বিষয়বস্তুতে চলুন

সবকিছুর জন্যেই ইন্টারনেট?/নজরদারি ও প্রতিনজরদারি

উইকিবই থেকে

নজরদারি ও প্রতিনজরদারি

[সম্পাদনা]

ভূমিকা ও মূল ধারণা

[সম্পাদনা]
বিগ ব্রাদার তোমার উপর নজর রাখছে
প্রতিনজরদারির তুলনায় নজরদারি
২০১২ সালে, স্পেনের সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করে যে, আমেরিকার NSA (ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি) ক্রিসমাস মাসে গোপনে ৬ কোটিরও বেশি টেলিফোন রেকর্ড নজরদারির আওতায় এনেছিল।[] জার্মানির একটি ম্যাগাজিন ডার স্পিগেল প্রস্তাব করে যে, এনএসএ-এর প্রধান নজরদারির বিষয় ছিল ৩৫ জন রাজনীতিবিদ।[] আমরা এখন এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে মানব সমাজ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সহজেই ডিজিটাল আকারে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রচার করা যায়। এর ফলে তৈরি হয়েছে একটি নজরদারিমূলক সমাজ, যার অর্থ "অল্প কয়েকজন অনেককে পর্যবেক্ষণ করতে পারে"। তবে গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে “প্রতিনজরদারি”(স্যুভেইলেন্স) শব্দটি প্রস্তাব করেন স্টিভ ম্যান, জেসন নোলান এবং ব্যারি ওয়েলম্যান। এটি “নজরদারি”( সার্ভিলেন্স) শব্দটির বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং বোঝায় বহুসংখ্যক মানুষ অল্পসংখ্যক মানুষকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে[]

'সবকিছুর জন্যেই ইন্টারনেট?' বইয়ের এই অধ্যায়ে নজরদারি ও প্রতিনজরদারির মূল ধারণাগুলো বিশ্লেষণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে এই দুই ক্ষেত্রের সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা। নজরদারির ক্ষেত্রে এই কাজে ব্যবহৃত সংগঠন ও প্রযুক্তি, সেইসাথে প্রযোজ্য আইন ও বিধিনিষেধ সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। এছাড়াও এই অধ্যায়ে মানবতা কীভাবে নজরদারির বিরোধিতা করে এবং ইউটিউবের মতো ভিডিও-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মকে নজরদারি না প্রতিনজরদারি—এই বিতর্ক তুলে ধরা হয়েছে। পরবর্তীতে অধ্যায়টি প্রতিনজরদারির দিকে নজর দেয়া হয়েছে এতে স্টিভ ম্যান-এর ইতিহাস আলোচনা করা হয়েছে। তিনি এই শব্দটির প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত। পরবর্তী বিশ্লেষণে প্রতিনজরদারির বিভিন্ন রূপ এবং মানব ইতিহাসে এর বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নাগরিক সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হিসেবে এখানে স্থান পেয়েছে এবং প্রতিনজরদারির সুবিধা ও অসুবিধা ব্যাখ্যা করতে কিছু কেস স্টাডির মাধ্যমে এটি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

নজরদারি ও প্রতিনজরদারির বিষয়ে কথা বললে, নজরদারি তুলনামূলকভাবে বেশি পরিচিত। এর একটি কারণ হতে পারে আমরা প্রতিদিনই নজরদারির মুখোমুখি হই—আমরা কোনো না কোনো নজরদারির নজর ছাড়া এক কদমও এগোতে পারি না। একে “বিগ ব্রাদার ইফেক্ট” বলা হয়, যা এই অধ্যায়ে আরও বিশদে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যদিও আমরা জানি নজরদারি সর্বত্র বিদ্যমান, তবে তা নিয়ে আমরা খুব একটা সচেতন নই। আমাদের বলা হয়েছে এটি আমাদের নিরাপত্তার জন্য এবং এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এই ধরনের বার্তা আমাদের মনে গেঁথে গেছে এবং আমরা ভুলে গেছি আসলে কতবার আমাদের নজরদারির আওতায় আনা হয়। অপরদিকে, প্রতিনজরদারি তুলনামূলকভাবে নতুন হওয়ায় তা কম পরিচিত। কারণ, প্রতিনজরদারির জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি (যেমন হাতে ধরা ক্যামেরা) সম্প্রতি সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য হয়েছে। যদিও শব্দটি সাধারণত উচ্চতর কর্তৃপক্ষের দিকে ক্যামেরা নির্দেশ করে করা কার্যকলাপ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, তবে প্রতিনজরদারি তখনও ঘটে যখন একটি গোষ্ঠী আরও শক্তিশালী গোষ্ঠীকে পুরনো বা নতুন যেকোনো প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে। ইতিহাসের দিকে ভালোভাবে তাকালে দেখা যায়, ফরাসি বিপ্লবসহ প্রথম দিকের অনেক বিপ্লবই প্রতিনজরদারির উপর নির্ভর করে রাজা অপসারণ ও সমাজে পরিবর্তন এনেছিল।

একটি তত্ত্ব হিসেবে প্রতিনজরদারির প্রবর্তন ও বিকাশ ঘটে স্টিভ ম্যানের মাধ্যমে, যাঁকে এই অধ্যায়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

নজরদারি

[সম্পাদনা]

সংজ্ঞা

[সম্পাদনা]

এই অংশে 'নজরদারি' শব্দটির কিছু প্রচলিত সংজ্ঞা আলোচনা করা হবে।

নজরদারি শব্দটির ইংরেজি পরিভাষা Surveillance শব্দটির উৎপত্তি ফরাসি ভাষা থেকে। এর উৎস হল sur অর্থাৎ উপর থেকে এবং veiller অর্থাৎ পর্যবেক্ষণ করা—ফলে এর আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় উপর থেকে পর্যবেক্ষণ করা

নজরদারি বলতে বোঝায় সেই ক্যামেরা বা অন্যান্য সেন্সর, যা কোনো স্থাপনার (যেমন: জমি, খুঁটি বা ভবন) সঙ্গে স্থায়ীভাবে সংযুক্ত থাকে। এটি সেই ধরণের পর্যবেক্ষণ যা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এটি অন্যান্য পর্যবেক্ষণকে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে। নজরদারি হলো মূলত তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পরিচালিত পর্যবেক্ষণ। এই সহজ সংজ্ঞার মধ্যে অসংখ্য কৌশল ও পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত যেগুলোকে নজরদারির রূপ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এই পদ্ধতিগুলোর অনেকটাই জনপ্রিয় সংস্কৃতির মাধ্যমে আমাদের জানা। নজরদারির ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানতে নজরদারির ইতিহাস পাতায় যাওয়া যেতে পারে। সেখানে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে নজরদারির ধারণাটি সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই বিদ্যমান, শুধুমাত্র ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং পর্যবেক্ষণের মাত্রার পরিবর্তন হয়েছে। প্রাথমিক দূরবীন থেকে শুরু করে আধুনিক রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন পর্যন্ত নজরদারি প্রযুক্তি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমাগত উন্নত হয়েছে।

সর্বাধিক পরিচিত নজরদারির পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্থির নজরদারি, প্রযুক্তিগত নজরদারি (সাধারণত গোপন ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং), ইলেকট্রনিক নজরদারি (ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ, কীস্ট্রোক ডায়নামিকস) এবং আরও অনেক কিছু। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান থাকলে প্রায় যে কেউ নজরদারিতে অংশ নিতে পারে—এক্ষেত্রে নজরদারির কৌশল ব্যবহার করেন ফেডারেল কর্মকর্তারা যাঁরা জীবন রক্ষায় কাজ করেন, কিংবা বেসরকারি গোয়েন্দারা যাঁরা সিভিল কোর্টের প্রমাণ সংগ্রহ করেন। অক্সফোর্ড অভিধান অনলাইন (২০১৬)-এ নজরদারির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে—'সন্দেহভাজন গুপ্তচর বা অপরাধীর উপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ' (Close observation, especially of a suspected spy or criminal)।[] এই সংজ্ঞা এই বইয়ের পরবর্তী অংশে আলোচিত একটি বিষয়ের সূত্রপাত করে। সেখানে বিশ্লেষণ করা হয়েছে কীভাবে ডিজিটাল মিডিয়ার বিকাশ এমন এক মাত্রায় পৌঁছেছে যে, দাবি করা যায় বৃহত্তর জনগণ সর্বদাই নজরদারির আওতায় আছে।

নজরদারির প্রকারভেদ

[সম্পাদনা]

নজরদারির প্রধানত তিনটি ধরন রয়েছে। স্রারা পৃথিবী ব্যাপী ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণ জনসাধারণের নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি তাদের গোপনীয়তা ও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে। নেটওয়ার্ক ডেটাবেইস জনসাধারণ ও ব্যক্তির মধ্যকার সীমারেখা মুছে দেয় এবং ব্যক্তি-মানুষকে একটি ডিজিটাল প্যানআপটিকনে পরিণত করে। ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি প্ল্যাটফর্ম ব্যক্তি-মানুষকে তাদের গোপনীয়তা প্রকাশ্যে শেয়ার করতে উৎসাহিত করে।[]

প্রথমত, সিসিটিভি (ক্লোজড-সার্কিট টেলিভিশন) ইলেকট্রনিক নজরদারির সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রযুক্তি। ইংল্যান্ড, প্রথম দেশ হিসেবে পাবলিক প্লেসে সিসিটিভি স্থাপন করে এবং প্রায় ৩০ লক্ষ ক্যামেরা ব্যবহার করে দিনের ২৪ ঘণ্টা নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন পর্যবেক্ষণ করে। নরিস ও আর্মস্ট্রং একটি সিসিটিভি-সমৃদ্ধ সমাজকে বর্ণনা করেছেন "সবচেয়ে বড় নজরদারি সমাজ" হিসেবে।[] গুগল আর্থ, গুগলের একটি মানচিত্র অনুসন্ধান সরঞ্জাম, স্যাটেলাইট ছবি, জিপিএস, জিআইএস, ভিডিও স্ট্রিমিং ও ৩ডি প্রযুক্তির সমন্বয়ে সকল ব্যবহারকারীর জন্য বাস্তবচিত্র সরবরাহ করে। অনেকেই বলেন গুগল আর্থ একটি যুগের সূচনা করেছে। সেখানে সবাই একজন গুপ্তচর হতে পারে

দ্বিতীয়ত, নেটওয়ার্ক ডেটাবেইসের উন্নয়ন মানুষকে অজান্তেই পর্যবেক্ষণ করে। ১৯৯০ সালে, টেলিভিশন তারকা রেবেকা সেয়ার তার বাসার দরজার সামনে এক উন্মাদ ভক্তের গুলিতে নিহত হন। তদন্তে জানা যায়, ওই হত্যাকারী তার ড্রাইভার লাইসেন্স নম্বর ব্যবহার করে সরকারী ওয়েবসাইট থেকে তার ঠিকানা বের করেছিল। কুকিজ প্রযুক্তির মাধ্যমে শুধু মৌলিক তথ্যই নয়, ব্যবহারকারীর পছন্দ-অপছন্দ, ইমেইল ঠিকানা ইত্যাদিও সংগ্রহ করা যায়।

তৃতীয়ত, ব্যবহারকারীরাই ইচ্ছাকৃতভাবে অনলাইনে নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেন, যা নজরদারির জন্য আদর্শ মাধ্যম। ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি সাধারণ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম। তারা তাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপ, ছবি, অনুভূতি এসব প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করে থাকেন। যদিও এই ওয়েবসাইটগুলোতে নাম প্রকাশ বাধ্যতামূলক নয়, তবুও ব্যবহারকারীর তথ্য ও কার্যকলাপ নজরদারির আওতায় পড়ে। ব্যবহারকারীর পরিচয় নির্ধারণে আইপি ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহারকারীর অবস্থান (শহর বা জেলা) শনাক্ত করে। যদি একাধিক ওয়েবসাইটে একই নজরদারি ব্যবস্থা থাকে, তাহলে ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং ইতিহাস একসাথে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। যেমন, একজন ব্যক্তি ফেসবুকে লগইন থাকা অবস্থায় অন্য একটি ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে এবং সেখানে “লাইক” বাটনে ক্লিক করে, তাহলে ফেসবুক ওই ওয়েবসাইটের ব্রাউজ ইতিহাস রেকর্ড করে, ব্যবহারকারীর বন্ধুদের সম্পর্কেও তথ্য রেকর্ড করে। এসব তথ্যের সমন্বয়ে নজরদারির জন্য একটি সামাজিক সম্পর্ক চিত্র গঠন করা যায়। সেখানে ব্যবহারকারীর বন্ধু, অবস্থান ও সময় নির্ভর তথ্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়।

আরও একটি শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে কম্পিউটিং ও নজরদারির ভিত্তিতে

গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নজরদারি ও তথ্য সমাজ অধ্যয়নের সঙ্গে যুক্ত গবেষকরা নজরদারি পরিচালনার ক্ষেত্রে কম্পিউটিংয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। এর ফলে কম্পিউটার ও নজরদারির পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝাতে কয়েকটি শ্রেণিবিন্যাস গড়ে উঠেছে: যেমন নতুন নজরদারি, ডেটাভেইলেন্স, ইলেকট্রনিক (সুপার)প্যানঅপটিকন, ইলেকট্রনিক নজরদারি বা ডিজিটাল নজরদারি। গ্যারি টি. মার্কস "নতুন নজরদারিকে" সংজ্ঞায়িত করেছেন “ব্যক্তিগত তথ্য আহরণ বা সৃষ্টির জন্য প্রযুক্তিগত পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে। এটি ব্যক্তি বা পরিবেশ থেকে সংগৃহীত হতে পারে।”[] তাঁর মতে, পুরনো নজরদারিতে তথ্য প্রেরণ কঠিন ছিল, কিন্তু নতুন নজরদারিতে তা অনেক সহজ। ঐতিহ্যবাহী নজরদারিতে “যা নজরদারি কর্তৃপক্ষ জানে, তাও সাধারণত লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তি জানে”, কিন্তু নতুন নজরদারিতে “নজরদার ব্যক্তি এমন কিছু জানে যা লক্ষ্যবস্তু জানে না।”[] তিনি বলেন, নতুন নজরদারি দৃশ্যমান নয় বরং দূরবর্তী এবং এটি “কম জোরপূর্বক” [] এবং “আরও গণতান্ত্রিক” কারণ এর কিছু রূপ আরও সহজলভ্য।[] কম্পিউটারভিত্তিক নজরদারি হচ্ছে নতুন নজরদারির একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ। “কম্পিউটার নজরদারির প্রকৃতি মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে—এটিকে নিয়মিত, বিস্তৃত ও গভীর করে তোলে। প্রতিষ্ঠানগত স্মৃতি স্থান ও সময় জুড়ে প্রসারিত হয়”।[১০] ডেটাভেইলেন্স হচ্ছে “তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের কর্মকাণ্ড বা যোগাযোগের পদ্ধতিগত পর্যবেক্ষণ” (ক্লার্ক ১৯৮৮, ৫০০)। ক্লার্ক (১৯৯৪) ব্যক্তি-ভিত্তিক ডেটাভেইলেন্স (যা একজন বা একাধিক ব্যক্তির উপর নজর রাখে) এবং গণ ডেটাভেইলেন্স (যেখানে একটি গোষ্ঠী বা বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে নজরদারির আওতায় আনা হয় যাতে আগ্রহের ব্যক্তি শনাক্ত করা যায়) এর মধ্যে পার্থক্য করেন। বগার্ড (২০০৬) যুক্তি দেন যে কম্পিউটার একটি প্রযুক্তি যা নজরদারির অনুকরণ করে। গর্ডন (১৯৮৭) ইলেকট্রনিক প্যানঅপটিকনের কথা বলেন। মার্ক পোস্টার (১৯৯০) “ইলেকট্রনিক সুপারপ্যানঅপটিকন” ধারণা দেন: “আজকের ‘যোগাযোগের চক্র’ এবং এগুলো দ্বারা সৃষ্ট ডেটাবেস এক ধরনের সুপারপ্যানঅপটিকন সৃষ্টি করে, এটি এমন একটি নজরদারি ব্যবস্থা যার কোনো দেয়াল, জানালা, টাওয়ার বা প্রহরী নেই” (পোস্টার১৯৯০, ৯৩)। মার্ক আন্দ্রেয়েভিচ “ডিজিটাল এনক্লোজার” ধারণা দেন,[১১] যেখানে ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।[১২]

তৃতীয় ধরনের শ্রেণিবিন্যাস এসেছে ওগুরা (২০০৬) এবং গ্যান্ডি (১৯৯৩)-এর মতবাদ থেকে। সেখানে বলা হয়েছে নজরদারির একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পুঁজিবাদ এবং/অথবা জাতিরাষ্ট্র ভিত্তিক জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা।[১৩] আমরা নজরদারির দুটি প্রধান রূপ আলাদা করতে পারি: অর্থনৈতিকরাজনৈতিক নজরদারি। জাতিরাষ্ট্র ও করপোরেশন দ্বারা পরিচালিত নজরদারির লক্ষ্য হলো ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা, অর্থাৎ তারা যেন নির্দিষ্ট কিছু করে বা না করে, কারণ তারা জানে যে তাদের উপস্থিতি, চলাচল, অবস্থান, বা চিন্তাভাবনা নজরদারি ব্যবস্থার দ্বারা পর্যবেক্ষিত হচ্ছে বা হতে পারে।[১৪] রাজনৈতিক ইলেকট্রনিক নজরদারির ক্ষেত্রে, ব্যক্তিরা সংঘটিত সহিংসতার (আইনের) হুমকির সম্মুখীন হয় যদি তারা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আচরণ করে এবং রাজনৈতিক অভিনেতাদের (যেমন গোপন সেবা বা পুলিশ) নজরে পড়ে। অর্থনৈতিক ইলেকট্রনিক নজরদারির ক্ষেত্রে, বাজারের সহিংসতা ব্যক্তি ওদের নির্দিষ্ট পণ্য কিনতে বা উৎপাদনে বাধ্য করে এবং পুঁজিবাদী সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে তাদের অর্থনৈতিক আচরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে। এই ধরনের নজরদারিতে সহিংসতা ও পরাধীনতা চূড়ান্ত অস্ত্র। নিচের ছকে বিভিন্ন পর্যায়ে নজরদারির ভূমিকা আলোচনা করা হয়েছে।

‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এই প্রবণতাগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তোলে, কারণ এটি মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডিং সিস্টেম ও অন্যান্য গৃহস্থালী যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ব্যক্তিগত আচরণের অবস্থানভিত্তিক নজরদারিকে সম্ভব করে তোলে এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।’[১৫]

নজরদারির উদ্দেশ্য

[সম্পাদনা]

নজরদারির অনেক উপকার থাকতে পারে। পরিস্থিতিভেদে এর উদ্দেশ্য ভিন্ন হলেও সাধারণত নিম্নোক্ত এক বা একাধিক লক্ষ্য পূরণের জন্য করা হয়:

  • তল্লাশি বা ওয়ারেন্টের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা।
  • কোনো ব্যক্তি, অবৈধ পণ্য বা অবৈধ কাজের স্থান খুঁজে বের করা।
  • কোনো ব্যক্তি, অপরাধী গোষ্ঠী বা স্থানের ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা।
  • গোপন বা প্রকাশ্য নজরদারির মাধ্যমে কোনো অপরাধ ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করা।
  • অভিযানের জন্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা।
  • তথ্যদাতা, ছদ্মবেশী ব্যক্তি বা অন্যান্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বিশ্বব্যাপী নজরদারি

[সম্পাদনা]
দেশভিত্তিক ইন্টারনেট সেন্সরশিপ ও নজরদারির মানচিত্র।

বিশ্বব্যাপী নজরদারি বলতে জাতীয় সীমান্ত অতিক্রম করে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর উপর পরিচালিত নজরদারিকে বোঝায়। এর ইতিহাস ১৯২০-এর দশক পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়, যখন যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তি করে। পরবর্তীতে এতে নিউ জিল্যান্ড, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া যুক্ত হয়, গঠিত হয় ‘ফাইভ আইস অ্যালায়েন্স’। তারা 'তৃতীয় পক্ষের' দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তিও করে। এর মাধ্যমে গঠিত হয় একটি বিশ্বব্যাপী নজরদারি নেটওয়ার্ক, যার নাম 'ইসেলন'। এ বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ অবগত ছিল না যতক্ষণ না এডওয়ার্ড স্নোডেন ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

নজরদারির জন্য সংস্থা

[সম্পাদনা]

নজরদারি ব্যবস্থা মূলত নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় এবং কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করে। এজন্য একে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে "অল্প কিছু মানুষ অনেককে পর্যবেক্ষণ করে"[১৬] তাই যে সংস্থাগুলো এই ব্যবস্থা ব্যবহার করে তারা হলো: সরকার, পুলিশ স্টেশন, ব্যাংক, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের নিরাপত্তা কোম্পানি, বাণিজ্যিক ভবন ইত্যাদি—যাতে নাগরিক ও মূলধনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

এই নজরদারি ব্যবস্থা মানুষের নিরাপত্তা চাহিদা পূরণ করে অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন করার জন্য। তবে, নজরদারি প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারে ব্যক্তিগত তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ, প্রেরণ ও ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখা দেয়, যা ব্যক্তি স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এই নতুন মিডিয়া যুগে, উপরে উল্লিখিত সংস্থাগুলোর পাশাপাশি সাধারণ কোম্পানি, ব্যক্তিগত গোয়েন্দা বা এমনকি ব্যক্তি হ্যাকাররাও ক্যামেরা ও নেটওয়ার্ক ডেটাবেসের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক তথ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা

[সম্পাদনা]

২০১৩ সালে, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) সাবেক ঠিকাদার এডওয়ার্ড স্নোডেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সংস্থাটির মার্কিন নাগরিক ও বিদেশি রাষ্ট্রের উপর পরিচালিত ব্যাপক নজরদারি কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করা শুরু করেন। তাঁকে গ্রেপ্তার চেষ্টার হাত থেকে বাঁচাতে তিনি রাশিয়ায় পালিয়ে যান এবং সেখানে তাকে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। জুন ২০১৩-তে স্নোডেনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি ও সরকারি সম্পদ চুরির অভিযোগ আনা হয়। স্নোডেন যে তথ্যগুলো গণমাধ্যমে ফাঁস করেন, তার মধ্যে ছিল যে এনএসএ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি মানুষের ইন্টারনেট কার্যক্রম ও ফোন তথ্য সংগ্রহ করেছিল। কেবল মার্কিন ও বিদেশি নাগরিক নয়, এনএসএ বিদেশি নেতাদের ও তাদের সহকর্মীদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করে। স্নোডেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এনএসএ-এর কর্মচারী ও সরকারি কর্মকর্তারা মনে করতেন এই নজরদারি কার্যক্রম সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। তবে, সমালোচকেরা বলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকার সন্ত্রাসবাদের অজুহাতে কোটি কোটি মানুষের ব্যক্তিজীবনে অনধিকার প্রবেশ করেছে এবং তাদের অজ্ঞাতসারে নজরদারির আওতায় এনেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এনএসএ বিতর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন সরকার নজরদারিতে আইনগত গণ্ডি অতিক্রম করে না, তবে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে বিতর্ক ভবিষ্যতেও চলবে।[১৭]

ইউটিউব: নজরদারি না সুভেইলেন্স?

[সম্পাদনা]

নজরদারি ও সুভেইলেন্সের সংজ্ঞা এবং ইউটিউব এর প্রেক্ষাপটে তাদের প্রয়োগ বিবেচনা করলে দেখা যায় এই দুটি ধারণা কখনও কখনও পরস্পরকে ছাপিয়ে যেতে পারে এবং একে অপরের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। এই বিষয়ে আলোচনার জন্য একাধিক উপধারা রয়েছে। যেমন: ব্লগারদের কার্যক্রম সাধারণত সুভেইলেন্সে পড়লেও কিছু ক্ষেত্রে নজরদারিতেও পড়ে। বিভিন্ন ইউটিউবারের উদাহরণ বিশ্লেষণ করা হবে। নজরদারি ও সুভেইলেন্সের প্রেক্ষাপটে সমাজের উদ্দেশ্য ও ক্ষমতার পিরামিড, এবং সেই পিরামিডের যেকোনো স্তর থেকে ভিডিও ফুটেজে হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত এক ক্ষুদ্র বিতর্ক। এমনকি দুইজন ইউটিউবারের একটি কেস স্টাডিও থাকবে, যাদের কনটেন্টের স্বত্ব লঙ্ঘিত হয়েছে এবং তারা এখনও সেই কনটেন্টের মালিকানা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। শেষে, নজরদারি ও সুভেইলেন্সকে বক্তৃতার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

YouTube Logo
নজরদারি না সুভেইলেন্স প্ল্যাটফর্ম?

ইউটিউব সর্বদাই সুভেইলেন্সের একটি আদর্শ প্ল্যাটফর্ম। সেখানে সাধারণ মানুষ ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে তা বিশ্বব্যাপী শেয়ার করে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউটিউবের গঠন ও বিন্যাস ব্যবহারকারীদের জন্য আরও অনুকূল করা হয়েছে যাতে তারা নিজস্ব কনটেন্ট তৈরি করে নিজেকে বিশ্বে উপস্থাপন করতে পারে। যারা এটি করে তারা 'ইউটিউবার' বা 'ভ্লগার' নামে পরিচিত। ভ্লগিং মানে হলো কোনো ঘটনাকে ভিডিও আকারে ডায়েরি হিসেবে উপস্থাপন করা, কিন্তু ইউটিউবারদের জন্য এটি মানে তাদের প্রতিদিনের জীবনের প্রতিটি দিক শেয়ার করা। এর ফলে দর্শকরা তাদের জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত বোধ করেন এবং এটি টিভির তুলনায় বেশি বাস্তব মনে হয় কারণ এখানে জীবনের প্রকৃত রূপ দেখানো হয়, যা স্ক্রিপ্টেড বা পরিবর্তিত নয়। অধিকাংশ ইউটিউবার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে, ভিডিও গেম খেলে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত প্রকাশ করে যা জনগণের বাস্তব কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিভাত হয়। ইউটিউবের বিন্যাস ইউটিউবারদের নিজেদের জীবনধারা প্রচারের সুযোগ দেয়। বিনোদন ও প্রচার ছাড়াও, একটি অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে—যদি যথেষ্ট মানুষ তাদের ভিডিও দেখে, তাহলে ইউটিউবাররা অর্থ উপার্জন করতে পারে। এর মানে হচ্ছে, কারিগরি দিক থেকে যদি তাদের ভিডিও যথেষ্ট সংখ্যক দর্শক দেখে, তাহলে ইউটিউবাররা সেটিকে জীবিকা হিসেবে নিতে পারে। জনপ্রিয় ইউটিউবারদের অনেকেই এমনটি করে থাকেন, যেমন PewDiePie। তবে তারা সেখানেই থেমে থাকেন না, অনেকে নিজেদের তৈরি পণ্য বিক্রি করেন - যেমন Rose and Rosie, ZackScottgames, আবার কেউ কেউ নিজেদের বইও প্রকাশ করেছেন - যেমন Ashley Mardell, Tyler Oakley, Zoella। কেউ কেউ মূলধারার গণমাধ্যমেও প্রবেশ করেছেন টেলিভিশন শোয়ের মাধ্যমে - যেমন Epic Meal Time। ইউটিউব সাধারণ মানুষের জন্য খ্যাতি অর্জনের একটি চমৎকার মাধ্যম, যেমন Good Mythical Morning বা PewDiePie-এর মতো কেউ কেউ প্রকৃত সফলতা অর্জন করেছেন এবং অনেক সেলিব্রিটির কাছেও পরিচিত। ইউটিউবাররা সাধারণত "সুসভেইলেন্স" ধারণার মধ্যে পড়ে, যেহেতু তারা বাস্তব জীবন ধারণ করেন এবং তারাও জানেন যে তারা একটি ক্যামেরার সামনে রয়েছেন। এটি তাদের জীবনকে ধারণ করছে। এটি আরও স্পষ্ট হয় যখন Rose and Rosie এর মতো ইউটিউবাররা বলেন, তারা জীবনের বেশিরভাগ অংশ ক্যামেরাবন্দি করেন যাতে ছোট ছোট মুহূর্তগুলো স্মৃতিতে থাকে। তাই, তাদের জন্য সুসভেইলেন্স হতে পারে উপকারী। তবে ইউটিউবারদের নজরদারিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে আসে প্র্যাঙ্ক ভিডিওগুলো থেকে। সেখানে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতে বা সমাজের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে গোপনে তাদের ভিডিও ধারণ করা হয়। FouseyTube এবং Sam Pepper হলেন প্র্যাঙ্ক ভিডিও বানানো দুইজন ইউটিউবার। সুসভেইলেন্স এবং সারভেইলেন্স-এর মধ্যে সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যায় কারণ ইউটিউব স্বভাবতই সুসভেইলেন্স। সেখানে মানুষ নিজেরাই ক্যামেরা ধরে এবং তা সম্পর্কে সচেতন থাকে। কিন্তু যখন ইউটিউবাররা অন্য সাধারণ মানুষকে প্র্যাঙ্ক করার জন্য গোপনে ধারণ করেন এবং তাদের এই ধারণার কথা জানা থাকে না, তখনই ইউটিউবের ক্যাটাগরি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

এই ধারণাটি আরও জটিল হয় যখন এতে ‘উদ্দেশ্য’ এবং ‘ক্ষমতা’র ধারণা যুক্ত করা হয়। যদি একটি শক্তির পিরামিড কল্পনা করা হয়, তাহলে তার শীর্ষে থাকবে সরকার, তারপর পুলিশ ও কাউন্সিল, এরপর পেশাজীবী/ব্যবসা/ইউটিউবার এবং সর্বনিম্নে থাকবে সাধারণ জনগণ। এই বিশেষ ক্ষমতার সম্পর্ক সুসভেইলেন্স ও সারভেইলেন্সের উদ্দেশ্যকে প্রভাবিত করে। সরকার শুধুমাত্র সিসিটিভিকে (সম্পূর্ণ সংজ্ঞা নিচে দেওয়া হয়েছে) একটি নজরদারি যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে রাস্তায় টহল দেওয়ার জন্য এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। যদিও কেউ কেউ বলবেন তাদের উদ্দেশ্য পুরোপুরি নিখাদ নয় এবং সেটা গুপ্তচরবৃত্তির মতো, তবুও যদি আমরা ধরে নিই যে উদ্দেশ্য নিখাদ, তাহলে তাদের নজরদারি সাধারণ জনগণের স্বার্থেই পরিচালিত হয়। এটি আরও সুস্পষ্ট হয় যখন দেখা যায়, বিশেষভাবে কিছু কর্মী নিয়োগ করা হয় ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করার জন্য এবং যেকোনো বেআইনি কার্যকলাপ রিপোর্ট করার জন্য। ফলে এই ফুটেজ নির্ভরযোগ্য এবং বিকৃত নয় কারণ এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সুরক্ষা এবং এটি একটি বিশ্বস্ত উৎস থেকে আসে। তবে, পরে এই বিষয়ে একটি যুক্তি তুলে ধরা হবে যে কীভাবে সরকার পক্ষ থেকেও ফুটেজ বিকৃত করা যেতে পারে।

