বিষয়বস্তুতে চলুন

সাতকরার গরুর মাংস

উইকিবই থেকে
সাতকরার গরুর মাংস
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ মাংসজাত খাবার
পরিবেশন ৫–৬ জন
খাদ্য শক্তি উচ্চ
তৈরির সময় ১.৫ ঘণ্টা
কষ্টসাধ্য
টীকা সাতকরার গরুর মাংস সিলেট অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী ও বিশেষ স্বাদের পদ। এতে সাতকরার টক ও সুগন্ধি স্বাদ মাংসের সাথে এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করে।

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

সাতকরার গরুর মাংস

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সিলেট বিভাগের এক অনন্য উপহার হলো সাতকরার গরুর মাংস। সাতকরা একটি সুগন্ধি ও টক স্বাদের ফল, যা শুধুমাত্র সিলেট অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এই ফলটি যখন গরুর মাংসের সাথে ধীরে ধীরে রান্না করা হয়, তখন তা একেবারে অন্যরকম একটি ঘ্রাণ ও স্বাদে পরিণত হয়। এই পদটি সিলেটের প্রতিটি উৎসব, বিয়ে বা আত্মীয়-স্বজনের আপ্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
উপকরণ পরিমাণ
গরুর মাংস (চর্বি সহ) ১ কেজি
সাতকরা (ফলি করে কাটা) ৫–৬ টুকরো
পেঁয়াজ কুচি ১.৫ কাপ
রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ
আদা বাটা ১ টেবিল চামচ
হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ
মরিচ গুঁড়া ২ চা চামচ
ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ
জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ
গরম মসলা গুঁড়া ১/২ চা চামচ
তেজপাতা ২টি
দারুচিনি ১ টুকরো
লবণ পরিমাণমতো
সরিষার তেল ১/২ কাপ

প্রস্তুত প্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. প্রথমে গরুর মাংস ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখুন।
  2. একটি বড় পাত্রে তেল গরম করে তাতে তেজপাতা ও দারুচিনি দিয়ে খানিকটা ভাজুন।
  3. এরপর পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ভেজে নিন যতক্ষণ না এটি হালকা বাদামি রঙ ধারণ করে।
  4. এবার আদা-রসুন বাটা দিয়ে কষান এবং ক্রমান্বয়ে হলুদ, মরিচ, ধনে, জিরা গুঁড়া মিশিয়ে দিন।
  5. মসলা ভালোভাবে কষে উঠলে তাতে গরুর মাংস দিয়ে মসলা মিশিয়ে ভালোভাবে ভুনুন।
  6. মাংস থেকে পানি বের হয়ে গেলে অল্প পানি দিয়ে চাপ দিয়ে রান্না করুন।
  7. মাংস কিছুটা সিদ্ধ হলে তাতে সাতকরা স্লাইস দিয়ে দিন এবং আবার ঢেকে অল্প আঁচে রান্না করতে থাকুন।
  8. সাতকরা থেকে প্রাকৃতিক টক রস বেরিয়ে মাংসের সাথে মিশে একটি ঘন ও ঘ্রাণযুক্ত ঝোল তৈরি হবে। মাংস একদম নরম হলে চুলা বন্ধ করুন।
  9. রান্নার শেষে গরম মসলা ছিটিয়ে দিন।

পরিবেশন

[সম্পাদনা]

সাতকরার গরুর মাংস সাধারণত গরম ভাত বা পরোটার সাথে পরিবেশন করা হয়। এটি দুপুরের বা রাতের খাবারে সিলেট অঞ্চলে অপরিহার্য। বিশেষ করে আত্মীয়-স্বজনের আপ্যায়নে কিংবা ঈদের দিনে এই পদটি পরিবেশনের মাধ্যমে বাঙালি আতিথেয়তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

পরামর্শ

[সম্পাদনা]
  • সাতকরার ফলিগুলো অনেক সময় তেতো হয়ে যেতে পারে, তাই আগেই কেটে পানি দিয়ে সামান্য সিদ্ধ করে নিতে পারেন।
  • মাংসে বেশি পানি না দিয়ে ধীরে ধীরে রান্না করলে স্বাদ আরও গভীর হয়।
  • সাতকরার গন্ধ অনেক শক্তিশালী, তাই অতিরিক্ত ব্যবহার না করাই ভালো।

স্বাস্থ্য উপকারিতা ও সতর্কতা

[সম্পাদনা]

সাতকরার টক উপাদান হজমে সহায়ক এবং এর ঘ্রাণ লিভার ও পাকস্থলীর কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে বলে স্থানীয়ভাবে বিশ্বাস করা হয়। তবে যাদের গ্যাস্ট্রিক প্রবণতা আছে, তাদের জন্য এই পদটি কম পরিমাণে খাওয়াই ভালো। মাংসের চর্বি থাকায় এটি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

[সম্পাদনা]

সাতকরা মূলত সিলেট অঞ্চলের একটি স্থানীয় ফল, যেটির বৈজ্ঞানিক নাম *Citrus macroptera*. এই ফলটি ঐতিহ্যবাহী রান্নায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে বহু শতাব্দী ধরে। ১৯শ শতকের শুরু থেকেই সিলেটের বাড়িগুলিতে এই পদ পরিবেশনের চল ছিল বলে মনে করেন স্থানীয় ইতিহাসবিদ সাদিক উল্লাহ চৌধুরী।