বিষয়বস্তুতে চলুন

সিতোভোগ

উইকিবই থেকে
সিতোভোগ
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ মিষ্টি
পরিবেশন ৪-৫ জন
তৈরির সময় ৪৫ মিনিট
কষ্টসাধ্য
টীকা সিতোভোগ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান অঞ্চলের একটি অত্যন্ত বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি।

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

সিতোভোগ

সিতোভোগ দেখতে সাদা বাসমতি চালের ভাতের মতো হলেও এটি মূলত ছানা এবং গোবিন্দভোগ চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি একটি সুস্বাদু মিষ্টি। ১৯০৪ সালে ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জনকে আপ্যায়নের জন্য বর্ধমানের রন্ধনশিল্পী ভৈরবচন্দ্র নাগ প্রথম এই মিষ্টির উদ্ভাবন করেছিলেন। সাধারণত সিতোভোগের সাথে ছোট ছোট লালচে নিখুঁতি (এক ধরণের ছোট মিষ্টি) মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
নাম উপকরণ
ডেইরি ছানা (পানি ঝরানো) ১ কাপ
গোবিন্দভোগ চালের মিহি গুঁড়া ২ টেবিল-চামচ
চিনি (সিরার জন্য) ২ কাপ
পানি ২ কাপ
এলাচ ৩-৪টি
ঘি বা সয়াবিন তেল নিখুঁতি ভাজার জন্য পরিমাণমতো

রন্ধনপ্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. প্রথমে ছানা হাত দিয়ে চেপে অতিরিক্ত পানি পুরোপুরি বের করে নিন। এরপর ছানাটিকে একটি সমতল পাত্রে রেখে হাতের তালু দিয়ে ভালো করে মেখে একদম মসৃণ ও নরম করে নিতে হবে।
  2. মসৃণ ছানার সাথে গোবিন্দভোগ চালের মিহি গুঁড়া যোগ করুন। এবার ছানা ও চালের গুঁড়া একসাথে খুব ভালো করে মথুন, যতক্ষণ না একটি নরম এবং মসৃণ মণ্ড (ডো) তৈরি হয়।
  3. এই মণ্ডটি থেকে সামান্য একটু অংশ আলাদা করে সরিয়ে রাখুন (যা দিয়ে পরে নিখুঁতি তৈরি করা হবে)। বাকি বড় অংশটি সিতোভোগ তৈরির জন্য রেখে দিন।
  4. অন্য একটি বড় পাত্রে চিনি, পানি এবং এলাচ দিয়ে মাঝারি ঘনত্বের একটি পাতলা সিরা তৈরি করে নিন। সিরা ফুটে উঠলে চুলার আঁচ একদম কমিয়ে রাখুন।
  5. এবার সিতোভোগ তৈরির জন্য একটি মাঝারি ছিদ্রযুক্ত ছাঁকনি বা গ্রেটার নিন। ফুটন্ত চিনির সিরার ঠিক ওপর গ্রেটারটি ধরুন এবং ছানার মণ্ডটি গ্রেটারের ওপর রেখে হাতের তালু দিয়ে হালকা চাপে ঘষতে থাকুন।
  6. এর ফলে ছানার মিশ্রণটি লম্বা লম্বা চালের দানার আকারে সরাসরি ফুটন্ত সিরায় পড়বে। সবটুকু দেওয়া হয়ে গেলে কড়াইটি হালকা দুলিয়ে দিন, তবে চামচ দিয়ে খুব বেশি নাড়াচাড়া করবেন না, কারণ এটি তখন অত্যন্ত নরম থাকে। মাঝারি আঁচে ৩-৪ মিনিট ফুটিয়ে নিয়ে কড়াইটি চুলা থেকে নামিয়ে রাখুন।
  7. এবার আগে থেকে আলাদা করে রাখা ছানার মণ্ডটি দিয়ে ছোট ছোট এবং লম্বাটে আকারের নিখুঁতি তৈরি করে নিন।
  8. কড়াইতে ঘি বা তেল মাঝারি আঁচে গরম করে নিখুঁতিগুলো লালচে-বাদামি করে ভেজে নিন।
  9. ভাজা হলে নিখুঁতিগুলো তেল থেকে তুলে সরাসরি সিতোভোগের চিনির সিরায় ছেড়ে দিন।
  10. সিতোভোগ এবং নিখুঁতি অন্তত ১-২ ঘণ্টা চিনির সিরায় ভিজিয়ে রাখুন যাতে রস ভালোভাবে ভেতরে ঢোকে এবং নরম হয়।
  11. পরিবেশনের আগে একটি ছাঁকনি দিয়ে অতিরিক্ত সিরা ঝরিয়ে নিয়ে প্লেটে সাজিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন ঐতিহ্যবাহী সিতোভোগ।
যেকোনো উৎসবে বা অতিথি আপ্যায়নে পরিবেশন করুন বর্ধমানের বিখ্যাত সিতোভোগ