পিরামিডের পরবর্তী স্তরে রয়েছে পুলিশ এবং কাউন্সিল, যাদের উদ্দেশ্যও সাধারণ জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পেশাদার এবং নিখাদ। তবে এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, যেমন আমেরিকান পুলিশ বনাম ব্রিটিশ পুলিশের প্রসঙ্গ যেখানে ব্রিটিশ পুলিশ আমেরিকান পুলিশকে কম সহিংসভাবে কীভাবে আচরণ করতে হয় তা শেখাতে হয়েছে, কারণ আমেরিকান জনগণ তাদের পুলিশের দ্বারা আতঙ্কিত বোধ করছিলেন এবং পুলিশের অতিরিক্ত অস্ত্র ব্যবহার তাদের উদ্বিগ্ন করেছিল। এতটাই যে জনগণ মনে করে যে রেকর্ড করা ফুটেজ বা ড্যাশ ক্যামেরার ভিডিও সত্য ঘটনাকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না, যা ফুটেজের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে এবং এই সন্দেহ জাগে যে এটা ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হয়েছে যেন অভিযুক্ত পুলিশের বদলে ভুক্তভোগীকেই দোষী প্রমাণ করা যায়। হাফিংটন পোস্ট এই বিষয়ে বিভিন্ন দৃষ্টান্ত দিয়েছে এবং ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার নামক একটি আন্দোলনের কথাও বলেছে। তবে পুলিশের নজরদারি উদ্দেশ্যগতভাবে ভালো হওয়ার কথা, কারণ এটি অপরাধীকে আদালতে শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রমাণ সরবরাহ করে।

এর নিচে রয়েছে পেশাজীবী, ব্যবসায়ী এবং ইউটিউবাররা। প্রথম দুই শ্রেণি নজরদারির জন্য ক্যামেরা ব্যবহার করেন তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নিরাপদ রাখতে এবং তাদের সম্পদ রক্ষা করতে। তাদের উদ্দেশ্যও ভালো, কারণ তারা শুধুমাত্র নিজেদের নিরাপত্তার জন্য এটি ব্যবহার করেন এবং ফুটেজ মূলত বিকৃত থাকে না। তবে এটি কিছুটা অস্পষ্ট, কারণ এটি সেই স্তর যেখানে নজরদারি বাধ্যতামূলক নয়, বরং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তির জন্য করা হয়। তাই উদ্দেশ্য নির্ধারণ কিছুটা কঠিন, তবে তাদের নিজস্ব স্বার্থেই ফুটেজ বিকৃত না রাখার প্রবণতা থাকবে, যেমন কোনো আইনি মামলা হলে এটি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তবে ইউটিউবারদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও আকর্ষণীয়। ইউটিউবারদের উদ্দেশ্য সাধারণত স্বচ্ছ হলেও কখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হতে পারে সাধারণ জনগণকে বিনোদন দেওয়া (পিরামিডের নিচের স্তর), তথ্য সরবরাহ করা বা সমাজের নির্দিষ্ট ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা। এটি প্র্যাঙ্ক ভিডিওগুলোর মাধ্যমে বোঝা যায়, যেগুলো হয় হাস্যরস সৃষ্টি করে বা সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরে, যেমন বিপদে মানুষের সাহায্য না করার প্রবণতা। ইউটিউবারদের ক্ষমতাও উল্লেখযোগ্য, কারণ তারা সেলিব্রিটি হলেও সাধারণ মানুষের মতোই মনে হয়, কারণ আমরা তাদের ব্যক্তিগত জীবন দেখতে পাই। কিন্তু তারপরও তারা কিছুটা উচ্চতর অবস্থানে থাকে। যেমন, তারা একটি প্র্যাঙ্ক ভিডিও তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বোকা বানাতে পারে, যা অন্য কেউ পারত না। এখানেই নজরদারি ও সুসভেইলেন্সের সংঘর্ষ শুরু হয়। ইউটিউবারদের যখন দেখা যায় তারা গোপনে সাধারণ মানুষকে ধারণ করছে, তখন এটি একধরনের ক্ষমতা প্রদর্শন এবং সারভেইলেন্স ও সুসভেইলেন্সের সীমারেখা আরও অস্পষ্ট হয়।

এর আগে আলোচনা হয়েছিল যে সারভেইলেন্স ও সুসভেইলেন্স ফুটেজ বিকৃত এবং অ বিকৃত — এই দ্বন্দ্বে উপনীত হয়, যা আবার ‘উদ্দেশ্য’-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এর একটি উদাহরণ হলো স্টোকস ক্রফটে ‘অ্যান্টি-টেস্কো’ ঘটনা। সেখানে, গণমাধ্যম একটি দাঙ্গার খবর প্রচার করে যেখানে সাধারণ মানুষ টেস্কো সুপার মার্কেট স্থাপনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল। পরে ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওগুলো থেকে জানা যায় যে দাঙ্গা আসলে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল, যা সাধারণ জনগণের প্রাথমিক দাবিকে সমর্থন করে।[১৮] পিরামিডের শীর্ষে সরকারের কাছে থাকা সিসিটিভি ফুটেজই হওয়া উচিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বিকৃতহীন, যেহেতু এটি কেবল জনগণের সুরক্ষার জন্যই রয়েছে। তবে এই যুক্তির বিরোধী যুক্তি হতে পারে যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ফুটেজ থেকে কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয় বা কিছু নির্দিষ্ট ঘটনা আদালতে দেখানো হয় যাতে তারা একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। এটি অবশ্য তাত্ত্বিক, তবুও এটি একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করে যে কীভাবে সরকার এই ফুটেজ ব্যবহার করে ভুল ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে পারে। এটি আবার উদ্দেশ্য ও ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত, কারণ আদালত সিসিটিভি ফুটেজকে প্রায়শই নির্ভরযোগ্য বলে ধরে নেয়, যদিও তা নাও হতে পারে। অন্যদিকে ইউটিউবার ও সুসভেইলেন্সের ক্ষেত্রে একটি আকর্ষণীয় বিষয় হলো, জনগণ নিজেরাই জানে যে তাদের ফুটেজে বিকৃতি ঘটানো যেতে পারে কারণ এটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য এবং উদ্দেশ্য সবসময় স্পষ্ট নয়। যেমন Sam PepperFouseyTube – তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা জনগণকে গোপনে ধারণ করে সমাজের কিছু দিক উন্মোচনের নামে জনগণকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। তবে ইউটিউব এবং জনগণের ফুটেজ কখনো কখনো আরও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠতে পারে কারণ অনেক সময় জনসাধারণ নির্দিষ্ট ঘটনাকে সত্যভাবে উপস্থাপন করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভিডিও ধারণ করে। এর উদাহরণ আবার ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। সেখানে আমেরিকার সাধারণ মানুষ পুলিশি নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করছে কারণ তারা মনে করে সরকার পক্ষের ফুটেজ বিকৃত বা অবিশ্বস্ত এবং তাদের ভিডিও বেশি নির্ভরযোগ্য। অধিকাংশ সংস্কৃতিতে কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মনোভাব থাকে, যার ফলে জনগণ সরকারিভাবে রেকর্ডকৃত ফুটেজের চেয়ে অপেশাদার ভিডিওকেই বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করে। এটি ভেবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ যে জনগণ হয়তো সত্যিই সেই ফুটেজকে বেশি বিশ্বাস করে যা সরকারিভাবে নয় বরং জনগণ নিজেরাই ধারণ করেছে। সারভেইলেন্স ও সুসভেইলেন্সের মধ্যে এই উদ্দেশ্য ও নির্ভরযোগ্যতার বিতর্ক পিরামিডের স্তরগুলোর মাঝে একটি জটিল কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে।

সুসভেইলেন্সের একটি অন্ধকার দিকও রয়েছে এবং সপ্তম সপ্তাহের বক্তৃতা-এর আলোকে দুটি ইউটিউবার ব্রিয়া ও ক্রিসির একটি আকর্ষণীয় কেস স্টাডি উঠে আসে, যারা প্রতিশোধমূলক পর্নোগ্রাফির সঙ্গে সম্পর্কিত কপিরাইট সমস্যার বিরুদ্ধে লড়ছেন। ক্রিসি যখন আঠারো বছর বয়সে ছিলেন, তখন তার প্রাক্তন প্রেমিক তার অজান্তে তাদের যৌন সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে এবং তা কিছু ওয়েবসাইটে আপলোড করে প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে। কপিরাইট ইস্যু এখানেই আসে, কারণ ক্রিসি কখনোই এই ভিডিও ধারণে সম্মতি দেননি এবং তিনি ঘটনাটি মনে করতে পারছেন না কারণ তাকে অ্যালকোহল খাইয়ে মাতাল করা হয়েছিল। তবুও ফুটেজের মালিকানা তার নয়, কারণ এটি তার প্রেমিকের ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কপিরাইট আইন অনুযায়ী, যদিও এগুলো বর্তমানে হালনাগাদ হয়েছে, এই ঘটনা সেই পরিবর্তনের আগে ঘটায় এই আইন তাকে সহায়তা করতে পারছে না। ভিডিওটি সরাতে হলে তাকে কেবল তার প্রাক্তন প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা করে ভিডিওটির মালিকানা আদায় করতে হবে। এই কপিরাইট অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াই এখনও চলছে।

এই বিষয়ে দ্য গার্ডিয়ান-এর একটি ছোট তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়েছিল, পাশাপাশি ব্রিয়া এবং ক্রিসির ভ্লগও ছিল। এছাড়াও তাদের পৃষ্ঠার একটি লিঙ্ক রয়েছে। সেখানে তাদের গল্পটি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইউটিউব দম্পতিকে নিয়ে এই কেস স্টাডিটি উদ্দেশ্য সম্পর্কিত অংশের সঙ্গেও সম্পর্কিত, কারণ ক্রিসির প্রাক্তন প্রেমিক তাকে তার সম্মতি ছাড়াই ভিডিও করেছিল, যার পেছনে ছিল অসৎ উদ্দেশ্য। এর অর্থ দাঁড়ায়, এই সুভেইলেন্সটি ছিল ক্ষতিকর এবং এটি নজরদারিতে পরিণত হয়, যেহেতু ক্রিসি জানত না যে তাকে ভিডিও করা হচ্ছে। ক্রিসির জন্য এই ভয়ানক অভিজ্ঞতাটি দ্বিতীয় সপ্তাহের লেকচারের সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত। সেখানে অনলাইন পরিচয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কারণ তার সুনাম এবং অনলাইন সত্তা এই একটি ভিডিওর কারণে খারাপভাবে প্রভাবিত হয়েছে। তিনি স্মরণ করেছেন, যারা তাকে একজন আদর্শ হিসেবে দেখতেন, তারা যখন ভিডিওটি আবিষ্কার করলেন, তখনই তাদের অবস্থান পরিবর্তন হয়ে গেল। তরুণদের জন্য ইতিবাচকভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে যেভাবে তিনি এতদিন ধরে চেষ্টা করেছিলেন, সেই অনলাইন পরিচয় একটি ভয়ানক ভিডিওর মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যায়। এটি আলোচিত বিষয়ে সম্পর্কিত, কারণ যদিও এখানে ইউটিউবকে একটি ইতিবাচক সুভেইলেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, তবে যদি উদ্দেশ্য খারাপ বা অস্পষ্ট হয়, তবে এটি নেতিবাচকও হয়ে উঠতে পারে।

সবশেষে, নজরদারি ও সুভেইলেন্স অবশ্যই লেকচারগুলোর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এবং ইউটিউবকেও এর সঙ্গে যুক্ত করা যায়। দ্বিতীয় সপ্তাহের লেকচারে অনলাইন পরিচয় নিয়ে জিজি এ. পাপাচারিসির [১৯] একটি লেখা ছিল যেখানে ব্লগিং (পৃষ্ঠা ১৪৪) এবং ইউটিউব (পৃষ্ঠা ১৫০)-এর কথা বলা হয়েছে। বইটি ইউটিউবকে এমন একটি স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছে যেখানে “তোমাকে কী করতে হবে তা বলে না” (পৃষ্ঠা ১৫০) এবং যেখানে বৈচিত্র্যপূর্ণ বিষয়বস্তু থাকে, “ইউটিউবের অনেক গোত্র”-এর উল্লেখ রয়েছে (পৃষ্ঠা ১৫০)। এই ‘গোত্রগুলি’ তাদেরকে বোঝাতে পারে যারা LGBT ইউটিউবার, যাদের অন্য কোথাও স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ নেই, তাই ইউটিউব তাদের একটি জায়গা দেয় নিজস্বভাবে ও শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের প্রকাশ করার জন্য। এতে আরও বলা হয়েছে “ইউটিউব একটি বিকল্প মতপ্রকাশের মাধ্যম, যা প্রচলিত আন্দোলন, মতপ্রকাশ বা প্রতিবাদের চেয়ে আলাদা... কিছু ভিডিও শুধু ব্যঙ্গ, রসবোধ বা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের জন্ম দেয়, যা সমান গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চিন্তা ও মতপ্রকাশের মাধ্যম” (পৃষ্ঠা ১৫১)। এটি অনলাইন পরিচয়ের ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত কারণ ইউটিউব মানুষকে তাদের পরিচয় অনলাইনে প্রকাশ করতে দেয় বা অন্যদের দ্বারা তাদের পরিচয়কে উপস্থাপন করতে দেয়, যার ফলে এক ধরণের কমিউনিটি গড়ে ওঠে যেখানে মানুষ নিজেদের মত অন্যদের সঙ্গে সংযুক্ত অনুভব করে। ইউটিউবকে ভালো মাধ্যম হিসেবে ব্যাখ্যা করার এই ধারণা ব্যাখ্যা করে কেন সুভেইলেন্স এখানে বিকশিত হয়েছে, কারণ মানুষ এখানে যা ইচ্ছা তা করতে এবং তৈরি করতে পারে এবং এটি নিজেই সুভেইলেন্স, কারণ তারা নিজেরাই ক্যামেরার সামনে সচেতনভাবে রেকর্ড করছে।

নজরদারি চতুর্থ সপ্তাহের “অলওয়েজ অন” লেকচারের সঙ্গে সম্পর্কিত কারণ সেখানে আলোচনা করা হয়েছে কীভাবে আমরা সবসময় কোনো না কোনো প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত আছি, যেমন সিসিটিভি ফুটেজ সর্বদা আমাদের ওপর নজর রাখছে এবং আমাদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করছে। “হিউম্যানিটি বনাম নজরদারি” অংশে বলা হয়েছে, কিভাবে সাধারণ মানুষ এখন এমন অ্যাপ কিনতে পারে যা দিয়ে অন্যদের উপর নজরদারি করা যায় সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে। কিন্তু সবার উপর এই ক্রমাগত নজরদারি “একটি অনলাইন সত্তা” তৈরি করে, যা দ্বিতীয় সপ্তাহের আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত, কারণ অধিকাংশ মানুষ জানে না যে তাদের রেকর্ড করা হচ্ছে, তবুও এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে তারা দৃশ্যমান এবং তাদের এমন একটি দিক তুলে ধরা হয় যা আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে (যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে)। ড্যানাহ বয়েড [২০] “অলওয়েজ অন” থাকার বিষয়ে বলেন, “এটি আর শুধু অন বা অফ থাকা নিয়ে নয়। এটি এমন একটি পৃথিবীতে বসবাস করা যেখানে যখনই ও যেখানেই প্রয়োজন, তখনই মানুষ এবং তথ্যের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার বিষয়টি স্বাভাবিক ধরে নেওয়া হয়।” (পৃষ্ঠা ৭১-৭২) বয়েড এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলেও এটি নজরদারির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, কারণ সাধারণ মানুষ জানে যে তাদের চারপাশে সিসিটিভি রয়েছে, কিন্তু তারা যেন সেটি নিয়ে ভাবিত নয়, যদিও এটি তাদের রেকর্ড করছে / তাদের অনলাইন প্রোফাইলের আরেকটি অংশ তৈরি করছে।

অষ্টম সপ্তাহের লেকচারে আলোচিত "কগনিটিভ সারপ্লাস" এর প্রসঙ্গে সুভেইলেন্স অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, কারণ সেখানে বলা হয়েছে কিভাবে মানুষের হাতে অনেক অবসর সময় রয়েছে, যেহেতু শ্রমিকশ্রেণির কাজকর্মে প্রযুক্তি স্থান নিয়েছে। দেয়া উদাহরণগুলো প্রধানত গেমারদের যারা কঠিন পরিস্থিতিতে গেম সম্পন্ন করেছেন। তবে এটি সুভেইলেন্সের সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত, কারণ এই বাড়তি সময় না থাকলে ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম এবং সুভেইলেন্সের চর্চা সম্ভব হতো না; যেমন ব্লগিং, ডেইলি লাইফ ভিডিও তৈরি কিংবা সমাজ নিয়ে মন্তব্য ইত্যাদি।

এটি একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ নতুন মাধ্যম যুগে। সেখানে নজরদারি এবং সুভেইলেন্স উভয়েরই কার্যকারিতা রয়েছে। ব্যবহারকারীরা তাদের ভিডিওগুলো অনলাইনে স্বাধীনভাবে শেয়ার করার মাধ্যমে, বিশ্বের যেকোনো স্থানে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো মুহূর্তেই সারা পৃথিবীতে পৌঁছে যায়, তা সরকার চাইলেও হোক বা না চাইলেও। এই চ্যানেলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা উচ্চস্তরের কর্মকাণ্ড তদারকির সুযোগ পায়, অন্যভাবে বললে, অসংখ্য মানুষ অল্পসংখ্যককে পর্যবেক্ষণ করে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৩ সালের বোস্টন ম্যারাথন বোমা হামলা চলাকালীন বিপুল পরিমাণ ছবি ও ভিডিও Vine, Facebook, YouTube প্রভৃতি সামাজিক মাধ্যম সাইটে আপলোড করা হয়, যা পুলিশি তদন্তে উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়ক ছিল।[২১] অন্যদিকে, সুভেইলেন্সের সুযোগে অল্পসংখ্যক মানুষও ইউটিউবের মাধ্যমে বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। বিভিন্ন কোম্পানি ব্যবহারকারীর সামাজিক মাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে, যেমন SumAll, ThoughtBuzz এবং GraphDive। সাধারণত এই তথ্য সংগ্রহের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মার্কেটিং ও গ্রাহকসেবা কার্যক্রমে ব্যবহারকারীদের মৌলিক তথ্য, শখ, যোগাযোগ, ভৌগোলিক অবস্থান ইত্যাদি কাজে লাগানো।

আইন ও বিধিনিষেধ

[সম্পাদনা]

সংজ্ঞা অনুযায়ী, নজরদারি হলো তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পরিচালিত পর্যবেক্ষণ। যেহেতু কোম্পানি এবং সরকার বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে, যেমন যোগাযোগ তথ্য এবং তার বিষয়বস্তু, তাই নজরদারির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং গোপনীয়তার ক্ষতি ঠেকাতে আইন ও বিধিনিষেধ থাকা আবশ্যক। হাউস অফ লর্ডস কনস্টিটিউশন কমিটি বলেছে: 'নজরদারির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে জাতির জীবনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ব্যাপক নজরদারি গোপনীয়তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।' [১]

একটি আচরণবিধি রয়েছে, যা স্টেট সেক্রেটারির পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে। সেখানে নজরদারি ক্যামেরা সিস্টেম কীভাবে যথাযথভাবে ব্যবহার করা উচিত, সে বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে (২০১২ সালের ফ্রিডম সুরক্ষা আইন এর ধারা ৩৩)।

নজরদারি ক্যামেরার আচরণবিধি

[সম্পাদনা]

নজরদারি ক্যামেরার আচরণবিধ [২২] নির্দেশনা প্রদান করে যাতে নজরদারি প্রযুক্তিগুলো যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়। যেন সেগুলো মানুষের ও সম্পদের নিরাপত্তায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এই আচরণবিধির উদ্দেশ্য হলো মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করা এবং এই আস্থা তৈরি করা যে ক্যামেরাগুলো কেবলমাত্র তাদের সুরক্ষার জন্যই স্থাপন ও ব্যবহৃত হচ্ছে। এই কোডটি এমন নির্দেশনা দেয় যাতে নজরদারির প্রযুক্তি ব্যবহার স্বচ্ছ ও বোধগম্য হয়। তবে এই কোড শুধুমাত্র তাদের উপরই প্রযোজ্য যারা জনসমক্ষে স্থাপিত নজরদারি প্রযুক্তি বা ক্যামেরা ব্যবহার করে।

উদাহরণ

[সম্পাদনা]

নজরদারির কথা বললে, ৯/১১ হামলার পর আমেরিকান সরকারকে প্রথমেই উল্লেখ করতে হয়। সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে আমেরিকান সরকার প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রণয়ন করে। সেখানে প্রয়োজনে জনগণের ব্যক্তিগত তথ্য পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেয়া হয়েছে।[২৩] তবে এই আইনগুলোর জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে সমালোচনা করেছে। জার্মান মিডিয়া আইন বিশ্বে প্রথম আইন যা ইন্টারনেটকে নিয়ন্ত্রণ করে। সেখানে বলা হয়েছে ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকতে হবে।[২৪]

১৯৯৭ সাল থেকে প্রতি বছর, যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকট্রনিক গোপনীয়তা তথ্য কেন্দ্র এবং যুক্তরাজ্যের প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে একটি বৈশ্বিক গোপনীয়তা জরিপ প্রকাশ করে থাকে, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত গোপনীয়তা প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচিত হয়। গোপনীয়তা এবং মানবাধিকার প্রতিবেদন (প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনাল ২০০৭ক)৭৫টিরও বেশি দেশে নজরদারি এবং গোপনীয়তা রক্ষার অবস্থা মূল্যায়ন করে।

‘গোপনীয়তা একটি মৌলিক মানবাধিকার। এটি মানব মর্যাদা এবং মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা ইত্যাদি মূল্যের ভিত্তি। এটি আধুনিক যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার হয়ে উঠেছে।[২৫]

সেই অনুযায়ী, ইউরোপে তথ্য গোপনীয়তা একটি মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃত, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের উপাত্ত গোপনীয়তা নির্দেশিকা (৯৫/৪৬/EC) দ্বারা সমর্থিত। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের উচিত একটি গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা যাতে এই নির্দেশিকা কার্যকর হয়। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যে রয়েছে তথ্য সুরক্ষা আইন ১৯৯৮ (তথ্য কমিশনারের কার্যালয় ১৯৯৮)। যুক্তরাজ্যের যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে, তাদের সরকারে নিবন্ধন করতে হয় এবং তথ্যের অপব্যবহার প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।

টেলিফোন কোম্পানির জন্য আইন

[সম্পাদনা]

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের আদালত নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের উপর নিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং তা সুরক্ষার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকারকে গোপনীয়তা অধিকারের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, টেলিফোন কোম্পানিগুলোকে তাদের পরিষেবা প্রদানের সময় সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের বা প্রকাশের জন্য গ্রাহকের অনুমতি নিতে হয় (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেগুলেশন কোডের টাইটেল ৪৭, ধারা ৬৪.২০০৫)[২]। অবৈধভাবে অনুসৃত ইলেকট্রনিক যোগাযোগ প্রকাশ করা যেতে পারে (মার্কিন কোডের টাইটেল ১৮, ধারা ২৫১১)[৩] এবং অননুমোদিতভাবে ব্যবহারকারীর ফাইল অনলাইনে প্রবেশ নিষিদ্ধ (১৯৮৬ সালের মার্কিন ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশনস প্রাইভেসি অ্যাক্ট)[৪]। এই শর্তগুলো শিল্পোত্তর গণতান্ত্রিক সমাজে ব্যক্তিগত তথ্যের দুর্বলতাকে সরাসরি স্বীকৃতি দেয়। তবে, আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, এসব নিয়মাবলী বেসরকারি খাতে সংগৃহীত সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো ১৯৯৯ সালের ডেটা সুরক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী আরও কঠোর নিয়মাবলী অনুসরণ করে যা ভোক্তাদের গোপনীয়তা রক্ষা করে [৫]। এই নির্দেশিকা ভোক্তা তথ্যের উপর ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে এবং বিদেশি বাণিজ্য অংশীদারদের সমান মানের সুরক্ষায় আবদ্ধ করে [২৬])। যদিও ব্যক্তিগত তথ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ থেকে যথাযথ গোপনীয়তা রক্ষা না থাকলে অন্য দেশে স্থানান্তর নিষিদ্ধ, তবে বিশ্বায়িত ব্যবসার প্রকৃতিগত কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তির মাধ্যমে গোপনীয়তা বিধানের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক কোম্পানির সাথে ব্যবসা করতে পারে (যেমন: লি, ২০০০)। এই চুক্তিগুলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে আইনি সুরক্ষার চেয়ে অগ্রাধিকার না দিলে, তথ্যের অপব্যবহার এড়ানো অসম্ভব।[২৭]

বিধিনিষেধ

[সম্পাদনা]

সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি পরিচালনার জন্য কিছু শর্ত পূরণ নিশ্চিত করতে ডেটা সুরক্ষা আইন ১৯৯৮-এর মাধ্যমে কয়েকটি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এই বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে:

  1. চিত্র ধারণকারী ফুটেজ নিরাপদে সংরক্ষণ করা
  2. তৃতীয় পক্ষের কাছে উপকরণ প্রকাশ না করা
  3. উপকরণ যতদিন প্রয়োজন ততদিন সংরক্ষণ করা
  4. পরিচয় নিশ্চিত করা, অর্থাৎ নজরদারি ক্যামেরা চালু রয়েছে তা জানানো[২৮]

এই বিধিনিষেধ অনুযায়ী, ভিডিও উপকরণ কেবল তখনই প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য হবে যদি সিসিটিভি আইনগত বিধিনিষেধ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। যদি সিসিটিভি অপরাধ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়ে থাকে, তবে অপারেটররা প্রয়োজনমতো উপকরণ সংরক্ষণ করতে পারবেন।

খসড়া তদন্তকারী ক্ষমতা বিল

[সম্পাদনা]

খসড়া তদন্তকারী ক্ষমতা বিল যুক্তরাজ্যের সংসদের একটি যৌথ কমিটির দ্বারা পর্যালোচনা করা হয়। এটি ক্ষমতাধর সংস্থা এবং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম ও পর্যবেক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করবে। এটি তিনটি পর্যালোচনার উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা ক্ষমতাধর সংস্থাগুলোর কার্যক্রম তদারকির জন্য সংস্কার প্রস্তাব করে। তদুপরি, তারা গ্যারান্টির একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাব দেয় যাতে আইন মেনে চলা নিশ্চিত হয়।

খসড়া বিলের তিনটি প্রধান গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে:[২৯]

  1. এটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, নিরাপত্তা ও গুপ্তচর সংস্থার যেসব ক্ষমতা ইতোমধ্যে রয়েছে, সেগুলোকে একত্র করবে। এটি যোগাযোগ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করবে এবং এসব ক্ষমতাকে স্পষ্ট ও বোধগম্য করে তুলবে।
  2. এটি অনুমোদন ও তদারকি পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনবে এবং অনুপ্রবেশ ওয়ারেন্ট-এর জন্য একটি ‘ডাবল-লক’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করবে, যাতে সেগুলো কেবল বিচারকের অনুমোদনের পরই কার্যকর হয়। এর ফলে, এক নতুন তদন্তকারী ক্ষমতা কমিশনার (IPC) নিযুক্ত করা হবে যিনি এই ক্ষমতাগুলো আইন অনুযায়ী ব্যবহৃত হচ্ছে কি না তা তদারকি করবেন।
  3. এটি নিশ্চিত করবে যে সমস্ত ক্ষমতা ডিজিটাল যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ইন্টারনেট সংযোগ রেকর্ড (ICRS) সংরক্ষণের বিধান প্রদান করবে, যা কোনো ডিভাইসের দ্বারা প্রবেশ করা ইন্টারনেট সেবাসমূহের রেকর্ড।

'তদন্তকারী ক্ষমতা ট্রাইব্যুনাল'

[সম্পাদনা]

তদন্তকারী ক্ষমতা বিলের উপাদানগুলো অপব্যবহার হচ্ছে কিনা তা তদারকি করার জন্য একজন পর্যবেক্ষক দরকার। তদন্তকারী ক্ষমতা ট্রাইব্যুনাল নামে একটি কর্তৃপক্ষ ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি সরকারের কাছ থেকে স্বাধীন, যার কাজ হচ্ছে সরকারি সংস্থাগুলো যেন মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে তা নিশ্চিত করা। কেউ যদি মনে করে তারা বেআইনি কার্যক্রমের শিকার হয়েছে, তবে তারা ট্রাইব্যুনালের ওয়েবসাইটে অভিযোগ দাখিল করতে পারে এবং ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট অভিযোগটি যাচাই করে দেখবে।[৩০]

২০১৪ সালের তথ্য সংরক্ষণ ও তদন্তকারী ক্ষমতা আইন

[সম্পাদনা]

যুক্তরাজ্যের তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সমর্থনে, পার্লামেন্ট ২০১৪ সালের জুলাই মাসে তথ্য সংরক্ষণ ও তদন্তকারী ক্ষমতা আইন পাস করে যাতে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো টেলিফোন ও ইন্টারনেট রেকর্ডে প্রবেশের পূর্বতন ক্ষমতা বজায় রাখতে পারে। এই আইন কোনো অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান করেনি, তবে এটি স্পষ্ট করেছে যে, বিদেশে অবস্থিত কিন্তু যুক্তরাজ্যে ব্যবহৃত টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপরও এই আইন প্রযোজ্য।

এই আইন 'ডেটা রিটেনশন (ইসি নির্দেশিকা) রেগুলেশন ২০০৯' (S.I. 2009/859) প্রতিস্থাপনের জন্য গৃহীত নতুন আইন প্রবর্তনের ক্ষমতা প্রদান করে, সেই সঙ্গে অতিরিক্ত সুরক্ষার বিধানও রাখে। এই আইন কার্যকর করা হয় যাতে নিশ্চিত করা যায়, যুক্তরাজ্যে যেসব কোম্পানি যোগাযোগ সেবা প্রদান করে তারা রাষ্ট্র সচিবের অনুরোধ অনুযায়ী যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য ও অনুপ্রবেশ ওয়ারেন্টে সাড়া দিতে বাধ্য হয়।[৩১] এই আইনের উপাদানগুলো বিদ্যমান কাঠামোকে ব্যাখ্যা ও দৃঢ় করে।

২০১২ সালের স্বাধীনতা সুরক্ষা আইন

[সম্পাদনা]

২০১২ সালের স্বাধীনতা সুরক্ষা আইনে সরকারি ডেটাবেসে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ধারণ ও ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ বা সীমাবদ্ধতার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

  • এটি পুলিশ কর্তৃক আঙুলের ছাপ এবং ডিএনএ তথ্য সংরক্ষণের জন্য নতুন কাঠামো তৈরি করে
  • এই আইন নজরদারি ক্যামেরা ব্যবস্থার জন্য একটি আচরণবিধি প্রবর্তন করে, তবে কেবল স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত নজরদারির বিচারিক অনুমোদনের জন্য
  • এটি তথ্যের স্বাধীনতা অধিকারের সম্প্রসারণ ঘটায়, যার অধীনে ডেটাবেসগুলো পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী ফরম্যাটে উন্মুক্ত করতে হবে
  • এটি কর্মকর্তাদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত ক্ষমতার জন্য একটি আচরণবিধি সরবরাহ করে। সেখানে এই ক্ষমতাগুলো পর্যালোচনা ও বাতিলযোগ্য

যুক্তরাজ্যের ডেটা সুরক্ষা আইন (DPA) আপনাকে একটি তথ্য বিষয় হিসেবে আপনার উপর কী সংরক্ষিত রয়েছে এবং কে সংরক্ষণ করছে তা জানার অধিকার প্রদান করে। এই আইনে স্বচ্ছতার অধিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর অর্থ, একজন ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য যেটি সরাসরি আপনার পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত, তা সরকার বা অন্য যেকোনো সংস্থা সংরক্ষণ করলে আপনি তা জানার অধিকার রাখেন। আপনাকে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানাতে হবে এবং আপনার অনুরোধ যৌক্তিক হলে তারা তা মেনে চলতে বাধ্য।[৩২]

২০০০ সালের তদন্তকারী ক্ষমতা আইন

[সম্পাদনা]

২০০০ সালের তদন্তকারী ক্ষমতা আইন (আরআইপি বা আরআইপিএ) একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন যা সরকারি সংস্থাগুলোকে নজরদারি ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ করে। এই আইনে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে টেলিফোন, ইন্টারনেট ও ডাকযোগে যোগাযোগের বিষয়বস্তু অনুসরণ; যোগাযোগের বিষয়বস্তু ছাড়া অন্যান্য তথ্য (যেমন যোগাযোগের ধরন, ফোন নম্বর, ইন্টারনেট ঠিকানা, ডোমেইন নাম, ডাক ঠিকানা, তারিখ, সময় ও সময়কাল) সংগ্রহ; গুপ্তচর, তথ্যদাতা, ছদ্মবেশী অফিসার ব্যবহার; ব্যক্তিগত ভবন ও যানবাহনে ইলেকট্রনিক নজরদারি; কাউকে অনুসরণ করা; এবং এনক্রিপ্ট করা ডেটা অ্যাক্সেস করা।

১৯৮৪ সালের টেলিকমিউনিকেশন আইন

[সম্পাদনা]

টেলিকমিউনিকেশন আইন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট কর্তৃক গৃহীত একটি বিধান, যার অধীনে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়:

  • ব্রিটিশ টেলিকমকে বেসরকারিকরণ
  • ভোক্তার স্বার্থ ও বাজার প্রতিযোগিতা রক্ষা করার জন্য 'Oftel' নামে একটি টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতিষ্ঠা
  • টেলিকমিউনিকেশন পরিচালনা কিংবা অন্য কোনো সিস্টেমের সাথে সংযোগ করার জন্য লাইসেন্স প্রবর্তন করা। লাইসেন্স ছাড়া তা করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়

২০১৪ সালের এপ্রিলে হাউস অফ কমন্সের হোম অ্যাফেয়ার্স কমিটির সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিবেদনে টেলিকমিউনিকেশন আইন ১৯৮৪-এর অধীনে যোগাযোগ তথ্য সংগ্রহ এবং এই ক্ষমতার তদারকির অভাব বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

মানবতা বনাম নজরদারি

[সম্পাদনা]

মানবতার পক্ষে যুক্তি

[সম্পাদনা]

"নজরদারি নিয়ে আলোচনায় একটি প্রধান রাজনৈতিক উদ্বেগ হলো: নিরাপত্তার প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ ও নতুন নজরদারি প্রযুক্তির বিস্তার কি জর্জ অরওয়েলের ১৯৮৪ বইয়ের মত একটি দমনমূলক সর্বনিয়ন্ত্রিত সমাজ নিয়ে আসছে?"[৩৩] নজরদারি ক্যামেরাগুলো প্রতিটি রাস্তার কোণায়, প্রতিটি পাব-এ, প্রতিটি গণপরিবহন ব্যবস্থায় বসানো হয়েছে। এগুলো আমাদের শহরের গায়ে এবং মানুষের মানসিকতায় স্থায়ীভাবে গেঁথে গেছে। বলা হয় যে, যুক্তরাজ্যের কোনো শহুরে এলাকায় আপনি প্রতিদিনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে প্রায় ৩০টি নজরদারি ক্যামেরা ব্যবস্থার আওতায় পড়েন — ক্যামেরা নয়, সম্পূর্ণ ব্যবস্থা! অর্থাৎ, সেটি প্রায় ৩০০টি ক্যামেরা হতে পারে! ব্রিটিশ সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের অনুমান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ৪ থেকে ৬ মিলিয়ন নজরদারি ক্যামেরা রয়েছে। প্রযুক্তি বিদ্যুতের গতিতে এগিয়ে চলেছে। যা একসময় একটি সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল, এখন তা মুখ শনাক্ত করতে কিংবা আচরণ পূর্বাভাস দিতে পারে। মানবতা বনাম নজরদারি বিতর্কে আসলে কে জয়ী হচ্ছে?

