বেসনের চপ
| বেসনের চপ | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | বাঙালি নাস্তা, ভাজাভুজি |
| পরিবেশন | ৪-৫ জন |
| খাদ্য শক্তি | প্রায় ৩০০ কিলোক্যালরি (প্রতি পরিবেশন) |
| তৈরির সময় | ২০ মিনিট |
| কষ্টসাধ্য | |
| টীকা | জনপ্রিয় বাঙালি চা-নাস্তার একটি অংশ, বিশেষ করে বর্ষাকাল ও শীতকালে এটি বেশি জনপ্রিয়। |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
বেসনের চপ হলো একটি জনপ্রিয় বাঙালি স্ন্যাক বা নাস্তা, যা প্রধানত সেদ্ধ আলু ও বেসনের মোড়কে তৈরি একটি ভাজা খাবার। এটি সাধারণত বিকেলের চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। বর্ষাকালীন দিনে গরম গরম বেসনের চপ খাওয়ার মজাই আলাদা। এটি ঘরোয়া উপকরণে সহজেই তৈরি করা যায় এবং স্বাদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
উপকরণ
[সম্পাদনা]ভিতরের পুর বা ফিলিং এর জন্য
[সম্পাদনা]- সেদ্ধ আলু – ৩-৪টি মাঝারি আকারের (চটকে নেওয়া)
- পেঁয়াজ – ১টি (সূক্ষ্ম কুচি)
- কাঁচা লঙ্কা – ২-৩টি (সূক্ষ্ম কুচি)
- ধনে পাতা – ২ টেবিল চামচ (কুচি করা)
- আদা – ১ চা চামচ (কুচানো বা বাটা)
- জিরা গুঁড়ো – ১/২ চা চামচ
- চাট মসলা – ১/২ চা চামচ (ঐচ্ছিক, স্বাদ বাড়ানোর জন্য)
- বিট লবণ – ১/৪ চা চামচ
- সাধারণ লবণ – স্বাদমতো
- লাল মরিচ গুঁড়ো – ১/৪ চা চামচ (ঐচ্ছিক)
বাইরের আবরণ বা বেসনের গোলার জন্য
[সম্পাদনা]- বেসন – ১ কাপ (প্রথমে চালনিতে চেলে নিন)
- চালের গুঁড়ো – ২ টেবিল চামচ (চপকে ক্রিস্পি করার জন্য)
- হলুদ গুঁড়ো – ১/৪ চা চামচ
- লাল মরিচ গুঁড়ো – ১/২ চা চামচ
- বেকিং সোডা – ১ চিমটি (সফট করার জন্য)
- লবণ – স্বাদমতো
- জল – প্রয়োজন অনুযায়ী (ঘন গোলা তৈরি করতে)
ভাজার জন্য
[সম্পাদনা]- সাদা তেল – প্রয়োজনমতো (ডিপ ফ্রাই করার জন্য)
প্রস্তুত প্রণালি
[সম্পাদনা]ধাপ ১: পুর তৈরি
[সম্পাদনা]- প্রথমে সেদ্ধ আলুগুলো ভালোভাবে চটকে নিন যাতে কোনো গাঁট না থাকে।
- চটকে নেওয়া আলুর মধ্যে কুচানো পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা, আদা, ধনে পাতা, জিরা গুঁড়ো, চাট মসলা, লবণ, বিট লবণ এবং ঐচ্ছিকভাবে সামান্য লাল মরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে ভালোভাবে মেখে নিন।
- মিশ্রণটি সমানভাবে হাতে নিয়ে গোল বল বা ডিম্বাকৃতি চপ আকারে গড়ে নিন।
- চাইলে মাঝখানে সামান্য কিসমিস বা বাদাম রাখলে বিশেষ স্বাদ আসে (ঐচ্ছিক)।
ধাপ ২: বেসনের গোলা তৈরি
[সম্পাদনা]- একটি পাত্রে বেসন, চালের গুঁড়ো, হলুদ গুঁড়ো, লাল মরিচ গুঁড়ো, বেকিং সোডা ও লবণ মিশিয়ে জল দিয়ে একটি ঘন ব্যাটার তৈরি করুন। ব্যাটারটি খুব পাতলা বা খুব ঘন না হয় তা খেয়াল রাখবেন।
- চাইলে সামান্য তেল ও ১ চা চামচ চাট মসলা ব্যাটারে মিশিয়ে নিতে পারেন অতিরিক্ত স্বাদের জন্য।
- ব্যাটারটি ৫-৭ মিনিট রেখে দিন, এতে এটি আরও মসৃণ ও ফ্লাফি হবে।
ধাপ ৩: চপ ভাজা
[সম্পাদনা]- কড়াইতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল গরম করুন। তেল যথেষ্ট গরম হলে আঁচ মাঝারি করুন।
- প্রতিটি চপকে ব্যাটারে ডুবিয়ে ভালোভাবে মোড়ক দিন।
- ব্যাটার-মোড়ানো চপগুলো গরম তেলে দিয়ে দিন এবং মাঝারি আঁচে ভাজুন যতক্ষণ না তা সোনালি বাদামি রঙ ধারণ করে।
- ভাজা হয়ে গেলে টিস্যু পেপারে তুলে তেল ঝরিয়ে নিন।
পরিবেশন
[সম্পাদনা]বেসনের চপ গরম গরম পরিবেশন করুন টমেটো সস, মেঠা চাটনি, পুদিনা চাটনি বা কাঁচা লঙ্কা ও পেঁয়াজ কুচির সাথে। এর সাথে এক কাপ গরম চা পরিবেশন করলে বিকেলটি হয়ে উঠবে উপভোগ্য।
পরামর্শ
[সম্পাদনা]- ব্যাটারে একটু চালের গুঁড়ো বা সেমোলিনা (সুজি) মেশালে চপ আরও খাস্তা হবে।
- তেলে দেওয়ার আগে ব্যাটারটি ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। এতে চপগুলো ফুলে ওঠে।
- পুরে চাইলে সেদ্ধ সবজি যেমন গাজর, বেবি কর্ন বা সিম যোগ করতে পারেন।
- ডিপ ফ্রাই করার সময় তেল বেশি গরম হলে বাইরের অংশ পুড়ে যাবে এবং ভেতর কাঁচা থেকে যাবে, তাই মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে ভাজা ভালো।
ঐতিহ্য
[সম্পাদনা]বেসনের চপ বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী বিকেলের খাবার। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের রাস্তার ধারে টি-স্টলে বা চায়ের দোকানে এই চপ প্রায়শই বিক্রি হয়। এটি সাধারণত বর্ষাকালে বৃষ্টির দিনে খেতে আরও উপভোগ্য।
