বিষয়বস্তুতে চলুন

পুঁটি শুঁটকি ভর্তা

উইকিবই থেকে
পুঁটি শুঁটকি ভর্তা
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ ভর্তা
পরিবেশন ৩-৪ জন
তৈরির সময় ২০-২৫ মিনিট
কষ্টসাধ্য

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

পুঁটি শুঁটকি ভর্তা

পুঁটি শুঁটকি ভর্তা গ্রামবাংলার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, ঐতিহ্যবাহী এবং ঝাল-ঝাল মুখরোচক পদ। পুঁটি শুঁটকির নিজস্ব একটি কড়া সুঘ্রাণ রয়েছে, যা ভাজা রসুন, পেঁয়াজ এবং শুকনো মরিচের সাথে বেটে ভর্তা করলে এর স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়। শুঁটকিপ্রেমীদের কাছে এক থালা গরম ভাত নিমিষেই শেষ করার জন্য এই ভর্তাটিই যথেষ্ট।

খাওয়ার উপযুক্ত সময়

[সম্পাদনা]

দুপুর বা রাতের আহারে গরম সাদা ভাতের সাথে প্রথম পদ হিসেবে পুঁটি শুঁটকি ভর্তা সবচেয়ে ভালো মানায়। এছাড়াও সকালের পান্তা ভাত বা বর্ষার দিনে খিচুড়ির সাথেও এই ঝাল ভর্তা দারুণ তৃপ্তি দেয়।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
নাম পরিমাণ
পুঁটি শুঁটকি ৫০ গ্রাম (৮-১০টি)
শুকনো মরিচ ৫-৬টি (বা ঝাল অনুযায়ী)
পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ
রসুন ২টি আস্ত রসুনের কোয়া (১০-১২ কোয়া)
ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল-চামচ (ঐচ্ছিক)
লবণ স্বাদমতো
সরিষার তেল ৩-৪ টেবিল-চামচ (ভাজা ও মাখার জন্য)

রন্ধনপ্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. প্রথমে পুঁটি শুঁটকিগুলোর মাথা ও পেটের ভেতরের অংশ (পিত্তি) ফেলে দিন, এতে শুঁটকির তিতা ভাব দূর হবে। এরপর শুঁটকিগুলো কুসুম গরম পানিতে ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ভেজানো শেষে খুব ভালোভাবে ঘষে ঘষে কয়েকবার পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে বালি ও ময়লা পরিষ্কার করে পানি ঝরিয়ে নিন।
  2. চুলায় একটি তাওয়া বা কড়াই বসিয়ে তাতে সামান্য সরিষার তেল দিন। তেল গরম হলে শুকনো মরিচগুলো মাঝারি আঁচে মচমচে ও কালচে লাল করে ভেজে তুলে নিন।
  3. একই কড়াইতে পেঁয়াজ কুচি এবং রসুনের কোয়াগুলো দিয়ে দিন। অল্প আঁচে সময় নিয়ে ভাজুন, যাতে পেঁয়াজ ও রসুন নরম হয়ে হালকা বাদামি রং ধারণ করে। ভাজা হয়ে গেলে এগুলো একটি পাত্রে তুলে রাখুন।
  4. এবার কড়াইতে প্রয়োজন হলে আরও একটু সরিষার তেল দিন। তেল গরম হলে পরিষ্কার করে রাখা পুঁটি শুঁটকিগুলো দিয়ে দিন। মাঝারি-অল্প আঁচে শুঁটকিগুলো খুব ভালোভাবে মচমচে করে ভেজে নিন। (ভাজার সময় শুঁটকির দারুণ একটি সুঘ্রাণ বের হবে। খেয়াল রাখবেন যেন পুড়ে না যায়, পুড়লে ভর্তা তিতা লাগবে)।
  5. এবার একটি পরিষ্কার শিলপাটায় প্রথমে ভাজা শুকনো মরিচ এবং স্বাদমতো লবণ একসাথে মিহি করে বেটে নিন।
  6. মরিচ বাটা হলে তার সাথে মচমচে করে ভেজে রাখা পুঁটি শুঁটকিগুলো দিয়ে খুব ভালোভাবে মিহি করে বেটে নিন, যাতে শুঁটকির কোনো কাঁটা আস্ত না থাকে।
  7. শুঁটকি মিহি হয়ে গেলে এর সাথে ভেজে রাখা পেঁয়াজ ও রসুন দিয়ে হালকা করে বেটে বা থেঁতো করে মিশিয়ে নিন। (পেঁয়াজ-রসুন একেবারে পেস্ট না করে একটু আধা-বাঙা রাখলে ভর্তা খেতে বেশি ভালো লাগে)।
  8. সবশেষে বাটা ভর্তাটি একটি পাত্রে তুলে নিন। এর সাথে ধনেপাতা কুচি এবং ওপর দিয়ে ১ টেবিল-চামচ কাঁচা সরিষার তেল ছড়িয়ে হাত দিয়ে খুব ভালোভাবে মেখে নিন।

রান্নার পরামর্শ

[সম্পাদনা]
  • শুঁটকি পরিষ্কার: পুঁটি শুঁটকির পেটে অনেক সময় ময়লা বা পিত্তি থাকে যা ভর্তাকে তিতা করে দিতে পারে। তাই মাথা ও পেটের অংশ ফেলে গরম পানিতে ভালোভাবে ধোয়া অত্যন্ত জরুরি।
  • শিলপাটায় বাটা: এই ভর্তার আসল স্বাদ ও সুন্দর আঠালো টেক্সচার কেবল শিলপাটায় বাটলেই পাওয়া যায়। ব্লেন্ডারে করলে ভর্তা অনেক সময় বেশি মিহি বা কাদাকাদা হয়ে যায় এবং আসল স্বাদ নষ্ট হয়।
  • পেঁয়াজ-রসুন ভাজা: কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুন দিয়েও ভর্তা করা যায়, তবে হালকা ভেজে নিলে রসুনের মিষ্টিভাব শুঁটকির কড়া গন্ধকে দারুণভাবে ব্যালেন্স করে এবং ভর্তা অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভালো থাকে (নষ্ট হয় না)।
তাহলে তৈরি হয়ে গেল পুঁটির শুঁটকি ভর্তা