দই চিংড়ি
| দই চিংড়ি | |
|---|---|
| রন্ধনপ্রণালী বিভাগ | সীফুড |
| পরিবেশন | ৪–৫ জন |
| খাদ্য শক্তি | প্রায় ২২০ কিলোক্যালরি (প্রতি পরিবেশন) |
| তৈরির সময় | ৩৫–৪৫ মিনিট |
| কষ্টসাধ্য | |
| টীকা | বাঙালি উৎসবের জন্য সহজ ও সুস্বাদু দই চিংড়ি |
রন্ধনপ্রণালী | প্রস্তুতপ্রণালী | উপকরণ | যন্ত্রপাতি | কৌশল | রন্ধনপ্রণালী দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা | প্রস্তুতপ্রণালী
দই চিংড়ি একটি জনপ্রিয় বাঙালি পদ, যা চিংড়ি মাছ এবং টক দইয়ের সমন্বয়ে তৈরি একটি মৃদু, ক্রিমি এবং সুগন্ধি তরকারি। এটি সাধারণত গরম ভাত, পোলাও বা লুচির সাথে পরিবেশন করা হয়, বিশেষ করে পৌষপার্বণ, বাংলা নববর্ষ বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে। এই পদটির সরল উপকরণ এবং সহজ প্রণালী এটিকে ঘরোয়া রান্নার জন্য আদর্শ করে তোলে, তবে এর স্বাদ রেস্তোরাঁর মানের সাথে তুলনীয়।
উপকরণ
[সম্পাদনা]| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| মাঝারি সাইজের বাগদা চিংড়ি | ৫০০ গ্রাম |
| টক দই (ফেটানো) | ১ কাপ |
| পেঁয়াজ (কুচি) | ২টি (মাঝারি) |
| পেঁয়াজ বাটা | ১ টেবিল-চামচ |
| আদা বাটা | ১ চা-চামচ |
| রসুন বাটা | ১ চা-চামচ |
| কাঁচা লঙ্কা (চেরা) | ২–৩টি |
| হলুদ গুঁড়া | ½ চা-চামচ |
| লাল লঙ্কা গুঁড়া | ১ চা-চামচ |
| ধনে গুঁড়া | ১ চা-চামচ |
| জিরা গুঁড়া | ১ চা-চামচ |
| গরম মশলা গুঁড়া | ½ চা-চামচ |
| তেজপাতা | ২টি |
| দারুচিনি | ২ টুকরা |
| এলাচ | ৩টি |
| লবঙ্গ | ৩টি |
| কাজু বাটা | ১ টেবিল-চামচ |
| লবণ | স্বাদমতো |
| চিনি | ½ চা-চামচ |
| সরিষা তেল | ৩ টেবিল-চামচ |
| ঘি | ১ টেবিল-চামচ |
| ধনেপাতা (কুচি) | ১ টেবিল-চামচ |
রন্ধনপ্রণালী
[সম্পাদনা]- চিংড়ি মাছ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। লবণ এবং হলুদ গুঁড়া দিয়ে মাখিয়ে ১০ মিনিট রাখুন, তারপর কড়াইতে ১ টেবিল-চামচ সরিষা তেলে হালকা ভেজে তুলে রাখুন।
- একই কড়াইতে বাকি সরিষা তেল এবং ঘি গরম করে তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ এবং লবঙ্গ ফোড়ন দিন।
- পেঁয়াজ কুচি যোগ করে সোনালি বাদামি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।
- পেঁয়াজ বাটা, আদা বাটা এবং রসুন বাটা দিয়ে ২–৩ মিনিট কষান। প্রয়োজনে সামান্য জল যোগ করুন যাতে মশলা পুড়ে না যায়।
- হলুদ গুঁড়া, লাল লঙ্কা গুঁড়া, ধনে গুঁড়া এবং জিরা গুঁড়া যোগ করে আরও ২ মিনিট কষান।
- ফেটানো টক দই এবং কাজু বাটা যোগ করে মিশিয়ে নিন। আঁচ কমিয়ে ৩–৪ মিনিট রান্না করুন যাতে তেল ছাড়ে।
- ভাজা চিংড়ি, কাঁচা লঙ্কা, লবণ এবং চিনি যোগ করে মাঝারি আঁচে ৫–৭ মিনিট রান্না করুন। প্রয়োজনে সামান্য গরম জল যোগ করুন।
- গরম মশলা গুঁড়া ছড়িয়ে ধনেপাতা কুচি দিয়ে সাজিয়ে চুলা থেকে নামান।
- গরম গরম ভাত বা পোলাওয়ের সাথে পরিবেশন করুন।
ধনেপাতা, কাঁচা লঙ্কা এবং বেরেস্তা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন
পরিবেশন
[সম্পাদনা]দই চিংড়ি গরম গরম পরিবেশন করলে এর ক্রিমি ঝোল এবং মশলার সুগন্ধ সবচেয়ে ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। এটি সুগন্ধি গোবিন্দভোগ চালের ভাত, বাসমতি পোলাও বা গরম লুচির সাথে অসাধারণ লাগে। একটি গভীর বাটিতে তরকারি ঢেলে উপরে ধনেপাতা কুচি, কাঁচা লঙ্কার ফালি এবং কুচি করা ভাজা পেঁয়াজ (বেরেস্তা) ছড়িয়ে দিন। পাশে একটি লেবুর টুকরো রাখলে স্বাদে অতিরিক্ত মাত্রা যোগ হবে। উৎসবের আমেজ বাড়াতে একটি ছোট বাটিতে শসার রায়তা বা টমেটোর চাটনি পরিবেশন করুন।
পরামর্শ
[সম্পাদনা]- চিংড়ি বেশি ভাজবেন না, তাতে শক্ত হয়ে যেতে পারে। হালকা ভাজাই যথেষ্ট।
- টক দই ফেটানোর সময় সামান্য জল মিশিয়ে নিলে ঝোল মসৃণ হবে।
- কাজু বাটার পরিবর্তে পোস্ত বা চারমগজ বাটা ব্যবহার করা যেতে পারে।
- তরকারি ঘন রাখতে জল কম ব্যবহার করুন।