ফুলকপির ধোকা
অবয়ব
| ফুলকপির ধোকা | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | নিরামিষ |
| পরিবেশন | ৪–৫ জন |
| খাদ্য শক্তি | মধ্যম |
| তৈরির সময় | ২ ঘণ্টা |
| কষ্টসাধ্য | |
| টীকা | ফুলকপির ধোকা একটি বিশেষ ধরণের বাঙালি নিরামিষ পদ, যেখানে ছোলা ডাল ও ফুলকপির মিশ্রণে তৈরি হয় ধোকা বা পাতলা কেকের মত টুকরো, যেগুলো রান্না হয় মশলাদার ঘন তরকারিতে। |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
ধোকা শব্দটি মানেই বাঙালির নিরামিষ রান্নার এক অনন্য চিত্র। ছোলা ডাল ভিজিয়ে বাটা ও ফুলকপির সংমিশ্রণে তৈরি এই পদ বিশেষ দিনে, যেমন পূজা-পার্বণ কিংবা নিরামিষ দিনের জন্য উপযুক্ত। ফুলকপির ঘ্রাণ আর মসলা মাখা ধোকার ঝাঁঝালো তরকারি মুখরোচক ও স্বাদে পরিপূর্ণ।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| নাম | উপাদান |
|---|---|
| ফুলকপি | ১টি (মাঝারি, কুঁচি করে কাটা) |
| ছোলা ডাল | ১ কাপ (রাতে ভিজিয়ে সকালে বেটে নিন) |
| আদা বাটা | ১ টেবিল চামচ |
| শুকনো লঙ্কা | ২টি (বাটা) |
| মৌরি গুঁড়া | ১/২ চা চামচ |
| জিরা গুঁড়া | ১/২ চা চামচ |
| হলুদ গুঁড়া | ১ চা চামচ |
| লবণ | স্বাদমতো |
| চিনি | ১/২ চা চামচ |
| তেজপাতা | ১টি |
| দারুচিনি ও এলাচ | ১–২টি করে |
| শুকনো লঙ্কা ফোড়নের জন্য | ১টি |
| সরিষার তেল | প্রয়োজনমতো |
প্রস্তুত প্রণালী
[সম্পাদনা]ধোকা বানানোর ধাপ
[সম্পাদনা]- ছোলা ডাল ভালো করে বেটে নিন (অল্প পানি দিয়ে) যাতে ঘন ও মসৃণ হয়।
- একটি হাঁড়িতে সামান্য তেল গরম করে কুচি করা ফুলকপি, আদা বাটা, শুকনো লঙ্কা বাটা, অল্প হলুদ, লবণ দিয়ে ভালোভাবে কষান যতক্ষণ না ফুলকপি নরম হয়ে আসে।
- এবার এই ফুলকপির মিশ্রণে ছোলা ডালের বাটা মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিন।
- তাতে চিনি, মৌরি ও জিরা গুঁড়া দিন। মিশ্রণটি হালকা শক্ত হয়ে এলে একটি তেলে মাখানো থালায় বা পাতে ঢেলে সমান করে বিছিয়ে দিন।
- ঠান্ডা হলে চারকোনা করে কেটে নিন।
ধোকার তরকারি বানানোর ধাপ
[সম্পাদনা]- একটি কড়াইতে তেল গরম করে তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন।
- এবার তাতে অল্প আদা বাটা, হলুদ গুঁড়া, লবণ, চিনি দিয়ে কষান। চাইলে অল্প টমেটো ব্যবহার করতে পারেন।
- মসলা ভালোভাবে কষানো হলে সামান্য জল দিয়ে দিন এবং ফুটে উঠলে কাটা ধোকার টুকরোগুলো দিয়ে দিন।
- ঢেকে দিয়ে ৮–১০ মিনিট রান্না করুন। ধোকা যেন নরম হয় কিন্তু ভেঙে না যায়, সে দিক খেয়াল রাখুন।
পরিবেশন
[সম্পাদনা]ফুলকপির ধোকা গরম ভাত বা রুটি—দুটোর সঙ্গেই দারুণ মানিয়ে যায়। নিরামিষ হলেও এই পদ মুখে দিলে যেন একরাশ সুগন্ধি ও গাঢ় স্বাদের বিস্ফোরণ ঘটে।
পরামর্শ
[সম্পাদনা]- ধোকা বানানোর সময় মিশ্রণটি বেশি নরম না রাখাই ভালো, নাহলে তা কেটে ভাজা যাবে না।
- ধোকা ভাজার সময় কম আঁচে সোনালি করে ভাজা উচিত।
- চাইলে ধোকার তরকারিতে একটু ঘি ছিটিয়ে বাড়তি সুগন্ধ আনতে পারেন।