বিষয়বস্তুতে চলুন

বড়া খিচুড়ি

উইকিবই থেকে
বড়া খিচুড়ি
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ প্রধান খাবার
পরিবেশন ৫–৬ জন
খাদ্য শক্তি উচ্চ
তৈরির সময় ২ ঘণ্টা
কষ্টসাধ্য
টীকা ব্যতিক্রমধর্মী খাবার যেখানে খিচুড়ির সঙ্গে ডালের বড়া মিশে এক অপূর্ব গ্রামীণ স্বাদ সৃষ্টি করে।

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

বড়া খিচুড়ি

বড়া খিচুড়ি একটি বহু পুরনো গ্রামীণ রান্না, বিশেষত বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের কিছু অঞ্চলে প্রচলিত। এটি তৈরি হয় সুগন্ধি চাল, নানা ধরণের ডাল, মশলা এবং হালকা ভাজা ডালের বড়া দিয়ে, যা মুখে দিলেই গলে যায়। এটি মূলত উৎসব বা বিশেষ দিনেই রান্না হয়, কিন্তু ঠান্ডা দিনে দুপুরবেলার ভারী খাবার হিসেবেও অনবদ্য।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
উপাদান পরিমাণ
বাসমতি বা আতপ চাল ১ কাপ
মুগ ডাল ১/২ কাপ (ভেজে নেওয়া)
পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ
রসুন বাটা ১ চা চামচ
আদা বাটা ১ চা চামচ
শুকনো মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ
গরম মসলা গুঁড়া ১/২ চা চামচ
লবণ স্বাদমতো
সরিষার তেল ৪–৫ টেবিল চামচ
তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ পরিমাণমতো (গন্ধ ও স্বাদের জন্য)
ডালের বড়া তৈরির জন্য:
মসুর ডাল ১ কাপ (৮ ঘণ্টা ভিজানো)
কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ধনে পাতা কুচানো
লবণ ও সামান্য চালের গুঁড়া পরিমাণমতো

প্রস্তুত প্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. প্রথমে মসুর ডাল ধুয়ে ৮ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর পানি ঝরিয়ে ডাল বাটুন। বেশি পানি দেবেন না।
  2. বাটানো ডালে কুচানো পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ধনে পাতা, লবণ ও সামান্য চালের গুঁড়া মিশিয়ে মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করুন। ছোট ছোট গোল বড়া তৈরি করে হালকা তেলে ভেজে নিন।
  3. এবার চাল ও মুগ ডাল ধুয়ে এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন।
  4. একটি পাত্রে সরিষার তেল গরম করে তাতে তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ দিয়ে ফোড়ন দিন। এরপর পেঁয়াজ কুচি দিয়ে বাদামি করে ভেজে আদা-রসুন বাটা দিন।
  5. মসলা কষিয়ে তাতে শুকনো মরিচ, হলুদ ও লবণ দিন। অল্প পানি দিয়ে মসলা ভালোভাবে কষান।
  6. চাল ও ডাল দিয়ে মসলা ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। তাতে ৩ কাপ গরম পানি দিন। ঢাকা দিয়ে রান্না করুন যতক্ষণ না চাল-ডাল সেদ্ধ হয়।
  7. খিচুড়ি হয়ে এলে উপর থেকে ভাজা বড়াগুলো ছড়িয়ে দিন এবং ঢেকে রেখে কিছুক্ষণ দম দিন। বড়াগুলো খিচুড়ির গন্ধে ও বাষ্পে আরও নরম ও সুস্বাদু হয়ে উঠবে।
পরিবেশন করুন টক দই, বেগুন ভাজা বা আম-তেলের আচার দিয়ে।

পরামর্শ

[সম্পাদনা]
  • বড়া ভাজার সময় খুব বেশি তেলে না ভাজলে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
  • বড়াগুলো যদি খিচুড়ির মধ্যে রান্না শেষে মেশান, তবে ভেতরটা কিছুটা মচমচে থাকবে, আর আগে মেশালে নরম হবে—আপনার পছন্দ অনুযায়ী সময় ঠিক করুন।
  • চালের পরিমাণ বাড়ালে পানি অনুপাতে বাড়াতে ভুলবেন না।