বাদাম দুধ
| বাদাম দুধ | |
|---|---|
| পরিবেশন | ৩-৪ জন |
| তৈরির সময় | ১০-১৫ মিনিট |
| কষ্টসাধ্য | |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
বাদাম দুধ একটি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর পানীয় যা কাঁচা বাদাম ভিজিয়ে ব্লেন্ড করে তৈরি করা হয়। যারা গরুর দুধ হজম করতে পারেন না বা নিরামিষ জীবনযাপন করেন, তাদের জন্য বাদাম দুধ একটি দারুণ বিকল্প। এটি ল্যাকটোজমুক্ত হওয়ায় দুগ্ধজাত খাবারে অ্যালার্জি আছে এমন মানুষেরাও নির্ভয়ে পান করতে পারেন। বাদামে রয়েছে ভিটামিন ই, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও স্বাস্থ্যকর চর্বি, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে নিয়মিত বাদাম দুধ পান করা উপকারী বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। চা, কফি বা স্মুদিতে গরুর দুধের বদলেও এটি ব্যবহার করা যায়। বাজারে কিনতে পাওয়া বাদাম দুধের চেয়ে ঘরে তৈরি বাদাম দুধ অনেক বেশি তাজা, ঘন ও সুস্বাদু হয়।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| নাম | উপকরণ |
|---|---|
| কাঁচা বাদাম | ১ কাপ |
| পানি | ৩-৪ কাপ (ব্লেন্ড করার জন্য) |
| পানি | পরিমাণমতো (ভেজানোর জন্য) |
| খেজুর বা মধু | ২-৩টি বা ১-২ চা-চামচ (মিষ্টির জন্য, ঐচ্ছিক) |
| ভ্যানিলা এসেন্স | আধা চা-চামচ (ঐচ্ছিক) |
| এলাচ গুঁড়া | এক চিমটি (ঐচ্ছিক) |
| লবণ | এক চিমটি |
রন্ধনপ্রণালী
[সম্পাদনা]- প্রথমে বাদামগুলো একটি পাত্রে রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর পর্যাপ্ত পানিতে ডুবিয়ে ন্যূনতম ৮-১২ ঘণ্টা বা সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। বাদাম ভেজালে সেগুলো নরম হয়, সহজে ব্লেন্ড হয় এবং পুষ্টিগুণও বেশি পাওয়া যায়। ভেজানো বাদাম ফুলে প্রায় দ্বিগুণ আকার ধারণ করবে।
- ভেজানো শেষ হলে বাদামের পানি ফেলে দিন এবং বাদামগুলো আবার পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন। এরপর বাদামের খোসা ছাড়িয়ে নিন, ভেজানো থাকলে খোসা সহজেই আঙুলের চাপে উঠে আসে। খোসা ছাড়ালে দুধ রঙে সাদা ও স্বাদে মসৃণ হয়। তবে খোসাসহ ব্লেন্ড করলেও সমস্যা নেই, শুধু রঙ সামান্য হালকা বাদামি হবে।
- খোসা ছাড়ানো বাদাম একটি শক্তিশালী ব্লেন্ডারে দিন। সাথে ৩-৪ কাপ পরিষ্কার পানি, এক চিমটি লবণ এবং পছন্দমতো মিষ্টির জন্য খেজুর বা মধু যোগ করুন। খেজুর ব্যবহার করলে আগেই বিচি ফেলে ছোট টুকরো করে নিন। ভ্যানিলা এসেন্স বা এলাচ গুঁড়া দিতে চাইলে এই ধাপেই দিন।
- ব্লেন্ডারের ঢাকনা ভালোভাবে আটকে দিয়ে সর্বোচ্চ গতিতে ১-২ মিনিট ব্লেন্ড করুন। মাঝে একবার ব্লেন্ডার বন্ধ করে পাশের দেয়ালে লেগে থাকা বাদাম স্প্যাচুলা দিয়ে নামিয়ে আবার ব্লেন্ড করুন। ভালোভাবে ব্লেন্ড হলে মিশ্রণটি সাদাটে ও ঘন দেখাবে এবং বাদামের টুকরো আর আলাদা বোঝা যাবে না।
- এবার একটি বড় পাত্রের উপর পরিষ্কার মসলিন কাপড়, পাতলা সুতির কাপড় বা নাট মিল্ক ব্যাগ রাখুন। ব্লেন্ড করা মিশ্রণটি কাপড়ের উপর ঢেলে দিন এবং কাপড়ের চারপাশ মুঠো করে ধরে ভালো করে চেপে চেপে দুধ বের করুন। যতটা সম্ভব চাপ দিয়ে সব দুধ বের করে নিন। কাপড়ে যে বাদামের গুঁড়া থাকবে সেটি ফেলবেন না।
- ছেঁকে নেওয়া দুধ এবার একটি পরিষ্কার বোতল বা কাচের জারে ঢেলে রাখুন। চাইলে এই মুহূর্তে ঠান্ডা করে পরিবেশন করতে পারেন অথবা ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। ঘরে তৈরি বাদাম দুধ ফ্রিজে রাখলে ৩-৪ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে।
- কাপড়ে আটকে থাকা বাদামের গুঁড়া (যাকে বলা হয় বাদামের পাল্প) ফেলে না দিয়ে সংরক্ষণ করুন। এটি কুকিজ, কেক, লাড্ডু বা যেকোনো বেক করা খাবারে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে খাবারের পুষ্টিগুণ বাড়ে এবং কিছুই নষ্ট হয় না।
পরামর্শ
[সম্পাদনা]- বাদাম যত বেশি সময় ভেজানো হবে, দুধ তত বেশি ঘন ও মসৃণ হবে। তাড়া থাকলে কমপক্ষে ৪ ঘণ্টা ভেজাতে হবে।
- পানির পরিমাণ কমিয়ে ২ কাপ দিলে দুধ বেশি ঘন হবে, আর বাড়িয়ে ৫ কাপ দিলে পাতলা হবে, নিজের পছন্দমতো ঠিক করুন।
- মিষ্টি না দিয়ে সাদা বাদাম দুধ তৈরি করলে এটি রান্না, কফি বা স্মুদিতে ব্যবহারের জন্য বেশি উপযুক্ত হয়।
- ফ্রিজে রাখলে দুধ স্বাভাবিকভাবেই আলাদা হয়ে যাবে, পান করার আগে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন।
- কাঁচা বাদামের বদলে ভাজা বাদাম ব্যবহার করলে দুধের রঙ গাঢ় হয় এবং স্বাদে বাদামের ঘ্রাণ বেশি পাওয়া যায়।