বিষয়বস্তুতে চলুন

সমাজবিজ্ঞানের পরিচিতি/সমাজবিজ্ঞানীয় পদ্ধতি

উইকিবই থেকে
প্যাট দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। কোন কলেজে ভর্তি হবে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যার প্রভাব সারাজীবন ধরে থাকতে পারে, কিন্তু কোন কলেজটি তার জন্য সঠিক হবে তা নির্ধারণ করা কঠিন ছিল। তারা একাধিক কলেজে আবেদন করেছিল এবং ভর্তি হওয়ার গৃহীতও পেয়েছিল, কিন্তু এখন একটি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় এসেছে। তারা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায়তার জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য চেয়েছিল, কিন্তু তারা ভিন্ন ভিন্ন উৎস থেকে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পেয়েছিল।। প্যাটের বাবা-মা মনে করতেন, বাড়ির কাছের কলেজটিই সেরা পছন্দ হবে। এতে খরচ কম হবে এবং প্যাট বাড়িতে থেকে টাকা বাঁচাতে পারবে। তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু চাইছিলো তারা দুজনেই একই কলেজে ভর্তি হোক যাতে তারা রুমমেট হতে পারে, অথচ প্যাটের দাদা-দাদি মনে করতেন, কলেজে ভর্তি হওয়াটাই একপ্রকার সময় ও অর্থের অপচয়।

এই মতবিরোধ সত্ত্বেও, প্যাট একজন সমাজবিজ্ঞানীর লেখা একটি প্রবন্ধে উল্লিখিত সুপারিশগুলো নিয়ে ভাবতে থাকল। ওই সমাজবিজ্ঞানী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ থেকে স্নাতক হওয়া বহু মানুষের জীবনপথ বিশ্লেষণ করেছিলেন। প্রবন্ধটির সুপারিশগুলো বন্ধু ও পরিবারের সুপারিশের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন ছিল। এত ভিন্ন ভিন্ন তথ্যের মাঝে, প্যাট কীভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে?

ভূমিকা

[সম্পাদনা]

এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য হলো সমাজবিজ্ঞানীরা কীভাবে সামাজিক জীবন অধ্যয়ন করেন, সেই পদ্ধতিগুলোর পরিচয় দেওয়া। এটি পরিসংখ্যান সম্পর্কিত কোনও অধ্যায় নয় এবং এখানে সমাজতাত্ত্বিক তদন্তের নির্দিষ্ট পদ্ধতিগুলির বিশদ বিবরণও নেই। মূল লক্ষ্য হলো বোঝানো যে সমাজবিজ্ঞানীরা কীভাবে প্রচলিত সাধারণ জ্ঞানের বাইরে গিয়ে সামাজিক ঘটনা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেন। সমাজবিজ্ঞানীরা বিশ্বকে সাধারণ মানুষের মতো দেখেন না; বরং তারা প্রশ্ন করেন এবং বিশ্লেষণ করেন কেন কোনো ঘটনা ঘটে এবং কোনো সমস্যা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করার উপায় আছে কিনা।

এই অধ্যায়ে যেসব বিষয় আলোচিত হবে তার মধ্যে রয়েছে—সমাজবিজ্ঞানীরা কীভাবে সামাজিক জীবন সম্পর্কে কর্তৃত্বপূর্ণভাবে বক্তব্য রাখেন, তার পদ্ধতি। জ্ঞান অর্জনের জন্য মানুষ বিভিন্ন উপায় ব্যবহার করে থাকে। কয়েকটি সাধারণ উদাহরণ হলো:

কর্তৃত্ব: যখন আপনি কোনো উৎসকে তথ্যের জন্য বিশ্বাস করেন, তখন সেই উৎসটি আপনার জীবনে কর্তৃত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়। পিতামাতা, বন্ধু, গণমাধ্যম, ধর্মীয় নেতা, আপনার শিক্ষক, বই বা ওয়েব পেজ—এসবই তথ্যের মাধ্যম হিসেবে কেউ কেউ বিশ্বাস করে থাকেন।

অভিজ্ঞতা: মানুষ প্রায়ই দাবি করে যে তারা কোনো অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কিছু শিখেছে, যেমন—একটি গাড়ি দুর্ঘটনা বা কোনো ধরনের মাদক ব্যবহার। কিছু শারীরিক দক্ষতা, যেমন—ওয়াটার স্কিইং বা বাস্কেটবল খেলা, মূলত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জিত হয়। তবে কিছু অভিজ্ঞতা একান্ত ব্যক্তিগত এবং সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।

যুক্তি: সাধারণ অনুমান প্রায়ই সত্য ও মিথ্যা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয় এবং এটি দর্শনের প্রধান জ্ঞান অর্জনের উপায়। কেউ বলতে পারে, যদি ব্যক্তি A পানিতে ভর্তি সুইমিং পুলে পড়ে, তবে ব্যক্তি A ভিজে যাবে। যদি এই উপপাদ্য সত্য হয় এবং ব্যক্তি A পুলে পড়ে, তাহলে আমরা অনুমান করতে পারি যে সে ভিজেছে।

পরম্পরা: অনেক সমাজ যেখানে শিল্পায়ন ঘটেনি, সেখানে মানুষ ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত পূর্বপুরুষদের করা কাজ অনুসরণ করে নেয়। আধুনিক সমাজেও অনেকেই প্রতি বছর একইভাবে উৎসব উদযাপন করে তৃপ্তি পায়। তবে আধুনিক সমাজে দ্রুত পরিবর্তনের কারণে প্রথাগত জ্ঞান প্রায়ই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কম কার্যকর।

প্রকাশ: কেউ কেউ ধর্মীয় গ্রন্থ পড়ে এবং তাতে বিশ্বাস করে জ্ঞান অর্জনের দাবি করেন, যেমন—তোরা, বাইবেল, কুরআন, ভগবদ গীতা, অথবা বুক অফ মরমন। আবার কেউ কেউ উচ্চতর শক্তির কাছ থেকে অন্তর্জ্ঞানের মাধ্যমে বা কণ্ঠস্বর শোনার মাধ্যমে জ্ঞান লাভের দাবি করেন।

বিজ্ঞান: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যুক্তির সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত অভিজ্ঞতাকে একত্র করে নতুনভাবে আবিষ্কারের পথ তৈরি করে, যা সংবেদনশীল অভিজ্ঞতাকে সুপরিকল্পিত চিন্তার সঙ্গে মিলিয়ে দেয়। কারণ ও ফলাফলের একটি মডেল অনুসরণ করে বিজ্ঞানীরা এমন জ্ঞান তৈরি করেন যা নির্দিষ্ট ঘটনাগুলো ব্যাখ্যা করতে পারে এবং ভবিষ্যদ্বাণীও করতে পারে।

এই বিভিন্ন জ্ঞান অর্জনের উপায়গুলোকে বলা হয় জ্ঞানতত্ত্ব বা epistemologies। একটি epistemology হলো জ্ঞান অর্জনের একটি পদ্ধতি। সমাজবিজ্ঞানে বৈজ্ঞানিকভাবে সংগৃহীত তথ্যকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ, অন্য কোনো পদ্ধতিতে সংগৃহীত তথ্য যদি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত না হয়, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি

[সম্পাদনা]

