বিষয়বস্তুতে চলুন

নারকেল চাটনি

উইকিবই থেকে
নারকেল চাটনি
রন্ধনপ্রণালী বিভাগ চাটনি
পরিবেশন ৪-৫ জন
তৈরির সময় ১৫ মিনিট
কষ্টসাধ্য

রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী

নারকেল চাটনি

নারকেল চাটনি এক প্রকার সুস্বাদু, সুগন্ধি ও মুখরোচক চাটনি, যা দক্ষিণ ভারতের নানা খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। ইডলি, দোসা, ভাজা ভাত, কিংবা সকালের নাশতায় এই চাটনি জিভে জল আনে। এটি তৈরি করা অত্যন্ত সহজ এবং সময় লাগে মাত্র কয়েক মিনিট। কাঁচা নারকেল, কাঁচা মরিচ, আদা, দই বা টক স্বাদের জন্য তেঁতুল ব্যবহার করা যায়। সাধারণত এটি নিরামিষ খাবারের সঙ্গে খাওয়া হয়।

উপকরণ

[সম্পাদনা]
নাম পরিমাণ
কাঁচা নারকেল কুচি
লবণ স্বাদমতো
পানি প্রয়োজনমতো (ব্লেন্ড করার জন্য)
তেল (নারকেল তেল আদর্শ) ১ চা-চামচ (ফোঁড়নের জন্য)
সরিষা আধা চা-চামচ
উরদ ডাল আধা চা-চামচ
কারিপাতা ১ টি (৭-৮ টি পাতা)
শুকনো লংকা ১ টি (ভেঙে নেওয়া)
হিং এক চিমটি (ঐচ্ছিক)

রন্ধনপ্রণালী

[সম্পাদনা]
  1. প্রথমে কাঁচা নারকেল ভালো করে কুরিয়ে নিন বা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে রাখুন। চাটনির আসল স্বাদ টাটকা নারকেল থেকেই আসে, তাই শুকনো নারকেল ব্যবহার না করাই শ্রেয়। নারকেল কুরাতে একটি সাধারণ গ্রেটার ব্যবহার করতে পারেন। ব্লেন্ডারে দিলেও ছোট টুকরো করে নিলে সুবিধা হয়।
  2. একটি মিক্সার জারে কোরানো নারকেল, কাঁচা মরিচ, আদা কুচি, ভাজা ছোলা, টক দই (বা তেঁতুল), লবণ এবং সামান্য পানি দিন। প্রথমে অল্প পানি দিয়ে ব্লেন্ড করা শুরু করুন। দই দিয়ে চাটনিতে টক ভাব আনা হয়, যা নারকেলের মিষ্টিকে ভারসাম্য দেয়।
  3. মিহি ও ক্রিমি পেস্ট না হওয়া পর্যন্ত ব্লেন্ড করুন। চাটনি খুব পাতলা না হয়ে কিছুটা থকথকে হওয়া উচিত, যেন সহজেই ইডলি বা দোসার সঙ্গে মাখানো যায়। ঘনত্ব বেশি মনে হলে চামচ দিয়ে আরেকটু পানি মিশিয়ে নিন, প্রয়োজনে আবার ব্লেন্ড দিন। পুরো মিশ্রণটি একটি বাটিতে ঢেলে রাখুন।
  4. এবার ফোঁড়নের জন্য একটি ছোট কড়াইতে তেল গরম করুন। নারকেল তেল ব্যবহার করলে খাঁটি দক্ষিণী স্বাদ আসে। তেল গরম হলে প্রথমে সরিষা ফাটান। সরিষা ফুটতে শুরু করলে উরদ ডাল দিন এবং ডাল হালকা সোনালি রঙ ধরা পর্যন্ত ভাজুন। তারপর কারিপাতা, শুকনো লংকার টুকরো এবং ইচ্ছা করলে এক চিমটি হিং দিন। ১০-১৫ সেকেন্ড ভাজুন, যাতে ফোঁড়নের ফ্লেভার তেলে মিশে যায়।
  5. গরম ফোঁড়ন সরাসরি ব্লেন্ড করা চাটনির ওপর ঢেলে দিন। এতে ছ্যাৎ করে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়বে। একটি চামচ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন যাতে ফোঁড়নের মসলা পুরো চাটনিতে ছড়িয়ে পড়ে।
  6. স্বাদ পরীক্ষা করুন, প্রয়োজনে আরও লবণ বা টক দই যোগ করুন। মনে রাখবেন ফ্রিজে রাখলে চাটনির স্বাদ একটু পরিবর্তন হতে পারে, তাই টাটকা অবস্থায় স্বাদ ঠিক করে নেওয়া ভালো।
  7. পরিবেশনের জন্য চাটনি একটি সুন্দর বাটিতে ঢেলে উপরে কিছুটা তাজা কোরানো নারকেল, ধনেপাতার কুচি এবং কয়েকটা ভাজা কারিপাতা ছড়িয়ে দিন। দেখতে ও খেতে দারুণ লাগবে।
গরম ইডলি, দোসা, মেদু ভাদা বা উপমার সঙ্গে নারকেল চাটনি পরিবেশন করুন।

