শ্রীখন্ড
অবয়ব
| শ্রীখন্ড | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | মিষ্টান্ন |
| পরিবেশন | ৪-৫ জন |
| তৈরির সময় | ২০-৩০ মিনিট |
| কষ্টসাধ্য | |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
শ্রীখন্ড
শ্রীখন্ড হলো ভারতের গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন। টক দই থেকে পানি ঝরিয়ে ঘন করে তাতে চিনি, এলাচ ও জাফরান মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। দেখতে মসৃণ ও ক্রিমের মতো এই মিষ্টিটি খেতে অসাধারণ। ঠান্ডা করে পরিবেশন করলে এর স্বাদ আরও বেড়ে যায়। বিয়ে বা যেকোনো উৎসবে পুরির সাথে শ্রীখন্ড পরিবেশন করা একটি বিশেষ রীতি। রান্নার ঝামেলা নেই বললেই চলে; শুধু দই ঝরিয়ে বাকি উপকরণ মিশিয়ে দিলেই হয়ে যায়। গরমের দিনে ফ্রিজ থেকে বের করে ঠান্ডা শ্রীখন্ড খেলে মন জুড়িয়ে যায়। এত সহজ একটি রেসিপি অথচ স্বাদে একদম রেস্তোরাঁর মতো।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| নাম | উপকরণ |
|---|---|
| টক দই (ফুল ফ্যাট) | ৫০০ গ্রাম |
| চিনি গুঁড়া | ৪-৫ টেবিল-চামচ (স্বাদমতো) |
| এলাচ গুঁড়া | আধা চা-চামচ |
| জাফরান | এক চিমটি |
| দুধ (গরম) | ২ টেবিল-চামচ (জাফরান গোলানোর জন্য) |
| বাদাম কুচি | ২ টেবিল-চামচ |
| পেস্তা কুচি | ১ টেবিল-চামচ |
| গোলাপ জল | ১ চা-চামচ (না দিলেও চলে) |
| জায়ফল গুঁড়া | এক চিমটি (না দিলেও চলে) |
রন্ধনপ্রণালী
[সম্পাদনা]- প্রথমে দই থেকে পানি ঝরানোর কাজটি করুন। একটি পরিষ্কার মসলিন কাপড় বা পাতলা সুতির কাপড়ে দই ঢেলে দিন। কাপড়ের চার কোনা একসাথে মুঠো করে ধরে একটি কলের মাথায় বা হুকে ঝুলিয়ে দিন। নিচে একটি পাত্র রাখুন যাতে পানি পড়ে। এভাবে ৬-৮ ঘণ্টা বা সারারাত ঝুলিয়ে রাখুন। দই থেকে সব পানি ঝরে গেলে কাপড়ের ভেতরে যা থাকবে সেটাই হলো চাকা। এটি দেখতে অনেকটা পনিরের মতো ঘন ও শক্ত হবে। দই যত ভালো করে ঝরানো হবে শ্রীখন্ড তত মসৃণ ও ঘন হবে।
- দুই টেবিল-চামচ গরম দুধে জাফরান ভিজিয়ে রাখুন। ২-৩ মিনিট পর দুধ সুন্দর হলুদ রঙ ধারণ করবে এবং জাফরানের সুগন্ধ বের হবে। এটি একপাশে রেখে দিন।
- ঝরানো দই একটি বড় পাত্রে নিন। তাতে চিনি গুঁড়া দিয়ে চামচ বা হাতের বেটার দিয়ে ভালো করে ফেটে নিন। চিনি সম্পূর্ণ মিশে যাওয়া পর্যন্ত ফেটাতে থাকুন। ফেটানো হলে দই মসৃণ ও হালকা হয়ে আসবে। চাইলে হ্যান্ড ব্লেন্ডার বা ইলেকট্রিক বিটার দিয়েও ফেটাতে পারেন, তাহলে আরও মসৃণ হবে।
- এবার জাফরান মেশানো দুধ, এলাচ গুঁড়া, গোলাপ জল ও জায়ফল গুঁড়া দিয়ে আবার ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণের রঙ হালকা হলুদ ও সুগন্ধি হয়ে উঠবে। এবার অর্ধেক বাদাম কুচি ও পেস্তা কুচি মিশিয়ে দিন। বাকি অর্ধেক উপরে সাজানোর জন্য রেখে দিন।
- শ্রীখন্ড একটি পরিষ্কার পাত্রে বা বাটিতে ঢেলে ঢাকনা দিয়ে ফ্রিজে কমপক্ষে ২ ঘণ্টা রাখুন। ঠান্ডা হলে শ্রীখন্ড আরও ঘন ও মজাদার হবে। পরিবেশনের আগে ফ্রিজ থেকে বের করে ছোট বাটিতে ঢেলে উপরে বাকি বাদাম কুচি ও পেস্তা কুচি ছড়িয়ে দিন।
ঠান্ডা শ্রীখন্ড বাটিতে ঢেলে উপরে বাদাম ও পেস্তা কুচি ছড়িয়ে গরম পুরির সাথে পরিবেশন করুন
পরামর্শ
[সম্পাদনা]- ফুল ফ্যাট দই ব্যবহার করলে শ্রীখন্ড বেশি ঘন ও ক্রিমি হয়, কম চর্বির দই দিলে ততটা ভালো হয় না।
- দই ভালো করে না ঝরালে শ্রীখন্ড পাতলা ও জলো হয়ে যাবে। তাই তাড়া থাকলেও কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা ঝরাতে হবে।
- চিনি গুঁড়া না থাকলে সাধারণ চিনি ব্লেন্ডারে গুঁড়া করে নিন, দানা চিনি দিলে ঠিকমতো মিশবে না।
- শ্রীখন্ড ফ্রিজে ৩-৪ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে, তাই আগের দিন বানিয়ে রাখলে পরের দিন আরও বেশি সুস্বাদু লাগে।
- আমের মৌসুমে পাকা আমের পাল্প মিশিয়ে দিলে আমরকন্ড বা আম শ্রীখন্ড তৈরি হয়, যা অত্যন্ত সুস্বাদু।
- পেস্তার বদলে কেশর বা গোলাপের পাপড়িও উপরে সাজানোর জন্য ব্যবহার করা যায়।