বিষয়বস্তুতে চলুন

নোনা ইলিশ ভর্তা

উইকিবই থেকে
নোনা ইলিশ ভর্তা
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ ভর্তা
পরিবেশন ২-৩ জন
তৈরির সময় ২০-২৫ মিনিট
কষ্টসাধ্য

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

নোনা ইলিশ ভর্তা

নোনা ইলিশ ভর্তা এক অসাধারণ মুখরোচক ভর্তা, যা গরম ভাতের সঙ্গে খেতে অনন্য। শহুরে রেস্তোরাঁয় এখন ইলিশ ভর্তা নানা অভিনব রূপে পাওয়া গেলেও আদি ও খাঁটি স্বাদ লুকিয়ে থাকে এই সাদামাটা নোনা ইলিশ ভর্তায়।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
নাম উপকরণ
নোনা ইলিশ মাছ (লবণ মাখানো) ২-৩ টুকরো (প্রায় ১৫০-২০০ গ্রাম)
পেঁয়াজ (মিহি করে কাটা) ১ কাপ (বড় ১টি)
কাঁচা মরিচ (কুচি করা) ১ টেবিল-চামচ (স্বাদ অনুযায়ী)
সরিষার তেল (খাঁটি) ৩-৪ টেবিল-চামচ
ধনে পাতা কুচি ১ টেবিল-চামচ (পরিবেশন করার জন্য)
রসুন (থেঁতো করা, ঐচ্ছিক) ১ কোয়া
লেবুর রস (ঐচ্ছিক) আধা চা-চামচ

রন্ধনপ্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. প্রথমেই নোনা ইলিশের টুকরাগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন। নোনা ইলিশ সাধারণত বেশ লবণাক্ত থাকে বলে এটি অন্তত ১৫-২০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পানি একবার বদলে আরও ৫ মিনিট ভিজিয়ে অতিরিক্ত লবণ বের করে আনা ভালো। লবণের মাত্রা কমাতে চাইলে হালকা গরম পানি ব্যবহার করেও ভেজাতে পারেন, তবে খেয়াল রাখবেন মাছ যেন পচে না যায়।
  2. ভেজানো ইলিশের টুকরো পানি থেকে তুলে কাগজের তোয়ালে বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চেপে পানি শুকিয়ে নিন। এরপর ছুরি দিয়ে সাবধানে মাছের কাঁটা বেছে ফেলুন। ইলিশের কাঁটা অনেক ও সূক্ষ্ম, তাই প্রতিটি টুকরো ভালো করে হাত দিয়ে চটকে দেখে নিন যেন কোনো কাঁটা রয়ে না যায়। এই ধাপটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কাঁটা মুখে এলে পুরো ভর্তার স্বাদ মাটি হয়ে যেতে পারে।
  3. কাঁটা বাছাই করা নোনা ইলিশের মাংস একটি বাটিতে নিয়ে হাত দিয়ে চটকে বা কাঁটাচামচ দিয়ে ভালো করে মিহি করে নিন। মাছ যদি শুকনো হয় তবে ভর্তা করতে সুবিধা হয়, তবে বেশি শক্ত হলে এক চা-চামচ কুসুম গরম পানি ছিটিয়ে নরম করে নেওয়া যেতে পারে।
  4. এবার চুলায় একটি ছোট কড়াই বা প্যানে ১ টেবিল-চামচ সরিষার তেল গরম করুন। তেল গরম হলে তাতে চটকানো ইলিশের মাংস দিয়ে দিন। আঁচ একেবারে কমিয়ে ২-৩ মিনিট নেড়েচেড়ে মাছ হালকা গরম করে নিন। এর ফলে মাছের কাঁচা গন্ধ চলে যায় এবং ভর্তা বেশি সুস্বাদু হয়। তবে সাবধান, খুব বেশি ভাজবেন না, তাতে ইলিশের স্বাদ হারিয়ে শুকনো হয়ে যাবে। চুলা বন্ধ করে মাছের মিশ্রণটি ঠান্ডা করে নিন।
  5. একটি শুকনো বড় বাটিতে ঠান্ডা ইলিশের মাংস, মিহি করে কাটা পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ কুচি এবং বাকি কাঁচা সরিষার তেল একসঙ্গে মেশান। হাত বা চামচ দিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন যাতে সব উপকরণ একসঙ্গে মিশে যায়। সরিষার তেল এমনিতে কাঁচা দেওয়া ভর্তার প্রাণ, তাই ভালো মানের খাঁটি সরিষার তেল ব্যবহার করবেন।
  6. ভর্তা মাখানোর সময় স্বাদ অনুযায়ী প্রয়োজনে আরও একটু কাঁচা মরিচ বা সরিষার তেল দিতে পারেন। নোনা ইলিশে আগে থেকেই লবণ আছে, তাই বাড়তি লবণ দেওয়ার দরকার হয় না। যাঁরা রসুন পছন্দ করেন, তাঁরা এই ধাপে এক কোয়া থেঁতো করা রসুন মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে ভর্তার স্বাদে ভিন্ন মাত্রা যোগ হবে।
  7. সবশেষে ধনে পাতা কুচি ছড়িয়ে দিন এবং ইচ্ছা করলে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে মেখে নিন। লেবুর রস ভর্তায় একটা টাটকা টক-ঝাল স্বাদ যোগ করে যা নোনা ইলিশের ঘ্রাণকে আরও সুগন্ধী করে তোলে। তবে এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।
  8. তৈরি হয়ে গেল নোনা ইলিশ ভর্তা। এটি একটি সিরামিক বা কাঁচের বাটিতে ঢেলে ওপরে আরেকটু কাঁচা মরিচ কুচি ও সরিষার তেল ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।
গরম গরম সাদা ভাত, ভাপা পুলি বা খিচুড়ির সঙ্গে এই নোনা ইলিশ ভর্তা পরিবেশন করুন।