সাত রং চা
অবয়ব
| সাত রং চা | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | পানীয় |
| পরিবেশন | ১ জন |
| খাদ্য শক্তি | মাঝারি |
| তৈরির সময় | ৩০ মিনিট |
| কষ্টসাধ্য | |
| টীকা | এই চায়ের মূল রহস্য হলো তরলের ঘনত্ব। প্রতিটি স্তরের চিনির পরিমাণ ও ঘনত্ব ভিন্ন হওয়ার কারণে স্তরগুলো একে অপরের সাথে মিশে যায় না। স্বচ্ছ কাঁচের গ্লাস ব্যবহার করা আবশ্যিক। |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
সাত রং চা
সাত রং চা বা রেইনবো টি বাংলাদেশের এক বিস্ময়কর পানীয়। শ্রীমঙ্গলের নীলকণ্ঠ টি কেবিনের রমেশ রাম গৌর এই চায়ের উদ্ভাবক। এখানে বিভিন্ন ঘনত্বের লিকার, দুধ, চিনি এবং মশলার সংমিশ্রণে সাতটি পৃথক স্তর তৈরি করা হয়। প্রতিটি স্তরের স্বাদ ভিন্ন—কোথাও কড়া মিষ্টি, কোথাও মশলাদার এলাচের ঘ্রাণ, আবার কোথাও লেবুর টক আমেজ। এটি তৈরি করা একটি সূক্ষ্ম শিল্প।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| বিভাগ | উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ভিত্তি উপকরণ | লিকার চা (কালো চা - ঘন করে করা) | ১ কাপ |
| সবুজ চা (গ্রিন টি) | ১/২ কাপ | |
| চিনি ও গুড় | প্রয়োজনমতো | |
| দুগ্ধজাত উপকরণ | ঘন দুধ (চিনিসহ ও চিনি ছাড়া) | ১/২ কাপ |
| কন্ডেন্সড মিল্ক (ঘন মিষ্টি দুধ) | ৩ টেবিল চামচ | |
| স্বাদ ও সুগন্ধি | এলাচ ও দারুচিনি গুঁড়ো | ১ চিমটি |
| কফি ও কোকো পাউডার | ১/৪ চা চামচ (প্রতিটি) | |
| লেবুর রস | ১ চা চামচ | |
| সরঞ্জাম | স্বচ্ছ কাঁচের গ্লাস ও চামচ | ১টি |
রন্ধনপ্রণালী
[সম্পাদনা]চায়ের প্রতিটি স্তর আলাদা করে তৈরি করতে হবে যাতে তাদের ঘনত্ব ও স্বাদ ভিন্ন থাকে। ঘনত্বের নিয়ম হলো—সবচেয়ে ভারী মিশ্রণটি নিচে থাকবে এবং সবচেয়ে হালকা মিশ্রণটি সবার উপরে।
বিভিন্ন স্তরের চা প্রস্তুতকরণ
[সম্পাদনা]- গুড় মিশ্রিত চা: ঘন লিকারের সাথে গুড় মিশিয়ে সবচেয়ে ভারী স্তরটি তৈরি করুন।
- মিষ্টি দুধ চা: ঘন দুধের সাথে বেশি পরিমাণে চিনি মিশিয়ে দ্বিতীয় স্তর তৈরি করুন।
- চিনি ছাড়া দুধ চা: চিনি ছাড়া ঘন দুধের স্তর।
- কফি চা: লিকারের সাথে কফি ও সামান্য কন্ডেন্সড মিল্ক মেশান।
- মশলা চা: এলাচ ও দারুচিনি মিশ্রিত লিকার চা।
- কড়া কালো চা: একদম সাধারণ ঘন লিকার চা।
- লেবু বা সবুজ চা: লেবুর রস ও চিনি মিশ্রিত লিকার অথবা সবুজ চা (এটি সবচেয়ে হালকা হয়)।
স্তরবিন্যাস
[সম্পাদনা]স্তরগুলো সাজানোর সময় অত্যন্ত ধৈর্য ও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
- প্রথম স্তর: গ্লাসের একদম নিচে গুড় মেশানো ঘন কালো চা ঢালুন।
- দ্বিতীয় স্তর: একটি চামচ উল্টো করে গ্লাসের দেয়াল ঘেঁষে খুব ধীরে ধীরে চিনিযুক্ত দুধ চা ঢালুন। চামচ ব্যবহারের ফলে সরাসরি আছড়ে পড়বে না এবং স্তরটি উপরে ভেসে থাকবে।
- পরবর্তী স্তরসমূহ: একইভাবে ঘনত্ব অনুযায়ী চিনি ছাড়া দুধ চা, কফি চা এবং মশলা চা একটির পর একটি ঢালুন। প্রতিবার ঢালার পর অন্তত ২০-৩০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন যাতে স্তরটি স্থিতু হয়।
- শেষ স্তর: সবার শেষে লেবু চা বা সবুজ চা একদম গ্লাসের ধার ঘেঁষে খুব সাবধানে ঢালুন।
পরামর্শ ও সতর্কতা
[সম্পাদনা]- তাপমাত্রা: প্রতিটি স্তরের তাপমাত্রা সামান্য কম (কুসুম গরম) হলে স্তরগুলো সহজে মিশে যায় না।
- চিনির সিরা: চিনির ঘনত্ব ঠিক রাখতে প্রয়োজনে লিকারের সাথে আলাদা করে ঘন চিনির সিরা মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
- তাড়াহুড়ো করলে স্তরগুলো ভেঙে একাকার হয়ে যেতে পারে, তাই চামচ দিয়ে খুব ধীরে ঢালা জরুরি।
তৈরি হয়ে গেল দৃষ্টিপ্রতিম সাত রং চা। স্তরগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে ধীরে ধীরে চুমুক দিন।