বিষয়বস্তুতে চলুন

ফিরনি

উইকিবই থেকে
ফিরনি
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ মিষ্টান্ন
পরিবেশন ৬-৮ জন
তৈরির সময় ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট
কষ্টসাধ্য


রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

ফিরনি

ফিরনি দক্ষিণ এশিয়ার একটি জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন, যা বিশেষত বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে বহুল পরিচিত। এটি মূলত দুধ, সুগন্ধি চাল ও চিনি দিয়ে তৈরি এক ধরনের ঘন দুধজাত খাবার। সাধারণ পায়েসের তুলনায় ফিরনির গঠন বেশি মসৃণ ও ঘন হয়ে থাকে, কারণ এতে চাল সাধারণত গুঁড়ো বা বাটা অবস্থায় ব্যবহার করা হয়। পরিবেশনের আগে ফিরনি ঠান্ডা করে মাটির পাত্রে জমিয়ে রাখা হয়, ফলে এর স্বাদ ও ঘ্রাণ আরও বৃদ্ধি পায়।

বাংলাদেশে ঈদ, বিয়ে, পারিবারিক দাওয়াত এবং বিভিন্ন উৎসবে ফিরনি পরিবেশনের প্রচলন রয়েছে। “শাহী ফিরনি” নামে পরিচিত একটি রূপে জাফরান, কেশর, পেস্তা, কাজুবাদাম ও কিশমিশ ব্যবহার করা হয়। অঞ্চলভেদে ফিরনির উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালিতে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কোথাও গোবিন্দভোগ বা চিনিগুঁড়া চাল ব্যবহার করা হয়, আবার কোথাও গোলাপ জল বা কেওড়া জল যোগ করা হয়।

ফিরনি সাধারণত মাটির/কাসার ছোট বাটিতে পরিবেশন করা হয়। মাটির পাত্র অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করে নেওয়ায় ফিরনির ঘনত্ব ও স্বাদ আরও উন্নত হয় বলে মনে করা হয়। ঠান্ডা পরিবেশন করা এই মিষ্টান্ন গরম আবহাওয়ায় বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
নাম উপকরণ
তরল দুধ ২ লিটার
পোলাও বা চিনিগুঁড়া চাল আধা কাপ
চিনি আধা কাপ বা স্বাদমতো
ঘি ১ টেবিল-চামচ
এলাচ গুঁড়া আধা চা-চামচ
কেশর ১০-১২টি
কাজুবাদাম কুচি ২ টেবিল-চামচ
পেস্তা বাদাম কুচি ২ টেবিল-চামচ
কিশমিশ ১ টেবিল-চামচ
গোলাপ জল বা কেওড়া জল ১ চা-চামচ
লবণ এক চিমটি

রন্ধনপ্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. প্রথমে চাল ভালোভাবে ধুয়ে ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর পানি ঝরিয়ে শিলপাটা বা ব্লেন্ডারে হালকা দানাদার করে বেটে নিন। ফিরনির জন্য চাল খুব বেশি মিহি করা হয় না।
  2. একটি ভারী তলার পাত্রে দুধ ঢেলে মাঝারি আঁচে জ্বাল দিন। দুধ যাতে পাত্রের তলায় লেগে না যায় সেজন্য নিয়মিত নেড়ে নিতে হবে।
  3. দুধ কিছুটা ঘন হয়ে এলে তাতে ঘি, কেশর ও এলাচ গুঁড়া যোগ করুন। এতে ফিরনিতে সুগন্ধ তৈরি হয়।
  4. এবার বাটা চাল অল্প ঠান্ডা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ধীরে ধীরে গরম দুধের মধ্যে ঢালুন। একসঙ্গে বেশি দিলে দলা বেঁধে যেতে পারে।
  5. চাল মেশানোর পর ক্রমাগত নাড়তে থাকুন যাতে নিচে লেগে না যায় এবং মিশ্রণ সমানভাবে ঘন হয়।
  6. কয়েক মিনিট পর চিনি ও এক চিমটি লবণ যোগ করুন। চিনি দেওয়ার পর মিশ্রণ কিছুটা পাতলা হয়ে যেতে পারে, তাই আবার ধীরে ধীরে জ্বাল দিতে হবে।
  7. ফিরনি ঘন হতে শুরু করলে কাজুবাদাম, পেস্তা বাদাম ও কিশমিশের কিছু অংশ মিশিয়ে দিন। বাকিগুলো সাজানোর জন্য রেখে দিন।
  8. চাল সম্পূর্ণ সিদ্ধ হয়ে ফিরনি মসৃণ ও ঘন হয়ে এলে চুলা বন্ধ করুন। এরপর গোলাপ জল বা কেওড়া জল মিশিয়ে নেড়ে নিন।
  9. ফিরনি সামান্য ঠান্ডা হলে ছোট মাটির বাটি বা পাত্রে ঢেলে নিন। ওপরে বাকি বাদাম কুচি ও কিশমিশ ছড়িয়ে সাজিয়ে দিন।
  10. পরিবেশনের আগে ৪-৬ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিন। ঠান্ডা হলে ফিরনির স্বাদ ও ঘ্রাণ আরও বৃদ্ধি পায়।
ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন ঐতিহ্যবাহী ও সুগন্ধি ফিরনি

পুষ্টিগুণ

[সম্পাদনা]

ফিরনি দুধভিত্তিক একটি মিষ্টান্ন হওয়ায় এতে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট বিদ্যমান। দুধ ও বাদাম ব্যবহারের কারণে এতে কিছু পরিমাণ ভিটামিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও খনিজ উপাদানও পাওয়া যায়। কাজুবাদাম ও পেস্তা বাদামে প্রোটিন ও অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী হিসেবে বিবেচিত। তবে ফিরনিতে চিনি ও দুধের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এটি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার। তাই নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে গ্রহণ করা উপযোগী। কম চিনি বা বিকল্প মিষ্টিকারক ব্যবহার করে ফিরনির ক্যালরির পরিমাণ কিছুটা কমানো যেতে পারে।

পরিবেশন

[সম্পাদনা]

ফিরনি সাধারণত ঠান্ডা অবস্থায় পরিবেশন করা হয়। রান্না শেষে এটি ছোট মাটির বাটি, কাঁচের ডেজার্ট কাপ বা সিরামিক পাত্রে ঢেলে কিছু সময়ের জন্য ঠান্ডা করে নেওয়া হয়। পরিবেশনের আগে ফিরনির ওপরে কাজুবাদাম, পেস্তা বাদাম ও কিশমিশ ছড়িয়ে সাজানো হয়। অনেক সময় কেশর, গোলাপের পাপড়ি কিংবা রুপালি ভোজ্য ফয়েল দিয়েও সাজানো হয়, বিশেষ করে উৎসব বা দাওয়াতের আয়োজনে। কেউ কেউ পরিবেশনের ঠিক আগে সামান্য গোলাপ জল বা কেওড়া জল ছিটিয়ে অতিরিক্ত সুগন্ধ যোগ করেন। ঈদ, বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও অতিথি আপ্যায়নে ফিরনি একটি জনপ্রিয় মিষ্টান্ন হিসেবে পরিবেশন করা হয়। গরম আবহাওয়ায় ঠান্ডা ফিরনি খাবারের শেষে পরিবেশন করলে এটি সতেজ অনুভূতি দেয়।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]