা বুলিমিয়া নার্ভোসার মতো ইটিং ডিসঅর্ডার।

অ্যাভয়ডেন্ট/রেস্ট্রিক্টিভ ফুড ইনটেক ডিসঅর্ডার

[সম্পাদনা]

অ্যাভয়ডেন্ট/রেস্ট্রিক্টিভ ফুড ইনটেক ডিসঅর্ডার বা এআরএফআইডি হলো একটি ইটিং ডিসঅর্ডার। ২০১৩ সালে ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল ম্যানুয়াল অফ মেন্টাল ডিসঅর্ডারসের ৫ম সংস্করণ (ডিএসএম-ফাইভ) প্রকাশিত হওয়ার পর একে ইডিএনওএস (ইটিং ডিসঅর্ডার নট আদারওয়াইজ স্পেসিফায়েড) থেকে স্বাধীন করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে "ফিডিং ডিসঅর্ডার অফ ইনফ্যান্সি অর আর্লি চাইল্ডহুড" নামের একটি ব্যাধি ছিল যা একই ধরনের রোগ নির্ণয়ের তালিকাভুক্ত করেছিল। তবে ডিএসএম-ফাইভে এটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কারণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে এআরএফআইডি এমন একটি ব্যাধি যা প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও ঘটে।

ব্যাধিটিকে নিজেই একটি ফোবিক ভয়ের মতো বর্ণনা করা যেতে পারে। এটি অ্যানোরেক্সিয়া বা বুলিমিয়ার মতো ইটিং ডিসঅর্ডারগুলোর বডি ইমেজ এবং আত্মমর্যাদার সমস্যার পরিবর্তে নতুন এবং অপরিচিত খাবার নিয়ে উদ্বেগ থেকে উদ্ভূত হয়।

এআরএফআইডি নির্ণয় করার জন্য ডিএসএম-ফাইভ এই মানদণ্ডগুলো দেয়:

  • খাওয়া বা খাওয়ানোর ক্ষেত্রে ব্যাঘাত, যা নিচে দেওয়া এক বা একাধিক মাধ্যমে প্রমাণিত হয়:
  • উল্লেখযোগ্য ওজন হ্রাস (বা শিশুদের ক্ষেত্রে, প্রত্যাশিত ওজন বৃদ্ধির অভাব)।
  • পুষ্টির অভাব।
  • ফিডিং টিউব বা ডায়েটারি সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভরতা।
  • উল্লেখযোগ্য মনোসামাজিক হস্তক্ষেপ।
  • খাবারের অনুপলব্ধতা বা সাংস্কৃতিক রীতিনীতি পর্যবেক্ষণের কারণে ব্যাঘাত নয়।
  • অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা বা বুলিমিয়া নার্ভোসার কারণে ব্যাঘাত নয়, এবং শরীরের আকার বা ওজনের অভিজ্ঞতায় ব্যাঘাতের কোনো প্রমাণ নেই।
  • অন্য কোনো চিকিৎসা পরিস্থিতি বা মানসিক ব্যাধি দ্বারা ব্যাঘাতটি আরও ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, অথবা অন্য কোনো অবস্থার সাথে একযোগে ঘটলে, ব্যাঘাতটি সাধারণত সেই অবস্থার কারণে সৃষ্ট ব্যাঘাতকে ছাড়িয়ে যায়।

এআরএফআইডি থাকা একজন ব্যক্তি "খাবারে বাছবিচার করা" শিশুর মতো আচরণ করে। তাদের সাধারণত অল্প সংখ্যক "নিরাপদ খাবার" থাকে যা তারা স্বাভাবিকভাবে খায় এবং সেগুলোতে তাদের কোনো সমস্যা হয় না। তবে তাদের নিরাপদ খাবারের বাইরের বেশিরভাগ নতুন বা অপরিচিত খাবার অযৌক্তিক এবং চরম (কখনো কখনো ফোবিক-স্তরের) ভয় এবং উদ্বেগের কারণ হয়। এটি প্রায়শই একটি পূর্ণাঙ্গ উদ্বেগ/প্যানিক অ্যাটাক বা ব্রেকডাউনের দিকে নিয়ে যায়। কোনো খাবারের চেহারা, গন্ধ, টেক্সচার বা অন্য যেকোনো কারণেই এটি হতে পারে।

এআরএফআইডি থাকা অনেক কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্ক তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় ধরে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা পাননি। কারণ কেবল সাম্প্রতিক বছরগুলোতেই এই ব্যাধিটি শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এটিও ধরে নেওয়া যেতে পারে যে এআরএফআইডি থাকা বেশিরভাগ লোক সম্পূর্ণ অসচেতন যে তাদের অদ্ভুত খাদ্যাভ্যাসের সমস্যাগুলো সম্ভবত একটি বৈধ ব্যাধি, এবং এটি কেবল "খাবারে বাছবিচার করা" নয় যা তারা শৈশব থেকেই পরিবর্তন করেনি। এআরএফআইডি কেবল একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্যেই নয়, তাদের সামাজিক জীবনেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এআরএফআইডি থাকা ব্যক্তিরা খাবার জড়িত সামাজিক জমায়েতগুলো এড়িয়ে চলার প্রবণতা দেখাতে পারে। খাবার জড়িত ছুটির দিনগুলো উপভোগ করার চেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