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা প্রক্রিয়াকে সাধারণভাবে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং যাচাইযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নতুন জ্ঞান অর্জনের মৌলিক উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করার পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে সামাজিক জগতকে অন্বেষণ করেন। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের (যেমন: রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি) মতো, সমাজবিজ্ঞানীরাও ভেরিয়েবল এবং সম্পর্কসমূহের জ্ঞান থেকে ফলাফল পূর্বাভাসে আগ্রহী হতে পারেন এবং প্রায়ই থাকেন। এই ‘বিজ্ঞানচর্চার’ পদ্ধতিকে প্রায়শই পজিটিভিজম বলা হয় (যদিও সম্ভবত আরও সঠিকভাবে একে এমপিরিসিজম বলা উচিত)। পজিটিভিস্ট দৃষ্টিভঙ্গিতে সামাজিক বিজ্ঞান সামাজিক ঘটনা ব্যাখ্যা ও পূর্বাভাস দিতে চায় এবং প্রায়ই একটি পরিমাণগত (quantitative) পদ্ধতি ব্যবহার করে, যেখানে সামাজিক জীবনের বিভিন্ন দিককে সংখ্যাগত কোডে রূপান্তর করে বিশ্লেষণ করা হয়, যা সাধারণ পর্যবেক্ষকের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে সাধারণত যুক্তিনির্মিত অনুমান (deductive reasoning) ব্যবহৃত হয়, যেখানে একটি তত্ত্ব ও অনুমান তৈরি করে পরে তা বাস্তব তথ্য দিয়ে যাচাই করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞানের বিপরীতে, সমাজবিজ্ঞান (এবং নৃবিজ্ঞানসহ অন্যান্য সামাজিক বিজ্ঞান) প্রায়শই সামাজিক ঘটনাকে শুধুমাত্র বোঝার চেষ্টা করে। ম্যাক্স ভেবার এই পদ্ধতিকে Verstehen বলেছেন, যা জার্মান ভাষায় “বোঝা” বোঝায়। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে গুণগত সমাজবিজ্ঞান বলা হয়, যার লক্ষ্য হলো একটি সংস্কৃতি বা ঘটনাকে তার নিজস্ব পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা, ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্য তত্ত্ব তৈরি করা নয়। গুণগত সমাজবিজ্ঞানীরা প্রায়ই ইন্দাক্টিভ রিজনিং বা অভিপ্রায়মূলক যুক্তি ব্যবহার করেন, যেখানে গবেষক একটি ঘটনা নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে বাস্তবিক ও ভিত্তিসম্পন্ন বোঝাপড়া গড়ে তোলেন।

উভয় পদ্ধতিতেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়: তারা পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ করে, অনুমান তৈরি করে এবং তা যাচাই বা পরিমার্জন করে তত্ত্ব গড়ে তোলে। এই ধাপগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সমাজবিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ, অনুমান, ইন্দাকশন ও ডিডাকশন ব্যবহার করে সামাজিক ঘটনাকে বোঝেন এবং শেষ পর্যন্ত তা ব্যাখ্যার জন্য তত্ত্ব তৈরি করেন। এসব তত্ত্ব থেকে পূর্বাভাস দেওয়া হয়। যদি পূর্বাভাসটি সঠিক হয়, তত্ত্বটি টিকে যায়। যদি না হয়, তাহলে তা সংশোধন বা পরিত্যাগ করা হয়। এই পদ্ধতিকে বৈজ্ঞানিক অনুশীলনের মূল যুক্তি হিসেবে ধরা হয়। বিজ্ঞান মূলত একটি অত্যন্ত সতর্ক উপায়ে আমাদের প্রাকৃতিক ও সামাজিক জগত সম্পর্কে প্রমাণভিত্তিক বোঝাপড়া গড়ে তোলার উপায়।

একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মৌলিক উপাদান হলো নিচের চার ধাপের পুনরাবৃত্তি ও চক্রবৃদ্ধি:

  1. চরিত্রায়ণ (Operationalization বা পরিমাণায়ন, পর্যবেক্ষণ ও/বা পরিমাপ)
  2. অনুমান (পর্যবেক্ষণ ও/বা পরিমাপের একটি তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা)
  3. পূর্বাভাস (অনুমান থেকে যৌক্তিক ডিডাকশন বা তথ্য থেকে ইন্দাকশন)
  4. পরীক্ষা (সংবেদনশীল ইনপুটের সঙ্গে তুলনা করে অনুমান যাচাই করা)

চরিত্রায়ণ

[সম্পাদনা]

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিগুলো গবেষণার বিষয়বস্তুর একটি সতর্ক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ চরিত্রায়ণের উপর নির্ভরশীল। এই প্রক্রিয়ায় প্রাসঙ্গিক বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করার জন্য সংজ্ঞা নির্ধারণ ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হতে পারে। পর্যবেক্ষণে প্রায়ই পরিমাপ, গণনা ও শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজন হয়।

সঠিক ও পদ্ধতিগতভাবে তথ্য সংগ্রহ বৈজ্ঞানিক ও ছদ্মবিজ্ঞান (যেমন: আলকেমি)-এর মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য তৈরি করে। বৈজ্ঞানিক পরিমাপ সাধারণত টেবিলে সাজানো, গ্রাফে উপস্থাপন বা মানচিত্রে রূপান্তর করা হয়, এবং সহসম্পর্ক, রিগ্রেশন ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়। পরিমাপ কোনো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে (যেমন: ল্যাব) অথবা কঠিনভাবে প্রবেশযোগ্য বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বস্তু (যেমন: জনসংখ্যা) নিয়ে করা হতে পারে। পরিমাপের জন্য বিশেষ বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি যেমন থার্মোমিটার, স্পেকট্রোস্কোপ বা ভোল্টমিটার ব্যবহৃত হয়। সমাজবিজ্ঞানে এগুলো প্রায়ই স্কেল বা সূচকের (যেমন: এইচডিআই, জিডিপি) রূপ ধারণ করে যা অন্য গবেষকদের দ্বারা ব্যবহারযোগ্য হয়।

বৈজ্ঞানিক পরিমাপে সাধারণত অপারেশনাল সংজ্ঞা ব্যবহার করা হয় (অর্থাৎ অপারেশনালাইজেশন)—যেখানে একটি ধারণাকে মাপার পদ্ধতির মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা হয়। যেমন, ‘লিঙ্গ’ ও ‘লিঙ্গ পরিচয়’ দৈনন্দিন কথোপকথনে এক হলেও সমাজবিজ্ঞানে এদের পৃথক অর্থ রয়েছে। পরিমাপগুলো সাধারণত একক (unit)-এর মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং শ্রেণিবিন্যাসগুলো মানসমূহের ভিত্তিতে শ্রেণীকরণ করা হয়।

পরিমাপ ও শ্রেণীবিন্যাসে অনিশ্চয়তার পরিমাণও সাধারণত নির্ধারণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি দেশের জনসংখ্যা গণনার সময় ব্যবহৃত পদ্ধতির সীমাবদ্ধতার কারণে একটি সম্ভাব্য ত্রুটি থাকতে পারে। এসব অনিশ্চয়তা সাধারণত সেন্ট্রাল লিমিট থিওরেম অনুযায়ী পরিমাপ করা যায়।

অনুমান উন্নয়ন

[সম্পাদনা]

অনুমান বা হাইপোথিসিস হলো কোনো ঘটনা বা সম্পর্কের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা, যা সাধারণত পরীক্ষাযোগ্য হয়। পরিমাণগত গবেষণায়, এটি সাধারণত একটি কারণমূলক ব্যাখ্যা বা দুটি ভেরিয়েবলের মধ্যে সম্পর্ক নির্দেশ করে। যদি এটি কারণমূলক ব্যাখ্যা হয়, তবে তাতে অন্তত একটি নির্ভরশীল ভেরিয়েবল এবং একটি স্বাধীন ভেরিয়েবল থাকবে। গুণগত গবেষণায়, অনুমানগুলি সাধারণত বিদ্যমান কারণমূলক ব্যাখ্যার অন্তর্নিহিত অনুমানের ভিত্তিতে গঠিত হয়।

ভেরিয়েবল হলো পরিমাপযোগ্য বৈশিষ্ট্য যেগুলোর মান বা গুণ পরিবর্তন হতে পারে (যেমন: শ্রেণি অবস্থান নিম্ন শ্রেণি থেকে উচ্চ শ্রেণিতে পরিবর্তিত হতে পারে)। নির্ভরশীল ভেরিয়েবল হলো সেই বৈশিষ্ট্য যার মান স্বাধীন ভেরিয়েবলের উপর নির্ভর করে। যদি এই দুই ভেরিয়েবলের মধ্যে কোনো সম্পর্ক না থাকে, তাহলে নির্ভরশীল ভেরিয়েবলের মান পরিবর্তিত হবে না। স্বাধীন ভেরিয়েবল গবেষকের নিয়ন্ত্রণাধীন (বা সামাজিক পরিবর্তনসাপেক্ষ) একটি ভেরিয়েবল। উদাহরণস্বরূপ, যদি লিঙ্গভিত্তিক পদোন্নতির ওপর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হয়, তবে লিঙ্গ হবে স্বাধীন ভেরিয়েবল এবং পদোন্নতি হবে নির্ভরশীল ভেরিয়েবল। আবার গুণগত বিশ্লেষণে মানুষ কীভাবে এই ভেরিয়েবলগুলো নিয়ে কথা বলে বা ব্যাখ্যা করে—তাও নিরীক্ষণযোগ্য।

