বিষয়বস্তুতে চলুন

লাউয়ের খোসা ভাজি

উইকিবই থেকে
লাউয়ের খোসা ভাজি
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ ভাজি
পরিবেশন ৩-৪ জন
তৈরির সময় ৩০ মিনিট
কষ্টসাধ্য

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

লাউয়ের খোসা ভাজি

লাউয়ের খোসা ভাজি একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর তরকারি। এটি সাধারণত লাউয়ের মূল অংশ দিয়ে তরকারি রান্না করার পর ফেলে দেওয়া খোসা দিয়ে তৈরি করা হয়, যা একে একটি চমৎকার অপচয় রোধী খাবারের মর্যাদা দিয়েছে। অত্যন্ত কম খরচে ও সহজ উপকরণে তৈরি এই ভাজিটি গরম ভাতের সাথে অসাধারণ মানিয়ে যায়। লাউয়ের খোসায় বিদ্যমান আঁশ বা ফাইবার হজমে সহায়তা করে এবং শরীর ঠান্ডা রাখে। এই রন্ধনপ্রণালীতে লাউয়ের খোসা ভাজি তৈরির সম্পূর্ণ পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হয়েছে, যাতে যে কেউ এটি রান্না করতে পারেন এবং এর স্বাদ উপভোগ করতে পারেন। এটি নিরামিষ, সহজপাচ্য এবং স্বাস্থ্যকর একটি পদ, যা বাংলাদেশের গ্রামীণ খাদ্য সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এছাড়াও এটি ডায়াবেটিক ও কম ক্যালোরির খাদ্য তালিকায় রাখা যায়।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
নাম উপকরণ
লাউয়ের খোসা (কচি ও নরম অংশ) ২ কাপ (ছোট টুকরো করে কাটা)
আলু (মাঝারি) ১টি (ছোট কিউব করে কাটা, ঐচ্ছিক)
পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ
কাঁচা মরিচ ফালি ৩-৪টি
শুকনা মরিচ ২টি
সরিষার তেল ২ টেবিল-চামচ
সরিষা ফোড়ন আধা চা-চামচ
হলুদের গুঁড়া আধা চা-চামচ
লবণ স্বাদমতো
ধনে পাতা কুচি ১ টেবিল-চামচ (সাজানোর জন্য)

