বিষয়বস্তুতে চলুন

ফুলকপির ধোকা

উইকিবই থেকে
ফুলকপির ধোকা
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ নিরামিষ
পরিবেশন ৪–৫ জন
খাদ্য শক্তি মধ্যম
তৈরির সময় ২ ঘণ্টা
কষ্টসাধ্য
টীকা ফুলকপির ধোকা একটি বিশেষ ধরণের বাঙালি নিরামিষ পদ, যেখানে ছোলা ডাল ও ফুলকপির মিশ্রণে তৈরি হয় ধোকা বা পাতলা কেকের মত টুকরো, যেগুলো রান্না হয় মশলাদার ঘন তরকারিতে।

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

ফুলকপির ধোকা

ধোকা শব্দটি মানেই বাঙালির নিরামিষ রান্নার এক অনন্য চিত্র। ছোলা ডাল ভিজিয়ে বাটা ও ফুলকপির সংমিশ্রণে তৈরি এই পদ বিশেষ দিনে, যেমন পূজা-পার্বণ কিংবা নিরামিষ দিনের জন্য উপযুক্ত। ফুলকপির ঘ্রাণ আর মসলা মাখা ধোকার ঝাঁঝালো তরকারি মুখরোচক ও স্বাদে পরিপূর্ণ।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
নাম উপাদান
ফুলকপি ১টি (মাঝারি, কুঁচি করে কাটা)
ছোলা ডাল ১ কাপ (রাতে ভিজিয়ে সকালে বেটে নিন)
আদা বাটা ১ টেবিল চামচ
শুকনো লঙ্কা ২টি (বাটা)
মৌরি গুঁড়া ১/২ চা চামচ
জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ
হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ
লবণ স্বাদমতো
চিনি ১/২ চা চামচ
তেজপাতা ১টি
দারুচিনি ও এলাচ ১–২টি করে
শুকনো লঙ্কা ফোড়নের জন্য ১টি
সরিষার তেল প্রয়োজনমতো

প্রস্তুত প্রণালী

[সম্পাদনা]

ধোকা বানানোর ধাপ

[সম্পাদনা]
  1. ছোলা ডাল ভালো করে বেটে নিন (অল্প পানি দিয়ে) যাতে ঘন ও মসৃণ হয়।
  2. একটি হাঁড়িতে সামান্য তেল গরম করে কুচি করা ফুলকপি, আদা বাটা, শুকনো লঙ্কা বাটা, অল্প হলুদ, লবণ দিয়ে ভালোভাবে কষান যতক্ষণ না ফুলকপি নরম হয়ে আসে।
  3. এবার এই ফুলকপির মিশ্রণে ছোলা ডালের বাটা মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিন।
  4. তাতে চিনি, মৌরি ও জিরা গুঁড়া দিন। মিশ্রণটি হালকা শক্ত হয়ে এলে একটি তেলে মাখানো থালায় বা পাতে ঢেলে সমান করে বিছিয়ে দিন।
  5. ঠান্ডা হলে চারকোনা করে কেটে নিন।

ধোকার তরকারি বানানোর ধাপ

[সম্পাদনা]
  1. একটি কড়াইতে তেল গরম করে তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন।
  2. এবার তাতে অল্প আদা বাটা, হলুদ গুঁড়া, লবণ, চিনি দিয়ে কষান। চাইলে অল্প টমেটো ব্যবহার করতে পারেন।
  3. মসলা ভালোভাবে কষানো হলে সামান্য জল দিয়ে দিন এবং ফুটে উঠলে কাটা ধোকার টুকরোগুলো দিয়ে দিন।
  4. ঢেকে দিয়ে ৮–১০ মিনিট রান্না করুন। ধোকা যেন নরম হয় কিন্তু ভেঙে না যায়, সে দিক খেয়াল রাখুন।

পরিবেশন

[সম্পাদনা]

ফুলকপির ধোকা গরম ভাত বা রুটি—দুটোর সঙ্গেই দারুণ মানিয়ে যায়। নিরামিষ হলেও এই পদ মুখে দিলে যেন একরাশ সুগন্ধি ও গাঢ় স্বাদের বিস্ফোরণ ঘটে।

পরামর্শ

[সম্পাদনা]
  • ধোকা বানানোর সময় মিশ্রণটি বেশি নরম না রাখাই ভালো, নাহলে তা কেটে ভাজা যাবে না।
  • ধোকা ভাজার সময় কম আঁচে সোনালি করে ভাজা উচিত।
  • চাইলে ধোকার তরকারিতে একটু ঘি ছিটিয়ে বাড়তি সুগন্ধ আনতে পারেন।