মসলা ছাস
অবয়ব
| মসলা ছাস | |
|---|---|
| পরিবেশন | ৩-৪ জন |
| তৈরির সময় | ৫-১০ মিনিট |
| কষ্টসাধ্য | |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
মসলা ছাস
মসলা ছাস ভারতীয় উপমহাদেশের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পানীয়। টক দই থেকে তৈরি এই ঘোলের মধ্যে নানা রকম মশলা মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। গুজরাট ও রাজস্থানে খাবারের সাথে মসলা ছাস পরিবেশন করা একটি পুরনো ঐতিহ্য। গরমের দিনে এক গ্লাস ঠান্ডা মসলা ছাস শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা করে এবং হজমশক্তি বাড়ায়। ভারী খাবারের পর মসলা ছাস পান করলে পেট হালকা লাগে। জিরা ও পুদিনার সুগন্ধে তৈরি এই পানীয় একবার খেলে বারবার খেতে ইচ্ছে করে। বানাতে সময় লাগে মাত্র কয়েক মিনিট, উপকরণও খুব সাধারণ। বাড়িতে দই থাকলে সহজেই এটি বানাতে পারবেন।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| নাম | উপকরণ |
|---|---|
| টক দই | ১ কাপ |
| ঠান্ডা পানি | ২ কাপ |
| ভাজা জিরা গুঁড়া | ১ চা-চামচ |
| কাঁচা মরিচ | ১টি (না দিলেও চলে) |
| আদা কুচি | আধা ইঞ্চি টুকরো |
| পুদিনা পাতা | ৮-১০টি |
| ধনেপাতা কুচি | ১ টেবিল-চামচ |
| লবণ | স্বাদমতো |
| বিট লবণ | আধা চা-চামচ (না দিলেও চলে) |
| লেবুর রস | ১ চা-চামচ (না দিলেও চলে) |
| কাঁচা আমের গুঁড়া (আমচুর) | আধা চা-চামচ (না দিলেও চলে) |
| বরফ কুচি | পরিমাণমতো (পরিবেশনের জন্য) |
রন্ধনপ্রণালী
[সম্পাদনা]- প্রথমে জিরা ভেজে নিন। একটি শুকনো প্যানে জিরা কম আঁচে নাড়তে নাড়তে হালকা বাদামি রঙ না হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। ভাজা জিরা থেকে সুন্দর সুগন্ধ বের হবে। নামিয়ে ঠান্ডা করে শিলপাটায় বা ব্লেন্ডারে মিহি গুঁড়া করুন। ভাজা জিরার গুঁড়া মসলা ছাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ; এটি না দিলে আসল স্বাদ পাওয়া যাবে না। বেশি করে বানিয়ে কৌটায় রেখে দিলে পরের বারও কাজে লাগবে।
- এবার ব্লেন্ডারে দই, ঠান্ডা পানি, কাঁচা মরিচ, আদা কুচি, পুদিনা পাতা ও ধনেপাতা কুচি দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করুন। ব্লেন্ড করলে পুদিনা ও ধনেপাতার রঙ মিশে ছাসের রঙ হালকা সবুজ হয়ে যাবে এবং দেখতে সুন্দর লাগবে। ব্লেন্ডার না থাকলে হাতের বেটার বা মাথন দিয়েও ভালো করে ফেটিয়ে নিতে পারেন।
- ব্লেন্ড করা মিশ্রণে ভাজা জিরার গুঁড়া, লবণ, বিট লবণ, আমচুর ও লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। একবার চেখে দেখুন। টক, ঝাল ও নোনতার সঠিক ভারসাম্য আছে কিনা নিশ্চিত করুন। যে স্বাদ বেশি দরকার সেটা একটু বাড়িয়ে নিন।
- পরিবেশনের গ্লাসে বরফ কুচি দিয়ে তার উপর মসলা ছাস ঢেলে দিন। উপরে এক চিমটি ভাজা জিরার গুঁড়া ও একটি পুদিনা পাতা দিয়ে সাজিয়ে সাথে সাথে পরিবেশন করুন।
বরফ দেওয়া গ্লাসে ঢেলে উপরে জিরার গুঁড়া ও পুদিনা পাতা দিয়ে সাজিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা মসলা ছাস পরিবেশন করুন
পরামর্শ
[সম্পাদনা]- দই যত টাজা ও ঘন হবে মসলা ছাস তত সুস্বাদু হবে। পুরনো বা টক দই দিলে ছাস বেশি টক হয়ে যাবে।
- পানির পরিমাণ কম দিলে ছাস ঘন হবে, বেশি দিলে পাতলা হবে। নিজের পছন্দমতো ঠিক করুন।
- বিট লবণ না থাকলে শুধু সাধারণ লবণ দিলেও হয়, তবে বিট লবণে একটি বিশেষ স্বাদ আসে।
- বানানোর সাথে সাথে পান করলে সবচেয়ে ভালো লাগে। ফ্রিজে রাখলে উপরে ফেনা বসে যায় তাই পরিবেশনের আগে আবার নেড়ে নিন।
- ঝাল কম চাইলে কাঁচা মরিচ বাদ দিন, আর বেশি চাইলে দুটো মরিচ দিন।
- মসলা ছাসে একটু গোলাপ জল বা কেওড়া জল দিলে পানীয়টি আরও সুগন্ধি হয়।