বিষয়বস্তুতে চলুন

পটলের খোসা ভর্তা

উইকিবই থেকে
পটলের খোসা ভর্তা
চিত্র:Potoler khosa vorta.jpg
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ ভর্তা
পরিবেশন ৩-৪ জন
তৈরির সময় ২০-৩০ মিনিট
কষ্টসাধ্য

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

পটলের খোসা ভর্তা

পটলের খোসা ভর্তা বাংলা অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় ঘরোয়া ভর্তাজাতীয় খাবার। সাধারণত পটল রান্নার সময় এর খোসা ফেলে দেওয়া হলেও বাংলা খাদ্যসংস্কৃতিতে সবজির খোসা ব্যবহার করে ভর্তা তৈরির একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। পটলের খোসা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন ও সর্ষের তেল দিয়ে প্রস্তুত এই ভর্তা বিশেষত গ্রামীণ বাংলায় বহুল পরিচিত। অল্প উপকরণে প্রস্তুত হলেও এর স্বাদ ও ঝাঁঝালো ঘ্রাণের কারণে এটি বহু পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে পটলের খোসা ভর্তার প্রস্তুত প্রণালিতে ভিন্নতা দেখা যায়। কোথাও শুধুমাত্র সেদ্ধ খোসা বেটে ভর্তা তৈরি করা হয়, আবার কোথাও ভাজা শুকনা মরিচ, চিংড়ি মাছ, পোস্ত বাটা কিংবা নারকেল কোরানো ব্যবহার করা হয়। কিছু অঞ্চলে পটলের খোসা প্রথমে ভেজে নেওয়া হয়, আবার কোথাও আগুনে পোড়ানো খোসা ব্যবহার করে ধোঁয়াটে স্বাদ আনা হয়। শিলপাটায় বাটা ভর্তাকে অনেকেই বেশি সুস্বাদু বলে মনে করেন। বাংলা রান্নায় “ভর্তা” বলতে সাধারণত সেদ্ধ, ভাজা বা পোড়া উপকরণ মেখে বা বেটে তৈরি খাবারকে বোঝানো হয়। গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতিতে অপচয় কমিয়ে সবজির বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করার যে প্রবণতা রয়েছে, পটলের খোসা ভর্তা তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। গরম ভাতের সঙ্গে এই ভর্তা সাধারণত পরিবেশন করা হয়।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
নাম উপকরণ
পটলের খোসা ২ কাপ
পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ
রসুন ৪-৫ কোয়া
কাঁচা মরিচ ৪-৫টি
শুকনা মরিচ ২টি
ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল-চামচ
কালোজিরা আধা চা-চামচ
সর্ষের তেল ২-৩ টেবিল-চামচ
লবণ স্বাদমতো

রন্ধনপ্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. প্রথমে পটলের খোসাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। শক্ত বা অতিরিক্ত মোটা অংশ থাকলে ফেলে দিন।
  2. একটি পাত্রে সামান্য পানি ও লবণ দিয়ে পটলের খোসা সেদ্ধ করুন। খোসা নরম হয়ে এলে পানি ঝরিয়ে নিন।
  3. অন্যদিকে কড়াইয়ে সামান্য তেল গরম করে শুকনা মরিচ, রসুন ও কাঁচা মরিচ হালকা ভেজে নিন।
  4. একই তেলে কালোজিরা ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ কুচি হালকা বাদামি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।
  5. এরপর সেদ্ধ পটলের খোসা কড়াইয়ে দিয়ে মাঝারি আঁচে কিছুক্ষণ নেড়ে ভাজুন যাতে অতিরিক্ত পানি শুকিয়ে যায়।
  6. কেউ কেউ এই পর্যায়ে সামান্য চিংড়ি মাছ বা পোস্ত বাটা ব্যবহার করেন, যা ভর্তার স্বাদ আরও ঘন করে।
  7. ভাজা মিশ্রণ কিছুটা ঠান্ডা হলে শিলপাটা, পাটা বা ব্লেন্ডারে পেঁয়াজ, মরিচ, রসুন ও লবণসহ বেটে নিন।
  8. ধনেপাতা কুচি ও সর্ষের তেল মিশিয়ে আবার কিছুক্ষণ চটকে নিন যাতে সব উপকরণ ভালোভাবে মিশে যায়।
  9. ভর্তা মাখামাখা আকার ধারণ করলে একটি পাত্রে তুলে পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত করুন।
গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া স্বাদের পটলের খোসা ভর্তা

পুষ্টিগুণ

[সম্পাদনা]

পটলের খোসায় খাদ্যআঁশ, কিছু ভিটামিন ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান। সাধারণত সবজির খোসায় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থেকে যেতে পারে বলে এগুলোকে খাদ্যতালিকায় ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। পটলের খোসা তুলনামূলক কম ক্যালরিযুক্ত হওয়ায় এটি হালকা ধরনের খাবার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রসুন, কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতায় বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। সর্ষের তেলে কিছু উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়, যা বাংলা রান্নায় বহুল ব্যবহৃত। তবে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলে খাবারের ক্যালরির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]