এআরএফআইডি-র চিকিৎসা নিয়ে খুব বেশি গবেষণা না হলেও অনেকেই জ্ঞানীয় আচরণগত থেরাপি বা হিপনোটিজম বেছে নেন। এর মাধ্যমে তারা একটি সাধারণ খাবারের তালিকা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের দিকে কাজ করতে পারেন।

মালয়েশিয়ার হঠাৎ মেজাজ পরিবর্তন/আগ্রাসন।

আমোক হলো এমন একটি মানসিক ব্যাধি যেখানে সাধারণত আগে কখনও বিরূপ আচরণ না করা পুরুষরা হঠাৎ মেজাজ পরিবর্তনের সম্মুখীন হয় এবং হিংস্র ও রাগান্বিত হয়ে ওঠে। গভীর লজ্জা প্রায়শই হঠাৎ মেজাজ পরিবর্তনের কারণ বলে মনে হয়। এই পরিবর্তনগুলো হিংসা বা জুয়া খেলার ক্ষতির মতো পরিস্থিতি এবং অনুভূতির কারণে হতে পারে। মেজাজ পরিবর্তনের সমস্যায় ভোগা লোকেরা প্রায়শই তাদের সামনে পড়া যে কাউকেই আঘাত করতে বা হত্যা করার চেষ্টা করবে। প্রায়শই এই মেজাজ পরিবর্তনে থাকা লোকদের আত্মরক্ষার জন্য বা অন্যান্য কারণে দর্শনার্থীরা মেরে ফেলে। অথবা আমোকে ভোগা ব্যক্তি আত্মহত্যা করে। শব্দটি মালয়, ইন্দোনেশিয়ান এবং ফিলিপিনো শব্দ "আমুক" থেকে এসেছে যার অর্থ "রাগে পাগল"। শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রে স্ল্যাং বা অপশব্দে পরিবর্তিত হয়েছে। রানিং আমোক বাক্যাংশটি এমন কাউকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয় যে পাগলের মতো আচরণ করছে বা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

ধাত সিনড্রোম

[সম্পাদনা]

রোগী রাতের বেলা নির্গমনের মাধ্যমে অতিরিক্ত বীর্য হারানোর চিন্তায় মগ্ন থাকে। প্রস্রাবের সাথে বীর্য হারিয়ে যাচ্ছে এবং মিশে যাচ্ছে বলে ভয় থাকে। হিন্দু সংস্কৃতি এবং ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে "৪০ বার খাবার খেলে এক ফোঁটা রক্ত তৈরি হয়, ৪০ ফোঁটা রক্ত এক ফোঁটা অস্থিমজ্জা তৈরি করে এবং ৪০ ফোঁটা মজ্জা এক ফোঁটা বীর্য তৈরি করে।" ভারতের হিন্দু সংস্কৃতিতে মনে করা হয় যে বীর্য হারানো স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাতে পারে এবং স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। এটি কেবল ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়। ধাত সিনড্রোমের লক্ষণগুলো হলো বিষণ্নতা, অতিরিক্ত চিন্তা, ঘুমের সমস্যা, যৌন মিলনে অক্ষমতা, ক্লান্তি এবং মাথাব্যথা ইত্যাদি। বিষণ্নতা এবং উদ্বেগের এই লক্ষণগুলোর চিকিৎসা করার জন্য কাউন্সেলিং বা অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি বা অ্যান্টি-ডিপ্রেশন ওষুধগুলো কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। [৭]

জেনিটাল রিট্র্যাকশন সিনড্রোম (কোরো)

[সম্পাদনা]

শরীরের ভেতর ঢুকে যাওয়া। (মালয় কোরো, সুদান মেল্টিং পেনিস/সেল ফোন ফেনোমেনন)

•জেনিটাল রিট্র্যাকশন সিনড্রোম হলো একটি সংস্কৃতি-আবদ্ধ সিনড্রোম যা বেশিরভাগ আফ্রিকান এবং এশীয় পুরুষদের মধ্যে ঘটে। এই সিনড্রোমের ফলে পুরুষরা মনে করে যে তাদের লিঙ্গ তাদের পেটের ভেতর কুঁচকে যাবে এবং তারা মারা যাবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই সিনড্রোমটি "কোরো" নামে পরিচিত হয়েছে, যার অর্থ "কচ্ছপের মাথা"। একে পেনিস প্যানিকও বলা যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে পুরুষদের একটি বড় দল তাদের যৌনাঙ্গ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হতে পারে। প্রায়শই এই ভয়গুলো এমন সংস্কৃতিতে আসে যেখানে জাদুবিদ্যা ব্যবহৃত হয়, বা যেখানে জৈবিক শিক্ষা পাওয়া যায় না। ১৯৯৭ সালে ঘানার লিঞ্চিং মব বিদেশীদের আক্রমণ করেছিল। পুরুষদের লিঙ্গ ছোট করতে সক্ষম যাদুকর হিসেবে অভিযুক্ত করে তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছিল।

