পাঁচমিশালি শুঁটকি চচ্চড়ি
অবয়ব
| পাঁচমিশালি শুঁটকি চচ্চড়ি | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | তরকারি |
| পরিবেশন | ৪-৫ জন |
| তৈরির সময় | ৪০-৪৫ মিনিট |
| কষ্টসাধ্য | |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
পাঁচমিশালি শুঁটকি চচ্চড়ি
পাঁচমিশালি শুঁটকি চচ্চড়ি শুঁটকিপ্রেমীদের কাছে একটি অত্যন্ত লোভনীয় এবং জিভে জল আনা পদ। বিভিন্ন রকমের শুঁটকি এবং পছন্দের রকমারি সবজি দিয়ে তৈরি এই ঝাল ঝাল চচ্চড়ি গ্রামবাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। গরম ভাতের সাথে এই কড়া ঘ্রাণের চচ্চড়ি থাকলে খাবার টেবিলে অন্য কোনো তরকারির প্রয়োজনই হয় না।
খাওয়ার উপযুক্ত সময়
[সম্পাদনা]দুপুর বা রাতের প্রধান আহারের (মেইন কোর্স) পদ হিসেবে ধোঁয়া ওঠা গরম সাদা ভাতের সাথে পাঁচমিশালি শুঁটকি চচ্চড়ি সবচেয়ে ভালো মানায়। শীতের দিনে বা বর্ষায় এই ঝাল ঝাল পদটি দারুণ তৃপ্তি দেয়।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| নাম | পরিমাণ |
|---|---|
| পাঁচমিশালি শুঁটকি (লইট্টা, পুঁটি, কাচকি, মলা ইত্যাদি) | ১০০-১৫০ গ্রাম |
| পাঁচমিশালি সবজি (আলু, বেগুন, বরবটি, কাঁকরোল, মিষ্টিকুমড়ো ইত্যাদি) | ৩ কাপ (একই সাইজের ডুমো বা লম্বা করে কাটা) |
| পেঁয়াজ কুচি | ১ কাপ (শুঁটকিতে পেঁয়াজ একটু বেশি লাগে) |
| রসুন (আস্ত কোয়া বা কুচি) | ১/২ কাপ (অর্ধেক কাপ) |
| রসুন বাটা | ১ চা-চামচ (ঐচ্ছিক) |
| হলুদ গুঁড়া | ১ চা-চামচ |
| মরিচ গুঁড়া | ১.৫ থেকে ২ চা-চামচ (শুঁটকি একটু ঝাল হলে ভালো লাগে) |
| ধনে গুঁড়া | ১ চা-চামচ |
| জিরা গুঁড়া | ১/২ চা-চামচ |
| কাঁচা মরিচ | ৫-৬টি (ফালি করা) |
| ধনেপাতা কুচি | ২ টেবিল-চামচ |
| লবণ | স্বাদমতো |
| সরিষার তেল বা রান্নার তেল | ৪-৫ টেবিল-চামচ |
রন্ধনপ্রণালী
[সম্পাদনা]- প্রথমে পাঁচমিশালি শুঁটকিগুলো (বড় শুঁটকি হলে ছোট টুকরো করে) একটি শুকনো তাওয়া বা কড়াইতে হালকা টেলে (ভেজে) নিন।
- টেলে নেওয়া শুঁটকিগুলো ফুটন্ত গরম পানিতে ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর হাত দিয়ে ভালোভাবে ঘষে ঘষে কয়েকবার পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন, যাতে শুঁটকির গায়ের বালি বা ময়লা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যায়। ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন।
- সবজিগুলো মাঝারি বা ছোট টুকরো করে কেটে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন।
- চুলায় কড়াইতে তেল গরম করুন। তেল গরম হলে তাতে পেঁয়াজ কুচি এবং রসুনের কোয়া বা কুচি দিয়ে দিন।
- পেঁয়াজ ও রসুন হালকা বাদামি হওয়া পর্যন্ত মাঝারি আঁচে ভেজে নিন।
- এবার পরিষ্কার করে রাখা শুঁটকিগুলো কড়াইতে দিয়ে দিন। পেঁয়াজ-রসুনের সাথে শুঁটকিগুলো ২-৩ মিনিট ভেজে নিন, এতে শুঁটকির কাঁচা গন্ধ চলে যাবে।
- এরপর এতে রসুন বাটা (যদি দেন), হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, ধনে গুঁড়া, জিরা গুঁড়া এবং স্বাদমতো লবণ দিয়ে মসলা খুব ভালোভাবে কষিয়ে নিন। মসলা যেন পুড়ে না যায় সেজন্য সামান্য পানি যোগ করুন।
- মসলা কষানো হয়ে ওপরে তেল ভেসে উঠলে কেটে রাখা পাঁচমিশালি সবজিগুলো দিয়ে দিন।
- মসলার সাথে সবজিগুলো নেড়েচেড়ে খুব ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। চুলার আঁচ মাঝারি রেখে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ৭-৮ মিনিট কষান। (এ সময় সবজি থেকে পানি বের হবে, তাই আলাদা করে পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই)।
- সবজি কিছুটা নরম হয়ে এলে নেড়েচেড়ে দিন। যদি মনে হয় সবজি সেদ্ধ হতে আরও পানি লাগবে, তবে আধা কাপ পরিমাণ গরম পানি দিতে পারেন।
- ঝোল ফুটে উঠলে ফালি করে রাখা কাঁচা মরিচগুলো দিয়ে দিন। ঢাকনা দিয়ে ঢেকে সবজি পুরোপুরি সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।
- সবজির পানি শুকিয়ে একদম মাখা মাখা হয়ে এলে এবং তরকারির ওপরে লালচে তেল ভেসে উঠলে (চচ্চড়ি ভাজা ভাজা হলে), ওপর দিয়ে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিন।
- চুলায় আরও ১-২ মিনিট নেড়েচেড়ে দমে রেখে চুলা বন্ধ করে দিন।
রান্নার পরামর্শ
[সম্পাদনা]- শুঁটকি পরিষ্কার: শুঁটকি রান্নার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো এটি পরিষ্কার করা। শুঁটকিতে বালি বা ময়লা থাকতে পারে, তাই হালকা টেলে নিয়ে গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে খুব ভালোভাবে ঘষে ধোয়া আবশ্যক।
- সবজি কাটার ধরন: চচ্চড়ির জন্য সবজি সবসময় একটু ছোট এবং একই সাইজের কাটতে হয়, এতে সবগুলো সবজি সমানভাবে সেদ্ধ হয় এবং তরকারি দেখতেও সুন্দর লাগে।
- রসুনের ব্যবহার: যেকোনো শুঁটকি রান্নায় রসুনের ব্যবহার বেশি করতে হয়। রসুন শুঁটকির অতিরিক্ত কটু গন্ধ দূর করে এবং খাবারের স্বাদ ও হজমশক্তি বাড়ায়। রান্নার পর এই আস্ত রসুনের কোয়াগুলো খেতে দারুণ লাগে।
তাহলে তৈরি হয়ে গেল পাঁচমিশালি শুঁটকির চচ্চড়ি