নুনগড়া পিঠা
| নুনগড়া পিঠা | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | পিঠা |
| পরিবেশন | ৪-৫ জন |
| খাদ্য শক্তি | লবণাক্ত ও মসলাদার |
| তৈরির সময় | ৪৫ মিনিট |
| কষ্টসাধ্য | |
| টীকা | সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী একটি ভাজা নোনতা পিঠা, যা তুলতুলে কাই ও মশলার স্বাদে ভরপুর। |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
নুনগড়া পিঠা, সিলেট অঞ্চলের এক চমৎকার ঐতিহ্যবাহী নোনতা পিঠা। এটি দেখতে অনেকটা ভাজা রুটির টুকরোর মতো, কিন্তু এর ভেতরের স্বাদ ও গন্ধ একেবারে আলাদা। মূলত শীতকাল বা বিশেষ অনুষ্ঠানেই এই পিঠার প্রচলন বেশি। মসলা মেশানো ফুটন্ত জলে চালের গুঁড়া ও ময়দা দিয়ে কাই তৈরি করে তা ঠান্ডা করে ছোট ছোট বল বানিয়ে ভেজে নেওয়াই এর মূল প্রক্রিয়া।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| পানি | প্রয়োজনমতো |
| পেঁয়াজ কুচি | ১ কাপ |
| আদা বাটা | ১ টেবিল চামচ |
| রসুন বাটা | ১ টেবিল চামচ |
| লবণ | স্বাদমতো |
| হলুদ গুঁড়ো | ১ চা চামচ |
| পাঁচফোড়ন বাটা (ঐচ্ছিক) | ১ চা চামচ |
| ধনে পাতা কুচি (ঐচ্ছিক) | ২ টেবিল চামচ |
| চালের গুঁড়ো | ১ কাপ |
| ময়দা | ১ কাপ |
| ভাজার জন্য তেল | প্রয়োজনমতো |
প্রস্তুত প্রণালী
[সম্পাদনা]- প্রথমে একটি বড় হাঁড়িতে পরিমাণমতো পানি নিয়ে ফুটাতে দিন।
- পানি ফুটে উঠলে তাতে পেঁয়াজ কুচি, আদা বাটা, রসুন বাটা, হলুদ গুঁড়ো ও লবণ যোগ করুন। চাইলে পাঁচফোড়ন বাটা ও ধনে পাতাও মেশাতে পারেন — এতে স্বাদ ও গন্ধ আরও বাড়ে।
- ফুটন্ত জলে মসলা মিশে গেলে ধীরে ধীরে চালের গুঁড়ো ও ময়দা দিয়ে দিন এবং নাড়তে থাকুন। ভালোভাবে নেড়ে একটি নরম, চিটচিটে মণ্ড তৈরি করুন। কাই যেন পাত্রের তলা ছেড়ে আসে, সেটা লক্ষ্য করুন। কাই সম্পূর্ণ হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন।
- ঠান্ডা হয়ে এলে কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করুন। এরপর প্রতিটি বলকে বেলে পাতলা রুটি বানান। রুটিগুলো থেকে ধারালো ছুরি দিয়ে ছোট ছোট টুকরো কেটে নিতে পারেন — অনেকে ত্রিভুজ বা আয়তাকার আকার দিয়ে থাকে।
- একটি কড়াইতে তেল গরম করুন।
- তেল গরম হয়ে গেলে টুকরো করা পিঠাগুলো একে একে দিয়ে ডুবো তেলে ভেজে নিন। প্রতিটি টুকরো দুই পাশ থেকে সোনালি বাদামি হওয়া পর্যন্ত ভাজতে হবে।
- ভাজার পর কিচেন টিস্যুতে তুলে অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে নিন।
পরিবেশন
[সম্পাদনা]নুনগড়া পিঠা গরম গরম পরিবেশন করাই শ্রেয়। চাইলে টক দই বা টক আচার সহযোগেও পরিবেশন করা যায়। এটি সকালের নাস্তা বা বিকেলের জলখাবারে উপযুক্ত।
সংরক্ষণ পদ্ধতি
[সম্পাদনা]এই পিঠা ভাজার আগে ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করা যায়। বেলার পর কাটা রুটি ফ্রিজে রাখলে পরে তা ভেজে পরিবেশন করা যায়। এটি সহজে নষ্ট হয় না এবং এক সপ্তাহ পর্যন্ত সংরক্ষণযোগ্য।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
[সম্পাদনা]সিলেট অঞ্চলে বিয়ে, উৎসব বা নতুন চাল আসার আনন্দে এই নোনতা পিঠা তৈরি করা হয়। হান্দেশ ও নুনগড়া একসাথে খাওয়ার চল রয়েছে। এটি গ্রামীণ মহিলাদের হাতে তৈরি হওয়া এক অনন্য স্বাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার।