সমাজবিজ্ঞানের পরিচিতি/মানব বাস্তুসংস্থান ও পরিবেশ
এই পৃষ্ঠাটি বর্তমানে নির্মাণাধীন। আপাতত, নিচের উইকিপিডিয়া নিবন্ধগুলো পড়ুন:
মানব প্রভাব পরিবেশের উপর
[সম্পাদনা]গ্লোবাল ওয়ার্মিং বিভিন্ন কারণে একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। এটি পরিবেশের এমন কিছু উপাদানকেও প্রভাবিত করবে, যা সাধারণত আমরা বিবেচনা করি না। উদাহরণস্বরূপ, গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলে তাপমাত্রা এবং CO2 স্তর বৃদ্ধি পাবে, যা সাধারণত আগাছা হিসেবে বিবেচিত উদ্ভিদের দ্রুত এবং ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটাবে।[১] কিছু গাছকে "অপ্রয়োজনীয় আগাছা" বলা একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তি নির্ভর ভাবনা। এটি সামাজিক নির্মাণবাদের একটি ভালো উদাহরণ। আমরা নিজেরাই "আগাছা" নামক ধারণাটি তৈরি করি। যে গাছগুলো আমরা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে চাই না, সেগুলোকে এই শ্রেণিতে ফেলি।আরও একটি বিষয় হলো, আগাছা নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীরা ভালো করেই জানেন—মানুষ যেভাবে আগাছা দমন করার চেষ্টা করে, সেগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগাছাগুলোও ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। এই কারণে, অনেক গাছ যেগুলোকে আমরা সাধারণত আগাছা হিসেবে দেখি, সেগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। মানুষ যখন থেকে এগুলোকে নির্মূল করতে চেয়েছে, তখন থেকেই এদের টিকে থাকার ক্ষমতাও বেড়েছে। ।[১]
অনেকে ভাবতে পারেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবেশ দূষণকারী এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যতম প্রধান উৎস হওয়া সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্র কেন খুব একটা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না—যদিও সরকার নিজেই জানে যে তারা এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এর পেছনে রাজনীতি ও লোভ কাজ করছে—এমন কিছু প্রমাণ রয়েছে।[1] যেসব অঙ্গরাজ্যে প্রচুর পরিমাণে কয়লা মজুত আছে, সেখানকার সিনেটররা জলবায়ু-বান্ধব আইন প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার প্রবণতা অন্য রাজ্যের সিনেটরদের চেয়ে অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রচারণাগুলো মূলত দানের ওপর নির্ভর করে চলে। এসব দানের বড় অংশ আসে বড় বড় কোম্পানি ও তাদের কর্মীদের কাছ থেকে।
ফলে কয়লা উত্তোলনকারী বড় কোম্পানিগুলোর লাভের অংশ একরকম রাজনৈতিক প্রভাব হিসেবে কাজ করে। এর ফলে, তারা জলবায়ু সুরক্ষা সংক্রান্ত নীতির বিরোধিতা করে।[1] এইভাবে বলা যায়, স্বল্পমেয়াদী আর্থিক লাভের লোভ দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু ধ্বংসের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রকে পিছিয়ে রাখছে।
আরেকটি বড় কারণ হলো—মানুষের মনস্তত্ত্ব।[2] মানুষ সাধারণত এমন ধরনের ঝুঁকি নিয়ে বেশি ভাবেন, যেখানে সহজে কাউকে দায়ী করা যায়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের দায় পুরো মানবজাতির ওপর ছড়িয়ে আছে। তাই একজন নির্দিষ্ট অপরাধীকে চিহ্নিত করা কঠিন।
এছাড়া, মানুষ সাধারণত যেসব হুমকি তাৎক্ষণিক এবং চোখে দেখা যায়, সেগুলো নিয়ে বেশি চিন্তা করে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনেকের জন্যই তাৎক্ষণিক নয়, চোখে পড়েও না। তাই মানুষ সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে না।
পরিবেশের প্রভাব মানুষের উপর
[সম্পাদনা]যেমন মানুষ পরিবেশকে প্রভাবিত করে, তেমনি পরিবেশও মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, "অস্বস্তিকর" আবহাওয়া - যেমন খুব গরম, আর্দ্র, ভেজা বা ঠান্ডা আবহাওয়া - মানুষ কাকে ফোন করে এবং কতক্ষণ কথা বলে, তা পরিবর্তন করে।[২] খারাপ আবহাওয়ার সময় মানুষ ঘনিষ্ঠ পরিবার ও বন্ধুদের সাথে বেশি সময় কথা বলে।
টেকসইতার সামাজিক মনোবিজ্ঞান
[সম্পাদনা]টেকসই জীবনযাপন সক্ষম করা
[সম্পাদনা]দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি
[সম্পাদনা]সমস্ত মানবজীবনের ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের প্রযুক্তির সীমা ছাড়িয়ে এগোতে হবে। গাড়িগুলো এখন অনেক বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং দূষণও অনেক কম করে। এখন নথিপত্র ডিজিটালি সংরক্ষণ, কপি, পাঠানো এবং তৈরি করা যায়। ফটোকপিয়ার মেশিন ভুলে যান—রাইট ক্লিক করুন, কপি করুন, তারপর পেস্ট করুন। গৃহস্থালির যন্ত্রপাতি, লাইট বাল্ব, মহাসড়ক, ভবন, এবং ওষুধ—সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ভবিষ্যতের পথে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কে জানতো, ২১শ শতক সময়ের এতটা আগেই এগিয়ে যাবে?
ভোগ হ্রাস
[সম্পাদনা]ভবিষ্যৎ জীবন টিকিয়ে রাখতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো ভোগ হ্রাস করা। মানুষ যদি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পৃথিবীতে বসবাস করতে চায়, তাহলে কম খরচ ও কম দূষণের ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বিশ্বজুড়ে শিক্ষিত ও কর্মজীবী নারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জন্মহার ক্রমাগত কমছে। তবুও, পৃথিবী তার সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতায় পৌঁছে গেছে। অনেক দেশ ভোগ কমানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু অনেকেই হয় হাল ছেড়ে দিয়েছে, নয়তো ইতিবাচক ফলাফল এখনো দেখতে পায়নি। যারা পুনর্ব্যবহার করে, একসঙ্গে গাড়ি চড়ে, গণপরিবহন ব্যবহার করে, বা পরিবেশবান্ধব যন্ত্রপাতি দিয়ে ঘর চালায়—তাদের পুরস্কৃত করা যেতে পারে।
অন্যদিকে, যারা অতিরিক্ত সম্পদ ব্যবহার করে, তাদের শাস্তি দিতে হবে। যারা আলাদা আলাদা গাড়ি চালায়—তাদের জরিমানা, টিকিট বা কর আরোপ করা যেতে পারে। যারা দিন-রাত ঘরের আলো জ্বালিয়ে রাখে, যারা বিশাল SUV চালিয়ে তিনশো মাইল ভ্রমণ করে, এবং যারা প্রতিটি আবর্জনা ফেলে দেয়, পুনর্ব্যবহার করে না—তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অর্থনীতিবিদ রবার্ট ফ্র্যাঙ্ক,[১] যিনি সামাজিক মনোবিজ্ঞানেও পারদর্শী, তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে একটি সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল বাজার অর্থনীতি অর্জনকে পুরস্কৃত করেও টেকসই ভোগের পথে এগিয়ে যেতে পারে।
মজার বিষয় হলো, আমেরিকানরা সংরক্ষণ ও ভোগ হ্রাসের পক্ষে থাকলেও, অনেকে নিজের কথার সাথে কাজ মিলিয়ে চলেন না।[৩] উদাহরণস্বরূপ, ৮৮% আমেরিকান মনে করেন পুনর্ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মাত্র ৫১% নিয়মিত বা প্রায়ই তা করেন।[৩] পরিবেশ সম্পর্কে মনোভাব বদলানো সহজ, কিন্তু আচরণ বদলানো অনেক কঠিন।
বস্তুবাদ ও সম্পদের সামাজিক মনোবিজ্ঞান
[সম্পাদনা]বস্তুবাদের বৃদ্ধি
[সম্পাদনা]যুক্তরাষ্ট্রে বস্তুবাদ সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। একটি গ্যালাপ জরিপ অনুযায়ী,[২] প্রতি দুই নারীর একজন, প্রতি তিন পুরুষের দুইজন, এবং প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজন যাদের বার্ষিক আয় $৭৫,০০০-এর বেশি, তারা ধনী হতে চান। আরও বেশি মানুষ এখন অর্থসম্পদ অর্জনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন, অর্থবহ জীবন যাপনের চেয়ে।
সম্পদ ও মঙ্গল
[সম্পাদনা]অর্থ দিয়ে কি সুখ কেনা যায়? নাকি অন্তত মানসিক শান্তি? দুঃখজনকভাবে, না। অর্থ এবং মানসিক শান্তির মধ্যে খুব কম বা কোনো সম্পর্কই নেই। গবেষণায় দেখা গেছে, একজন ব্যক্তি কতটা ধনী তা তেমন একটা প্রভাব ফেলে না তার মঙ্গল বা ভালো থাকার ওপর। তবে গরিব দেশে, যেখানে নিম্ন আয় মৌলিক চাহিদা পূরণে বাধা, সেখানে তুলনামূলকভাবে সচ্ছল হওয়া বেশি মঙ্গলজনক হতে পারে।[৩]
কিন্তু যখন কেউ ধনী হয়ে ওঠে, তখন যে আনন্দ বা সুখ আসে তা খুব অল্প সময়েই হারিয়ে যায়। এরপর সেই মানুষকে আরও অর্থ আর সম্পদ প্রয়োজন হয় ভালো থাকার অনুভূতি বজায় রাখতে। ডেভিড লাইকেন অনুযায়ী,[৪] "যারা বাসে করে ওভারঅল পরে কাজ করতে যায়, তারা গড়ে ঠিক ততটাই সুখী, যতটা সেই লোকেরা যারা স্যুট পরে নিজের মার্সিডিজ চালিয়ে কাজ করতে যায়" (পৃষ্ঠা ১৭)। এমনকি ফোর্বসের তালিকাভুক্ত ১০০ জন সবচেয়ে ধনী আমেরিকানও গড় মানের তুলনায় সামান্য বেশি সুখী।[৫]
বস্তুবাদ কেন সন্তুষ্টি দিতে ব্যর্থ
[সম্পাদনা]যারা জীবনের সব কিছু অর্জন করতে চায়, বস্তুবাদ তাদের মনোঃসন্তুষ্টি দিতে পারে না। যারা ক্ষমতা, টাকা ও সম্পদের পেছনে ছুটে, তারা অনেক নিচু মানের মঙ্গলবোধ নিয়ে বাঁচে। যারা ব্যক্তিগত বিকাশ, জ্ঞান, ও প্রজ্ঞার জন্য চেষ্টা করে, তারা অনেক বেশি শান্তিতে থাকে। বস্তুবাদের মাধ্যমে মানসিক শান্তি পাওয়ার চেষ্টা করলে তা ব্যর্থ হয়।
অনেক কিছু, যা এক সময় বিলাসিতা ছিল, এখন প্রয়োজনীয় মনে হয়। এই বিলাসিতার ভিত্তিতে একজন মানুষ তার সুখ পরিমাপ করে। পরে, যখন সবাই সেই জিনিস পেয়ে যায়, তখন ওই ব্যক্তি আবার এমন কিছু চায় যা অন্য কারো নেই। এভাবেই সেই চক্র চলতেই থাকে। বস্তুবাদী মানুষ সব সময় আরও বেশি কিছু চায়, শান্তি পাওয়ার জন্য।
টেকসইতা ও বেঁচে থাকার দিকে
[সম্পাদনা]আমাদের সমাজকে বস্তুবাদের হাত থেকে মুক্ত করতে হলে, টেকসই জীবনের পথে চলতে হবে। এমন আইন ও প্রোগ্রাম চালু করতে হবে যা ভোগ হ্রাস করবে, প্রযুক্তি উন্নত করবে, দক্ষতায় জোর দেবে, বুঝবে যে সম্পদ ও মানসিক শান্তির মধ্যে কোনো যোগ নেই, এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাবে।
মানুষকে একজোট হয়ে বিশ্বের ঘটনাগুলোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে, শুধু নিজেদের নিয়ে ভাবলে চলবে না। সামাজিক মনোবিজ্ঞান অধ্যয়নের মাধ্যমে বিশ্ব নিজেকে উন্নত করতে পারে, টিকিয়ে রাখতে পারে পৃথিবী ও মানবজাতিকে। মানুষ যত দ্রুত বুঝবে বস্তুবাদে সত্যিকারের শান্তি নেই, তত দ্রুত এই পৃথিবী একটি ভালো জায়গা হয়ে উঠবে।
প্রস্তাবিত পঠন
[সম্পাদনা]দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস টেনেসির একটি বড় দুর্ঘটনার পর, আলাবামার পেরি কাউন্টিতে কয়লা ছাই সংরক্ষণের বিষয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে[৪]। পেরি কাউন্টির প্রায় ৭০% মানুষ কৃষ্ণাঙ্গ। এটি একটি দরিদ্র এলাকা। তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—এটি পরিবেশগত বর্ণবাদের উদাহরণ কি না। কিছু মানুষ বলছে, এই সিদ্ধান্ত আসলে বর্ণবাদেরই প্রতিফলন। আবার অন্যরা যুক্তি দিচ্ছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব আর্থিক সুবিধা এলাকাবাসী পাবে, সেগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ ১.০ ১.১ Christopher, Tom. 2008. “Can Weeds Help Solve the Climate Crisis?.” The New York Times, June 29 http://www.nytimes.com/2008/06/29/magazine/29weeds-t.html (Accessed February 11, 2010).
- ↑ Phithakkitnukoon, S., Leong, T. W., Smoreda, Z., & Olivier, P. (2012). Weather Effects on Mobile Social Interactions: A Case Study of Mobile Phone Users in Lisbon, Portugal. PLoS ONE, 7(10), e45745. doi:10.1371/journal.pone.0045745
- ↑ ৩.০ ৩.১ Leiserowitz, A. (in press) “Climate change risk perceptions and behavior in the United States,” in S. Schneider, A. Rosencranz, and M. Mastrandrea, eds. Climate Change Science and Policy. Island Press.
- ↑ Dewan, Shaila. 2009. “Clash in Alabama Over Tennessee Coal Ash.” The New York Times, August 30 http://www.nytimes.com/2009/08/30/us/30ash.html?partner=rss&emc=rss (Accessed August 30, 2009).
- ^ Frank, R. (1999). Luxury fever: Why money fails to satisfy in an era of excess. New York: Free Press.
- ^ Gallup Poll. (1990, July). Reported by G. Gallup, Jr., & F. Newport, Americans widely disagree on what constitutes “rich.” Gallup Poll Monthly, pp. 28-36.
- ^ Argyle, M. (1999). Causes and correlates of happiness. In D. Kahneman, E. Diener, & N. Schwartz (Eds.), Foundations of hedonic psychology: Scientific perspectives on enjoyment and suffering. New York: Russell Sage Foundation.
- ^ Lykken, D.T. (1999). Happiness. New York: Golden Books.
- ^ Diener, E., Horowistz, J., & Emmons, R.A. (1985). Happiness of the very wealthy. Social Indicators, 16, 263-274.