লাতাহ

[সম্পাদনা]

লাতাহ হলো একটি সংস্কৃতি-আবদ্ধ সিনড্রোম যা মালয়েশিয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ান সংস্কৃতিতে বিদ্যমান। এই সিনড্রোমের লক্ষণ দেখানো লোকেরা অতিরিক্ত চমকে ওঠার মাধ্যমে সামান্য উদ্দীপকের প্রতিক্রিয়া জানায়। কখনো কখনো চমকে ওঠার পর এই সিনড্রোমে ভোগা লোকেরা তাদের চারপাশের লোকদের আদেশ পালন করবে বা ক্রিয়াকলাপ অনুকরণ করবে। লাতাহের বেশিরভাগ ঘটনাই ইচ্ছাকৃতভাবে চারপাশের লোকদের বিনোদনের জন্য উস্কে দেওয়া হয়। লাতাহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমাজগুলোর সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার নির্দিষ্ট কারণগুলোর সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত যেখানে এটি পাওয়া যায়। লাতাহ সিনড্রোম অত্যন্ত গতিশীল এবং জটিল উপায়গুলোর উদাহরণ দেয় যেখানে এই সংস্কৃতিগুলোতে একটি দৃঢ়ভাবে চিহ্নিত ঘটনা তৈরি করার জন্য নিউরোফিজিওলজিকাল, অভিজ্ঞতামূলক এবং সাংস্কৃতিক চলকগুলো একে অপরের সাথে মিলে যায়। এটি হাইপারস্টার্টলিং কন্ডিশন হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। এটি প্রধানত মালয় সংস্কৃতিতে ঘটে। লাতাহ বলতে এই অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদেরও বোঝায়, যার মধ্যে প্রধানত প্রাপ্তবয়স্ক নারী থাকে। এই আচরণের পর্বগুলোতে সাধারণত লাতাহদের তাদের কাজের জন্য দায়ী করা হয় না। এটি হাইপারেক্সপ্লেক্সিয়া নামের আরেকটি অবস্থার সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নারী, মান্য করা, কাজের জন্য দায়ী নয়)

পিবলকতো

[সম্পাদনা]

[[Image:Inuit-Kleidung 1.jpg|thumb|right|দুই ইনুইট নারী ও এক শিশু। উৎস: অ্যাংসার ওয়াক দ্বারা গৃহীত [৮] পিবলকতো (উচ্চারণ পি-ব্লক-তো) ইনুইট থেকে ইংরেজিতে আক্ষরিক অনুবাদে "রানিং ক্রেজি" বা "পাগলের মতো দৌড়ানো" বোঝায়। এটি একটি হিস্টেরিকাল/ডিসোসিয়েটিভ অবস্থা। এটি বেশিরভাগ শীতকালে ঘটে এবং সাধারণত ইনুইট বা এস্কিমো নারীদের মধ্যে দেখা যায়। এটি বিরক্তিকর আচরণের ছোট আক্রমণের বৈশিষ্ট্যযুক্ত। পরবর্তীতে ব্যক্তিটি এর কিছুই মনে করতে পারে না।

লক্ষণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে বরফের ভেতর দিয়ে নগ্ন হয়ে দৌড়ানো, প্রচণ্ড ঠান্ডার প্রতি অসংবেদনশীলতা, কপ্রোফ্যাগিয়া (মল খাওয়া), একোলালিয়া (শব্দের পুনরাবৃত্তি), বিষণ্নতা, চিৎকার, কান্না এবং অন্যান্য মানুষ ও প্রাণীদের প্রতি সহিংসতা। পিবলকতো সবচেয়ে বেশি ইনুইট উপজাতির নারীদের মধ্যে দেখা যায়। এই মানুষগুলো উত্তর কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, আলাস্কার উপকূলীয় অঞ্চল এবং উত্তর-পূর্ব এশিয়া/রাশিয়ার অঞ্চলগুলোতে বাস করে। তারা খুব কঠোর পরিস্থিতিতে বাস করতে পারে। তারা বছরের বেশিরভাগ সময় আর্কটিক তুন্দ্রার বরফ এবং তুষার সহ্য করে। শিশুদের মধ্যে পিবলকতোর কোনো রেকর্ড করা ঘটনা নেই। তবে আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর নারীদের দিনে ৫ বার পর্যন্ত হিস্টিরিয়ার আক্রমণ হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। ইনুইটদের খাদ্যাভ্যাস মূলত বন্য শিকার, তিমি এবং সিলের মাংস নিয়ে গঠিত। প্রোটিন, সেলেনিয়াম এবং চর্বি সমৃদ্ধ খাবার এই লোকেদের ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি পিবলকতোর জৈবিক/মানসিক অসুস্থতা থেকে বাঁচায় না। সাধারণত মনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা হিসেবে ভাবা হলেও পিবলকতো ভিটামিন এ বিষাক্ততা বা হাইপারভিটামিনোসিস এ-এর সাথে যুক্ত হতে পারে। প্রি-ফর্মড ভিটামিন এ অত্যধিক গ্রহণের কারণে ভিটামিন এ বিষাক্ততা ঘটে। এটি একবারে ডায়েটে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন এ থাকার ফলাফল। এটি পরিবর্তিত মানসিক অবস্থা, বিভ্রান্তি, মাথাব্যথা এবং বিরক্তির কারণ হতে পারে। সেইসাথে পিবলকতোর সাধারণ অনেক লক্ষণও দেখা দিতে পারে। ইনুইট কুকুরদের মধ্যেও পিবলকতো রেকর্ড করা হয়েছে। এই কুকুরগুলোকে সংক্রামক হিসেবে বিবেচনা করা হয় না, তবে প্রথম লক্ষণ দেখা দিলে তাদের গুলি করে মারা হয় এবং তারপর উপজাতির লোকেরা তাদের খেয়ে ফেলে। এসএডি- সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিজিজ; এই সিনড্রোমের সাথে ঢিলেঢালাভাবে যুক্ত। কারণ আবহাওয়া এবং আলো এমন কিছু কারণ যা বিষণ্নতার মতো লক্ষণগুলোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। [১৭]

সুস্তো

[সম্পাদনা]

সুস্তো হলো একটি লোক অসুস্থতা যা সাধারণত ল্যাটিন আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। "সুস্তো" শব্দটি ভয়ের পর্তুগিজ এবং স্প্যানিশ শব্দ থেকে এসেছে। এভাবে অসুস্থতাকে "ভয়জনিত অসুস্থতা" বলা হয়। একে "স্পিরিট অ্যাটাক" বা "আত্মার আক্রমণ"-ও বলা হয়। এটি নেটিভ আমেরিকানদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ। প্রিয়জনের মৃত্যু, দুর্ঘটনা বা অন্য যেকোনো শারীরিক ব্যথার কারণ হতে পারে এমন মানসিক আঘাতজনিত অভিজ্ঞতা থেকে এই রোগটি সাধারণত তৈরি হয়। এটি নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা গেলেও পুরুষ এবং শিশুদের মধ্যেও পাওয়া যেতে পারে। পশ্চিমা ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় অসুস্থতাটি স্বীকৃত নয়, তবে এটিকে সাধারণত উদ্বেগজনিত ব্যাধিগুলোর সাথে তুলনা করা হয়।

সুস্তোর লক্ষণগুলো হতে পারে নার্ভাসনেস, অ্যানোরেক্সিয়া, অনিদ্রা, অবসাদ, হতাশা, অনৈচ্ছিক পেশীর টিক এবং ডায়রিয়া। এই অসুস্থতার চিকিৎসাগুলো বেশিরভাগ প্রাকৃতিক এবং ভেষজ হয়। এর মধ্যে মারিজুয়ানা চা, ব্রাজিল উড এবং কমলা ফুল খাওয়া অন্তর্ভুক্ত। নিরাময়কারী হিসেবে পরিচিত একজন ব্যক্তি সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসাগুলো করেন। এতে বিভিন্ন ধরণের আচার-অনুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। মানসিক আঘাতজনিত অভিজ্ঞতা ঘটার যত কাছাকাছি সময়ে এই আচারগুলো অনুশীলন করা হয়, তত ভালো। ঘটনাটি স্বীকার করা এবং এটি দমন না করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সুস্তো প্রায়শই অন্যান্য বায়োমেডিকেল অসুস্থতার সাথে তুলনীয়। ২০০২ সালে ল্যাটিন সম্প্রদায়, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং গুয়াতেমালায় সুস্তো সম্পর্কে গবেষণা পরিচালিত হয়েছিল। প্রথমে তারা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সুস্তোকে সংজ্ঞায়িত করেছিল। অঞ্চলভেদে সংজ্ঞাটি ভিন্ন হলেও মূল ধারণাটি ছিল যে সুস্তো একটি ভয়জনিত অসুস্থতা, এবং অগত্যা আত্মা হারানোর কারণে নয়। এটিকে একটি গুরুতর অসুস্থতা হিসেবে দেখা হয়েছিল যা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তবে এই লোক অসুস্থতাটিকে বায়োমেডিকেল সংস্কৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত সংস্কৃতিতে ভালোভাবে বোঝার জন্য সুস্তোকে হতাশাজনক ব্যাধি, পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার এবং সোমাটোফর্ম ব্যাধিগুলোর সাথে সবচেয়ে ভালোভাবে সম্পর্কিত করা হয়।[১৮]

অপসোফাগোস

[সম্পাদনা]

অপসোফাগোস হলো একটি প্রাচীন গ্রিক লেবেল। এটি এমন কাউকে দেওয়া হতো যার মাছ খাওয়ার চরম এবং অপ্রতিরোধ্য ইচ্ছা ছিল।

শব্দটি একটি ব্যক্তির চরিত্রের সংজ্ঞা, আক্ষরিক অর্থে মাছের প্রতি তাদের সাধারণ স্বাদ নয়। কাউকে এই শব্দটি দিয়ে অভিযুক্ত করা খুব নেতিবাচকভাবে নির্দেশিত। এটি অতিরিক্ত লিপ্ত আচরণ থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার সমতুল্য। এটি গ্রিক সমাজে একটি নিষিদ্ধ বিষয়। অপসোফাগোস অশিক্ষিত এবং বর্বর শব্দগুলোর সমার্থক। শব্দগুলো যৌক্তিকতার বিপরীত। মাছটি কেবল অতিরিক্ত লিপ্ত হওয়ার একটি প্রতীক।

