বিষয়বস্তুতে চলুন

লাটেক/ভূমিকা

উইকিবই থেকে

লাটেক

শুরু করা
  1. ভূমিকা
  2. ইনস্টলেশন
  3. অতিরিক্ত প্যাকেজ ইনস্টল করা
  4. মৌলিক বিষয়
  5. সাহায্য পাওয়ার উপায়

সাধারণ উপাদান

  1. ডকুমেন্ট স্ট্রাকচার
  2. টেক্সট ফরম্যাটিং
  3. প্যারাগ্রাফ ফরম্যাটিং
  4. রং
  5. ফন্ট
  6. লিস্ট স্ট্রাকচার
  7. বিশেষ অক্ষর
  8. আন্তর্জাতিকীকরণ
  9. রোটেশন
  10. টেবিল
  11. টাইটেল তৈরি
  12. পেজ লেআউট
  13. পেজ হেডার ও ফুটার কাস্টমাইজ করা
  14. গ্রাফিক্স ইমপোর্ট করা
  15. ফ্লোট, ফিগার ও ক্যাপশন
  16. ফুটনোট ও মার্জিন নোট
  17. হাইপারলিংক
  18. লেবেল ও ক্রস-রেফারেন্সিং
  19. ইনিশিয়ালস

মেকানিক্স

  1. এরর ও ওয়ার্নিং
  2. লেংথ
  3. কাউন্টার
  4. বক্স
  5. রুল ও স্ট্রাট

টেকনিক্যাল টেক্সট

  1. গণিত
  2. অ্যাডভান্সড ম্যাথমেটিক্স
  3. থিওরেম
  4. কেমিক্যাল গ্রাফিক্স
  5. অ্যালগরিদম
  6. সোর্স কোড লিস্টিং
  7. ভাষাবিজ্ঞান

বিশেষ পাতা

  1. ইনডেক্সিং
  2. গ্লসারি
  3. বিবলিওগ্রাফি ম্যানেজমেন্ট
  4. আরও বিবলিওগ্রাফি

বিশেষ ডকুমেন্ট

  1. সায়েন্টিফিক রিপোর্ট (ব্যাচেলর রিপোর্ট, মাস্টার্স থিসিস, ডিসার্টেশন)
  2. চিঠি
  3. প্রেজেন্টেশন
  4. টিচার্স কর্নার
  5. কারিকুলাম ভিটাই
  6. একাডেমিক জার্নাল (এমএলএ, এপিএ ইত্যাদি)

গ্রাফিক্স তৈরি

  1. প্রসিডিউরাল গ্রাফিক্সের পরিচয়
  2. মেটাপোস্ট
  3. পিকচার
  4. পিজিএফ/টিকজেড
  5. পিএসট্রিক্স
  6. এক্সওয়াই-পিক
  7. থ্রিডি গ্রাফিক্স তৈরি

প্রোগ্রামিং

  1. ম্যাক্রো
  2. প্লেইন টেক
  3. প্যাকেজ তৈরি
  4. প্যাকেজ ডকুমেন্টেশন তৈরি
  5. থিম

বিবিধ

  1. মডুলার ডকুমেন্ট
  2. লাটেক ডকুমেন্টের কোলাবরেটিভ রাইটিং
  3. অন্য ফরম্যাটে এক্সপোর্ট

সাহায্য ও সুপারিশ

  1. এফএকিউ
  2. টিপস ও ট্রিকস

পরিশিষ্ট

  1. লেখকবৃন্দ
  2. লিংক
  3. প্যাকেজ রেফারেন্স
  4. নমুনা লাটেক ডকুমেন্ট
  5. সূচি
  6. কমান্ড গ্লসারি

এই বাক্স সম্পাদনা করুনসূচিপত্র সম্পাদনা করুন

টেক কী?

[সম্পাদনা]

'টেক' (TeX) হলো ডোনাল্ড কানুথের তৈরি একটি বিশেষ টাইপসেটিং ভাষা। যেকোনো নথিকে অত্যন্ত সুন্দর এবং সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করাই এর মূল লক্ষ্য। ১৯৭৭ সালে কানুথ এই টাইপসেটিং ইঞ্জিনটি তৈরির কাজ শুরু করেন। তখন প্রকাশনা জগতে ডিজিটাল মুদ্রণযন্ত্রের ব্যবহার কেবল শুরু হচ্ছিল, আর তিনি এর সম্ভাবনাগুলো যাচাই করতে চেয়েছিলেন। মূলত নিজের বই এবং প্রবন্ধগুলোর টাইপোগ্রাফির মান ক্রমশ খারাপ হতে দেখে তিনি এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের তাগিদ অনুভব করেন। কারিগরি দিক থেকে টেক একটি ‘টুরিং কমপ্লিট’ প্রোগ্রামিং ভাষা হলেও এটি মূলত ‘মার্কআপ ভাষা’ হিসেবেই বেশি পরিচিত যা কোনো নথির বাহ্যিক রূপ কেমন হবে তা বর্ণনা করে। ডকুমেন্টের কাঠামো ও ফরম্যাটিংয়ের ওপর অসামান্য নিয়ন্ত্রণ রাখার ক্ষমতা টেককে একদিকে যেমন শক্তিশালী করেছে তেমনি এটি হয়ে উঠেছে বেশ জটিল একটি মাধ্যম। এই ভাষাটি অত্যন্ত স্থিতিশীল, যেকোনো কম্পিউটারে ব্যবহারোপযোগী এবং প্রায় নির্ভুল হওয়ার জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত। টেকের সংস্করণ নম্বরগুলো একটি চমৎকার নিয়ম মেনে চলে। এগুলো ক্রমাগত গাণিতিক ধ্রুবক ‘পাই’ ( )-এর মানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এর সংস্করণ নম্বর ৩.১৪১৫৯২৬৫৩।

এর নির্মাতার উদ্দেশ্য অনুযায়ী টেক নামটির উচ্চারণ /'tɛx/; এখানে /x/ হলো ভেলার ঘর্ষধ্বনি যা lochBach শব্দের শেষ ব্যঞ্জনধ্বনির মতো। (ডোনাল্ড ই. কানুথ, দ্য টেকবুক) নামটির অক্ষরগুলো গ্রিক বড় হাতের অক্ষর টাউ, এপসিলন ও কাই বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ টেক হলো τέχνη (ΤΕΧΝΗ – টেকনে)-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। গ্রিক ভাষায় এর অর্থ "শিল্প" ও "কারুশিল্প" এবং এটিই টেকনিক্যাল শব্দের মূল। ইংরেজিভাষীরা প্রায়ই এটি /'tɛk/ উচ্চারণ করেন, টেকনিক্যাল শব্দের প্রথম সিলেবলের মতো।

টেকের ডিফল্ট টুলগুলো বেশ মৌলিক ধরনের, ফলে খুব সাধারণ কাজগুলো শিখতেও বেশ সময় লেগে যেতে পারে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, টেকের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এমন কিছু ‘ডকুমেন্ট প্রিপারেশন সিস্টেম’ রয়েছে যেখানে প্রয়োজনীয় কমান্ড ও ম্যাক্রোর সংগ্রহ আগে থেকেই দেওয়া থাকে। এই সিস্টেমগুলো পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলোকে স্বয়ংক্রিয় করে ব্যবহারকারীর সময় বাঁচায়; যদিও এই সুবিধার বিনিময়ে ডিজাইনের ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছামতো সব কিছু করার স্বাধীনতা কিছুটা সীমিত হয়ে আসে। এ ধরনের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি ম্যাক্রো প্যাকেজ হলো ‘লাটেক’।

লাটেক কী?

[সম্পাদনা]

লাটেক (যার উচ্চারণ "লা-টেক" বা "লে-টেক") হলো মূলত লেসলি ল্যামপোর্টের তৈরি করা টেকের একটি 'ম্যাক্রো সেট'। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো টেকের মাধ্যমে টাইপসেটিংয়ের কাজকে সহজ করা। বিশেষ করে গাণিতিক সূত্রসম্বলিত নথিপত্র তৈরির ক্ষেত্রে এটি দারুণ কার্যকর। এই টাইপসেটিং সিস্টেমে এর নামটি সাধারণত বিশেষ ঢঙে LaTeX হিসেবে লেখা হয়ে থাকে।

টেক একইসাথে একটি টাইপোগ্রাফিক এবং লজিক্যাল 'মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ'। তাই এতে কোনো নথি লেখার সময় এই দুটি দিকই মাথায় রাখতে হয়। লাটেক তৈরির সময় ল্যামপোর্টের মূল লক্ষ্য ছিল এই দুটি বিষয়কে একে অপরের থেকে আলাদা রাখা। এর ফলে সুবিধা হলো একজন বিশেষজ্ঞ একটি 'টেমপ্লেট' তৈরি করে দিতে পারেন আর লেখক টাইপসেটিং সম্পর্কে গভীর জ্ঞান না থাকলেও কেবল লাটেকের লজিক্যাল মার্কআপ ব্যবহার করে নথির মূল বিষয়বস্তুতে মনোযোগ দিতে পারেন।

লাটেকের নিজস্ব কমান্ড ও অপশনগুলোর পাশাপাশি অনেক ডেভেলপার এর জন্য বিভিন্ন 'এক্সটেনশন' তৈরি করেছেন। এগুলোকে সাধারণত 'প্যাকেজ' বা 'স্টাইল' বলা হয়। এগুলো আপনি আপনার নথিতে প্রয়োজনমতো ব্যবহার করতে পারবেন। এগুলোর বেশিরভাগই টেক বা লাটেক সফটওয়্যার 'ডিস্ট্রিবিউশন'-এর সাথেই দেওয়া থাকে। এছাড়া আরও নতুন নতুন প্যাকেজ পাওয়া যায় ‘কমপ্রিহেনসিভ টেক আর্কাইভ নেটওয়ার্ক’ বা ‘সিট্যান’-এ।

লাটেক কেন ব্যবহার করব?

[সম্পাদনা]

বেশিরভাগ পাঠকই ‘উইসিউইগ’ (WYSIWYG) বা ‘যা দেখছেন, সেটিই পাবেন’—এমন ঘরানার টাইপসেটিং সিস্টেমের সাথে পরিচিত। লিব্রে অফিস রাইটার, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড কিংবা গুগল ডক্স এর বড় উদাহরণ। তবে লাটেক ব্যবহারের পদ্ধতিটি এসব প্রোগ্রামের চেয়ে একদমই আলাদা। এখানে কাজ করার সময় ডকুমেন্টটি ঠিক কেমন হচ্ছে তা সরাসরি দেখার সুযোগ নেই। বরং একটি টেক্সট ফাইলে বিভিন্ন কমান্ডের মাধ্যমে আপনি বর্ণনা করেন যে ডকুমেন্টটি দেখতে কেমন হবে। এরপর সেই ফাইলটিকে লাটেক প্রোগ্রামের মাধ্যমে রান বা প্রসেস করে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়। এতে একটি অসুবিধা হলো, আউটপুট দেখার জন্য আপনাকে বারবার কাজ থামিয়ে কয়েকটি ধাপ পার করতে হয়। তবে এই ঝক্কি থাকলেও লাটেক ব্যবহারের অনেক সুবিধাও রয়েছে:

  • আপনি ডকুমেন্টের কাঠামো ও বিষয়বস্তুর ওপর পুরো মনোযোগ দিতে পারেন। আপনার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী লাটেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডকুমেন্টের টাইপোগ্রাফিঃ ফন্ট, টেক্সটের আকার, লাইনের উচ্চতা এবং অন্যান্য লেআউট সংক্রান্ত বিষয় সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখে।
  • লাটেকে ডকুমেন্টের কাঠামো ব্যবহারকারীর কাছে স্পষ্ট থাকে এবং সহজেই অন্য ডকুমেন্টে কপি করা যায়। উইসিউইগ অ্যাপ্লিকেশনে কোনো নির্দিষ্ট ফরম্যাটিং কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা অনেক সময় বোঝা যায় না; আবার সেটি সরাসরি অন্য ডকুমেন্টে ব্যবহার করার জন্য কপি করাও অসম্ভব হতে পারে।
  • ইনডেক্স, ফুটনোট, উদ্ধৃতি ও রেফারেন্স সহজে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করা যায়।
  • গাণিতিক সূত্র সহজে টাইপসেট করা যায়। উন্নতমানের গণিত টাইপসেটিং ছিল টেক তৈরির মূল প্রেরণাগুলোর একটি।
  • ডকুমেন্টের সোর্স যেহেতু প্লেইন টেক্সট,
    • উইসিউইগ প্রোগ্রামে ব্যবহৃত জটিল বাইনারি ও এক্সএমএল ফরম্যাটের বিপরীতে, ডকুমেন্ট সোর্স যেকোনো টেক্সট এডিটর দিয়ে পড়া ও বোঝা যায়।
    • টেবিল, ফিগার, সমীকরণ ইত্যাদি যেকোনো ভাষা দিয়ে প্রোগ্রামগতভাবে তৈরি করা যায়।
    • ভার্সন কন্ট্রোল সফটওয়্যার দিয়ে পরিবর্তনগুলো সহজে অনুসরণ করা যায়।
  • কিছু একাডেমিক জার্নাল জমা দেওয়ার জন্য শুধু লাটেক ডকুমেন্ট গ্রহণ করে অথবা লাটেক ব্যবহারের জোরালো পরামর্শ দেয়। প্রকাশকেরাও লাটেক টেমপ্লেট সরবরাহ করে।

