বিষয়বস্তুতে চলুন

পেঁয়াজের পায়েস

উইকিবই থেকে
পেঁয়াজের পায়েস
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ মিষ্টান্ন
পরিবেশন কমপক্ষে ৪-৫ জন।
তৈরির সময় ৪৫–৫০ মিনিট
কষ্টসাধ্য

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

পেঁয়াজের পায়েস

পেঁয়াজের পায়েস বা পেঁয়াজ পরমান্ন একটি অদ্ভুত ও অভিনব বাঙালি মিষ্টান্ন যা সঠিকভাবে তৈরি করলে অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হয়। বাঙালির খাদ্য বৈচিত্র্যের ইতিহাসে ঠাকুর বাড়ির রান্নার বিশেষ স্থান রয়েছে। সেই ঠাকুরবাড়ির হেঁশেলেরই একটি অনন্য পদ ছিল পেঁয়াজের পায়েস। হেমেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবী তাঁর বই আমিষ ও নিরামিষ আহার বইটিতে ঠাকুরবাড়ির সদস্যদের রান্নার অভিনব সব পদ নথিভুক্ত করেছিলেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবদারে মৃণালিনী দেবী বিচিত্র সব পদ বানাতেন যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য এই পেঁয়াজ পরমান্ন। এই বিশেষ রান্নাটি সময়ের সঙ্গে জনপ্রিয় হয় এবং এখনও অনেকে ঠাকুরবাড়ির ঐতিহ্য হিসেবে একে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
উপকরণ পরিমাণ
সাধারণ পেঁয়াজ বা সাদা পেঁয়াজ ১টি মাঝারি আকারের
দুধ ১ লিটার
গুড় বা চিনি ১ কাপ (স্বাদ অনুযায়ী)
ঘি ৫-৬ টেবিল চামচ
এলাচ ২-৩ টি
তেজপাতা ২ টি
দারুচিনি ৩ টি
পেস্তা ২৫ গ্রাম
কাজু ২৫ গ্রাম
কিশমিশ ২৫ গ্রাম
আমন্ড ২৫ গ্রাম

রন্ধনপ্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. প্রথমেই পেঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে সেটাকে কেটে পেঁয়াজের আবরণগুলো ছাড়িয়ে নিতে হবে।
  2. পেঁয়াজ সেদ্ধ করে তারপর ছেঁকে আরও একবার জলে ভালকরে ধুয়ে নিতে হবে যাতে পেঁয়াজের ঝাঁঝালো গন্ধটা চলে যায়।
  3. এবার একটি পাত্রে দুধ গরম করতে বসান।
  4. আরেকটা কড়াইতে ঘি গরম করে তাতে তেজপাতা, এলাচ, কাজু, দারুচিনি, কিশমিশ, পেস্তা আর আমন্ড দিয়ে সেটা হালকা করে ভেজে তুলে নিন।
  5. এবার ওই কড়াইতেই সেদ্ধ করে রাখা পেঁয়াজের টুকরোগুলো দিয়ে সেটাও ভেজে নিতে হবে।
  6. এবার ফুটতে থাকা দুধের মধ্যে ভাজা পেঁয়াজ, পরিমাণমতো গুড় বা চিনি আর ভেজে তুলে রাখা কাজু, কিশমিশ, পেস্তা ও আমন্ডের অর্ধেক পরিমান মিশিয়ে ভাল করে নাড়াচাড়া করুন।
  7. দুধ ঘন হওয়া অবধি রান্না করুন।
    পায়েস ঠাণ্ডা হলে একটা বাটিতে পায়েসটা তুলে নিয়ে উপর বাকি কাজু, কিশমিশ, পেস্তা আর আমন্ড ছড়িয়ে পরিবেশন করুন