দুধ পিঠা
অবয়ব
| দুধ পিঠা | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | বাংলাদেশি পিঠা |
| পরিবেশন | ৪-৫ জন |
| খাদ্য শক্তি | প্রতি পিঠা প্রায় ১২০ কিলোক্যালরি |
| তৈরির সময় | ৩০ মিনিট |
| কষ্টসাধ্য | |
| টীকা | দুধ পিঠা বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী এবং অত্যন্ত সুস্বাদু মিষ্টি পিঠা |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
দুধ পিঠা, যা অনেক অঞ্চলে ছিঁড়া পিঠা বা সাতকাহন পিঠা নামেও পরিচিত, বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী এবং অত্যন্ত সুস্বাদু মিষ্টি পিঠা। এটি প্রধানত দুধে ভেজানো থাকে বলে খুব নরম ও রসালো হয়। শীতকালে এটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| পিঠার জন্য: | |
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| চালের গুঁড়ো | ২ কাপ (শুকনা বা ভেজা - চালের গুঁড়ো যদি শুকনা হয় তবে হালকা গরম পানি দিয়ে মাখাতে হবে) |
| পানি | ১ - ১.৫ কাপ (প্রয়োজন অনুযায়ী) |
| লবণ | ১/২ চা চামচ |
| দুধের শিরার জন্য: | |
| উপকরণ | পরিমাণ |
| দুধ | ৪-৫ কাপ (ফুল ফ্যাট দুধ হলে ভালো হয়) |
| খেজুর গুড় | ১ - ১.৫ কাপ (স্বাদমতো, গুঁড়ো করা বা টুকরা করা) |
| নারকেল কোরা | ১/২ কাপ (ঐচ্ছিক, তবে দিলে স্বাদ অনেক বাড়ে) |
| এলাচ | ২-৩টি (থেঁতো করা) |
| দারুচিনি | ১ ইঞ্চি টুকরা (২টি) |
| তেজপাতা | ১টি (ঐচ্ছিক) |
| লবণ | ১ চিমটি (মিষ্টির স্বাদ বাড়াতে) |
প্রস্তুত প্রণালী
[সম্পাদনা]১. পিঠা তৈরি
[সম্পাদনা]- একটি পাত্রে চালের গুঁড়ো ও লবণ নিন।
- ধীরে ধীরে ফুটানো গরম পানি (যদি শুকনা চালের গুঁড়ো হয়) বা উষ্ণ পানি (যদি ভেজা চালের গুঁড়ো হয়) মেশাতে থাকুন এবং একটি কাঠের চামচ দিয়ে নেড়ে একটি মণ্ড তৈরি করুন। এই প্রক্রিয়াকে "আটা সেদ্ধ করা" বা "সিদ্ধ করে খামির বানানো" বলা হয়।
- হাঁড়ি নামিয়ে কিছুটা ঠান্ডা হলে হাত দিয়ে ভালো করে মণ্ডলে (খামির) মসৃণ করে মেখে নিন। মণ্ডটি যেন খুব বেশি নরম বা শক্ত না হয়।
- মাখানো মণ্ড থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে নিন। প্রতিটি লেচি থেকে হাত দিয়ে পাতলা ও ছোট লুচির মতো বেলে নিন।
- এবার প্রতিটি লুচির মতো বেলা অংশকে মাঝখান থেকে বা পাশ থেকে ধরে ছিঁড়ে বা ছিদ্র করে ছিঁড়া পিঠার আকৃতি দিন। বিভিন্ন নকশার মতো করে ছিঁড়তে পারেন। আপনি চাইলে ছোট ছোট রুটির মতো করেও রাখতে পারেন।
- একটি বড় হাঁড়িতে পর্যাপ্ত পানি গরম করে নিন। পানি ফুটতে শুরু করলে তৈরি করা পিঠাগুলো সাবধানে ফুটন্ত পানিতে ছেড়ে দিন।
- পিঠাগুলো সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। পিঠা সেদ্ধ হয়ে উপরে ভেসে উঠলে বুঝবেন হয়ে গেছে।
- সেদ্ধ পিঠাগুলো একটি ছাঁকনি দিয়ে তুলে ঠাণ্ডা পানিতে (বা সাধারণ তাপমাত্রার পানিতে) কিছুক্ষণ রেখে দিন যাতে পিঠাগুলো একে অপরের সাথে লেগে না যায়। এরপর পানি ঝরিয়ে নিন।
২. দুধের শিরা তৈরি
[সম্পাদনা]- অন্য একটি বড় হাঁড়িতে দুধ নিন এবং এলাচ, দারুচিনি, তেজপাতা ও ১ চিমটি লবণ দিয়ে মাঝারি আঁচে জ্বাল দিন।
- দুধ ঘন হয়ে অর্ধেকের কাছাকাছি এলে বা কিছুটা ঘন হলে গুড় মেশান। গুড় গলে যাওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। গুরুত্বপূর্ণ: গুড় মেশানোর পর বেশিক্ষণ দুধ জ্বাল দেবেন না, তাহলে দুধ ফেটে যেতে পারে। শুধু গুড় গলে গেলেই নামিয়ে ফেলুন।
- সবশেষে কোরা নারকেল (যদি ব্যবহার করেন) মিশিয়ে দিন।
৩. পিঠা দুধে ভেজানো
[সম্পাদনা]- তৈরি করা গুড়ের দুধের শিরা কিছুটা ঠান্ডা হলে (গরম দুধে পিঠা দিলে নরম বেশি হয়ে ভেঙে যেতে পারে, আবার একদম ঠান্ডা হলে পিঠা রস টানবে না) সেদ্ধ করা পিঠাগুলো সাবধানে শিরার মধ্যে দিয়ে দিন।
- আলতো করে নেড়েচেড়ে মিশিয়ে দিন।
- পিঠাগুলো অন্তত ২-৩ ঘণ্টা বা সারারাত দুধে ডুবিয়ে রাখুন যাতে ভালোভাবে রস শুষে নিতে পারে এবং নরম ও রসালো হয়। সারারাত রাখলে স্বাদ আরও ভালো হয়।
টিপস
[সম্পাদনা]- ভালো মানের খেজুর গুড় ব্যবহার করলে পিঠার স্বাদ অসাধারণ হবে। গুড়ের বদলে চিনিও ব্যবহার করতে পারেন, তবে গুড়ের নিজস্ব ফ্লেভারটা অনন্য।
- দুধ যত বেশি ঘন করবেন, পিঠার স্বাদ তত বাড়বে।
- পিঠার আকৃতি আপনি আপনার পছন্দমতো ছোট বা বড় করতে পারেন। বিভিন্ন ছাঁচ ব্যবহার করেও নকশা করতে পারেন।
- যদি আপনার চালের গুঁড়ো ব্যবহার করতে সমস্যা হয় বা পিঠা বানানোর সময় পিঠা নরম না হয়, তাহলে অল্প করে ময়দা বা আটা মেশাতে পারেন।