পানখিলি পিঠা
অবয়ব
| পানখিলি পিঠা | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | পিঠা |
| পরিবেশন | ৬–৮ জন |
| খাদ্য শক্তি | উচ্চ |
| তৈরির সময় | ২ ঘণ্টা |
| কষ্টসাধ্য | |
| টীকা | প্রাচীন রাজপরিবারের উৎসবভোজে পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী ও শিল্পসম্মত মিষ্টি পিঠা। |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
পানখিলি পিঠা
পানখিলি পিঠা একসময় রাজা-জমিদারদের প্রাসাদ বা উৎসবভোজের একটি অভিজাত ও আলঙ্কারিক মিষ্টান্ন ছিল। এই পিঠাটি দেখতে অনেকটা পানের খিলির মতো হওয়ায় এর নাম "পানখিলি পিঠা"। এটি একটি দুই ধাপে প্রস্তুতকৃত পিঠা—প্রথম ধাপে থাকে হালকা সবুজ রঙের নরম খোলস তৈরি, দ্বিতীয় ধাপে তাতে ভরা হয় ঘন, দুধ-বাদাম মেশানো সুস্বাদু পুর। আধুনিক কালে এই পিঠা প্রায় বিলুপ্তির পথে, তবে যারা ঐতিহ্য ভালোবাসেন, তাদের কাছে এটি এক অমূল্য স্বাদ।
উপকরণ
[সম্পাদনা]বাহিরের খোলসের জন্য
[সম্পাদনা]| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| ময়দা | ২ কাপ |
| চালের গুঁড়া | ১/২ কাপ |
| ডিম (বড়) | ১টি |
| তরল দুধ | ২ কাপ |
| চিনি | ১ চা চামচ |
| লবণ | পরিমাণমতো |
| সবুজ ফুড কালার | ১ চা চামচ |
| তেল | ২ টেবিল চামচ (তাওয়ায় লাগানোর জন্য) |
| ফয়েল পেপার/কলাপাতা | প্রয়োজন মতো |
পুরের জন্য
[সম্পাদনা]| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| ঘন তরল দুধ (জ্বাল দিয়ে তৈরি) | ৪ কাপ |
| চিনি | ২ কাপ |
| মাওয়া | ১/২ কাপ |
| পোলাওয়ের চাল বাটা | ১/২ কাপ |
| কাজু বাদাম বাটা | ১/২ কাপ |
| জাফরান | ১ চিমটি (ঐচ্ছিক) |
| পেস্তা বাদাম ও চেরি টুকরো | সাজানোর জন্য |
প্রস্তুত প্রণালী
[সম্পাদনা]- প্রথমে চালের গুঁড়া ও ময়দা একত্রে চেলে নিন।
- এরপর এতে ডিম, চিনি, লবণ ও তরল দুধ দিয়ে একটি মাঝারি ঘনতার বেটার তৈরি করুন। ভালোভাবে মিশিয়ে নিন যাতে কোনো দানা না থাকে।
- তারপর এতে সবুজ ফুড কালার মিশিয়ে দিন।
- চুলায় মাঝারি আঁচে একটি ননস্টিক ফ্রাইং প্যানে সামান্য তেল মালিশ করে দিন। এক টেবিল চামচ খামি নিয়ে তাওয়ায় ঢালুন ও পাতলা করে ছড়িয়ে দিন। এক পাশ একটু শুকিয়ে উঠলেই তুলে নিন—পিঠাটি যেন কড়কড়ে না হয়, বরং নরম থাকে।
- তারপর প্রতিটি পিঠাকে আইসক্রিম কনের মতো করে কোণ আকৃতিতে মুড়ে নিচে ফয়েল পেপার পেঁচিয়ে দিন যাতে ভেঙে না যায়।
- একটি পাত্রে দুধ জ্বাল দিতে দিন। ফুটে উঠলে পোলাও চাল বাটা দিয়ে দিন এবং নাড়াচাড়া করতে থাকুন।
- ১০ মিনিট পর চিনি, মাওয়া, কাজু বাটা ও জাফরান দিন। ঘন ও মসৃণ মিশ্রণ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নাড়ুন। ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন।
- প্রতিটি খোলসের মধ্যে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া পুরটি চামচ দিয়ে ভরে দিন। উপরে পেস্তা বাদাম কুচি ও চেরি টুকরো দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন সুগন্ধি, মিষ্টি, ও অভিজাত পানখিলি পিঠা।
পরামর্শ
[সম্পাদনা]- খোলস বেশি ভাজা হলে তা মুড়তে গেলে ভেঙে যেতে পারে, তাই পাতলা ও নরম করে রান্না করুন।
- পুরে চাইলে ক্ষীরের স্বাদ আনতে কনডেন্সড মিল্ক বা ঘন দুধ ব্যবহার করা যায়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
[সম্পাদনা]পানখিলি পিঠা মূলত পূর্ববাংলার জমিদারবাড়ির এক রাজকীয় আয়োজন ছিল। বিশেষ অতিথিদের সামনে এই পিঠার চিত্র ও স্বাদ ছিল মূল আকর্ষণ। বর্তমানে খুব অল্প কিছু এলাকায় এটি এখনো তৈরি হয়, যা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাক্ষী।