গ্রিক কল্পকাহিনীগুলো অপসোফাগোসকে একজন পেটুক এবং লোভী মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে। সে তৈরি করা সমস্ত মাছ খেয়ে ফেলত এবং কারও সাথে ভাগ করত না। অপসোফাগোসের আঁকা ছবিটি একটি আদর্শ মানুষের বিপরীত ছিল। এর গলায় একটি তাপ-প্রতিরোধী অংশ রয়েছে। অন্য সবার খাওয়ার জন্য খুব গরম মাছগুলো এটি সামলাতে পারে। তাই সে কেবল নিজের জন্য মাছ রাখতে পারে।

আমেরিকার জুডিও-খ্রিস্টান ঐতিহ্যের বিপরীতে গ্রিক চিন্তা এবং নৈতিকতা সাধারণ ঠিক বা ভুলের গোঁড়া, সাদা-কালো দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে বেশি নমনীয়। উদাহরণস্বরূপ, নারী বা ওয়াইনকে বাদ দেওয়ার বদলে গ্রিকরা বিশ্বাস করে যে "অতিরিক্ত কিছুই ভালো নয়"। তারা জীবনের আনন্দ উপভোগ করে তবে নিয়ন্ত্রণের অধীনে। এটি বদভ্যাস দমন করার আমেরিকান ধারণার বিপরীত এবং কীভাবে নেতিবাচক অভ্যাসগুলো পুরোপুরি "কোল্ড টার্কি" বাদ দেওয়া উচিত তার বিপরীত।

http://www.nytimes.com/books/98/09/06/reviews/980906.06jenkynt.html

http://www.washingtonpost.com/wp-srv/style/books/reviews/courtesansandfishcakes0830.htm

ঘোস্ট সিকনেস

[সম্পাদনা]
ডাস্ট ডেভিল হলো ঘোস্ট সিকনেস বা ভূত রোগের একটি প্রকাশের উদাহরণ

ঘোস্ট সিকনেস নাভাজো নেশন থেকে উদ্ভূত। এটিকে মৃত্যুর সাথে যুক্ত একটি মানসিক ব্যাধি বলে মনে করা হয়। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্লান্তি, পুনরাবৃত্ত দুঃস্বপ্ন, হ্যালুসিনেশন এবং ক্রমাগত ভয়ের অনুভূতি। নাভাজো নেশনের লোকেরা বিশ্বাস করে যে একটি চিন্দি ঘোস্ট সিকনেসের কারণ। চিন্দি হলো নাভাজো উপজাতির ভূত। অনেকেই বিশ্বাস করে যে এই ভূতটি একজন ব্যক্তির মৃত্যুর শেষ নিঃশ্বাসের সময় মুক্তি পায়। এটি প্রায় সর্বদা একটি অশুভ শক্তি বলেও বিশ্বাস করা হয়। একটি চিন্দির সাধারণ প্রকাশ ডাস্ট ডেভিল বলে মনে করা হয়। তারা যে দিকে ঘোরে তা নির্দেশ করে যে এটি 'ভালো' চিন্দি নাকি 'খারাপ'। ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরাকে ভালো বলে মনে করা হয় এবং ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘোরাকে খারাপ বলে মনে করা হয়। অন্যান্য নেটিভ আমেরিকান উপজাতিগুলোর ঘোস্ট সিকনেসের পরিবর্তিত বিশ্বাস রয়েছে। তারা এটি ছড়িয়ে দেওয়া প্রতিরোধ বা এড়ানোর চেষ্টা করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৮০০-এর দশকে লাকোটা উপজাতি অসুস্থতা এড়াতে শোকের আচার-অনুষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করেছিল। তবে অনেকেই এখনও পরিবর্তিত আচার-অনুষ্ঠান অনুশীলন করে।

উইন্ডিগো

[সম্পাদনা]

উইন্ডিগো (বা উইটিকো) একটি সংস্কৃতি-আবদ্ধ সিনড্রোম। এটি অ্যালগনকিয়ান ভারতীয়, উত্তর-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্র এবং পূর্ব কানাডার মানুষের মধ্যে পাওয়া যায়। উইন্ডিগো হলো অবসেসিভ ক্যানিবালিজম বা অন্যের মাংস খাওয়ার বিখ্যাত সিনড্রোম। উইন্ডিগো সন্দিহান চোখের নিচে পড়েছে এবং এখন অনেকের কাছে কিছুটা অবিশ্বস্ত। উইন্ডিগো থেকে ভোগার জন্য নির্যাতিত হওয়ার অযৌক্তিক উপলব্ধির কারণে এই অবস্থার আধুনিক চিকিৎসা নির্ণয় সম্ভবত একে প্যারানয়া হিসেবে চিহ্নিত করবে। মানুষের মাংস খাওয়া ভুল, এই সাংস্কৃতিক সর্বজনীনতার কারণে উইন্ডিগো শিকারীদের মধ্যে শাস্তির ভয় প্রচলিত। উইন্ডিগো দুর্ভিক্ষ বা চরম পরিস্থিতিতে মানুষের মাংস খাওয়ার মাধ্যমে উদ্ভূত হয় বলে ধারণা করা হতো। এরপর মাংস খাওয়া ব্যক্তি মানুষের মাংসের প্রতি আকাঙ্ক্ষা এবং মানুষকে হত্যা করে খাওয়ার চিন্তায় তাড়িত হয় বলে মনে করা হতো। অন্য কথায় উইন্ডিগো হলো নরখাদকে একটি অবাঞ্ছিত রূপান্তর।

কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট লেক অঞ্চলে যেখানে জলবায়ু খুব কঠোর ছিল, সেখানে উইন্ডিগোর উদ্ভব হয়েছিল। প্রবল তুষারঝড়ের কারণে বাড়িতে আটকা পড়া পরিবারগুলোর কাছে অপর্যাপ্ত খাবার এবং সরবরাহ থাকলে এটি তৈরি হতো। উইন্ডিগোর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে বমি এবং ক্ষুধা মন্দা। এরপর ব্যক্তি নিজের সম্পর্কে বিভ্রম তৈরি করতে শুরু করে। সে বিশ্বাস করে যে সে একটি উইন্ডিগো দানবে পরিণত হচ্ছে। উইন্ডিগো সাইকোসিসে ভোগা লোকেরা দাবি করে যে তারা অন্যদের খাওয়ার যোগ্য হিসেবে দেখে। এটি সময়ের সাথে সাথে কেবল বাড়তেই থাকে। ব্যক্তি রূপান্তর সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সাথে সাথে তারা নরখাদক হয়ে ওঠার তীব্র ভয় পেতে শুরু করে। উইন্ডিগো সাইকোসিসের শিকার ব্যক্তিরা প্রায়শই তীব্র আতঙ্ক এবং উদ্বেগের সম্মুখীন হন। উইন্ডিগো দানব হওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য আত্মহত্যা করা একটি সাধারণ বিষয়। [৯]

জার[১০] ইথিওপিয়া, সোমালিয়া, মিশর, সুদান, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য স্থানে অনুভব করা হয়। জার হলে আত্মা ভর করেছে বলে মনে হয়। সম্ভাব্য কিছু লক্ষণ হলো চিৎকার, হাসি, গান গাওয়া, কান্না বা কোনো পৃষ্ঠের সাথে মাথা ঠোকা। ব্যক্তিরা খাওয়া বা দৈনন্দিন কাজ করার মতো সাধারণ কাজগুলো করতে অস্বীকার করতে পারে। তারা নিজেদের গুটিয়ে নিতে পারে এবং উদাসীনতা দেখাতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তি অধিকারী আত্মার সাথে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। তবে এটি একটি বিরল লক্ষণ। শামানিক নিরাময়কারীদের প্রশিক্ষণ এবং অনুশীলনের অংশ হিসেবেও জার ব্যবহার করা যেতে পারে। [১১] এটি সাধারণত আফ্রিকায় অনুশীলন করা হয় এবং ইউরোপে অপরিচিত। যেহেতু এটি একটি ট্রান্স যা একটি শামানিক আচারের অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় প্ররোচিত হয়, তাই এটিকে ব্যাধি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

অভিবাসীরা ইথিওপিয়া থেকে ইস্রায়েলে চলে গেলে অনেক ক্ষেত্রে জার অনুভব করা হয়েছিল। তখন জার সবচেয়ে বেশি ঘটত বলে জানা যায়। স্বেচ্ছায় প্ররোচিত আত্মা হিসেবে জার উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আফ্রিকায় এবং অন্যান্য মহাদেশে আত্মার দ্বারা অধিকার পাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ ঘটনাগুলোর একটি হলো জার।

গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

[সম্পাদনা]

চিকিৎসা সমন্বয়বাদ - একাধিক চিকিৎসা পদ্ধতির সংমিশ্রণ। যেমন আধ্যাত্মিক এবং বায়োমেডিকেল অনুশীলনের সংমিশ্রণ।

ব্যক্তিগত ব্যবস্থা - যেখানে একটি অসুস্থতাকে রোগীর জন্য অনন্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অসুস্থতা অতিপ্রাকৃতিক শক্তির কারণে ঘটে বলে চিকিৎসা অনুশীলনকারীরা রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসায় সহায়তা করার জন্য প্রায়শই অতিপ্রাকৃতিক শক্তির আহ্বান জানান।

পরিবেশগত পদচিহ্ন - পরিবেশগত পদচিহ্ন হলো একটি পরিমাণগত সরঞ্জাম। এটি প্রকৃতির ওপর মানুষের চাহিদা পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ লোকেরা কতটা গ্রহণ করে এবং কতটা বর্জ্য তৈরি করে তা বলা যায়।

বায়োমার্কার জীবের মধ্যে পরিমাপযোগ্য পদার্থ। এর উপস্থিতি রোগ, সংক্রমণ বা পরিবেশগত এক্সপোজারের মতো কিছু ঘটনার ইঙ্গিত দেয়।

