বিষয়বস্তুতে চলুন

শিক্ষানবিসদের জন্য পাইথন টিউটোরিয়াল/পাইথন ইনস্টল করা

পাইথন কী?

[সম্পাদনা]

এই অংশটি বুঝতে অসুবিধা হলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই; চাইলে এটি এড়িয়ে সরাসরি পরের অংশে চলে যেতে পারেন।

পাইথন হলো একটি ইন্টারপ্রেটেড প্রোগ্রামিং ভাষা। সহজ কথায়, প্রোগ্রামিং ভাষা হলো এমন একটি মাধ্যম, যার সাহায্যে কম্পিউটারকে প্রয়োজনীয় কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কম্পিউটার সরাসরি এসব ভাষা বুঝতে পারে না। বিশ্বে শত শত প্রোগ্রামিং ভাষা রয়েছে এবং কম্পিউটারের পক্ষে এগুলোর সবগুলো বোঝা সম্ভব নয়। এ কারণে প্রোগ্রামাররা নিজেদের সুবিধাজনক ভাষায় প্রোগ্রাম লিখে পরে সেটিকে কম্পাইল করেন। কম্পাইল করার মানে হলো মানুষের লেখা কোডকে অসংখ্য ০ ও ১-এ রূপান্তর করা, যাতে কম্পিউটার তা দ্রুত ও সহজে বুঝতে পারে। বাজার থেকে কেনা সাধারণ উইন্ডোজ প্রোগ্রামগুলো আগে থেকেই উইন্ডোজের উপযোগী করে কম্পাইল করা থাকে। এসব প্রোগ্রাম ফাইল সাধারণ টেক্সট এডিটরে খুললে কেবল কিছু অদ্ভুত অক্ষর ও চিহ্ন দেখা যাবে। চাইলে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন— যেকোনো ছোট একটি উইন্ডোজ প্রোগ্রাম নোটপ্যাড বা ওয়ার্ডপ্যাডে খুলে দেখুন। সেখানে কেবল দুর্বোধ্য লেখাই চোখে পড়বে।

উইন্ডোজ প্রোগ্রামগুলো কেবল উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের জন্যই কম্পাইল করা হয়। তাই উইন্ডোজ ছাড়া অন্য কোনো মেশিনে এগুলো চালানো যায় না। অন্যদিকে পাইথন এমন একটি ভাষা, যা কখনোই আগে থেকে সম্পূর্ণ কম্পাইল করা হয় না। এর বদলে একটি ইন্টারপ্রেটার কোডের প্রতিটি লাইনকে তাৎক্ষণিকভাবে ০ ও ১-এ রূপান্তর করে কম্পিউটারকে বুঝিয়ে দেয়। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটে। প্রোগ্রামের যে অংশটি যখন ব্যবহৃত হয়, ইন্টারপ্রেটার ঠিক তখনই সেটি কম্পাইল করে নেয়। প্রোগ্রামটি বন্ধ করে পরবর্তীতে আবার চালু করলে ব্যবহৃত অংশগুলো নতুন করে কম্পাইল হবে। প্রক্রিয়াটিকে সময়ের অপচয় মনে হতে পারে। তবে এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, কোডটি পুনরায় কম্পাইল হওয়ার কারণে পরবর্তীতে ম্যাকের বদলে উইন্ডোজ পিসি ব্যবহার করলেও কোনো সমস্যা হয় না। এমনকি ভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা কোনো বন্ধুর কাছেও নিশ্চিন্তে প্রোগ্রামটি পাঠানো যায়। এছাড়া ইন্টারনেটে প্রোগ্রামটি আপলোড করলে যেকোনো সিস্টেম ব্যবহারকারী সেটি ডাউনলোড করে চালাতে পারবেন। ইন্টারপ্রেটেড প্রোগ্রামিং ভাষার এটিই সবচেয়ে চমৎকার দিক—এটি এমন এক ভাষা, যা যেকোনো কম্পিউটার বুঝতে পারে।

কীভাবে পাইথন ইনস্টল করবেন

[সম্পাদনা]

পাইথন প্রোগ্রামিং শুরু করার জন্য কম্পিউটারে পাইথন ইনস্টল করা থাকতে হবে এবং একটি টেক্সট এডিটর প্রয়োজন হবে। পাইথনের নিজস্ব এডিটর আইডিএলই বেশ ভালো এবং নতুনদের জন্য এটি পুরোপুরি যথেষ্ট। পরবর্তীতে প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষতা বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী ইম্যাকস, ভিআই বা অন্য কোনো এডিটর ব্যবহার করা যেতে পারে।

পাইথন ডাউনলোডের ওয়েব ঠিকানা হলো https://www.python.org/downloads/। এর সর্বশেষ সংস্করণটি হলো ৩.১২.১ (২১ জানুয়ারি ২০২৪ অনুযায়ী)। তবে ২.২-এর পরের যেকোনো পাইথন ২.x সংস্করণ দিয়েই এই টিউটোরিয়ালের কাজ চালানো যাবে। 


