বিষয়বস্তুতে চলুন

পেলকা

উইকিবই থেকে
পেলকা
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ শাকসবজি পদ
পরিবেশন ৪–৫ জন
খাদ্য শক্তি মাঝারি
তৈরির সময় ১ ঘণ্টা
কষ্টসাধ্য
টীকা কচুপাতা, সরিষা বাটা ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে রান্না করা এক পদ যা স্থানীয়ভাবে 'পেলকা' নামে পরিচিত।

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

পেলকা

রংপুর অঞ্চলের গ্রামীণ ঘরের অতি পরিচিত এক ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো 'পেলকা'। এই পদটির মূল উপাদান হলো কচুপাতা, যা গ্রামবাংলার বাড়ির উঠানে সহজলভ্য। সরিষা বাটা, লবণ, কাঁচামরিচ এবং কচুপাতার সামঞ্জস্যপূর্ণ সংমিশ্রণে তৈরি এই পদটির স্বাদে মাটির ঘ্রাণ থাকে। এটি সাধারণত ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা হয় এবং গরম ভাতের সঙ্গে এর ঝাঝালো স্বাদ মন জয় করে নেয়।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
উপাদান পরিমাণ
কচুপাতা (কচি ও নরম) ৮–১০টি
সরিষা বাটা ৩ টেবিল চামচ
কাঁচা মরিচ ৬–৮টি (ঝাল স্বাদ অনুযায়ী)
রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ
পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ
লবণ পরিমাণমতো
হলুদের গুঁড়া ১/২ চা চামচ
তেল ৩–৪ টেবিল চামচ
শুকনো মরিচ ২–৩টি (ভাজা)

প্রস্তুত প্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. প্রথমে কচুপাতাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন এবং পাতলা করে কুচি করে নিন। খেয়াল রাখতে হবে, যেন পাতা পুরোনো না হয় কারণ পুরোনো কচুপাতা খাওয়ার পর গলা চুলকায়।
  2. একটি বড় পাত্রে কুচানো কচুপাতা, সরিষা বাটা, রসুন বাটা, কাঁচা মরিচ, হলুদ ও লবণ একসাথে মিশিয়ে ১৫–২০ মিনিট রেখে দিন, যাতে কচুর কাঁচা গন্ধ কিছুটা কমে যায়।
  3. একটি মোটা তলায় হাঁড়িতে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি দিন এবং হালকা বাদামি করে ভেজে নিন।
  4. এরপর মসলা মিশ্রিত কচুপাতা দিয়ে দিন এবং ভালোভাবে নাড়তে থাকুন। অল্প আঁচে ঢেকে ৩০–৪০ মিনিট রান্না করুন, মাঝে মাঝে নাড়তে ভুলবেন না যাতে নিচে লেগে না যায়।
রান্না শেষে শুকনো মরিচ ভেজে উপরে ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।

পরামর্শ

[সম্পাদনা]
  • নরম কচুপাতা বেছে নিন যাতে গলা চুলকানো সমস্যা না হয়। চাইলে পাতাগুলো হালকা করে সিদ্ধ করে নিলেও উপকার পাওয়া যায়।
  • বেশি ঝাল পছন্দ হলে কাঁচা মরিচের পরিমাণ বাড়িয়ে নিতে পারেন।
  • যদি কারও সরিষা বাটার স্বাদ অপছন্দ হয়, তবে সরিষা পরিমাণে কম দিয়ে শুরু করা ভালো।