সমাজবিজ্ঞানের পরিচিতি/জাতি ও জাতিসত্তা
জাতি ও জাতিসত্তা
[সম্পাদনা]জাতি হলো এমন একটি মানব জনসমষ্টি, যাদেরকে বাস্তব বা কল্পিত দেহগত পার্থক্যের ভিত্তিতে অন্যান্য মানুষের থেকে আলাদা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[১] জাতিগত শ্রেণিবিন্যাস মূলত মানুষের জৈবিক বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে, যেমন ত্বকের রং, মুখাকৃতি ইত্যাদি। সাধারণত ব্যক্তির নিজস্ব ইচ্ছার পরিবর্তে অন্য কেউ তাকে একটি জাতিগত গোষ্ঠীতে শ্রেণিবদ্ধ করে (যাকে বাহ্যিক শ্রেণিবিন্যাস বলা হয়)। জাতি ও জাতিগত গোষ্ঠী সংক্রান্ত ধারণাগুলো প্রায়ই বিতর্কিত, কারণ এগুলো সামাজিক পরিচয়-কে প্রভাবিত করে এবং সেই পরিচয় একজন মানুষের সামাজিক অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে (দেখুন পরিচয় রাজনীতি)।
জাতিগততা, যদিও জাতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, এটি শারীরিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তে সামাজিক বৈশিষ্ট্য বা বৈশিষ্ট্যভিত্তিক সম্পর্ক বোঝায় যা একটি গোষ্ঠী ভাগ করে। জাতিগত শ্রেণিবিন্যাসের জন্য সাধারণত যেসব সামাজিক বৈশিষ্ট্য ব্যবহৃত হয়, তা হলো:
- জাতীয়তা
- গোত্র বা উপজাতি
- ধর্মীয় বিশ্বাস
- ভাষা
- সংস্কৃতি
- ঐতিহ্য
জাতির তুলনায়, জাতিগততা সাধারণত বাইরের দ্বারা চাপিয়ে দেওয়া হয় না বরং অভ্যন্তরীণ পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই শব্দটি কোনো গোষ্ঠীর একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সংযোগকে গুরুত্ব দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে একটি জাতিগত গোষ্ঠীর উদাহরণ হতে পারে হিস্পানিক বা লাতিনো।

জাতি সম্পর্কিত পরিবর্তিত সংজ্ঞাসমূহ
[সম্পাদনা]মানবজাতিকে পৃথক জাতিতে বিভক্ত করার ধারণা প্রাচীন মিশরের পবিত্র গ্রন্থ Book of Gates-এ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়, যেখানে মিশরীয়দের মতে চারটি জাতিকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এই প্রাচীন ধারণাগুলোতে জাতিগত ও জাতিগততার পার্থক্য মিশে গিয়েছিল—ত্বকের রঙের পাশাপাশি উপজাতি ও জাতীয় পরিচয়ও একত্রে বিবেচিত হতো। প্রাচীন গ্রিক ও রোমান লেখকরাও তৎকালীন পরিচিত জনগোষ্ঠীর দেহগত পার্থক্য ব্যাখ্যা ও শ্রেণিবিন্যাসের চেষ্টা করেছিলেন। মধ্যযুগীয় জাতিগত ধারণাগুলোতে প্রাচীন ধ্যান-ধারণা মিশে গিয়েছিল বাইবেলীয় বিশ্বাসের সঙ্গে যে, সমগ্র মানবজাতি নূহের তিন পুত্র—শেম, হাম ও ইয়াফেথের—বংশধর, এবং এখান থেকেই সেমিটিক (এশীয়), হ্যামিটিক (আফ্রিকান) ও জাফেটিক (ইউরোপীয়) জনগোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়েছে। জাতি নিয়ে প্রথম বৈজ্ঞানিক চর্চা শুরু হয় ১৭শ শতকে, যা ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়।[১]
১৯শ শতকে একাধিক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানী জাতি নিয়ে লেখালেখি করেন, যেমন: জর্জ কুভিয়ে, জেমস কাউলস প্রিচার্ড, লুই অ্যাগাসি, চার্লস পিকেরিং, এবং জোহান ফ্রিডরিখ ব্লুমেনবাখ। এঁরা জাতি নিয়ে তিনটি দাবি উপস্থাপন করেন:
- জাতিগুলো মানবজাতির স্বাভাবিক, প্রকৃত বিভাজন
- জৈবিক জাতির সঙ্গে সামাজিক আচরণ, সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক সাফল্যের সম্পর্ক রয়েছে
- সুতরাং জাতি একটি বৈজ্ঞানিকভাবে বৈধ শ্রেণিবিন্যাস যা ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত আচরণ ব্যাখ্যা ও পূর্বাভাস দিতে সক্ষম
এই বিজ্ঞানীরা জাতিকে ত্বকের রং, মুখমণ্ডলের গঠন, মাথার আকার, চুলের গঠন ও রঙের ভিত্তিতে আলাদা করতেন। প্রায় সর্বত্র জাতিগত পার্থক্যকে নৈতিক চরিত্র ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত মনে করা হতো।
এই প্রাথমিক জাতি সংজ্ঞাগুলো ছিল মূলত মূলগততাবাদী এবং শ্রেণিবিন্যাসভিত্তিক; 'মূলগততাবাদ' বোঝায় যে ব্যক্তির গুণাবলি অপরিবর্তনীয় ও জন্মগত, আর 'শ্রেণিবিন্যাসভিত্তিক' বোঝায় যে এই শ্রেণিগুলো সাধারণত একটি ধাপভিত্তিক কাঠামোয় সাজানো। কিন্তু ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব ও মেন্ডেলের জেনেটিকস তত্ত্ব এই ধরণাগুলোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং জাতির ধারণাকে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে।[১]
নিচের সারণিতে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে প্রাথমিক সংজ্ঞাগুলোতে মূলগততা ও শ্রেণিবিন্যাস অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং কীভাবে সময়ের সঙ্গে এসব সংজ্ঞার বিবর্তন ঘটেছে:
| ধারণা | সূত্র | সংজ্ঞা |
|---|---|---|
| মূলগততাবাদী | হুটন (১৯২৬)[৩] | "মানবজাতির একটি বৃহৎ বিভাজন, যা একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যসমষ্টির মাধ্যমে চিহ্নিত হয়, যা তাদের যৌথ বংশধারার ফল এবং যা ব্যক্তিগত পার্থক্যের কারণে কিছুটা অস্পষ্ট হলেও একটি যৌথ প্রতিচ্ছবিতে সুনির্দিষ্টভাবে ধরা পড়ে।" |
| শ্রেণিবিন্যাসভিত্তিক | মায়র (১৯৬৯)[৪] | "একটি প্রজাতির ফেনোটাইপিকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ জনসংখ্যার সমষ্টি, যারা একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে বাস করে এবং প্রজাতির অন্য জনসংখ্যা থেকে শ্রেণিগতভাবে পৃথক।" |
| জনসংখ্যা ভিত্তিক | ডবঝানস্কি (১৯৭০)[৫] | "জাতিগুলো হলো মেন্ডেলীয়ভাবে ভিন্নতাপূর্ণ জেনেটিক জনসংখ্যা। তারা ব্যক্তি নয়, কিংবা নির্দিষ্ট জেনোটাইপ নয়—তারা এমন একগোষ্ঠী, যাদের মধ্যে জেনেটিক পার্থক্য বিদ্যমান।" |
| বংশধারাভিত্তিক | টেম্পলটন (১৯৯৮)[৬] | "একটি উপপ্রজাতি (জাতি) হলো একটি স্বতন্ত্র বিবর্তনগত বংশধারা। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, দীর্ঘকাল ধরে জেনেটিক বিনিময়ে প্রতিবন্ধকতা থাকার কারণে উপপ্রজাতিকে জেনেটিকভাবে ভিন্ন হতে হবে; অর্থাৎ, বর্তমান জেনেটিক পার্থক্যের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাও থাকতে হবে।" |
যেহেতু জাতিগত পার্থক্য আজও সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে, জাতিগত শ্রেণিবিন্যাস আজও বিদ্যমান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিজস্ব জাতি ও জাতিগততার সংজ্ঞা দেওয়ার চেষ্টা করেছে (দেখুন মার্কিন আদমশুমারি) এই শ্রেণিবিন্যাস ও তুলনামূলক বিশ্লেষণের জন্য।
সামাজিক নির্মাণ নাকি জৈবিক বংশধারা?
[সম্পাদনা]সামাজিক নির্মাণ
[সম্পাদনা]একাডেমিক বিভিন্ন শাখার মধ্যে এখনো বিতর্ক চলছে যে জাতিকে কীভাবে বোঝা উচিত। কিছু সমাজবিজ্ঞানী ও জীববিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন যে জাতি একটি সামাজিক নির্মাণ, অর্থাৎ এটি প্রকৃত জগতের কোনো বাস্তব ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয় বরং মানুষের সৃষ্টি একটি কৃত্রিম বিভাজন মাত্র।[১] এই দৃষ্টিভঙ্গির ফলে কিছু গবেষক জাতিভিত্তিক মানব পার্থক্যের বিশ্লেষণ পরিত্যাগ করে তা জনসংখ্যা জেনেটিকসের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করতে শুরু করেছেন এবং জাতিগত শ্রেণিবিন্যাস পুরোপুরি বাতিল করেছেন। জাতিকে একটি বৈধ শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি হিসেবে ক্রমবর্ধমানভাবে প্রত্যাখ্যান করা হওয়ায় অনেক সমাজবিজ্ঞানী এখন জাতি শব্দটির পরিবর্তে জাতিগোষ্ঠী শব্দটি ব্যবহার করছেন, যার মাধ্যমে একটি গোষ্ঠীকে তাদের নিজস্ব ধর্ম, জাতীয়তা বা সংস্কৃতির ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হয়।
জাতিকে একটি সামাজিক নির্মাণ হিসেবে বোঝার দৃষ্টিভঙ্গি দুটি দেশের—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল—উদাহরণের মাধ্যমে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জাতি নির্মাণ
[সম্পাদনা]মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুরুর দিনগুলো থেকেই জাতিগত শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তিত হয়েছে এবং বিভিন্ন গোষ্ঠী যেমন আদিবাসী আমেরিকান, আফ্রিকান-আমেরিকান এবং ইউরোপীয়-আমেরিকানদের বিভিন্ন জাতির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। নিচের সারণিতে মার্কিন আদমশুমারিতে ব্যবহৃত কিছু ভিন্ন ভিন্ন জাতিগত ও বর্ণগত শ্রেণিবিন্যাস তুলে ধরা হয়েছে।[৭] সময়ের সাথে এই শ্রেণিবিন্যাসগুলোর পরিবর্তন প্রমাণ করে যে জাতি একটি সামাজিক নির্মাণ।
| ১৮৯০ | ১৯০০ | ১৯১০ | ১৯২০ | ১৯৩০ | ১৯৪০ | ১৯৫০ | ১৯৬০ | ১৯৭০ | ১৯৮০ | ১৯৯০[৮] |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| শ্বেতাঙ্গ | শ্বেতাঙ্গ | শ্বেতাঙ্গ | শ্বেতাঙ্গ | শ্বেতাঙ্গ | শ্বেতাঙ্গ | শ্বেতাঙ্গ | শ্বেতাঙ্গ | শ্বেতাঙ্গ | শ্বেতাঙ্গ | শ্বেতাঙ্গ |
| কৃষ্ণাঙ্গ | কৃষ্ণাঙ্গ | কৃষ্ণাঙ্গ | কৃষ্ণাঙ্গ | নিগ্রো | নিগ্রো | নিগ্রো | নিগ্রো | নিগ্রো বা কৃষ্ণাঙ্গ | কৃষ্ণাঙ্গ বা নিগ্রো | কৃষ্ণাঙ্গ বা নিগ্রো |
| মুলাট্টো | চীনা | মুলাট্টো | মুলাট্টো | মেক্সিকান | ইনডিয়ান | আমেরিকান ইনডিয়ান | আমেরিকান ইনডিয়ান | ইনডিয়ান (আমেরিকান) | জাপানি | ইনডিয়ান (আমেরিকান) |