সোর্স ফাইলটি লাটেক প্রোগ্রাম বা ইঞ্জিন, দিয়ে প্রক্রিয়াকরণ করলে বিভিন্ন ফরম্যাটে ডকুমেন্ট তৈরি করা যায়। লাটেক নিজে ডিভিআই এবং পিডিএফ সমর্থন করে; তবে অন্যান্য সফটওয়্যার ব্যবহার করে সহজেই পোস্টস্ক্রিপ্ট, পিএনজি, জেপিইজি ইত্যাদি তৈরি করা যায়।

টেক-সম্পর্কিত পরিভাষা

[সম্পাদনা]
ডকুমেন্ট প্রিপারেশন সিস্টেম

লাটেক হলো টেক-ভিত্তিক একটি ডকুমেন্ট প্রিপারেশন সিস্টেম। তাই এই সিস্টেম বলতে ভাষা এবং ম্যাক্রোর সমন্বয়কে বোঝায়।

ডিস্ট্রিবিউশন

টেক ডিস্ট্রিবিউশন হলো প্যাকেজ ও প্রোগ্রামের সংগ্রহ যেমন কম্পাইলার, ফন্ট এবং ম্যাক্রো প্যাকেজ। এগুলোর সাহায্যে আলাদাভাবে ফাইল সংগ্রহ করা বা হাতে কনফিগার না করেই টাইপসেটিং করা যায়।

ইঞ্জিন

ইঞ্জিন হলো এমন একটি এক্সিকিউটেবল প্রোগ্রাম, যা আপনার সোর্স কোডকে মুদ্রণযোগ্য আউটপুট ফরম্যাটে রূপান্তর করতে পারে। ইঞ্জিন নিজে মূলত সিনট্যাক্স সামলায়। তবে সোর্স কোড পুরোপুরি বুঝতে এবং সঠিকভাবে আউটপুট তৈরি করতে তাকে ফন্ট ও ম্যাক্রোও লোড করতে হয়। কোন ধরনের সোর্স কোড পড়া যাবে এবং কোন ফরম্যাটে আউটপুট দেওয়া যাবে (সাধারণত ডিভিআই বা পিডিএফ) তা ইঞ্জিনই নির্ধারণ করে।

সব মিলিয়ে, আপনি যে ইঞ্জিন ও সিস্টেম ব্যবহার করতে চান, তার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো ইনস্টল করার সহজ উপায় হলো ডিস্ট্রিবিউশন। ডিস্ট্রিবিউশন সাধারণত নির্দিষ্ট অপারেটিং সিস্টেমকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়। ভিন্ন ইঞ্জিনে ভিন্ন সিস্টেম ব্যবহার করা যায়, তবে কখনও কখনও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। টেক, লাটেক বা কনটেক্সটের জন্য লেখা কোড সাধারণত একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া, কোনো নির্দিষ্ট ইঞ্জিনের জন্য লেখা কোড (যেমন জিটেকের ফন্ট-সংক্রান্ত কোড) সব ইঞ্জিনে কম্পাইল নাও হতে পারে।

লাটেক সম্পর্কে তথ্য খুঁজতে গেলে আপনি জিটেক, কনটেক্সট, লুয়াটেক বা -টেক প্রত্যয়যুক্ত আরও কিছু নামের মুখোমুখি হতে পারেন।

এবার এই সারণিতে বেশিরভাগ পরিভাষা সংক্ষেপে দেখে নেওয়া যাক।

সিস্টেম বর্ণনা
এএমএসটেক এটি টেক ম্যাক্রো-ভিত্তিক পুরোনো একটি ডকুমেন্ট প্রিপারেশন সিস্টেম, যা আমেরিকান ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটি ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ব্যবহার করেছিল। পরে এটি এএমএস-লাটেক সংগ্রহে রূপ নেয়। এই সংগ্রহে amsmath প্যাকেজ রয়েছে যা প্রায় প্রতিটি লাটেক ডকুমেন্টে ব্যবহৃত হয়; পাশাপাশি এতে একাধিক এএমএস প্রকাশনা লেআউট মান বা ডকুমেন্ট ক্লাসও অন্তর্ভুক্ত।
কনটেক্সট এটি টেক ম্যাক্রো-ভিত্তিক একটি ডকুমেন্ট প্রিপারেশন সিস্টেম। নেদারল্যান্ডসের প্রাগমা এডিইর হান্স হাগেন ও টন অটেন প্রায় ১৯৯১ সালের দিকে এটি তৈরি করেন। এটি পিডিএফটেক, জিটেক এবং লুয়াটেক ইঞ্জিনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কনটেক্সট ধরে নেয় যে কনটেন্ট লেখক অর্থাৎ ডকুমেন্টের মূল লেখা যিনি লেখেন এবং স্টাইল লেখক অর্থাৎ ডকুমেন্টের লেআউট ও চেহারা যিনি নকশা করেন—দুজন একই ব্যক্তি। এর সিনট্যাক্স সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সহজবোধ্য এবং এটি লেখককে পছন্দমতো যেকোনো লেআউটের ডকুমেন্ট তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও স্বাধীনতা দেয়। যেখানে অনুসরণ করার মতো নির্দিষ্ট মান নেই সেখানে কনটেক্সট অতিরিক্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে সৃজনশীল স্বাধীনতা দেয়। পাঠ্যবই, সাহিত্য বা শিল্পসম্মত স্বতন্ত্র লেআউটের মতো সৃজনশীল ভঙ্গির উচ্চমানের কাজ তৈরিতে কনটেক্সট বিশেষভাবে ভালো।

লাটেক এটি লেসলি ল্যামপোর্টের তৈরি টেক ম্যাক্রো-ভিত্তিক একটি ডকুমেন্ট প্রিপারেশন সিস্টেম।

লাটেক ধরে নেয় যে কনটেন্ট লেখক এবং স্টাইল লেখক আলাদা ব্যক্তি। এর ফলে লেখকেরা, যেমন গবেষক বা শিক্ষার্থীরা নকশা নিয়ে না ভেবে বিষয়বস্তুর ওপর মনোযোগ দিতে পারেন; অন্যদিকে প্রকাশকেরা, যেমন জার্নাল, নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক মান প্রয়োগ করতে পারেন। কনটেন্ট ও নকশাকে আলাদা রাখার সুবিধার সঙ্গে কিছু খরচও আছে: প্যাকেজ ম্যানেজমেন্ট, তুলনামূলকভাবে কম সামঞ্জস্যপূর্ণ সিনট্যাক্স এবং লেআউট ডিজাইনারের নির্ধারিত বিন্যাস বা ডকুমেন্টক্লাস থেকে সরে যেতে চাইলে কনটেক্সটের তুলনায় বেশি জটিলতা। জার্নাল নিবন্ধ ও থিসিসের মতো প্রকাশনার শর্ত মেনে উচ্চমানের একাডেমিক ডকুমেন্ট তৈরিতে লাটেক বিশেষভাবে ভালো।