বিজ্ঞানীরা নিজস্ব সৃজনশীলতা, অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে ধারনা, ইন্দাকশন, ডিডাকশন বা এমনকি হঠাৎ উদ্ভাবনী চিন্তা ব্যবহার করে অনুমান গড়ে তোলেন। অনুমান তৈরি করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। ইতিহাস জুড়ে অনেক বিজ্ঞানী হঠাৎ ‘আলোকপ্রাপ্তি’ বা ফ্ল্যাশ অব ইনস্পিরেশন-এর কথা উল্লেখ করেছেন, যা তাদের গবেষণা চালিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

অনুমান

[সম্পাদনা]

একটি কার্যকর পরিমাণগত অনুমান ডিডাক্টিভ রিজনিংয়ের মাধ্যমে পূর্বানুমান প্রদান করে, যা পরীক্ষামূলকভাবে মূল্যায়ন করা যায়। যদি ফলাফল পূর্বানুমানকে খণ্ডন করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট অনুমান ভুল বা অসম্পূর্ণ এবং তা সংশোধন বা পরিত্যাগ করা প্রয়োজন। যদি ফলাফল পূর্বানুমান নিশ্চিত করে, তাহলে অনুমানটি সঠিক হতে পারে, তবে তা এখনও আরও পরীক্ষার বিষয়। পূর্বানুমান বলতে বোঝায় এমন পরীক্ষামূলক নকশা যার ফলাফল এখনও অজানা। একটি পূর্বানুমান (অজানার) ও একটি পরিণতি (যা ইতিমধ্যেই জানা) ভিন্ন জিনিস। অন্যদিকে, একটি কার্যকর গুণগত অনুমান ইনডাক্টিভ রিজনিংয়ের মাধ্যমে প্রচলিত বা সহজভাবে মেনে নেওয়া বিশ্বাস, ধারণা ও তত্ত্বসমূহকে প্রশ্নবিদ্ধ বা সমালোচনার আওতায় আনতে সক্ষম হয়, যেগুলি বৈজ্ঞানিক বা অ-বৈজ্ঞানিক পরিবেশে গঠিত হয়েছে।

পরীক্ষণ

[সম্পাদনা]

একবার পূর্বানুমান তৈরি হয়ে গেলে, তা পরীক্ষা বা বিশ্লেষণের জন্য একটি পদ্ধতি নকশা করা হয়। গবেষক হয় অনুমানের নিশ্চয়তা অথবা অস্বীকৃতি খোঁজেন, কিংবা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা আরও সূক্ষ্মভাবে বোঝার চেষ্টা করেন। যদিও প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞানীরা নানা ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করেন, তবুও ল্যাবরেটরি-ভিত্তিক পরীক্ষা অনুমান যাচাইয়ের একটি অত্যন্ত সম্মানিত পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিজ্ঞানীরা ধরে নেন যে যিনি পরীক্ষা পরিচালনা করছেন, তার মধ্যে উন্মুক্ততা ও জবাবদিহিতার মানসিকতা থাকবে। পরীক্ষার ফলাফল নথিবদ্ধ ও প্রতিবেদন করার জন্য বিস্তারিত রেকর্ড রাখা জরুরি, যাতে প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ও সততা প্রমাণ করা যায়। এটি একই পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি ও ফলাফলের প্রমাণ দিতেও সাহায্য করে।

এটি বিখ্যাত মিলগ্রাম পরীক্ষার একটি চিত্র, যেখানে আজ্ঞাপালনকর্তৃত্ব নিয়ে গবেষণা করা হয়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের অপরাধের প্রেক্ষিতে করা হয়।

পরীক্ষার সততা নিশ্চিত করতে একটি নিয়ন্ত্রণ উপাদান সংযোজন বা প্রাকৃতিক পরিবেশে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণ করা উচিত। যেখানে নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণ করা হয় (সংযোজন নয়), সেখানে গবেষকরা সম্ভাব্য ভেরিয়েবল বিবেচনায় নেন (যেমন নমুনা ও গবেষকের জনমিতিক বৈশিষ্ট্য এবং উভয় পক্ষের আচরণ), যেগুলো অনিচ্ছাকৃতভাবে ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে, যেখানে নিয়ন্ত্রণ সংযোজন করা হয়, সেখানে দুটি প্রায় অভিন্ন পরীক্ষা পরিচালিত হয়, যেগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র একটিতে পরীক্ষার উপাদানটি পরিবর্তন করা হয়। এতে কারণ নির্ধারণ সহজ হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে নিশ্চিত হওয়া দরকার যে ওষুধের প্রভাব শুধুমাত্র ওষুধ থেকেই আসছে। চিকিৎসকেরা এটি 'ডাবল-ব্লাইন্ড' পরীক্ষার মাধ্যমে করেন, যেখানে দুটি অভিন্ন রোগী গোষ্ঠী তৈরি করা হয়, একটিকে ওষুধ এবং অন্যটিকে প্রতিসাধক দেওয়া হয়। কেউ জানে না কে ওষুধ পাচ্ছে, ফলে প্রকৃত প্রভাব বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হয়। এই ধরণের পরীক্ষাকে সত্যিকারের পরীক্ষা বলা হয় এর নকশার কারণে। নিচে এর বিকল্প পদ্ধতির আলোচনা করা হয়েছে।

পরীক্ষা শেষ হলে গবেষক নির্ধারণ করেন, সংগৃহীত ফলাফল বা তথ্য পূর্বানুমান বা পূর্বসাহিত্য অনুযায়ী হয়েছে কি না। যদি তা না মেলে, তাহলে ব্যর্থ অনুমানটি নিয়ে পুনরায় প্রক্রিয়াটি শুরু করা হয়—তত্ত্ব সংশোধন করা হয় অথবা নতুন তত্ত্ব তৈরি করা হয়, অথবা এই ফলাফল বিদ্যমান তত্ত্বে ফাঁক নির্দেশ করার জন্য প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয়। যদি পরীক্ষা সফল মনে হয় (অর্থাৎ পূর্বানুমান ও বিদ্যমান তত্ত্বের সাথে মিলে যায়), তাহলে গবেষক এটি প্রকাশ করতে চান যেন অন্যরাও তা পুনরাবৃত্তি করে নিশ্চিত করতে পারে।

অবশ্যই, পরীক্ষা শুধু একটি পদ্ধতি। যেসব বিজ্ঞানে পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে গবেষণা হয়, সেখানে পরীক্ষার নকশা ক্লাসিক ল্যাবরেটরি বিজ্ঞান থেকে ভিন্ন। সমাজবিজ্ঞানীরা প্রায়শই আংশিক পরীক্ষামূলক নকশা (quasi-experimental design) ব্যবহার করেন, যেখানে তথ্য সংগৃহীত হয় জরিপ বা সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে, কিন্তু গাণিতিকভাবে তুলনাযোগ্য গোষ্ঠী তৈরি করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, লিঙ্গ ও পদোন্নতির সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সমাজবিজ্ঞানীরা সামাজিক শ্রেণি-র প্রভাব 'নিয়ন্ত্রণ' করতে পারেন, যেহেতু এটি সম্পর্কটি প্রভাবিত করতে পারে। সত্যিকারের পরীক্ষা-তে যেভাবে এসব ভেরিয়েবল ল্যাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, গাণিতিক সমাজবিজ্ঞানীরা পরিসংখ্যান পদ্ধতিতে সামাজিক শ্রেণির ভিন্নতা 'আংশিকভাবে বাদ' দিয়ে লিঙ্গ ও পদোন্নতির সম্পর্ক নিরূপণ করেন।

উপরের গবেষণা প্রক্রিয়ার চারটি উপাদান নিম্নলিখিত ধাপগুলোর মাধ্যমে একীভূত হয়:

  1. বিষয়/সমস্যা নির্ধারণ: আগ্রহের বিষয় নির্ধারণ করুন এবং একটি গবেষণা প্রশ্ন তৈরি করুন, যা কার্যকারণ বা সম্পর্ক ভিত্তিক হতে পারে।
  2. পূর্বসাহিত্য পর্যালোচনা: অন্যান্য গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত এবং রিভিউড সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাগুলো পর্যালোচনা করুন। এতে আপনি জানতে পারবেন ইতোমধ্যে কী জানা গেছে এবং কোথায় আরও গবেষণার প্রয়োজন।
  3. একটি অনুমান গঠন: গবেষণা প্রশ্নকে এমনভাবে পরিমার্জন করুন, যা বিদ্যমান সাহিত্যে নতুন তথ্য যোগ করতে পারে, এবং তা একটি পরীক্ষাযোগ্য অনুমানের রূপে প্রকাশ করুন। এর মধ্যে দুই বা ততোধিক ভেরিয়েবল নির্ধারণ ও তাদের সম্পর্ক নিরূপণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
  4. গবেষণা পরিকল্পনা তৈরি: কোন উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে, তা নির্ধারণ করুন যাতে অনুমানটির অর্থবহ পরীক্ষা করা যায়। কিছু নকশায় একবারে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, অন্যগুলোতে সময়ের সাথে সাথে ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর উপর গবেষণা করা হয়।
  5. গবেষণা পদ্ধতি নির্বাচন: পরিকল্পনা ঠিক হওয়ার পর, একটি বা একাধিক তথ্য সংগ্রহ কৌশল নির্ধারণ করুন। প্রতিটি পদ্ধতির নিজস্ব শক্তি ও দুর্বলতা রয়েছে, তাই আজকাল সমাজবিজ্ঞানীরা মিশ্র-পদ্ধতির গবেষণা আরও বেশি ব্যবহার করছেন। জনপ্রিয় পদ্ধতিগুলোর মধ্যে আছে: জরিপ বা সাক্ষাৎকার, পরীক্ষা, অদৃশ্য পরিমাপ, এবং অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ বা ক্ষেত্র গবেষণা।
  6. ভেরিয়েবলগুলোর অপারেশনালাইজেশন: প্রতিটি ভেরিয়েবল কীভাবে পরিমাপ করা হবে তা নির্ধারণ করুন। জরিপ গবেষণায় এর মানে হলো প্রশ্নগুলোর শব্দচয়ন, সম্ভাব্য উত্তর বিকল্প নির্ধারণ এবং একাধিক নির্দেশকের মাধ্যমে ভেরিয়েবল হিসাব করার নিয়ম স্থাপন।
  7. জনসংখ্যা নির্ধারণ ও নমুনা নির্বাচন: জনসংখ্যা হলো সেই গোষ্ঠী যাদের সম্পর্কে গবেষক জানতে চান। এটি হতে পারে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, একটি শহরের বাসিন্দা, বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী। সাধারণত পুরো জনসংখ্যা থেকে তথ্য সংগ্রহ ব্যয়বহুল হওয়ায় একটি নমুনা নেওয়া হয়। র‍্যান্ডম নির্বাচন পদ্ধতির নমুনা, যেখানে প্রতিটি সদস্যের নির্বাচিত হওয়ার সমান সম্ভাবনা থাকে, সবচেয়ে ভালোভাবে জনসংখ্যার প্রতিফলন ঘটায়।
  8. তথ্য সংগ্রহ: তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতিগত ও নিখুঁত হতে হবে যাতে কোনো প্রক্রিয়াগত ভুল কৃত্রিম ফলাফল তৈরি না করে।
  9. ফলাফল বিশ্লেষণ: শক্তিশালী পরিসংখ্যান সফটওয়্যার ব্যবহারে আজকাল তথ্য বিশ্লেষণ সহজ হয়েছে। তবুও তথ্যের সঠিক কোডিং, কম্পিউটারে ইনপুট এবং উপযুক্ত পরিসংখ্যান নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।
  10. ফলাফল প্রতিবেদন: গবেষণা ফলাফল বৃহত্তর সমাজে উপস্থাপনার মাধ্যমে ভাগাভাগি করা হয় — উপস্থাপনা, প্রতিবেদন ও রিভিউড জার্নাল-এ প্রকাশনার মাধ্যমে। এতে অন্যরা গবেষণার পদ্ধতি, ফলাফল ও সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করতে পারে।

গুণগত সমাজবিজ্ঞানীরা সাধারণত পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণমূলক কৌশল ব্যবহার করেন, যা তাদেরকে প্রাকৃতিক পরিবেশে বিদ্যমান শ্রেণিবিন্যাস বা পূর্বধারণার প্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষিত নিদর্শনগুলিকে প্রাসঙ্গিকভাবে ব্যাখ্যা করতে সহায়তা করে। পূর্বের একটি উদাহরণ ব্যবহার করে বলা যায়, গুণগত সমাজবিজ্ঞানীরা যদি লিঙ্গ ও পদোন্নতির অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করেন, তবে তাঁরা গবেষণার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে লিঙ্গ ও পদোন্নতি বিষয়ে প্রচলিত ধারণা, পদোন্নতির নিয়মবিধি সংক্রান্ত দাপ্তরিক নথিপত্র, এবং গবেষণা-পরিবেশে বিদ্যমান লিঙ্গসংক্রান্ত নীতিমালাগুলো বিশ্লেষণ করবেন। একইসঙ্গে তাঁরা লক্ষ্য করেন, কীভাবে বিভিন্ন জাতি, শ্রেণি, লিঙ্গ, যৌনতা, ধর্ম, কিংবা বয়সের ভিত্তিতে বিভক্ত সামাজিক অবস্থানের মানুষ লিঙ্গ ও পদোন্নতির ধারণা ও বাস্তবতা ভিন্নভাবে অনুধাবন করে। যেহেতু প্রাকৃতিক পরিবেশে সমাজবিজ্ঞানী কোনো ভেরিয়েবল (যেমন সামাজিক শ্রেণি) "স্থির" রাখতে বা "নিয়ন্ত্রণ" করতে পারেন না, তাই তাঁরা এই ভেরিয়েবলগুলোর বাস্তব আচরণে সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করে থাকেন। এই বিশ্লেষণ বর্তমান গাণিতিক বা পরীক্ষামূলক তত্ত্বসমূহকে পরিশোধিত করতে সহায়তা করে, যেগুলোর অনেক নিয়ন্ত্রণমূলক শর্ত কেবল ল্যাব বা সফটওয়্যারের মাধ্যমে অর্জনযোগ্য। যদিও সত্যিকারের পরীক্ষা পরিমাণগত বিজ্ঞানে বিশেষত কারণ-প্রভাব সম্পর্ক নির্ধারণে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি, সামাজিক বিজ্ঞানে বিভিন্ন ধরণের অনুমান যাচাইয়ের পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, এবং গুণগত বিশ্লেষণ ও সমালোচনা নিয়ন্ত্রিত (অপ্রাকৃতিক) পরিবেশে তৈরি অনুমান ও তত্ত্বগুলো যাচাই করার কাজ করে।

মূল্যায়ন ও পুনরাবৃত্তি

[সম্পাদনা]

বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া একটি পুনরাবৃত্তিমূলক পদ্ধতি। প্রক্রিয়ার যেকোনো পর্যায়ে এমন কিছু বিবেচনা সামনে আসতে পারে, যা বৈজ্ঞানিককে পূর্বের কোনো ধাপে ফিরে যেতে বাধ্য করে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো অনুমান যদি আগ্রহব্যঞ্জক এবং যাচাইযোগ্য পূর্বানুমান দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই অনুমান বা গবেষণার বিষয়-সংজ্ঞা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে। অনুরূপভাবে, গুণগত গবেষণায় অগ্রগতি পরিমাণগত ও পরীক্ষামূলক কৌশল ও অনুমানগুলোর পুনর্গঠনে সাহায্য করে (এটি বিপরীত দিকেও ঘটে, যেমন: পরিমাণগত গবেষণার ফলাফল গুণগত গবেষণাকে নতুন ক্ষেত্র বা সম্পর্ক বিশ্লেষণে অনুপ্রাণিত করে)।

