বিষয়বস্তুতে চলুন

বেগুন দিয়ে শুঁটকি ভুনা

উইকিবই থেকে
বেগুন দিয়ে শুঁটকি ভুনা
পরিবেশন ৪-৫ জন
তৈরির সময় ৩০-৪০ মিনিট
কষ্টসাধ্য

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

বেগুন দিয়ে শুঁটকি ভুনা

বেগুন দিয়ে শুঁটকি ভুনা বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, ঐতিহ্যবাহী এবং জিভে জল আনা মুখরোচক পদ। সাধারণত চ্যাপা শুঁটকি, লইট্যা শুঁটকি বা চিংড়ি শুঁটকি দিয়ে বেগুন রান্নার এই চলটি এদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই দেখা যায়, তবে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। শুঁটকির তীব্র ও তীব্র সুবাসের সাথে বেগুনের নরম ও রসালো টেক্সচার মিলে এক অনন্য স্বাদের সৃষ্টি হয়। এই রান্নায় ঝাল এবং পেঁয়াজ-রসুনের ব্যবহার কিছুটা বেশি করা হয়, যা শুঁটকির স্বাদকে আরও বাড়িয়ে তোলে। গরম গরম ভাতের সাথে এই পদটি অতুলনীয় এবং যারা শুঁটকি খেতে পছন্দ করেন, তাদের কাছে এটি অন্যতম সেরা একটি খাবার।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
নাম উপকরণ
বেগুন (মাঝারি কিউব করে কাটা) ৩ কাপ
শুঁটকি (চ্যাপা, লইট্যা বা পছন্দমতো) ৫-৬টি
পেঁয়াজ কুচি ১.৫ কাপ
রসুন কোয়া (আস্ত বা ফালি করা) আধা কাপ
রসুন বাটা ১ টেবিল-চামচ
কাঁচা মরিচ ফালি ১০-১২টি (স্বাদ অনুযায়ী)
হলুদ গুঁড়া ১ চা-চামচ
মরিচ গুঁড়া ২ চা-চামচ (ঝাল নিজের পছন্দমতো)
ধনে গুঁড়া ১ চা-চামচ
লবণ স্বাদমতো
সয়াবিন বা সরিষার তেল ৪ টেবিল-চামচ
গরম পানি পরিমাণমতো

রন্ধনপ্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. প্রথমে শুঁটকিগুলোর মাথা ও ভেতরের অংশ পরিষ্কার করে নিন। এরপর হালকা গরম পানিতে ৫-১০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে খুব ভালো করে ধুয়ে নিন, যেন কোনো বালি বা ময়লা না থাকে। লইট্যা শুঁটকি হলে ধোয়ার পর ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে।
  2. কাটা বেগুনগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। চাইলে সামান্য হলুদ ও লবণ দিয়ে হালকা মেখে রাখা যেতে পারে।
  3. এবার একটি প্যানে তেল গরম করুন। তেল গরম হলে প্রথমে পরিষ্কার করে রাখা শুঁটকিগুলো দিয়ে মাঝারি আঁচে ২-৩ মিনিট হালকা ভেজে নিন। এতে শুঁটকির চমৎকার সুঘ্রাণ বের হবে।
  4. ভেজে নেওয়া শুঁটকির মধ্যে পেঁয়াজ কুচি এবং রসুনের কোয়াগুলো দিয়ে দিন। পেঁয়াজ ও রসুন নরম হয়ে হালকা সোনালি রঙ ধারণ করা পর্যন্ত নাড়তে থাকুন।
  5. এরপর এতে রসুন বাটা, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, ধনে গুঁড়া এবং স্বাদমতো লবণ দিন। সামান্য গরম পানি যোগ করে মসলাটি মাঝারি আঁচে ৪-৫ মিনিট খুব ভালো করে কষিয়ে নিন, যতক্ষণ না মসলার ওপর তেল ভেসে ওঠে।
  6. মসলা কষানো হয়ে গেলে কেটে রাখা বেগুন এবং কাঁচা মরিচের ফালিগুলো কড়াইতে দিয়ে দিন। মসলার সাথে বেগুন খুব আলতো হাতে মিশিয়ে নিন যেন বেগুনগুলো ভেঙে না যায়।
  7. মাঝারি আঁচে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। বেগুন থেকে কিছুটা পানি বের হবে। মাঝে মাঝে ঢাকনা খুলে আলতো করে নেড়ে দিন যেন তলানিতে লেগে না যায়।
  8. বেগুনের পানি শুকিয়ে এলে এতে সামান্য গরম পানি (আন্দাজ আধা কাপ) দিন, যাতে বেগুন পুরোপুরি সেদ্ধ হয় এবং মাখা মাখা গ্রেভি তৈরি হয়।
  9. চুলার আঁচ কমিয়ে আরও ৫-৭ মিনিট দমে রাখুন। যখন বেগুন নরম হয়ে সিদ্ধ হয়ে যাবে এবং তেল পুরোপুরি ওপরে ভেসে উঠবে, তখন চুলা বন্ধ করে দিন।
ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সাথে তৃপ্তি করে পরিবেশন করুন জিভে জল আনা বেগুন দিয়ে শুঁটকি ভুনা।

পরামর্শ

[সম্পাদনা]
  • শুঁটকি ধোয়ার সময় অবশ্যই ভালো করে লক্ষ্য করবেন যেন কোনো বালি না থাকে। চ্যাপা শুঁটকি হলে কুসুম গরম পানিতে ধোয়া সবচেয়ে ভালো, তবে অতিরিক্ত গরম পানি দিলে শুঁটকি গলে যেতে পারে।
  • এই রান্নায় সাধারণ তেলের চেয়ে খাঁটি সরিষার তেল ব্যবহার করলে শুঁটকি ভুনার স্বাদ ও সুগন্ধ বহুগুণ বেড়ে যায়।
  • বেগুন খুব দ্রুত সেদ্ধ হয়ে যায় এবং গলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই রান্নার সময় খুব বেশি নাড়াচাড়া করা যাবে না। আলতো করে উল্টেপাল্টে দিতে হবে।
  • শুঁটকি রান্নায় ঝাল একটু বেশি হলে খেতে ভালো লাগে। তবে আপনারা আপনাদের স্বাদ অনুযায়ী মরিচের পরিমাণ কম-বেশি করে নিতে পারেন।