পেয়োট:- মেক্সিকো এবং দক্ষিণ যুক্তরাষ্ট্রের একটি নিরাময়কারী পদার্থ। এটি একটি হ্যালুসিনোজেন। এতে মেসকালিন রয়েছে।

অ্যাফ্রোডিসিয়াক বা কামোদ্দীপক- এমন একটি খাবার বা পদার্থ যা যৌন শক্তি বা দক্ষতা বাড়ায় বলে বিশ্বাস করা হয়।

অপরিহার্য তেল: প্রাকৃতিক তেলের সংকলন যা বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা এবং ব্যথা প্রশমিত করতে বা নিরাময় করতে নানাভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

হিউমর: চিকিৎসা ক্ষেত্রে হিউমর হলো এক ধরনের তরল পদার্থ। একসময় বিশ্বাস করা হতো যে মানুষের স্বাস্থ্য শরীরের নির্দিষ্ট চারটি হিউমরের ভারসাম্যের সাথে যুক্ত। এগুলো হলো কফ, রক্ত, কালো পিত্ত এবং হলুদ পিত্ত।

চিকিৎসা বহুত্ববাদ: বায়োমেডিসিন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবার একীকরণ।

দ্য কিওর-অল হার্ব: কিঙ্কিউলিবা নামে পরিচিত একটি সাধারণ পানযোগ্য ভেষজ। এটি পশ্চিম আফ্রিকার জনসংখ্যা সর্দি, ফ্লু এবং অন্যান্য অনেক স্বাস্থ্য অসুস্থতার জন্য ব্যবহার করে।

বায়োপাইরেসি: বিদেশি সংস্থাগুলোর দ্বারা উদ্ভিদ এবং প্রাণী প্রজাতির সাধারণ ব্যবহার সীমাবদ্ধ করার জন্য তাদের শোষণ।

প্লাসবো প্রভাব চিকিৎসার ওপর রোগীর বিশ্বাসের কারণে যে প্রভাব তৈরি হয়।

বায়োকালচারাল মানুষের জীববিজ্ঞান এবং সংস্কৃতির মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে। বিবর্তন কীভাবে রোগকে প্রভাবিত করে এবং লোকেরা কীভাবে তাদের সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে এগুলো ব্যাখ্যা করে তা বর্ণনা করে।

চিকিৎসাকরণ একটি মানবিক অবস্থা তৈরি করার প্রক্রিয়া। একে সংজ্ঞায়িত করার জন্য মানদণ্ড তৈরি করা হয়। এরপর প্রতিরোধের কৌশল, চিকিৎসা এবং গবেষণা তৈরি করার জন্য এটিকে চিকিৎসা অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অসুস্থতার ব্যাখ্যামূলক মডেল কীভাবে রোগীরা তাদের অসুস্থতা বর্ণনা এবং মূল্যায়ন করে। তাদের অবস্থার ওপর তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং মোকাবিলা করার ক্ষমতা। রোগের ফলাফলের সাথে এর সম্পৃক্ততা।

সংস্কৃতি আবদ্ধ সিনড্রোম এমন একটি রোগ যা কেবল একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতির মধ্যেই স্বীকৃত। এতে মানসিক এবং শারীরিক লক্ষণগুলোর সংমিশ্রণ থাকে।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ http://altmedicine.about.com/cs/herbsvitaminsek/a/Goldenseal.htm
  2. ↑ "A Worldwide Fight Against Biopiracy and Patents on Life" [বায়োপাইরেসি ও জীবনের ওপর পেটেন্টের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াই]। থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০০৯। 
  3. ↑ "Biopiracy and relat" [বায়োপাইরেসি ও সম্পর্কিত] (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি। ২৪ জুন ২০০০। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৭। 
  4. ↑ http://www.enotes.com/public-health-encyclopedia/theories-health-illness
  5. ↑ Carol R. Ember; Melvin Ember। "Encyclopedia of Medical Anthropology" [চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানের বিশ্বকোষ]। 
  6. ↑ http://www.infohub.com/TRAVEL/SIT/sit_pages/4295.html
  7. ↑ http://openlearn.open.ac.uk/mod/resource/view.php?id=278223
  8. ↑ . সূত্র: http://www.answers.com/topic/immunization
  9. ↑ সূত্র: href="http://www.wisegeek.com/how-do-immunizations-work.htm#il">সূত্র: হাউ ডু ইমিউনাইজেশনস ওয়ার্ক?</a>
  10. ↑ http://specialchildren.about.com/od/autismandvaccines/i/vaccines_2.htm
  11. ↑ আসক্তি - (https://www.psychologytoday.com/basics/addiction)
  12. ↑ ১২.০ ১২.১ ব্যাকগ্রাউন্ডার, ইন্টারন্যাশনাল ফুড ইনফরমেশন কাউন্সিল ফাউন্ডেশন। http://www.ific.org/nutrition/obesity/index.cfm
  13. ↑ মাল দে ওজো। http://altmed.creighton.edu/MexicanFolk/mal_de_ojo.htm
  14. ↑ http://www.mnstate.edu/robertsb/306/culture%20bound%20syndromes.PDF
  15. ↑ অ্যালেক্সিস গ্র্যাডউহল, স্কাইলাইন হাই স্কুল, ডেভেলপমেন্টাল সায়েন্সেস টিচার, ২০০৯
  16. ↑ "Anorexia Causes" [অ্যানোরেক্সিয়ার কারণ]। সিগনিফিকেন্ট হেলথ। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০০৯। 
  17. ↑ http://www.sarahefron.com/stories/arctichysteria.shtml
  18. ↑ লোউ, সানা, মার্থা সাজাতোভিচ, এবং জেফ্রি এল. লংহোফার। ডাইভারসিটি ইস্যুস ইন দ্য ডায়াগনোসিস, ট্রিটমেন্ট, অ্যান্ড রিসার্চ অব মুড ডিসঅর্ডারস। ইলাস্ট্রেটেড। যুক্তরাষ্ট্র: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০০৭।