পরামর্শ

[সম্পাদনা]
  • চাটনি বেশিক্ষণ বাইরে রাখলে নারকেল তিতা হতে পারে, তাই বানানোর পরপরই ফ্রিজে রাখুন এবং ১-২ দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলুন। ফ্রিজ থেকে বের করে ঘরের তাপমাত্রায় এনে পরিবেশন করলে স্বাদ ভালো লাগে।
  • যদি ভাজা ছোলা না থাকে তাহলে ভাজা মাষকলাই ডাল বা কাজুবাদাম ব্যবহার করা যাবে। ছোলা চাটনিকে ক্রিমি করে এবং কাঁচা নারকেলের ঝাঁঝ কমায়।
  • টক দইয়ের পরিবর্তে টাটকা তেঁতুলের ক্বাথ, আমচুর পাউডার কিংবা লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন। গ্রীষ্মকালে কাঁচা আম কুচি ব্লেন্ড করে দিলেও চমৎকার স্বাদের চাটনি হয়।
  • ফোঁড়নে নারকেল তেল ব্যবহার করলে স্বাদে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়; তবে নারকেল তেল না থাকলে রিফাইন্ড তেল চলতে পারে।
  • চাটনির ঘনত্ব আপনার পছন্দমতো রাখতে পারেন, ইডলির জন্য একটু ঘন, আর দোসার জন্য তুলনামূলক পাতলা চাটনি ভালো মানায়। চাটনি যদি বেশি পাতলা হয়ে যায় তাহলে সামান্য ভাজা ছোলার গুঁড়া বা পোস্তদানার পেস্ট মিশিয়ে ঘন করতে পারেন।
  • নারকেল কুড়ানোর সময় নারকেলের বাদামি অংশ ফেলে দিয়ে শুধু সাদা শাঁস নেবেন, এতে রং ও স্বাদ সুন্দর হবে।

পরিবেশন

[সম্পাদনা]

প্রচলিত দক্ষিণ ভারতীয় খাবারের পাশাপাশি নারকেল চাটনি সকালের নাশতায় পাউরুটি, পরোটা, কিংবা সন্ধ্যার হালকা খাবারে রাখতে পারেন। এমনকি সাদা ভাত ও এক চামচ ঘিয়ের সঙ্গেও এই চাটনি দারুণ মানিয়ে যায়। বাড়িতে অতিথি এলে অল্প সময়ে বানিয়ে ফেলা যায় বলে এটি একটি নির্ভরযোগ্য রেসিপি। সুস্থ ও সুস্বাদু এই চাটনি আপনার প্রতিদিনের খাবার তালিকায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে।