বিষয়বস্তুতে চলুন

সিলেটি হান্দেশ

উইকিবই থেকে
সিলেটি হান্দেশ
হান্দেশ
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ মিষ্টান্ন
পরিবেশন প্রয়োজনমতো
খাদ্য শক্তি উচ্চ
তৈরির সময় ১ ঘণ্টা
কষ্টসাধ্য
টীকা ঐতিহ্যবাহী হান্দেশ তৈরিতে খেজুরের গুড় বা লালি ব্যবহার করা হয়, যা এই পিঠাকে একটি বিশেষ স্বাদ ও সুগন্ধ প্রদান করে।

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

সিলেটি হান্দেশ

সিলেটি হান্দেশ (সিলেট অঞ্চলে যা গুড়র হান্দেশ নামেও পরিচিত) হলো একটি সুস্বাদু, মিষ্টি এবং ফোলা ধরণের ডুবো তেলে ভাজা পিঠা। এটি সিলেটের সংস্কৃতির সাথে গভীরভাবে মিশে আছে এবং বিশেষ করে ঈদ, আকিকা (নামকরণ অনুষ্ঠান) ও বিয়ের উৎসবে পরিবেশন করা হয়। চালের গুঁড়ো এবং গুড় বা চিনির সংমিশ্রণে তৈরি এই পিঠাটি যেমন মুখরোচক, তেমনি এর ঐতিহ্যও অনেক প্রাচীন। অতীতে এটি ঢেঁকিতে ছাঁটা চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি করা হতো, যা এর স্বাদে ভিন্ন মাত্রা যোগ করত।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
উপকরণ পরিমাণ
খাঁটি খেজুরের গুড় বা লালি (ঐতিহ্যবাহী), চিনি ১ কাপ
চালের গুঁড়ো ২ কাপ
রান্নার তেল ডুবো তেলে ভাজার জন্য পর্যাপ্ত
জল প্রয়োজনমতো (মন্ড তৈরি করতে)

রন্ধনপ্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. একটি বড় পাত্রে গুড় (বা চিনি) এবং চালের গুঁড়ো একসাথে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি খুব ভালো করে মাখুন যতক্ষণ না এটি একটি মসৃণ ও নমনীয় মন্ডে পরিণত হয়।
  2. যদি মিশ্রণটি খুব বেশি শুকনো মনে হয়, তবে সঠিক ঘনত্ব পেতে সামান্য জল যোগ করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন মিশ্রণটি যেন খুব পাতলা বা খুব শক্ত না হয়ে যায়।
  3. একটি গভীর কড়াইতে মাঝারি আঁচে তেল গরম হতে দিন।
  4. মাখা মন্ড থেকে অল্প অল্প অংশ নিয়ে হাতের তালুর সাহায্যে গোল বা ডিম্বাকৃতি চ্যাপ্টা চাকতির মতো আকার দিন (সাধারণত হাতের তালুর সমান মাপের)।
  5. এবার সাবধানে এই চাকতিগুলো গরম তেলের মধ্যে ছেড়ে দিন। পিঠাটি ফুলে না ওঠা এবং চারপাশ সোনালী-বাদামী রঙ না হওয়া পর্যন্ত ভাজতে থাকুন। ভাজার সময় সাবধান থাকুন কারণ তেল অত্যন্ত গরম থাকে।
  6. ভাজা হয়ে গেলে পিঠাগুলো তেল থেকে তুলে নিন এবং অতিরিক্ত তেল ঝরানোর জন্য কিচেন টিস্যু বা পেপার তোওয়ালের ওপর রাখুন।
  7. পরিবেশন করার আগে হান্দেশগুলো কিছুটা ঠান্ডা হতে দিন। এটি গরম গরম বা ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায়, উভয়ভাবেই খাওয়া যায়।

পরামর্শ ও টীকা

[সম্পাদনা]
  • হান্দেশ সকালের নাস্তা হিসেবে অথবা বিকেলের আড্ডায় এক কাপ চায়ের সাথে দারুণ মানিয়ে যায়।
  • যারা মিষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমাতে চান, তারা গুড় ও চিনির অনুপাত নিজের পছন্দমতো পরিবর্তন করে নিতে পারেন।