| কোয়াডরুন | জাপানি | চীনা | চীনা | ইনডিয়ান | চীনা | জাপানি | জাপানি | জাপানি | চীনা | এস্কিমো |
| অক্টোরুন | ইনডিয়ান | জাপানি | জাপানি | চীনা | জাপানি | চীনা | চীনা | চীনা | ফিলিপিনো | আলেউট |
| চীনা | ইনডিয়ান | ইনডিয়ান | জাপানি | ফিলিপিনো | ফিলিপিনো | ফিলিপিনো | ফিলিপিনো | কোরিয়ান | এশীয় বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপবাসী (API) | |
| জাপানি | অন্যান্য | অন্যান্য | ফিলিপিনো | হিন্দু | অন্যান্য | হাওয়াইয়ান | হাওয়াইয়ান | ভিয়েতনামি | চীনা | |
| ইনডিয়ান | হিন্দু | কোরিয়ান | আংশিক হাওয়াইয়ান | কোরিয়ান | ইনডিয়ান (আমেরিকান) | ফিলিপিনো | ||||
| কোরিয়ান | অন্যান্য | আলেউট | অন্যান্য | এশীয় ভারতীয় | হাওয়াইয়ান | |||||
| অন্যান্য | এস্কিমো | হাওয়াইয়ান | কোরিয়ান | |||||||
| অন্যান্য, ইত্যাদি | গুয়ামানিয়ান | ভিয়েতনামি | ||||||||
| সামোয়ান | জাপানি | |||||||||
| এস্কিমো | এশীয় ভারতীয় | |||||||||
| আলেউট | সামোয়ান | |||||||||
| অন্যান্য | গুয়ামানিয়ান | |||||||||
| অন্যান্য |
বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীতে সদস্যপদ নির্ধারণের মানদণ্ডগুলো ছিল ভিন্ন ভিন্ন। আফ্রিকানদের ক্ষেত্রে, সরকার যেকোনো আফ্রিকান বৈশিষ্ট্যধারী ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ আফ্রিকান হিসেবে বিবেচনা করত। অন্যদিকে, আদিবাসী আমেরিকানদের শ্রেণিবদ্ধ করা হতো নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘ইন্ডিয়ান রক্ত’ থাকার ভিত্তিতে। সর্বশেষে, ইউরোপীয়-আমেরিকানদের অবশ্যই সম্পূর্ণ শ্বেতাঙ্গ বংশধর হতে হতো। জাতিগত গোষ্ঠীতে সদস্যপদ নির্ধারণের এই ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ডগুলোর জীববিজ্ঞানের সাথে সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে কম ছিল; বরং এগুলো মূলত একটি গোষ্ঠীর সংজ্ঞায়িত ভূমিকা ও অবস্থান বজায় রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।

কিছু গবেষক ও ইতিহাসবিদ প্রস্তাব করেছেন যে এই ভিন্ন ভিন্ন জাতিগত শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপীয়-আমেরিকানদের হাতে ক্ষমতা, সম্পদ, সুযোগ-সুবিধা ও ভূমি কেন্দ্রীভূত করা।[৯][১০] এর ফলে, একজন আফ্রিকান ক্রীতদাস ও ইউরোপীয় মনিব বা গৃহকর্ত্রীর সন্তানকে আফ্রিকান হিসেবে বিবেচনা করা হতো। দাসপ্রথার অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একজন ক্রীতদাস মা থেকে জন্ম নেয়া মিশ্র জাতিসত্তার শিশুও ক্রীতদাস হতো, যার ফলে ক্রীতদাস মালিকের সম্পদ বেড়ে যেত।
আফ্রিকানদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মানদণ্ডের সাথে আদিবাসী আমেরিকানদের মানদণ্ডের তুলনা করলে দেখা যায়, আফ্রিকান ও আদিবাসী পিতামাতার সন্তানের পরিচয় হতো আফ্রিকান। কিন্তু কয়েক প্রজন্ম ধরে ইউরোপীয় ও আদিবাসী বংশধরদের সন্তানদের আদিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হতো না—অন্তত আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে নয়। আদিবাসী আমেরিকানদের ভূমির উপর চুক্তিভিত্তিক অধিকার ছিল, কিন্তু যাদের একজন আদিবাসী প্রপিতামহ বা প্রপিতামহী ছিলেন, তারা আর আইনি দিক থেকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃত হতেন না, ফলে তারা আদিবাসী ভূমির উপর তাদের অধিকার হারাতেন। অবশ্য, এই ব্যক্তিরাই যখন ‘অতিরিক্ত শ্বেতাঙ্গ’ হওয়ার কারণে আইনি দাবি থেকে বঞ্চিত হতেন, তখনও তারা ‘অর্ধজাত’ হিসেবে বিবেচিত হতেন এবং সামাজিকভাবে কলঙ্কিত হতেন।
দাসশ্রম-নির্ভর অর্থনীতিতে যত বেশি সম্ভব আফ্রিকান দাস থাকা ছিল লাভজনক। অপরদিকে, একটি জাতি যখন পশ্চিম দিকে সম্প্রসারণে (আজকের দৃষ্টিকোণ থেকে যা অবৈধ অভিবাসন বা জাতিগত জয় হিসেবে দেখা হয়) ব্যস্ত ছিল, তখন আদিবাসী ভূমির দাবিদারদের সংখ্যা কমিয়ে আনা ছিল লাভজনক। ফলে শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে তাদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করা হতো। এই দুই কৌশলই উপকৃত করেছিল তৃতীয় গোষ্ঠী, অর্থাৎ তথাকথিত ‘জাতিগতভাবে বিশুদ্ধ’ শ্বেতাঙ্গদের। মূল কথা হলো, প্রারম্ভিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জাতিগত শ্রেণিবিন্যাস ছিল এমনভাবে সামাজিকভাবে নির্মিত, যা একটি ‘জাতি’র অন্যদের উপর সুবিধা নিশ্চিত করেছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আফ্রিকান ব্যক্তিরা আনা হয়েছিল আফ্রিকা থেকে ক্রীতদাস হিসেবে, মূলত দক্ষিণাঞ্চলীয় কৃষিকাজে সহায়তার জন্য। যদিও ইউরোপীয় অভিবাসীরা প্রাথমিকভাবে আদিবাসী জনগণকে দাসে পরিণত করার চেষ্টা করেছিল, আদিবাসীদের ভূমি সম্পর্কে জ্ঞান থাকায় তাদের এই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ফলে আমেরিকান জমি চাষের জন্য বিশ্বব্যাপী অন্য অঞ্চল থেকে দাসশ্রম আমদানি করা বেশি কার্যকর বলে বিবেচিত হয়। এর ফলস্বরূপ, ইউরোপীয়রা আফ্রিকানদের আমদানি করতে শুরু করে এবং আদিবাসীদের আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলে রপ্তানি করে (এই ইতিহাসের আরও বিশদ বিবরণের জন্য লোয়েনের কাজ দেখুন)। এরপর থেকে অভিবাসনের ধারা আফ্রিকান-আমেরিকান জনসংখ্যার ভৌগোলিক বণ্টনে বড় পরিবর্তন আনলেও, তারা এখনো দক্ষিণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশি ঘনত্বে অবস্থান করছেন, যা নিচের মানচিত্রে দেখানো হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আদিবাসী আমেরিকানরা রিজার্ভেশনে বসবাস করছেন, যা ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন সরকারের বাস্তুচ্যুতি নীতির ফল (১৯৭০-এর দশকে বাস্তবায়িত সর্বশেষ বাস্তুচ্যুতি পর্যায় নিয়ে বিশদ জানতে ব্রোকেন রেইনবো প্রামাণ্যচিত্রটি দেখুন)। নিচের মানচিত্রে তা চিত্রিত হয়েছে:

ব্রাজিলে জাতি নির্মাণ
[সম্পাদনা]
ব্রাজিলের ভূগোল ও পরিসংখ্যান সংস্থা (IBGE) ব্রাজিলের জনগণকে পাঁচটি বিভাগে শ্রেণিবদ্ধ করে: শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ, পার্দো বা (বাদামী), হলুদ এবং আদিবাসী, যা জনশুমারিতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তির স্বঘোষিত গায়ের রঙের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
- শ্বেতাঙ্গ (জনসংখ্যার ৪৭.৭%) :[১১] সাধারণত পূর্ণ বা প্রধানত ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত ব্রাজিলিয়ান অথবা এমন কোনো বংশোদ্ভূত ব্যক্তি (যেমন জার্মান-ব্রাজিলিয়ান) যারা নিজেদেরকে শ্বেতাঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেন।
- পার্দো বা বাদামী (৪৩.১%) :[১১] সাধারণত মিশ্র জাতিসত্তার ব্রাজিলিয়ান যারা নিজেদেরকে "পার্দো" হিসেবে পরিচয় দেন। বাস্তবে, অধিকাংশ পার্দো ব্যক্তি ইউরোপীয় ও আফ্রিকান (মুলাটো) বংশমিশ্রণ থেকে উদ্ভূত, তবে এই শ্রেণিতে ইউরোপীয় ও আমেরিন্ডিয়ান (কাবোকলো) এবং আমেরিন্ডিয়ান ও আফ্রিকান (কাফুসো) বংশের মানুষও অন্তর্ভুক্ত।[১২]
- কৃষ্ণাঙ্গ (৭.৬%) :[১১] সাধারণত গাঢ় ত্বকের ব্রাজিলিয়ান, যাদের পূর্ণ বা প্রধানত আফ্রিকান বংশধারা রয়েছে এবং যারা নিজেদেরকে কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেন।
- হলুদ (১.১%) : সাধারণত পূর্ব এশীয় বংশোদ্ভূত ব্রাজিলিয়ান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জাপানি-ব্রাজিলিয়ান।
- আদিবাসী (০.৪%) :[১৩] সাধারণত পূর্ণ বা প্রধানত আমেরিন্ডিয়ান বংশোদ্ভূত ব্রাজিলিয়ান যারা নিজেদেরকে আদিবাসী হিসেবে বিবেচনা করেন।
এই অধ্যায়ে জাতিগত পরিচয় নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো "শ্বেতাঙ্গ" ও "কৃষ্ণাঙ্গ" এর মাঝামাঝি একটি শ্রেণি—"পার্দো" বা "বাদামী"—বিদ্যমান। ব্রাজিলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি জাতিগত শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে, যা জাতিকে একটি সামাজিক নির্মাণ হিসেবে চিহ্নিত করে। তদুপরি, ব্রাজিলে জাতিগত শ্রেণিবিন্যাস স্বঘোষণার ভিত্তিতে হওয়ায় এবং নির্দিষ্ট কোনো বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ড না থাকায়, এটি অস্থিতিশীল ও পরিবর্তনশীল।[১৪] জাতিগত মিশ্রণের কারণে, জাতিগত পরিচয় উত্তরাধিকারসূত্রে নয় বরং বাহ্যিক শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় (যেমন, একজন শ্বেতাঙ্গ পিতা ও কৃষ্ণাঙ্গ মাতার সন্তান "শ্বেতাঙ্গ", "কৃষ্ণাঙ্গ" বা "পার্দো" হতে পারে)। তদুপরি, যেহেতু জাতিগত পরিচয় স্বঘোষিত এবং জাতিগত বৈষম্য বিদ্যমান (যেখানে শ্বেতাঙ্গরা সুবিধাপ্রাপ্ত),[১৪] ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে নিজেদেরকে ‘উজ্জ্বল গায়ের’ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা দেখা যায়,[১৫] যা একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে ভিন্ন হতে পারে। এই ‘স্ব-উজ্জ্বলকরণ’ এর ধারণাটি প্রমাণ করে যে জাতি একটি স্থির ধারণা নয়, বরং এটি সামাজিকভাবে নির্মিত।
জীববিজ্ঞান ও জিনতত্ত্ব