এছাড়াও মনে রাখা জরুরি যে, বিজ্ঞান একটি সামাজিক উদ্যোগ, এবং কোনো বৈজ্ঞানিক কাজ তখনই গৃহীত হয়, যখন তা যাচাইযোগ্য এবং বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক ধারণা ও বিশ্বাসের প্রেক্ষিতে "যুক্তিসঙ্গত" বলে বিবেচিত হয়। যখন নতুন কোনো আবিষ্কার এই বিশ্বাসগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে, তখনই সাধারণত বিজ্ঞানে একটি ধারণাগত বিপ্লব বা প্যারাডাইম শিফট দেখা যায়[]। গুরুত্বপূর্ণভাবে, পরীক্ষামূলক এবং পরিমাণগত ফলাফলগুলোকে অন্যান্য বৈজ্ঞানিকদের দ্বারা পুনরুত্পাদনযোগ্য হতে হয়, আর গুণগত গবেষণা এই ফলাফলগুলিকে জটিল করে, এগিয়ে নিয়ে যায় অথবা প্রশ্ন তোলে। সব বৈজ্ঞানিক জ্ঞানই পরিবর্তনশীল, কারণ যেকোনো সময় নতুন তথ্য এমনকি দীর্ঘকালীনভাবে গৃহীত কোনো অনুমানকেও খণ্ডন করতে পারে। নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও (যেমন: গত ৫০ বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাডেমিয়ায় প্রবেশ) প্রচলিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, অনুমান এবং বিশ্বাসগুলোর যথার্থতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। এই কারণেই বৈজ্ঞানিক জার্নালগুলো পিয়ার রিভিউ পদ্ধতি অনুসরণ করে, যেখানে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধকে জার্নালের সম্পাদকগণ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ (সাধারণত একজন থেকে তিনজন) সহ-বিজ্ঞানীর কাছে পাঠান পর্যালোচনার জন্য (প্রায়শই বেনামে)। এই রিভিউয়ারগণ প্রবন্ধটি প্রকাশ করার জন্য, সংশোধনসাপেক্ষে প্রকাশের জন্য অথবা অন্য কোনো জার্নালে প্রকাশের সুপারিশ করতে পারেন। এই পদ্ধতি সাধারণত অবৈজ্ঞানিক কাজগুলো বাদ দিতে সাহায্য করে, স্পষ্ট ভুল কমিয়ে আনে, এবং বৈজ্ঞানিক সাহিত্যকে উন্নততর করে, যদিও মাঝে মাঝে নতুন বা বিতর্কিত আবিষ্কার দেরিতে বা নীরবতার মধ্য দিয়ে যায়[]। পিয়ার রিভিউ প্রক্রিয়ার আগে কোনো কাজ সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করাকে সাধারণত নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। কখনো কখনো পিয়ার রিভিউ অপ্রচলিত কাজের প্রচার ব্যাহত করে, আবার অন্য সময় এটি খুব উদার হয়ে পড়ে। যদিও পদ্ধতিটি সবসময় কার্যকর হয় না, তবুও এটি বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য।

পুনরুৎপাদনযোগ্যতা বা পরিমাণগত বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের পুনরাবৃত্তি যদিও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বর্ণিত হয়, বাস্তবে এটি খুব কম রিপোর্ট করা হয় এবং বাস্তবেও প্রায়ই করা হয় না। অনেক সময় রেফারিরা ও সম্পাদকরা শুধুমাত্র পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণের পুনরাবৃত্তি নিয়ে লেখা প্রবন্ধ প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তাতে নতুন কিছু নেই। তবে মাঝে মাঝে কোনো পর্যবেক্ষণ পুনরায় সফল না হলে, বিশেষ করে যখন কোনো বিতর্ক তৈরি হয় বা প্রতারণার সন্দেহ জাগে, তখন তা প্রকাশিত হয়[]। যদিও অন্য গবেষকের ব্যর্থ পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা (এবং অ-নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিমাণগত ফলাফল যাচাই করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত গুণগত গবেষণা) বেশিরভাগ পরিমাণগত বিজ্ঞানীদের জন্য শক্তিশালী নিরুৎসাহন হিসেবে কাজ করে, ফলে তাঁরা প্রায়শই নিজের গবেষণার তথ্য নিজেই কয়েকবার পরীক্ষা করে নেন প্রকাশনার আগে।

মাঝে মাঝে এমন কিছু পর্যবেক্ষণ বা ঘটনা ঘটে, যেগুলো কখনোই পুনরুৎপাদনযোগ্য নয় (আসলে, গুণগত বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে, যা শারীরিক ও সামাজিক উভয় বিজ্ঞানেই বিস্তৃত, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এটি সত্য)। এই পর্যবেক্ষণগুলো হয়তো খুব বিরল অথবা একেবারেই অনন্য। তাই পরিমাণগত তথ্যের পুনরুৎপাদন বা পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি কোনো নিশ্চয়তা দেয় না যে ফলাফল সঠিক বা সঠিকভাবে ব্যাখ্যাও হয়েছে। ভুল প্রায়শই একাধিক গবেষণাগারে বা বিজ্ঞানীদের ব্যবহারকৃত গাণিতিক ও গুণগত বিশ্লেষণে প্রবেশ করে যেতে পারে। এই কারণে, বিজ্ঞান নিজেই একটি চলমান সংলাপ ও বিতর্কের প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিটি আবিষ্কার, নতুন বা পুরাতন, ক্রমাগত নতুন যাচাই এবং/অথবা সমালোচনার মুখোমুখি হয়।

সহসম্পর্ক ও কার্যকারণ

[সম্পাদনা]
এই চিত্রটি সহসম্পর্ক ও কার্যকারণের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেছে। আইসক্রিম খাওয়ার সঙ্গে অপরাধের একটি সহসম্পর্ক দেখা গেলেও, উভয়ের পেছনে তাপমাত্রা মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। সুতরাং, আইসক্রিম খাওয়া ও অপরাধের মধ্যকার সম্পর্কটি ভ্রান্ত।

পরিমাণগত পূর্বানুমান ও ব্যাখ্যার বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে প্রায়ই দুটি ভিন্নধর্মী ভেরিয়েবলের সম্পর্ককে গুলিয়ে ফেলা হয়: সহসম্পর্ক (correlation) এবং কার্যকারণ (causation)। যদিও এই শব্দগুলো গুণগত বিজ্ঞানে তেমন ব্যবহৃত হয় না, তবুও এগুলো পরিমাণগত পদ্ধতির কেন্দ্রবিন্দু, এবং এই কারণে এগুলো বৈজ্ঞানিক অনুশীলনের মৌলিক ভিত্তি। সহসম্পর্ক বলতে বোঝানো হয় দুই বা ততোধিক ভেরিয়েবলের মধ্যে একটি রৈখিক সম্পর্ক, যেখানে ভেরিয়েবলগুলো একসাথে পরিবর্তিত হয়। এই সম্পর্ক ইতিবাচক/সরাসরি বা নেতিবাচক/উল্টো হতে পারে। ইতিবাচক সহসম্পর্ক মানে একটি ভেরিয়েবল বাড়লে (যেমন: আইসক্রিম খাওয়ার পরিমাণ), অপরটিও বাড়ে (যেমন: অপরাধের হার)। নেতিবাচক সহসম্পর্ক মানে একটি ভেরিয়েবল বাড়লে অপরটি কমে যায় (যেমন: সামাজিক-অর্থনৈতিক মর্যাদা বাড়লে শিশুমৃত্যুর হার কমে যায়)।

কার্যকারণ বোঝায় এমন একটি সম্পর্ক, যেখানে একটি ভেরিয়েবল অপরটির কারণ হিসেবে কাজ করে। কোনো ভেরিয়েবলকে অপরটির কারণ হিসেবে প্রমাণ করতে হলে নিচের তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে:

