বিষয়বস্তুতে চলুন

পাঞ্জিরি

উইকিবই থেকে
পাঞ্জিরি
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ জলখাবার (মিষ্টি)
পরিবেশন প্রয়োজনমতো
খাদ্য শক্তি উচ্চ
তৈরির সময় ১ ঘণ্টা
কষ্টসাধ্য
টীকা পাঞ্জিরি একটি আয়ুর্বেদিক ঔষধী গুণসম্পন্ন খাবার যা শীতকালে শরীর গরম রাখতে এবং নবজাতকের মায়েদের দ্রুত সুস্থতায় সাহায্য করে। এটি জন্মাষ্টমী বা সত্যনারায়ণ পূজার প্রসাদ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

পাঞ্জিরি

পাঞ্জিরি হলো ভারত ও পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলের একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি জাতীয় খাবার। সংস্কৃত শব্দ পঞ্চজীরক (পাঁচটি উপাদান) থেকে এর নামটির উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়। এটি গমের আটা, ঘি এবং প্রচুর পরিমাণে শুকনো ফল ও ভেষজ উপাদানে তৈরি হয়। বাংলাদেশের কুমিল্লা অঞ্চলে এটি আটার লুচি নামেও পরিচিত। ধর্মীয়ভাবে এটি শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী ব্রত এবং সত্যনারায়ণ পূজার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
বিভাগ উপকরণ পরিমাণ
প্রধান উপকরণ গমের আটা ৫০০ গ্রাম
দেশি ঘি ৫০০ গ্রাম
গুঁড়ো চিনি ৪০০ গ্রাম (স্বাদমতো)
শুকনো ফল বাদাম (কাঠবাদাম ও কাজু) ১০০ গ্রাম (প্রতিটি)
আখরোট ও পেস্তা ৫০ গ্রাম (প্রতিটি)
মগজ (তরমুজ বা খরমুজ বীজ) ২-৩ টেবিল চামচ
মাখানা ১ কাপ
নারকেল কুচি (শুকনো) ১/২ কাপ
কিশমিশ ২ টেবিল চামচ
ভেষজ ও মশলা গঁদ ৫০ গ্রাম (গুঁড়ো করা)
কামারকাশ ১ টেবিল চামচ (মিহি গুঁড়ো)
শুকনো আদার গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ
জোয়ান ও মৌরি ১ চা চামচ করে
এলাচ গুঁড়ো ১ চা চামচ
তুলসী পাতা (ঐচ্ছিক) প্রসাদের ক্ষেত্রে

রন্ধনপ্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. একটি মোটা কড়াইতে সামান্য ঘি গরম করে বাদাম, কাজু, আখরোট, পেস্তা এবং মাখানা একে একে সোনালী বাদামী হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। সবশেষে মগজ ভেজে নিয়ে টিস্যুর ওপর রাখুন যাতে অতিরিক্ত ঘি ঝরে যায়।
  2. অবশিষ্ট ঘিতে গঁদ এবং কামারকাশ ভাজুন। গঁদ ভাজলে তা স্ফটিকের মতো ফুলে উঠবে। এরপর নারকেল কুচিগুলো হালকা ভেজে তুলে নিন।
  3. ভাজা শুকনো ফলগুলো (মগজ ছাড়া) হামানদিস্তায় আধা-ভাঙা করে গুঁড়ো করে নিন। ভাজা গঁদ ও পলাশকেও মিহি গুঁড়ো করে সরিয়ে রাখুন।
  4. কড়াইতে বাকি ঘি দিয়ে আটা দিন। মাঝারি আঁচে অনবরত নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না আটা সোনালী রঙের হয় এবং সুন্দর সুগন্ধ বের হয়। আটা থেকে ঘি আলাদা হতে শুরু করলে বুঝবেন এটি প্রস্তুত।
  5. ভাজা আটার ওপর সটের গুঁড়ো, জোয়ান, মৌরি এবং এলাচ গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে মেশান।
  6. চুলা বন্ধ করে দিন। এবার এতে আধা-ভাঙা শুকনো ফল, মগজ, নারকেল কুচি, গুঁড়ো করা গঁদ এবং গুঁড়ো চিনি দিয়ে খুব ভালো করে মেশান। ৫-১০ মিনিট নাড়তে থাকুন যাতে সব উপকরণ সুষমভাবে মিশে যায়।

বিভিন্ন ধরণ

[সম্পাদনা]
  • ধনিয়া পাঞ্জিরি: উপবাস বা ব্রতের সময় (যেখানে শস্য খাওয়া বারণ) আটার পরিবর্তে ধনে বীজের গুঁড়ো দিয়ে এই পাঞ্জিরি তৈরি করা হয়। এটি মূলত জন্মাষ্টমীর প্রসাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • গন্দ পাঞ্জিরি: রাজস্থান অঞ্চলে ভোজ্য আঠা বা গন্দ-এর পরিমাণ বাড়িয়ে এই পাঞ্জিরি তৈরি করা হয়, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
  • মথুরা পঞ্চামৃত পাঞ্জিরি: ব্রজ অঞ্চলে সত্যনারায়ণ পূজার প্রসাদ হিসেবে এটি দেওয়া হয়, যেখানে এতে তুলসী পাতা যোগ করা হয়।

পরামর্শ ও টীকা

[সম্পাদনা]
  • পাঞ্জিরি অত্যন্ত গরম প্রকৃতির খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়, তাই এটি সাধারণত শীতকালে এবং নবজাতকের মায়েদের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য খাওয়ানো হয়।
  • আটা রোস্ট করার সময় লক্ষ্য রাখবেন যেন পুড়ে না যায়, কারণ সামান্য পোড়া ভাব পুরো স্বাদ নষ্ট করে দিতে পারে।