[সম্পাদনা]সামাজিক নির্মাণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি অন্যান্য দৃষ্টিকোণকে পুরোপুরি বাতিল করে দেয়নি। কিছু সমাজবিজ্ঞানী (এবং অন্যান্য গবেষক) এখনো বিশ্বাস করেন যে, জাতিগত শ্রেণিবিন্যাস অস্পষ্ট সেট, গুচ্ছ, অথবা সম্প্রসারিত পরিবার হিসেবে বিবেচনা করলে তা একটি কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক পরিমাপক হতে পারে।
এই বিশ্বাস এবং জেনেটিক মডেলিং সফটওয়্যারের বিকাশের ওপর ভিত্তি করে কিছু বিজ্ঞানী যুক্তি দেন যে, জেনেটিক তথ্য ব্যবহার করে জনসংখ্যার কাঠামো নির্ধারণ করা যায় এবং ব্যক্তিদের এমন কিছু দলে ভাগ করা যায়, যেগুলো প্রায়ই তাদের স্ব-পরিচিত ভৌগোলিক বংশপরিচয়ের (যেমনঃ আফ্রিকান, এশীয় ইত্যাদি) সঙ্গে মিলে যায়। এই ধারার সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো যুক্তি দেয় যে, অন্তত যুক্তরাষ্ট্রে, স্ব-ঘোষিত জাতিগোষ্ঠী কোনো ব্যক্তির জেনেটিক প্রোফাইলের একটি ভালো সূচক। উদাহরণস্বরূপ, ৩২৬টি জেনেটিক মার্কার ব্যবহার করে, Tang et al.(২০০৫)[১৬] ‘‘স্ট্রাকচার’’ নামে একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি স্থান থেকে সংগৃহীত ৩,৬৩৬ জন ব্যক্তির মধ্য থেকে ৪টি জেনেটিক ক্লাস্টার চিহ্নিত করেন এবং স্ব-ঘোষিত জাতিগোষ্ঠীর (শ্বেতাঙ্গ, আফ্রিকান আমেরিকান, পূর্ব এশীয় ও হিস্পানিক) সঙ্গে মিলিয়ে মাত্র ৫ জন ছাড়া বাকিদের সঠিকভাবে শ্রেণিবদ্ধ করতে সক্ষম হন (ত্রুটির হার মাত্র ০.১৪%)। এই মডেলিংয়ের ভিত্তিতে গবেষকরা বলেন, প্রাচীন বংশপরিচয় বা ভূগোল—যা বর্তমান বসবাসস্থলের সঙ্গে নয়, বরং স্ব-ঘোষিত জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সম্পর্কযুক্ত—যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যায় জেনেটিক গঠনের প্রধান নির্ধারক।
যদিও কিছু গবেষক তাদের এই যুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এবং জাতিগত স্বাস্থ্য বৈষম্য গবেষণায় এটি সহায়ক হতে পারে (নিচে বিস্তৃত আলোচনা দেখুন), তবে এটি লক্ষ্য করার বিষয় যে, আসলে তারা যা দেখিয়েছেন তা হলো—জেনেটিক জাতিগত শ্রেণিবিন্যাসগুলো সামাজিকভাবে নির্মিত, বাস্তব নয়। বিশেষভাবে, তাদের গবেষণায় ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি ডেটা বিশ্লেষণের আগে গবেষকদের কাছে জানতে চায়, কতগুলো ক্লাস্টার তারা চায় সফটওয়্যারটি তৈরি করুক। গবেষকরা একবার সিদ্ধান্ত নিলে, কতটি জাতিগোষ্ঠী তারা মনে করেন বা বিশ্বাস করেন আছে, তখন প্রোগ্রামটি সমস্ত ডেটা নির্ধারিত সংখ্যক ক্লাস্টারে বিভক্ত করে দেয়। অর্থাৎ, গবেষকরা যদি ৫টি বিভাগ ঠিক করেন, তাহলে প্রোগ্রামটি সব ডেটাকে ৫টি বিভাগে ভাগ করে দেবে; আবার যদি ২৬টি বিভাগ চিহ্নিত করেন, তবে ২৬টি ভাগে ভাগ করবে—এই সংখ্যাগুলো বা ক্লাস্টারগুলোর বাস্তবতা আছে কি না, সে বিষয়ে প্রোগ্রামটির কোনো উদ্বেগ থাকে না।
অতএব, জাতিগোষ্ঠীর জেনেটিক ভিত্তি তুলে ধরার বদলে, এই ধরনের গবেষণা আসলে দেখায়—একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যবহার করে গবেষকদের পূর্বধারণা অনুযায়ী কতটি জাতিগত ক্লাস্টার থাকতে পারে বা আছে তা নিশ্চিত করা যায়। একই তথ্য ব্যবহার করে অন্য গবেষকরা ভিন্ন সংখ্যক ক্লাস্টার শনাক্ত করেছেন।[১৭][১৮] কিছু গবেষক গবেষকদের ভূমিকাকে অগ্রাহ্য করে এই জেনেটিক ক্লাস্টারগুলো তৈরি করলেও, অন্যান্য গবেষক এই গবেষণাগুলোকে বৈজ্ঞানিক বর্ণবাদের চলমান ঐতিহাসিক প্রবণতার সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।[১৯]
সংক্ষেপে বলা যায়, এই ধরনের ক্লাস্টারিং গবেষণা বরং প্রমাণ করে যে, এমনকি জীববৈজ্ঞানিক ও জেনেটিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও জাতিগোষ্ঠী, বর্ণবাদ এবং জাতিগত সাদৃশ্য ও পার্থক্য একটি সামাজিক নির্মাণ, বাস্তবতার প্রতিফলন নয়।
উল্লিখিত গবেষণাগুলোর মধ্যেও দেখা যায়, জাতিগত গোষ্ঠীর ভেতরে জিনগত বৈচিত্র্য গোষ্ঠীর মধ্যকার বৈচিত্র্যের চেয়ে বেশি।[২০] তবে জাতিগুলোর মধ্যে জিনগত পার্থক্য থাকার বিষয়টি কেউ কেউ মেনে নিলেও, অনেক ক্ষেত্রে তা বিতর্কিত। যারা জিনগত পার্থক্যের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন, তারা উপরের গবেষণাগুলোর গুচ্ছ বিশ্লেষণকে যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন; আবার যারা এর বিরোধিতা করেন, তারা এগুলোর সামাজিক নির্মাণ হিসেবে বিশ্লেষণ করেন।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট জিনগত রোগ কিছু জাতিগত গোষ্ঠীতে তুলনামূলকভাবে বেশি প্রচলিত। উদাহরণস্বরূপ, উত্তর ইউরোপীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে প্রতি ২৯ জনে একজন সিস্টিক ফাইব্রোসিস বহনকারী, অথচ আফ্রিকান আমেরিকানদের মধ্যে এ অনুপাত প্রতি ৬৫ জনে একজন (উৎস)। আশকেনাজি ইহুদি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট রোগের ঝুঁকি বেশি (দেখুন: এখানে)। এই তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট জাতিগত গোষ্ঠীর ব্যক্তিদের জিনগত পরীক্ষা করার সুপারিশ করা হয়, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণ করা যায়।
তবে কিছু জাতিগোষ্ঠী যেমন হিস্পানিক জনগণ, যারা ভূগোলভিত্তিক বংশগত বৈচিত্র্য প্রদর্শন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এসব সম্পর্ক ভেঙে পড়ে।
জৈবচিকিৎসাবিজ্ঞানে জাতির গুরুত্ব নিয়ে গবেষকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। জাতি ব্যবহারপন্থীরা যুক্তি দেন, জাতিগত পার্থক্য উপেক্ষা করা হলে সংখ্যালঘুদের স্বাস্থ্য ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তারা বলেন, রোগের ঝুঁকি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ভিন্ন এবং শুধু জিনগত শ্রেণিবিন্যাসের উপর নির্ভর করলে জাতিগত-অ-জিনগত স্বাস্থ্যপ্রভাব যেমন দারিদ্র্য, আশপাশের পরিবেশ ইত্যাদি উপেক্ষিত হবে।
অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করেন, চিকিৎসা গবেষণায় জাতিগত শ্রেণির ব্যবহার ইতিহাসের মতো বৈজ্ঞানিক বর্ণবাদের ঝুঁকি বহন করে,[২১] তাই তারা বিকল্প পন্থার প্রস্তাব করেন।
জৈবচিকিৎসা গবেষণায় জাতিকে অন্তর্ভুক্ত করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, কঠিন-নির্ধারণযোগ্য রোগ ঝুঁকি সহজে অনুমানযোগ্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করে রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসার উন্নতি সাধন। জাতিভিত্তিক প্রথম ওষুধ BiDil সম্প্রতি মার্কিনখাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। আফ্রিকান-আমেরিকান পুরুষদের ওপর পরিচালিত এক বৃহৎ গবেষণায় দেখা গেছে, এই ওষুধ মৃত্যুর হার ৪৩% এবং হাসপাতালে ভর্তির হার ৩৯% কমিয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে, পূর্ববর্তী ট্রায়ালগুলোতে এই ওষুধ অকার্যকর হলেও, আফ্রিকান-আমেরিকানদের ওপর এর কার্যকারিতা দেখে তা অনুমোদন পায় (উৎস)।
বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও স্পষ্ট যে, রোগ সংবেদনশীলতা জাতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। নিচের ছকে এর কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। চ্যালেঞ্জ হলো, এই জাতিগত বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে এমন চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য হস্তক্ষেপ তৈরি করা, যা বর্ণবাদ পুনরায় উস্কে না দিয়ে বরং তা হ্রাসে সহায়ক হবে।
| রোগ | উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী | নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী | সূত্র(সমূহ) |
|---|---|---|---|
| স্থূলতা | আফ্রিকান নারী, নেটিভ আমেরিকান, দক্ষিণ এশীয়, প্যাসিফিক দ্বীপপুঞ্জের অধিবাসী, আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ান | ইউরোপীয় | McKeigue, et al. (1991)[২৩]; Hodge & Zimmet (1994)[২৪] |
| ইনসুলিন-নির্ভর নয় এমন ডায়াবেটিস | দক্ষিণ এশীয়, পশ্চিম আফ্রিকান, উপদ্বীপীয় আরব, প্যাসিফিক দ্বীপপুঞ্জের অধিবাসী এবং নেটিভ আমেরিকান | ইউরোপীয় | Songer & Zimmet (1995)[২৫]; Martinez (1993)[২৬] |
| উচ্চ রক্তচাপ | আফ্রিকান আমেরিকান, পশ্চিম আফ্রিকান | ইউরোপীয় | Douglas et al. (1996);[২৭] Gaines & Burke (1995)[২৮] |
| করোনারি হৃদরোগ | দক্ষিণ এশীয় | পশ্চিম আফ্রিকান পুরুষ | McKeigue, et al. (1989)[২৯]; Zoratti (1998)[৩০] |
| অন্তিম-পর্যায় বৃক্ক রোগ | নেটিভ আমেরিকান ও আফ্রিকান জনগোষ্ঠী | ইউরোপীয় | Ferguson & Morrissey (1993)[৩১] |
| ডিমেনশিয়া | ইউরোপীয় | আফ্রিকান আমেরিকান, হিস্পানিক আমেরিকান | Hargrave, et al. (2000)[৩২] |
| সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথেমেটোসাস | পশ্চিম আফ্রিকান, নেটিভ আমেরিকান | ইউরোপীয় | Molokhia & McKeigue (2000)[৩৩] |
| ত্বকের ক্যান্সার | ইউরোপীয় | Boni, et al. (2002)[৩৪] | |
| ফুসফুস ক্যান্সার | আফ্রিকান, ইউরোপীয় আমেরিকান (ককেশীয়) | চীনা, জাপানি | Schwartz & Swanson (1997)[৩৫]; Shimizu, et al. (1985)[৩৬] |
| প্রোস্টেট ক্যান্সার | আফ্রিকান ও আফ্রিকান আমেরিকান | Hoffman, et al. (2001)[৩৭] | |
| মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস | ইউরোপীয় | চীনা, জাপানি, আফ্রিকান আমেরিকান, তুর্কমেন, উজবেক, সাইবেরিয়ান নেটিভ, নিউজিল্যান্ড মাওরি | Rosati (2001)[৩৮] |
| অস্টিওপরোসিস | ইউরোপীয় আমেরিকান | আফ্রিকান আমেরিকান | Bohannon (1999)[৩৯] |
পন্থাগুলোর সংমিশ্রণ
[সম্পাদনা]জাতি বোঝার সর্বোত্তম উপায় হতে পারে এটি স্বীকার করা যে সামাজিকভাবে নির্মিত সীমারেখা এবং জৈব/জেনেটিক উপাদানগুলোর মধ্যে ওভারল্যাপ বা আংশিক মিল রয়েছে। জাতিগুলোর মধ্যে স্পষ্ট কিছু জৈবিক পার্থক্য রয়েছে, যদিও তা ক্ষুদ্র, এবং পূর্বে উল্লেখিতভাবে, জাতিগুলোর অভ্যন্তরে বৈচিত্র্য জাতিগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যের চেয়েও বেশি। কিন্তু বাস্তবে জাতিগত শ্রেণিবিন্যাসে ব্যবহৃত মানদণ্ডগুলো কৃত্রিম এবং সামাজিকভাবে নির্মিত, যেমনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
এই দুই ধরনের উপাদানের ওভারল্যাপ বা আংশিক মিলকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে জাতি সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পাওয়া যায়। তবে আন্তঃবিবাহের কারণে জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার পার্থক্য ধীরে ধীরে কমে আসছে এবং এটি বহু বছর ধরেই ঘটছে। উদাহরণস্বরূপ, যারা নিজেদের আফ্রিকান আমেরিকান হিসেবে পরিচয় দেন, তাদের মধ্যে সাধারণত পশ্চিম আফ্রিকান এবং ইউরোপীয় পূর্বপুরুষের মিশ্রণ দেখা যায়। শ্রাইভার এট আল (২০০৩)[৪০] গবেষণায় দেখা যায় যে গড়ে আফ্রিকান আমেরিকানদের প্রায় ৮০% আফ্রিকান বংশগতি রয়েছে। একইভাবে, অনেক শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানের মধ্যে ইউরোপীয় ও আফ্রিকান বংশগতির মিশ্রণ রয়েছে; প্রায় ৩০% শ্বেতাঙ্গদের ইউরোপীয় বংশগতি ৯০%-এর কম। যদি জাতি ও জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে আন্তঃবিবাহ চলতে থাকে, তাহলে জৈবিক ও জেনেটিক পার্থক্যগুলো ক্রমশ এতটাই ক্ষুদ্র ও অনির্ধার্য হয়ে যাবে যে সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হবে না। যদি একসময় একটি সম্পূর্ণ বৈচিত্র্যপূর্ণ (heterogeneous) জনসংখ্যা গঠিত হয়, তাহলে সেই জনগোষ্ঠীতে জাতিগত শ্রেণিবিন্যাস কেবল একটি সামাজিক নির্মাণ হিসেবেই রয়ে যাবে।
জাতি-এর সংজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক হয়তো এখনও কিছুদিন চলবে। তবে জাতির সংজ্ঞাকে ছাড়িয়ে যাওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। জাতি এবং জাতি-সম্পর্কিত বিষয়গুলো সমাজকে এখনও প্রভাবিত করে। চাকরি ও বাসস্থানের ক্ষেত্রে জাতিগত বৈষম্য এখনো বিদ্যমান।[৪১] যেহেতু জাতি সামাজিক জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে থেকে গেছে, তাই সমাজবিজ্ঞানীরা এর প্রভাবকে বিভিন্ন স্তরে অধ্যয়ন করার প্রয়োজন অনুভব করেন।
পূর্বধারণা, পক্ষপাত এবং বৈষম্য
[সম্পাদনা]পূর্বধারণা হল, নাম থেকেই বোঝা যায়, কিছু বিষয়ে পূর্ব-নির্ণয় বা আগেভাগে বিচার করা। পূর্বধারণা মানে এমন কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো, যেখানে প্রকৃত প্রমাণ কোথায় তা জানার আগেই রায় দেওয়া হয়। বিকল্পভাবে, পূর্বধারণা বলতে এমন একটি রায় বোঝানো হয় যা সরাসরি বা বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়াই গঠিত হয়। সাধারণত পূর্বধারণা কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের কোনো গোষ্ঠীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যা প্রায়ই সামাজিক বদ্ধমূল ধারণা (social stereotypes)-এর ভিত্তিতে গঠিত। চরমতম ক্ষেত্রে, পূর্বধারণাপ্রসূত মনোভাবগুলো কোনো গোষ্ঠীকে প্রাপ্য সুবিধা বা অধিকার অযথা অস্বীকার করার পক্ষে অবস্থান নেয়, যা কেবলমাত্র একজন ব্যক্তির ভিত্তিহীন বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে। মনে রাখা উচিত, পূর্বধারণা একটি বিশ্বাসমাত্র এবং এটি বৈষম্যে রূপ নিতে নাও পারে — বৈষম্য হল এমন আচরণ যেখানে কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির সঙ্গে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বা মানদণ্ডের ভিত্তিতে অন্যায় আচরণ করা হয়। যদিও পূর্বধারণা বৈষম্যের দিকে পরিচালিত করতে পারে, এই দুটি ধারণা স্বতন্ত্র।
কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে, পূর্বধারণাকে জীবনের সরাসরি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গঠিত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পৃথক করা উচিত। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি বা বিশ্বাস পূর্ব-নির্ণয় নয়, বরং পরবর্তীকালে গঠিত বিচার বা পরবর্তী-ধারণা। যদি বলা হয় যে কোনো পরিমাণ অভিজ্ঞতা কখনও কাউকে একটি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির অধিকার দেয় না, তাহলে এটি একটি যৌক্তিক অসঙ্গতিকে ডেকে আনে, কারণ যারা দৃঢ়ভাবে গৃহীত মতামতের বিরোধিতা করে, তারাও এই সংজ্ঞা অনুসারে পূর্বধারণাপ্রবণ হবে, ফলে তারা নিজের অবস্থানকেই বাতিল করে ফেলবে, কারণ সেটা... পূর্বধারণা। জীবনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গঠিত বিশ্বাস বা দৃষ্টিভঙ্গি যা কোনো গোষ্ঠীর প্রতি অবিচারপূর্ণ বা বদ্ধমূল ধারণা বহন করে, সেটিকে আরো যথার্থভাবে বলা হয় পক্ষপাত (bias)। পূর্বধারণা শেখানো, সামাজিকীকরণের মাধ্যমে অর্জিত বা গণমাধ্যমের মতো অন্যান্য উপায়ে অর্জিত হতে পারে। পক্ষপাত গড়ে উঠতে পারে কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে।
সাধারণভাবে, পক্ষপাত ও পূর্বধারণা উভয়কেই নেতিবাচক হিসেবে দেখা হয়। তবে কিছু সমাজবিজ্ঞানী যুক্তি দিয়েছেন যে, পক্ষপাত ও পূর্বধারণাকে মানুষের টিকে থাকার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিযোজন হিসেবে দেখা যেতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, কিছু প্রমাণ আছে যা দেখায় যে মানুষ তার মতো দেখতে ব্যক্তিদের প্রতি একটি সহজাত বা প্রাথমিক পছন্দ প্রদর্শন করে, বিশেষ করে জাতিগত প্রেক্ষাপটে।[৪২] মানুষ যখন নিজের জাতিগত গোষ্ঠীর কোনো সদস্যকে ব্যথায় কষ্ট পেতে দেখে, তখন তাদের প্রতি সহানুভূতির প্রকাশ অন্যান্য জাতিগত গোষ্ঠীর তুলনায় বেশি হয়। এটি ইঙ্গিত করে যে, পূর্বধারণা ও পক্ষপাতের একটি জৈবিক উপাদান থাকতে পারে, তবে এই ধরনের গবেষণাকে জাতিগত বিষয় নিয়ে কাজ করা পণ্ডিতরা কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তারা বলেন যে, বিশ্বাস বা পূর্বধারণার জন্য কোনো নির্দিষ্ট জৈবিক ভিত্তি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, এবং এই গবেষণাগুলো কেবলমাত্র শৈশবকালে শেখা সামাজিকীকরণের প্রতিফলন হতে পারে, কারণ প্রাক-প্রাথমিক স্তরের আগেই শিশুরা জাতিগত প্রশিক্ষণ পায় তা প্রমাণিত হয়েছে।[৪৩] যেহেতু মানুষ প্রতিটি গোষ্ঠীর প্রতি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা গড়ে তোলার মতো পর্যাপ্ত সময় পায় না, বিশেষত যারা নিজের গোষ্ঠীর বিপরীতে অবস্থান করে, সে ক্ষেত্রে পূর্বধারণা ও পক্ষপাত (উৎস নির্বিশেষে) পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া সহজ করতে পারে। পূর্বধারণা ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে, যেমন: শুধুমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় একজন শহরের একমাত্র ডাক্তারকে এড়িয়ে চলা, যিনি আসলে উপকারী হতে পারতেন। যদিও কেউ কেউ যুক্তি দেন যে, মানুষের মধ্যে তার মতো দেখতে অন্যদের প্রতি সহজাত পছন্দ থাকতে পারে, তবুও প্রচুর প্রমাণ রয়েছে যা দেখায়, বেশিরভাগ পূর্বধারণা ও পক্ষপাত শেখা যায় — এবং সেগুলো ভুলে যাওয়াও সম্ভব।
বর্ণবাদ
[সম্পাদনা]বর্ণবাদ নিম্নোক্ত যেকোনো বা সব বিশ্বাস ও আচরণকে বোঝাতে পারে:
- মানুষের সামর্থ্য নির্ধারণে বর্ণই প্রধান নির্ধারক (পূর্বধারণা বা পক্ষপাত)
- একটি নির্দিষ্ট বর্ণ অন্যান্য বর্ণের তুলনায় স্বভাবগতভাবে শ্রেষ্ঠ বা হীন (পূর্বধারণা বা পক্ষপাত)
- বর্ণগত শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে ব্যক্তিদের ভিন্নভাবে আচরণ করা উচিত (পূর্বধারণা বা পক্ষপাত)
- বর্ণগত শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে বাস্তবে ব্যক্তিদের সঙ্গে ভিন্ন আচরণ করা (বৈষম্য)

বর্ণবাদকে অনেকেই মৌলিক মানব মর্যাদার প্রতি আঘাত এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সব主ধারার কণ্ঠস্বরই বর্ণবাদের বিরোধিতা করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাধিক চুক্তি বর্ণবাদ দূর করতে সচেষ্ট হয়েছে। জাতিসংঘ জাতিগত বৈষম্য নির্মূল বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন-এ গৃহীত বর্ণনার মাধ্যমে বর্ণগত বৈষম্য-কে সংজ্ঞায়িত করে:
- ...যেকোনো প্রকার পার্থক্য, বর্জন, সীমাবদ্ধতা বা অগ্রাধিকার যা বর্ণ, রঙ, বংশ, বা জাতীয় কিংবা জাতিগত উৎসের ভিত্তিতে প্রদান করা হয় এবং যার উদ্দেশ্য বা ফলাফল হলো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা জনজীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার স্বীকৃতি, উপভোগ বা চর্চাকে সমভাবে বাতিল বা ক্ষুণ্ণ করা (উৎস).