এই ধরণের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ একটি জীবনযাত্রার মান সৃষ্টি করেছে যা বিগ ব্রাদার-এর সঙ্গে তুলনা করা যায়। সেখানে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী একজন সাধারণ নাগরিক জানেন যে তার প্রতিটি পদক্ষেপ নজরদারির আওতায় রয়েছে—একেবারে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো-এর মতো। এটি কেবলমাত্র জনসাধারণের প্রতিদিনের জীবনে সীমাবদ্ধ নয়, একজন সাধারণ ব্যক্তির ইন্টারনেট ব্যবহারের উপরও নজরদারি চালানো হয়, এমনকি যদি তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড না-ও থাকে। নজরদারি নিজেই গোপনীয়তার উপর হস্তক্ষেপ, তবে এর ইতিবাচক ফলাফল ও সম্ভাবনার কথা অস্বীকার করা যায় না। রেকর্ড করা ফুটেজ আদালতের মামলায় ব্যবহার করা যায় যেমনটি রাস্তার অপরাধ বা বাড়ির অভ্যন্তরেও হয়, তবে এটি একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিটি শহরে ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য। এটি এমনকি ঘরে কিংবা বাইরে অজান্তে কারো ওপর ক্যামেরা বসানো নৈতিক ও নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে।

যদিও—বিগ ব্রাদার শো-এর মতো করে ফুটেজ দেখা এত সহজ নয়—তবুও এমন অ্যাপ আছে যেগুলো ব্যবহার করে পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে লাইভ স্ট্রিম দেখা যায়। Surveillance App, Webcams Viewer, live Cams, ispy Cameras-এর মতো অ্যাপগুলো নজরদারির মধ্যে হ্যাক করে আপনাকে তা দেখার সুযোগ করে দেয়। এটি আবার সেই প্রশ্নের দিকে নিয়ে যায়—“নজরদারি কি সত্যিই আমাদের নিরাপদ রাখছে?” স্পষ্টতই নয় যদি আপনি এমন একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারেন যা সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে সরাসরি ফুটেজ দেখায়। আপনি এমন কাউকে গোপনে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন—অজানা কেউ—যাকে আপনি আক্রমণ বা চুরি করতে চান। কিছু অ্যাপ যেমন Live Cams (যার মাধ্যমে ২৯৮০টি লাইভ ক্যামেরা দেখা যায়) এমনকি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর পর্যন্ত দেখার সুযোগ দেয়—যদিও এটি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটি বাস্তব চিত্র দেখাতে সহায়ক হতে পারে, এটি একইসঙ্গে অত্যন্ত অস্বস্তিকর। যে কেউ আপনাকে যেকোনো কিছু করতে দেখতে পারে। সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো—স্কুল ও পার্কগুলো দেখা যায়। যদিও উদ্দেশ্য হতে পারে আপনার সন্তান নিরাপদ আছে কিনা তা দেখা, কিন্তু কেউই দেখতে পারে। এটি বিকৃত রুচির ব্যক্তিদের—যেমন পেডোফাইলদের—জন্য উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার তৈরি করে, যারা মোবাইল ফোন থেকে যেকোনো জায়গা দেখতে পারে। এখানে আর কোনো নিরাপত্তা বোধ অবশিষ্ট নেই। যদি আপনার উদ্দেশ্য বিশুদ্ধ হয়, আপনি হয়তো ভাবতে পারেন এটি মানুষকে নিরাপদ রাখার একটি সহজ উপায়, তবে সবাই যে বিশুদ্ধ উদ্দেশ্য নিয়ে অ্যাপগুলো ব্যবহার করবে—তা নয়। আর সেটাই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা মনে রাখা উচিত।

কখনো কখনো এটি এমন একটি অবস্থা হয় যেখানে জনগণ নজরদারির বিপক্ষে দাঁড়ায়, অথচ একইসাথে শহর ও শহরতলিতে অপরাধ বা বিপদ থেকে সুরক্ষিত ও নিরাপদ বোধ করতে চায়। সাধারণ মানুষও তাদের মুখমণ্ডল রেকর্ড করে ভবিষ্যতে সংরক্ষণ করার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। অনলাইনে সিসিটিভি ক্যামেরা দেখা অত্যন্ত সহজ—গুগলে মাত্র একটি সার্চেই ৯.৫ মিলিয়ন ফলাফল পাওয়া যায়। এই সহজলভ্যতা ও দ্রুততা যে কারো জন্যই উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত, যিনি কখনো কোনো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে ছিলেন। এটি শুধুমাত্র সরকারের ব্যবহারের জন্য নয়, তা হলে এটি এত সহজে পাওয়া যেত না। তবে অস্বীকার করার উপায় নেই, নজরদারি বিরক্তিকর ও অনুপ্রবেশমূলক হলেও এটি জননিরাপত্তার জন্য এবং অপরাধমূলক ঘটনার ক্ষেত্রে প্রমাণস্বরূপ সত্য ফুটেজ প্রদানের জন্য অপরিহার্য। এটি জরুরি সেবাসমূহের (যেমন পুলিশ) প্রতিক্রিয়ার গতি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, যাতে তারা ঘটনার নিয়ন্ত্রণ হারানোর আগেই হস্তক্ষেপ করতে পারে।

তাহলে কি এত ক্যামেরার সত্যিই প্রয়োজন আছে? সমাজ সবসময় নজরদারির চক্ষু সহ্য করে এসেছে কারণ আমাদের মগজে গেঁথে দেওয়া হয়েছে এটি আমাদের নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু কতদিন এই যুক্তি কার্যকর থাকবে? যদি তারা এই সিস্টেমগুলো এমনভাবে আপগ্রেড করে যাতে শুধু দেখা নয়, মানুষের কথাবার্তাও শুনতে পারে এবং মুখ শনাক্তকরণ সংরক্ষণ করে আপনার ওপর নজর রাখতে পারে—তবে কি সত্যিই এটি নিরাপত্তার জন্য?

তবে আপনি লক্ষ্য করবেন, সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিপরীতে, সিসিটিভি সিস্টেমে তেমন কোনো ব্যাপক আপগ্রেড হয়নি। এর কারণ হতে পারে, যদি আপগ্রেড করা হতো, মানুষ সহজেই তা লক্ষ করত। আমরা এতটা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে চলাফেরা করতে যে আমরা এগুলোর অস্তিত্বই খেয়াল করি না। ফলে মানুষের স্বাভাবিক আচরণ সহজে বোঝা যায়। কেবল যুক্তরাজ্যে ৪-৬ মিলিয়নের মতো ক্যামেরা রয়েছে। সবগুলো আপগ্রেড করতে গেলে বিশাল খরচ হবে। সরকার এটি গোপন রাখতে পারবে না। এতে করে সন্দেহ তৈরি হয় যে, হয়তো তারা আপগ্রেড করছে না (শুধু খরচের কারণে নয়, যদিও সেটাও বড় কারণ), বরং জনগণ যাতে বুঝতে না পারে যে তারা কত ঘন ঘন পর্যবেক্ষণের আওতায় পড়ছে। এটি আবার সেই প্রশ্ন তোলে, আমরা কি আদৌ ক্যামেরার মাধ্যমে সুরক্ষিত? যেসব ক্যামেরা ১৫–২০ বছরের পুরনো এবং এখনো অ্যানালগ সিস্টেমে চলছে, তারা কিভাবে আমাদের রক্ষা করবে? অথবা আরও ভালো প্রশ্ন হতে পারে—মানবতা বনাম নজরদারি: কোথায় মানবতার কণ্ঠ?

এটি বলার উদ্দেশ্য নয় যে সব সিসিটিভি ক্যামেরাই পুরনো। বাস্তবে, স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরের সিসিটিভি সিস্টেম যুক্তরাজ্যের অন্যতম আধুনিকতম এবং এটি নাকি একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ব্যক্তির চলাচল ট্র্যাক করতে পারে। এই সিস্টেমটি প্রতিটি ব্যক্তিকে একটি ইউনিক ‘সিগনেচার’ বরাদ্দ করতে পারে এবং বাস্তব সময়ে তাদের চলাফেরা শহর জুড়ে ট্র্যাক করতে পারে—কিন্তু কতজন মানুষ জানে যে এটি তাদের সঙ্গে ঘটছে? সাধারণ মানুষ কিভাবে এমন তথ্য জানতে পারবে? এত ক্যামেরা বসানোর আসল উদ্দেশ্য কি মানবতার সুরক্ষা, নাকি কেবল আমাদের ওপর নজরদারি?

নিয়মিত নজরদারিকে বর্ণনা করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো “বিগ ব্রাদার ইফেক্ট।” যদিও ফুটেজ বিগ ব্রাদারের মতো সহজে দেখা যায় না, তবুও এমন অ্যাপ আছে যেগুলো পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে লাইভ স্ট্রিম দেখার সুযোগ দেয়। Surveillance App, Webcams Viewer, live Cams, ispy Cameras-এর মতো অ্যাপ নজরদারির মধ্যে হ্যাক করে আপনাকে তা দেখতে সাহায্য করে। এটি আবার সেই প্রশ্ন তোলে—“নজরদারি কি সত্যিই আমাদের নিরাপদ রাখছে?” স্পষ্টতই নয়, যদি আপনি এমন একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারেন যা সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে সরাসরি ফুটেজ দেখায়। আপনি এমন কাউকে গোপনে দেখতে পারেন—অজানা কেউ—যাকে আপনি আক্রমণ বা চুরি করতে চান। কিছু অ্যাপ যেমন Live Cams (এর মাধ্যমে ২৯৮০টি লাইভ ক্যামেরা দেখা যায়) এমনকি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর পর্যন্ত দেখার সুযোগ দেয়, যদিও এটি বাস্তব সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটি চিত্র তুলে ধরতে সাহায্য করতে পারে, তবুও এটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর। যে কেউ আপনাকে যেকোনো কিছু করতে দেখতে পারে। সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো—স্কুল ও পার্কগুলো দেখা যায়। যদিও উদ্দেশ্য হতে পারে আপনার সন্তান নিরাপদ আছে কিনা তা দেখা, কিন্তু যে-কেউই দেখতে পারে। এটি বিকৃত রুচির ব্যক্তিদের (যেমন পেডোফাইল) জন্য উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার তৈরি করে। তারা মোবাইল ফোন থেকে যেকোনো জায়গা দেখতে পারে। এখানে আর কোনো নিরাপত্তা বোধ অবশিষ্ট নেই। যদি আপনার উদ্দেশ্য বিশুদ্ধ হয়, আপনি হয়তো ভাবতে পারেন এটি মানুষকে নিরাপদ রাখার একটি সহজ উপায়, তবে সবাই যে বিশুদ্ধ উদ্দেশ্য নিয়ে অ্যাপগুলো ব্যবহার করবে—তা নয়। আর সেটাই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা মনে রাখা উচিত।

শেষতক, নজরদারি অপরাধ প্রতিরোধ করে না। এমন কোনো শক্তিশালী প্রমাণ নেই যে ক্যামেরা অপরাধ প্রতিরোধ করে। এমনকি ওয়েলসের একজন পুলিশ ও অপরাধ কমিশনার এই যুক্তিতেই সিসিটিভির জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ প্রত্যাহার করেছেন। ২০১৫ সালে প্যারিসে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ঘটনার কথাই ধরুন। কোনো পরিমাণ নজরদারি এটি আগেভাগে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারত না কিংবা থামাতে পারত না। যত বড় সংখ্যায় ক্যামেরা থাকুক না কেন, একসাথে সবাইকে দেখার মতো কেউ উপস্থিত থাকতে পারে না। মানবতার এত ক্যামেরার প্রয়োজন নেই, গোপনে নজরদারি আর নিরাপত্তার মধ্যে সূক্ষ্ম একটি পার্থক্য রয়েছে।[৩৪]

নজরদারি বিতর্ক

[সম্পাদনা]

তবে, নজরদারির ওপর আক্রমণ সত্ত্বেও এটি একটি উদ্দেশ্য পূরণ করে। নজরদারি সমাজকে সহায়তা করে। জনসাধারণ এটি সমর্থন করে, গবেষণায় দেখা গেছে ৮৪% মানুষ মনে করেন ক্যামেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য পূরণ করে। মাত্র ১৬% মানুষ নজরদারির বিরুদ্ধে ছিলেন, তাদের প্রধান অভিযোগ ছিল—এই নজরদারির তদারকির অভাব নিয়ে। এটি জনগণের উপকারে এসেছে—অপরাধীদের গ্রেফতার ও শাস্তির জন্য প্রমাণ সরবরাহ করে—এমনকি মানুষ অনুভব করে যে এটি থাকলে তারা বেশি নিরাপদ, বরং যদি এটি না থাকত। তাহলে যদি এত মানুষ নজরদারির পক্ষে থাকে—এই বিতর্ক নিয়েই বা সন্দেহ কোথা থেকে আসে? এর কারণ আপনি কখনোই সবার ব্যক্তিগত মতামত জানতে পারবেন না। প্রত্যেক ব্যক্তির বিশ্বাস জানার জন্য বাইরে গিয়ে প্রশ্ন করা অসম্ভব—তবে আপনি বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের একটি বৃহৎ অংশকে জিজ্ঞাসা করলে সেটাই আপনার সবচেয়ে ভালো সুযোগ। তবে আপনি সবসময় এমন কিছু মানুষ পাবেন যারা বলবে—"নজরদারি হলো শুধু সরকারের আমাদের ওপর নজর রাখার একটা উপায়!!"

তবে এই ধারনা যে নজরদারি কেবলমাত্র আপনার দৈনন্দিন জীবনে নজর রাখার জন্য—তা একেবারেই বিভ্রান্তিকর। যেমন সান্তা কেবলমাত্র শিশুদের কল্পনায় বাস্তব—এই ধারণাটিও সমাজের কিছু অংশের মনগড়া কল্পনা। এটি একটি বিভ্রান্তিকর প্রচারণা যা আপনাকে বিশ্বাস করায় যে সরকার কেবল খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে। বাস্তবে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কেবলমাত্র ৫% সিসিটিভি ক্যামেরা পুলিশ বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে। আমরা একটি নজরদারি রাষ্ট্র, সিসিটিভির আওতার অধীনস্ত এক জাতি—এই ধারণাটি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হতে পারে। সিসিটিভি ক্যামেরার একটি বড় অংশ সাধারণ জনগণ নিজস্ব ব্যবসা সুরক্ষিত রাখতে ব্যবহার করে। তাহলে, অন্যান্য ব্যক্তিদের নজরদারি ক্যামেরা আর পুলিশের/সরকারের ক্যামেরার মধ্যে পার্থক্য কী?

নজরদারি বা নজরদারির মাধ্যমে খুন বা অন্যান্য গুরুতর অপরাধে দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কখনো কখনো এটি কোনো অপরাধের স্থান থেকে মাত্র ১০ মিনিট দূরে থাকা ব্যক্তিকেও শনাক্ত করতে সহায়তা করেছে। হ্যাঁ, একটি ক্যামেরা এলোমেলো সহিংসতা বা অপরাধ প্রতিরোধ করতে পারে না, তবে এটি অপরাধীদের শনাক্ত ও ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাজ্যজুড়ে সিসিটিভি ব্যবস্থার বিস্তারের পেছনে ছিল একটি ঘটনা—জেমি বালজারের অপহরণ। আপনি নিশ্চয়ই মনে করতে পারবেন সেই অস্পষ্ট ভিডিওচিত্র। সেখানে একজন শিশুকে দুই ১০ বছর বয়সী খুনির হাতে মারসিসাইডের একটি শপিং সেন্টার থেকে নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছিল। এই ভিডিওচিত্র বারবার টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে, যা এক সময় প্রতীকমূলক রূপ লাভ করে। যদিও ভিডিওটি সেই ভয়াবহ অপরাধ প্রতিরোধ করতে পারেনি, তবে এটি জনগণের মধ্যে এই বিশ্বাস জন্ম দিয়েছিল যে অপরাধীরা ধরা পড়বেই।[৩৫]

ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ঘটনার মধ্যে রয়েছে শার্লি এবদো হামলা। সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়নে এবং পুলিশের তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়। পুলিশ ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সিসিটিভি-এর মাধ্যমে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হামলার সাথে জড়িত দুই ভাইকে শনাক্ত করতে সাহায্য করেছিল। দ্রুত তথ্য পাওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে মনুষ্যবলের দিকনির্দেশ করতে পেরেছিল। সিসিটিভি ছাড়া সাড়া দেওয়ার সময় আরও দীর্ঘ হত, যার ফলে অপরাধীদের ধরা পড়ার সম্ভাবনাও কমে যেত। এটি প্রমাণ করে যে সিসিটিভি এতটা খারাপও নয়। জরুরি অবস্থায় এটি সাহায্য করতে পারলে এটি যে কার্যকর, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। নজরদারি শুধু বড় অপরাধের জন্য নয়; ছোটখাটো অপরাধ যেমন চুরি প্রতিরোধেও কার্যকর। যদি তা না হতো, তবে সাধারণ জনগণ বা ব্যবসায়ীরা কেন এত খরচ করে এই ধরনের ক্যামেরা স্থাপন করতেন?

সবশেষে, আলোচনা হবে গোপনীয়তা নিয়ে। অনেকে যুক্তি দেন নজরদারি ক্যামেরা অতিরিক্ত হস্তক্ষেপমূলক। আমি পুরোপুরি বুঝি যে আপনি যদি বিশ্বাস করেন একটি ক্যামেরা আপনাকে অনুসরণ করছে বা আপনার বাগান কিংবা বাড়ির দিকে তাকিয়ে আছে, তাহলে সেটা অত্যন্ত অস্বস্তিকর লাগতে পারে। তবে চিন্তা করুন, বড় কর্পোরেশন বা প্রতিষ্ঠান দ্বারা ব্যবহৃত নজরদারি ক্যামেরাগুলোর কথা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠান গোপনীয়তা প্রভাব বিশ্লেষণ সম্পন্ন করে এবং তাদের সিস্টেমে গোপনীয়তা রক্ষার নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত থাকে। Privacy by design বলতে বোঝানো হয়, যদি কোনো ক্যামেরা আবাসিক এলাকার দিকে ঘোরে বা তাকায়, তাহলে ছবিগুলো পিক্সেল করে দেওয়া হয় যেন অপারেটর বাস্তবে কারও ঘর, বাগান বা স্কুলের ভেতর দেখতে না পান। এর ফলে নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ না করে তাদের নিরাপদ রাখা যায়। এছাড়াও বড় প্রতিষ্ঠানের নজরদারি ক্যামেরার গোপনীয়তা আরও উন্নত করার কথাও উঠেছে। এর মানে হচ্ছে, যেসব কিছু ভিডিও করা হচ্ছে, সেখানে বাস্তব মানুষের পরিবর্তে অবতার দেখানো হবে—ফলে তথ্য পুরোপুরি বেনামী থাকবে। এরপর যদি কোনো অপরাধ ঘটে, তাহলে সেই ডেটা ডিক্রিপ্ট করা যাবে। ফলে যারা কোনো অপরাধ করছেন না, তাদের পরিচয় গোপনই থাকবে এবং এটি শুধু অপরাধ ঘটলে ব্যবহৃত হবে।

মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী

[সম্পাদনা]

১৯৪৮ সালে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ মানব সমাজের প্রথম বৈশ্বিক ও বিস্তৃত দলিল হিসেবে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র ঘোষণা করে। এই ঘোষণায় বলা হয়, সকল মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার এবং যোগাযোগে যেন কোনো ধরনের ইচ্ছাকৃত হস্তক্ষেপ না করা হয়। এই নিয়মে, প্রতিটি ব্যক্তিগত তথ্য নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকারের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।[৩৬]

এই ধরনের আইন ও বিধান দ্বারা নজরদারি ব্যবস্থার ব্যাপ্তিকে সীমিত করা হয়। তবে প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে, জনসাধারণের যোগাযোগ চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের গোপনীয়তা প্রকাশিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কর্পোরেশন, সুপারমার্কেট, ব্যাংক, রাস্তা ইত্যাদিতে স্থাপিত ক্যামেরা ও রেকর্ডার দ্বারা ব্যক্তিগত কথোপকথন নজরদারি করা যেতে পারে। ব্রাউজিং ইতিহাস ও অভ্যাস নেটওয়ার্ক প্রদানকারীদের কাছে চলে যেতে পারে। স্মার্টফোন ব্যক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবন প্রকাশ্যে বা গোপনে রেকর্ড করতে পারে। নজরদারি ব্যবস্থার দ্রুত বিকাশ। সেখানে আইনগত প্রতিষ্ঠান ও অপরাধী উভয়ই অন্যদের ওপর নজরদারি করতে সক্ষম, তা মানবতার বৃহৎ পরিসরে লঙ্ঘন করে।

উপসংহার

[সম্পাদনা]

এটি একটি বৃহৎ বিতর্কের বিষয়। নজরদারির ওপর আপনি সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাস করবেন কি না, তা একান্তই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। এর পক্ষে ও বিপক্ষে জোরালো যুক্তি রয়েছে। সবকিছু নির্ভর করে ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্যের ওপর। নজরদারি খারাপ হতে পারে যদি এটি খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তবে যখন এটি জনসাধারণের নিরাপত্তা রক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা যায় এবং এটি প্রমাণ করে যে আমরা এটি প্রয়োজন, যাতে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মানুষ নিরাপদ থাকে।

নজরদারি প্রযুক্তি

[সম্পাদনা]

নজরদারি প্রযুক্তি প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত—পাবলিক ক্যামেরা বা সিসিটিভি। এ নিয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। অদৃশ্য ক্যামেরা - ইন্টারনেট। দৃশ্যমান ক্যামেরা হোক বা অদৃশ্য, প্রযুক্তি নিজেই নিরপেক্ষ। এগুলোকে উপকারী বা ক্ষতিকর করে তোলে যেসব প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন এগুলো ব্যবহার করে, তাই এদের ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা প্রয়োজন।

কম্পিউটার

[সম্পাদনা]

বিশেষত ইন্টারনেটে কম্পিউটার নজরদারির বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে ডেটা এবং ট্র্যাফিক বিশ্লেষণ। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য যোগাযোগ সহায়তা আইন অনুসারে, সব ফোনকল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ট্র্যাফিক (ইমেইল, ওয়েব ট্র্যাফিক, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং ইত্যাদি) ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য বিনা বাধায় বাস্তবসময়ে নজরদারির জন্য উন্মুক্ত রাখতে হয়।[৩৭] ইন্টারনেটে এত বিশাল পরিমাণ ডেটা রয়েছে যে মানব তদন্তকারীদের পক্ষে সব খুঁজে দেখা অসম্ভব। তাই স্বয়ংক্রিয় ইন্টারনেট নজরদারি কম্পিউটারগুলোর মাধ্যমে বিপুল ট্র্যাফিক ছেঁকে, নির্দিষ্ট "ট্রিগার" শব্দ, সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ ইত্যাদি দ্বারা আগ্রহজনক ট্র্যাফিক আলাদা করে মানব তদন্তকারীদের জানানো হয়। প্রতি বছর এনএসএ, এফবিআই, তথ্য সচেতনতা অফিসের মতো সংস্থাগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে Carnivore (FBI), NarusInsight এবং ECHELON-এর মতো সিস্টেমের উন্নয়ন, ক্রয়, বাস্তবায়ন ও পরিচালনায়, যেন নজরদারির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করে আনা যায়।

সিসিটিভি

[সম্পাদনা]

সম্ভবত নজরদারির সবচেয়ে পরিচিত ও ব্যবহৃত প্রযুক্তি হলো সিসিটিভি। সিসিটিভি বা ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশনের উদ্ভব জার্মানিতে, ১৯৪২ সালে। এই প্রযুক্তি এখন বৈশ্বিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে এবং যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সিসিটিভি-এর ক্ষেত্রে কে এটি স্থাপন করতে পারবে, কোথায় ও কখন এটি স্থাপন করা যাবে—এই বিষয়গুলো রিপোর্ট ও সীমাবদ্ধতার আওতায় থাকা উচিত। আমেরিকান সমালোচক জেনিফার গ্র্যানহোম যেমন বলেছেন, নাগরিকদের পক্ষে আশা করা অনাযুক্ত যে তারা জনগণ ও পুলিশের নজরদারিতে থাকবে না, অথচ তারা নিজেরা চায় যে তাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগগুলোতে কোনো নজরদারি থাকবে না, এমনকি শক্তিশালী রিমোট মনিটরিং থেকেও নয়।[৩৮] এছাড়া অদৃশ্য ক্যামেরা বা নেটওয়ার্ক ডেটাবেসের প্রসঙ্গে মার্ক পোস্টার "superpanopticon" নামক নতুন ধারণা দেন, যা বর্ণনা করে কীভাবে ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যক্তিজীবন গঠিত হয়।[৩৯] নেটওয়ার্ক ডেটাবেসে তথ্য প্রেরণ দ্রুত এবং সুবিধাজনক, যা সিসিটিভি থেকেও বেশি নিখুঁত ও বিস্তৃত। এই প্রেক্ষাপটে, নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে আইন ও বিধান প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

নজরদারি ক্যামেরা বা সিসিটিভি দিন দিন বিশ্বব্যাপী জনসাধারণ ও ব্যক্তিগত স্থান নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকার, আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, কোম্পানি ও ব্যক্তিগত ব্যক্তি অপরাধ প্রতিরোধ, শহুরে পরিবেশ ও সরকারি ভবনের নিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, বিক্ষোভকারীদের পর্যবেক্ষণ এবং অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে ভিডিও নজরদারি ব্যবহার করে। নজরদারি প্রযুক্তিকে কখনো কখনো ‘পঞ্চম ইউটিলিটি’ বলেও অভিহিত করা হয়েছে,[৪০] যেখানে সিসিটিভি শহুরে পরিবেশে এমনভাবে সংযুক্ত হয়েছে যেমন বিদ্যুৎ বা টেলিফোন নেটওয়ার্ক শতাব্দীর প্রথমার্ধে সংযুক্ত ছিল।

পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির মধ্যে সম্ভবত সিসিটিভি-ই সবচেয়ে প্রভাবশালী, শুধুমাত্র ব্যবহৃত ক্যামেরার সংখ্যার দিক থেকেই। যেমন, ২০০৭ সালে, প্রায় দশ বছর আগে, অনুমান করা হয়েছিল যে যুক্তরাজ্যে ৪.২ মিলিয়ন সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।[৪১] সিসিটিভি সম্ভবত নজরদারির কার্যপ্রণালিকেই বদলে দিয়েছে। মিশেল ফুকো (১৯৭৭) ব্যাখ্যা করেছেন যে অতীতে অনেক মানুষ মুষ্টিমেয় প্রভাবশালীদের পর্যবেক্ষণ করত, যেমন: প্রকাশ্য ভাষণের মাধ্যমে। কিন্তু এখন নজরদারি প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প কিছু মানুষই অনেক মানুষকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে! তিনি বলেন, 'visibility is a trap' [৪২]। যদিও এটি একমুখী সম্পর্ক নয়, কারণ এখনো ‘অনেক মানুষ’ ‘মুষ্টিমেয় মানুষ’কে দেখে টিভি ও অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে। তবে সিসিটিভি মূলত মুষ্টিমেয়ের নিয়ন্ত্রণে, যার মানে—যখন আপনি জনসমক্ষে থাকবেন, তখন আপনাকে ভিডিও করা হতে পারে, অনেক সময় আপনার অজান্তেই।

বিশ্বে নজরদারি ক্যামেরার সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাজ্য শীর্ষে: প্রতি ১২ জনে ১টি ক্যামেরা বা প্রায় ৫ মিলিয়ন ক্যামেরা সরকারি ও বেসরকারি মালিকানায় রয়েছে।[৪৩]

লন্ডন, যুক্তরাজ্যে সিসিটিভির উদাহরণ

এএনপিআর

[সম্পাদনা]

অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন ক্যামেরা (ANPR), অথবা লাইসেন্স প্লেট রিকগনিশন ক্যামেরা (LPR) হল যানবাহন নজরদারির প্রধান উপায়গুলোর একটি। এগুলো সড়কের ধারে, বিশেষত মোটরওয়েগুলোর পাশে বসানো হয় এবং গতি সীমা অতিক্রম এবং অন্যান্য মহাসড়ক নিরাপত্তা লঙ্ঘনের প্রতিবেদন দিতে ব্যবহৃত হয়। এগুলো স্বয়ংক্রিয় টোল কর সংগ্রহের মতো প্রক্রিয়াতেও ব্যবহার করা যায়।[৪৪] যদিও এগুলো একধরনের ক্যামেরা, তথাপি এগুলো CCTV থেকে ভিন্ন কারণ এদের উদ্দেশ্য হচ্ছে যানবাহনের কার্যকলাপ চিত্রায়ণ নয় বরং নাম্বার প্লেট সনাক্ত করা এবং সেখানকার অক্ষরগুলো শনাক্ত করা, এমনকি দূর থেকে বা চলন্ত অবস্থাতেও। সফটওয়্যার OCR ব্যবহার করে বিভিন্ন ধারণকৃত চিত্র থেকে তথ্য ব্যবহারযোগ্য কোডে রূপান্তর করা হয়, এবং ক্যামেরাগুলোকে অবশ্যই ইনফ্রারেড আলোতে সংবেদনশীল হতে হয়, দৃশ্যমান স্পেকট্রামে সীমিত হতে হয় যেন দিনের বেলাতেও এবং রাতেও, হেডলাইট আলোকপ্রভা ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও কাজ করতে পারে।[৪৫]

টেলিফোন

[সম্পাদনা]

সরকারিভাবে এবং বেসরকারিভাবে টেলিফোন লাইনে আড়িপাতা ব্যাপকভাবে প্রচলিত। অধিকাংশ কলের জন্য মানব এজেন্ট প্রয়োজন হয় না। স্পিচ-টু-টেক্সট সফটওয়্যার ধারণকৃত অডিও থেকে যন্ত্রপাঠযোগ্য পাঠ্য তৈরি করে, যা পরে স্বয়ংক্রিয় কল বিশ্লেষণকারী প্রোগ্রাম দ্বারা প্রক্রিয়াজাত করা হয়, যেমন ইনফরমেশন অ্যাওয়ারনেস অফিস বা ভারিন্ট এবং নারাস-এর মতো কোম্পানিগুলোর দ্বারা বিকশিত সফটওয়্যার, যেগুলো নির্দিষ্ট শব্দ বা বাক্যাংশ অনুসন্ধান করে নির্ধারণ করে যে কলটিতে মানব এজেন্ট নিয়োজিত করা হবে কিনা।[৪৬] যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এমন প্রযুক্তি রয়েছে যা মোবাইল ফোনের মাইক্রোফোন দূরবর্তীভাবে সক্রিয় করতে পারে, ফোনের ডায়াগনস্টিক বা রক্ষণাবেক্ষণ বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে, যাতে ফোনধারীর আশেপাশে যে কথোপকথন হচ্ছে তা শোনা যায়।[৪৭] মোবাইল ফোন অবস্থান তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। মোবাইল ফোনের ভৌগোলিক অবস্থান (এবং সেইসাথে ফোনধারীর অবস্থান) সহজেই নির্ধারণ করা যায় এমনকি ফোনটি ব্যবহৃত না হলেও, একটি কৌশল ব্যবহার করে যেটিকে বলে মাল্টিল্যাটারেশন, যা ফোন থেকে মালিকের নিকটবর্তী বিভিন্ন সেল টাওয়ারে সংকেত পৌঁছাতে সময়ের পার্থক্য পরিমাপ করে কাজ করে। স্নোডেন ফাঁসের মাধ্যমে জানা গেছে যে ব্রিটিশ সরকারি যোগাযোগ সদর দপ্তর (জিসিএইচকিউ)আমেরিকান নাগরিকদের ওপর এনএসএ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্যে প্রবেশ করতে পারে। একবার ডেটা সংগ্রহ হয়ে গেলে, জিসিএইচকিউ তা সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারে। এই সময়সীমা "জ্যেষ্ঠ ব্রিটিশ কর্মকর্তা"-র অনুমতিতে বাড়ানো যেতে পারে।

টেলিফোন এবং মোবাইল ফোন সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের নজরদারি প্রযুক্তি আছে যা কার্যকর এবং সহজলভ্য। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো বাগিং এবং ট্র্যাকিং প্রযুক্তি।

বাগিং

গোপন শ্রবণ ডিভাইস হিসেবেও পরিচিত, বাগ বা ওয়্যার সাধারণত একটি ছোট রেডিও ট্রান্সমিটার এবং একটি মাইক্রোফোন নিয়ে গঠিত। প্রধানত পুলিশ তদন্তে ব্যবহৃত হলেও, এগুলো সাধারণ মানুষও ব্যবহার করতে পারে। ডেইলি মেইল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল যেখানে সম্পর্কের মধ্যে থাকা মানুষদের সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের সঙ্গী হয়তো মোবাইল ফোনে বাগিং ডিভাইস ব্যবহার করে তাদের ওপর নজর রাখছে।[৪৮] ফ্লেক্সিস্পাই-এর মতো সিস্টেম নিজেদের নজরদারি সফটওয়্যার বিজ্ঞাপনে বলেছে “আপনি যদি একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে থাকেন, সন্তানের দায়িত্বে থাকেন অথবা কর্মচারী পরিচালনা করেন, তবে **আপনার জানার অধিকার আছে**।[৪৯] সত্য জানুন, তাদের ফোনে নজর রাখুন।” যদিও এটি ডেটা সুরক্ষা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন, এই সিস্টেমসহ অনেকগুলো এখনো জনপ্রিয় এবং শাস্তি শুধু একটি জরিমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে, জনসমক্ষে, অফিসে এবং নিজের বাসায় শ্রবণ বা রেকর্ডিং ডিভাইস ব্যবহার করা বৈধ।

ট্র্যাকিং ট্র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে, স্টিংরে ফোন ট্র্যাকার সবচেয়ে প্রচলিত। হ্যারিস কর্পোরেশন দ্বারা উন্নিত, এই ডিভাইস একটি মোবাইল ফোন নজরদারি যন্ত্র। এটি কাছাকাছি থাকা সব ডিভাইসকে এতে সংযোগ ঘটাতে বাধ্য করে, এরপর সেখান থেকে অভ্যন্তরীণ তথ্য গ্রহণ করতে পারে, ডেটা ডাউনলোড করতে পারে এবং যোগাযোগের বিষয়বস্তু আটকাতে পারে, এমনকি তা ডিক্রিপ্ট এবং রেকর্ড করতেও পারে। স্টিংরে যেসব ডিভাইসের সাথে সংযুক্ত হয় সেগুলোর অবস্থানও নির্ণয় করতে পারে। এই সফটওয়্যার মূলত সামরিক এবং গোয়েন্দা সংস্থার জন্য তৈরি হলেও, বর্তমানে এটি যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন অন্তত ২৩টি অঙ্গরাজ্যের ৬০টি সংস্থাকে চিহ্নিত করেছে যারা স্টিংরে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।[৫০] তবে যুক্তরাজ্যে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়নি। স্কাই নিউজের একটি তদন্ত নিয়ে বিবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে লন্ডনজুড়ে পুলিশ নকল মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করছে এমন অভিযোগ রয়েছে।[৫১] এই টাওয়ারগুলো মোবাইল ডিভাইসের সাথে সংযুক্ত হয় এবং ব্যবহারকারীর অবস্থান প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যন্ত্রগুলো পুলিশি সন্দেহভাজনদের ট্র্যাক করতে ব্যবহৃত হতে পারে। মেট্রোপলিটন পুলিশ এই ধরনের নজরদারির ব্যবহার স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করেনি।

উদাহরণ

নেদারল্যান্ডসে সবআইএসপি-কে আদালতের আদেশ অনুযায়ী সব ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ করার সক্ষমতা থাকতে হয় এবং ব্যবহারকারীদের লগ তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হয়। নিউজিল্যান্ডে Telecommunications (Interception Capabilities) Act 2004 অনুযায়ী টেলিযোগাযোগ কোম্পানি এবংআইএসপি-দের পুলিশ বা নিরাপত্তা সংস্থার অনুরোধে ফোন কল এবং ইমেইল নজরদারির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সুইজারল্যান্ডেআইএসপি-দের মেইল এবং টেলিযোগাযোগ নজরদারির জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।

সোশ্যাল মিডিয়া

[সম্পাদনা]

তথ্য গোপনীয়তার আরেকটি অংশ, যা কোনো আইনি কাঠামো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়, সেটি হলো অনলাইনে আমরা যে তথ্য শেয়ার করি। এটি তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে ‘তথ্য উন্মোচন’-এর সংজ্ঞায় এক নতুন মাত্রা নিয়ে আসে যখন এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করা হয়। ‘ডিজিটাল তথ্যের অবশিষ্টাংশ’ বলতে বোঝায় আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য যা কেউ বা কিছু অনলাইনে সংগ্রহ বা শেয়ার করেছে এবং কোথাও ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত আছে, যার ওপর আমাদের আর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

অনলাইন কমিউনিটি যেভাবে এসেছে, সেভাবেই এসেছে সোশ্যাল মিডিয়া। Oxford Dictionary of Media Communications-এ এটি বর্ণিত আছে।[৫২] তবে এটি বলা কঠিন যে কে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করছে যদি না তারা সরাসরি যোগাযোগ করে। কিছু গোপনীয়তা সেটিংস আমাদের নিয়ন্ত্রণে যেমন পোস্টের ‘custom’ সেটিং যা আমাদের দেখতে দেয় কে পোস্টটি দেখছে; তবে অন্যরা আমাদের ট্যাগ করলে (যতক্ষণ না আমরা নিজেকে আনট্যাগ করি), সেটি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং ওই কয়েক মিনিটে চিন্তা চলে আসে ‘ওহ না – কে কে ইতিমধ্যেই এটি দেখে ফেলেছে?’ গ্রাহাম মেইকল এবং শেরম্যান ইয়াং বলেন: 'ভাবুন, কীভাবে ফেসবুক আমাদের কার্যক্রম বন্ধু তালিকার সবাইকে “নিউজফিড” ফাংশনের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়। আপনি হয়তো ভাবছেন কোনো বন্ধুর স্ট্যাটাসে আপনার মন্তব্য অন্যদের দেখার সুযোগ নেই, কিন্তু দেখা গেল তার প্রোফাইল সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় আপনার মন্তব্য “শীর্ষ খবর” হিসেবে আপনার সব বন্ধুর কাছেই পৌঁছে গেছে।[৫৩]টেমপ্লেট:Rp

রিক্রুটমেন্ট কোম্পানি জবভাইট-এর বার্ষিক জরিপ (সর্বশেষ সেপ্টেম্বর ২০১৫) অনুযায়ী, ৯২% নিয়োগকারী নিয়োগ দেওয়ার আগে সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল চেক করে।[৫৪] তদ্ব্যতীত, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন নির্দেশনা রয়েছে যাতে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষের বাইরে গুপ্তচরবৃত্তির শিকার না হন।[৫৫]

উভয় ঘটনাকেই সমাজবিজ্ঞানী এরভিং গফম্যান-এর তত্ত্বের উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে, যিনি বলেন আমরা বিভিন্ন সামাজিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রূপ ধারণ করি এবং আমাদের নির্দিষ্ট শ্রোতার জন্য পারফর্ম করি এবং থিয়েটারের মতো হলেও আমাদের প্রকৃত সত্তাটি থাকে মঞ্চের পেছনে।[৫৬]টেমপ্লেট:Rp

স্ক্রিনশট, সৌসভেইলেন্স, অনলাইন ডেটিং ও বিশ্বাসঘাতকতা
[সম্পাদনা]

স্ক্রিনশট আগে শুধু কম্পিউটার বা ল্যাপটপে প্রিন্ট স্ক্রিন বোতাম চেপে নেওয়া যেত, কিন্তু আজকের স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার কারণে এক ক্লিকেই প্রতিদিন বন্ধুদের ছবি ও তথ্য পাঠাতে ব্যবহৃত একটি পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া ডেটিং অ্যাপ টিন্ডার তাদের ব্যবহারকারীদের জন্য ‘শেয়ার’ ফিচার চালুর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।[৫৭] এই ডেটিং অ্যাপটি জানিয়েছে এটি তাদের উপকারে আসবে যারা কারো সাথে পরিচিত হয়েছে কিন্তু বন্ধুত্বের ঘনিষ্ঠতা না থাকায় ফেসবুকে অ্যাড করেনি, সেই ব্যক্তির প্রোফাইল বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবে। স্বাভাবিকভাবেই এটি গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে কারণ একটি লিংক ৪৮ ঘণ্টা বা পাঁচবার ক্লিক হওয়ার পর পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে।

টিন্ডার বলেছে ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল স্ক্রিনশট নিয়ে তা বন্ধুদের পাঠানোর সুযোগ আগেও ছিল এবং ব্যবহারকারীরা চাইলে এই ফিচার থেকে ‘opt out’ করতে পারবে। কিন্তু বাজফিড এবং ডিস্ট্র্যাক্টিফাই-এর মতো বিনোদনমূলক ওয়েবসাইট স্ক্রিনশট ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের অদ্ভুত, যৌনতাপূর্ণ এবং হাস্যকর কথোপকথনের সংকলন তৈরি করে মজা করে,[৫৮] যা ভুক্তভোগীদের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। এমনকি এখন “Tinder Nightmares” নামে পূর্ণ অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়েছে যা ব্যবহারকারীদের স্ক্রিনশট পাঠাতে উৎসাহিত করে।[৫৯] আরও দেখুন: সৌসভেইলেন্স ও শিল্প?

তবে, স্ক্রিনশট নজরদারি ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে মডেল এমিলি সিয়ার্স-এর ক্ষেত্রে,[৬০] যিনি অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন চিত্র পাঠানোয় বিরক্ত হয়ে, ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল ঘেটে তাদের পরিবারের সদস্য বা প্রেমিকার খোঁজ বের করে ছবি পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এতে ওই ব্যক্তিরা দ্রুত ক্ষমা চায়।

বাজফিড-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে[৬১] মিস সিয়ার্স বলেন, মানুষেরা তাদের কম্পিউটার পেছনে নিরাপদ বলে মনে করে এমন আচরণ করে। এই সামাজিক আচরণকে বলা হয় অনলাইন নিষেধমুক্তির প্রভাব। তাত্ত্বিক জন সুলারের মতে, বাস্তবে যা করার বা বলার সাহস নেই, অনলাইনে সেই কাজ করে ফেলার অনুভূতি। একজন পুরুষ যদি রাস্তায় নিজের নগ্ন দেহ উন্মুক্ত করে, তাকে গ্রেপ্তার করা হতো। অথচ অনেকে ভাবেন কারও মোবাইলে তাদের যৌনচিত্র পাঠানো নাকি সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য।

কোম্পানিসমূহ

[সম্পাদনা]

পাসপোর্ট পরিষেবাগুলি ভোক্তাদের তথ্য শোষণ করেছে এবং Salon.com থেকে উদ্ভূত নিবন্ধগুলির একটি সিরিজ অনুসরণ করে তাদের গোপনীয়তা নীতি এবং বিবৃতি সংশোধন করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। ইয়াহু এবং মাইক্রোসফট ই-মেইল পরিষেবা উভয়ই ব্যক্তিগতভাবে সনাক্তকরণযোগ্য তথ্য ভাগ না করার তাদের বর্ণিত গোপনীয়তা নীতির বিরুদ্ধে গ্রাহকের তথ্য প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।  ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে, সম্ভাব্য গোপনীয়তা লঙ্ঘন সম্পর্কে ব্যবহারকারীর সমালোচনার জবাবে, ফেসবুক তার নতুন সংশোধিত পরিষেবার শর্তাদি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল। গুগলের গোপনীয়তা অনুশীলনগুলি ইইউ গোপনীয়তার মানগুলি পূরণ করে না এবং একইভাবে বেশ কয়েকটি মার্কিন নীতিনির্ধারকদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছে আইনপ্রণেতা গোপনীয়তা অনুশীলন নিয়ে গুগলকে প্রশ্ন করেন প্রদত্ত ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হবে তার রূপরেখার জন্য সংস্থাগুলি গোপনীয়তা এবং ব্যবহারের শর্তাদি বিবৃতি নিয়োগ করে, যাতে ব্যবহারকারীর অভিযোগের ক্ষেত্রে সংস্থাগুলি দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পায়।

এই পদ্ধতিতে, ব্যক্তিগত তথ্য জনসাধারণের মধ্যে বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়, প্রক্রিয়াটিতে ব্যক্তির কাছ থেকে সামান্য ইনপুট সহ।

২০১৪ সালের এনএসএ.In বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে এমন সংস্থাগুলি রয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট টুইটার মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে যাতে এটি ব্যবহারকারীদের উপর সরকারের নজরদারি সম্পর্কিত তথ্য দিয়ে স্বচ্ছ হওয়ার ক্ষমতা চেয়েছিল। টুইটারের ভাইস প্রেসিডেন্ট বেন লি বলেছেন, এই বিধিনিষেধ প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন। টুইটারের মামলার আগে গুগল একটি অনুরূপ মামলা দায়ের করেছিল যা সংস্থাটি কতবার ডেটা জন্য জাতীয় সুরক্ষা অনুরোধ পায় তা জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করার অনুমতি চেয়েছিল। [৬]

বায়োমেট্রিক

[সম্পাদনা]

ইলেক্ট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের মতে, "বায়োমেট্রিক্স বলতে জীবিত ব্যক্তিদের স্থায়ী শারীরিক বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় সনাক্তকরণ বা পরিচয় যাচাইকরণকে বোঝায়"।  এই ধরনের নজরদারি প্রযুক্তি বহু বছর ধরে সাধারণভাবে পরিচিত ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্বীকৃতি এবং আইরিস স্বীকৃতির সাথে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যার ব্যবহার করে পোস্ট করা ছবিতে মানুষকে 'ট্যাগ' করে। এই সমস্তগুলি নজরদারি হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে, বিশেষ করে যখন এটি থেকে গঠিত ডেটা সরকারী বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করা হয়। বায়োমেট্রিক ডেটার এই ধরনের ব্যবহার সুপরিচিত, তবে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ব্যবহার অন্বেষণ করা হচ্ছে।

আমেরিকা এবং চীনে, ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরাগুলি শহরগুলির চারপাশে ল্যাম্প পোস্টগুলিতে স্থাপন করা হচ্ছে যাতে রিয়েল টাইমে ব্যক্তিদের ট্যাগ করা ভিডিও দেখার পাশাপাশি সহিংস কার্যকলাপের জন্য জড়ো হতে পারে এমন বিশাল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা যায়।  গত বছর ইউরোপে ওয়ান্টেড অপরাধীদের ভিড় স্ক্যান করার জন্য লেস্টারশায়ার পুলিশ কর্তৃক ডাউনলোড ফেস্টিভ্যালকে ঘিরে ক্যামেরা স্থাপন নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। এটি যুক্তরাজ্যের একটি বহিরঙ্গন ভেন্যুতে এই ধরণের প্রযুক্তির প্রথম ব্যবহার ছিল এবং যখন এটি জনসাধারণের নজরে আনা হয়েছিল তখন ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।  একই সময়ে আইসি পুতুলগুলি স্টোরগুলিতে ব্যবহার করা হচ্ছে যেখানে তারা সংস্থাগুলিকে বিপণনের ডেটা দেওয়ার জন্য খুচরা গ্রাহকদের বয়স, জাতি এবং লিঙ্গ ট্র্যাক করতে পারে; এক ধরনের কর্পোরেট নজরদারি।  এটি একটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনী চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তুর মতো শোনাতে পারে তবে ক্রমবর্ধমান এটি বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, আইকোনেমের নিজস্ব পুতুল সিস্টেম রয়েছে যা স্মার্টফোনে বীকন প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি অ্যাপের মাধ্যমে পণ্যের বিবরণ সম্পর্কে সতর্ক  কয়েক বছরের মধ্যে কোনও দোকানে প্রবেশ করা এবং পুতুলটি আপনাকে আপনার নাম ধরে ডাকে এবং তারপরে কেবল মুখের স্বীকৃতি সফটওয়্যার এবং গ্রাহক ডাটাবেসগুলি একত্রিত করে আপনাকে পণ্যগুলির প্রস্তাব দেয়। অবশ্যই এর কোনোটিই সহজে করা যায় না, যেমনটি কেলি গেটস তার বই আওয়ার বায়োমেট্রিক ফিউচার: ফেসিয়াল রিকগনিশন টেকনোলজি অ্যান্ড দ্য কালচার অব সার্ভিল্যান্সে তুলে ধরেছেন, তবে এর উন্নয়ন ও উৎপাদনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই সময়ে বায়োমেট্রিক নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই,[ তবে যুক্তরাজ্য এবং কানাডা কিছু আইন পাস করেছে যা আক্রমণাত্মক বায়োমেট্রিক্স সীমাবদ্ধ করতে সহায়তা করবে, যেমন 'স্নুপ বিল' যা এর ক্ষমতা হ্রাস করবে যোগাযোগ ক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি (সিসিডিপি)।

পিটার ওয়াগেট বলেছেন, "আমি ২০ বছর ধরে বায়োমেট্রিক্স নিয়ে কাজ করছি, এবং এটি এমন একটি টিপিং পয়েন্টে পৌঁছেছে যেখানে লোকেরা কোথায় রয়েছে এবং তারা কী করছে তা বোঝা অসম্ভব হতে চলেছে। সবকিছু মনিটরিং করা হবে।  একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে এটি ইতিমধ্যে সত্য তবে বায়োমেট্রিক্স পরবর্তী কোথায় যায় তা দেখতে আকর্ষণীয় হবে।

উদাহরণ

সুইডেনে ১৯৭৫ সালে বা তার পরে জন্মগ্রহণকারী প্রায় প্রতিটি নাগরিক গবেষণার উদ্দেশ্যে জন্মের সময় রক্তের নমুনা সরবরাহ করেছেন। ফাংশন বা মিশন ক্রিপের ফলে সম্প্রতি এই রক্তের নমুনাগুলি ২০০৩ সালে একজন খুনির দোষী সাব্যস্ত করার জন্য এবং ২০০৪ সালে থাইল্যান্ডের সুনামি বিপর্যয়ের শিকারদের সনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। সমস্ত ২৭ ইইউ দেশ সমস্ত ইইউ পুলিশ ডাটাবেসে জেনেটিক তথ্য, আঙুলের ছাপ এবং গাড়ি নিবন্ধকরণ তথ্যে অবাধ অ্যাক্সেস করতে সম্মত হয়েছে? নিউজিল্যান্ডে নবজাতকের রক্তের স্পট নমুনা এবং সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং এই তথ্য পুলিশ দ্বারা ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে কেবল শেষ উপায় হিসাবে বা পিতামাতার সম্মতিতে ।

এরিয়াল

[সম্পাদনা]

আকাশ নজরদারি এক ধরনের নজরদারি যা সাধারণত কম্পিউটারাইজড বায়বীয় ইঞ্জিন দ্বারা পরিচালিত হয়। নজরদারির এই ফর্মটি নিজস্ব সমস্যা এবং সীমানা নিয়ে আসে যা প্রায়শই অতিক্রম করা হয়। নতুন প্রযুক্তি ড্রোনের মতো ডিভাইস তৈরি করছে, একটি আকাশ নজরদারি ইউনিট যা নিজেরাই কাজ করে এবং দূর থেকে মালিকের কাছে নজরদারি চিত্র প্রেরণ করে। এই ডিভাইসগুলি ব্যবহারের মূল সমস্যাটি হ'ল গোপনীয়তার আক্রমণ, বিশেষত যুক্তরাজ্যে লাইসেন্স ছাড়াই অনেকগুলি ড্রোন কেনা এবং ব্যবহার করা যায়। ২০ কেজি ওজনের কম ওজনের ড্রোনগুলির জন্য বিশেষ পারমিটের প্রয়োজন হয় না,[ অর্থ যে কেউ এই রেকর্ডিং ডিভাইসগুলি যার উপর ইচ্ছা 'গুপ্তচরবৃত্তি' করতে ব্যবহার করতে পারে। যাঁদের কাছে ড্রোন রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই ব্যস্ত এলাকার ১৫০ মিটার এবং কোনও ব্যক্তির ৫০ মিটারের মধ্যে ড্রোন ওড়ানো এড়ানো উচিত, তবে এই নিয়মটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয় না।

মেশিনগুলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি নতুন রূপ গ্রহণ করায় অনেকে ড্রোন থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলি তাদের আশেপাশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সময় মুখের স্বীকৃতি ব্যবহার করতে এবং তাদের লক্ষ্যবস্তুর গতিবিধি অনুসরণ এবং নথিভুক্ত করার ক্ষমতা ধারণ করতে তাদের কম্পিউটার ভিশন ব্যবহার করতে সক্ষম। ড্রোনগুলিতে ক্লোজড-সার্কিট টেলিভিশনের বিধিনিষেধ নেই, অন্যথায় সিসিটিভি হিসাবে পরিচিত, যা জনসমক্ষে কোনও ব্যক্তির গতিবিধি রেকর্ড করতে সক্ষম হলেও ব্যক্তি অনুসরণ করতে পারে না বা বায়বীয় দৃশ্য থেকে রেকর্ড করতে পারে না। কম্পিউটার ভিশন, ফেস রিকগনিশন, অবজেক্ট রিকগনিশন এবং অন্যান্য ট্র্যাকিং প্রযুক্তি সহ ড্রোনগুলি দ্রুত নজরদারির অন্যতম অনুপ্রবেশকারী ফর্ম হয়ে উঠছে। ড্রোনগুলি তাদের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং কোনও অঞ্চল দিয়ে যাওয়ার সময় কোনও বিষয় অনুসরণ করা এবং চিত্রগ্রহণের মতো মানুষের মতো উদ্দেশ্যগুলি সম্পূর্ণ করতে পারে।

জনসাধারণের সুরক্ষা এবং তাদের নিজের বাড়িতে গোপনীয়তার অধিকারের জন্য এবং সুরক্ষা সতর্কতার জন্যও বিমান নজরদারিতে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে, কারণ এফএএ নিয়ম অনুসারে ৪০০ ফুটের উপরে বা বিমানবন্দরের দুই মাইলের মধ্যে ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ২০১৫ সালের মে মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি আবাসন বিল চালু করা হয়েছিল যাতে বিমান নজরদারির ব্যবহার সীমাবদ্ধ করা যায়। 'প্রোটেকটিং ইন্ডিভিজুয়ালস ফ্রম মাস এরিয়াল সার্ভিলেন্স অ্যাক্ট' নামের ওই বিলটিতে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে আকাশপথে নজরদারি চালাতে চাইলে ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের এখন পরোয়ানা জারি করতে হবে। ফ্রেমের মধ্যে আটকে পড়া মানুষদেরও শনাক্ত করতে পারছেন না তারা।

যেহেতু ড্রোনগুলি নজরদারির আরও সাম্প্রতিক রূপ, তাই অনেক লোক প্রযুক্তিটির বিপদ বা সুবিধা সম্পর্কে নিশ্চিত নয়, তবে এমন কর্মকর্তাদের সংখ্যা বাড়ছে যারা একটি বিমান নজরদারি ব্যবস্থার মালিকানার জন্য বিধিবিধান এবং নিয়ম বাড়াতে চান। ২০১৪ সালে পারমাণবিক সাবমেরিন স্থাপনার কাছে ড্রোন ব্যবহারের দায়ে রবার্ট নোলসকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সিভিল এভিয়েশন অথরিটি তাকে ৪ হাজার ৩০০ পাউন্ড পরিশোধের নির্দেশ দেয়।  বিবিসির খবরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোথায় কেউ ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে আর পারবে না, কারণ ক্রিসমাস ও জন্মদিনের উপহার হিসেবে অনেককেই গ্রহণ করা হচ্ছে।  ড্রোনগুলি নজরদারি প্রযুক্তির নতুন 'এটি' খেলনা, তবে নির্দেশিকাগুলি উপেক্ষা করার পরিণতি বিপজ্জনক হতে পারে, ম্যানচেস্টারে অপব্যবহারের আরেকটি মামলা রয়েছে। সেখানে টটেনহ্যাম হটস্পারের সাথে ম্যানচেস্টার সিটির হোম ম্যাচের উপর ড্রোন উড়ানোর জন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।  ড্রোনগুলি অনেকের জন্য মজাদার, নিরীহ খেলনা হিসাবে দেখা হয়, তবে বিমান নজরদারির এই অত্যন্ত উন্নত রূপটি গোপনীয়তা এবং নামহীনতার অধিকারের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক এবং নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। যদি সিসিটিভিকে গোপনীয়তার বিষয়ে খুব বেশি অনুপ্রবেশকারী বলে সতর্ক করা হয়, তবে তুলনামূলকভাবে ড্রোনটি আরও উন্নত প্রযুক্তি এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি বৃহত্তর সুযোগ সহ অনেক বেশি আক্রমণাত্মক।

ডেটা মাইনিং এবং প্রোফাইলিং

[সম্পাদনা]

ডেটা মাইনিং এবং প্রোফাইলিং হ'ল ডেটা নজরদারি, একটি প্যাটার্ন ভিত্তিক বৈকল্পিক ব্যবহার করে এবং পৃথক ক্রিয়াকলাপ যাচাই করার জন্য ডেটা মাইনগুলির মাধ্যমে অনুসন্ধান করা। ডেটা মাইনিং এবং প্রোফাইলিং একটি প্রোফাইল তৈরি করতে এবং ব্যক্তিদের ইন্টারনেট কার্যকলাপের নিদর্শনগুলি খুঁজে পেতে একজন ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি আচরণ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে ব্যবহার করা যেতে পারে এবং এইভাবে অনলাইন এবং অফলাইন উভয় আচরণ নির্ধারণ করতে সক্ষম হতে পারে। সফটওয়্যারের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিগুলি অনলাইন লেনদেনের জরিপ এবং উল্লেখ করার সাথে সাথে আরও বিশদ বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতির জন্য তৈরি করে।

ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিস্তৃত তথ্য বেসরকারী সংস্থাগুলি বিভিন্ন লোকের ইন্টারনেট ক্রিয়াকলাপ অনুসরণ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে। এটি ব্যক্তির জন্য একটি ভোক্তা প্রোফাইল তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ এই সংস্থাগুলিকে "তৃতীয় পক্ষ" বলে অভিহিত করে, কারণ তারা তাদের গ্রাহকদের লেনদেনকে আরও এগিয়ে নেওয়ার উপায় হিসাবে সরাসরি ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক তথ্যের সাথে ন্যস্ত করা হয়। কর্পোরেট খেলোয়াড়দের অন্য সেটের জন্য, তবে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং বিক্রয় তাদের ব্যবসা, কেবল পণ্য ও পরিষেবাদির বিনিময়ের পণ্য নয়।

সংস্থাগুলির দ্বারা ডেটা ট্র্যাকিং এবং নোট করা লক্ষ্যবস্তুর গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। সরকার যখন এই তথ্য পায় তখন অতিরিক্ত গোপনীয়তার সমস্যা দেখা দেয়, যা বর্তমানে কোনও আইনি পরিণতি ছাড়াই করতে পারে।  এটি প্রোফাইল এবং প্রোফাইলার, বা শিকার এবং শিকারীর মধ্যে একটি ক্ষমতার লড়াই তৈরি করে। একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের ট্র্যাকিংয়ের সাথে পাসওয়ার্ড এবং এর বৈধতা বা এমনকি প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এটি অপ্রচলিত বলে মনে হয় যে একজনকে তাদের নিজস্ব ইমেল প্রবেশ করার জন্য একটি পাসকোড প্রয়োজন, যখন কোনও ডেটা মাইনারের কোনও ব্যক্তির সম্পূর্ণ চিত্রের জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে হয় এমন কোনও কিছুতে অ্যাক্সেস রয়েছে। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে জিমেইলের মতো সাইটে অ্যাক্সেস করতে অসুবিধা বিদ্রূপাত্মক- একটি মায়ের প্রথম নাম বা শৈশব পোষা প্রাণী অবশ্যই মনে রাখতে হবে যখন একটি পৃথক সংস্থা বা প্রোফাইলার কারও পরিচয় সংগ্রহ করার জন্য তাদের অজ্ঞতা উপেক্ষা করতে সক্ষম হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় গোয়েন্দা এবং আইন প্রয়োগকারী এজেন্টদের দ্বারা কৌশল হিসাবে ডেটা মাইনিং ব্যবহার করা হয়েছে। এটি চালু করা হয়েছিল যখন তদন্তগুলি সন্ত্রাসীদের আচরণ এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে যথেষ্ট প্রকাশ করে না যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সমাজে মিশে যায়। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চিহ্নিত, বিচ্ছিন্ন করা এবং প্রতিরোধের জন্য, গোয়েন্দা সংস্থাগুলি কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে বিশাল এবং বেশিরভাগ অকেজো লেনদেনমূলক তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণ শুরু করেছে।

