বিষয়বস্তুতে চলুন

পালং শাকের ঘণ্ট

উইকিবই থেকে
পালং শাকের ঘণ্ট
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ নিরামিষ
পরিবেশন ৬ জন
তৈরির সময় ২৫ মিনিট
কষ্টসাধ্য
টীকা পালং শাকের জলেই এই ঘণ্ট রান্না করলে স্বাদ ও গঠন আরও ভালো হয়। অতিরিক্ত জল না দেওয়াই উত্তম।


রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

পালং শাকের ঘণ্ট

পালং শাকের ঘণ্ট বাংলা রান্নার একটি জনপ্রিয় নিরামিষ পদ, যেখানে বিভিন্ন সবজি ও শাক একসঙ্গে ধীরে ধীরে কষিয়ে মাখা মাখা করে রান্না করা হয়। এই ধরনের ঘণ্ট রান্নার মূল বৈশিষ্ট্য হলো কম মশলায় সবজির স্বাভাবিক স্বাদ ফুটিয়ে তোলা। পালং শাকের সঙ্গে আলু, শিম, বেগুন এবং বড়ির সংমিশ্রণে তৈরি এই পদ ভাতের সঙ্গে অত্যন্ত উপাদেয়। সর্ষের হালকা ঝাঁজ ও ভাজা জিরের গন্ধ এই রান্নাকে আরও স্বাদযুক্ত করে তোলে।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
উপকরণ পরিমাণ
পালং শাক ৫০০ গ্রাম
আলু ১টি (বড়)
কুমড়ো ১৫০ গ্রাম
বেগুন ১টি (মাঝারি)
মুলো ১টি (ছোট)
মিষ্টি আলু ১টি (ছোট - ঐচ্ছিক)
শিম ৬-৭টি
ডালের বড়ি ১০-১২টি
পাঁচফোড়ন ১ চা-চামচ
তেজপাতা ২টি
শুকনো লঙ্কা ২টি
আদা বাটা ১ টেবিল-চামচ
সর্ষে বাটা ২ টেবিল-চামচ
জিরে গুঁড়ো ১ টেবিল-চামচ
হলুদ গুঁড়ো ১ চা-চামচ
লঙ্কা গুঁড়ো আধা চা-চামচ
ভাজা জিরে গুঁড়ো আধা চা-চামচ
খাঁটি সর্ষের তেল ৪-৫ টেবিল-চামচ
চিনি ১-২ চা-চামচ (স্বাদমতো)
লবণ স্বাদমতো
চেরা কাঁচা লঙ্কা ও ধনেপাতা কুচি সামান্য (সাজানোর জন্য)

রন্ধনপ্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. প্রথমে পালং শাকের পাতা ও কচি ডাঁটাগুলো খুব ভালোভাবে ধুয়ে মাঝারি টুকরো করে কেটে নিন। এরপর আলু, মিষ্টি আলু, কুমড়ো, মুলো, বেগুন এবং শিম ডুমো ডুমো বা মাঝারি টুকরো করে কেটে পরিষ্কার জলে ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন।
  2. চুলায় একটি কড়াই বসিয়ে তাতে পরিমাণমতো সর্ষের তেল গরম করুন। তেল গরম হলে ডালের বড়িগুলো সোনালি করে ভেজে একটি পাত্রে তুলে রাখুন।
  3. একই তেলে কেটে রাখা বেগুনের টুকরোগুলো দিয়ে হালকা লালচে করে ভেজে তুলে রাখুন।
  4. কড়াইতে প্রয়োজনে আরও সামান্য সর্ষের তেল দিন। তেল গরম হলে তাতে পাঁচফোড়ন, তেজপাতা ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। ফোড়ন ভাজা হয়ে সুন্দর সুবাস বেরোলে প্রথমে আলুর টুকরোগুলো দিয়ে দিন।
  5. আলু হালকা ভাজা হলে একে একে কুমড়ো, মিষ্টি আলু, মুলো এবং শিম কড়াইতে দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে সবজিগুলো কিছুক্ষণ ভালোভাবে নেড়েচেড়ে ভাজুন।
  6. সবজি ভাজা ভাজা হয়ে এলে এতে হলুদ গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো এবং আদা বাটা দিয়ে দিন। মশলার কাঁচা গন্ধ চলে যাওয়া পর্যন্ত সবজির সাথে খুব ভালোভাবে কষিয়ে নিন।
  7. মশলা কষানো হয়ে গেলে কেটে রাখা পালং শাকগুলো কড়াইতে দিয়ে দিন। শাকগুলো সবজির সাথে ভালোভাবে নেড়েচেড়ে মিশিয়ে নিয়ে কড়াই ঢাকা দিয়ে দিন এবং চুলার আঁচ কমিয়ে রাখুন।
  8. পাঁচ থেকে ছয় মিনিট পর ঢাকা খুললে দেখবেন শাক থেকে বেশ জল বেরিয়েছে। এই পর্যায়ে আগে থেকে বেটে রাখা সর্ষে বাটা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে আবার ঢাকা দিয়ে দিন। সবজির নিজস্ব জলেই তরকারিটি সেদ্ধ হতে দিন।
  9. পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট পর ঢাকনা খুলে দেখুন সবজিগুলো ভালোভাবে সেদ্ধ হয়েছে কি না। সবজি নরম হয়ে এলে এবং জল শুকিয়ে মাখো মাখো হয়ে এলে এর মধ্যে ভেজে রাখা বেগুন, গুঁড়ো করে রাখা বড়ি এবং স্বাদমতো চিনি দিয়ে দিন।
  10. সবকিছু একসঙ্গে নেড়েচেড়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন যাতে সবজির সাথে বড়ি ও বেগুনের স্বাদ ভালোভাবে মিশে যায়।
  11. তরকারিটি সম্পূর্ণ মাখা মাখা হয়ে এলে ওপর থেকে ভাজা জিরে গুঁড়ো, কয়েকটি চেরা কাঁচা লঙ্কা এবং ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিয়ে চুলা বন্ধ করে দিন।
দুপুরের আহারে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সাথে প্রথম পাতে পরিবেশন করুন পুষ্টিগুণে ভরপুর পালং শাকের ঘণ্ট