  • ভেরিয়েবলদ্বয়ের মধ্যে সহসম্পর্ক থাকতে হবে
  • স্বাধীন ভেরিয়েবলের পরিবর্তন অবশ্যই নির্ভরশীল ভেরিয়েবলের পরিবর্তনের আগে ঘটতে হবে
  • একটি ভিন্ন (তৃতীয়) ভেরিয়েবল এই পরিবর্তনের জন্য দায়ী নয়—এটা প্রমাণিত হতে হবে (অর্থাৎ এটি ভ্রান্ত সহসম্পর্ক নয়)

একটি উদাহরণ এ ব্যপারটি স্পষ্ট করতে পারে। আইসক্রিম খাওয়া এবং অপরাধের ঘটনা মধ্যে একটি ইতিবাচক সহসম্পর্ক দেখা যায়।

উপরের পরিমাণগত পদ্ধতির আলোকে পাঠকের উচিত এই সম্পর্কটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা খোঁজা। এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য মনে রাখা দরকার: সহসম্পর্ক মানেই কার্যকারণ নয়। যদি আপনি উপরে উল্লেখিত কার্যকারণের তিনটি শর্ত পুনরায় দেখেন, তাহলে লক্ষ্য করবেন যে আইসক্রিম খাওয়া ও অপরাধের সম্পর্ক কেবল একটি শর্ত পূরণ করে (তারা একসাথে পরিবর্তিত হয়)। এই সম্পর্কের প্রকৃত ব্যাখ্যা হলো একটি তৃতীয় ভেরিয়েবলের উপস্থিতি: তাপমাত্রা। গ্রীষ্মকালে আইসক্রিম খাওয়া ও অপরাধ উভয়ই বেড়ে যায়। সুতরাং, যদিও এই দুটি ভেরিয়েবল পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত, আইসক্রিম খাওয়া অপরাধ ঘটায় না, আবার অপরাধ আইসক্রিম খাওয়াও বাড়ায় না। বরং উভয় পরিবর্তনের কারণ হলো গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা বৃদ্ধি।

সহসম্পর্ককে কারণ-প্রভাব সম্পর্ক হিসেবে ধরে নেওয়া একটি সাধারণ ভুল। প্রায়ই দেখা যায় ভেরিয়েবলের মধ্যে সহসম্পর্ক আবিষ্কৃত হয়, কিন্তু পরে দেখা যায় তা একটি ভ্রান্ত সহসম্পর্ক ছিল। ভেরিয়েবলের মধ্যে সঠিক সম্পর্ক বোঝা পরিমাণগত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পরিমাণগত ও গুণগত

[সম্পাদনা]

পজিটিভিস্ট সমাজতত্ত্ব ও ফেরস্টেহেন সমাজতত্ত্বের মধ্যকার পার্থক্যের মতোই, যেমনটা উপরের সাধারণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বর্ণনাতেও উল্লেখ করা হয়েছে, সমাজতাত্ত্বিক গবেষণায় সাধারণত দুটি প্রধান ধারা দেখা যায়: পরিমাণগত এবং গুণগত

পরিমাণগত পদ্ধতি সমাজজগৎকে এমনভাবে বিশ্লেষণ করে যেন তা পরিমাপযোগ্য ও সংখ্যায় রূপান্তরযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ, সামাজিক শ্রেণিকে পরিমাণগত দৃষ্টিভঙ্গিতে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়—উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন শ্রেণি। এগুলোকে পরিমাপ করা যায় একাধিক ভেরিয়েবলের মাধ্যমে বা তাদের সংমিশ্রণ দ্বারা: যেমন, আয়, শিক্ষাগত অর্জন, মর্যাদা, ক্ষমতা ইত্যাদি। পরিমাণগত সমাজতাত্ত্বিকরা এমন গাণিতিক মডেল ব্যবহার করেন, যেগুলো সামাজিক অভিজ্ঞতাগুলোকে একটি যুক্তিসংগত কাঠামোয় সাজিয়ে গভীর বিশ্লেষণের ভিত্তি গড়ে তোলে। তাঁরা সাধারণত তথ্য সংগ্রহ ও অনুমান যাচাইয়ের জন্য বিশেষ কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করেন, যেমন: পরীক্ষামূলক নকশা, জরিপ, দ্বিতীয়িক তথ্য বিশ্লেষণ, এবং পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ

পরিমাণগত সমাজতাত্ত্বিকরা প্রায়শই বৈজ্ঞানিক উপায়ে কার্যকারণ নির্ধারণের সম্ভাবনায় বিশ্বাস করেন এবং বিদ্যমান গবেষণার ফল বিশ্লেষণ করে নতুন অনুমান তৈরি ও যাচাই করার জন্য যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ ব্যবহার করেন। সবশেষে, তাঁরা প্রায়ই গাণিতিক বাস্তবতার (অর্থাৎ পরিসংখ্যানিক পদ্ধতিতে নিহিত অনুমান) মাধ্যমে প্রাকৃতিক বাস্তবতা (অর্থাৎ মানুষের অভিজ্ঞতা) বোঝার চেষ্টা করেন। গুণগত পদ্ধতি সমাজতাত্ত্বিক গবেষণায় ফেরস্টেহেন (Verstehen) দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সামাজিক বাস্তবতাকে বিশ্লেষণ করে। গাণিতিক সূত্রে বাস্তবতাকে পরিমাপ বা সংখ্যায় রূপান্তরের চেষ্টা না করে, গুণগত সমাজতাত্ত্বিকরা মানুষ যেসব প্রাকৃতিক বাস্তবতা দেখতে, স্পর্শ করতে এবং অনুভব করতে পারে—সেগুলোর ভিন্নতা অন্বেষণ করেন। এই পদ্ধতিগুলো প্রধানত ব্যবহৃত হয়:

  • (ক) কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার গভীরতর উপলব্ধি গঠনের জন্য,
  • (খ) মানুষের অভিজ্ঞতাজনিত বাস্তব জগতে গাণিতিক মডেলগুলো কতটা যথাযথ বা ভুল—তা বিশ্লেষণের জন্য,
  • (গ) বিজ্ঞানী ও অন্যান্য সমাজের সদস্যদের বিদ্যমান বিশ্বাস ও অনুমানগুলো প্রশ্নবিদ্ধ ও সমালোচনার জন্য এবং
  • (ঘ) গাণিতিক বিজ্ঞানীরা যে পরিমাপ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করেন তা বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আরও সূক্ষ্ম করে তোলার জন্য।

যদিও গুণগত পদ্ধতিতে ভেরিয়েবলের মধ্যে সম্পর্ক অনুসন্ধান বা প্রস্তাব করা যায়, এই গবেষণাগুলো সাধারণত সেই সম্পর্কের অন্তরালের বাস্তবতাগুলো বিশ্লেষণে বেশি মনোযোগী হয়—নগ্ন সম্পর্ক নয়। গুণগতধর্মী সমাজতাত্ত্বিকরা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেন, যেমন: অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ, সাক্ষাৎকার, ফোকাস গ্রুপ, বিষয়বস্তুর বিশ্লেষণ, চিত্র সমাজবিজ্ঞান, এবং ঐতিহাসিক তুলনা

কিছু গুণগত সমাজতাত্ত্বিক পরিমাপ, সংখ্যা ও কার্যকারণের ধারণাকেই প্রত্যাখ্যান করেন। তবে, সাধারণভাবে গুণগত গবেষণা সামাজিক বাস্তবতাকে বুঝতে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবহার করে।

যদিও কিছু সমাজতাত্ত্বিক কেবল একটি পদ্ধতির পক্ষপাতী, অনেকেই উভয় পদ্ধতির সংমিশ্রণকে বেশি কার্যকর মনে করেন। তাঁদের মতে, পরিমাণগত ও গুণগত পদ্ধতি একে অপরকে পরিপূরক করে। একটি পদ্ধতির ফলাফল অন্যটির শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে। যেমন, পরিমাণগত পদ্ধতিতে বৃহৎ বা সার্বিক সামাজিক ধারা বোঝানো সম্ভব, আর গুণগত পদ্ধতি সেই ধারা মানুষ কীভাবে বোঝে তা ব্যাখ্যা করতে সহায়তা করে।

আবার, গুণগত বিশ্লেষণে দেখা ধারা গাণিতিক মডেলে অনুপস্থিত কোন উপাদান তুলে ধরতে পারে, আর পরিমাণগত ধারা বাস্তব প্রেক্ষাপটে আরো গভীর বিশ্লেষণের পথ দেখাতে পারে।