ডেটা প্রোফাইলিং এবং মাইনিং নজরদারির জগতে খালি চোখে যা দেখতে পারে তার পৃষ্ঠের নিচে খনন করতে এবং ব্যানাল ক্রিয়াকলাপকে ব্যবহারকারীর প্যাটার্নে পরিণত করতে ব্যবহৃত হয়। অর্থহীন হিসাবে বিবেচিত ডেটা ব্যবহার করা এমন প্রোফাইলারের পক্ষে অত্যাবশ্যক হতে পারে যারা অনলাইন লেনদেন থেকে তাদের ডেটা তৈরি করতে পারে এবং যেমন কোনও ব্যক্তির একটি পরিষ্কার চিত্র তৈরি করতে পারে। এটি অনুশীলনের যথার্থতা নয় যা প্রায়শই প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে নৈতিক অসদাচরণ যা কৌশলটির অংশ। ব্যক্তিগত তথ্য বড় কোম্পানিগুলির জন্য একটি গরম পণ্য, তবে ডেটা মাইনিং এবং প্রোফাইলিং সাধারণত একজন সাধারণ ব্যক্তির দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে কেবল অনুসন্ধান করা হয় এবং এই ধরনের নজরদারি তার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ।

হিউম্যান অপারেটিভ

[সম্পাদনা]

স্পাই থ্রিলারে আমরা যেমন দেখি এজেন্টরা কি নজরদারির হাতিয়ার? এটা যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে হ্যাঁ তারা আছে। https://www.mi5.gov.uk এমআই৫ এর ওয়েবসাইট অনুসারে "গোপন মানব গোয়েন্দা সূত্র (সিএইচআইএস), বা "এজেন্ট", এমন লোক যারা গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করতে পারে যা আমাদের তদন্তে সহায়তা করতে পারে"।  এই এজেন্টগুলি প্রায়শই নাটকের উদ্দেশ্যে কাল্পনিক কাজগুলিতে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়, তবে এই জাতীয় গল্পগুলির ভিত্তি একই থাকে।

সম্ভবত বিশ্বের সর্বাধিক পরিচিত সুরক্ষা সংস্থা হ'ল সিআইএ বা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা বাহিনীর একটি শাখা। আশ্চর্যজনকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গোয়েন্দা কার্যক্রম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সরকার-ব্যাপী ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে,[ যখন যুক্তরাজ্যে, এমআই ৬ এবং এমআই ৫ ১৯০৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যখন তারা সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরো নামে পরিচিত ছিল।  এই নিরাপত্তা পরিষেবা ব্যবহারের সবচেয়ে সক্রিয় সময়কাল, এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতির সবচেয়ে প্রতিলিপি যুগ ঠান্ডা যুদ্ধ হতে হবে। এই সময়ে পারমাণবিক যুদ্ধ এড়ানোর জন্য বিদেশী সরকারের নজরদারি অপরিহার্য ছিল।

এই সব বিদেশী স্বার্থ সঙ্গে কাজ অপারেশন সম্পর্কিত, কিন্তু মানব অপারেটর মাধ্যমে গার্হস্থ্য জনসংখ্যার নজরদারি জন্য সেট আপ করা এজেন্সি আছে। সবচেয়ে বড় হোমল্যান্ড কাউন্টার-টেররিজম সংস্থা হ'ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের নিজস্ব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিস রয়েছে যেখানে এজেন্টদের সম্ভাব্য সন্ত্রাসী ঝুঁকির জন্য জনসংখ্যা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মানব অপারেটররা তাদের নিজস্ব নজরদারি প্রযুক্তি, সম্ভবত বিশ্বের প্রাচীনতম এবং সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত। যুক্তরাজ্যে এজেন্টদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য, বিবিসির রেডিও ৪ এর টুডে প্রোগ্রাম সম্প্রতি এমআই ৫ এর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে একজন বেনামী এজেন্টের সাক্ষাত্কার নিয়েছে।

ডি.এন.এ. প্রোফাইলিং

[সম্পাদনা]

বেশ কয়েকটি দেশ নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি এবং পরিষেবাগুলি থেকে লাভের আশায় প্রধানত ফার্মাসিউটিকাল সংস্থাগুলি এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক উদ্যোগ দ্বারা পরিচালিত চিকিত্সা গবেষণার জন্য দেশব্যাপী ডিএনএ ডাটাবেস তৈরি করছে। চিকিৎসা গবেষণা সুইডেনে ড্রাইভার যার মাধ্যমে ১৯৭৫ বা তার পরে জন্মগ্রহণকারী প্রায় প্রতিটি নাগরিক জন্মের সময় রক্তের নমুনা সরবরাহ করেছে (পিকেইউলাবরেটরিয়েট ২০০৮)। নমুনাটি জিনগত রোগ ফিনাইল-কেটোন-ইউরিয়া (পিকেইউ) পরীক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি ডাটাবেসে ভবিষ্যতের চিকিৎসা গবেষণার জন্যও সংরক্ষণ করা হয়। ডাটাবেসে কোনও ডিএনএ প্রোফাইল নেই, তবে রক্তের নমুনাগুলি সহজেই বিশ্লেষণ করা যায়। প্রতিটি নমুনার সাথে পরিচয় তথ্যও সরবরাহ করা হয়। ডাটাবেসটি অপরাধ তদন্তে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নয়। যাইহোক, আনা লিন্ধ (সুইডিশ পররাষ্ট্র বিষয়ক সচিব) হত্যার হাই-প্রোফাইল মামলায় পুলিশ ডাটাবেসে অস্থায়ী অ্যাক্সেস পেয়েছিল যা হত্যাকারীকে সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়েছিল।

স্যাটেলাইট চিত্রাবলী

[সম্পাদনা]

২৫ শে মে, ২০০ ২০০৭-এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জন মাইকেল ম্যাককনেল অনুমোদিত জাতীয় অ্যাপ্লিকেশন অফিস এর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ স্থানীয়, রাজ্য এবং দেশীয় ফেডারেল এজেন্সিগুলিকে সামরিক গোয়েন্দা পুনরুদ্ধার উপগ্রহ এবং পুনরুদ্ধার বিমান সেন্সর থেকে চিত্রাবলী অ্যাক্সেস করার অনুমতি দেওয়ার জন্য যা এখন মার্কিন নাগরিকদের ক্রিয়াকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। স্যাটেলাইট এবং বিমান সেন্সরগুলি মেঘের আচ্ছাদন ভেদ করতে, রাসায়নিক চিহ্নগুলি সনাক্ত করতে এবং বিল্ডিং এবং "ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার" এর বস্তুগুলি সনাক্ত করতে সক্ষম হবে এবং গুগল আর্থের মতো প্রোগ্রামগুলির দ্বারা উত্পাদিত স্থির-চিত্রগুলির চেয়ে অনেক বেশি রেজোলিউশনে রিয়েল-টাইম ভিডিও সরবরাহ করবে।

সনাক্তকরণ এবং শংসাপত্র

[সম্পাদনা]

সনাক্তকরণের সহজতম ফর্মগুলির মধ্যে একটি হ'ল শংসাপত্র বহন। কিছু জাতির সনাক্তকরণে সহায়তা করার জন্য একটি পরিচয় নথি সিস্টেম রয়েছে, অন্যরা এটি বিবেচনা করছে তবে জনসাধারণের বিরোধিতার মুখোমুখি হচ্ছে। অন্যান্য নথি, যেমন পাসপোর্ট, ড্রাইভারের লাইসেন্স, লাইব্রেরি কার্ড, ব্যাংকিং বা ক্রেডিট কার্ডগুলিও পরিচয় যাচাই করতে ব্যবহৃত হয়। যদি পরিচয়পত্রের ফর্মটি "মেশিন-পঠনযোগ্য" হয়, সাধারণত একটি এনকোডযুক্ত চৌম্বকীয় স্ট্রাইপ বা সনাক্তকরণ নম্বর ব্যবহার করে, তবে এটি বিষয়টির সনাক্তকারী ডেটা সমর্থন করে। এই ক্ষেত্রে এটি একটি বৈদ্যুতিন ট্রেইল তৈরি করতে পারে যখন এটি চেক করা হয় এবং স্ক্যান করা হয়, যা প্রোফাইলিংয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে, উপরে উল্লিখিত হিসাবে।

ভূতাত্ত্বিক ডিভাইস

[সম্পাদনা]

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, পুলিশ কোনও ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য লোকের গাড়িতে গোপন ট্র্যাকিং ডিভাইস স্থাপন করেছে। ২০০৯ সালের গোড়ার দিকে তারা আদালতে যুক্তি দেখাচ্ছিল যে তাদের এটি করার অধিকার রয়েছে।  বেশ কয়েকটি শহর পাইলট প্রকল্প চালাচ্ছে যাতে কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় তাদের গতিবিধি ট্র্যাক করতে জিপিএস ডিভাইস পরা বাধ্যতামূলক করা হয়।

মানব মাইক্রোচিপ

[সম্পাদনা]

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, সমালোচনামূলক চিন্তাবিদ এবং সংশয়বাদীরা একটি সম্ভাব্য নজরদারি পদ্ধতির অত্যন্ত সমালোচনা করেছেন: নাগরিকদের গতিবিধি ট্র্যাক করতে মাইক্রো-চিপের ব্যবহার। যদিও অনেক বাণিজ্যিক পণ্য ইতিমধ্যে চুরি প্রতিরোধের জন্য মাইক্রো-চিপ দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে, এই চিপগুলি সম্ভাব্যভাবে অন্যান্য উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এখন এটি একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে নতুন আমেরিকান পাসপোর্টগুলি একটি আরএফআইডি চিপ দিয়ে জারি করা হয় যা ব্যক্তিগত তথ্য ধারণ করে। এই চিপগুলি দশ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সনাক্ত করা যায়। তবে একই ধরনের চিপ এরই মধ্যে মানুষের মধ্যেও বসানো হয়েছে। কয়েকটি ক্লাব এবং ডিস্কোথেক নিয়মিত গ্রাহকদের বাহুতে মাইক্রো-চিপ ইনজেকশনের মাধ্যমে এই ব্যবহারকে নেতৃত্ব দিয়েছে যাতে তাদের সহজে অ্যাক্সেস এবং একটি বৈদ্যুতিন ট্যাব সরবরাহ করা যায় যা অর্থ বা ক্রেডিট কার্ড বহন করার প্রয়োজনীয়তা দূর করে। হাস্যকরভাবে, এটি অনুসরণ করে যে নজরদারি কেবল নিয়ন্ত্রণের একটি অন্তর্নিহিত এবং গোপন ফর্ম হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে না, তবে সুস্পষ্ট ৩৬০ ° প্রতিক্রিয়া প্রদানের উপায় হিসাবে ব্যবসায়িক চেনাশোনাগুলিতে গৃহীত হয়েছে। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া সমগ্র সাংগঠনিক প্রেক্ষাপট নিরীক্ষণের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনাগত কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন জড়িত। যাইহোক, এই প্রক্রিয়াটি একটি সংগঠনের মধ্যে মাইক্রো-রাজনীতির জন্ম দিতে পারে এবং নিন্দা এবং ব্ল্যাকমেইলকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে। যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে এটি শৃঙ্খলার নিখুঁত রূপ যে এটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ক্ষমতার বিষয়টিকে স্বাগত বোধ করে এবং প্রকাশ্যে শৃঙ্খলাকে আমন্ত্রণ জানায়। একইভাবে, সংশয়বাদীরা ভয় পায় যে আমরা স্বেচ্ছায় প্রতিটি ব্যক্তিগত বিবরণ প্রকাশ করে এবং এই বিবরণগুলিকে বাইরের শক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন করে স্বচ্ছ মানব বা "কাচের মানুষ" তৈরি করছি।

ডাক সেবা

[সম্পাদনা]

টেক্সট মেসেজিং, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং এবং ইমেলের উত্থানের সাথে সাথে এটি যুক্তিযুক্ত হতে পারে যে ডাক চিঠিটি তরুণ প্রজন্মের জন্য অপ্রচলিত হয়ে উঠছে। ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ রিপোর্ট করেছিল যে জাতীয় সাক্ষরতা ট্রাস্টের গবেষণায় দেখা গেছে যে ছয়জন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে মাত্র একজন এখনও চিঠি লেখে এবং তারা বিশ্বাস করে যে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত বিশ্বে বাস করা চিঠি লেখার পতনের পিছনে কারণ।

আমাদের মধ্যে যারা চিঠি পাঠান এবং গ্রহণ করি এবং মহামান্যের সন্তুষ্টিতে নেই এমনকি যদি এটি কেবল অদ্ভুত ক্রিসমাস বা ধন্যবাদ কার্ড হয় তবে আমরা সর্বদা ধরে নিই যে আমাদের তথ্য ব্যক্তিগত; তবে যুক্তরাজ্য ডাক এবং যোগাযোগের গোপনীয়তার অধিকারের সাথে একটি ওঠানামা সম্পর্কের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

মিডিয়া ব্লগ ইনফর্ম (ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম অফ রেসপন্সিবল মিডিয়া ফোরাম)  ১৭ থেকে ২০ শতকের চিঠিগুলি কেবল একটি পরোয়ানার অনুমোদনের মাধ্যমে ট্রানজিটে খোলা যেতে পারে, তবে পরোয়ানার ফর্মটি সরকারী ক্ষমতার বিবেচনার ভিত্তিতে হবে, তবে তারা প্রকাশ্যে পরামর্শ দেয়নি যে বাধা দেওয়া হচ্ছে। উপরন্তু, কোন কেলেঙ্কারি গোপনে মোকাবেলা করা হত।

এই অনুশীলনের নীরবতা ১৯ ১৯৭৯৯ সাল পর্যন্ত রয়ে গিয়েছিল যখন এটি প্রকাশিত হয়েছিল যে স্থানীয় পুলিশ একটি প্রাচীন ব্যবসায়ীর টেলিফোন রেকর্ড করছিল এবং যখন যুক্তরাজ্যের আদালত আদালত খারিজ করে দেয়, তখন বাদী মামলাটি ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে নিয়ে যায় যেখানে এটি প্রকাশিত হয়েছিল যে যুক্তরাজ্য সরকার মানবাধিকারের ইউরোপীয় কনভেনশনের ৮ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে যুক্তরাজ্যের একজন ব্যক্তিকে শান্ত জীবনের অধিকার দেয়া। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য একমাত্র লুপ হোল।

এটি আদালত কর্তৃক আদেশিত যোগাযোগ আইন ১৯৮৫ এর ইন্টারসেপশন তৈরির দিকে পরিচালিত করে এবং পরে তদন্তকারী ক্ষমতা আইন ২০০০ এর নিয়ন্ত্রণ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। আরও দেখুন: আইন ও বিধিনিষেধ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডাক আইনের গোপনীয়তা কেবল ১৯ শতকে ঘটেছিল। জন ডারহাম পিটারস বলেছেন যে স্ট্যাম্প, সিল করা খাম এবং পোস্ট বাক্সের আগে চিঠিগুলি খোলা, পড়া এবং এমনকি স্থানীয় প্রেসে প্রকাশিত হতে পারে।

গ্রাহাম মেইকেল এবং শেরম্যান ইয়ং চিঠি লেখার ক্ষেত্রে বিকশিত গোপনীয়তার সামঞ্জস্যতা এবং আজকের সোশ্যাল মিডিয়া আউটলেটগুলিতে কোনটি ব্যক্তিগত এবং কোনটি নয় তা সংজ্ঞায়িত করার কোনও আহ্বান জানানো হয়নি। তারা বলে, 'কাউকে এভাবে বার্তা পাঠানো অস্বাভাবিক কিছু নয়, কেবল তখনই আপনার পৃষ্ঠার 'প্রাচীর' অঞ্চলে লিখে তাদের উত্তর দেওয়া অস্বাভাবিক নয়, যাতে কথোপকথনটি আরও বিস্তৃত শ্রোতাদের কাছে উন্মুক্ত হয়, প্রশ্নে প্রাচীরে কী গোপনীয়তা সেটিংস প্রয়োগ করা হয় তার উপর নির্ভর করে।

অ্যাপ্লিকেশন

[সম্পাদনা]

নজরদারি প্রযুক্তির একটি বিশেষ রূপ হ'ল গুগল প্লে এবং আইটিউনসের মতো অ্যাপ্লিকেশন স্টোরগুলির মাধ্যমে ভোক্তাদের অ্যাক্সেসযোগ্য। এই প্রযুক্তিটি বাজারজাত করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে; কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের ইন্টারনেট ব্যবহার ট্র্যাক করার জন্য সংস্থাগুলির জন্য, তাদের ফোনের মাধ্যমে তাদের বাচ্চাদের যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করার জন্য পিতামাতার কাছে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় এবং স্বামী বা স্ত্রীর ক্রিয়াকলাপ তদন্তের উদ্দেশ্যে বিক্রি করা হয়। অবশ্যই, বেসিক সফটওয়্যারটি মূলত একই এবং ইন্টারনেট সংযোগ সহ যে কোনও কম্পিউটার বা ফোনে ডাউনলোডযোগ্য। এই বিভাগটি বিশেষত এই অ্যাপ্লিকেশনগুলি এবং সেগুলি কীভাবে কাজ করে তা দেখবে।

একটি আকর্ষণীয় সূচনা পয়েন্ট হতে পারে হাফিংটন পোস্ট দ্বারা একটি নিবন্ধ পাঁচটি ভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন তাদের বাচ্চাদের উপর "গুপ্তচরবৃত্তি" করার জন্য পিতামাতার কাছে বিক্রি করা হয়। এটি এই পণ্যগুলির প্রধান বিক্রয় পয়েন্টগুলি হাইলাইট করে, তাদের বাচ্চারা কী পাঠ্য করে তা দেখার ক্ষমতা থেকে শুরু করে তারা যে গাড়িতে ভ্রমণ করছে তার গতি জানা। এই পণ্যগুলির ওয়েবসাইটগুলি নিজেরাই অনুরূপ পয়েন্টগুলি উল্লেখ করে, পাশাপাশি কর্মচারীদের শিথিলতা এবং প্রতারণামূলক স্বামীদের কথা বলে।  শীর্ষ ট্র্যাকিং অ্যাপ্লিকেশনগুলির মতে 'এমএসপিআই' হ'ল "বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ব্যবহৃত সেল ফোন ট্র্যাকিং অ্যাপ্লিকেশন", তাই এটি যেভাবে কাজ করে এবং এই বিষয়ে কোম্পানির কী বলার আছে তা দেখা মূল্যবান।

এমস্পাই এর হোমপেজে 'হাউ ইট ওয়ার্কস' শিরোনামে একটি বিভাগ রয়েছে যেখানে তারা বলেছে "আমাদের সফটওয়্যারটি জিপিএস অবস্থান, ওয়েব ইতিহাস, ছবি, ভিডিও, ইমেল, এসএমএস, স্কাইপ, হোয়াটসঅ্যাপ, কীস্ট্রোক এবং আরও অনেক কিছু সহ পর্যবেক্ষণ করা ফোনের পটভূমিতে সমস্ত ক্রিয়াকলাপ ট্র্যাক করে কাজ করে। এর বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে - কল পরিচালনা করা, পাঠ্য বার্তা এবং জিপিএস অবস্থানগুলি ট্র্যাক করা, ক্যালেন্ডার এবং ঠিকানা বইগুলি অ্যাক্সেস করা এবং কয়েকটি নাম রাখার জন্য অ্যাপ্লিকেশন এবং প্রোগ্রামগুলি নিয়ন্ত্রণ করা। এটি আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড, উইন্ডোজ এবং ম্যাক ওএসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বৈধতার প্রশ্ন থাকতে পারে, কারণ এটি বেসামরিক নজরদারি সফটওয়্যার, তবে তাদের সাইটটি ব্যাখ্যা করে যে "এর ব্যবহার একেবারে আইনী" যতক্ষণ না এটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের, কর্মচারীদের নিরীক্ষণ করতে ব্যবহৃত হয় যারা সচেতন যে তাদের ট্র্যাক করা হচ্ছে, বা ক্রেতার নিজের ফোনে ব্যবহার করা হচ্ছে। যাইহোক, সফটওয়্যারটি দূরবর্তীভাবে কোনও ডিভাইসে ডাউনলোড করার জন্য উপলব্ধ তাই ব্যবহারকারীদের পক্ষে অবৈধভাবে এটি ব্যবহার করা খুব সহজ। স্পাই বাবলের মতো অনুরূপ সাইটগুলিতে, বৈধতার প্রশ্নটি আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ কারণ এটি অংশীদারের ডিভাইসে ব্যবহার করার জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় এবং অনুমোদনের বিষয়টিকে সম্বোধন করা হয় না। অনলাইনে অনেক নিবন্ধ রয়েছে যা এখানে বর্ণিত আইনী এবং নৈতিক বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করে।

এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশনগুলির ব্যবহার বিতর্কিত হতে পারে, তবে দৈনন্দিন নজরদারি প্রযুক্তি হিসাবে সময় বাড়ার সাথে সাথে তারা বিশ্বব্যাপী আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

নেটওয়ার্কড সংস্কৃতির ক্ষমতার রাজনীতি

[সম্পাদনা]

প্রযুক্তি এবং অন্য সবকিছুর ব্যাপক আবেদন রয়েছে যা ক্ষমতা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সর্বদা সমালোচিত হওয়া উচিত। একটি নেটওয়ার্কযুক্ত সমাজ বিশ্বের শক্তিশালী সরকারগুলিকে যে সুবিধাগুলি দেয় তা সমালোচনা করা বা হাইলাইট না করা বোকামি। এমন একটি বিশ্ব যেখানে প্রযুক্তির নিরবচ্ছিন্ন অ্যাক্সেস আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নির্বিঘ্নে দেখার অনুমতি দেয়। কে দেখছে আমাদের? যারা আমাদের দেখছে তাদের কে দেখছে? এই প্রযুক্তিগত যুগে সমালোচনামূলক এবং সক্রিয় অংশগ্রহণকারী থাকার জন্য আমাদের এই প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করতে হবে।

রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানী, ল্যারি ডায়মন্ডের 'সর্বদা সংস্কৃতিতে' একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে যে এটি প্রযুক্তি এবং তথ্যে সহজে অ্যাক্সেসের অনুমতি দিয়েছে। ডায়মন্ড বিশ্বাস করেন যে সস্তা ভিডিও ক্যামেরা এবং ইন্টারনেট সক্ষম মোবাইল ফোন যা ভিডিও রেকর্ড করতে পারে তা 'ক্ষমতা' বেসামরিক নাগরিকদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে, জনগণকে নিজেরাই সার্ভেলান্ট হয়ে উঠতে এবং নজরদারির ঐতিহ্যবাহী শ্রেণিবিন্যাসকে সমতল করে তুলেছে। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে আমরা আমাদের হাতে থাকা ডিভাইসগুলি আমাদের সরকারী এবং কর্পোরেট কর্মকর্তাদের ক্রিয়াকলাপ নথিভুক্ত করার অনুমতি দেয়, তাই বেসামরিক নাগরিকদের দিনের যে কোনও সময় শক্তিশালী কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করার ক্ষমতা দেয়; নিচ থেকে কর্তৃপক্ষকে দেখার ক্ষমতা।  এমন একটি সমাজের ধারণা যা চতুর্থ এস্টেটে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং আমাদের অ্যাক্সেস এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষমতার প্রতীকগুলিকে জবাবদিহি করার ক্ষমতা রাখে তা ৮০ এর দশকের শো সিওপিএস-এ দেখা যায়। এমন একটি শো যা আমেরিকান পুলিশ অফিসারদের প্রতিদিনের ক্রিয়াকলাপকে প্রকাশ করেছিল কারণ তারা বল প্রয়োগ করে এবং কখনও কখনও নৃশংস কৌশল ব্যবহার করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করেছিল। শোটি বৈপ্লবিক ছিল যে এটি ক্ষমতার এজেন্টদের রেখেছিল যারা তাদের ক্রিয়াকলাপ নিয়ে প্রশ্ন করার জন্য কেউ ছাড়াই অন্ধকারে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করছিল এবং হঠাৎ সাধারণ জনগণের সমালোচনা করার জন্য আলোতে আনা হয়েছিল।

প্রাক্তন সিআইএ কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন অবশ্য দেখিয়েছেন যে কীভাবে কখনও কখনও সবচেয়ে আক্রমণাত্মক নজরদারি ঘটে যখন আমরা জানি না যে এটি ঘটছে বা এমনকি বিদ্যমান রয়েছে। যখন জনগণ অসচেতন থাকায় কাউকে জবাবদিহি করতে হবে না। সেই সময় যখন রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং আইনের ঢিবি যা কেউ পড়ে না, ক্ষমতার এজেন্টদের ব্যক্তিগত ফাইলগুলিতে অ্যাক্সেসের অনুমতি দেয়। এনএসএ হাজার হাজার নিরহংকারী আমেরিকানদের টেলিফোন রেকর্ড সংগ্রহ করছিল। একটি প্রক্রিয়া যা টেলিযোগাযোগ সংস্থা ভেরাইজনকে দৈনিক ভিত্তিতে টেলিফোন ডেটা হস্তান্তর করার জন্য একটি গোপন আদালতের আদেশ দ্বারা সক্ষম হয়েছিল। এনএসএ প্রিজম নামে একটি নজরদারি প্রোগ্রামে প্রতিটি বড় ইন্টারনেট সংস্থার সার্ভারে ট্যাপ করতে সক্ষম হয়েছিল। 'প্রিজম' কর্মসূচি থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্যও ব্রিটেনের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছিল। এডওয়ার্ড স্নোডেন, যিনি এই তথ্য ফাঁসের জন্য দায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারী সম্পত্তি চুরির জন্য অভিযুক্ত হয়েছিলেন এবং নির্বাসনে রয়েছেন এবং তবুও তিনি যা করেছেন তা হল ক্ষমতাকে জবাবদিহি করা। [৯]

এডওয়ার্ড স্নোডেন এবং উইকিলিকসের মতো সংস্থা গণ নজরদারির ব্যাপকতার চিত্র তুলে ধরেছে। স্নোডেনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে ইকুয়েডর দূতাবাসে পালিয়ে যেতে হয়েছিল যাতে তিনি দাবি করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অস্বাভাবিক উপস্থাপনার প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করা যায়। অ্যাক্সেসযোগ্যতার দিক থেকে অনলাইনে সংগঠিত করা অনেক সহজ হতে পারে, তবে জনসাধারণ যদি অবিচ্ছিন্ন নজরদারির অধীনে থাকে তবে তর্ক করা কঠিন হয়ে পড়ে যে তারা তাদের ডিভাইস দ্বারা সত্যই ক্ষমতায়িত, যদি এগুলি তাদের গোপনীয়তার এই জাতীয় আক্রমণকে অনুমতি দেয়।

প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল একটি সমাজে ক্ষমতাসীনরা কীভাবে নজরদারি বৈশিষ্ট্যগুলির অপব্যবহার করতে পারে তার আরেকটি উদাহরণ বিশ্বের ফোন হ্যাকিং কেলেঙ্কারি। গল্পটি ২০০৬ সালে শুরু হয়েছিল যখন তৎকালীন নিউজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড রাজকীয় সম্পাদক ক্লাইভ গুডম্যান এবং একজন বেসরকারী তদন্তকারী গ্লেন মুলকায়ারকে রাজকীয় সহযোগীদের জন্য রেখে যাওয়া ভয়েসমেইল বার্তাগুলিতে বাধা দেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এবং ফলস্বরূপ তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয় এবং আরও হ্যাকিংয়ের গল্প সামনে আসে। তবে এই কেলেঙ্কারির জটিল রাজনৈতিক মুহূর্ত আসে যখন গার্ডিয়ান পত্রিকা জানায় যে সংবাদপত্রটি খুন হওয়া স্কুলছাত্রী মিলি ডাউলারের মোবাইল ফোন হ্যাক করেছে। অভিযোগ, টার্গেটদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, সেলিব্রিটি, অভিনেতা, ক্রীড়াবিদ, মৃত ব্রিটিশ সৈন্যদের আত্মীয় এবং লন্ডন বোমা হামলায় আটকে পড়া লোকজন রয়েছেন।

নেটওয়ার্কযুক্ত সংস্কৃতির সাথে একটি সমাজে, অবস্তুগততা সবচেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, যেহেতু সমস্ত তথ্য ডিজিটাল আকারে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া ইন্টারনেটের কারণে সময় ও স্থানের দূরত্বও দূর হয়ে যায়। আরও কি, সমতা নেটওয়ার্কযুক্ত সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যেহেতু সমস্ত নাগরিক অনলাইনে তাদের মতামত পড়তে এবং পোস্ট করতে পারে। ক্ষমতার রাজনীতির জন্য, ইন্টারনেটের উপরে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি জনসাধারণের কাছ থেকে সর্বাধিক পরিমাণে সমর্থন অর্জনের জন্য সময়মতো রাজনৈতিক তথ্য প্রেরণ করতে সহায়তা করতে পারে। নেটওয়ার্কযুক্ত সংবাদপত্র, সম্প্রচার, টেলিভিশন ইত্যাদি জনসাধারণকে প্রচুর পরিমাণে তথ্য সরবরাহ করতে পারে, যাতে জনমতের জন্য সঠিক অভিযোজন আকার দেওয়া যায়। গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের মতো দেশে, এটি অনলাইনে ব্যাপক সেন্সরশিপের দিকে পরিচালিত করেছে। চীনের গ্রেট ফায়ারওয়াল[ এর অর্থ হ'ল ইন্টারনেট কেবল সরকার অনুমোদিত সামগ্রী অ্যাক্সেস করে এবং অনুসন্ধানগুলি নির্দিষ্ট শব্দের জন্য ফিল্টার করা হয় যার ফলে ফৌজদারি অভিযোগ এবং কারাদণ্ড হতে পারে। শিল্পী এবং সমালোচক পিআরসি আই ওয়েইওয়েই চীনের মতো আচরণের জন্য এনএসএর নজরদারি কর্মসূচির সমালোচনা করেছেন এবং সরকারী নজরদারিতে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার আহ্বান জানিয়েছেন।

নৈতিক উদ্বেগ

[সম্পাদনা]

নজরদারি কখনই বিষয়টির গোপনীয়তার যুক্তিসঙ্গত প্রত্যাশায় অনুপ্রবেশ করা উচিত নয়। যদিও বেসরকারী সুরক্ষা এবং নজরদারি অপারেটিভরা অনুসন্ধান এবং জব্দ সুরক্ষার বিষয়ে প্রাথমিক উদ্বেগের সাথে পুলিশ অফিসার নয়, যদি অযৌক্তিক উপায়ে কোনও বিষয়ের অধিকার লঙ্ঘন হয় তবে সম্ভবত নাগরিক দায়বদ্ধতা থাকবে।

এটি একটি পরিচিত সত্য যে উদাহরণস্বরূপ ডিজিটাল ডিভাইস, সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলি ব্যবহার করার সময় - এমন একটি ব্যবহার যা দৈনন্দিন ভিত্তিতে বৃহদায়তন হতে থাকে - লোকেরা শর্তাদি এবং শর্তাদি না পড়েই সম্মত হয়। অ্যাপ্লিকেশনগুলি তখন কেবল ব্যবহারকারীদের উপর উল্লেখযোগ্যভাবে আকারের ডেটা ব্যাংক সংগ্রহ করে না, তবে প্রতিষ্ঠানগুলি (সরকারের মতো) নিজেরাই প্রোফাইল এবং কথোপকথন (ব্যবহারকারীদের মধ্যে তথ্য বিনিময়) থেকে ব্যক্তিগত ডেটা অ্যাক্সেস করে, সুরক্ষার জন্য বলা হয় এমন বিষয়গুলির জন্য এগুলি ফিল্টার করে। এই ঘটনাগুলির উপর সুনির্দিষ্ট তথ্য অর্জন করা কঠিন এবং যদিও, জনগণকে যা জ্ঞান দেওয়া হয় তা থেকে, প্রতিটি সরকার সবকিছু নিবিড়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে না, যখন এটি ঘটে তখন এটি নজরদারির একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এই ধরণের পরিস্থিতিতে, এটি খুব বিতর্কিত যে সম্প্রদায়ের সর্বোত্তম স্বার্থে সুরক্ষার কারণে নজরদারির 'ইতিবাচক' ব্যবহার হতে পারে কিনা, বা এটি গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং জনসংখ্যার উপর নিয়ন্ত্রণের মামলা। সামগ্রিকভাবে ইন্টারনেটের আরও সাধারণ স্তরে উত্থাপিত যুক্তিগুলিও ডিজিটাল শ্রমের একটি ভাল শোষণের সম্ভাবনা রয়েছে। যেখানে কিছু অ্যাপ্লিকেশন এবং পৃষ্ঠাগুলি ব্যবহার করে, উদাহরণস্বরূপ, আমরা ব্যবহারকারীরা নিজের চেয়ে অন্য কাউকে বেশি উপকৃত করছি এবং যেখানে মেকানিক্যাল তুর্কের মতো সিস্টেমে শ্রম অত্যন্ত সস্তা যখন এটি অর্থ প্রদান করে এবং তাই এইচআইটির অনুরোধকারীকে উপকৃত করে। গুগল এবং অ্যামাজনের মতো সিস্টেম / কর্পোরেশনগুলিকে মেগাস্ট্রাকচার, উল্লেখযোগ্য প্রাসঙ্গিকতার সাথে ডেটাব্যাঙ্ক হওয়ার অনুমতি দেয়, যেন একটি ভার্চুয়াল সাম্রাজ্য যা আরও শারীরিক চ্যালেঞ্জ করতে পারে (উদাহরণস্বরূপ তেল কোম্পানি এবং গাড়ি কারখানা)। ডেটাব্যাঙ্কগুলি ব্যবহারকারীর 'সম্মতি' (প্রায়শই অজানা) এর উপর নির্মিত।

যদিও সামগ্রিকভাবে ডিজিটাল বিশ্ব ছায়াময় পরিস্থিতি, লঙ্ঘন, অপব্যবহার এবং নৈতিক উদ্বেগের পরিস্থিতিগুলির উদাহরণ (মাঝে মাঝে ভাল সংবাদের জন্য তৈরি করে) অনুমতি দেয়, এগুলি এমনকি সামাজিক প্ল্যাটফর্মের মতো এটির একটি নমুনা বিভাগ গ্রহণ করতে দেখা যায়। ফেসবুক একটি জনপ্রিয় হওয়ায়, এটি অতীতে উদ্বেগের বিষয় ছিল, উদাহরণস্বরূপ ব্যবহারকারীরা এমনকি পরবর্তী অবধি এটি সম্পর্কে সচেতন না হয়েই "সামাজিক নেটওয়ার্কগুলির মাধ্যমে ব্যাপক আকারের সংবেদনশীল সংক্রামকের পরীক্ষামূলক প্রমাণ" চালাতে সক্ষম হয়েছিল। আবারও ব্যবহারকারীর ভঙ্গুরতা এবং তুলনামূলকভাবে সহজ ম্যানিপুলেশনের অনুমতি দেয় এমন একটি এক্সপোজারকে আন্ডারলাইন করে, এটি এবং এর এক্সটেনশন অ্যাপ্লিকেশনগুলির কাজের মধ্যে নৈতিক সমস্যা রয়েছে।

একটি আকর্ষণীয় কেস স্টাডি হতে পারে ফেসবুকের অ্যাপ্লিকেশন মেসেঞ্জার সম্পর্কিত নৈতিক উদ্বেগ। মেসেঞ্জারের অনেক ব্যবহারকারীই জানেন না যে তারা অ্যাপটি ব্যবহারে সম্মত হওয়ার সময় ঠিক কতগুলি অনুমতি দিয়েছেন। এটিকে গোপনীয়তার সমস্যা হিসাবে বিবেচনা করা উচিত কিনা তা নিয়ে একটি বিতর্ক রয়েছে।

আরও কিছু আশ্চর্যজনক অনুমতিগুলির মধ্যে রয়েছে তবে সীমাবদ্ধ নয়: আপনার পরিচিতিগুলি সংশোধন করা, আপনার পাঠ্য বার্তাগুলি পড়া, পাঠ্য বার্তা প্রেরণ, সরাসরি ফোন নম্বরগুলিতে কল করা, কল লগ পড়া, আপনার ইউএসবি স্টোরেজের সামগ্রী পড়া, ছবি এবং ভিডিও তোলা, অডিও এবং ভিডিও রেকর্ড করা।  এই অনুমতিগুলির মধ্যে কয়েকটি অবাক করা বলে মনে হচ্ছে কারণ এই অ্যাপ্লিকেশনটি মূলত বার্তা এবং ছবি প্রেরণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

এখানে নৈতিক উদ্বেগ হ'ল অনেক ব্যবহারকারী এই অনুমতিগুলি সম্পর্কে অসচেতন এবং এইভাবে একটি ভয় থাকতে পারে যে অ্যাপ্লিকেশন বিকাশকারীরা ডেটা মাইন বা চরম ক্ষেত্রে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য এটির সুবিধা নিতে পারে। এখানে ভবিষ্যতের জন্যও উদ্বেগ রয়েছে, উদাহরণস্বরূপ - "যদি এত লোক ফেসবুক মেসেঞ্জারে প্রযোজ্য অনুমতি গোষ্ঠীগুলি পরীক্ষা না করে থাকে ... ভবিষ্যতে মোবাইল বিকাশকারীরা কতটা সাহসী হবেন?".

ফেসবুক এই নৈতিক আতঙ্কে সাড়া দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, 'বন্ধুকে সেলফি পাঠাতে চাইলে আপনার ফোনের ক্যামেরা অন করে সেই ছবি ধারণ করতে অ্যাপটির অনুমতি নিতে হবে। আপনি যখন অ্যাপটি ব্যবহার করছেন না তখন আমরা আপনার ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন চালু করি না।  যাইহোক, এটি সম্পূর্ণরূপে জল্পনা শেষ করেনি, কারণ প্রতিক্রিয়াটিতে সমস্ত অনুমতির ন্যায্যতার সম্পূর্ণ ভাঙ্গন ছিল না। সম্ভবত ফেসবুককেও এখন 'বিগ ব্রাদার' হিসেবেও দেখা হয় এবং অবিশ্বাসের একটা স্তর আছে।

তবে আস্তে আস্তে মানুষ বুঝতে পেরেছে ফেসবুক কীভাবে এই পারমিশন ব্যবহার করে। পরিচিতিগুলির অনুমতির প্রসঙ্গে, আরেকটি ন্যায্যতা হ'ল "অ্যাপ্লিকেশনটির আপনাকে একটি নিশ্চিতকরণ কোডের মাধ্যমে আপনার ফোন নম্বরটি নিশ্চিত করার অনুমতি দেওয়ার জন্য বার্তাগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার অনুমতি দেওয়া দরকার"।

এটি অ্যাপটি সম্পর্কে কিছু নৈতিক বিতর্ককে বাতিল করতে পারে তবে সত্যটি হ'ল ফেসবুক আপনার কাছে নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনগুলি লক্ষ্য করতে অ্যাপটি ব্যবহার করে, তবে এই ডেটা সংগ্রহের বেশিরভাগই অ্যাপ্লিকেশনটিতে রয়েছে। এটি একটি জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে: আপনার আগ্রহের উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপন পাঠানো গোপনীয়তার লঙ্ঘন হিসাবে বিবেচনা করা উচিত? মোটামুটিভাবে, এই প্রশ্নের উত্তর ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে পরিবর্তিত হয়।

নৈতিক সমস্যা, অবহিত সম্মতির নীতি এবং অনলাইনে পরিচয়ের প্রকাশ আসলে একটি বিস্তৃত বিষয়ের অংশ এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মোকাবেলা করা যেতে পারে, কোনও ব্যক্তির স্ট্যাটাস আপডেট থেকে শুরু করে রাফায়েল কাপুরো এবং ক্রিস্টোফ পিঙ্গেলের কাগজের মতো একাডেমিক প্রকাশনা পর্যন্ত। মুদ্রণ যুগে সেন্সরশিপ থেকে অনলাইন আস্থা সম্পর্কিত আরও বাস্তব পরিস্থিতি পর্যন্ত, এটি নজরদারি এবং স্বাধীনতার মধ্যে উত্তেজনাকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, যা ডিজিটাল সম্প্রদায়ের সহযোগিতামূলক পরিবেশ এবং পারস্পরিক সমর্থন তৈরিতে মৌলিক নৈতিক চ্যালেঞ্জ গঠন করে।

নজরদারির পক্ষে ও বিপক্ষে

[সম্পাদনা]

সমর্থকরা যুক্তি দেন যে নজরদারি তিনটি উপায়ে অপরাধ হ্রাস করতে পারে: প্রতিরোধ, পর্যবেক্ষণ এবং পুনর্গঠনের মাধ্যমে। নজরদারি ধরা পড়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে এবং মোডাস অপারেন্ডি প্রকাশ করে প্রতিরোধ করতে পারে। এর জন্য ন্যূনতম স্তরের আক্রমণাত্মকতা প্রয়োজন। নজরদারি উন্নত পরিস্থিতিগত সচেতনতার মাধ্যমে বা স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে মানব অপারেটরদের একটি কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে, যেমন ভিডিও বিশ্লেষণ। নজরদারি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের জন্য ফুটেজের প্রাপ্যতার মাধ্যমে কোনও ঘটনার পুনর্গঠন এবং অপরাধ প্রমাণ করতে সহায়তা করতে পারে। নজরদারি সংস্থানগুলি দৃশ্যমান হলে বা নজরদারির পরিণতি অনুভব করা গেলে বিষয়গত সুরক্ষাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

  • সমর্থকরা কেবল বিশ্বাস করে যে এটি সম্পর্কে কিছুই করা যায় না এবং লোকেরা অবশ্যই কোনও গোপনীয়তা না থাকার অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।
  • সাধারণ যুক্তিটি হ'ল: "তর্ক লুকানোর কিছু নেই, যদি আপনি কিছু ভুল না করেন তবে আপনার ভয় পাওয়ার কিছু নেই"।

অন্যদিকে, অনেক নাগরিক অধিকার এবং গোপনীয়তা, যেমন ইলেক্ট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন এবং আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন, উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে নাগরিকদের উপর সরকারী নজরদারিতে ক্রমাগত বৃদ্ধির অনুমতি দিয়ে আমরা অত্যন্ত সীমিত বা অস্তিত্বহীন রাজনৈতিক এবং / অথবা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সহ একটি গণ নজরদারি সমাজে শেষ করব।

  • কিছু সমালোচক বলেছেন যে সমর্থকদের দ্বারা করা দাবিটি পড়ার জন্য সংশোধন করা উচিত: "যতক্ষণ না আমরা যা বলি তা করি, ততক্ষণ আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই"।

যদি এমন যুক্তি থাকে যে আমাদের ডিজিটাল নজরদারি সীমাবদ্ধ করা উচিত, তবে এটি সামাজিক মিডিয়ার মতো প্ল্যাটফর্মগুলির ব্যবহারে কাটছাঁট করতে হবে। তবে "আজকের সোশ্যাল মিডিয়া যদি আমাদের নমুনা হিসাবে আমাদের সম্পর্কে কিছু শিখিয়ে থাকে তবে তা হ'ল ভাগ করে নেওয়ার জন্য মানুষের প্রবণতা গোপনীয়তার জন্য মানুষের প্রবণতাকে ছাড়িয়ে যায়।  এটি তখন পরামর্শ দেবে যে মানুষ গোপনীয়তার চেয়ে ভাগ করে নেওয়ার কাজটিকে মূল্য দেয়, সুতরাং নজরদারির বৃদ্ধি এইভাবে আশ্চর্যজনক নয় কারণ দেখার জন্য আরও কিছু উপলব্ধ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে নজরদারি

[সম্পাদনা]

যুক্তরাজ্যে নজরদারি সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য, দয়া করে যুক্তরাজ্যে গণ নজরদারি দেখুন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অগ্রগামী হওয়ার কারণে যুক্তরাজ্যে ডিজিটাল আকারে নজরদারির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছিল। ১৯৫০ এবং ১৯৬০ সালে বিল্ড গভর্নমেন্ট কমিউনিকেশনস হেডকোয়ার্টার (জিসিএইচকিউ) ছিল যা ইংরেজিভাষী দেশগুলির ফাইভ আইজ সহযোগিতার মতো প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল বৈদ্যুতিন যোগাযোগে বাধা দেওয়া, যা সময়ের সাথে সাথে অনেক বেড়েছে।

আজকাল, যুক্তরাজ্যে ইলেকট্রনিক যোগাযোগের নজরদারি যুক্তরাজ্যের সংসদে প্রণীত আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। বিশেষত, ব্যক্তিগত বার্তাগুলির সামগ্রীতে অ্যাক্সেস (অর্থাৎ, কোনও ইমেল বা টেলিফোন কলের মতো যোগাযোগের বাধা) অবশ্যই সেক্রেটারি অফ স্টেটের স্বাক্ষরিত ওয়ারেন্ট দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে। এছাড়াও, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেটা গোপনীয়তা আইন যুক্তরাজ্যের আইনে প্রযোজ্য। আইনটি বৈদ্যুতিন নজরদারি ব্যবহারের উপর শাসন এবং সুরক্ষার ব্যবস্থা করে।

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে নজরদারি

[সম্পাদনা]
  • জর্জ অরওয়েলের নাইনটিন এইটি-ফোর-এ গোপনীয়তার অভাব পুরো উপন্যাস জুড়ে একটি প্রধান চলমান থিম। অডিও এবং ভিডিও উভয়ই রেকর্ড করে এমন টেলিস্ক্রিনগুলি চরিত্রগুলির অনেকের বাড়িতে, ব্যবসায় এবং সর্বজনীন স্থানে ইনস্টল করা হয় যাতে তাদের উপর ট্যাব রাখা যায়। বেসরকারী নাগরিকদের তাদের প্রতিবেশীদের সম্পর্কে রিপোর্ট করতে উত্সাহিত করা হয় এবং থট পুলিশ 'চিন্তার অপরাধ' উন্মোচনের দায়িত্বে থাকা আন্ডারকভার অফিসার।  উপন্যাসে নজরদারির থিমগুলি 'বিগ ব্রাদার' শব্দগুচ্ছের ব্যবহার এবং একই নামের টেলিভিশন প্রোগ্রাম সহ একটি বিশাল সাংস্কৃতিক প্রভাব ফেলেছে। জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে নজরদারির সাথে যুক্ত একটি নির্দিষ্ট ভয় রয়েছে এবং ১৯৮৪ এটি খুব ভালভাবে চিত্রিত করে - "অবশ্যই কোনও মুহুর্তে আপনাকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল কিনা তা জানার কোনও উপায় ছিল না"  এর থেকে আরও, অরওয়েল সরকারী ক্ষমতার জন্য ক্ষুধা এবং ড্রাইভের সাথে সহাবস্থান নজরদারির ধারণাটিকে সম্বোধন করেছেন। এটি নজরদারির নেতিবাচক প্রভাবগুলি নিয়ন্ত্রণের উপায় হিসাবে ব্যবহৃত হওয়ার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করে, যা আজ আধুনিক সমাজে সিসিটিভি ব্যবহার এবং আজ চালু হওয়া নজরদারির ক্রমবর্ধমান পরিমাণের মাধ্যমে স্পষ্ট। অরওয়েল তার উপন্যাসে বলেছেন, 'ক্ষমতা কোনো মাধ্যম নয়; এটা একটা শেষ। বিপ্লবকে টিকিয়ে রাখার জন্য কেউ একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে না; একনায়কতন্ত্র কায়েম করার জন্য বিপ্লব করে। নিপীড়নের বস্তু হচ্ছে নিপীড়ন। নির্যাতনের বস্তু হচ্ছে নির্যাতন। ক্ষমতার উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্ষমতা"।  এটি প্রমাণ করে যে নজরদারির ব্যবহার সমাজকে নিরাপদ রাখার জন্য নয়, বরং তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য।
  • ৮০ এর দশকে সিওপিএস শোটি হিট হয়েছিল কারণ এটি আমেরিকান পুলিশ অফিসারদের অপরাধীদের উপর আইনকে শক্তিশালী করার জন্য একাধিকবার বল প্রয়োগের নজরদারি ফুটেজ দেখিয়েছিল। শোটি আমেরিকান পুলিশ অফিসারের আপাতদৃষ্টিতে অকলুষিত চিত্রটি উন্মোচন করেছিল।
  • অনেক 'ফ্লাই-অন-দ্য ওয়াল' রিয়েলিটি টিভি শো একটি সেটিংয়ে ক্যামেরা মাউন্ট করার পদ্ধতি নিয়োগ করে এবং তাদের স্বীকার না করেই বিষয়গুলির ক্রিয়াগুলি পর্যবেক্ষণ করে। এটি বিষয়গুলির জ্ঞান দিয়ে করা যেতে পারে, যেমন শোতে আমি একজন সেলিব্রিটি ... গেট মি আউট অফ হিয়ার!, বা ক্যামেরাটি লুকানো যেতে পারে এবং কেবল পরে পাঙ্ক'ডের মতো শোতে দেওয়া যেতে পারে। এই দ্বিতীয় ধরনের জনসাধারণের সদস্যদের ব্যবহার করার ঝোঁক থাকে।
  • ২০১৩ সালের চলচ্চিত্র আন্ডার দ্য স্কিন-এ বেশ কয়েকটি দৃশ্য রয়েছে যেখানে স্কারলেট জোহানসনের চরিত্র, একজন এলিয়েন মানুষকে অপহরণ করার চেষ্টা করে, একটি ভ্যানে অপরিচিতদের তুলে নিয়ে যায়। এই অপরিচিতদের অভিনেতাদের দ্বারা অভিনয় করা হয়নি, তবে জনসাধারণের সদস্যরা জানতেন না যে তারা ফিচার ফিল্মে অংশ নিতে চলেছেন, ভ্যানে একাধিক লুকানো ক্যামেরা দৃশ্যগুলি রেকর্ড করে
  • - গগলবক্স, একটি ইন্টারঅ্যাকশন প্রোগ্রাম যা প্রতিদিনের লোকেরা টিভি দেখছে। দর্শক টিভি দেখতে দেখতে দেখছেন।
  • জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে পাপারাজ্জি একটি পুনরাবৃত্ত বিষয়। এটি নজরদারির একটি আক্রমণাত্মক রূপ যা মূলত সেলিব্রিটিদের হয়রানি করে যখন তারা প্রহরায় ধরা পড়ে তখন তাদের ফটো এবং ভিডিও পেতে হয়। এটি সমস্যাযুক্ত হয়ে ওঠে কারণ এই ধরণের নজরদারি নৈতিক আচরণবিধির বিরুদ্ধে যায়, কারণ এই ধরণের আক্রমণাত্মক অনুশীলনকে সম্মতি দেওয়া হয়নি।
  • ফিলিপ কে ডিকের ছোট গল্প দ্য মাইনরিটি রিপোর্ট এবং পরবর্তী চলচ্চিত্র, ভিডিও গেম এবং ফক্স টেলিভিশন সিরিজটি এমন একটি বিশ্বের চিত্রিত করে যেখানে লোকেরা এখনও করেনি এমন অপরাধের জন্য গ্রেপ্তার হতে পারে। ফিল্ম অভিযোজনে, শহরব্যাপী অপটিক্যাল স্বীকৃতি সিস্টেম এড়াতে নায়ককে অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ চোখের প্রতিস্থাপন শল্য চিকিত্সার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
  • পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশনের চূড়ান্ত মরসুমে, লেসলি একটি ডেটা-মাইনিং টেক সংস্থার সাথে লড়াই করে যা পাওনির নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করছে।

প্রতিনজরদারি

[সম্পাদনা]

সংজ্ঞা

[সম্পাদনা]

প্রতিনজরদারি অর্থ "নিচ থেকে দেখা এবং এর ব্যুৎপত্তিটি 'সুর' (ওভার) কে 'সস' দিয়ে প্রতিস্থাপন করা থেকে উদ্ভূত হয়, যার অর্থ 'অধীন' বা 'নিচে' বা 'নিচ থেকে'।  সুতরাং শব্দটি নিজেই পরামর্শ দেয় যে প্রতিনজরদারি নজরদারির বিপরীত এবং দেখার কাজটি উভয়ের মধ্যে একমাত্র ধ্রুবক।

স্যুসভিল্যান্স হ'ল ক্রিয়াকলাপে অংশগ্রহণকারী দ্বারা কোনও ক্রিয়াকলাপের রেকর্ডিং, সাধারণত ছোট পরিধানযোগ্য বা বহনযোগ্য ব্যক্তিগত প্রযুক্তির মাধ্যমে। প্রতিনজরদারিকে ক্যামেরা (বা অন্যান্য সেন্সর) হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যা মানুষ বহন করে।  সুসভিলেন্স হ'ল বহুবচনের পর্দা (অর্থাত্ "ভিড় পর্দা" বা অ-কর্তৃপক্ষ দ্বারা করা, পর্যবেক্ষণ, অনুধাবন করা বা অনুরূপ)।

আপনার অভিধান প্রতিনজরদারিকে "দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপ চলাকালীন কোনও ব্যক্তির সুবিধাজনক পয়েন্ট থেকে পরিবেশের রেকর্ডিং" হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে।

দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনজরদারি ব্যবহারের একটি উদাহরণ - যা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মধ্যে জনপ্রিয় - যেখানে কোনও ব্যক্তি আইন ভঙ্গকারী উচ্চতর কর্তৃপক্ষের ছবি বা রেকর্ডিং তোলেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন পুলিশ অফিসার পুরোপুরি ইউনিফর্ম পরিহিত কিন্তু গাড়ি চালানোর সময় তাদের ফোন ব্যবহার করছেন বা আদালতের বিচারক ডাবল হলুদ লাইনে পার্কিং করছেন। এগুলি কেবল ছোটখাটো উদাহরণ হতে পারে তবে আপনি যখন এই লাইনগুলির সাথে কিছু দেখেন তখন এটি আসলে প্রতিনজরদারি ব্যবহার করছে।

স্টিভ মান

[সম্পাদনা]

সাসভিল্যান্সের ক্ষেত্রে একটি মূল ব্যক্তিত্ব হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এর শব্দটি তৈরি করেছিলেন স্টিভ মান, টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক। বিশ্বের প্রথম সাইবর্গ বলে দাবি করা তাঁর দ্বারা কয়েক বছর ধরে বাস্তব জীবনে সাসভিলেন্সের অনুশীলন কার্যকর করা হয়েছে। মান গত ৩৫ বছর ধরে তার মাথায় একটি কম্পিউটার সংযুক্ত করে বসবাস করছেন যা তার জীবনকে সাসভিল্যান্স অনুশীলনের একটি প্রমাণ করে তুলেছে। স্টিভ মান একজন সমাজ সংস্কারবাদী হওয়ার আশা করেন যিনি অন্যদের পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির ব্যবহার গ্রহণে প্ররোচিত করবেন। তার জীবদ্দশায় মান রাস্তায় বিজ্ঞাপন ব্যানার ফিল্টার করতে তার আইট্যাপ ব্যবহার করে আসছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে লোকেরা কী দেখতে পাবে তা বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত এবং আজকের সমাজগুলি প্রলুব্ধকর শব্দ এবং চিত্রাবলী দ্বারা বোমাবর্ষণ করা হয় যা তাদের অনিয়ন্ত্রিতভাবে পণ্য ও পরিষেবাদি ক্রয় করতে বাধ্য করে।

প্রতিনজরদারির মূল ধারণা

[সম্পাদনা]

মান সাসভিল্যান্সের দুটি প্রধান সংজ্ঞা সরবরাহ করে, যা প্রায় সমতুল্য, তবে প্রতিটি সাসভিল্যান্সের কিছুটা আলাদা দিক ক্যাপচার করে:

  1. বিপরীত নজরদারি: নিচ থেকে দেখতে;
  2. ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ক্যাপচার: কার্যকলাপে অংশগ্রহণকারী দ্বারা একটি কার্যকলাপ রেকর্ডিং। অডিও সাসভিল্যান্সের জন্য ইতিমধ্যে একটি নির্দিষ্ট আইনী নজির রয়েছে, উদাঃ টেলিফোন কথোপকথনের "একপক্ষ" রেকর্ডিং কথোপকথনের পক্ষ নয় এমন ব্যক্তির দ্বারা রেকর্ডিংয়ের চেয়ে বেশি আইনী সুরক্ষা উপভোগ করে। বেশিরভাগ রাজ্যে, অডিও নজরদারি অবৈধ, তবে অডিও সোভিলেন্স বৈধ।

স্টিভ ম্যানের মতে, দুটি ধরণের সাসভিলেন্স রয়েছে: ইনব্যান্ড সাসভিল্যান্স (উদাঃ সংস্থার মধ্যে থেকে উদ্ভূত) এবং আউট-অফ-ব্যান্ড সাসভিল্যান্স (প্রায়শই সংস্থার দ্বারা অবাঞ্ছিত)।

ইনব্যান্ড সাসভিল্যান্স ("সাবভিল্যান্স") এর উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • ট্রাকের পিছনে ১-৮০০ নম্বর যাতে অন্যান্য চালকরা "আমি কীভাবে চালাচ্ছি" রিপোর্ট করতে পারে;
  • একজন অধ্যাপকের তার ছাত্রদের দ্বারা কর্মক্ষমতা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া;
  • ব্যবস্থাপনা দ্বারা ক্রেতাদের দেওয়া সন্তোষজনক প্রশ্নাবলী,

যেখানে "সাবভিল্যান্স" নাশকতামূলক, সংগঠনের অভ্যন্তর থেকে নজরদারির উপর "টেবিলগুলি ঘুরিয়ে দেওয়া" অর্থে, ("নাশকতামূলক" আক্ষরিক অর্থ "নিচ থেকে ঘুরে দাঁড়ানো", কোনও সংস্থার মধ্যে থেকে গোপনে কাজ করা)।

আউট-অফ-ব্যান্ড সাসভিল্যান্সের উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • ট্যাক্সিক্যাব যাত্রীরা ড্রাইভারের (অবৈধ) ড্রাইভিং অভ্যাস নথিভুক্ত করে;
  • গ্রাহকরা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলিতে অনিরাপদ ফায়ার এক্সিটের ছবি তুলছেন এবং কর্তৃপক্ষকে তাদের রিপোর্ট করছেন;
  • নাগরিকরা পুলিশের নির্মমতার ভিডিও ধারণ করছে এবং মিডিয়া প্রতিষ্ঠানে অনুলিপি পাঠাচ্ছে।

ম্যাকডোনাল্ডস অ্যাটাক

[সম্পাদনা]

২০১২ সালের ১ জুলাই পরিবারের সাথে প্যারিসে ছুটি কাটাতে গিয়ে ম্যাকডোনাল্ডসের কর্মচারীদের দ্বারা স্টিভ মান শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। হামলার কারণ ছিল মান রেস্তোরাঁর ভিতরের দৃশ্য এবং মাথায় আইট্যাপ প্রযুক্তি লাগানো মেনুতে ভিডিও করছিলেন। যদিও মানের এখানে কোনও পয়েন্ট প্রমাণ করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না, তবে তার মামলাটি এখন প্রথম সাইবারনেটিক ঘৃণ্য অপরাধ হিসাবে পরিচিত, যা স্পষ্টভাবে দেখায় যে নজরদারি এবং সাসভিল্যান্সের মধ্যে লাইনগুলি অস্পষ্ট হয়ে গেলে কী ঘটে।  নজরদারি ব্যবস্থা দ্বারা চিত্রগ্রহণ করার সময় মানকে ভেন্যুতে প্রবেশ করতে অস্বীকার করা হয়েছিল কারণ তিনি এটি আবার চিত্রগ্রহণ করছিলেন। আক্রমণের ফলাফলে, মানের ছয় বছর বয়সী মেয়ে দুটি পদটির শক্তির গতিশীলতা বর্ণনা করে একটি স্কেচ আঁকেন।

ম্যাকডোনাল্ডসের ঘটনাটি ম্যাকভিল্যান্স নামে একটি নতুন শব্দ তৈরি করেছিল যা মান পরে পর্দা করার কাজের প্রতি সমাজের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ব্যাখ্যা করার জন্য একটি চিত্রে রেখেছিলেন।

তিনটি দল

[সম্পাদনা]

ইতিহাসের মাধ্যমে সমাজগুলি নজরদারির প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়েছে নজরদারি এবং প্রতিনজরদারি (মান এবং ফেরেনবক)।  প্রথম ধরনের রাষ্ট্র জনগণকে একই মাত্রায় রাষ্ট্রের উপর নজরদারি করার অনুমতি দেয়। এই রাজ্যগুলি তাদের জনগণকে রাজনৈতিক আলোচনা এবং সংস্কারকে উত্সাহিত করার জন্য সামাজিক নেটওয়ার্কিং, রাজনৈতিক ফোরাম এবং তথ্য সংক্রমণের মাধ্যমে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার অনুমতি দেয়। উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের বর্তমান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি উপযুক্ত আদর্শিক কাঠামো সরবরাহ করে যেখানে সাসভিল্যান্সের এই জাতীয় শর্তগুলি গ্রহণযোগ্য। যদিও লোকেরা তাদের ইচ্ছামতো কাজ করতে স্বাধীন, এই জাতীয় দেশগুলিতে বিদ্যমান আইনগুলি এমন যা সরকার এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলির অন্তর্গত সংবেদনশীল তথ্য এবং ডেটা রক্ষা করে। অতএব, যখন ব্যক্তিরা এই জাতীয় তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে বা এটি জনসাধারণের কাছে ফাঁস করার চেষ্টা করছে তখন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। চেলসি ম্যানিং এবং এডওয়ার্ড স্নোডেন উভয়ই উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে গোপনীয় তথ্য ফাঁস করেছিলেন। তাদের উদ্ঘাটনের মধ্যে ছিল স্নোডেনের জন্য প্রিজম নজরদারি প্রোগ্রাম এবং ম্যানিংয়ের পক্ষ থেকে কোল্যাটারাল মার্ডার নামে পরিচিত একটি ভিডিও। হুইসেলব্লোয়াররা বিতর্কের একটি গরম বিষয় কারণ তারা সরকার কর্তৃক তাদের উপর অর্পিত প্রযুক্তি এবং শক্তিতে সজ্জিত ব্যক্তি যারা পরিবর্তে তাদের সরঞ্জামগুলি রাষ্ট্রের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত তারা একই সঙ্গে নজরদারি ও সাসভিল্যান্স চালাতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় প্রকারটি হ'ল রাষ্ট্র যা এমন আইন বজায় রাখে যা জনগণকে এমন কোনও আলোচনায় জড়িত হতে বাধা দেয় যা সম্ভবত রাজনৈতিক সংস্কারের সূচনা করতে পারে এবং সামাজিক আন্দোলন শুরু করতে পারে। যদিও রাষ্ট্রের কাছে ক্যামেরা বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে তার নাগরিকদের নিরীক্ষণের বিভিন্ন উপায় রয়েছে, তবে এটি রাজনীতিতে তাদের হস্তক্ষেপকে গুরুত্ব সহকারে নেয় না। এই ধরনের রাজ্যে এটা খুবই স্বাভাবিক যে কর্পোরেশন বা সরকারী দুর্নীতির ঘটনাগুলি উত্তর কোরিয়া, চীন এবং বিশ্বজুড়ে সামরিক একনায়কতন্ত্রের মতো আচ্ছাদিত হচ্ছে।

তৃতীয় ক্যাটাগরিতে রয়েছে এমন রাজ্যে যেখানে রাষ্ট্রের তদারকির তুলনায় মানুষের আন্ডারসাইট কর্তৃত্ব বেশি। এক্ষেত্রে নাগরিক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং সাংবাদিকরা পুলিশ ও সরকারী সংস্থাগুলির পাশাপাশি দুর্নীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তাদের জ্ঞান সরবরাহ করে। এছাড়াও আইন পাস এবং নির্বাচনের জন্য ভোট দেওয়ার জন্য ই-ভোট সিস্টেমের মাধ্যমে ভোটদান প্রক্রিয়ায় ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ রয়েছে। একইভাবে, অ্যামাজন এবং ইবেয়ের মতো খ্যাতি সিস্টেমের বিকাশ ব্যবহারকারীদের ভবিষ্যতের ক্রেতাদের জন্য পণ্য ও পরিষেবাদির রেট দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে, এক ধরণের গ্রাহক সাসভিল্যান্স সিস্টেম তৈরি করেছে। যদিও এটি ন্যায্য বাণিজ্যকে উত্সাহ দেয় এবং অনলাইন বাজারে গণতান্ত্রিক শর্ত প্রতিষ্ঠা করে, এটি কখনও কখনও বাকপটুতা এবং পেশাদারিত্বের ব্যয়েও কাজ করে। যেহেতু এই সাইটগুলি সমস্ত ধরণের ব্যবহারকারীদের তাদের কেনা কোনও পরিষেবা বা পণ্য থেকে তাদের রেটিং / পর্যালোচনা পোস্ট করার জন্য আমন্ত্রণ জানায়, তাই তাদের কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে কোনও বিশেষ দক্ষতা বা দক্ষতার প্রয়োজন হয় না (রাইনগোল্ড)।

পারফরম্যান্সগুলি দেখায় যে কীভাবে নির্দিষ্ট ধরণের নিয়ম লঙ্ঘন ইচ্ছাকৃতভাবে একটি নতুন ধরণের ভারসাম্য তৈরি করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তারা পাবলিক প্লেসে নজরদারির কাজ হিসাবে ভিডিও করার জনসাধারণের গ্রহণযোগ্যতা দেখায়। যখন এই ধরনের তথ্য সংগ্রহ সাধারণ মানুষ, যেমন পারফর্মারদের দ্বারা অন্যান্য সাধারণ মানুষের কাছে করা হয়, তখন এটি প্রায়শই গৃহীত হয়। যাইহোক, যখন ডেটা প্রজেক্টরগুলি নজরদারি কর্মকর্তাদের তাদের সম্পর্কে যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তা দেখায়, সেখানে রয়েছে গ্রহণযোগ্যতা কম। নজরদারির জন্য দায়বদ্ধ সাংগঠনিক কর্মীরা সাধারণত "সাধারণ মানুষ" পারফর্মারদের কাছ থেকে সাসভিলেন্স গ্রহণ করেন না, এমনকি যখন ডেটা প্রদর্শনগুলি প্রকাশ করে যে প্রতিনজরদারিকারীরা কী রেকর্ড করছে।

স্ব-ক্ষমতায়নের সামাজিক দিকটি পরামর্শ দেয় যে সুভিল্যান্স হ'ল মুক্তির কাজ, আমাদের জনসাধারণের অঞ্চল দখল করা এবং নজরদারি খেলার ক্ষেত্রের সমতলকরণ। তবুও, সাসভিল্যান্স এখন যে সর্বব্যাপী সামগ্রিক নজরদারি দেয় তা ব্যক্তির পক্ষ থেকে সম্মতির চূড়ান্ত কাজ। সার্বজনীন নজরদারি / সাসভিল্যান্স শেষ পর্যন্ত কেবল বিদ্যমান প্রভাবশালী ক্ষমতা কাঠামোর লক্ষ্যগুলি পরিবেশন করতে পারে। সার্বজনীন সুর / সাসভিলেন্স পর্যবেক্ষণ এবং সর্বব্যাপী তথ্য সংগ্রহের বিস্তৃত অ্যাক্সেসযোগ্যতা বাড়িয়ে শক্তি কাঠামোকে সমর্থন করতে পারে।  অথবা উইলিয়াম গিবসন যেমন ফিচার-দৈর্ঘ্যের মোশন পিকচার ফিল্মে মন্তব্য করেছেন সাইবারম্যান (http://wearcam.org/cyberman.htm) "আপনি নজরদারি করছেন। আর সবাই নজরদারির ওপর নজরদারি চালালে নজরদারি নিষ্ক্রিয় হয়ে যেত। এটা অপ্রয়োজনীয় হবে।

এই প্যানোপটিকন, সূক্ষ্মভাবে সাজানো যাতে একজন পর্যবেক্ষক এক নজরে অনেক ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, এছাড়াও প্রত্যেককে আসতে এবং যে কোনও পর্যবেক্ষককে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম করে। দেখার যন্ত্রটি একসময় এক ধরণের অন্ধকার ঘর ছিল যার মধ্যে ব্যক্তি গুপ্তচরবৃত্তি করেছে; এটি একটি স্বচ্ছ বিল্ডিং হয়ে উঠেছে যার মধ্যে ক্ষমতার প্রয়োগ সামগ্রিকভাবে সমাজের তত্ত্বাবধানে হতে পারে।

মিশেল ফুকো, ডিসিপ্লিন অ্যান্ড পানিশ, ডিসিপ্লিন, পৃ.

এ ধরনের সমাজে তাত্ত্বিকভাবে সবার কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণযোগ্য ও জবাবদিহিতামূলক হতে পারে। বিষয়টি অবশ্য কোন পরিস্থিতিতে কতটা নজরদারি এবং সুনজরদারি উপস্থিত রয়েছে তা নিয়ে নয়, তবে এটি কীভাবে নজরদারির ক্ষমতাহীন প্রকৃতি, পশ্চিমা সমাজে এর অপ্রতিরোধ্য উপস্থিতি এবং এই উপস্থিতির প্রতি সমস্ত অংশগ্রহণকারীদের আত্মতুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।

সমসাময়িক নেটওয়ার্কযুক্ত সমাজগুলিতে, ব্যক্তিরা একক সম্প্রদায় বা ওয়ার্কগ্রুপে এম্বেড হওয়ার পরিবর্তে একাধিক, আংশিক সম্প্রদায় এবং কাজের দলগুলির মধ্যে স্যুইচ করে। তবুও, নজরদারি হ'ল বৃহত শ্রেণিবদ্ধ সংস্থাগুলির শিল্প ও শিল্পোত্তর যুগের একটি প্রকাশ যা সামাজিক নিয়ন্ত্রণের নব্য-প্যানোপটিকনগুলিতে দক্ষতার সাথে প্রযুক্তি নিয়োগ করে। কিন্তু নেটওয়ার্ক সমাজে, মানুষ সম্ভাবনা বেশি সুভিল্যান্স এবং কোভিল্যান্স চাই, কারণ তাদের গ্রাম / সম্প্রদায় বা শ্রেণিবদ্ধ সংস্থার সুরক্ষার অভাব রয়েছে। নতুন উদ্ভাবিত প্রযুক্তি তাদের নজরদারিকারীদের নজরদারি করার অনুমতি দেয়। সমস্ত লোককে একই সাথে মাস্টার এবং দৃষ্টির বিষয় হওয়ার সামর্থ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে, পরিধানযোগ্য কম্পিউটিং ডিভাইসগুলি নজরদারির সাধারণত একতরফা সংলাপে একটি নতুন কণ্ঠস্বর সরবরাহ করে। তারা তাদের একাধিক এবং জটিল নেটওয়ার্কগুলি অতিক্রম করার সাথে সাথে মানুষের জন্য একটি স্ব-ক্ষমতায়নের দিকে একটি উপায় প্রস্তাব করে।

প্রতিনজরদারির রাজনীতি

[সম্পাদনা]

প্রতিনজরদারি বা Sousveillance নিচ থেকে দেখার একটি প্রক্রিয়া বর্ণনা করে। এর অর্থ দৃষ্টির বিষয়টির পর্যবেক্ষকের চেয়ে বেশি শক্তি রয়েছে। নানা উপায় ও প্রযুক্তির সাহায্যে মানব ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে বিদ্রোহ ও সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়েছে।

ফরাসি বিপ্লব

[সম্পাদনা]

১৭৮৯ সালের ৫ মে ফ্রান্সে এস্টেটস-জেনারেলকে ডাকা হয়। বুর্জোয়াদের প্রতিনিধিত্বকারী তৃতীয় এস্টেটের প্রতিনিধিরা পাদ্রী এবং অভিজাতদের চেয়ে সংখ্যায় বেশি ছিলেন, তবুও তাদের মাথা দিয়ে ভোট দেওয়া হয়নি। তারা তৎক্ষণাৎ মণ্ডলী ত্যাগ করে এবং তাদের চারপাশে পাদ্রী, অভিজাত এবং কৃষকদের জড়ো করে পৃথকভাবে সভা শুরু করে। এই সমস্ত বিখ্যাত টেনিস কোর্টের শপথের দিকে পরিচালিত করেছিল যেখানে স্ব-প্রশংসিত জাতীয় পরিষদের সদস্যরা ফ্রান্সের নিজস্ব সংবিধান না হওয়া পর্যন্ত কখনও ভেঙে না দেওয়ার শপথ নিয়েছিলেন। ফরাসি বিপ্লবের সাথে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে সভাগুলি বাস্তিল আক্রমণের দিকে পরিচালিত করে।

ফরাসি বিপ্লব আমাদের দেখায় যে অন্যদের তুলনায় কম ক্ষমতার অধিকারী একদল লোক রাজা ষোড়শ লুইয়ের উৎখাত এবং সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার বিলুপ্তির মাধ্যমে রাজনৈতিক সংস্কার ও গণতন্ত্রীকরণের পথ সংগঠিত ও প্রশস্ত করতে সক্ষম হয়েছিল। ফরাসি বিপ্লবের খবর সংবাদপত্র এবং নিয়মিত মেইল চিঠিপত্রের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তবে এটি অনুমান করা নিরাপদ যে সেই সময়ের সমস্ত পতনশীল সাম্রাজ্য (উদাঃ অটোমান সাম্রাজ্য) যদি সম্ভব হয় তবে সংবাদের প্রভাবকে ছবির মাধ্যমে জোর দেওয়া হলে আরও ভালভাবে প্রস্তুত হত। আধুনিক মোবাইল কম্পিউটিং, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এবং দ্রুত ইন্টারনেট গতির সাথে আজ খবর আমাদের পর্দায় তাত্ক্ষণিকভাবে উপস্থিত হয়।

উইকিলিকসের ফাঁস ও আরব বসন্ত

[সম্পাদনা]

২০১০ সালে উইকিলিকসের ওয়েবসাইট থেকে মার্কিন কূটনৈতিক নথি প্রকাশের বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যে সামাজিক আন্দোলনকে উৎসাহিত করার সময় জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিশেষত, উইকিলিকসের কাজকে প্রায়শই তিউনিশিয়ার বিপ্লবের ঘটনাগুলির মূল কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। সেই সময়ে বিপুল সংখ্যক আন্তর্জাতিক অধিকার গোষ্ঠী, সক্রিয় কর্মী এবং সাংবাদিক তিউনিশিয়ার রাস্তায় নেমে আসে এবং টুইটার এবং ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ড সংগঠিত করে। তারা প্রত্যেকেই বিক্ষোভের উপাদান পোস্ট করে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং ২০১০ সালে তিউনিশিয়া তার রাষ্ট্রপতি জিনে এল আবিদিন বেন আলীকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। এই ঘটনাগুলি শীঘ্রই প্রতিবেশী দেশ মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন এবং অন্যান্যদের দখল করে নিয়েছিল আরব বসন্তের বিখ্যাত বিপ্লবী তরঙ্গ গঠন করতে।

মেক্সিকোতে জাপাতিস্তাস আন্দোলন

[সম্পাদনা]

মেক্সিকোতে জাপাতিস্তা আন্দোলনের বিস্ফোরণ থেকে ইডিটি নামে একদল কর্মী এবং শিল্পী বিদ্রোহীদের প্রতি বহুজাতিক সমর্থনের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন। এই আন্দোলন রক্ষার জন্য ইডিটি ফ্লাডনেট প্রোগ্রাম তৈরি করেছে যার লক্ষ্য ছিল মেক্সিকান এবং মার্কিন সরকার এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটগুলির ওয়েব সার্ভারকে অপ্রতিরোধ্য করা।

নাগরিক সাংবাদিকতা

[সম্পাদনা]

সিটিজেন জার্নালিজমও প্রতিনজরদারির জন্য একটি কার্যকর পদ্ধতি। এর উৎপত্তি ১৯৯০ এর দশকে আমেরিকাতে ফিরে যেতে পারে। এটি সাধারণ জনগণকে এমন তথ্য পোস্ট করে যা তারা মনে করে যে পেশাদার সাংবাদিকদের খোলাখুলিভাবে কথা বলা উচিত। নাগরিকরা যেভাবে তাদের যোগাযোগ সরঞ্জামগুলির মাধ্যমে সংবাদ এবং তথ্য লিখেন, বিশ্লেষণ করেন এবং প্রেরণ করেন তার মাধ্যমে এটি স্বীকৃত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোনের ব্যবহার, ব্যক্তিগত ব্লগ এবং ঘরোয়া পরিবেশে চিত্রগ্রহণ করা। তাদের প্রকাশিত সংবাদ ও তথ্য নাগরিক সাংবাদিকতা। এই সুভিল্যান্স পদ্ধতির মাধ্যমে শুধু পেশাদার সাংবাদিকদের কাজই নয়, সরকারের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডও জনগণ মনিটরিং করতে পারবে।

নাগরিক এবং পেশাদার সাংবাদিকতার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে এমন আরেকটি মূল উপাদান হ'ল জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া ব্যবহার। নাগরিক সাংবাদিকরা তাদের শ্রোতাদের অন্তর্ভুক্ত করার সাথে সাথে তর্ক করা ক্রমশ সহজ হয়ে উঠছে। এটি প্রায়শই অনলাইন ব্লগিংয়ের মাধ্যমে দেখানো হয় যা "ব্যবহারকারীদের" তাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা এবং ধারণা যুক্ত করতে দেয়।  এটি নাগরিকদের পেশাদারদের চেয়ে বৃহত্তর এবং অনেক জোরালো কণ্ঠস্বর দেয় কারণ এটি বিষয়গুলিতে তাদের সত্যিকারের আগ্রহ দেখায়।

নাগরিক সাংবাদিকতার উত্থান সম্পর্কে প্রশংসা করার মতো অনেক কিছুই রয়েছে, কারণ সাধারণ মানুষ প্রায়শই বড় ঘটনাগুলির মধ্যে থাকে। দুর্যোগ বা ঘটনার শুরুতে একজন সংবাদ প্রতিবেদক খুব কমই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হবেন, তবে নিয়মিত নাগরিকরা এখন এই ইভেন্টগুলি সরাসরি স্ট্রিম করতে বা কয়েক মিনিটের মধ্যে ইউটিউবে পোস্ট করার ক্ষমতা রাখে। নাগরিক সাংবাদিকতাকে প্রায়শই দ্বিতীয় স্তরের প্রতিবেদন হিসাবে উপেক্ষা করা হয়, অনেকে উদ্বিগ্ন যে অনেক নাগরিক সাংবাদিক মূলত অপেশাদার যারা কেবল টিভি বা প্রেসে যা দেখে তা নকল করে।  তবে নাগরিক সাংবাদিকতা কেবল প্রত্যক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির জন্যই নয়, মিডিয়া এবং সরকারের মধ্যে জোট বা বন্ধন ভেঙে একটি গল্পের পুরো সত্য প্রকাশের জন্যও অপরিহার্য। প্রায়শই সংবাদগুলি এমনভাবে বলা হয় যা ভারসাম্যপূর্ণ নয়, বা সরকারী উদ্যোগের পক্ষে অনুকূলভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হয়। কিছু মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের উপর সরকারের কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকায়, সাধারণ নাগরিকের পদক্ষেপ নেওয়া এবং সাংবাদিকরা যা করতে পারে না তা করা প্রয়োজন। একজন নাগরিক সাংবাদিক খুব কমই পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থানে থাকেন, কারণ তাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না, অথবা তাদের কোম্পানিকে বেতন দেওয়া হচ্ছে না বা এমনকি সত্যকে বিকৃত করার জন্য উচ্চতর কর্তৃপক্ষ দ্বারা হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সিটিজেন জার্নালিজম হ'ল সাসভিলেন্সের একটি কাঁচা রূপ কারণ এটি সত্যের উপর বিধিনিষেধ বহনকারী সরকারের প্রতি আনুগত্য রাখে না। নাগরিক সাংবাদিকতা চাকরি হারানোর ভয় ছাড়াই জনসাধারণের কাছে সত্য প্রকাশ করতে পারে, তবে এটি পেশাদার এবং জনসাধারণের কাছ থেকে একইভাবে অবিশ্বাসের একটি স্তরের সাথে আসে।

ফার্গুসন, মিসৌরিতে নাগরিক সাংবাদিকতা

[সম্পাদনা]

আগস্ট ৯, ২০১৪ এ, মাইকেল ব্রাউন (সাদা পুলিশ অফিসার ড্যারেন উইলসনের হাতে) মৃত্যুর পর মিসৌরির ফার্গুসন শহরটি বিশৃঙ্খলার রাজ্যে প্রবেশ করেছিল যাকে অনেকে "ফার্গুসন অস্থিরতা" বলে অভিহিত করে।  বিক্ষোভের সহিংস প্রকৃতি এবং পুলিশ বাহিনীর সামরিকীকরণের কারণে সৃষ্ট নাগরিক অস্থিরতার কারণে, ফার্গুসনের বেশ কয়েকজন স্থানীয় তাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে কী ঘটছে তা প্রতিবেদন করার জন্য অনলাইনে অবস্থান নিয়েছিল। শহরের নাগরিক সাংবাদিকরা টুইটার এবং ফেসবুকের মতো সামাজিক মিডিয়া সাইটে তাদের শহরে কি ঘটছে তার ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে দেয় এবং মাইকেল ব্রাউনের মৃত্যুর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং একই সাথে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর শক্তিশালী সামরিকীকরণের অনুমতি দেওয়ার জন্য মার্কিন সরকারকে জবাবদিহি করার চেষ্টা করে।

নিকটবর্তী সেন্ট লুইস শহরের একজন অল্ডারম্যান অ্যান্টোনিও ফ্রেঞ্চ টুইটারে ভিডিও এবং ছবি শেয়ার করে কয়েকদিন কাটিয়েছেন যা তার ফোনে ধরা পড়া পুলিশি পদক্ষেপের প্রদর্শন করে। পরে পুলিশের কর্মকাণ্ড ভিডিও করার জন্য ফ্রেঞ্চকে গ্রেপ্তার করা হয়। একজন সিটিজেন জার্নালিস্ট কেমন হওয়া উচিত তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে ফরাসি ভাষা কাজ করেছে; একজন বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষী যিনি জনগণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করতে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংবাদ ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছিলেন।  ফরাসি এবং তার মতো অন্যান্যদের ধন্যবাদ, পরবর্তী কয়েক বছরে নাগরিক সাংবাদিকরা বর্ণের লোকদের বিরুদ্ধে পুলিশি বর্বরতার আরও অনেক ঘটনা নথিভুক্ত করবে। টুইটার এবং ফেসবুকে, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার প্রচারাভিযানটি হ্যাশট্যাগ এবং ট্রেন্ডিং বিষয়গুলির জন্য জন্ম নিয়েছিল।

ফার্গুসন নাগরিক সাংবাদিক হওয়ার জন্য মানুষ তাদের পরিস্থিতিকে ব্যবহার করার প্রথম উদাহরণ নয়, বোমা হামলা এবং আক্রমণের সময় সিরিয়া, ইরান, মিশর, প্যালেস্টাইন, অকুপাই ওয়ালস্ট্রিট, প্যারিসের মতো জায়গায় ইন্টারনেট এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে এটি সারা বিশ্বে ঘটে, প্রকৃতপক্ষে টুইটারের মতো সাইটগুলি বেশিরভাগ সাংবাদিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় সরাসরি সংবাদ আপডেটের জন্য ভাল হয়ে উঠছে কারণ যে গতিতে বিষয়বস্তু আপলোড করা যায়।

পঞ্চম এস্টেট হিসাবে নাগরিক সাংবাদিকতা

[সম্পাদনা]

১৭৮৭ সালের সংসদীয় বিতর্কে এমপি এডমন্ড বার্ক বলেছিলেন, "সংসদে তিনটি এস্টেট রয়েছে তবে রিপোর্টার্স গ্যালারিতে একটি চতুর্থ এস্টেট বসে আছে যা তাদের সকলের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।  এটা কোনো বক্তব্য বা রসাত্মক বক্তব্য নয়, এটি একটি আক্ষরিক সত্য, এই সময়ে আমাদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই বিবৃতিটি বোঝায় যে সাংবাদিকরা সরকারের ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত তিনটি শাখার চতুর্থ প্রতিষ্ঠিত শাখা হতে বোঝানো হয়েছিল। চতুর্থ এস্টেট নতুন সংযোজন হওয়ার দিন চলে গেছে, নাগরিক সাংবাদিকতার উত্থানের কারণে একটি নতুন এস্টেট উত্থিত হয়েছে।

তথাকথিত পঞ্চম এস্টেট সমসাময়িক সমাজের বহিরাগত দৃষ্টিভঙ্গির গোষ্ঠীগুলির একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক রেফারেন্স এবং ব্লগার, সাংবাদিক এবং অ-মূলধারার মিডিয়া আউটলেটগুলির সাথে সবচেয়ে বেশি যুক্ত। এর উদাহরণগুলির মধ্যে উইকি লিকস এবং গুইডো ফক্সের মতো গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধান সমালোচনা

[সম্পাদনা]

অনেকে যুক্তি দেখান যে নাগরিক সাংবাদিকতা অনিয়ন্ত্রিত এবং বিশ্বাস করা যায় না কারণ কোনও সরকারী প্রুফ-রিডিং নেই। এই কারণে যারা বিশ্বাস করে যে সংবাদটি ভারী পক্ষপাতদুষ্টতার সাথে আনা যায় এবং হতে পারে। এর সাথে যে বস্তুনিষ্ঠতার অভাব আসতে পারে তার পাশাপাশি, লেখকের উপর নির্ভর করে লেখাটিকেও নিম্নমানের বা অপেশাদার হিসাবে বিচার করা যেতে পারে।  অধিকন্তু, নাগরিক সাংবাদিকদের কাছে তাদের প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পেশাদার সরঞ্জাম না থাকায় বিশ্বাসযোগ্যতা প্রায়শই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।  এটি পরামর্শ দেয় যে এই ধরণের সাসভিলেন্সের পক্ষে নয় কারণ তাদের মতাদর্শগুলি তাদের তথ্য কতটা বিশ্বাসযোগ্য তা ওভারল্যাপ করতে পারে।  সবশেষে, সিটিজেন জার্নিজমের সংজ্ঞা নিয়ে কি কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যা আছে? সিটিজেন জার্নালিস্ট শব্দটির একটা সমস্যা আছে- সাংবাদিকরাও নাগরিক হতে পারেন।

প্রতিনজরদারি এবং শিল্প

[সম্পাদনা]

যদিও প্রতিনজরদারির শিল্পটি সভিল্যান্ট হওয়ার আসল কাজ, এই বিভাগটি সাসভিল্যান্সের মধ্যে শিল্পের ধারণাটি অন্বেষণ করবে।

শিল্প। সংজ্ঞা অনুসারে এটি একটি দক্ষতার প্রকাশ, সৃজনশীলতার ফলাফল, কল্পনা চাক্ষুষভাবে উত্পাদিত (উদাহরণস্বরূপ একটি পেইন্টিং বা ভাস্কর্য আকারে)। এটি একটি মানুষের শারীরিক সৃষ্টিতে স্থানান্তরিত হওয়ার সারাংশ, সাধারণত জনসাধারণের কাছে অ্যাক্সেসযোগ্য, সাধারণত আবেগকে উস্কে দিতে সক্ষম। ডিজিটাল যুগে, খোলামেলাতা এবং বিষয়বস্তু ভাগ করে নেওয়ার সাথে। সেখানে পিক্সেলগুলি প্রায়শই ম্যানুয়াল কাজকে প্রতিস্থাপন করে, যখন কোনও উদীয়মান বা উচ্চাকাঙ্ক্ষী শিল্পীর পক্ষে কাজটি সেখানে রাখা এবং পরিচিত হওয়া অত্যন্ত সহজ, সেখানে কি রোমান্টিকতার ক্ষতি হয়, শিল্প সৌন্দর্য? জীবন থেকে শুরু করে সবকিছুর মতোই শিল্পও একটি চক্রের মধ্য দিয়ে যায়, একটি বিকাশের মধ্য দিয়ে যায়। এই যুগে তাই ডিজিটালে শিল্পের অভিযোজন আশা করা ভুল নয়, অন্তত আরও সাধারণ স্তরে। প্রকৃতপক্ষে, যদি 'বড়' নামগুলির ধ্রুপদী প্রযোজনাগুলি নতুন প্রবণতাগুলিকে প্রতিহত করতে পারে বা এমনকি আরও ঐতিহ্যবাহী লাইন বজায় রেখে তাদের আকার দিতে পারে, তবে উদীয়মানগুলি সময় এবং জনপ্রিয় চাহিদার সাথে একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ক্রাউডসোর্সের কারণে শিল্প কম ব্যক্তিগত এবং অনন্য কিছুতে পরিণত হবে কিনা এই প্রশ্নটি পদকের অন্য দিকের বিবেচনার দিকে পরিচালিত করে, বিপরীত ঘটনা: সীমানা লঙ্ঘন এবং নতুনের অন্বেষণ। ডিজিটাল প্রসঙ্গ আসলে শিল্পীদের আরও একটি অঞ্চল দেয় যেখানে বেড়ে ওঠা এবং স্বীকৃত হতে হয়।

শিল্পের পেছনে, সৌন্দর্যের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে আগ্রহ, রাজনীতি, নজরদারি। অনানুষ্ঠানিকভাবে তৈরি শব্দ 'আর্টভেইল্যান্স' ১৯৩০ এর দশক থেকে বিদ্যমান শিল্পের বিভাগ যা নজরদারির সাথে সম্পর্কিত, সৃজনশীলতার একটি প্রবাহ উপরের পর্যবেক্ষকের ব্যবহারে রাখা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ছোট, পোর্টেবল ক্যামেরা প্রবর্তনের সাথে সাথে ফটোগ্রাফারদের পক্ষে গোপনে ছবি তোলা সহজ করা হয়েছিল। এই সম্পদের প্রয়োগ আরও আধুনিক সময়ে, বিশেষত ৯/১১ হামলার পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মধ্যে দুর্দান্ত ব্যবহার পেয়েছে। ঝাপসা শেডের একটি পাতলা রেখা শিল্পে নজরদারি এবং সুভিল্যান্স পরিস্থিতিকে বিভক্ত করে যেমন একজন শিল্পী আধিপত্যকারী হয়ে ওঠেন, এটি অগত্যা আশেপাশের লোকদের উপরে উঠছে না, তাই প্রতিনজরদারিে অভিনয় করে। উদাহরণস্বরূপ, এই দ্বিমুখী নজরদারি এবং সাসভিল্যান্স পরিস্থিতি ডিজিটাল চশমা (গুগলের প্রকল্প গ্লাস) এর মতো সরঞ্জাম দিয়ে দেওয়া হয়। যদিও নজরদারির ক্ষেত্রে শিল্পের আরও ব্যবহারিক, কম শৈল্পিক ব্যবহার রয়েছে বলে মনে হচ্ছে, কিছু শিল্পী জনসাধারণের অভিজ্ঞতার জন্য নজরদারি ডেটা আরও ভিজ্যুয়াল কিছুতে রূপান্তর করার উপায় খুঁজে পেয়েছেন। এর একটি ভাল উদাহরণ অন্যদের মধ্যে দু'জন ব্যক্তির কাজে পাওয়া যায়: ওয়াকার ইভান্স এবং ট্রেভর পাগলেন। ওয়াকার ইভান্স, নজরদারি এবং শিল্পকে একত্রিত করার জন্য প্রথম একজন, ১৯৩৮ সালে নিউ ইয়র্ক সিটি সাবওয়ের অজানা যাত্রীদের প্রতিদিনের রুটিন এবং সত্য মুহুর্তগুলি ক্যাপচার করার চেষ্টা করার জন্য ছবি তুলেছিলেন (প্রাকৃতিক, কোনও সেটে নয়)। অজ্ঞাতনামা মানুষের এই গোপন ছবিগুলি শিল্পী তার কোটের নিচে একটি ক্যামেরা লুকিয়ে রেখেছিলেন, চকচকে ক্রোমটি কালো রঙ করেছিলেন এবং বোতামগুলির মধ্যে লেন্সগুলি উঁকি দিয়েছিলেন। আজ ক্যামেরা ব্যবহারের পূর্বাভাস দেওয়ার একটি পদ্ধতি, এমনকি তাদের অজান্তেই মানুষের জীবন রেকর্ড করা। এই পরিস্থিতি থেকে আলাদা, যা সাসভিল্যান্সের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হতে পারে, ট্রেভর পাগলেনের কাজটি নজরদারি এবং শিল্পকে আরও স্পষ্ট উপায়ে একত্রিত করে। তিনি পাবলিক লোকেশন থেকে সামরিক স্থাপনার ছবি এবং স্টিলথ-ড্রোনের ছবি এবং তথ্য সংগ্রহের স্যাটেলাইটের পথ ট্রেস করার জন্য পরিচিত। তাঁর রচনায় আশেপাশের পরিবেশকে অন্বেষণ, বোঝার এবং বর্ণনা করার জন্য সৌন্দর্য, নকশা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের একটি সংমিশ্রণ রয়েছে। বিশেষত আকর্ষণীয়, এমন একটি প্রভাব যা অস্থিতিশীল হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে, ট্রেভর পাগলেন মেট্রো পিকচার্স গ্যালারিতে একটি ভিডিও ইনস্টলেশনের মাধ্যমে দর্শকদের নজরদারির মূল অংশের সামনে রাখে। স্নোডেনের ফাঁস হওয়া এনএসএ নথির আর্কাইভ থেকে চার হাজারেরও বেশি কোড নাম সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে ক্রমবর্ধমান কলামগুলিতে একটি অন্ধকার ঘরে প্রজেক্ট করা হয়েছে।