রন্ধনপ্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. প্রথমে লাউয়ের খোসা প্রস্তুতির পদ্ধতি জেনে নেওয়া জরুরি। একটি শক্ত, মাঝারি আকারের কচি লাউ নিতে হবে। পাকা বা শক্ত লাউ হলে খোসা শক্ত ও তিতা হয়ে যেতে পারে, যা ভাজির স্বাদ নষ্ট করবে। লাউটি ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর একটি ধারালো ছুরি বা পিলার দিয়ে লাউয়ের উপরের শক্ত, গাঢ় সবুজ ত্বকটি সাবধানে ফেলে দিন। আমাদের আসলে দরকার ত্বকের ঠিক নিচের নরম, হালকা সবুজ সাদা অংশটি। ছুরি দিয়ে এই অংশটুকু মোটা করে চেঁছে তুলে নিন। এই চেঁছে তোলা নরম খোসাই ভাজির মূল উপকরণ। খেয়াল রাখতে হবে খোসা যেন বেশি পাতলা না হয়, এতে ভাজির মজা কমে যায়। এবার চেঁছে তোলা খোসাগুলো ছোট ছোট টুকরো করে কেটে পানিতে ধুয়ে পানি সম্পূর্ণ ঝরিয়ে নিন।
  2. রান্নার প্রস্তুতির জন্য প্রথমে চুলায় একটি কড়াই বা ফ্রাইং প্যান বসিয়ে মাঝারি আঁচে গরম হতে দিন। কড়াই গরম হলে সরিষার তেল ঢেলে দিন। সরিষার তেল তার নিজস্ব ঘ্রাণ ও স্বাদের জন্য এই ভাজিতে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। তবে চাইলে যে কোনো ভেজিটেবল তেল বা সাদা তেলও ব্যবহার করতে পারেন। তেল গরম হলে প্রথমে শুকনা মরিচ ছিঁড়ে দিয়ে দিন এবং সাথে সাথেই সরিষার ফোড়ন দিন। সরিষা ফুটতে শুরু করা মাত্রই পেঁয়াজ কুচি দিয়ে দিন। পেঁয়াজ হালকা সোনালি রঙ ধারণ করা পর্যন্ত ভাজুন, খেয়াল রাখবেন যেন পুড়ে না যায়।
  3. পেঁয়াজ ভাজা হয়ে গেলে চুলার আঁচ কিছুটা কমিয়ে দিন, যাতে মসলা পুড়ে তেতো না হয়ে যায়। এবার কড়াইতে হলুদের গুঁড়া এবং স্বাদমতো লবণ ছড়িয়ে দিন। একটি চামচের সাহায্যে ১০-১৫ সেকেন্ড নাড়ুন, যতক্ষণ না কাঁচা হলুদের গন্ধ চলে যায়। আপনি যদি আলু ব্যবহার করতে চান, তাহলে এই ধাপেই আলুর ছোট কিউবগুলো কড়াইতে দিয়ে দিন। আলু দিলে ভাজির স্বাদ ও পরিমাণ দুটোই বাড়ে, এটি সম্পূর্ণ আপনার পছন্দের উপর নির্ভরশীল। আলু দিলে পেঁয়াজ ও মসলার সাথে আলু ভালো করে মিশিয়ে ২ মিনিট ঢেকে রান্না করুন, যাতে আলু কিছুটা নরম হয়ে আসে। আলু না দিলে এই ধাপটি এড়িয়ে যান।
  4. এরপর কড়াইতে পানি ঝরানো লাউয়ের খোসার টুকরোগুলো ঢেলে দিন। উপরে কাঁচা মরিচ ফালি ছড়িয়ে দিন। একটি বড় চামচ বা খুন্তি দিয়ে সব উপকরণ খুব ভালোভাবে নেড়েচেড়ে মিশিয়ে নিন, যাতে প্রতিটি খোসার টুকরোতে তেল ও মসলার প্রলেপ লেগে যায়। এই ভাজির মূল সৌন্দর্যই হলো শুকনা ধরনের রান্না, তাই এতে পানি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। লাউয়ের খোসা নিজেই রান্নার সময় কিছুটা পানি ছাড়বে, সেই পানিতেই এটি সেদ্ধ হবে। পুরো মিশ্রণটি নেড়ে চুলার আঁচ কমিয়ে কড়াইয়ের উপর একটি শক্ত ঢাকনা চাপা দিন।
  5. মাঝারি থেকে নিম্ন আঁচে ৫-৭ মিনিট ঢেকে রান্না করতে দিন। এর মাঝে একবার ঢাকনা খুলে নেড়ে দিন, যাতে ভাজি কড়াইয়ের নিচে লেগে না যায়। এই সময়ের মধ্যেই খোসাগুলো নরম হয়ে যাবে এবং সেদ্ধ হবে। ৭ মিনিট পর ঢাকনা তুলে ফেলুন। যদি দেখেন খোসা সেদ্ধ হয়েছে কিন্তু কড়াইতে পানি আছে, তাহলে চুলার আঁচ বাড়িয়ে দিন। একটি খুন্তি দিয়ে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন, যতক্ষণ না সম্পূর্ণ পানি শুকিয়ে যায় এবং ভাজিটি একটি শুকনো, ঝরঝরে চেহারা নেয়। এই প্রক্রিয়াটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পানির পরিমাণ ঠিকমতো না শুকালে ভাজির স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়।
  6. সবশেষে, ভাজির পানি সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে এবং তেল উপরে উঠে এলে আরও ১-২ মিনিট নাড়তে থাকুন, এতে ভাজিতে হালকা মচমচে ভাব আসবে। স্বাদ পরীক্ষা করে প্রয়োজন হলে লবণ দিন। চুলা বন্ধ করে দিন এবং উপরে সতেজ ধনে পাতা কুচি ছড়িয়ে আলতো করে মিশিয়ে নিন। ধনে পাতা ভাজিতে এক অনন্য তাজা সুবাস ও স্বাদ যোগ করবে।
গরম গরম সাদা ভাত, ডাল ও কাঁচা পেঁয়াজ-মরিচের টুকরো দিয়ে লাউয়ের খোসা ভাজি পরিবেশন করুন। এটি অত্যন্ত সহজ ও সুস্বাদু একটি ব্যাঞ্জন।

পরামর্শ

[সম্পাদনা]

লাউয়ের খোসা ভাজি তৈরির জন্য অবশ্যই কচি লাউ বেছে নিন। আপনি যদি এর সাথে আলু ছাড়াও অন্য সবজি যেমন ঝিঙে বা উচ্ছের খোসা মেশাতে পারেন, তবে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ দুই-ই বেড়ে যাবে। এটি রান্নার পরদিনও সমান সুস্বাদু থাকে, তাই টিফিনের জন্যও এটি আদর্শ। যাঁরা ঝাল কম পছন্দ করেন, তাঁরা কাঁচা মরিচের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারেন। এই ভাজি সরিষার তেলের ঘ্রাণেই সবচেয়ে ভালো লাগে, তাই সরিষার তেল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হলো।