মেটাফন্ট টেকের সঙ্গে ডোনাল্ড কানুথের তৈরি উচ্চমানের একটি ফন্ট সিস্টেম।
মেটাপোস্ট মেটাফন্ট-ভিত্তিক একটি বর্ণনামূলক ভেক্টর গ্রাফিক্স ভাষা।
টেক ডোনাল্ড কানুথের তৈরি মূল ভাষা।
টেক্সইনফো রিচার্ড স্টলম্যানের তৈরি টেক ম্যাক্রো-ভিত্তিক একটি ডকুমেন্ট প্রিপারেশন সিস্টেম, যা টেকনিক্যাল ডকুমেন্টেশন, বিশেষ করে সফটওয়্যার ম্যানুয়াল, তৈরিতে বিশেষায়িত।
ইঞ্জিন বর্ণনা
xetex, xelatex একটি টেক ইঞ্জিন, যা ইউনিকোড ইনপুট এবং .ttf.otf ফন্ট সমর্থন করে। দেখুন ফন্ট
luatex, lualatex এমবেডেড লুয়া সমর্থনসহ একটি টেক ইঞ্জিন যার লক্ষ্য টেকের অভ্যন্তরীণ অংশগুলোকে আরও নমনীয় করা। জিটেকের মতো এটিও ইউনিকোড ইনপুট এবং আধুনিক ফন্ট ফাইল সমর্থন করে।
pdftex, pdflatex পিডিএফ আউটপুট তৈরি করে।
tex, latex "মূল" টেক ইঞ্জিন। এটি ডিভিআই আউটপুট তৈরি করে।
টেক ডিস্ট্রিবিউশন বর্ণনা
ম্যাকটেক টেক লাইভ-ভিত্তিক একটি ডিস্ট্রিবিউশন, যা ম্যাক ওএস এক্সের জন্য তৈরি।
মিকটেক উইন্ডোজের জন্য একটি টেক ডিস্ট্রিবিউশন।
টেক লাইভ একটি ক্রস-প্ল্যাটফর্ম টেক ডিস্ট্রিবিউশন।

এরপর কী?

[সম্পাদনা]

পরের অধ্যায়ে আপনার সিস্টেমে লাটেক ইনস্টল করার পদ্ধতি আলোচনা করা হবে। এরপর আমরা আমাদের প্রথম লাটেক ফাইল টাইপসেট করব।

আরও শেখা

[সম্পাদনা]

লাটেক ব্যবহার করতে গিয়ে নতুন এবং অভিজ্ঞ উভয় ধরনের ব্যবহারকারীই সবচেয়ে বেশি যে সমস্যায় পড়েন তা হলো ডকুমেন্টের লেআউট পরিবর্তনের জটিলতা। ‘উইসিউইগ’ (WYSIWYG) ঘরানার প্রোগ্রামগুলোতে ফন্ট বা লেআউট পরিবর্তন করা যতটা সহজ লাটেকে সেই একই কাজ করতে হলে নতুন নতুন কমান্ড ও প্যাকেজ শিখতে হয়। পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে এর সাধারণ ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে মনে রাখবেন, এই বইয়ে বিষয়টির কেবল প্রাথমিক ধারণাই দেওয়া হয়েছে।

লাটেক তৈরি হয়েছে টাইপোগ্রাফি প্রেমীদের একটি বিশাল কমিউনিটির হাত ধরে। তাই লাটেকের অধিকাংশ প্যাকেজের ডকুমেন্টেশন বা নির্দেশিকাগুলো অত্যন্ত মানসম্পন্ন। কোনো বিষয়ে জানার প্রয়োজন হলে এই ডকুমেন্টেশনগুলোই আপনার প্রথম সহায়ক হওয়া উচিত। কোনো প্যাকেজের ম্যানুয়াল যদি আপনার কম্পিউটারে ইনস্টল করা ‘টেক ডিস্ট্রিবিউশন’-এ না থাকে, তবে সেটি সিট্যান থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

আরও কিছু উপযোগী রিসোর্স হলো:

  • টেক এফএকিউ
  • লাটেক.অর্গ ফোরাম
  • টেক সম্পর্কে ডোনাল্ড কানুথের মূল নির্দেশিকা, দ্য টেকবুক
  • লাটেক সম্পর্কে লেসলি ল্যামপোর্টের মূল নির্দেশিকা, লাটেক: একটি ডকুমেন্ট প্রিপারেশন সিস্টেম


  সূচি পরবর্তী: ইনস্টলেশন