আসলে, সমাজবিজ্ঞানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে এই দুই পদ্ধতির সংমিশ্রণের মাধ্যমে—যা সম্ভাব্য ও বাস্তব সামাজিক অবস্থার একটি আরও কাঠামোবদ্ধ চিত্র নির্মাণ করেছে।

বস্তুনিষ্ঠ বনাম সমালোচনামূলক বনাম ব্যক্তিগত

[সম্পাদনা]

সমাজতাত্ত্বিকরাও, সকল মানুষের মতোই, নিজস্ব মূল্যবোধ, বিশ্বাস এবং পূর্বধারণা নিয়ে গবেষণায় অংশ নেন। বিশ্বকে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকে সমাজতত্ত্বে দুটি পদ্ধতির উদ্ভব হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত হলো বস্তুনিষ্ঠ (objective) পন্থা, যা ম্যাক্স ওয়েবার সমর্থন করেছেন। ওয়েবার মেনে নিলেন যে সমাজবিজ্ঞানীদের নিজস্ব মতামত থাকে, কিন্তু তিনি শ্রেণিকক্ষে পেশাদার বা বৈজ্ঞানিক নয় এমন মতামত প্রকাশের বিরোধিতা করেছিলেন।[]

তিনি এই অবস্থান নিয়েছিলেন একাধিক কারণে, তবে তাঁর Science as Vocation আলোচনায় মূল যুক্তি ছিল: একজন অধ্যাপকের মতো কর্তৃত্বশালী ব্যক্তি তাঁর শিক্ষার্থীদের নিজের মতামত মানতে বাধ্য করার মাধ্যমে পাস করানোর অধিকার রাখেন না। ওয়েবার মনে করতেন যে শ্রেণিকক্ষের বাইরেও সমাজবিজ্ঞানীদের মত প্রকাশ করা এবং রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা উচিত।

বস্তুনিষ্ঠ পদ্ধতি এখনও গবেষণা ও পিয়ার-রিভিউ জার্নালগুলোতে জনপ্রিয়, কারণ এটি ব্যক্তিগত মতামতের স্তরে গিয়ে সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় জড়ায় না, বরং তথ্য ও তত্ত্বে মনোযোগ দেয়।

এই বস্তুনিষ্ঠ পন্থার বিপরীতে রয়েছে সমালোচনামূলক (critical) পন্থা, যার শিকড় কার্ল মার্ক্সের অর্থনৈতিক কাঠামো বিশ্লেষণে নিহিত। মার্ক্স মনে করতেন সমাজকে কেবল বোঝা যথেষ্ট নয়; এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমাজ পরিবর্তন। তিনি পুঁজিবাদকে অপছন্দ করতেন এবং তাঁর বিশ্লেষণে এই ব্যবস্থার পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন।

এই পন্থাই বর্তমানে সমালোচনামূলক সমাজতত্ত্ব নামে পরিচিত (দেখুন: অ্যাকশন রিসার্চ)।

কিছু জার্নাল এই ধরনের গবেষণাকেই প্রাধান্য দেয় এবং কিছু পন্থা প্রকৃতিগতভাবেই সমালোচনামূলক (যেমন: নারীবাদী সমাজতত্ত্ব)।

এলিজাবেথ কেডি স্ট্যান্টন, অ্যালিস পল, আইডা ওয়েলস বার্নেট, বেটি ফ্রিডান-এর মতো সমাজ সংস্কারক নারীদের লেখনী এবং ডরোথি স্মিথ, জোয়ান অ্যাকার, প্যাট্রিসিয়া ইয়্যানসি মার্টিন-এর মতো সমাজতাত্ত্বিক তাত্ত্বিকদের ভিত্তিতে নারীবাদী সমাজতাত্ত্বিকরা বস্তুনিষ্ঠ ধারাকে অবাস্তব ও অনৈজ্ঞানিক বলে সমালোচনা করেছেন।

বিশেষভাবে, মিশেল ফুকো, বেল হুকস, প্যাট্রিসিয়া হিল কলিন্স প্রমুখ সমালোচনামূলক তাত্ত্বিকদের সাথে একত্রে তাঁরা যুক্তি দিয়েছেন যে, যেহেতু সব বিজ্ঞানই মানুষের দ্বারা পরিচালিত এবং সব তথ্য মানুষের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে—আর মানুষ নিজে প্রায়শই তাদের বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও পক্ষপাত সম্পর্কে অজ্ঞান—তাই বস্তুনিষ্ঠতা কেবল সেইসব মানুষের বিশ্বাস ও মূল্যবোধেই সীমাবদ্ধ, যারা এটি দাবি করে। (দেখুন: The Social Construction of Reality)

এই তাত্ত্বিকরা বলেন: ব্যক্তিগতই রাজনৈতিক—অর্থাৎ, আমাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তগুলো, যত ছোটই হোক না কেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রভাবিত হয় এবং অন্যদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রভাবিত করে—আমরা তা জানি কি না জানি না।

ফলে, প্রতিটি বিজ্ঞানী, তাদের অভিপ্রায় বা সচেতনতাকে উপেক্ষা করেই, ওয়েবারের বস্তুনিষ্ঠতা-র আদর্শ অনুসরণ করার চেষ্টা করলেও, শেষ পর্যন্ত সেই আদর্শ পূরণ করতে ব্যর্থ হন। যদিও বিজ্ঞানীরা সরাসরি ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ না করেও গবেষণা বা পাঠদানে নিয়োজিত থাকেন, তবুও প্রতিটি সিদ্ধান্ত কোনো না কোনোভাবে তাঁদের ব্যক্তিগত বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটায়।যদিও এখন পর্যন্ত অধিকাংশ বিজ্ঞানেই কোনো না কোনো মাত্রায় ব্যক্তিকতা (subjectivity) স্বীকৃত হয়েছে, তবু বিজ্ঞানীদের এই ব্যক্তিকতা আলিঙ্গন করা উচিত কি না—সে প্রশ্ন আজও বিতর্কিত (যেমন: শ্রেণিকক্ষে ও গবেষণায় রাজনৈতিক হওয়া উচিত কি না)। অনেক বিজ্ঞানী (সমাজতত্ত্বে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে) বিশ্বাস করেন যে গবেষকদের যতটা সম্ভব বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করা উচিত, এবং তাঁরা সেই আদর্শকে তাঁদের পাঠদান, গবেষণা এবং সহকর্মী পর্যালোচনায় (peer review) উৎসাহিত করেন। ফলে, এই বিতর্ক সমাজবিজ্ঞানে আজও চলমান এবং অদূর ভবিষ্যতেও এটি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যচর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।

নৈতিকতা

[সম্পাদনা]

সমাজতাত্ত্বিকদের জন্য নৈতিক বিবেচনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁদের গবেষণার বিষয়বস্তুই হলো মানুষ। এই গুরুত্বের কারণে সমাজতাত্ত্বিকরা একটি কঠোর নৈতিক নীতিমালার অনুসরণ করেন। সমাজতাত্ত্বিক গবেষণায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শর্ত হলো: গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না করা হয়।

যদিও এটি কীভাবে প্রয়োগ হবে তা গবেষণা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে, কিছু সার্বজনীন নীতি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, শিশু ও কিশোরদের ওপর গবেষণায় অবশ্যই অভিভাবকের অনুমতি লাগে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও অবগত সম্মতি আবশ্যক এবং কাউকে জোরপূর্বক গবেষণায় অংশগ্রহণ করানো যায় না। গোপনীয়তা এবং নাম-গোপনতা হলো আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক চর্চা, যা সংবেদনশীল তথ্য (যেমন: যৌনতা, আয় ইত্যাদি) সংগ্রহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় একটি প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা বোর্ড (IRB) পরিচালনা করে, যা গবেষণাগুলোতে মানব বিষয়ক অংশগ্রহণ থাকলে তা পর্যালোচনা করে নৈতিক মান বজায় রাখে।

