লুইস ক্যারল/প্রাথমিক জীবন

চার্লস লাটউইজ ডজসন (CLD) জন্মগ্রহণ করেন ২৭ জানুয়ারি ১৮৩২ সালে, ডারেসবারি, চেশায়ারে। তিনি ছিলেন ডারেসবারির স্থায়ী কিউরেট চার্লস ডজসন ও ফ্রান্সেস ডজসন (née লাটউইজ)-এর তৃতীয় সন্তান এবং প্রথম পুত্র। পরিবারে পরে মোট এগারোটি সন্তান হয়—চার ছেলে ও সাত মেয়ে। কারও অল্প বয়সে মৃত্যু হয়নি। চার্লস ছাড়া বাকি সবাই ৭০ বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন।
১৮৪৩ সালে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রবার্ট পিল চার্লস ডজসনকে ইয়র্কশায়ারের ক্রফট এলাকার রেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেন। এই চাকরি আগের চেয়ে অনেক ভালো বেতনযুক্ত ছিল। ক্রফট রেক্টরির বাড়িটিও তাদের আগের বাড়ির চেয়ে অনেক বড় ছিল। ১৮৪৬ সালে তাদের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান এডউইন সেখানেই জন্ম নেয়।
১৮৪৪ সালে,ডজসন -কে বোর্ডিং স্কুলে পাঠানো হয়, রিচমন্ডে। সেখানে সে তার প্রতিভার পরিচয় দেয়।
১৮৪৬ সালে, সে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা বিদ্যালয় রাগবি স্কুলে ভর্তি হয়। তবে সে স্কুলজীবন একেবারেই উপভোগ করতে পারেনি।
১৮৫১ সালের জানুয়ারিতে, সে তার পিতার পুরনো কলেজ অক্সফোর্ডের ক্রাইস্ট চার্চে ভর্তি হয়। পরবর্তী জীবনের পুরোটা সময় সে এখানেই কাটায়। তবে ভর্তি হওয়ার কিছু পরেই তার মা মারা যান। ফলে তাকে দ্রুত বাড়ি ফিরে যেতে হয় শেষকৃত্যের জন্য। কয়েক সপ্তাহ পর তার মায়ের ছোট বোন লুসি এসে বাচ্চাদের দেখাশোনা করতে শুরু করেন। তিনি ১৮৮০ সালে মৃত্যুবরণ না করা পর্যন্ত তাদের সঙ্গেই ছিলেন।
১৮৫২ সালে, চার্লস ডজসন রিচমন্ডের আর্কডিকন এবং রিপন ক্যাথেড্রালের ক্যানন নিযুক্ত হন।
১৮৫২ সালের ডিসেম্বরে, ডজসন গণিতের মধ্যবর্তী পরীক্ষায় ফার্স্ট ক্লাস পান। এই অর্জনের ফলে, তার পিতার বন্ধু ই. বি. পিউজি তাকে ক্রাইস্ট চার্চে স্টুডেন্টশিপের ব্যবস্থা করে দেন। এর মানে, যদি সে অবিবাহিত থাকত এবং ইংল্যান্ডের চার্চের যাজক হতো, তবে আজীবন কলেজের সদস্য হতে পারত।
১৮৫৪ সালের অক্টোবরে, সে ফাইনাল ম্যাথমেটিক্স পরীক্ষায়ও ফার্স্ট ক্লাস পায়। ডিসেম্বর মাসে তার বিএ ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
১৮৫৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, নতুন ডিন এইচ. জি. লিডেল নিয়োগ পাওয়ায় ডজসন-কে "মাস্টার অফ দ্য হাউস" ঘোষণা করা হয়। এতে করে সে এমএ ডিগ্রির সুবিধা পায়, তবে কেবলমাত্র ক্রাইস্ট চার্চ ক্যাম্পাসের মধ্যে।
১৮৫৫ সালের পরবর্তী সময়ে, সে ‘‘দ্য কমিক টাইমস’’ পত্রিকার সম্পাদক এডমান্ড ইয়েটসের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেখানে সে ছোট গল্প ও কবিতা প্রকাশের প্রস্তাব দেয়। ইয়েটস তাকে একটি ছদ্মনাম বেছে নিতে বলেন।-এর প্রস্তাবিত নামগুলোর তালিকা থেকে তিনি "লুইস ক্যারল" নামটি বেছে নেন।
১৮৫৬ সালে, ডজসন শখ হিসেবে ফটোগ্রাফি শুরু করে। এই আগ্রহের উৎস ছিল তার মামা স্কেফিংটন লাটউইজ এবং বন্ধু রেজিনাল্ড সাউথে—যিনি কবি রবার্ট সাউথের প্রপৌত্র। এই বছরেই তার সঙ্গে এইচ. জি. লিডেলের দ্বিতীয় কন্যা অ্যালিসের প্রথম সাক্ষাৎ হয়।
১৮৫৭ সালে, সে লেক ডিস্ট্রিক্টে ছুটি কাটাতে যায় এবং সেখানেই কবি টেনিসনের সঙ্গে দেখা হয়। নভেম্বর মাসে সে ‘‘হায়াওয়াথার ফটোগ্রাফিং’’ গল্পের প্রথম খসড়া লেখে। পরবর্তীতে সে এটি ব্যাপকভাবে সম্পাদনা করে।
১৮৬১ সালের ডিসেম্বরে, সে চার্চ অব ইংল্যান্ডে ডিকন হিসেবে অভিষিক্ত হয়। তবে সে কখনও পূর্ণ যাজকের দায়িত্ব নেয়নি।