বর্ণবাদের প্রকাশ
[সম্পাদনা]বর্ণবাদ ব্যক্তিগতভাবে ও সচেতনভাবে প্রকাশ পেতে পারে—যেমন স্পষ্ট চিন্তা, অনুভূতি বা কর্মের মাধ্যমে; আবার সামাজিকভাবে ও অচেতনভাবে, এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে যা বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে অসমতা সৃষ্টি করে।
ব্যক্তিগত পর্যায়ের বর্ণবাদ
[সম্পাদনা]ব্যক্তিগত পর্যায়ের বর্ণবাদ হলো পূর্বধারণা, পক্ষপাত বা বৈষম্য যা দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে মিথস্ক্রিয়ায় প্রকাশ পায়। এর কিছু উদাহরণ হতে পারে:
- একজন ব্যক্তি মনে করেন, অন্যান্য বর্ণ/জাতির মানুষদের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা কম এবং এই অক্ষমতা বর্ণগত বৈশিষ্ট্য
- একজন ব্যক্তি বিশ্বাস করেন, সব তরুণ আফ্রিকান পুরুষ বিপজ্জনক
- একজন নিয়োগদাতা কোনো ব্যক্তিকে তার/তার বর্ণের কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন
শিশুরা খুব অল্প বয়সেই বর্ণ এবং বর্ণগত বদ্ধমূল ধারণা সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে[৪৪] এবং এই বদ্ধমূল ধারণাগুলো তাদের আচরণকে প্রভাবিত করে।[৪৫] উদাহরণস্বরূপ, কোনো বর্ণগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর শিশু যদি বুঝতে পারে যে তাদের গোষ্ঠীকে বিদ্যালয়ে খারাপ ফলাফলকারী হিসেবে ধরা হয়, তবে তারা নিজেরাও পরে খারাপ ফলাফল করতে শুরু করে।[৪৫] সমাজে ব্যক্তিগত পর্যায়ের বর্ণবাদের আরেকটি উদাহরণ হল: এমনকি কারো রক্তে সামান্য পরিমাণে হলেও কৃষ্ণাঙ্গ বংশধারা থাকলে আমেরিকানরা তাদের শ্বেতাঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অনিচুক থাকে।[৪৬] যদিও অনেকে বিশ্বাস করেন যে "একফোঁটা নীতি" বর্তমানে আর প্রযোজ্য নয়, সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে এটি এখনও বর্ণগত শ্রেণিবিন্যাসে প্রচলিত রয়েছে, যদিও তা অনানুষ্ঠানিকভাবে।
গঠনগত বর্ণবাদ
[সম্পাদনা]গঠনগত বর্ণবাদ বোঝায় এমন অসমতাগুলোকে যা কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যবস্থায় প্রোথিত থাকে। গঠনগত বর্ণবাদের একটি উদাহরণ পাওয়া যায় সাম্প্রতিক কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যবিষয়ক গবেষণায়।[৪৭] গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব চাকরিপ্রার্থীর নাম "কৃষ্ণাঙ্গ সাদৃশ্যপূর্ণ" হিসেবে বিবেচিত হয়, তাদেরকে "শ্বেতাঙ্গ সাদৃশ্যপূর্ণ" নামধারীদের তুলনায় ৫০% কম পরিমাণে সাক্ষাৎকারের ডাক দেওয়া হয়, যদিও তাদের অভিজ্ঞতার স্তর সমান ছিল। গবেষকরা এই ফলাফলকে জাতিগত বৈষম্যের দীর্ঘ ইতিহাসে নিহিত অচেতন পক্ষপাতের শক্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করেন। এটি গঠনগত বর্ণবাদের একটি উদাহরণ, কারণ এটি একটি প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাস ব্যবস্থাকে দেখায় যা বর্ণের ভিত্তিতে মানুষকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করে। গঠনগত বর্ণবাদের অন্যান্য উদাহরণ হলো দক্ষিণ আফ্রিকার আপারথেইড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিম ক্রো আইন, এবং ব্যাংকগুলোর বৈষম্যমূলক ঋণপ্রদান নীতি (যেমন: রেডলাইনিং)। নিচের চিত্রে গঠনগত বর্ণবাদের একটি উদাহরণ দেখা যায়, যেখানে একই আয়ের শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক ব্যক্তিদের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিকরা গৃহঋণের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন (রেডলাইনিং-এর মতো চর্চার ফলে)।

গঠনগত বর্ণবাদের আরেকটি উদাহরণ হলো কর্পোরেট নেতৃত্বে এশিয়ান আমেরিকানদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ। যদিও এশিয়ান আমেরিকানরা পেশাগত ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে অতিপ্রতিনিধিত্বশীল, তারা কর্পোরেট শীর্ষপদে অত্যন্ত কম সংখ্যায় প্রতিনিধিত্ব করে। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার প্রায় ৫% এশিয়ান আমেরিকান হলেও, কর্পোরেট কর্মকর্তাদের মধ্যে মাত্র .৩% এশিয়ান আমেরিকান।[৪৮] তাদের এই কম প্রতিনিধিত্ব বিস্ময়কর, কারণ এশিয়ান আমেরিকানদের প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ হিসেবে ধরা হয়। তবে, তাদেরকে নেতৃত্বে কম সক্ষম হিসেবে দেখা হয়, কারণ ধারণা করা হয় তারা ক্যারিশমার অভাব রয়েছে। এর ফলে গঠনগত বর্ণবাদ দেখা দেয়: কর্পোরেট অগ্রগতির কাঠামো এমনভাবে নির্মিত হয়েছে যে সেখানে এশিয়ান আমেরিকানদের নেতৃত্বের পদে উপেক্ষা করা হয়।
সাংস্কৃতিক বর্ণবাদ
[সম্পাদনা]সাংস্কৃতিক বর্ণগত বৈষম্য, যা গঠনগত বর্ণবাদের একটি রূপ, তখন দেখা যায় যখন একটি বা একাধিক বর্ণের হীনতা কোনো সমাজের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, বর্ণবাদ একটি সাংস্কৃতিক প্রকাশ এবং সামাজিকীকরণের মাধ্যমে সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। এই ধরনের পূর্বধারণার একটি মজার দিক হলো, উচ্চ অর্জনকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি আচরণে প্রকাশ পায়। আফ্রিকান আমেরিকান এবং নেটিভ আমেরিকান শিক্ষার্থীরা যখন উচ্চ GPA অর্জন করে, তখন তাদের সহপাঠীরা তাদের প্রত্যাখ্যান করে; অথচ এশিয়ান আমেরিকান ও শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীরা উচ্চ GPA অর্জন করলে সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।[৪৯] এটি নির্দেশ করে যে বিভিন্ন জাতিগত ও বর্ণগত গোষ্ঠীর জন্য শিক্ষাগত সাফল্যের পুরস্কার ভিন্ন, এবং কিছু গোষ্ঠীর সদস্যরা এতে উৎসাহিত হয়, অন্যরা নিরুৎসাহিত হয়।
ঐতিহাসিক বর্ণবাদ
[সম্পাদনা]ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক বা সামাজিক বৈষম্য হলো এমন একটি অসমতা, যা অতীতের বর্ণবৈষম্যের কারণে সৃষ্ট এবং যা বর্তমান প্রজন্মকে প্রভাবিত করে—বিশেষ করে পূর্ববর্তী প্রজন্মের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ও প্রস্তুতির ঘাটতির মাধ্যমে এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে বিদ্যমান অবচেতনে নিহিত বর্ণবাদী মনোভাব ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, বিশেষত আফ্রিকান-আমেরিকানরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি অবিচারের কারণে জীবনযাপনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে (দেখুন দাসপ্রথা, সানডাউন শহর, জিম ক্রো আইন এবং মাদকবিরোধী যুদ্ধ)। সম্পদ, নেট মূল্য এবং শিক্ষায় বৈষম্য এই ধারণাকে সমর্থন করে।[৫০][৫১] নিচের চিত্রে দেখা যায় কীভাবে ঐতিহাসিক বর্ণবৈষম্য উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদের স্থানান্তরের সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জাতিগত সংখ্যালঘুদের নেট মূল্য হ্রাসে ভূমিকা রাখে।
ঐতিহাসিক বর্ণবাদ শিক্ষাব্যবস্থা, রাজনীতি ও অর্থনীতির শ্বেতাঙ্গ অভিজাতদের দ্বারা সামাজিক ইতিহাসকে ক্রমাগত 'সাদা' বা 'বিশুদ্ধ' হিসেবে উপস্থাপন করেও টিকে থাকে।[৫২][৫৩] মার্কিন ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তকগুলোতে সাধারণত শ্বেতাঙ্গ প্রবর্তকদের বীরত্বপূর্ণ (অften কাল্পনিক) কাহিনি তুলে ধরা হয় এবং তাঁদের বর্ণগত অপরাধসমূহকে উপেক্ষা বা যৌক্তিকতা দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ: ক্রিস্টোফার কলম্বাসের দাস ব্যবসার প্রবর্তক হিসেবে পরিচয় গোপন রাখা, বিদেশি উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনগুলোর প্রতি মার্কিন প্রশাসনের বর্ণনির্ভর সমর্থন বা বিরোধিতা (যেমন জন অ্যাডামসের মতো দাসত্ববিরোধী প্রশাসনের সমর্থন ও থমাস জেফারসনের মতো দাসপন্থী প্রশাসনের বিরোধিতা), এবং উড্রো উইলসনের প্রশাসনের সময়ে ফেডারেল সরকারে পুনরায় বর্ণভিত্তিক বিভাজন প্রবর্তন। এছাড়াও, এই পাঠ্যবইগুলোতে প্রায়শই বর্ণবাদবিরোধী কর্মী যেমন ১৮৩০-এর দশকের মেরি স্টুয়ার্ট কিংবা ১৮৯০-এর দশকের আইডা বেলস বার্নেট, বা জ্যাকি রবিনসনের বহু আগেই মেজর লিগে আফ্রিকান-আমেরিকান খেলোয়াড়দের উপস্থিতির মতো তথ্য উপেক্ষিত হয়। এসব অপসারণ অতীতের বর্ণবাদকে আপত্তিহীন, অপ্রতিরোধযোগ্য এবং ক্রমোন্নতির গল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, যা বর্তমান শ্বেতাঙ্গদের ঐতিহাসিক বর্ণবৈষম্যের দায় থেকে মুক্তির বোধ প্রদান করে। এইভাবে মার্কিন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং কাঠামোর মধ্যে নিহিত বর্ণবৈষম্যকে অব্যাহত রাখা হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণগত বৈষম্যের একটি প্রতিক্রিয়া ছিল আফার্মেটিভ অ্যাকশন। এটি এমন একটি অনুশীলন, যেখানে কলেজে ভর্তি বা কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বর্ণের মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যাতে করে বর্ণগত বৈচিত্র্য ও সমতা নিশ্চিত করা যায়। যদিও অনেকের কাছে এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এটি কম সুবিধাপ্রাপ্তদের সাফল্যের সুযোগ দেয়, তবে অন্যরা একে বর্ণভিত্তিক বৈষম্য বলে মনে করেন।
বর্ণগত প্রোফাইলিং
[সম্পাদনা]আরেক ধরনের বর্ণবাদ হলো বর্ণগত প্রোফাইলিং। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো ব্যক্তিকে শুধুমাত্র তার জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদাভাবে (সাধারণত কঠোরভাবে) আচরণ করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের দুটি উদাহরণ প্রায়শই আলোচিত হয়। প্রথমত, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের দ্বারা সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ, এবং দ্বিতীয়ত, বিমানবন্দরে তরুণ আরব পুরুষদের অতিরিক্ত তল্লাশির মুখে পড়া। সমালোচকদের মতে, এটি একটি অসাংবিধানিক চর্চা, কারণ এতে কাউকে তাদের ভবিষ্যতে অপরাধ করার সম্ভাবনার ভিত্তিতে প্রশ্ন করা হয়, বরং তাদের প্রকৃত অপরাধের ভিত্তিতে নয়। মিডিয়াতে মুসলিম এবং হিস্পানিকদের উপস্থাপনাতেও এর স্পষ্ট উদাহরণ পাওয়া যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলো (যেমন: ABC, CBS, NBC, PBS, CNN, Fox News, MSNBC, এবং Univision) ৮১% ঘরোয়া সন্ত্রাসবাদীকে মুসলিম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, অথচ প্রকৃতপক্ষে মাত্র ৬% ঘরোয়া সন্ত্রাসবাদী মুসলিম ছিল; অধিকাংশই ছিল শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী বা খ্রিস্টান মৌলবাদী। একইভাবে, অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত অভিবাসীদের মধ্যে সংবাদে ৯৭% হিস্পানিক ছিল, যদিও প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৭%।[৫৪]
রঙ-অন্ধ বর্ণবাদ
[সম্পাদনা]মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গ-আমেরিকানদের মধ্যে বর্ণগত ভাষার ব্যবহার পরিহার করা হয়েছে, যা অনেকেই মনে করেন যে বর্ণবাদ আর নেই। তবে প্রতিষ্ঠানগত বর্ণবৈষম্যের বিদ্যমানতা থেকে অনেক গবেষক যেমন এডুয়ার্ডো বোনিয়া-সিলভা যুক্তি করেন যে "নতুন বর্ণবাদ" বিদ্যমান, যা নাগরিক অধিকার আন্দোলনের পরবর্তী যুগে দেখা দিয়েছে। বোনিয়া-সিলভা বলেন, একটি "রঙ-অন্ধ বর্ণবাদ" মতাদর্শ বর্ণবাদকে সমর্থন করে, যদিও তা স্পষ্টভাবে বর্ণের উল্লেখ করে না। তিনি রঙ-অন্ধ বর্ণবাদের চারটি কাঠামো চিহ্নিত করেছেন:
- বিমূর্ত উদারতাবাদ - ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে উদার মতবাদ দিয়ে বর্ণবাদ অস্বীকার করা (যেমন: সব আমেরিকান এখন স্বাধীন, তাই তারা যা খুশি হতে পারে)