তবে, ইতিহাসে সবসময় মানুষ বিষয়ক গবেষণায় নৈতিক নীতিগুলো মেনে চলা হয়নি। কিছু গবেষণা—যা প্রকাশে আসার পর ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে—নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের জন্য সমালোচিত হয় এবং এসব ঘটনার পর নৈতিক নীতিমালা ও IRB চালু হয়। উল্লেখযোগ্য উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে টাস্কিগি সিফিলিস পরীক্ষা, যেখানে ৩৯৯ দরিদ্র কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষকে সিফিলিসে আক্রান্ত জানার পরও চিকিৎসা না দিয়ে রোগের অগ্রগতি অনুসরণ করা হয়েছিল এবং নাজি মানব পরীক্ষা, যেখানে মানুষকে অত্যাচার ও নিপীড়নের মাধ্যমে তথাকথিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো হয়।

সম্প্রতি সুসান এম. রেভারবি [] এর একটি গবেষণায় জানা যায়, এই ধরনের অনৈতিক গবেষণা কেবল টাস্কিগি-তেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মার্কিন সরকার গুয়াতেমালায় কয়েক হাজার বন্দিকে সিফিলিসে সংক্রমিত করে পরীক্ষা চালায় যে, তাদের পেনিসিলিন দিয়ে নিরাময় করা যায় কি না। এই ধরনের গুরুতর মানবাধিকারের লঙ্ঘন প্রতিরোধ করতেই আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নৈতিক তদারকি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সমাজতাত্ত্বিকদের জন্য কিছু পেশাগত নৈতিক দায়িত্বও রয়েছে। গবেষণা, বিশ্লেষণ ও প্রকাশনায় সততা অপরিহার্য। যেসব সমাজতাত্ত্বিক তাঁদের তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করেন, তাঁদের পেশাগত সংগঠনগুলো থেকে বহিষ্কার করা হয়।

স্বার্থের সংঘাত (conflict of interest) বিষয়টিও গুরুতরভাবে বিবেচ্য। যখন কোনো গবেষক কোনো প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে এমন একটি বিষয় নিয়ে গবেষণা করেন, যা সেই অর্থদাতার স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, তখন এটি স্বার্থের সংঘাতের উদাহরণ হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, যদি মাইক্রোসফট কোনো সমাজতাত্ত্বিককে অর্থায়ন করে এ গবেষণা করতে দেয় যে, মাইক্রোসফটের পণ্যের ব্যবহারকারীরা ওপেন সোর্স (যেমন: লিনাক্স, লাইব্রেঅফিস) সফটওয়্যারের ব্যবহারকারীদের তুলনায় বেশি সুখী কি না, তবে গবেষণার অর্থদাতা হিসেবে মাইক্রোসফটের নাম প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক।

দুর্ভাগ্যবশত, সবসময়ই এমন স্বার্থের সংঘাত প্রকাশ করা হয় না। এর একটি উচ্চ প্রোফাইল উদাহরণ হলো রেগনারাস কেলেঙ্কারি। তবে অধিকাংশ পেশাগত সংগঠন এবং একাডেমিক জার্নাল স্বার্থের সংঘাত প্রকাশের পরামর্শ দেয়। সমাজতাত্ত্বিক নৈতিক নীতিমালার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় আমেরিকান সমাজতাত্ত্বিক সমিতির ওয়েবসাইটে

সমাজতত্ত্ব আমাদের কী বলতে পারে?

[সম্পাদনা]

সমাজকে বোঝার সমাজতাত্ত্বিক পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার পর, সমাজতত্ত্বের সীমাবদ্ধতাগুলোও উল্লেখ করা প্রয়োজন। কারণ সমাজতত্ত্বের অনুসন্ধানের বিষয়বস্তুই হলো সমাজ, তাই এই ক্ষেত্রে কিছু জটিল সমস্যা দেখা দেয়, যেগুলোর গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে:

  • মানব আচরণ অত্যন্ত জটিল, ফলে ভবিষ্যদ্বাণী করা—বিশেষত ব্যক্তি পর্যায়ে—দুরূহ, কখনো কখনো অসম্ভব
  • গবেষকের উপস্থিতিই গবেষণার বিষয়কে প্রভাবিত করতে পারে (হথর্ন প্রভাব)
  • সমাজ ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে, ফলে সমাজতাত্ত্বিকদের পক্ষে সময়োপযোগী বোঝাপরা বজায় রাখা কঠিন; আসলে সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার প্রভাবেও সমাজ পরিবর্তিত হতে পারে (উদাহরণস্বরূপ, ব্রাউন বনাম বোর্ড অব এডুকেশন মামলায় স্কুলসমূহ একীভূত করার পক্ষে সমাজতাত্ত্বিকরা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন)
  • সমাজতাত্ত্বিকদের পক্ষে গবেষণায় বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা এবং বিজ্ঞানের ব্যক্তিক উপাদানগুলো মোকাবেলা করা কঠিন—বিশেষ করে যখন গবেষণার বিষয়বস্তু তাঁদের নিজের সমাজজীবনের অংশ

যদিও সমাজতত্ত্বের সীমাবদ্ধতা অনস্বীকার্য, তথাপি সমাজ নিয়ে আমাদের বোধ ও বিশ্লেষণে এর অবদান অনেক এবং সমাজতত্ত্ব এখনো আমাদের মানুষকে একটি সামাজিক প্রাণী হিসেবে বোঝার কাজে কার্যকর তত্ত্ব ও পদ্ধতি সরবরাহ করে চলেছে।

অতিরিক্ত পাঠ্য

[সম্পাদনা]

Blackstone, Amy. *Principles of Sociological Inquiry: Qualitative and Quantitative Methods.*

Earl Babbie, *The Practice of Social Research*, 10ম সংস্করণ, Wadsworth, Thomson Learning Inc., আইএসবিএন 0-534-62029-9

Glenn Firebaugh, *Seven Rules for Social Research*, Princeton University Press, 2008, আইএসবিএন 978-0-691-13567-0

W. Lawrence Neuman, *Social Research Methods: Qualitative and Quantitative Approaches*, 6ষ্ঠ সংস্করণ, Allyn & Bacon, 2006, আইএসবিএন 0-205-45793-2

Kleinman, Sherryl. ২০০৭। *Feminist Fieldwork Analysis.* Sage Publications, Inc.

Charmaz, Kathy. ২০০৬। *Constructing Grounded Theory: A Practical Guide through Qualitative Analysis.* লস অ্যাঞ্জেলেস, CA: SAGE.

Bruce Berg. *Qualitative Research Methods for the Social Sciences*, ৭ম সংস্করণ।

Blumer, Herbert. ১৯৬৯। *Symbolic Interactionism: Perspective and Method.* Englewood Cliffs, NJ: Prentice Hall.

দেখুন: "Sociological Practice" অধ্যায়ের অতিরিক্ত পাঠ্য

আলোচনাসূচক প্রশ্ন

[সম্পাদনা]
  • কেন মানব আচরণ অধ্যয়ন করা কঠিন?
  • সমাজতত্ত্ব কি প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের (যেমন: জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন) মতো একটি বিজ্ঞান? কীভাবে?
  • সমাজতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের সীমাবদ্ধতাগুলো কী?
  • কীভাবে সমাজতাত্ত্বিক অনুসন্ধান সাধারণ বোধ-এর সীমা অতিক্রম করে?

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Kuhn, Thomas S. 2012. The Structure of Scientific Revolutions, 50th Anniversary, 4th Edition. Chicago, Illinois: University of Chicago Press.
  2. Moghissi, A. Alan. 2010. “Peer Review and Scientific Assessment.” Technology & Innovation 12:187-188.
  3. Moody, James W., Lisa A. Keister, and Maria C. Ramos. 2022. “Reproducibility in the Social Sciences.” Annual Review of Sociology 48:65–85. doi: https://doi.org/10.1146/annurev-soc-090221035954.
  4. Weber, Max. 1946. Science As Vocation. Gerth, H. H. and Mills, C. Wright, Editors and Translators. From Max Weber: Essays in Sociology. New York: Oxford University Press; pp. 129-156.
  5. Reverby, Susan M. 2011. "Normal Exposure" and Inoculation Syphilis: A PHS "Tuskegee" Doctor in Guatemala, 1946-48. Journal of Policy History.

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

ভূমিকা · সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব