বিষয়বস্তুতে চলুন

রাজনৈতিক যোগাযোগের উপাদানসমূহ: মৌখিক বার্তা নির্দেশিকা – ভাষণ

উইকিবই থেকে
প্রায় ২০ জন শ্রোতা একজন অনদৃশ্য বক্তার প্রতিক্রিয়ায় হাসছেন বা মনোযোগ দিচ্ছেন।
একটি ভাষণে শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া বোঝা কঠিন, তবে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

রাজনৈতিক ভাষণ লেখার ও উপস্থাপনের জন্য রাজনৈতিক যোগাযোগের একাধিক উপাদানের প্রয়োজন হয়। প্রাথমিক খসড়া লেখার সময়, বক্তৃতা লেখকদের সাধারণত সাধারণ নির্দেশিকা অনুসরণ করা উচিত, তবে পরবর্তী সংশোধনের সময় কিছু অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নেওয়া আবশ্যক। যদিও এই প্রক্রিয়ার কোন অংশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আপনার সংগঠনকে রচনার প্রতিটি বিশদ বিষয়ে, যেমন: সংরচনা ও উপস্থাপনা—সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

রাজনৈতিক ভাষণগুলি সাধারণত অনেক উদ্দেশ্যে পরিবেশন করা যেতে পারে, তবে এই অধ্যায়ে তথ্যবহুল প্রস্তুত বক্তৃতা তৈরির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো রাজনৈতিক যোগাযোগের সাথে সম্পর্কিত। প্ররোচনামূলক বা তাৎক্ষণিক ভাষণ তৈরির বিষয়ে আরও জানতে, বিতর্ক বিষয়ক অধ্যায় দেখুন। যেহেতু রাজনৈতিক ভাষণে অলঙ্কারবিদ্যা (rhetoric) নিয়ে অনেক লেখা হয়েছে, তাই এই অধ্যায়টিকে একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি হিসেবে দেখা উচিত। অধ্যায়ে উল্লিখিত রচনার বাইরে আরও পড়াশোনার জন্য "আরও পড়ুন" অধ্যায়ের ভাষণ নির্দেশিকা অংশ দেখা যেতে পারে।

বিষয়বস্তু

[সম্পাদনা]

সতর্কভাবে প্রস্তুত ভাষণগুলো এমন শ্রোতাদের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে, যারা বক্তার মতাদর্শের প্রতি সহানুভূতিশীল না-ও হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে বক্তৃতার অলঙ্কারিক কাঠামোর উপর শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া "রাজনৈতিক দল, বক্তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং বার্তার জনপ্রিয়তা থেকে স্বাধীন।"[] শ্রোতারা সাধারণত নিচের অলঙ্কারিক কৌশলগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকলে নির্ধারিত সময়ে করতালি দিতে বেশি প্রবণ হন:

  • বিরোধী বক্তব্য, যেমন "আমরা" ও "তারা" অথবা "তখন" ও "এখন" এর তুলনা।
  • তিন অংশের তালিকা
  • ধাঁধা–সমাধান ধাঁচের বক্তব্য, যেখানে সমস্যা তুলে ধরে তার সমাধান প্রস্তাব করা হয়।
  • শিরোনাম–পাঞ্চলাইন ধাঁচের বক্তব্য, যেখানে বক্তা কোনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলবেন বলে পূর্বাভাস দিয়ে শ্রোতাদের করতালির জন্য প্রস্তুত করেন।[]
  • সুসংগঠিত রূপক ব্যবহার।[]

প্রস্তুত রাজনৈতিক বক্তৃতায় দীর্ঘ বিরতি অনেক বেশি দেখা যায় তুলনামূলকভাবে স্বতঃস্ফূর্ত সাক্ষাৎকার বা তাৎক্ষণিক সংলাপে।[] এই বিরতিগুলো বক্তৃতার সুনির্দিষ্ট অংশে যুক্ত করা উচিত। দীর্ঘমেয়াদে, শ্রোতারা সাধারণত ভাষণের শুরুতে উপস্থাপিত তথ্যই সবচেয়ে বেশি মনে রাখে;[] তাই ভাষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো শুরুতেই উপস্থাপন করা জরুরি।

উপস্থাপন

[সম্পাদনা]

যে ব্যক্তি ভাষণটি দেবেন, তার উচিত শুধু ভাষণটি তৈরি নয়, বরং তার উপস্থাপনাও তদারকি করা, কারণ বক্তার উপস্থাপনার ধরণ শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়ার উপর ভাষণের রচনার মতোই প্রভাব ফেলে।[] বিভিন্ন কেস স্টাডিতে দেখা গেছে যে বক্তৃতাকালে হাতের অঙ্গভঙ্গি শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া প্রভাবিত করে, যেমন করতালি অথবা নীরবতা সৃষ্টি করে।[] তবে, যেহেতু রাজনৈতিক ভাষণে মাত্র প্রায় ৬১% করতালি পূর্বপরিকল্পিত থাকে, তাই বক্তার উচিত অনিয়মিত করতালির প্রতিক্রিয়ায় মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা।[]

বিতর্ক