- প্রাকৃতিকীকরণ - বর্ণগত বৈষম্য, বিভাজন এবং অন্যান্য ঘটনাকে প্রাকৃতিক হিসেবে চিত্রিত করা (যেমন: শ্বেতাঙ্গরা কেবল শ্বেতাঙ্গদের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করে)
- সাংস্কৃতিক বর্ণবাদ - সংস্কৃতি-ভিত্তিক বিশ্বাস দিয়ে বর্ণগত বৈষম্য ব্যাখ্যা করা (যেমন: কৃষ্ণাঙ্গদের বেশি সন্তান হয় বা মেক্সিকানরা এমনই)
- খাটো করে দেখা - দাবি করা যে এখন আর বর্ণবৈষম্য তেমন নেই (যেমন: এটা এখন অতীতের মতো বড় সমস্যা নয়)[৫৫]
বর্তমান যুগে রঙ-অন্ধ বর্ণবাদের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হলো গণমাধ্যমে সংখ্যালঘুদের চিত্রায়ন। প্যাট্রিসিয়া হিল কলিন্স উল্লেখ করেছেন যে আমাদের অনেক সমকালীন মিডিয়া (যেমন: মিউজিক ভিডিও, গান, চলচ্চিত্র, টিভি শো, পত্রিকা, অনলাইন কনটেন্ট) ইতিহাসভিত্তিক বর্ণগত বৈষম্যের ধারাকে অব্যাহত রাখে এবং সংখ্যালঘুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে। উদাহরণস্বরূপ, আফ্রিকান-আমেরিকান খেলোয়াড় বা শিল্পীদের জঙ্গল থিমে সাজানো কভার বা ভিডিও উপস্থাপন, যা উপনিবেশ যুগের দাসদের চিত্রের পুনরাবৃত্তি। অনেকে একে কেবল সৃজনশীলতা বললেও, এটি সারা বার্টম্যান-এর মতো ব্যক্তিদের উদাহরণে প্রতিফলিত একটি দীর্ঘ ইতিহাসের অংশ, যেখানে সংখ্যালঘুদের 'বন্য' বা 'প্রকৃতি-ঘনিষ্ঠ' হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। একই ধরনের চিত্রায়ন হিস্পানিকদের ক্ষেত্রে Latinos Beyond the Reel এবং এশীয়দের ক্ষেত্রে The Slanted Screen নামক ডকুমেন্টারিতে দেখা যায়। এর বিস্তার ঘটেছে "সিনেথেটিক বর্ণবাদ" ধারণার মধ্য দিয়ে, যেখানে সংখ্যালঘুদের এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যা শ্বেতাঙ্গদের পছন্দসই এবং তাদের সাফল্যের সহায়ক। উদাহরণ: ম্যাজিকাল নিগ্রো চরিত্র—যেমন দ্য ম্যাট্রিক্স, ব্রুস অলমাইটি এবং দ্য লিজেন্ড অব ব্যাগার ভ্যান্স—যেখানে সংখ্যালঘু চরিত্র কেবলমাত্র শ্বেতাঙ্গ নায়কের আত্ম-অন্বেষণ ও সাফল্যে সাহায্য করতেই উপস্থিত থাকে। যদিও এই সিনেমাগুলো অতীতের বার্থ অব আ নেশন বা গন উইথ দ্য উইন্ড-এর মতো প্রকাশ্য বর্ণবাদী সিনেমার তুলনায় উন্নত, তবুও তারা একইরকম চরিত্রচিত্রণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।[৫৬][৫৭]
গণহত্যা
[সম্পাদনা]যদিও গণহত্যা সবসময় বর্ণগত বা জাতিগত দ্বন্দ্বের ফল না-ও হতে পারে, তবে প্রায়ই তা বর্ণবৈষম্যের ফলাফল হয়ে থাকে।[৫৮] গণহত্যা বা যুদ্ধে একটি সাধারণ কৌশল হলো বর্ণবাদী গালি ব্যবহার করে শত্রুকে অমানবিক করে তোলা, যাতে তাদের হত্যা করা সহজ হয়।[৫৮]
সংখ্যালঘু
[সম্পাদনা]বর্ণবাদ সাধারণত একটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়, তবে এটি একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও পরিচালিত হতে পারে। নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটের উপর ভিত্তি করে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সংজ্ঞা পরিবর্তিত হতে পারে, তবে সাধারণভাবে এটি এমন একটি উপগোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা মোট জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ বা বহুসংখ্যক নয়, অথবা এমন একটি গোষ্ঠী যারা সংখ্যাগত সংখ্যালঘু না হলেও, একটি আধিপত্যশীল গোষ্ঠীর তুলনায় রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিকভাবে কম ক্ষমতাশালী বা বঞ্চিত।
সংখ্যালঘু গোষ্ঠী নির্ধারণ এবং তাদের এই অবস্থান থেকে কী ধরণের অধিকার পাওয়া উচিত, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন সংখ্যালঘুদের বিশেষ স্বীকৃতি ও অধিকার পাওয়া উচিত, অন্যদিকে অনেকে মনে করেন সংখ্যালঘুদের এই বিশেষ অধিকার দাবি করা অন্যায্য, কারণ এটি পক্ষপাতমূলক বৈষম্যের শামিল এবং মূলধারার সমাজে সংখ্যালঘুদের একীভূত হওয়ার ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে (উদাহরণস্বরূপ, তারা যদি সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রচলিত ভাষা না জানে তবে চাকরি পাওয়া কঠিন হতে পারে)।
সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠীতে একীভূত হওয়াকে একটি বর্ণবাদী প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়ায়, সংখ্যালঘু গোষ্ঠী তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ত্যাগ করে আধিপত্যশীল গোষ্ঠীতে বিলীন হয়ে যায়। এর ফলে তাদের ভিন্নতা নির্দেশকারী বৈশিষ্ট্যগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়। একীকরণ স্বেচ্ছায় অথবা জোরপূর্বক হতে পারে। স্বেচ্ছায় একীকরণ সাধারণত অভিবাসীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, যারা আগেই প্রতিষ্ঠিত আধিপত্যশীল সংস্কৃতি গ্রহণ করে। স্বেচ্ছায় একীকরণের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উল্লিখিত হয়েছে:
- এটি সামাজিকভাবে উর্ধ্বগামী হওয়ার একটি উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়
- এটি বৈষম্য ও কুসংস্কার থেকে মুক্তির একটি পথ
সমাজের চাপের মুখে, সাধারণত অভিবাসীরাই নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর উদ্যোগ নেন, যেমন: নতুন দেশের বা অঞ্চলের ভাষা শেখা, নতুন বন্ধু ও যোগাযোগ তৈরি করা, চাকরি খোঁজা অথবা বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। তবে নতুন ভাষা না জানলে অভিযোজন কঠিন হয়ে পড়ে।
একীকরণ জাতীয় সংখ্যালঘু বা আদিবাসী সংস্কৃতির জন্য নেতিবাচক পরিণতি বয়ে আনতে পারে, কারণ একীভূত হওয়ার পর ঐতিহ্যগত সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যগুলো ম্লান হয়ে যেতে পারে এবং সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হতে পারে। এটি বিশেষভাবে তখন ঘটে, যখন আধিপত্যশীল সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠানসমূহ সংখ্যালঘু সংস্কৃতিকে একীভূত বা একত্রিত করার জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করে। অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠী, যেমন: কানাডার ফার্স্ট নেশনস, যুক্তরাষ্ট্রের নেটিভ আমেরিকান, তাইওয়ানের আদিবাসী, এবং অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি (বিশেষত ভাষা) অনেকাংশেই হারিয়ে ফেলেছে এবং আধিপত্যশীল নতুন সংস্কৃতি গ্রহণ করেছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের বৈষম্যের একটি উদাহরণ হল দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী এপার্টহেইড ব্যবস্থা, যা ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল। ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকানরা (যারা সংখ্যাগতভাবে সংখ্যালঘু ছিল) সংখ্যাগরিষ্ঠ স্থানীয় আফ্রিকান জনগণের উপর বৈষম্য আরোপ করেছিল। আরও কিছু উদাহরণ যেখানে সংখ্যালঘুরা সংখ্যাগরিষ্ঠদের উপর বৈষম্য করেছে, তা হলো ঔপনিবেশিক শাসনের দুইটি ঘটনা:
- ভিয়েতনামের জনগণের প্রতি ফরাসিদের আচরণ
- ভারতের জনগণের প্রতি ব্রিটিশদের আচরণ
জাতিগত বৈষম্য অনেক দেশে সরকারি নীতির অংশ ছিল এবং এখনও আছে। ১৯৭০-এর দশকে, উগান্ডা হাজার হাজার জাতিগত ভারতীয় নাগরিককে বহিষ্কার করেছিল। ২০০৩ সাল পর্যন্ত, মালয়েশিয়া জাতিগত চীনা এবং ভারতীয় ছাত্রদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় প্রবেশাধিকার সীমিত করে বৈষম্যমূলক নীতি কার্যকর রেখেছিল, যদিও তারা মালয়েশিয়ার জন্মগত নাগরিক। আজও বুমিপুত্রা (মালয়) সম্প্রদায়কে সুস্পষ্টভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া বিভিন্ন নীতি কার্যকর রয়েছে। রাশিয়া ১৯০৫ সালে এবং পরবর্তীকালে ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধমুখী দাঙ্গা চালায়। ১৯৩০ এবং ১৯৪০-এর দশকে, ইহুদিদের মধ্যপ্রাচ্যে অভিবাসন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। ইসরায়েল গঠনের পর, অনেক ইসরায়েলি শহরে জমির মালিকানা কেবল ইহুদিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, এবং অনেক মুসলিম দেশ ইহুদিদের বহিষ্কার করে ও এখনও তাদের প্রবেশে বাধা দেয়।
জাতিগত স্তরীকরণ
[সম্পাদনা]যদিও জাতি নিজেই একটি সামাজিক নির্মাণ, তবুও বিশ্বব্যাপী সমাজগুলোতে জাতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। জাতি প্রায়ই বিভিন্ন ধরণের স্তরীকরণের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। নিচে জাতিভিত্তিকভাবে সমাজ কীভাবে স্তরীকৃত হয়, তার কয়েকটি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হলো।
জাতি ও দূষণ
[সম্পাদনা]মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দূষণ এবং দূষণকারী স্থাপনাগুলো সমভাবে বণ্টিত নয়। যেসব এলাকায় মূলত জাতিগত সংখ্যালঘুরা বসবাস করেন, সেসব এলাকায় দূষণের মাত্রা অনেক বেশি এবং সেখানেই প্রচুর দূষণকারী কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়।[৫৯] এটি অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃতভাবে বর্ণবাদী নয় বলে মনে হলেও, প্রমাণ অন্য কিছু নির্দেশ করে: এই এলাকাগুলোকে পরিকল্পিতভাবে দূষণকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান স্থাপনের জন্য লক্ষ্যবস্তু করা হয়।[৫৯]
জাতিগত আন্তঃবিবাহ
[সম্পাদনা]মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জাতিগত আন্তঃবিবাহ নিষিদ্ধকারী আইন ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত বাতিল করা হয়নি। তার আগে, এক জাতির কেউ যদি অন্য জাতির কারো সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতেন, তাহলে তাকে কারাবরণ করতে হতো এবং জরিমানাও দিতে হতো। এই আইনগুলোকে মিসেজেনেশন আইন বলা হতো (মিসেজেনেশন অর্থ "জাতি মিশ্রণ")। এ অভিজ্ঞতাই হয়েছিল মিলড্রেড ও রিচার্ড লাভিং-এর, যারা ১৯৫৮ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যেটি ছিল এমন একটি এলাকা যেখানে জাতিগত আন্তঃবিবাহের বিরুদ্ধে কোনো আইন ছিল না।[৬০] মিলড্রেড ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ; রিচার্ড ছিলেন শ্বেতাঙ্গ। তাদের বিয়ের কিছুদিন পর তারা ভার্জিনিয়ায় চলে গেলে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের বাড়িতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।[৬০] মিলড্রেড ও রিচার্ড দুজনেই ভার্জিনিয়ার অধিবাসী ছিলেন এবং তাদের আত্মীয়স্বজন সেখানেই থাকতেন। বিচারক লিয়ন এম. বাজাইল, যিনি তাদের মামলার বিচার করেন, বিচার চলাকালীন বলেন: "যদি ঈশ্বর শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মিশ্রিত করতে চাইতেন, তবে তিনি তাদেরকে আলাদা মহাদেশে বসবাস করাতেন না।"[৬০] তিনি আরও গর্বের সঙ্গে বলেন, "তোমরা যতদিন বাঁচবে, ততদিন তোমরা অপরাধী হিসেবে পরিচিত থাকবে।"[৬০] পরে লাভিং দম্পতি আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যারা তাদের মামলা ১৯৬৭ সালে সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যায় এবং Loving v. Virginia মামলার রায়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে মিসেজেনেশন আইন বিলুপ্ত হয়। তবুও, ডান পাশের চিত্রটি নির্দেশ করে যে, জাতিগত আন্তঃবিবাহের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি তখনও ততটা ইতিবাচক হয়ে ওঠেনি। ২০০২ সালেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০% মানুষ আন্তঃবিবাহ নিষিদ্ধকারী আইনকে সমর্থন করতেন।