পাইথনের ডাউনলোড সাইটে বিভিন্ন কম্পিউটার প্ল্যাটফর্মের জন্য আলাদা ইনস্টলেশন ফাইল রয়েছে। বহুল ব্যবহৃত কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেমের জন্য নিচে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হলো:

লিনাক্স, বিএসডি এবং ইউনিক্স ব্যবহারকারী

[সম্পাদনা]

লিনাক্স ও ইউনিক্স ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত অপারেটিং সিস্টেমের সাথেই পাইথন ইনস্টল করা থাকে। এটি পরীক্ষা করার জন্য কমান্ড লাইনে python লিখে এন্টার চাপুন। যদি পাইথনের সংস্করণ সম্পর্কিত কোনো তথ্য স্ক্রিনে ভেসে ওঠে, তবে বুঝতে হবে আপনার মেশিনটি প্রস্তুত।

এরপরও যদি পাইথন ইনস্টল করার প্রয়োজন হয়, তবে অপারেটিং সিস্টেমের প্যাকেজ ম্যানেজার ব্যবহার করে অথবা প্যাকেজ রিপোজিটরি থেকে খুব সহজেই তা নামিয়ে নেওয়া যায়। ইউনিক্স ও প্রোগ্রামিংয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে এবং কেবল পাইথন ২ শেখার উদ্দেশ্য থাকলে, সোর্স কোড নামিয়ে একেবারে শুরু থেকে পাইথন কম্পাইল করার সুযোগও রয়েছে। সোর্স কোড থেকে কম্পাইল করার ক্ষেত্রে আইডিএলই ব্যবহার করতে চাইলে টিকি এক্সটেনশনটি যুক্ত করে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

ম্যাক ব্যবহারকারী

[সম্পাদনা]

ম্যাক ওএস এক্স (টাইগার) থেকে শুরু করে ম্যাকওএস ১২.৩[২] পর্যন্ত সবগুলো সংস্করণে পাইথন পূর্বনির্ধারিতভাবেই দেওয়া থাকত। তারপরও প্রয়োজনে নতুন সংস্করণে আপডেট করে নেওয়া যেতে পারে। এজন্য কমান্ড লাইন টার্মিনালে python লিখে এর বর্তমান সংস্করণ ও ইনস্টল স্ট্যাটাস যাচাই করে নেওয়া ভালো। এছাড়া অনেক সময় স্ট্যান্ডার্ড ইনস্টলেশনে পাইথনের নিজস্ব এডিটর আইডিএলই নাও থাকতে পারে। পাইথন নতুন করে ইনস্টল করতে চাইলে পাইথনের ওয়েবসাইটের ম্যাক ডাউনলোড পৃষ্ঠা থেকে এটি নামিয়ে নেওয়া যাবে।

উইন্ডোজ ব্যবহারকারী

[সম্পাদনা]

কিছু কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই ডিভাইসে পাইথন ইনস্টল করে দেয়। আপনার কম্পিউটারে পাইথন আছে কি না, তা পরীক্ষা করতে কমান্ড প্রম্পট খুলুন (উইন্ডোজ কী+R চেপে cmd লিখুন) এবং সেখানে python লিখে এন্টার চাপুন। যদি স্ক্রিনে "Bad command or file name" বার্তাটি দেখায়, তবে বুঝতে হবে আপনার কম্পিউটারে পাইথন নেই। সে ক্ষেত্রে উইন্ডোজ ডাউনলোড পৃষ্ঠা থেকে উপযুক্ত উইন্ডোজ ইনস্টলার নামিয়ে নিতে হবে। 

আপনার কম্পিউটারে যদি ৬৪-বিট এএমডি বা ইন্টেল প্রসেসর না থাকে, তবে উইন্ডোজ x86 এমএসআই ইনস্টলার নামাতে হবে। আর ৬৪-বিট প্রসেসর হলে উইন্ডোজ x86-64 এমএসআই ইনস্টলার উপযুক্ত হবে। যেহেতু নামগুলো প্রায় একই রকম, তাই ফাইল ডাউনলোডের সময় সতর্ক থাকুন। ডাউনলোড করা ইনস্টলার ফাইলে ডাবল-ক্লিক করে চালু করুন এবং নির্দেশিকা অনুযায়ী ইনস্টলেশন সম্পন্ন করুন।

ইনস্টল করার পর আইডিএলই এডিটরের বদলে সরাসরি কমান্ড প্রম্পট থেকে পাইথন ব্যবহার করতে চাইলে কম্পিউটারের PATH সিস্টেম ভেরিয়েবলে পাইথনের ইনস্টলেশন পাথটি যুক্ত করে নিতে হবে।


তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ "সানসেটিং পাইথন ২"। পাইথন.অর্গ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২৪। 
  2. ↑ "ম্যাকওএস মন্টেরি ১২.৩ রিলিজ নোটস"। অ্যাপল ডেভেলপার ডকুমেন্টেশন। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৪।