আলী, আল-ওয়াবেল, শামস, আহমদ, খান, এবং আনোয়ার। (২০১৫)। এসেনশিয়াল অয়েলস ইউজড ইন অ্যারোমাথেরাপি: এ সিস্টেমিক রিভিউ। এশিয়ান প্যাসিফিক জার্নাল অফ ট্রপিক্যাল বায়োমেডিসিন, ৫(৮), ৬০১-৬১১।

http://en.wikipedia.org/wiki/Running_amok

^ http://home.earthlink.net/~youngturck/Chapter13.htm

^ http://www.who.int/tdr/publications/tdr-research-publications/globalization-infectious-diseases/pdf/seb_topic3.pdf

^ http://www.medanthro.net/definition.html

http://www.4woman.gov/faq/anorexia-nervosa.cfm

^ ফক, নিলস (১৯৬৩)। ওয়াইওয়াই। রিলিজিয়ন অ্যান্ড সোসাইটি অব অ্যান অ্যামাজোনিয়ান ট্রাইব। ন্যাশনালমুসিটস স্ক্রিফটার, এটনোগ্রাফিস্ক র‍্যাকে (এথনোগ্রাফিকাল সিরিজ), অষ্টম। কোপেনহেগেন: দ্য ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ডেনমার্ক।

^ আল্টশুল, সারা। "ইনকন্টিনেন্স: ফাইনালি, রিলিফ দ্যাট ওয়ার্কস।" প্রিভেনশন ডিসেম্বর ২০০৫: ৩৩। অ্যাকাডেমিক সার্চ প্রিমিয়ার। এবিএসসিও। ৩০ জানুয়ারি ২০০৬

^ http://dictionary.reference.com/browse/syndrome?qsrc=2888

^

^

^ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ৮ মার্চ ২০০৯ <www.who.int/bulletin/bulletin_board/83/ustun11051/en/>।

^

"ডায়াগনস্টিক ক্রসওভার ইন অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা অ্যান্ড বুলিমিয়া নার্ভোসা: ইমপ্লিকেশনস ফর ডিএসএম-ফাইভ.." অ্যামেরিকান জার্নাল অব সাইকিয়াট্রি ফেব্রুয়ারি ২০০৮। ৯ মার্চ ২০০৯ <http://search.medscape.com/medline-search;jsessionid=02EF3791A6C560EFD57A1211CF77FB0D?newSearch=1&queryTextanorexia>।

১.http://www.annfammed.org/cgi/content/abstract/3/3/255 ২.note|Hahn, Robert. সিকনেস অ্যান্ড হিলিং। ইয়েল ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৯৬।

"ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন: এ কল টু অ্যাকশন", ট্রৌবিয়া এন: নিউ ইয়র্ক, নিউ ইয়র্ক, উইমেন, ইঙ্ক, ১৯৯৩। ৪৮ পৃষ্ঠা।

← উৎপাদন, বৈষম্য ও উন্নয়ন · মানবাধিকার →

  1. ^ ট্রু, উইলিয়াম আর. ১৯৮৪। প্রসপেক্টিভ অন পোস্টডক্টরাল পাবলিক হেলথ ট্রেনিং ফর মেডিকেল অ্যানথ্রোপোলজি। মেডিকেল অ্যানথ্রোপোলজি কোয়ার্টারলি ১৫(৪): ৯৫ – ৯৬।
  2. ^ শেপার-হিউজেস, ন্যান্সি, এবং মার্গারেট লক। ১৯৮৬। স্পিকিং “ট্রুথ” টু ইলনেস: মেটাফোরস, রেইফিকেশন, অ্যান্ড এ পেডাগোজি ফর পেশেন্টস। মেডিকেল অ্যানথ্রোপোলজি কোয়ার্টারলি ১৭(৫):১৪৭-৪০।
  3. ^ রুবেল, আর্থার। ১৯৬৪। দ্য এপিডেমিওলজি অফ ফোক ইলনেস। এথনোলজি ৩:২৬৮ – ৮৩।
  4. ^ সার্জেন্ট, ক্যারোলিন, এবং টমাস জনসন। হ্যান্ডবুক অব মেডিকেল অ্যানথ্রোপোলজি: কনটেম্পোরারি থিওরি অ্যান্ড মেথড রিভাইসড এডিশন। ওয়েস্টপোর্ট, সিটি: গ্রিনউড প্রেস, ১৯৯৬।