==একটি গবেষণার উদাহরণ==
দেভা পেইজার ও লিংকন কুইলিয়ান[৬১] জাতি-সম্পর্কিত নিয়োগ অনুশীলন বিষয়ে নিয়োগদাতাদের বক্তব্য এবং তাদের বাস্তব আচরণের তুলনা করেন। তারা সমমানের জোড়ায় (অর্থাৎ শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, ও আচরণগত দিক থেকে মিল রয়েছে এমন দুজন তরুণ) প্রার্থীদের বিভিন্ন চাকরির জন্য আবেদন করতে পাঠান। এসব জোড়ার মধ্যে কেউ কেউ ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এবং কেউ কেউ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ছিলেন, তবে প্রতিটি জোড়ায় একজনের একটি অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল। পেইজার ও কুইলিয়ান দেখতে পান, নিয়োগদাতারা মুখে যেমন বলেন যে তারা দণ্ডপ্রাপ্ত কাউকে নিয়োগ দিতে আগ্রহী, বাস্তবে তা অনেক কম দেখা যায়। আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে, জরিপে আফ্রিকান-আমেরিকান ও ইউরোপীয়-আমেরিকান প্রার্থীদের প্রতি সমান মনোভাব প্রদর্শিত হলেও, বাস্তবে ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থীদেরকে চাকরির জন্য ডাক দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল আফ্রিকান বংশোদ্ভূতদের তুলনায় তিনগুণ বেশি। সংক্ষেপে, পেইজার ও কুইলিয়ান আবিষ্কার করেন যে নিয়োগদাতারা জরিপে যেমন উদার মনোভাব দেখান, বাস্তবে সেই অনুযায়ী কাজ করেন না—বিশেষ করে আফ্রিকান-আমেরিকান এবং দণ্ডপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে।
উপসংহার
[সম্পাদনা]ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকতার প্রতিষ্ঠার পর, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সমাজের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ জাতি ও নৃগোষ্ঠী সম্পর্কিত এক নতুন একাডেমিক জ্ঞানের ক্ষেত্র তৈরি করে। অনেক পণ্ডিত তখন সমাজগত পার্থক্যের উৎস অনুসন্ধানে মনোনিবেশ করেন। এই পার্থক্যগুলো কি প্রকৃতিগত, নাকি সমাজ-সৃষ্ট? ১৭০০-এর দশকে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রথম মানবজাতিকে বিভিন্ন "জাতিতে" বিভক্ত করে একটি শ্রেণিবিন্যাস প্রকাশ করেন। এরপর বিভিন্ন শারীরিক বৈশিষ্ট্য—যেমন করোটির আকার বা দেহের গঠন—ব্যবহার করে মানুষকে আলাদা জাতিতে শ্রেণিবিন্যাস করা হতে থাকে এবং সেই বৈশিষ্ট্যগুলোর উপর ভিত্তি করে বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য ক্ষমতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। এই তথাকথিত পার্থক্যগুলো বৈশ্বিক পরিসরে বর্ণবাদের বিকাশ ও বিস্তারের ক্ষেত্র তৈরি করে এবং অনেক সময় দাসত্ব বা অন্যান্য দমনমূলক ব্যবস্থাকে ন্যায়সঙ্গত দেখানোর উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যদিও সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো সময় ও ভৌগোলিক অবস্থানের প্রেক্ষিতে জাতি ও নৃগোষ্ঠীকে সামাজিক নির্মাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে, তবুও আজও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে বর্ণভিত্তিক বৈষম্য ও অসমতা রয়েছে, তা বর্ণবাদের বহমানতা প্রমাণ করে।
টীকা
[সম্পাদনা]- Race শব্দটি ইংরেজিতে এসেছে ফরাসি ভাষা থেকে, ১৬শ শতকের শেষভাগে।
- এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে ইতিহাসের বহু বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও রাষ্ট্রনায়ক আধুনিক (বিশেষত ২০শ শতকের শেষভাগের) মানদণ্ড অনুযায়ী বর্ণবাদী মনে হতে পারেন। তবে সচেতন পাঠকের উচিত এই ব্যক্তিদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামতকে তাদের সময়কালীন সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে বিচার করা, যাতে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের বর্তমান নৈতিক মানদণ্ড দিয়ে যাচাই করার (অর্থাৎ 'হুইগীয় ইতিহাসবাদের') ফাঁদে পড়া এড়ানো যায়।
অতিরিক্ত পাঠ্যসামগ্রী
[সম্পাদনা]- Bonilla-Silva, Eduardo. ২০০৯।Racism without Racists: Color Blind Racism and the Persistence of Racial Inequality in America। Rowman and Littlefield।
- Collins, Patricia Hill। ২০০০।Black Feminist Thought: Knowledge, Consciousness, and the Politics of Empowerment (দ্বিতীয় সংস্করণ)। নিউ ইয়র্ক: Routledge।
- Omi, Michael ও Howard Winant। ১৯৯৪।Racial Formation in the United States: From the 1960’s to the 1990’s। নিউ ইয়র্ক: Routledge।
- Masi de Casanova, Erynn। ২০০৪। “No Ugly Women”: ইকুয়েডরের কিশোরীদের মধ্যে জাতি ও সৌন্দর্য সম্পর্কে ধারণা।Gender & Society ১৮(৩): ২৮৭–৩০৩।
- Hanser, Amy। ২০০৫।The Gendered Rice Bowl: The Sexual Politics of Service Work in Urban China।Gender & Society ১৯(৫): ৫৮১–৬০০।
- Harvey Wingfield, Adia। ২০০৯।Racializing the Glass Escalator: Reconsidering Men’s Experiences with Women’s Work।Gender & Society ২৩(১): ৫–২৬।
- Marshall, Gul Aldikacti। ২০০৫।Ideology, progress, and dialogue: A comparison of feminist and Islamist women’s approaches to the issues of head covering and work in Turkey।Gender & Society ১৯(১): ১০৪–১২০।
- Richards, Patricia। ২০০৫।The politics of gender, human rights, and being Indigenous in Chile।Gender & Society ১৯(২): ১৯৯–২২০।
- Feagin, Joe R.। ১৯৯১। “The Continuing Significance of Race: Anti-Black Discrimination in Public Places।”American Sociological Review ৫৬: ১০১–১১৬।
- Quadagno, Jill। ১৯৯৪।The Color of Welfare: How Racism Undermined the War on Poverty। নিউ ইয়র্ক: Oxford University Press।
- Blee, Kathleen। ২০০২।Inside Organized Racism: Women in the Hate Movement। লস অ্যাঞ্জেলেস: University of California Press।
- Einwohner, Rachel। ২০০৬। "Identity work and collective action in a repressive context: Jewish Resistance on the 'Aryan side' of the Warsaw ghetto."Social Problems ৫৩: ৩৮–৫৬।
- Bennett, Pamela R. ও Amy Lutz। ২০০৯। “How African American Is the Net Black Advantage? Differences in College Attendance Among Immigrant Blacks, Native Blacks, and Whites।”Sociology of Education ৮২(১): ৭০–৯৯।
- Carter, Prudence L.। ২০০৩। “‘Black’ cultural capital, status positioning, and schooling conflicts for low-income African American youth।”Social Problems ৫০(১): ১৩৬–১৫৫।
- Foster, Gigi। ২০০৮। “Names will never hurt me: Racially distinct names and identity in the undergraduate classroom।”Social Science Research ৩৭(৩): ৯৩৪–৯৫২।
- Goldsmith, PA। ২০০৪। “Schools’ racial mix, students’ optimism, and the black-white and Latino-white achievement gaps।”Sociology of Education ৭৭(২): ১২১–১৪৭।
- Herman, Melissa R.। ২০০৯। “The Black-White-Other Achievement Gap: Testing Theories of Academic Performance Among Multiracial and Monoracial Adolescents।”Sociology of Education ৮২(১): ২০–৪৬।
- Kao, Grace ও Jennifer S. Thompson। ২০০৩। “Racial and Ethnic Stratification in Educational Achievement and Attainment।”Annual Review of Sociology ২৯: ৪১৭–৪২।
আলোচনার প্রশ্নসমূহ
[সম্পাদনা]- জাতিগোষ্ঠী কি বাস্তবেই বিদ্যমান?
- কারা নির্ধারণ করে কেউ কোন জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
- কারো জাতিগোষ্ঠী যাচাই করার কোনো নির্ভরযোগ্য উপায় আছে কি?
- জাতি অনুসারে আয় ও সম্পদের পার্থক্য কেন রয়েছে?
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ Cavalli-Sforza, Luca; Menozzi, Paolo; এবং Piazza, Alberto. ১৯৯৬। The History and Geography of Human Genes. প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস। প্রিন্সটন, নিউ জার্সি।
- ↑ Long, J.C. and Kittles, R.A. 2003. Human genetic diversity and the nonexistence of biological races. Human Biology. 75:449-71.
- ↑ Hooton, E.A. 1926. Methods of racial analysis. Science 63:75-81.
- ↑ Mayr, E. 1969. Principles of Systematic Zoology. নিউ ইয়র্ক, এনওয়াই: ম্যাকগ্রো-হিল।
- ↑ Dobzhansky, Theodosius. 1970. Genetics of the Evolutionary Process. অজানা।
- ↑ Templeton, A.R. 1998. Human races: A genetic and evolutionary perspective. American Anthropologist, 100:632-650.
- ↑ সম্প্রতি মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরো একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ চার্ট প্রকাশ করেছে যা সময়ের সাথে সাথে বর্ণ শ্রেণিবিন্যাসে পরিবর্তন দেখায়। চার্টটি এখানে পাওয়া যাবে: http://www.census.gov/population/race/data/MREAD_1790_2010.html
- ↑ Lee, S. (1993) “Racial classifications in the US census 1890-1990.” Ethnic and Racial Studies Volume 16 (1).
- ↑ Fields, Barbara Jean. 1990. Slavery, Race, and Ideology in the United States of America. New Left Review 181:95-118.
- ↑ Sider, Gerald. 1993. Lumbee Indian Histories: Race, Ethnicity, and Indian Identity in the Southern United States.
- ↑ ১১.০ ১১.১ ১১.২ [http://www.ibge.gov.br/home/estatistica/populacao/condicaodevida/indicadoresminimos/sinteseindicsociais2006/indic_sociais2006.pdf Sintese_2006_semlinks.indd
- ↑ http://prado38.sites.uol.com.br/castrofaria3.html
- ↑ [http://www.brazzil.com/p119jan03.htm Brazil - Brasil - BRAZZIL - News from Brazil - The life and death of Orlando Villas Boas - Brazilian Indians, Ecology, Amazon- January 2003
- ↑ ১৪.০ ১৪.১ Telles, Edward E. 2002. “Racial ambiguity among the Brazilian population..” Ethnic & Racial Studies 25:415-441.
- ↑ Mangels, Laura, and Laura Neves. 2007. “Racial Classification in Brazil: Discrepancies between Observed and Self-Identified Race..” Conference Papers -- American Sociological Association.
- ↑ Tang, H.; Quertermous, T.; Rodriguez, B.; Kardia, S.L.; Zhu, X.; Brown, A.; Pankow, J.S.; Province, M.A.; Hunt, S.C.; Boerwinkle, E.; Schork, N.J.; Risch, N.J. 2005. Genetic structure, self-identified race/ethnicity, and confounding in case-control association studies. American Journal of Human Genetics. 76:268-75.
- ↑ Noah A. Rosenberg, Jonathan K. Pritchard, James L. Weber, Howard M. Cann, Kenneth K. Kidd, Lev A. Zhivotovsky, Marcus W. Feldman. 2002. Genetic Structure of Human Populations. SCIENCE VOL 298
- ↑ Jonathan K. Pritchard, Matthew Stephens and Peter Donnelly. 2000. Inference of Population Structure Using Multilocus Genotype Data. Genetics 155: 945–959.
- ↑ Collins, Patricia Hill. 2005. Black Sexual Politics: African Americans, Gender, and the New Racism. Routledge.
- ↑ name="Cavalli1996"
- ↑ Collins, Patricia Hill. ২০০৫. Black Sexual Politics: African Americans, Gender, and the New Racism. Routledge.
