রন্ধনপ্রণালী:লালমোহন
অবয়ব
| লালমোহন | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | মিষ্টি |
| পরিবেশন | ৪–৬ জন (১২–১৫টি লালমোহন) |
| খাদ্য শক্তি | প্রায় ২৮০ কিলোক্যালরি (প্রতি পরিবেশন) |
| তৈরির সময় | ৭০–১০০ মিনিট |
| কষ্টসাধ্য | |
| টীকা | গুঁড়া দুধ ও ছানা দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী নরম ও রসালো লালমোহন |
লালমোহন দক্ষিণ এশিয়ার একটি জনপ্রিয় মিষ্টান্ন, যা বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানে প্রচলিত। এটি মূলত গুলাব জামুনের একটি বৈচিত্র্য, যা ছানা বা গুঁড়া দুধ, ময়দা, সুজি, বেকিং পাউডার, ঘি ও ডিম দিয়ে তৈরি হয়। মিশ্রণটি ছোট ছোট বল আকারে গড়ে ডুবো তেলে ভাজা হয় এবং তারপর এলাচ ও গোলাপজল মেশানো চিনির সিরায় ভিজিয়ে পরিবেশন করা হয়। লালমোহন সাধারণত উৎসব, অতিথি আপ্যায়ন বা বিশেষ উপলক্ষে পরিবেশিত হয়।
উপকরণ
[সম্পাদনা]প্রকৃত উপায় অবলম্বন করলে
[সম্পাদনা]| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| ছানা | ১ কাপ |
| ময়দা | ৩ টেবিল-চামচ |
| সুজি | ১ টেবিল-চামচ |
| বেকিং পাউডার | ১/২ চা-চামচ |
| ঘি | ১ টেবিল-চামচ |
| ডিম | ১টি |
| চিনি (সিরার জন্য) | ২ কাপ |
| পানি (সিরার জন্য) | ৪ কাপ |
| এলাচ | ২–৩টি |
| গোলাপজল (ঐচ্ছিক) | ১ চা-চামচ |
| তেল বা ঘি (ভাজার জন্য) | পরিমাণমতো |
বিকল্প উপায় অবলম্বন করলে
[সম্পাদনা]| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| গুঁড়া দুধ | ১ কাপ |
| ময়দা | ২ টেবিল-চামচ |
| সুজি | ১ টেবিল-চামচ |
| বেকিং পাউডার | ১/২ চা-চামচ |
| ঘি | ১ চা-চামচ |
| ডিম | ১টি |
| চিনি (সিরার জন্য) | ২ কাপ |
| পানি (সিরার জন্য) | ৪ কাপ |
| এলাচ | ২–৩টি |
| গোলাপজল (ঐচ্ছিক) | ১ চা-চামচ |
| তেল বা ঘি (ভাজার জন্য) | পরিমাণমতো |
রন্ধনপ্রণালী
[সম্পাদনা]প্রকৃত উপায় অবলম্বন করলে
[সম্পাদনা]- একটি বড় বাটিতে ছানা, ময়দা, সুজি, বেকিং পাউডার ও ঘি মিশিয়ে নিন।
- ডিম ফেটে মিশ্রণে যোগ করুন এবং ভালোভাবে মেখে নরম ডো তৈরি করুন।
- ডো থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করুন, যাতে ফাটল না থাকে।
- একটি প্যানে তেল বা ঘি গরম করে মাঝারি আঁচে বলগুলো ডুবো তেলে ভাজুন যতক্ষণ না সেগুলো গাঢ় বাদামী রঙের হয়।
- একটি আলাদা প্যানে চিনি, পানি ও এলাচ দিয়ে সিরা তৈরি করুন। চিনি গলে গেলে গোলাপজল যোগ করুন এবং চুলা বন্ধ করুন।
- ভাজা বলগুলো গরম সিরায় ডুবিয়ে ১ ঘণ্টা রাখুন, যাতে সেগুলো রস শোষণ করে।
- সিরা থেকে তুলে পরিবেশন করুন।
বিকল্প উপায় অবলম্বন করলে
[সম্পাদনা]- একটি বড় বাটিতে গুঁড়া দুধ, ময়দা, সুজি, বেকিং পাউডার ও ঘি মিশিয়ে নিন।
- ডিম ফেটে মিশ্রণে যোগ করুন এবং ভালোভাবে মেখে নরম ডো তৈরি করুন।
- ডো থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করুন, যাতে ফাটল না থাকে।
- একটি প্যানে তেল বা ঘি গরম করে মাঝারি আঁচে বলগুলো ডুবো তেলে ভাজুন যতক্ষণ না সেগুলো গাঢ় বাদামী রঙের হয়।
- একটি আলাদা প্যানে চিনি, পানি ও এলাচ দিয়ে সিরা তৈরি করুন। চিনি গলে গেলে গোলাপজল যোগ করুন এবং চুলা বন্ধ করুন।
- ভাজা বলগুলো গরম সিরায় ডুবিয়ে ১ ঘণ্টা রাখুন, যাতে সেগুলো রস শোষণ করে।
- সিরা থেকে তুলে পরিবেশন করুন।
পরিবেশন
[সম্পাদনা]লালমোহন সাধারণত ঠান্ডা বা কুসুম গরম অবস্থায় পরিবেশন করা হয়। এটি উপরে পেস্তা বা বাদাম কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করলে আরও আকর্ষণীয় হয়।
পরামর্শ
[সম্পাদনা]- ডো মাখার সময় অতিরিক্ত পানি বা দুধ ব্যবহার করবেন না; ডোটি নরম হলেও আঠালো না হওয়া উচিত।
- ভাজার সময় তেলের তাপমাত্রা মাঝারি রাখুন; তেল খুব গরম হলে মিষ্টির বাইরের অংশ পুড়ে যেতে পারে এবং ভিতরে কাঁচা থাকতে পারে।
- সিরা হালকা গরম থাকতে মিষ্টি ডুবান, এতে রস ভালোভাবে শোষিত হবে।
পুষ্টিগুণ ও সতর্কতা
[সম্পাদনা]লালমোহন উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত মিষ্টি, যা প্রধানত কার্বোহাইড্রেট এবং চর্বি থেকে আসে। একটি মিষ্টিতে প্রায় ২৮০ কিলোক্যালরি থাকতে পারে। ডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।