চ্যালেঞ্জিং সমাজ, শিল্প এবং সাসভিল্যান্সের পরিস্থিতিতে, শিল্প ডিজিটাল বিশ্বে একটি আধুনিক ধারণা নিয়ে বিকশিত হয়েছে: একটি ইউনিয়নে সৃজনশীলতা প্রকাশ করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার যা কখনও কখনও শ্রোতাদের অস্থিতিশীল করার লক্ষ্য রাখে। ভিন্ন হওয়া, আদর্শের বিরুদ্ধে থাকা, প্রত্যাশার বিরুদ্ধে থাকা। প্রতিনজরদারিে শিল্প চরমের সম্ভাবনা খুঁজে পায়, উদাহরণস্বরূপ রেজিন ডিব্যাটির উই-মেক-মানি-নট-আর্টের মতো পৃষ্ঠাগুলির অস্তিত্বের সাথে দেখা যায় যেখানে প্রযুক্তিটি সমালোচনামূলক আলোচনার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হয়, শিল্পী, হ্যাকার, ডিজাইনার, সাধারণ মানুষের মধ্যে ফিউশনের একটি বিন্দু। শিল্প পাঠ্যের মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে, শব্দ চয়নে: এটি ভিতরের তাত্পর্য (বিদ্রূপের ব্যবহার, তাত্পর্যের স্তরগুলি, রসিকতার ভিতরে) বা ফন্টের পছন্দই হোক। এই পৃষ্ঠার মতো, শিল্পকে আরও তথ্যবহুল, সমালোচনামূলক উদ্দেশ্যে প্রায় বিকৃত করা যেতে পারে। অমিতব্যয়িতা অনলাইন বিশ্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, এমন একটি উপাদান যা সম্পর্কে মানুষ সচেতন এবং এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার অনুমতি দেয়। এই প্রসঙ্গে, আরও দু'জন শিল্পীকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে: কেট ডারবিন এবং টিফানি ট্রেন্ডা। প্রতিনজরদারি, যা বিপরীত নজরদারি নামেও পরিচিত, ডিজিটাল বিশ্বে একটি বিস্তৃত প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পায়। সেখানে সাধারণ মানুষ অন্যদের পর্যবেক্ষণ করে। জনসাধারণের কাছে উপলব্ধ সরঞ্জাম এবং স্থান উভয়ের মাধ্যমে, শিল্প সাধারণের মধ্যে বিকশিত হতে পারে, একজন সাধারণ ব্যক্তি থেকে অন্যান্য সাধারণ মানুষের কাছে। শিল্পকে প্রশংসা করার জন্য আড়ম্বরপূর্ণ, জাঁকজমকপূর্ণ, ব্যয়বহুল হতে হবে না এবং এটি বিশেষত বর্তমান সময়ে সত্য। উদাহরণস্বরূপ কেট ডারবিন একজন শিল্পী এবং লেখক যিনি ইনস্টাগ্রামে একটি ভাল জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। সেখানে তিনি পারফর্মেটিভ হওয়ার সময় ডিজিটাল ল্যান্ডস্কেপের সমীক্ষক হতে পারেন। শিল্পী নিজেই তার কাজকে অভিনয় হিসাবে বর্ণনা করেছেন যেখানে শিল্প এবং ব্যক্তিগত জীবন ওভারল্যাপ করে। উদাহরণস্বরূপ, তিনি একটি ডেটিং সাইটে পুরুষদের সাথে কথোপকথনের স্ক্রিনশট পোস্ট করছেন, তার শ্রোতাদের বিনোদনের জন্য কিন্তু একই সময়ে একটি বাস্তব জীবনের পরিস্থিতি উপস্থাপন করতে যা অনেকের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক কথোপকথন পোস্ট করা থেকে, তিনি সমাজের নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করার সময় মানুষের আচরণ এবং সম্পর্কিত করার ক্ষমতার জন্য তথ্য সংগ্রহ এবং উপস্থাপন করছেন, উদাহরণস্বরূপ গোপনীয়তা। দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট জিনিসগুলির মাধ্যমে শ্রোতাদের সাথে একটি সংযোগ রয়েছে যা মানুষের উপর একটি সামাজিক অধ্যয়নের জন্য মাইক্রোকোসম হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। চ্যালেঞ্জের পথে, পারফরম্যান্স শিল্পী টিফানি ট্রেন্ডার কাজও উল্লেখযোগ্য, যদিও তিনি ব্যক্তিগত স্থান এবং এর অনুপ্রবেশের দিকে আরও বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেন। প্রক্সিমিটি সিনেমা ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে করা একটি কাজ যেখানে শিল্পী প্রযুক্তি এবং এর অবচেতন ব্যবহার অন্বেষণ করতে চান। চল্লিশটি ছোট সেল ফোনের স্ক্রিন লাগানো পুরো বডি স্যুট পরা অবস্থায় তিনি লোকদের তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন। 'এগিয়ে যাও', 'এটি নিয়ে চিন্তা করবেন না' এবং 'এটি ঠিক আছে' এর মতো বাক্যাংশগুলি পর্দায় ছিল, যা স্পর্শ করা হলে শিল্পীর দেহের একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে, শিল্পী ডিভাইসগুলির সাথে আমাদের পরিচিতি পরীক্ষা করে তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের পরিচয় উপস্থাপন করে স্বাভাবিক সামাজিক সীমাবদ্ধতাও ধ্বংস করে। নজরদারি-ভিত্তিক যুগকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য পারফরম্যান্স আর্টের একটি উদাহরণ। সেখানে আমরা ব্যবহারকারী হিসাবে আমাদের পরিচয় কতটা উন্মুক্ত তা সম্পর্কে অসচেতন।

ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি থেকে গণবিদ্রোহ, শিল্প জনসাধারণের কাছে তার পথ খুঁজে পায়। নজরদারি হোক বা সাসভিল্যান্সের মাধ্যমেই হোক, চারপাশের পরিবেশ অন্বেষণকারী শিল্পী এবং শিল্পীর নিজেকে অন্বেষণের মধ্যে একটি দৃশ্যমান বাইনারি রয়েছে। মজার বিষয় হল, 'প্রতিনজরদারি' শব্দটি স্টেফান সোনভিলা-ওয়েইস নিজেকে বিশ্বের কাছে দেখানোর প্রক্রিয়ায় আত্ম-নজরদারির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন। চিন্তার এই লাইনে, আভি রোজেন একটি উদাহরণ হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, 'ডিজিটাল স্কিন ২' প্রকল্পের সাথে যেখানে বিভিন্ন প্রকৃতির ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং ডিজিটাল লাইফলগিং একত্রিত হয়।  ডিজিটাল ডাইমেনশনে নিজের উপস্থাপনা এবং বাস্তব জগতে উপস্থাপনের মধ্যেও একটি সমান্তরাল রয়েছে। একটি শিল্প ফর্ম হিসাবে নজরদারি এবং সাসভিল্যান্সের ব্যবহার মানুষকে বিশ্বের মধ্যে রাজনৈতিক বিষয়গুলি অন্বেষণ করার অনুমতি দিয়েছে। ২০০৮ সালে ক্রিস্টি রবার্টসন একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন যা বিভিন্ন শিল্পী এবং তাদের নজরদারি এবং সাসভিল্যান্সের ব্যবহার অন্বেষণ করেছিল। রবার্টসন রাজনৈতিক বিষয়গুলিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য নজরদারি / প্রতিনজরদারিকে একটি শৈল্পিক রূপ হিসাবে ব্যবহারের উদাহরণ টেনেছেন। এই শিল্পীদের মধ্যে একজন ছিলেন ওয়াফা বিলালের গার্হস্থ্য উত্তেজনা (২০০৭)। তার পারফরম্যান্সের মধ্যে নজরদারি মূল বিষয় ছিল না তবে নজরদারি যে শক্তি সম্পর্ক তৈরি করে তা উন্মোচন করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। এই ধারণাগুলি চিত্রিত করতে বিলালের অভিনয় সবচেয়ে কার্যকর ছিল। ২০০৭ সালে ইরাকি-আমেরিকান শিল্পী বিলাল নিজেকে ভিডিও ক্যামেরায় ভরা একটি স্টুডিওতে আটকে রেখেছিলেন, যা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে সরাসরি প্রবাহিত হয়েছিল, যাদের কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত পেইন্টবল বন্দুক দিয়ে বিলালকে গুলি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এর জন্য তার মূল উদ্দেশ্য ছিল গৃহযুদ্ধে ভুগতে থাকা ইরাকি জনগণের দৈনন্দিন জীবনকে তুলে ধরা। তিনি "অংশগ্রহণমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংলাপকে উস্কে দেওয়ার" উদ্দেশ্যে ইন্টারনেট এবং ভয়েরিজমকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন (বিলাল, ২০০৭)। অতএব, নজরদারিকে একটি শিল্প ফর্ম হিসাবেও চিহ্নিত করা যেতে পারে কারণ এই ক্ষেত্রের মধ্যে তাদের পারফরম্যান্সকে কেন্দ্র করে শিল্পীদের বৃদ্ধি ঘটেছে।

শ্রোডিঙ্গারের ক্যাম

[সম্পাদনা]

শৈল্পিক বক্তৃতা এবং দার্শনিক অন্বেষণের আরেকটি দিক ছিল অনিশ্চয়তার পুনঃপ্রতিষ্ঠাবাদ। প্রচুর সংখ্যক ওয়্যারলেস ওয়েবক্যাম শার্ট তৈরি করা হয়েছিল, তবে তাদের মধ্যে কেবল কয়েকটিতে ক্যামেরা ছিল। এরপর সেগুলো এলোমেলো করে ব্যাপকভাবে বিতরণ করা হয়। সত্যি বলতে কিনা জানি না অথবা ক্যামেরা না পরা অনিশ্চয়তার নীতিকে শৈল্পিক চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তদুপরি, উদাহরণস্বরূপ, সাবওয়েতে ফটোগ্রাফি নিষিদ্ধ করার জন্য নিউইয়র্কের প্রস্তাবিত তদন্ত হিসাবে ভূগর্ভস্থ প্রতিনজরদারি বিবেচনা করুন। পাতাল রেলের ফটোগ্রাফগুলির একটি প্রদর্শনী হ'ল অনুসরণ করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

শ্রোডিঙ্গারের ক্যাম নিয়ে হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা: দ্য মেবিক্যামেরা

প্রচুর সংখ্যক ওয়্যারলেস ওয়েবক্যাম শার্ট তৈরি করা হয়েছিল, তবে কেবল কয়েকটিতে ক্যামেরা ছিল। এগুলি এলোমেলো করা হয়েছিল যাতে প্রতিটি পরিধানকারী জানতে না পারে যে তাদের ক্যামেরা রয়েছে কিনা। অনেকগুলি সম্ভাব্য ক্যামেরাগুলির মধ্যে একটির ক্লোজ আপ ছবি যা একটি বিচ্যুতি, বিপরীতমুখী / পুনঃ-ইকশনিজম এবং নজরদারির সাধারণ ভাষা (পাঠ্য) এর ডিকনস্ট্রাকশন দেখায়। অনেক লোক এই জুয়া (উদাঃ ক্যাসিনো, নায়াগ্রা ইত্যাদি) কোনও ঘটনা ছাড়াই পরেছিল। এ থেকে বোঝা যায় যে সম্ভবত রক্ষীরা শার্ট পড়ে না। পরিধানকারীরা জানেন না যে কোন শার্টে পরিধানযোগ্য ওয়্যারলেস ওয়েব ক্যামেরা রয়েছে এবং কোন শার্টে নেই। লেখকের মেবিক্যামেরা ডিজাইন ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে। নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালের চিকিত্সক ডাঃ এস প্যান্টাগিস নিউইয়র্কের কবিদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য এর মধ্যে ২৫ টির প্রাথমিক ব্যাচ তৈরি করেছিলেন, তারপরে আরও বড় উত্পাদন চালানো হয়েছিল। যেমনটি দেখা গেছে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সিকিউরিটি ক্যামেরায়। নিরাপত্তা ক্যামেরা দ্বারা দেখা ক্লোজআপ ভিউ।

সুভিল্যান্স এবং শিল্প? হ্যাঁ, এটি একটি সম্ভাব্য এবং বিদ্যমান সম্পর্ক। সেখানে শিল্পীরা নজরদারিকে চ্যালেঞ্জ জানায় যখন শিল্পকে যেভাবে উপস্থাপন করা যায় তা পুনর্বিবেচনা করে। যদিও কিছু নিবন্ধ (যেমন অভিভাবকের জন্য জোনাথন জোন্সের "ডিজিটাল যুগ কি শিল্পকে মেরে ফেলবে?") ডিজিটাল বিশ্বে শিল্পের ভবিষ্যত সম্পর্কে সন্দেহ উত্থাপন করে, তবে এটি অনস্বীকার্য যে কীভাবে বিশ্বের মধ্যে সহজ সংযোগগুলি উভয় লিঙ্গের বিকাশ এবং প্রকাশের অনুমতি দেয়। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বে শক্তিশালী পুরুষালী উপস্থিতি শিল্পের অনলাইন উত্থানে কম কার্যকর প্রভাব ফেলে। সেখানে নারীর একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর থাকতে পারে, সমতার পরিবেশে যা শারীরিক বিশ্বে নিজেই অনুবাদ করা যেতে পারে, যেমন বৈদ্যুতিন শিল্পের উপর আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামের মতো ঘটনা দ্বারা দেখানো হয়েছে।

নজরদারি এবং প্রতিনজরদারি আইন সম্পর্কে জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া

[সম্পাদনা]

নজরদারি আইন এবং প্রতিনজরদারি সম্পর্কে দুটি বিপরীত জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ নজরদারিকে তাদের গোপনীয়তার অধিকারের লঙ্ঘন হিসাবে বিবেচনা করে এবং সরকারের সিদ্ধান্তগুলি পর্যবেক্ষণের জন্য নজরদারি করা গুরুত্বপূর্ণ, অন্যরা মনে করেন যে অপরাধীদের প্রতিরোধ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নজরদারি ব্যবস্থা প্রয়োজনীয়। তবে বেশিরভাগ নাগরিক সম্মত হন যে আইন বিভাগগুলির সাধারণ নজরদারি গ্রহণযোগ্য, যতক্ষণ না তাদের বিস্তারিত দৈনন্দিন জীবন দিনরাত নজরদারির আওতায় না থাকে।

আমাদের কাছে একটি ক্যামেরা স্ট্র্যাপ করা আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেয় যার ফলে আমরা প্রতিনজরদারিকারী হয়ে উঠি, তবুও ক্যামেরা এখনও সেই সময়ের মধ্যে আমাদের মুখোমুখি হওয়া প্রত্যেককে ক্যাপচার করছে। এর ফলে কি আমরা সার্ভিলারে পরিণত হব না? এরপরে এটি পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে যে সার্ভেইলার হিসাবে প্রতিনিধিত্ব করার ফলে লোকেরা আপনার প্রতি ভিন্নভাবে আচরণ করতে পারে। নজরদারির মুখোমুখি হওয়ার অভিপ্রায় নিয়ে পরিধেয় ডিভাইসের মতো স্যুসভিল্যান্সের ফর্মগুলির তদন্তে একটি উত্সাহ উঠেছে। মান, নোলান এবং ওয়েলম্যান (২০০৩) নজরদারি কৌশলগুলিকে 'প্রহরী দেখার' ফলাফলের সাথে প্রতিনজরদারিে রূপান্তর করার জন্য আশেপাশের (নজরদারিকৃত) পরিবেশের ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সাথে জড়িত গবেষণা চালিয়েছিলেন। এই গবেষণায় দেখা গেছে যে অনেকগুলি কারণ (প্রযুক্তির ধরণ, অবস্থান এবং প্রযুক্তির উপস্থাপনা / উপস্থাপনা সহ) অংশগ্রহণকারীদের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল যা তাদের ক্ষমতায়িত বা দুর্বল বোধ করে।

তদন্তে দেখা গেছে যে লোকেরা যখন রেকর্ডিং করা ডিভাইস এবং রেকর্ড করা ফুটেজ উভয়ই দেখতে পেত তখন তারা সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। রেকর্ডিংয়ের এই ফর্মটি তখন 'কোভেইল্যান্স' নামে পরিচিত একটি নতুন শব্দ তৈরি করে। কোভিল্যান্স নজরদারি বা প্রতিনজরদারি নয় বরং এটি তৈরি হয় যখন লোকেরা একই সাথে ক্যামেরা এবং ক্যামেরা ফুটেজ দেখতে পায়। সংক্ষেপে, কোভিল্যান্স = লোকেরা ভয়েরিজম সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে সচেতন হচ্ছে।

এই তদন্ত থেকে আরেকটি আকর্ষণীয় অনুসন্ধান হ'ল কর্তৃপক্ষ (সুরক্ষা প্রহরী) আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে যখন প্রতিনজরদারিকারী ব্যাখ্যা করবে যে ডিভাইসের উপর তাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। বিপরীতে, যখন এটি স্পষ্ট ছিল যে প্রতিনজরদারিকারীের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে কর্তৃপক্ষ আরও সংঘাতময় হবে। ডেভিড বলিয়ার (২০১৩)[১২] সুরক্ষা থেকে এই প্রতিক্রিয়াটির সম্ভাব্য ব্যাখ্যা সরবরাহ করে। এর জন্য প্রথম সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে শপিং মলগুলির ধারণার কারণে হতে পারে যে অপরাধীদের সুরক্ষা ব্যবস্থায় ফাটল আবিষ্কার করার ক্ষমতা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে যা সম্ভাব্য ডাকাতির কারণ হতে পারে। অধিকন্তু, খুচরা বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন যে বিক্রয় মূল্য এবং খুচরা প্রদর্শনের তুলনা করার জন্য দোকানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুপ্রবেশের সম্ভাবনার কারণে কিছু দোকান ফটোগ্রাফির অনুমতি দেয় না। আরেকটি ব্যাখ্যা এই ধারণার কারণে হতে পারে যে সসভিলেস নজরদারির শক্তি সম্পর্ককে চ্যালেঞ্জ জানায় কারণ এটি মানুষের মধ্যে সমতার বোধ পুনরুদ্ধার করে। অধিকন্তু, এটি বোঝাতে পারে যে প্রতিনজরদারি নজরদারির খেলার ক্ষেত্রকে স্তর দেয় কারণ এটি আর ক্ষমতায় নেই। উইলিয়াম গিবসন পরামর্শ দিয়েছেন যে যদি সবাই প্রতিনজরদারিকারী হয়ে যায় তবে নজরদারি শেষ পর্যন্ত হ্রাস পাবে কারণ এটি আর কোনও উদ্দেশ্য পূরণ করবে না।

নজরদারি এবং সাসভিল্যান্সের প্রভাবগুলি প্রায়শই মুক্তিমূলক, ন্যায্য এবং গণতান্ত্রিক হিসাবে বর্ণনা করা হয়। যাইহোক, যখন বিশ্লেষণাত্মকভাবে দীর্ঘমেয়াদী ম্যাক্রো সমাজতাত্ত্বিক প্রভাবগুলির দিকে অগ্রসর হয়, তখন দৃষ্টিভঙ্গিটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। নাগরিকদের উপর সরকারগুলির নজরদারির সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, প্রধানত সর্বগ্রাসী শাসনব্যবস্থায় চিত্রিত, ইতিহাস জুড়ে ভয়ের অনুভূতির ফলস্বরূপ। জেরেমি বেন্থামের (১৮৩৮) 'প্যানোপটিকন' এবং একটি সামাজিক ব্যবস্থা সম্পর্কে ঐতিহাসিক বিবেচনা যেখানে পর্যবেক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণ মানুষকে এই সত্য সম্পর্কে সচেতন করেছিল যে তাদের পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে, যদিও তারা জানত না। ১৯৮০ এর দশকের লেখায় মিশেল ফুকোর মতে, এই প্রভাবটি পাওয়া গেছে যে একটি নির্দিষ্ট সামাজিক প্রেক্ষাপটে (যেমন একটি কারাগার) প্যানোপটিকনের প্রতীকী এবং ব্যবহারিক উভয় ব্যবহারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ মানুষকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে এই ভয়ের উপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট উপায়ে চিন্তাভাবনা এবং কাজ করতে প্রভাবিত করতে পারে যে তাদের পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। এভাবে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। প্যানোপটিকন শিল্প বিপ্লবের অংশ ছিল যা শিল্প পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা গ্রহণ করেছিল যেখানে মালিক এবং ক্ষমতায় থাকা অন্যান্য ব্যক্তিরা জনসাধারণের জায়গাগুলি কেবল কারাগার এবং কারখানাগুলি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

পপ সংস্কৃতিতে নজরদারি

[সম্পাদনা]

পপ সংস্কৃতি আমাদের সমাজের উপর নজরদারির যে বিস্তৃত উপলব্ধি রয়েছে তা গ্রহণ করেছে। বছরের পর বছর ধরে বেশ কয়েকটি বই, টিভি শো, চলচ্চিত্র এবং এমনকি ভিডিও গেমস রয়েছে যা এখন সুরক্ষা এবং নজরদারির ভূমিকা গ্রহণ করেছে। জর্জ অরওয়েলের নাইনটিন এইটি-ফোর এমন একটি বই যা একটি সর্বব্যাপী সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রের অধীনে জীবনযাপন করে এবং সম্ভবত পপ সংস্কৃতিতে নজরদারির সবচেয়ে বিশিষ্ট উদাহরণ। বইটি একটি "বিগ ব্রাদার" প্রোগ্রাম অনুসরণ করে যা উপন্যাসের চরিত্রগুলির ওভার ভিউয়ার হিসাবে কাজ করে, এটি সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহারকে ভারীভাবে চিত্রিত করে।

২৭ মে ২০১৪ এ, ইউবিসফট স্টুডিওগুলি তাদের গেমটি প্রকাশ করেছে ওয়াচডগস যা আইডান পিয়ার্সকে কেন্দ্র করে একজন বড় চোর হ্যাকার এবং স্ব-নিযুক্ত ভিজিল্যান্ট শহরব্যাপী গণ নজরদারি এবং অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় হ্যাক করতে সক্ষম হন। যাতে করে যে কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য এবং সংস্থান সংগ্রহ করতে পারে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এড়াতে, অপরাধ ঘটার আগে বা হওয়ার আগে বন্ধ করতে, প্রয়োজনে নিজে অপরাধ করা, এবং তার সুবিধার্থে অবকাঠামোর বিভিন্ন বস্তু এবং কার্যকারিতা ম্যানিপুলেট করা। গেমটি আপনাকে বেশ কয়েকটি বড় সুপরিচিত সিস্টেমে হ্যাক করেছে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত সংস্থাগুলি এবং রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে অর্থ চুরি করতে সাইবার সন্ত্রাসীদের সাথে কাজ করেছে। গেমটিতে মানুষের উপর গুপ্তচরবৃত্তির জন্য নজরদারি ক্যামেরা ব্যবহারের দিকেও জোর দেওয়া হয়েছিল।

প্রতিনজরদারিকারী হওয়া

[সম্পাদনা]

গবেষণাটি চালানোর সময় প্রতিনজরদারিকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তারা কেমন অনুভব করেছিল তখন একটি চিন্তা-উদ্দীপক আবিষ্কারও ছিল। অংশগ্রহণকারীরা যারা সাসভিল্যান্স পরিবেশন করেছিলেন তারা অনুভব করেছিলেন যে এটি তাদের ক্ষমতায়িত করেছে। রেকর্ডিং করার সময় মানুষের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে আবেগ ছিল তবে প্রতিনজরদারিকারী অনুভব করেছিলেন যে এটি মানুষকে দেখানোর জন্য উদ্দীপক ছিল যে (নজরদারি সম্পর্কিত) অনেক কিছু চলছে যা আমরা জানি না। একজন অংশগ্রহণকারী একটি আকর্ষণীয় পয়েন্ট সরবরাহ করেছেন যা পরামর্শ দেয় যে নজরদারি এমন একটি খেলা যেখানে আমরা অংশ অনুভব করি তবে আসলে নিয়ন্ত্রণের অভাবের কারণে আমরা এর অন্য দিকে রয়েছি। অন্যদিকে, এটি পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে সাসভিল্যান্স আরও খাঁটি কারণ রেকর্ড করা প্রত্যেককে এটি সম্পর্কে সচেতন করা হয়। অতএব, এটি যুক্তিযুক্ত হতে পারে যে আমরা সকলেই সুভিল্যান্সের কাজের অংশ হয়ে উঠি কারণ এটি লুকানো নয়। যাইহোক, এই ধারণাটি প্রশ্ন করা যেতে পারে যখন লোকেরা লুকানো ক্যামেরা দিয়ে রেকর্ড করা শুরু করে। গোপনে রেকর্ড করার কাজটি তখন সাসভিল্যান্সের ধারণাটিকে জটিল করে তুলতে পারে। তাহলে কি তা আবার নজরদারিতে পরিণত হয়? এই জটিল ধারণাগুলি এবং নজরদারি এবং সুভিল্যান্সের ক্রমাগত আন্তঃসংযোগ এই ক্ষেত্রে চলমান গবেষণা অব্যাহত রেখেছে।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Angwin, J. U. L. I. A., Savage, C. H. A. R. L. I. E., Larson, J. E. F. F., Moltke, H. E. N. R. I. K., Poitras, L. A. U. R. A., & Risen, J. (2015). AT &T Helped US Spy on Internet on a Vast Scale. New York Times, August, 15.
  2. Timberg, C., & Soltani, A. (2013). By cracking cellphone code, NSA has capacity for decoding private conversations. The Washington Post.
  3. S. Mann, J. Nolan and B. Wellman. (2003), "Sousveillance: Inventing and Using Wearable Computing Devices for Data Collection in Surveillance Environments",Surveillance & Society, vol. 1, no. 3, pp. 331-355.
  4. Surveillance. 2016. In Oxford Dictionaries. Retrieved from http://www.oxforddictionaries.com/definition/english/surveillance.
  5. Cristani, M., Raghavendra, R., Del Bue, A., & Murino, V. (2013). Human behaviour analysis in video surveillance: A social signal processing perspective. Neurocomputing, 100, 86-97.
  6. Carr, R. (2014). Surveillance politics and local government: A national survey of federal funding for CCTV in Australia. Security Journal.
  7. Marx 2002, 12; see also: Marx 1988, pp.217–219
  8. Marx, 2002, p.29
  9. ৯.০ ৯.১ Marx, 2002, p.28
  10. Marx, 2002, p.208
  11. Andrejevic, M. (2004). The web cam subculture and the digital enclosure. In N. Couldry & A. McCarthy (eds.)
  12. Fuchs, Boersma, Albrechtslund, and Sandoval (eds.) (2012) Internet and Surveillance: The Challenges of Web 2.0 and Social Media. London: Routledge, p.1
  13. Gandy, O. H. & Farrall, K. N. (2008). Metaphoric reinforcement of the virtual fence: factors shaping the political economy of property in cyberspace. In A. Chadwick & P. N. Howard (eds.), The Handbook of Internet Politics (pp. 349–63). London: Routledge
  14. Fuchs 2008, 267–277
  15. Gandy and Farall, 2008: May, Phillips: 2008
  16. Lyon, D. (2008). Surveillance studies: an overview (p. 140). Cambridge [u.a.]: Polity Press.
  17. Alexander Stingl, 'Technology and Surveillance' in Research Starters: Sociology, 2015
  18. http://m.nms.sagepub.com/content/17/5/755
  19. Zizi A. Papacharissi, 'A Private Sphere' in Private Sphere : Democracy in a Digital Age, (2013)
  20. danah boyd, Participating in the always-on culture in The Social Media Reader by Michael Mandiberg, (2012)
  21. Biddinger, P. D., Baggish, A., Harrington, L., d'Hemecourt, P., Hooley, J., Jones, J., ... & Dyer, K. S. (2013). Be prepared—the Boston Marathon and mass-casualty events. New England journal of medicine, 368(21), 1958-1960.
  22. Surveillance Camera Code of Practice. Retrieved from: Surveillance Camera Code of Practice, 2013, London: The Stationery Office
  23. Kennedy, S. S. (2015). Congressional Investigations. The Encyclopedia of Civil Liberties in America, 213.
  24. Spindler, G. (2014). Social Networks and Liability—the Difficult Triangle Between Network Operators, Users and Third Parties in German Media Law. In Varieties of European Economic Law and Regulation (pp. 863-892). Springer International Publishing.
  25. Karen Lawrence Öqvist (2008) 'All in the Name of National Safety' in Virtual Shadows Your privacy in the information society, Swindon: The British Computer Society, p.110.
  26. Lee, Laurie Thomas (2000). Privacy, security and intellectual property. In Alan B. Albarran & David H. Goff (eds.), Understanding the Web: Social, Political, and Economic Dimensions of the Internet (pp. 135–64). Arnes: Iowa State University Press
  27. Zizi A. Papacharissi, A Private Sphere: Democracy in a Digital Age, pp.43-44.
  28. Data Protection Act. In 'legislation.gov.uk´. Retrieved from http://www.legislation.gov.uk/ukpga/1998/29/contents/enacted .
  29. Draft Investigatory Powers Bill. Retrieved from: https://www.gov.uk/government/uploads/system/uploads/attachment_data/file/473770/Draft_Investigatory_Powers_Bill.pdf
  30. The Investigatory Powers Tribunal. Retrieved from : http://www.ipt-uk.com/section.aspx?pageid=1
  31. Data Retention and Investigatory Powers Act 2014. Retrieved from: http://www.legislation.gov.uk/ukpga/2014/27/notes/division/2
  32. Öqvist, 2008 p.112
  33. Our Biometric Future: Facial Recognition Technology and the Culture of Surveillance.
  34. https://www.gov.uk/government/speeches/humanity-vs-surveillance-commissioners-speech-to-stirling-university
  35. http://news.bbc.co.uk/onthisday/hi/dates/stories/february/20/newsid_2552000/2552185.stm
  36. Renteln, A. D. (2013). International human rights: universalism versus relativism. Quid Pro Books.
  37. "CALEA Archive -- Electronic Frontier Foundation"Electronic Frontier Foundation (website)। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ১৪, ২০০৯ 
  38. Granholm, J. (2015). Archived Websites-Governor's Official Homepage-2007.
  39. Fuchs, C., Boersma, K., Albrechtslund, A., & Sandoval, M. (2014). The Internet and নজরদারি.
  40. Graham (2002)
  41. Meikle, G & Young, S. (2012). Media Convergence: Networked Digital Media in Everyday Life. Basingstoke: Palgrave Macmillan. p130.
  42. Foucalt, M. (1977). Discipline and Punish. Harmondsworth: Penguin. p.200.
  43. Öqvist, 2008, p.153
  44. Patel, C, Shah, S & Patel, A. (2013). Main content area Automatic Number Plate Recognition System (ANPR): A Survey. International Journal of Computer Applications, 69(9)
  45. http://www.cctv-information.co.uk/i/An_Introduction_to_ANPR
  46. Piller, Charles; Eric Lichtblau (জুলাই ২৯, ২০০২)। "FBI Plans to Fight Terror With High-Tech Arsenal"LA Times। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ১৪, ২০০৯ 
  47. Schneier, Bruce (ডিসেম্বর ৫, ২০০৬)। "Remotely Eavesdropping on Cell Phone Microphones"Schneier On Security। সংগ্রহের তারিখ ডিসেম্বর ১৩, ২০০৯ 
  48. http://www.dailymail.co.uk/news/article-2889521/Bugging-phones-jealous-partners-rife-Campaign-group-warns-women-guard-against-spyware-tells-suspicious-husband-boyfriend-use-device.html
  49. http://www.flexispy.com/
  50. https://www.aclu.org/map/stingray-tracking-devices-whos-got-them
  51. http://www.bbc.co.uk/news/business-33076527
  52. Chandler, Daniel; Munday, Rod (২০১১)। A Dictionary of Media and Communication। Oxford: Oxford University Press। আইএসবিএন 978019956875 |আইএসবিএন= এর মান পরীক্ষা করুন: length (সাহায্য)  টেমপ্লেট:Rp
  53. Meikle, Graham; Young, Sherman (২০১২)। Media Convergence: Networked Media in Everyday Life। Basingstoke: Palgrave Macmillan। আইএসবিএন 9780230228948 
  54. http://www.jobvite.com/blog/welcome-to-the-2015-recruiter-nation-formerly-known-as-the-social-recruiting-survey
  55. http://www.webwise.ie/teachers/facebook-for-teachers
  56. Papacharissi, Zizi (২০১০)। A Networked Self Identity, Community, and Culture on Social Network Sites। Hoboken: Taylor and Francis। আইএসবিএন 9780415801805 
  57. http://microcapmagazine.com/2016-03-08-tinder-testing-new-feature-that-lets-your-friends-play-matchmaker
  58. http://www.buzzfeed.com/rossalynwarren/best-worst-and-weirdest-messages-tinder#.jgPg5e22g
  59. https://www.instagram.com/tindernightmares/
  60. http://metro.co.uk/2016/01/30/this-model-is-shaming-guys-who-send-her-dick-pics-by-letting-their-girlfriends-know-5652780
  61. http://buzzfeed.com/rossalynwarren/a-model-is-alerting-girlfriends-of-the-men-who-send-her-dick#.dr8BA3KKB