- ↑ Halder, Indrani, and Mark D Shriver. 2003. “Measuring and using admixture to study the genetics of complex diseases.” Human Genomics 1:52-62.
- ↑ McKeigue, P M, B Shah, and M G Marmot. 1991. “Relation of central obesity and insulin resistance with high diabetes prevalence and cardiovascular risk in South Asians.” Lancet 337:382-386.
- ↑ Hodge, A M, and P Z Zimmet. 1994. “The epidemiology of obesity.” Baillière's Clinical Endocrinology and Metabolism 8:577-599.
- ↑ Songer, T J, and P Z Zimmet. 1995. “Epidemiology of type II diabetes: an international perspective.” PharmacoEconomics 8 Suppl 1:1-11.
- ↑ Martinez, N C. 1993. “Diabetes and minority populations. Focus on Mexican Americans.” The Nursing Clinics of North America 28:87-95.
- ↑ Douglas, J G, M Thibonnier, and J T Wright. 1996. “Essential hypertension: racial/ethnic differences in pathophysiology.” Journal of the Association for Academic Minority Physicians: The Official Publication of the Association for Academic Minority Physicians 7:16-21.
- ↑ Gaines, K, and G Burke. 1995. “Ethnic differences in stroke: black-white differences in the United States population. SECORDS Investigators. Southeastern Consortium on Racial Differences in Stroke.” Neuroepidemiology 14:209-239.
- ↑ McKeigue, P M, G J Miller, and M G Marmot. 1989. “Coronary heart disease in south Asians overseas: a review.” Journal of Clinical Epidemiology 42:597-609.
- ↑ Zoratti, R. 1998. “A review on ethnic differences in plasma triglycerides and high-density-lipoprotein cholesterol: is the lipid pattern the key factor for the low coronary heart disease rate in people of African origin?.” European Journal of Epidemiology 14:9-21.
- ↑ Ferguson, R, and E Morrissey. 1993. “Risk factors for end-stage renal disease among minorities.” Transplantation Proceedings 25:2415-2420.
- ↑ Hargrave, R, M Stoeklin, M Haan, and B Reed. 2000. “Clinical aspects of dementia in African-American, Hispanic, and white patients.” Journal of the National Medical Association 92:15-21.
- ↑ Molokhia, M, and P McKeigue. 2000. “Risk for rheumatic disease in relation to ethnicity and admixture.” Arthritis Research 2:115-125.
- ↑ Böni, Roland, Christian Schuster, Britta Nehrhoff, and Günther Burg. 2002. “Epidemiology of skin cancer.” Neuro Endocrinology Letters 23 Suppl 2:48-51.
- ↑ Schwartz, A G, and G M Swanson. 1997. “Lung carcinoma in African Americans and whites. A population-based study in metropolitan Detroit, Michigan.” Cancer 79:45-52.
- ↑ Shimizu, H, A H Wu, L C Koo, Y T Gao, and L N Kolonel. 1985. “Lung cancer in women living in the Pacific Basin area.” National Cancer Institute Monograph 69:197-201.
- ↑ Hoffman, R M et al. 2001. “Racial and ethnic differences in advanced-stage prostate cancer: the Prostate Cancer Outcomes Study.” Journal of the National Cancer Institute 93:388-395.
- ↑ Rosati, G. 2001. “The prevalence of multiple sclerosis in the world: an update.” Neurological Sciences: Official Journal of the Italian Neurological Society and of the Italian Society of Clinical Neurophysiology 22:117-139.
- ↑ Bohannon, A D. 1999. “Osteoporosis and African American women.” Journal of Women's Health & Gender-Based Medicine 8:609-615.
- ↑ Shriver, M.D. et al. 2003. Skin pigmentation, biogeographical ancestry, and admixture mapping. Human Genetics. 112:387-399.
- ↑ Reskin, Barbara. 2012. The Race Discrimination System. Annual Review of Sociology 38: 17-35
- ↑ Xu, Xiaojing, Xiangyu Zuo, Xiaoying Wang, and Shihui Han. 2009. “Do You Feel My Pain? Racial Group Membership Modulates Empathic Neural Responses.” J. Neurosci. 29:8525-8529.
- ↑ Van Ausdale, Debra and Joe R. Fegan. 1996. Using racial and ethnic concepts: The case of very young children. American Sociological Review 61: 779-793.
- ↑ Amanda Williams et al. Examining Children's Implicit Racial Attitudes Using Exemplar and Category-Based Measures, Child Development (2017). DOI: 10.1111/cdev.12991
- ↑ ৪৫.০ ৪৫.১ McKown, Clark, and Michael J. Strambler. 2009. “Developmental Antecedents and Social and Academic Consequences of Stereotype-Consciousness in Middle Childhood.” Child Development 80:1643-1659.
- ↑ Ho, A. K., Sidanius, J., Levin, D. T. & Banaji, M. R. (2011). Evidence for Hypodescent and Racial Hierarchy in the Categorization and Perception of Biracial Individuals. Journal of Personality and Social Psychology, 100, 492-506.
- ↑ Bertrand, Marianne and Mullainathan, Sendhil. “Are Emily and Greg More Employable Than Lakisha and Jamal? A Field Experiment on Labor Market Discrimination.” American Economic Review, September 2004, Vol. 94, No. 4, pp. 991-1,013.
- ↑ Sy, Thomas et al. 2010. “Leadership Perceptions as a Function of Race–occupation Fit: The Case of Asian Americans.” Journal of Applied Psychology 95(5):902–19.
- ↑ Fuller-Rowell, Thomas E., and Stacey N. Doan. 2010. “The Social Costs of Academic Success Across Ethnic Groups.” Child Development 81:1696-1713.
- ↑ Wilson, William Julius. 1978. The Declining Significance of Race.
- ↑ Wilson, William Julius. 1990. The Truly Disadvantaged.
- ↑ Loewen, James W. 1995. Lies my teacher told me: Everything your American History textbook got wrong. New Press.
- ↑ Collins, Patricia Hill. 2005. Black Sexual Politics: African Americans, Gender, and the New Racism. Routledge.
- ↑ Dixon, T. L., & Williams, C. L. (2014). The Changing Misrepresentation of Race and Crime on Network and Cable News. Journal of Communication, n/a–n/a. doi:10.1111/jcom.12133
- ↑ Bonilla-Silva, Eduardo. 2009. Racism without Racists: Color-blind racism and the persistence of racial inequality in America. Rowman and Littlefield.
- ↑ Collins, Patricia Hill. 2005. Black Sexual Politics: African Americans, Gender, and the New Racism. Routledge.
- ↑ Hughey, Matthew W. 2014. The White Savior Film: Content, Critics, and Consumption. Temple University Press.
- ↑ ৫৮.০ ৫৮.১ Hagan, John, and Wenona Rymond-Richmond. 2008. “The Collective Dynamics of Racial Dehumanization and Genocidal Victimization in Darfur.” American Sociological Review 73:875-902.
- ↑ ৫৯.০ ৫৯.১ Pellow, David Naguib, and Robert J. Brulle. 2007. “poisoning the planet: the struggle for environmental justice..” Contexts: Understanding People in Their Social Worlds 6:37-41.
- ↑ ৬০.০ ৬০.১ ৬০.২ ৬০.৩ Martin, Douglas. 2008. “Mildred Loving, Who Battled Ban on Mixed-Race Marriage, Dies at 68.” The New York Times, May 6 http://www.nytimes.com/2008/05/06/us/06loving.html (Accessed July 20, 2008).
- ↑ Pager, Devah and Quillian, Lincoln. 2005. Walking the Talk? What Employers Say Versus What They Do. American Sociological Review. 70(3):355–380.
শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তাবিত পাঠ
[সম্পাদনা]- ডাগার, সেলিয়া ডাব্লিউ। ২০০৯। “দক্ষিণ আফ্রিকার স্কুলে বর্ণবাদের উত্তরাধিকার।” দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, ২০ সেপ্টেম্বর http://www.nytimes.com/2009/09/20/world/africa/20safrica.html?partner=rss&emc=rss (প্রবেশাধিকার তারিখঃ ২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৯)।
- এই প্রবন্ধে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণ বৈষম্যের চলমান উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অ্যাপারথেইড শাসনের অধীনে শিক্ষাব্যবস্থা শ্বেতাঙ্গদের পক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট ছিল, এবং অ্যাপারথেইডের অবসানের পরেও সেই ব্যবস্থা শ্বেতাঙ্গদের এবং কিছু অল্প সংখ্যক কৃষ্ণাঙ্গকে—যারা আগে কেবল শ্বেতাঙ্গদের জন্য নির্ধারিত স্কুলগুলোতে যেতে পেরেছে—পক্ষপাত করে। এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গরা, যারা আগে শুধুমাত্র কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য নির্ধারিত স্কুলে পড়ে, তারা এখনও নিম্নমানের শিক্ষা পায় এবং ভালো চাকরি খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- টাইমস অনলাইন, "জিন পরীক্ষায় প্রমাণিত—আমরা সবাই ত্বকের নিচে এক", ২৭ অক্টোবর ২০০৪।
- ক্যাচপেনি মিস্ট্রিজ অব এনশিয়েন্ট ইজিপ্ট, "প্রাচীন মিশরীয়রা কোন জাতিগোষ্ঠীর ছিলেন?", ল্যারি ওর্কাট।
- জুডি স্কাটসুন, "আউট-অফ-আফ্রিকা তত্ত্বে নতুন মোড়", এবিসি সায়েন্স অনলাইন, বুধবার, ১৪ জুলাই ২০০৪।
- মাইকেল জে. ব্যামশাড, স্টিভ ই. অলসন, "জাতিগোষ্ঠী কি বাস্তবেই আছে?", সায়েন্টিফিক আমেরিকান, ডিসেম্বর ২০০৩।
- ওএমবি স্ট্যাটিস্টিক্যাল ডাইরেকটিভ ১৫, "জাতি ও জাতিসত্তা সম্পর্কিত ফেডারেল তথ্য সংরক্ষণ, সংগ্রহ ও উপস্থাপনের মানদণ্ড", ফেডারেল রেজিস্টার, ৩০ অক্টোবর ১৯৯৭।
- স্যান্ড্রা সু-জিন লি, জোয়ানা মাউন্টেন ও বারবারা এ. কোনিগ, "স্বাস্থ্য গবেষণায় জাতিগোষ্ঠীর বস্তুবাদীকরণ"
- মাইকেল রুট, "চিকিৎসাশাস্ত্রে জিনগত পার্থক্যের প্রতীক হিসেবে জাতিগোষ্ঠীর ব্যবহার"
- রিচার্ড ডকিন্স: জাতিগোষ্ঠী ও সৃষ্টিতত্ত্ব (গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতিঃ পুর্বপুরুষদের কাহিনি: জীবনের ঊষালগ্নে এক তীর্থযাত্রা) – জাতিগোষ্ঠীর ধারণা, ব্যবহার এবং এর বিকাশ সংক্রান্ত একটি তত্ত্ব। (প্রসপেক্ট ম্যাগাজিন, অক্টোবর ২০০৪) (আরও বড়ো উদ্ধৃতির জন্য দেখুন: এখানে)
- নোভা অনলাইন থেকে: জর্জ ডব্লিউ. গিল এখানে "জাতিগোষ্ঠী"র জীববৈজ্ঞানিক ধারণার পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন, আর অনুরূপ একটি প্রবন্ধে, সি. লরিং ব্রেস জীববিজ্ঞানে "জাতিগোষ্ঠী"র অস্তিত্ব অস্বীকার করছেন।
- ক্যালিফোর্নিয়া নিউজরিল থেকে: জাতিগোষ্ঠী: এক বিভ্রমের ক্ষমতা, একটি বিশ্লেষণধর্মী ওয়েবসাইট (এটি একটি ক্যালিফোর্নিয়া নিউজরিল চলচ্চিত্র-এর সহযোগী), যেখানে দেখানো হয়েছে, যদিও জাতিগোষ্ঠী একটি জীববৈজ্ঞানিক মিথ, তথাপি বর্ণবাদ সমাজের কাঠামোর গভীরে প্রোথিত। এবং আমেরিকান রেনেসাঁস নামক "শ্বেতাঙ্গ-পন্থী" প্রকাশনা থেকে: জাতিগোষ্ঠী অস্বীকার: এক বিভ্রমের ক্ষমতা, যা চলচ্চিত্রটির একটি বিশদ সমালোচনা ও খণ্ডন।
